হোম নির্বাচিত সবাইকে তুষ্ট করতে পারে এমন কবিতা কালজয়ী হতে পারে না

সবাইকে তুষ্ট করতে পারে এমন কবিতা কালজয়ী হতে পারে না

সবাইকে তুষ্ট করতে পারে এমন কবিতা কালজয়ী হতে পারে না
683
0
_sp-pesnik-stefan-malarme
স্টিফেন মালার্মে (১৮৪২-১৮৯৮)

 মালার্মে সব শ্রেণির জনগণকে তুষ্ট করতে পারে এমন কবিতাকে এক কথায় নাকচ করে দিয়েছেন 

 

অবলীলায় কবিতা উচ্চারণের ধ্বনিমৌনতা অথবা অর্থ-বিস্ময়-স্তরে মনোযোগী হলে কবিতার অন্তর্গত রহস্যের সামান্য হলেও বোধের সাথে মিলিয়ে নেয়া সম্ভব। কবিতা বোধের পাখা দিয়ে ছুঁয়ে দেওয়ার বিষয়, কবিতা দৃষ্টিগ্রাহ্য অথবা ব্যাখ্যাযোগ্য শিল্প নয়। প্রকৃত কবিতার ব্যাখ্যাবিস্তার দুঃসাধ্য অথবা সেই ব্যাখ্যা ঠিক কবিতার কাছাকাছি পৌঁছে কিনা, সেখানেও সংশয়। সে কারণেই বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই, কবিতা-বিশ্লেষক পণ্ডিতদের ‘অর্থহীন-বাচাল’ হিসেবে কটাক্ষ করা হয়; জীবনানন্দ দাশ শুধু নয় অনেকেই একাডেমিক পণ্ডিতদের মূর্খজ্ঞানে উপহাস করতে ছাড়েন নি। আসলে পণ্ডিত অথবা একাডেমিশিয়ানদের দোষ নয়, বরং আমাদেরকে স্বীকার করতেই হচ্ছে শিল্প-বিশ্লেষকদের কিছুটা হলেও শিল্পসত্তা থাকা জরুরি। একজন শিল্পীর হাতে শিল্পের ব্যাখ্যা যেভাবে উঠে আসে, সেভাবে একাডেমিশিয়ানদের কলমে সম্ভব হয়ে ওঠে না। এক্ষেত্রে একাডেমিক স্তরে, অন্তত ‘শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি’ বিষয়ে আর্টিস্টদের অংশ গ্রহণ অধিক ফলদায়ক। এ কারণেই শ্রেণিকক্ষে কবিতা যেভাবেই আলোচিত হোক না কেন, আমরা যখন কবি-শিল্পী-সাহিত্যিকদের নিয়ে সেমিনার-আলোচনা-আড্ডার আয়োজন করি তখন তা অধিক অর্থবোধক মাত্রা লাভ করে। এই মাত্রাকে শুধুমাত্র বোধের পাখা দিয়েই স্পর্শ করা সম্ভব। যার পাখা নেই তার পক্ষে কবিতাকে ছুঁয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এই ছুঁয়ে দিতে না পারা, এটি আসলে পাঠকের ব্যর্থতা। কেননা সমসাময়িকগণ যদি পড়তে না শেখেন সে দায়ভার শিল্পীর বা কবির নয়। এক্ষেত্রে মালার্মে সব শ্রেণির জনগণকে তুষ্ট করতে পারে এমন কবিতাকে এক কথায় নাকচ করে দিয়েছেন।

কবিতা আদৌ অলস সময় যাপনের জন্য মনোরঞ্জক উপাদেয় কোনো শিল্প-মাধ্যম নয়। নাটক, নৃত্য, সঙ্গীত অথবা ক্রিকেট, ফুটবল প্রভৃতি বহুবিধ শিল্প-মাধ্যমে যেভাবে আনন্দ-রিল্যাক্স অথবা জৈবিক চাহিদার পরিপুরক পরিবেশ পাওয়া সম্ভব ঠিক সেভাবে কবিতার মাধ্যমে সে চাহিদা কোনো ক্রমেই মেটানো সম্ভব নয়; এমন কি কবিতা কখনও কোন সামাজিক নীতিশিক্ষাও পরিবেশন করে না, অথবা কোন সামাজিক দায়বোধের কাছে আটকে থাকে না; কবিতা কখনও দর্শনসূত্র পরিবেশন করে না; অথচ তারপরও মানব প্রজন্ম যাতে সামাজিক চোখ অথবা দার্শনিক চোখ তৈরি করার সুযোগ লাভ করতে পারে সে বিষয়ে কবিতা আমাদের অজ্ঞাতে আমাদেরকে প্ররোচিত করে।

