হোম গদ্য প্রসঙ্গ হোর্হে লুইস বোর্হেস : বিতর্ক, বিদ্বেষ নাকি মিথ্যাচার?

প্রসঙ্গ হোর্হে লুইস বোর্হেস : বিতর্ক, বিদ্বেষ নাকি মিথ্যাচার?

প্রসঙ্গ হোর্হে লুইস বোর্হেস : বিতর্ক, বিদ্বেষ নাকি মিথ্যাচার?
1.10K
0

বোর্হেসের সাহিত্যের কয়েকটি দিক সম্পর্কে কিছু কিছু বিতর্ক হয়তো পাঠকরা লক্ষ করে থাকবেন। তার নিজের দেশেই পঞ্চাশের দশকের একেবারে গোড়ার দিকে একটি বিতর্ক শুরু হয়েছিল সামাজিক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তার সাহিত্যকে মূল্যায়নের সূত্রে। যদিও খুব বেশি দূর এগোয় নি সে বিতর্ক। কারণ যারা এই বিতর্কে নেমেছিলেন তারা কেউ-ই যতটা না সাহিত্য তার চেয়ে বেশি ছিলেন কট্টর রাজনৈতিক মতাদর্শের বা জাতীয়তাবাদী মনোভাবের দ্বারা উদ্বুদ্ধ। এদের একজন এইচ. এ. মুরেনা আর অন্যজন ছিলেন হোর্হে আবেলার্দো রামোস। রামোস ছিলেন এক ভূয়া-মার্ক্সবাদী যিনি বিশ্বাস করতেন যে স্বৈরাচারী পেরন হচ্ছেন শ্রমিকদের আসল নেতা। এ দু’জন ছাড়াও, সমালোচকদের মধ্যে ছিলেন আর্তুরো হুয়ারেতচে এবং হুয়ান হোসে এরনান্দেস আররেগি। এরা সবাই মিলে বোর্হেসের বিপক্ষে লেখার এক নিষ্ঠুর অভিযান পরিচালনা করেন। যেমনটা ঘটেছিল তিরিশের দশকে জীবনানন্দ দাশের বিরুদ্ধে। আমি সেই সময়কার বিতর্কের ইতিহাস দিয়ে পাঠককে ক্লান্ত করতে চাই না। কারণ এখন এটা পরিষ্কার যে লাতিন আমেরিকান কোনো লেখকই বোর্হেসের সাহিত্যের সামাজিক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আর বিতর্কের বিষয় বলে মনে করেন না। তবে গুয়াতেমালার গুরুত্বপূর্ণ লেখক মিগেল আনহেল আস্তুরিয়াস বোর্হেসকে ইউরোপীয় ঘরানার লেখক বলে যে মন্তব্য করেছেন তা কতটা সঠিক এ ব্যাপারে আমাদের গভীর সন্দেহ আছে। এই মন্তব্যটি যদি তিনি বোর্হেসের সাহিত্যিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে করে থাকেন, তা হলে সে অর্থে, আস্তুরিয়াস নিজেও ইউরোপীয় ঘরানার লেখক, কারণ তিনি নিজে স্প্যানিশ সাহিত্যে যে নতুন ধরনের উপন্যাসের সূচনা করেন তার পেছনে পরোক্ষ উদ্দীপক হিশেবে কাজ করেছিল ফরাসি পরাবাস্তববাদী আদর্শ। সেই আস্তুরিয়াস নিজেও কি ইউরোপীয় ঘরানার লেখক হিশাবে চিহ্নিত হবেন? আমার মনে হয় না তিনি এতে করে ইউরোপীয় ঘরানার লেখক হয়ে গেছেন।