ধর্মপুস্তকের কাজ ন্যায়শিক্ষা দেওয়া, সমাজশিক্ষা দেওয়া অথবা দর্শনশিক্ষা দেওয়া; তারপরও অবশ্যই ধর্মপুস্তক এবং কবিতা এক বিষয় নয়; বিষয়-আঙ্গিক অথবা রস আহরণে, যে ক্ষেত্রেই বলি না কেনো কবিতা আর ধর্মপুস্তক সম্পূর্ণ পৃথক অভিধা। সামাজিক বাস্তবতা আর সভ্যতার বিবর্তনের সত্যতা অনুসারে আমরা দেখতে পাচ্ছি মানুষ ধর্মপুস্তক থেকে ক্রমশ বিযুক্ত হতে চলেছে; অপর পক্ষে ক্রমশ বিজ্ঞানচেতনাসহ নন্দনচেতনার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে শুরু করেছি আমরা। সে হিসেবে সত্যিকার অর্থেই কবিতার চর্চা যে তুলনায় বেড়েছে সে তুলনায় ধর্মপুস্তকের চর্চা বাড়েনি। জ্ঞানের রাজ্যে এটাই স্বাভাবিক যেভাবে বিজ্ঞান-দর্শনসহ জ্ঞানরাজ্যের নানাবিধ বিষয়াদির চর্চা মানবসভ্যতা টিকে থাকার স্বার্থে বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে অনুপাতে ততটাই ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মচর্চা পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছে। কবিতা সৃষ্টির রহস্য উদ্ঘাটনে এ বিষয়গুলোও ভেবে দেখার বিষয়।

 যদি ধর্মপুস্তক প্রশান্তি প্রদায়ক যথেষ্ট ভাষা-অভিধা হতো তাহলে সভ্যতায় শিল্প-সাহিত্য চর্চার কোনো প্রয়োজন হতো না 

এক্ষেত্রে ভাবা সম্ভব, ভাষাবোধে জীবন-প্রকাশের সময়-উপযুক্ত অনুভূতি কি শেষ পর্যন্ত কবিতাকে আশ্রয় করে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে? ধর্মরস সেক্ষেত্রে কি যথেষ্ট নয়? অথবা যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে? অবশ্যই ব্যর্থ হচ্ছে। যদি ধর্মপুস্তক প্রশান্তি প্রদায়ক যথেষ্ট ভাষা-অভিধা হতো তাহলে সভ্যতায় শিল্প-সাহিত্য চর্চার কোনো প্রয়োজন হতো না। মানব-সভ্যতা টোটেম-ট্যাবু, ফোক-বিলিভ অথবা ঐশী গ্রন্থ ও বিশ্বাসের ভেতর আটকে থাকে নি; বরং ক্রমশ এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা প্রিজার্ভ করাই মানব-সভ্যতার বৈশিষ্ট্য; এই বৈশিষ্ট্যের সাথে কবিতার বাঁক-বদলের বিষয়টিও জড়িত। কবিতা মূলত চেতনাগত সুর ও ভাষিক অনুরাগের যোগসূত্র। প্রতিটি মানুষের ভেতর কবিতা এক ধরনের প্রাচীন প্ররোচনা। ফলে অনিবার্যভাবেই কবিতা প্রথমত ছিল মৌখিক প্রকাশ। তারপর বোধে ও স্মৃতি থেকে এখন লিখিত রূপ। কবিতা মানুষের সবচেয়ে মানবিক অংশটুকুতে টোকা দেয়, বোধ ও অর্থের প্রণোদনায়।

পাঠক যদি কবিতার টোন এবং মেজাজকে টাচ করতে না পারেন, তা হলে কবিতাকে উপলব্ধিতে নিয়ে আনা সম্ভব নয়। আর অবশ্যই প্রত্যেক প্রতিভাবান কবির কবিতামেজাজ পৃথক। মেজাজের সেই ভিন্নতা থেকেই উঠে আসে কবিতার অর্থবিস্তারি পরিভ্রমণ-প্রক্রিয়া। এই পরিভ্রমণগুণ একজন কবিকে সমকাল থেকে পৃথক করে চিহ্নিত করে। হতে পারে কবিতা মৃদু অথবা তীব্র; হতে পারে তা এতটাই জীবনঘনিষ্ঠ যে সেখানে কবিতার কুহক নেই, বরং আছে কবিতার মায়া; যে মায়া আমাদের সম্মোহিত করে, ক্রমশ ডুবিয়ে রাখে জীবনের সীমাহীন অমীমাংসিত প্রশ্নে। তারপরও আমি বলব কবিতার কুহক আসলে বিভ্রান্তির বেড়াজাল নয়, বরং তা মায়া বিস্তারি অর্থ-ব্যকুলতার হাতছানি। তারপরও আমি মনে করি, মালার্মে যেভাবে ভেবেছেন, কবিতা এখন মালার্মের সেই ভাবনা থেকে অনেকটা সরে এসেছে। কবিতা এখন শুধু ছন্দ অথবা শব্দঝঙ্কারের অথবা শুধুই রহস্য বুননের খেলা নয়; শুধুমাত্র কণ্ঠধ্বনি নির্ভর ছন্দোময় ঝঙ্কার আর অর্থহীন রহস্যকে আমি কবিতা বলে মেনে নিতে কুণ্ঠা বোধ করি; যদি না সেখানে সীমাহীন ভাবনার স্তরসমূহ উন্মোচিত হবার অবকাশ পায়; যদি না সেখানে দৈনিকতা-অতিরিক্ত ভ্রমণ-প্রক্রিয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়; যদি না সেখানে পাঠকের বোধে সৃজনশীল বোধ সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ লাভ করে; যদি না সেখানে নিত্য-ব্যবহার্য শব্দরাশি নতুন অভিব্যক্তি প্রকাশজ্ঞাপক শক্তিতে নতুন হয়ে ওঠে; যদি না সেখানে চিত্রকল্পের সৌহার্দ্যে প্রতিদিনের শব্দসমূহ অথবা দৃশ্যকল্পসমূহ অভিধানে আটকে থাকা অর্থের অতিরিক্ত কোনো অর্থময়তায় পাঠককে গ্রাস করে, তবে তা কখনোই নতুন কবিতা নয়; বরং তা বহুলিখিত বহুপঠিত ও ব্যবহৃত রুগ্ণ ভাষা-প্রকাশ মাত্র; এগুলো লেখা হয়ে গিয়েছে, বলা হয়ে গিয়েছে, পঠিত হয়েছে; আপনাকে আর আবেগ-আপ্লুত হয়ে দ্বিতীয়বার তা লেখার দরকার নেই।

 লিখিয়েদের যে অংশটি মিডিয়ার নজরে চুক্তিবদ্ধ হতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা সংগঠন, ফোরাম, গ্রুপ, ইচ্ছেমতো পত্রিকা প্রকাশ অথবা গোষ্ঠীবদ্ধ হতে যত্নবান অথবা নিদেনপক্ষে ফেইসবুকের আলোক দেয়ালে কবিতা লেপটে দিচ্ছেন 