এটা সত্যি যে বোর্হেসের লেখায় ইউরোপীয় সংস্কৃতির দেদার উল্লেখ আমরা দেখতে পাই, কিন্তু এসব তাকে মোটেই ইউরোপীয় করে ফেলে নি। তাছাড়া লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতির মধ্যে কি ইউরোপীয় সংস্কৃতির উপাদান নেই? লাতিন আমেরিকাকে কিন্তু এজন্য কেউ ইউরোপের অংশ বলে বিবেচনা করেন না। সুতরাং বোর্হেসকে ইউরোপীয় ঘরানার লেখক বলার মাধ্যমে আস্তুরিয়াস যদি বোর্হেসের লাতিন আমেরিকান লেখক হওয়ার ব্যর্থতার প্রতি ইঙ্গিত করে থাকেন তাহলে সেটা এক ভুল ইঙ্গিত কিংবা নিতান্তই বিদ্বেষ-প্রসূত মন্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়। ভুলে গেলে চলবে না যে স্প্যানিশ সাহিত্যে বোর্হেস কেবল নতুন শৈলী এবং বিকল্প ঐতিহ্যেরই নির্দেশনা দেন নি, মূলত তিনিই ছিলেন সম্ভাবনা এবং চরিত্রের দিক থেকে সত্যিকারের প্রথম লাতিন আমেরিকান লেখক। বিলীন অতীতের কৃত্রিম পুনর্গঠনের পরিবর্তে তার লেখা এমন এক সাহিত্যিক কল্পনার জগৎকে তুলে ধরল যেখানে আধুনিক চিন্তার সাথে প্রাসঙ্গিক সব সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে। ‘আভেরুশের সন্ধান’, ‘এমা ছুনস’ এবং ‘আলমুতাসিমের নৈকট্য’ এই গল্পগুলোয় কেবল পশ্চিমি এবং আরবি সংস্কৃতির সহাবস্থানই চিত্রিত হয় নি, একই সঙ্গে তা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে বহুত্ব ও বহুত্বের সম্মিলিত ক্রিয়ার শক্তি যা উত্তর-কালের গোটা লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিংবা অন্যভাবে বলা যার লাতিন আমেরিকান আধুনিক কথাসাহিত্যের নন্দনতাত্ত্বিক ভিত্তিটা রচনা করেন বোর্হেস।

বোর্হেস সম্পর্কিত ফুয়েন্তেসের লেখার মধ্যেই আমরা এই বিষয়ের একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা এবং উত্তর খুঁজে পাব। ফুয়েন্তেসের ভাষায় ‘মিগেল আনহেল আস্তুরিয়াস এবং আলেহো কার্পেন্তিয়েরের মতো তিনি আমাদের সংস্কৃতির ইন্ডিয়ান কি আফ্রিকান উপকরণের কথা বলেন না।’ তবে তা না বললেও ‘বোর্হেস লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের জন্য এ কথাটিই পরিষ্কার করলেন যে আমরা বহু বিচিত্র কাল ও স্থানে বাস করি, আমরা বহু বিচিত্র সংস্কৃতিরই প্রকাশ ঘটাই।’ … ‘হয়তো তার পক্ষেই সম্ভব পাশ্চাত্যের সামগ্রিকতা ধারণ করে ইউরোকেন্দ্রিকতার সীমাবদ্ধতা দেখানো।’


মানবের মতো মার্ক্সবাদী বামপন্থীদের সমস্যা এই যে, এরা অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে অভ্যস্ত।


শুধু ফুয়েন্তেসই নন, পেরুর লেখক মারিও বার্গাস যোসাও কিন্তু বোর্হেসের এই দিকটি সম্পর্কে একই মত পোষণ করেন : ‘সুদূরে অবস্থান করেও এই আর্হেন্তিনীয় কবি ও গল্পকার পাশ্চাত্যকে যতটা সম্পূর্ণ ও অনুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ করেছেন খুব কম ইউরোপীয় লেখকই তা পেরেছেন। বোর্হেসের সমসাময়িকদের ভেতর কে আর সমান স্বাচ্ছন্দ্যে স্ক্যান্ডিনেভীয় পুরাণ, অ্যাঙ্গলো-স্যাক্সন কবিতা, জার্মান দর্শন, স্পেনের স্বর্ণযুগের সাহিত্য, ইংরেজ কবি, দান্তে, হোমার এবং ইউরোপীয় অনুবাদের মাধ্যমে পাওয়া দূর ও মধ্যপ্রাচ্যের কিংবদন্তি ও পুরাণ ব্যবহার করতে পেরেছেন? কিন্তু এজন্য বোর্হেস ইউরোপীয় হয়ে যান নি।’ বোর্হেস নিজেও এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, ‘ইউরোপীয়দের ব্যাপারে আমাদের একটা সুবিধা হচ্ছে এই যে আমরা হচ্ছি, হতে পারি ভালো ইউরোপীয় এবং তাদের চেয়েও বেশি ইউরোপীয়। কারণ একজন ইতালীয় শুধুই ইতালীয় হওয়ার মনোরম ঝুঁকি বহন করে এবং একজন ইংরেজ শুধুই ইংরেজ হওয়ার। অন্যদিকে, আমরা গোটা পশ্চিমি সংস্কৃতির উওরাধিকারী। একটি বাদ দিয়ে অন্যটিতে মনোযোগী হওয়ার দরকার পড়ে না আমাদের। যা ইচ্ছা করি আমরা তাই এবং তা-ই হয়ে উঠতে পারি।’

বোর্হেস সম্পর্কে আরেকটি অভিযোগ অবশ্য সাম্প্রতিক এবং তা দূরে কোথাও নয়, কোলকাতার এক বাংলাভাষী লেখক-অনুবাদকের। অনুবাদে যার প্রতিভা রীতিমত ঈর্ষণীয়। তিনি আমার প্রিয় অনুবাদকদের একজন। তিনি মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদেশি সাহিত্যকে বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পরিচিত করার ব্যাপারে তার ভূমিকা অতুলনীয়। আমার প্রিয় এই অনুবাদক বোর্হেস সম্পর্কে যে মন্তব্য বা অভিযোগ করেছেন তা পাঠকদের সুবিধার্থে উদ্ধৃত করছি এখানে ‘এমন নয় যে নিছক অধ্যাত্মবাদী নন্দনতাত্ত্বিক লাতিন আমেরিকায় কেউ ছিল না’ আর্হেন্তিনার হোর্হে লুইস বোর্হেসের নামই মনে পড়ে যাবে আমাদের যার শিল্পিতা লেখকের কাছে ইর্ষণীয় মনে হলেও যিনি তার ফাসিস্ত মতবাদের জন্য (তার রচনার পরতে পরতে ভাঁজে ভাঁজে মিশে আছে সে মতবাদ, তিনিই বলেছিলেন ফ্রাঙ্কোর গুণ্ডারা ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকাকে অনেক আগেই কেন খুন করেন নি।) শেষ পর্যন্ত তিনি কোথাও পৌঁছুতে পারেন নি, বরং জীবদ্দশাতেই জাদুঘরের সামগ্রী হয়ে উঠেছিলেন।’

মানবের মতো মার্ক্সবাদী বামপন্থীদের সমস্যা এই যে, এরা অন্যের মুখে ঝাল খেয়ে অভ্যস্ত। আমার ধারণা, বোর্হেসের লেখা তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়েন নি। আর পড়ে থাকলেও বোঝেন নি কিছুই। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো মানবেন্দ্র বোর্হেস না-পড়ে বা না-বুঝেই বাংলাভাষী পাঠকদেরকে বোর্হেস সম্পর্কে রীতিমত বিভ্রান্তিকর, ভুল এবং একেবারেই মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। একজন বামপন্থী মার্ক্সবাদী লেখক-অনুবাদকের মধ্যে কী করে এতগুলো মিথ্যা এবং ভুল তথ্যের সমাবেশ ঘটতে পারে তা ভেবে আমি রীতিমত বিস্মিত। প্রথমেই দেখা যাক ‘আধ্যাত্মবাদী নন্দনতাত্ত্বিক’ বলতে তিনি কী বুঝাতে চেয়েছেন। এ রকম কোনো সাহিত্যিক পরিভাষা আছে কিনা আমি জানি না আর থাকলেও আমার কাছে তা পরিষ্কার নয়। কোন অর্থে বা কেন আধ্যাত্মবাদী তা কিন্তু তিনি পরিষ্কার করেন নি। সেটা কি এই কারণে যে তিনি বামপন্থী বা মার্ক্সবাদী লেখক ছিলেন না? সেটা কি এই কারণে যে তিনি তথাকথিত সমাজবিপ্লব নিয়ে কোনো লাল রংয়ের সস্তা সাহিত্য রচনা করেন নি বলে? লাতিন আমেরিকার বামধারার যে-সব লেখকের লেখা মানবেন্দ্র প্রশংসা করেন বা অনুবাদ করেন তাদের কেউ-ই কিন্তু এই ধরনের ভুয়া অভিযোগ কখনো তোলেন নি বোর্হেসের বিরুদ্ধে। বামপন্থী বা মার্ক্সবাদী না হওয়া সত্ত্বেও কিন্তু বোর্হেসকে তারা লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের মুক্তিদাতা হিশেবেই সমীহ করেন। কট্টর বামপন্থী বা মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সাহিত্যের বিচার কত ঠুনকো এবং হাস্যকর হতে পারে আমরা কাফকার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই তা দেখেছি। ‘যথার্থ মার্ক্সবাদী ভাবুকের কাছে আমরা আরেকটুকু ধৈর্য্যময় বিশ্লেষণের প্রত্যাশা করি।’

বহুকাল আগে গার্সিয়া মার্কেসের সাথে এক দীর্ঘ আলাপচারিতায় মারিও বার্গস যোসা বোর্হেসের লেখার প্রগতিশীলতা সম্পর্কে বলেছিলেন :