আমি মনে করি, একজন কবি মানব-সভ্যতার ক্রমবিকাশের স্তরসমূহের সাথে পরিচিত হতে বাধ্য; পরিচিত হতে বাধ্য বিজ্ঞানের ক্রমবিবর্তনের প্রভাবে মানব পরিবারের মননগত চেতনস্তরের সাথে। কেননা কবি জানেন তিনি কী বলতে চান; অযথা উদ্দেশ্যহীন  কথাস্তম্ভ নির্মাণ করতে ইচ্ছুক নন তিনি; সেক্ষেত্রে তিনি মানব-প্রকৃতি বোঝেন, সেই সাথে বোঝেন সভ্যতার গতিবিধি। এ বিষয়ে যারা একমত নন; অবশ্য একমত হবার ক্ষেত্রে বোধগত মানবীয় চোখ থাকা জরুরি; যাই হোক তারা অপ্রস্তুত পাঠকের অজ্ঞানতার সুযোগ গ্রহণ করেন মাত্র; এবং তিনি নিজেও যেহেতু অন্ধ সেহেতু নির্বোধ বাক্যবিন্যাসকে তিনি কবিতা জ্ঞান করে জীবনভর লিখতে থাকেন; এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন। অসংখ্য প্রতিষ্ঠান অজস্র মিডিয়া প্রস্তুত আছে সেই অজ্ঞানতাকে স্বীকৃতি দেবার জন্য; আর যখন পুরস্কার অথবা মিডিয়াবাজি চেগিয়ে উঠতে থাকে তখন আর জনগণের দোষ দেব কেন, এর মধ্যেই তো এভাবে মিডিয়াবাজির ধাক্কায় অপকবিতাকে কবিতা হিসেবে চিনতে শিখে গেছে সোসাইটি। আর লিখিয়েদের যে অংশটি মিডিয়ার নজরে চুক্তিবদ্ধ হতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা সংগঠন, ফোরাম, গ্রুপ, ইচ্ছেমতো পত্রিকা প্রকাশ অথবা গোষ্ঠীবদ্ধ হতে যত্নবান অথবা নিদেনপক্ষে ফেইসবুকের আলোক দেয়ালে কবিতা লেপটে দিচ্ছেন; এমনকি বিনা অনুমতিতে আমার অথবা আপনার টাইমলাইনে ট্যাগ করে দিচ্ছেন প্রতিদিন কবিতার নামে শত শত শব্দের অপ-আচরণ।

যাই হোক। আমি অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিভাধর কবিদের বেলায় দেখে আসছি, প্রতিভাগুণে কখনওবা কোনো বহুব্যবহৃত রুগ্ণ শব্দও হয়ে উঠেছে নতুন; আবার কখনওবা তীক্ষ্ণ শব্দ হয়ে উঠেছে মৃদু। সত্যিকার কবিতার শরীরে দেখা যেতে পারে শব্দসংখ্যার স্বল্পতা অথচ সেই চূড়ান্ত ও সীমিত শব্দপ্রয়োগ কী প্রচণ্ডরকম অর্থ-আগ্রাসী পরিবেশ নির্মাণ করতে পারে; যার উদাহরণ একমাত্র একটি উৎকৃষ্ট কবিতাই হতে পারে। অথবা অব্যবহৃত শব্দের সহসা ব্যবহার কবিতার পরিবেশকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, পাঠককে নির্দেশনা অথবা ইশারা দিচ্ছে, পাঠক কী ভাববেন অথবা কোন পথে অগ্রসর হবেন এ সব কিছুই নির্ভর করছে শব্দের বিনির্মাণ অথবা প্রতিনির্মাণের ওপর।

কবিতা বুঝতে হলে শব্দ ব্যবহার অথবা বাক্যবিন্যাসের এমনতর কৃৎকৌশল নিয়েও ভাববার অবকাশ আছে। আমার অভিজ্ঞতায় আমি প্রতিভাধর কবির কবিতায় এমনটিও দেখেছি, বর্ণনা ধীর ও হ্রস্ব; ফলে লাইন ছোট ও কমপ্যাক্ট হয়ে উঠেছে এবং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলেও তা কখনও নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে থাকছে না; হতে পারে বিরাম চিহ্নহীন অথবা প্রায় বিরামচিহ্নবিহীন প্রবহমান ছন্দের ধীর স্রোতে স্বচ্ছ অথচ রহস্যমুখর অথবা প্রচলিত ছন্দের সীমানা তার জন্য যথেষ্ট নয়, ফলে কবিতার ভাষা সেই সীমানা অতিক্রম করেছে; তারপরও সব মিলিয়ে কিন্তু নির্মাণ নয় বরং কৃত্রিমতা ও আঁতলামো-বর্জিত সেই কবিতা; সেই কবিতার পদবিন্যাসে রয়েছে স্বতঃস্ফূর্ত ও অনিবার্য পদবন্ধন; অথবা হতে পারে সেই কবিতা ধারাবাহিক ও লক্ষ্যাভিমুখী, গন্তব্য বিদ্যমান; ফলে পাঠ-উত্তর পাঠকের প্রাপ্তিযোগ ঘটে। আবার এ কথাও ঠিক, কবিতা প্রয়োজনের দাবিতে দীর্ঘ হয়ে উঠতে পারে; অথচ তার পরও সেই কবিতা বাহুল্যবর্জিত; হয়তো আপনি সেই কবিতার দীর্ঘ বয়ানে বিরক্ত হবার পরিবর্তে ক্রমশ পাঠবিস্তারে, ক্রমশ মুগ্ধতায় উন্মুখ হয়ে উঠবেন।