‘আমি বিশ্বাস করি যে সব ভালো সাহিত্যই অপ্রতিকার্যভাবে প্রগতিশীল, লেখকের অভিপ্রায় যাই হউক। উদারহরণস্বরূপ, বোর্হেসের কথা বলতে পারি। সাংঘাতিক রকমের রক্ষণশীল, প্রতিক্রিয়াশীল একটি মন কিন্তু সৃষ্টিশীলতার প্রশ্নে এক বিন্দু প্রতিক্রিয়াশীল বা রক্ষণশীল নন। বোর্হেসের রচনাকর্মে এমন কিছু পাই না যেটাকে বলা যেতে পারে সমাজ বা ইতিহাসের পরিপন্থী বা জগতের নিশ্চল কল্পদৃশ্য, অন্তহীন এক কল্পদৃশ্য যা ফ্যাসিবাদ বা সাম্রাজ্যবাদকে উসকে দেয় বা তার বন্দনা করে।’

(সংলাপ: লাতিন আমেরিকান উপন্যাস নিয়ে, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও মারিয়ো বার্গাস ইয়োসা, অনুবাদ: রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, শুদ্ধস্বর, পৃ-৪৭)

কী আশ্চর্য গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন সাহিত্য সমালোচক এই মানবেন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, মারিও বার্গাস যোসার মতো লেখক যেখানে বোর্হেসের লেখায় ‘ফ্যাসিবাদ’ খুঁজে পান না, তিনি অসামান্য প্রতিভাবলে বোর্হেসের ‘রচনার পরতে পরতে ভাঁজে ভাঁজে’ আবিষ্কার করেন ‘ফাসিস্ত মতবাদ’। মানববাবুর কাছে লাতিন আমেরিকান সাহিত্য অনুবাদের জন্য আমাদের ঋণ সীমাহীন, কিন্তু বোর্হেস সম্পর্কে তার ভ্রান্ত বীতরাগ ও কুৎসা সাহিত্যানুরাগীদেরকে মর্মাহত করে। যে-গার্সিয়া মার্কেস সম্পর্কে তিনি সপ্রশংস এবং যার লেখা তিনি অনুবাদও করেছেন, সেই মার্কেস, নিরাপোষ বামপন্থী লেখক হওয়া সত্ত্বেও যিনি বোর্হেসের লেখার গুরুত্বকে অস্বীকার তো করেনই না, বরং তার মুগ্ধতার কথাই জানান:

‘ওহ্, তার ব্যাপারে আমার কোনো সমস্যা নেই। বোর্হেসের প্রতি আমার প্রবল অনুরাগ, প্রতিরাতে তার লেখা পড়ি। বুয়েনোস আইরেস থেকে একটিমাত্র জিনিসই কিনেছি আমি আর তা হলো বোর্হেসের রচনা সমগ্র। আমি যেখানেই যাই আমার স্যুটকেসের ভেতর খণ্ডগুলি থাকে, প্রতিদিন পড়ি, এবং তিনি এমন একজন লেখক যাকে অপছন্দ করি… কিন্তু পাশাপাশি, তার গল্পগুলি ফাঁদতে গিয়ে তিনি যে সুর ও স্বর বাঁধেন সেটা আমার ভীষণ পছন্দ। আমার ধারণা বোর্হেসের রচনায় যে অবাস্তবতা তা ছলনাপূর্ণও বটে, ওটা লাতিন আমেরিকার অবাস্তবতা নয়। এখন যা বলব তা একটি কূটাভাস : লাতিন আমেরিকার অবাস্তবতা এতটাই বাস্তব ও আটপৌরে যে বাস্তবতা বলতে ঠিক কী বোঝায় তা একদম গোলমেলে।’

(সংলাপ: লাতিন আমেরিকান উপন্যাস নিয়ে, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও মারিয়ো বার্গাস ইয়োসা, অনুবাদ: রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, শুদ্ধস্বর, পৃ ৪৪-৪৫)


‘তিনিই বলেছিলেন ফ্রাঙ্কোর গুন্ডারা ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকাকে অনেক আগেই কেন খুন করে নি।’ জানি না মানবেন্দ্র এই উদ্ভট উক্তি কোত্থেকে পেয়েছেন।


মানবেন্দ্র বলেছেন বোর্হেসের মধ্যে ‘ফাসিস্ত মতবাদ’ রয়েছে, ‘এমনকি তার রচনার পরতে পরতে ভাঁজে ভাঁজে মিশে আছে যে মতবাদ।’ জানি না বোর্হেসের কোন লেখাতে তিনি ফাসিস্ত মতবাদ খুঁজে পেয়েছেন। আমি কিন্তু তার কোনো লেখাতেই সে রকম কিছু খুঁজে পাই নি। এমনকি, লেখার বাইরে, বোর্হেসের ব্যক্তি জীবনেও ফাসিস্ত মতাদর্শ সমর্থনেরও কোনো প্রমাণ নেই। বরং উল্টোটাই ঘটতে দেখেছি। স্বৈরাচারী সামরিক শাসক হুয়ান দোমিংগো পেরন যখন ১৯৪৬ সালে আর্হেন্তিনার রাষ্ট্র-ক্ষমতা কুক্ষিগত করে তখন পেরন-বিরোধী প্রচারপত্রে স্বাক্ষর করার অপরাধে তাকে বুয়েনোস আইরেস গণপাঠাগারের গ্রন্থাগারিকের পদ থেকে চ্যুত করে পশু খামারের পর্যবেক্ষণের পদে ন্যস্ত করা হয়। এমনকি, তার মাকে (বার্ধক্যের কারণে) নিজগৃহে এবং বোন নোরাকে জেলে মাস খানেকের জন্য অন্তরীণ রাখা হয়। মানবেন্দ্রর অবগতির জন্য এই ফাঁকে এও জানিয়ে রাখতে চাই যে ১৯৫০ সালে তাকে ‘পেরন-বিরোধী আর্হেন্তিনীয় লেখক সমিতির সভাপতি হিশেবে মনোনীত’ করা হয়। শুধু পেরন-ই নয়, ছিলেন ফাসিস্ত ফ্রাঙ্কোরও বিরুদ্ধে তিনি। স্প্যানিশ সাহিত্যের পণ্ডিত এবং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্যামাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়ের মাধ্যমে এও জানতে পারছি যে ‘During the Spanish Civil war he (Borges) has said his sympathies lay with the Repaublicans as his friends belonged to the anti-Franco Camp.’শুধু মন্তব্য বা বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না তার ফাসিস্তবিরোধী মনোভাব, এমনকি লিখিতভাবেও তিনি ফাসিস্ত মতবাদের দোসর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। ১৯৪৬ সালের আগস্ট সংখ্যার ‘দক্ষিণ’ (ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো সম্পাদিত সাহিত্যপত্রিকা sur) পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লেখেন ‘স্বৈরাচার জন্ম দেয় নির্যাতন, স্বৈরাচার জন্ম দেয় চাটুকারিতা, স্বৈরাচার জন্ম দেয় নিষ্ঠুরতা, এমনকি আরও জঘন্য ব্যাপার হচ্ছে এই যে তা জন্ম দেয় নির্বোধ কর্মকাণ্ডের … লেখকদের অন্যতম এক কর্তব্য হচ্ছে এই দুঃখজনক একঘেয়ে বিষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা।’

এটা সত্যি যে তিনি রাজনৈতিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বামপন্থী ছিলেন না, ছিলেন রক্ষণশীল। তিনি নাৎসিবাদের বিরুদ্ধে যেমন বলেছেন, তেমনি কম্যুনিজমের বিরুদ্ধেও বলেছেন। কিন্তু তার এই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস দিয়ে নিজের সাহিত্যকে কখনো কলুষিত করেন নি। সাহিত্যে তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব বিষয় এড়িয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কেবল একটি ভুল করেছিলেন চিলির তৎকালীন স্বৈরশাসক আউগুস্ত পিনোশেৎ-এর সঙ্গে ভোজের নিমন্ত্রণ রক্ষা করে। এজন্য তাকে দেশি-বিদেশি গঞ্জনা কম সহ্য করতে হয় নি। ধারণা করা হয়ে থাকে এই নিমন্ত্রণই তার সম্ভাব্য নোবেলপ্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হতে পারে পিনোশেৎ-এর তৎকালীন বুদ্ধিজীবী মহলের কারো কারোর অনুরোধে বোর্হেস এই নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। হতে পারে বোর্হেসকে নিমন্ত্রণের মাধ্যমে স্বৈরাচারী পিনোশেৎ সাধারণ্যে গ্রহণযোগ্যতা লাভের ধান্দাই করেছিলেন। যেমনটা ঘটেছিল ইতালিতে রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে ফাসিস্ত মুসোলিনির দাওয়াত রক্ষা করার ফলে। কিন্তু ভুলটি তিনি কোনো সুযোগ লাভের আশায় বা ফায়দা লোটার আশায় করেন নি। চিলির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট অনরিস কাউসা গ্রহণ করতে গেলে চিলির প্রেসিডেন্ট তার সম্মানে ভোজের আয়োজন করেন। কিন্তু বোর্হেস নিতান্তই সৎ বলে পরবর্তীকালে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে এটি ছিল তার ভুল সিদ্ধান্ত। এই একটি কলঙ্ক ছাড়া বোর্হেসের জীবনে আর কোনো নিন্দনীয় ঘটনা আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আমাদের স্মরণ করা উচিত যে একজন লেখককে শেষ পর্যন্ত বিচার করা হবে তার সাহিত্যকর্মের জন্যে আর এই সাহিত্যকর্মকে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সাথে মিলিয়ে দেখলে চলবে না। মানবেন্দ্রর অভিযোগের আরেকটি অংশ হচ্ছে : ‘তিনিই বলেছিলেন, ফ্রাঙ্কোর গুন্ডারা ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকাকে অনেক আগেই কেন খুন করে নি।’ জানি না মানবেন্দ্র এই উদ্ভট উক্তি কোত্থেকে পেয়েছেন। তিনি এই উদ্ধৃতির কোনো উৎস নির্দেশ করেন নি। করলে ভালো হতো। দ্রুতই শনাক্ত করতে সুবিধা হতো। কিন্তু আমি তার স্প্যানিশ এবং ইংরেজিতে অনূদিত রচনাবলীর কোথাও এমন উক্তি খুঁজে পাই নি। তার দেয়া সাক্ষাৎকারগুলোতেও নয়। রিচার্ড বার্জিন-এর সাথে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে লোরকার প্রসঙ্গ এসেছে। সেইটাই যদি তার অনুল্লিখিত উৎস হয়ে থাকে তাহলে আমি এখানে ইংরেজি সংস্করণটাই হুবহু উদ্বৃত করছি পাঠকদের বিচার করার সুবিধার জন্য :