প্রতিভাধর কবিদের ক্ষেত্রে এও দেখেছি, ভাষার কাঠামো-নির্ভরতা অপেক্ষা কবিতায় শিল্পের জীবনীশক্তির সমাবেশ ঘটে পদবন্ধন জনিত অর্থময়তার কারণে; ফলে দৈনন্দিন বস্তুজগৎ আশ্রিত ঘটনাবলির চিত্রায়ণ ও জীবন-জগতের তাৎপর্য দর্শনচেতনায় বিবিধ অনুষঙ্গের প্রতিভাস হয়ে উঠতে পারে কবিতায়। এক্ষেত্রে কবিতার বহু ব্যবহৃত কাঠামো-খোলসকে অস্বীকার করে কবি কবিতার পৃথক পোশাকে উপস্থিত হতে বাধ্য। তা না হলে পুরোনো কবিতা নতুন করে ভিন্ন কলমে বা ভিন্ন কণ্ঠে শোনার কোনো যৌক্তিকতা নেই; আমি সেই কবিতা শুনতে বাধ্য নই। এই যে নতুন করে কবিতাকে সামনে নিয়ে আসা; এই নতুন করে নিয়ে আসার মধ্যে থাকে না কোনো চটুল নৃত্য; বরং সেখানে রয়েছে গভীরতার যাত্রাপথ উন্মোচন-প্রক্রিয়া।

এ অবস্থায় এসে আমি বিনয়ের সাথে বলতে চাই, এমনতর কবিতার মুখোমুখি আমি হয়েছি তার অর্থ এই নয় যে এগুলোই হতে হবে কবিতার আদর্শ; কেননা আমি মনে করি সৃজনশীলতা কোনো সুনিয়ন্ত্রিত ছকে বা আদর্শে আটকে থাকে না বা সীমাবদ্ধ থাকে না; আটকে থাকলে সেখানে সৃজনশীলতা থাকে না; সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যদিও আমি আমার কবিতার কৃৎকৌশল বিষয়ে ইদানিং ভাবছি, আমি কবিতায় প্রাত্যহিক নন্দনপ্রিয়তাকে খুব সচেতনভাবেই প্রত্যাখ্যান করতে ইচ্ছুক; এতে কবিতায় জন্ম নিতে পারে এক ধরনের বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া; যেখানে লুকিয়ে থাকে প্রতিবেশ অথবা দৈনিকতার ওপর অনাস্থা অথবা ক্ষোভ। এ অবস্থায় প্রচল কবিতারীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়। অর্থাৎ কবিতা মুক্ত হতে চলেছে অলঙ্কার-সর্বস্বতা থেকে। আর এভাবে বিপজ্জনক পথে কবিতার পদবিন্যাসকে মুক্ত করে দিতে গিয়ে আমি ঝুলে থাকতে পারি ধারালো সুতোর ওপর।