Burgin : What about the plays of Lorca?

Borges : I don’t like them. I never could enjoy Lorca.

Burgin : Or his poetry either?

Borges : No, I saw yerma and I found it so silly that I walked away. I couldn’t stand it. Yet I suppose that’s a blind spot because………….

Burgin : Lorca, for some reason, is idealized in this country.

Borges : I suppose he had the good luck to be executed, No? I had an hours chat with him in Buenos Aires. He struck me as a kind of play actor, No? Living up to a certain role. I mean being a professional Andalusian.*

বোর্হেস যা বলেছেন, যদি আক্ষরিক অনুবাদ করি—তাহলো এই যে:

‘মনে হয় খুন হওয়াটা তার জন্য সৌভাগ্যই বয়ে এনেছিল। (I suppose he had the good luck to be executed, No?)’।

‘খুন হওয়াটাকে’ তিনি কেন সৌভাগ্য বলছেন? এই সাক্ষাৎকারে বুঝা যাচ্ছে বোর্হেস লোরকার কবিতা বা নাটক, কোনোটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না। কিন্তু বোর্হেস গুরুত্বপূর্ণ মনে না করলেও লোরকা ততদিনে স্পেনে এবং লাতিন আমেরিকায় দারুণ জনপ্রিয় এবং পরিচিত ব্যক্তিত্ব। অতএব, তার এই জনপ্রিয়তা বা খ্যাতির একটা ভিত্তি তো থাকতেই হবে। কী সেই ভিত্তি? বোর্হেসের মতে, সেই ভিত্তি যতটা না সাহিত্য তার চেয়ে বেশি ঐ অল্প বয়সে খুন হওয়া। সেই অর্থেই বোর্হেস একে সৌভাগ্য বলে অভিহিত করেছেন। এই বক্তব্যের কোথাও ‘ফ্রাঙ্কোর গুন্ডারা ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকাকে অনেক আগেই কেন খুন করে নি!’ এরকম ইঙ্গিত নেই। জানি না এর বাইরে অন্য কোন গোপনসূত্র মানবেন্দ্রর ঝুলিতে আছে কিনা।

কেউ যদি না-বুঝে কোনো তথ্য বা বক্তব্য পেশ করেন তাকে আমরা বলি ‘ভুল’। আর যদি সঠিক জেনেও ভিন্ন তথ্য দেন তাহলে আমরা তাকে বলি ‘মিথ্যাচার’। আর যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে অবহিত না হয়ে সে বিষয়ে বক্তব্য পেষ করেন সেটাকে আমরা বলি ‘অজ্ঞতা-প্রসূত’। একটা ছোট্ট উদাহরণ দিলেই পাঠক বুঝতে পারবেন মানবেন্দ্র কতটা মিথ্যে কথা বলতে পারেন। মানবেন্দ্র যখন বলেন ‘শেষ পর্যন্ত তিনি (বোর্হেস) কোথাও পৌঁছতে পারেন নি, বরং জীবদ্দশাতেই জাদুঘরের সামগ্রী হয়ে উঠেছেন।’—তখন আমি বুঝতে পারি না, একে মানবেন্দ্রর ভুল, মিথ্যাচার নাকি অজ্ঞতা-প্রসূত বক্তব্য বলব। মার্কিন লেখক অধ্যাপক ও অনুবাদক Clark M. Zlotchew আমাদেরকে দিচ্ছেন ঠিক বিপরীত এক চিত্র:

Jorge Luis Borges is the most eminent Latin American writer of the twentieth century. It is even safe to say that he is the best known and most admired living writer in the Spanish language. Translated into all the major tongues, his poetry, essays, and short fiction are among the most important pieces of modern world literature. Very few authors are as widely praised, criticized, loved, abhorred, discussed, or argued over.১০

আমি যতদূর জানি তিরিশের দশকের একেবারে গোড়া থেকেই তিনি তার সাহিত্যকর্মের জন্য আলোচিত হতে শুরু করেন আর্হেন্তিনার নেতৃস্থানীয় দৈনিক এবং সাহিত্য পত্রিকায়। গত শতাব্দীর বিশ-এর দশকেই আর্হেন্তিনার প্রধান ঔপন্যাসিক রিকার্দো গুইরাল্দেস প্রবন্ধ লিখে বোর্হেস প্রতিভার স্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এই বলে :

‘Borges was among those young writers who had a mission to reform and renew Argentine Literature.’ (Beatriz Sarlo, Jorge Luis Borges, verso, New York, 1993, p-26)।

অন্যদিকে ১৯৩৯ সালে নেস্তর ইবারবার মাধ্যমে ফরাসি ভাষায় তার লেখার অনুবাদের সূত্রে বিদেশে পরিচিত এবং আলোচিত হতে শুরু করেন। এখন পর্যন্ত তার উপর যে কত অসংখ্য গ্রন্থ এবং প্রবন্ধ লেখা হয়েছে তার হিশেবে করা সত্যি এক কঠিন কাজ। মানবেন্দ্রর মতো কোনো অধ্যাপক যদি সেই কাজে আত্মনিয়োগ করেন তাহলে আমি নিশ্চিত যে তার সম্পর্কে শুধু রচনাপঞ্জীর একটা তালিকা দিয়েই শত পৃষ্ঠার গ্রন্থ অনায়াসেই তৈরি করতে পারবেন। বোর্হেস বহির্বিশ্বে কেবল লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের প্রথম আলোচিত ব্যক্তিত্বই নন, সম্ভবত সর্বাধিক আলোচিত ব্যক্তিত্ব।

টীকা:

১. ‘His stories were seen as elitist evasions from the ‘real’, his heterodox views on foreign influences were interpreted as extranjirigante (Foreign-Loving at the expense of the nation), critics such as Arturo Jauretche, Jorge Abelardo Ramos. and Juan Hernandez Arregui were harbingers of the new brutalism.’ ( Beatriz Sarlo, Jorge luis Borges, Verso 1993, P-XII.)

২. ‘Rita Guibert: That reminds me that you said Borges was “a great writer, but one of the great European writers.
Asturias: As an American-Indian, when I read Borges I get the impression that he’s a European author, deeply versed in European culture, a man whose interests are European, who is constantly analyzing his own Personality, his ego. There is plenty of European lucubration in his writings, and I don’t find American roots in it, our preferences, nor if you like our defects. This is no way decreases his stature as a great writer, but I question whether he is representative of Latin American Literature.’(Rita Guibert, Seven voices,Translated from the Spanish by Frances Portsedge, Alfred A. Knopd New Your 1973, U.S.A. P-155.

৩. Maria Esther Vasquez, Borges: Sus dias y su Tiempo, punto de lectura, Spain, Mayo 2001, P. 370-171

৪. মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, হুয়ান রুলফোর কথাসমগ্র, প্রমা প্রকাশনী, কলকাতা ১৯৯০, পৃষ্ঠা: ২৭২.

৫. শঙ্খ ঘোষ, ঐতিহ্যের বিস্তার, প্যাপিরাস, কলকাতা, ১৯৯১, পৃষ্ঠা : ১২৮.