● শেষাবধি দার্শনিক হয়ে উঠেছিলেন নরওয়ের ইয়স্তেন গার্ডার 

হ্যাঁ, এভাবে কবিতা নিয়ে ভাবনার সীমানা খুলে দেয়া যেতেই পারে। আবার এভাবেও ভাবা যেতে পারে, কবিতা তো আসলে সৃজিত হয় না; কবিতা ছড়িয়ে আছে বাস্তব অথবা জান্তব অভিজ্ঞানের ভেতর। সেই ছড়িয়ে থাকা কবিতাকে নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করে নিতে গিয়ে যে কষ্ট আর প্রশান্তির পলি জমে ওঠে সেটাকে ছেঁকে তুলে নেওয়াই কবির কাজ। তারপরও আমি বলব, কবিতা মানব-সভ্যতার জন্য কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়; এটি ভাষানির্ভর মানস-প্রক্রিয়া; কবিতা বিজ্ঞাননির্ভর কোনো সৃজনজগৎ নয়; যদি মনে করি কবিতা রচনা করে সভ্যতা উদ্ধার করব, তাহলে তা দৃষ্টিগ্রাহ্য ও বৃহত্তর অর্থে হাস্যকর; তবে ব্যক্তিমানস এমনকি গোষ্ঠীমানসকল্পে তা অবশ্যই ভূমিকাবিস্তারি ভাষাপ্রকাশ।

gaarder_jostein_1
ইয়েস্তেন গার্ডার (১৯৫২-)

শেষাবধি দার্শনিক হয়ে উঠেছিলেন নরওয়ের ইয়স্তেন গার্ডার। তাঁর ‘মায়া’  উপন্যাসে নিজের কৈশোর নিয়ে, ‘ঘটনাটা আমার অষ্টম জন্মদিনের আগের, তখন আমাদের পরিবার চার বছরের জন্য মাদ্রিদে পাড়ি জমায়। পকেট ভর্তি হ্যাযেলনাট নিয়ে একটা বুনো পথে দৌড়াচ্ছিলাম আমি; হ্যাযেলনাটগুলো কুড়িয়ে পেয়েছিলাম আমি। দৌড়াচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম মা-কে দেখাব নাটগুলো। হঠাৎ বনের মধ্যে স্যাঁতসেতে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখলাম ছোট একটা হরিণের বাচ্চা। শরতের ঝরা পাতার ওপর শুয়েছিল হরিণশাবক। পাতাগুলোর ছবি আমার মনে গেঁথে আছে; ছোট্ট হরিণ-বাচ্চাটির গায়ে লুটিয়েছিল সেই ঝরে পড়া পাতা। আমি ভেবেছিলাম হরিণশিশুটি ঘুমিয়ে আছে। নিঃশব্দে এগিয়ে গিয়েছি আমি, গায়ে হাত বুলিয়ে সরিয়ে দিলাম ঝরে পড়া পাতা; কী চমৎকার মায়া। অথচ শিশুটি ঘুমাচ্ছিল ন, মারা গিয়েছিল হরিণশাবক।’

এর পর ইয়স্তেনের বোধগত জগতের বিবর্তন ঘটে। ইয়স্তেন কোন দিন এই অপ্রত্যাশিত যন্ত্রণার কথা মা-কে অথবা প্রিয়জনকে বলতে পারেন নি। বরং তিনি, নিজেকে এবং নিজের ক্ষুদ্র জীবনকে আরও ব্যাপক প্রেক্ষিতে স্থাপন করে সান্ত্বনার আশ্রয় খোঁজার প্রয়াস পেয়েছিলেন। ‘নিজেকে এই বলে তুষ্ট করার অভ্যাস করেছিলাম যে, জীবনের মহা অভিযাত্রায় আমি একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র; এমন কোনো কিছুর ক্ষণস্থায়ী অংশ বিশেষ যা আমার চেয়ে ঢের বিশাল এবং শক্তিশালী।’