৬. Jorge Luis Borges, Fictions, (Ed & Trans:) Anthony Kerygan, American Library, ( in `Cronology’ section), P. xxxxvi.

৭. Shamu Ganguly, Hispanic Horizon/ No. 3. Monson 1986-87,New Delhi, P. 46.

৮. Jorge Luis Borges, Sur 142, Agosto, 1946, P 114-15.

৯. Richard Burgin, Conversation with Jorge Luis Borges, Discus Book, New York, 1970. P. 108-109.

* লোরকা সম্পর্কে বোর্হেসের অনুরূপ মন্তব্য আরও একটি সাক্ষাতকারেও আছে। এটি আমি পেয়েছিলাম ইন্টারনেটে। ১৯৮০ সালের ২৫ এপ্রিল ডানিয়েল বার্নি, স্টিফেন ক্যাপ এবং চার্লস সিলভার-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বোর্হেস বলেন :

‘তবে আমি লোরকা-মুগ্ধ নই। দেখুন; এটা আমার এক সীমাবদ্ধতা, ভিজ্যুয়াল পোয়েট্টি আমার পছন্দ নয়। খামখেয়ালিপূর্ণ রূপক তার মূল লক্ষ্য। অবশ্যই, জানি তিনি খুবই সম্মানিত। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতামও। নিউইয়র্কে তিনি বছরখানেক ছিলেন। এই এক বছরে তিনি একটি ইংরেজি শব্দও শেখেন নি। কী আশ্চর্য? বুয়েনোস আইরেসে তার সাথে আমার একবার দেখা হয়েছিল। খুন হওয়াটা তার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপারই হয়েছিল। একজন কবির ক্ষেত্রে যা শ্রেষ্ঠতম ব্যাপার। এক চমৎকার মৃত্যু, তাই না? আলোড়িত করার মতো মৃত্যু এবং পরে আন্তোনিও মাচাদো তাকে নিয়ে সেই সুন্দর কবিতাটি লিখেছিলেন।’

এখানেও মানবেন্দ্রর উদ্ধৃতির কোনো প্রতিধ্বনি আমরা দেখতে পাই না। ফের্নান্দো সররেন্তিনোকে দেয়া সাক্ষাৎকারেও আমরা লোরকা প্রসঙ্গ উত্থাপিত হতে দেখি। কিন্তু সেখানেও ‘ফ্রাঙ্কোর গুন্ডারা ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকাকে অনেক আগেই কেন খুন করে নি!’ এমন কোনো কথা বোর্হেস বলেন নি।

১০. Fernando Sorentino, Seven Conversation with Jorge Luis Borges, Tra: Clark M. Zlotchew, The Whistsore Publishing Company, Tory, New York, 1982, P-v11

রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন

জন্ম ১৯৬৫, শরিয়তপুরে। লেখাপড়া এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরেই। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। ভিন্ন পেশার সূত্রে মাঝখানে বছর দশেক কাটিয়েছেন প্রবাসে। এখন আবার ঢাকায়। ইংরেজি এবং স্পানঞল ভাষা থেকে অনুবাদের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি সাহিত্য নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশ।

প্রকাশিত বই :
অনূদিত কাব্যগ্রন্থ—
গেয়র্গ ট্রাকলের কবিতা (মঙ্গলসন্ধ্যা প্রকাশনী, ১৯৯২)
সি পি কাভাফির কবিতা (শিল্পতরু প্রকাশনী, ১৯৯৪)
টেড হিউজের নির্বাচিত কবিতা (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৪)
আকাশের ওপারে আকাশ (দেশ প্রকাশন, ১৯৯৯)

অনূদিত সাক্ষাৎকার গ্রন্থ—
সাক্ষাৎকার (দিব্যপ্রকাশ, ১৯৯৭)
কথোপকথন (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৭)
অনূদিত কথাসমগ্র ( কথাপ্রকাশ)

সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ—
মেহিকান মনীষা: মেহিকানো লেখকদের প্রবন্ধের সংকলন (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ১৯৯৭)
খ্যাতিমানদের মজার কাণ্ড (মাওলা ব্রাদার্স, ১৯৯৭)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত কবিতা (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত সাক্ষাতকার (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত প্রবন্ধ ও অভিভাষন (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
প্রসঙ্গ বোর্হেস: বিদেশি লেখকদের নির্বাচিত প্রবন্ধ (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
রবীন্দ্রনাথ: অন্য ভাষায় অন্য আলোয় (সংহতি প্রকাশনী, ২০১৪)
মারিও বার্গাস যোসার জীবন ও মিথ্যার সত্য (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ২০১৫)

গৃহীত সাক্ষাৎকার—
আলাপচারিতা ( পাঠক সমাবেশ, ২০১২)

কবিতা—
আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি (শ্রাবণ প্রকাশনী, ২০১৪)

জীবনী—
হোর্হে লুইস বোর্হেসের আত্মজীবনী (সহ-অনুবাদক, সংহতি প্রকাশনী, ২০১১)

প্রবন্ধ—
দক্ষিণে সূর্যোদয়: ইস্পানো-আমেরিকায় রবীন্দ্র-চর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস( অবসর প্রকাশনী, ২০১৫)

ই-মেইল : razualauddin@gmail.com
রাজু আলাউদ্দিন