ভালো দার্শনিক হওয়ার জন্যে প্রয়োজন বিস্মিত হবার ক্ষমতা। এই বিস্মিত হবার ক্ষমতা থেকে ভাষা-স্তরের অবচেতনে ঘটে যায় বিবর্তন; যে ঘটনাটি ঘটেছিল ইয়স্তেনের ক্ষেত্রে; যে ঘটনাটি ঘটেছিল আমার ক্ষেত্রে আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানায়। প্রকৃত প্রস্তাবে, এই বিস্মিত হবার ক্ষমতা থেকেই জন্ম হয় কবিতার। ২০০৭-এ প্রকাশিত ‘কবিতাশিল্পের জটিলতা’ প্রবন্ধপুস্তকের ভূমিকায় বলেছিলাম, ‘মানব-জগতের চেয়ে কবিতার জগৎ বিশাল এবং জটিল।’ এই জটিলতাকে যতটা-না বিচার বিশ্লেষণ দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব, তার চেয়েও অধিক উপলব্ধি সম্ভব সরাসরি কবিতার রস আহরণে। সুতরাং কবিতা-শৃঙ্গারের কোনো বিকল্প নেই। অথচ এই শৃঙ্গাররস উপলব্ধির ক্ষমতা সবার সমান নয়; অতএব কবিতা সবার কাছে সমান অর্থ নিয়ে উপস্থিত হয় না। কবিতা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে নিজেই সৃষ্টিশীল; সুতরাং কবিতার অর্থমাত্রা নির্দিষ্ট অর্থে স্থির অথবা সীমাবদ্ধ নয়। এ অর্থে একটি সফল কবিতা সৃষ্টি হয়ে ওঠার পর সেখানে কবির আর কোনো অংশগ্রহণ থাকে না; বরং কবিতা তখন নিজেই হয়ে ওঠে স্বয়ম্ভূ এবং তা সময়ের পরিবর্তনে নতুন ব্যাখ্যা দাবি করে। যদিও শেষাবধি কবিতার কোন চূড়ান্ত ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।

● কবিতা কোনো উপস্থাপনযোগ্য শিল্প নয়; কবিতা আত্মবোধের ব্যক্তিক আহরণ 

প্রশ্ন উঠতে পারে রহস্যময়তার জগৎই কি কবিতার জগৎ? নাকি শিল্পীর নির্মাণ-দক্ষতার ওপরই কবিতার সাফল্য? নাকি উভয় বিষয় পরস্পর পরিপূরক? এক্ষেত্রে প্রকৃত কবিতার জগতে প্রবেশের ক্ষমতা বিষয়ে মালার্মে মনে করতেন, আবেগকে ঘনীভূত ও পরিশুদ্ধ করে সমস্ত আলঙ্কারিকতা ত্যাগ করতে হবে। কবিতার রহস্যময়তা আর তার জাদুকরি প্রভাব বিষয়ে মালার্মে পাঠককে মনে করিয়ে দেন, আমরা যা-ই লিখি না কেন তার শুরু আর শেষটা ছেঁটে ফেলতে হবে; কেননা যা কিছু বিশুদ্ধ অথবা বিশুদ্ধ থাকতে চায় তা সত্যিকার অর্থেই অর্থবোধক সীমাহীন রহস্যের অবগুণ্ঠনে আবৃত থাকে।

Capture
ভাস্কর চক্রবর্তী (১৯৪৫-২০০৫)

সুতরাং বিশুদ্ধ কবিতার সন্ধানে দৈনিকতার নগ্নতায় জড়িয়ে পড়লে তা আর কবিতা থাকে না; হয়ে ওঠে প্রাত্যহিক বাজারি কথা; যা আমরা হরহামেশা ছড়া অথবা অন্ত্যমিল-সমৃদ্ধ শব্দবুননের ভেতর দিয়ে সৃজন করে চলেছি। এবং তা মঞ্চায়নযোগ্য কথাশিল্পে উন্নীত করে হাততালির প্রত্যাশা করি। অথচ কবিতা কোনো উপস্থাপনযোগ্য শিল্প নয়; কবিতা আত্মবোধের ব্যক্তিক আহরণ। তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, আত্মবোধের আহরণ হয়ে উঠলে সেই কবিতা কিভাবে যাপিত সময়ের সাথে মহার্ঘ্যতা অর্জন করে? হ্যাঁ মহার্ঘ্যতা অর্জন করে এবং সেই মহার্ঘ্যতার করণকৌশল আবিষ্কার করা সম্ভব, যখন আমরা কিছুটা আত্মমগ্ন অথবা কিছুটা সচেষ্ট হই; তখন আমরা আমাদের প্রজ্ঞাপ্রাপ্ত চোখে দেখে ফেলি কবিতার সেই মহার্ঘ্য সত্তা, কবিতার ভেতরমহল। কিন্তু তারপরও আমি মনে করি কবিতার কোনো ব্যাখ্যা হয় না বরং কবিতা এক রকম অনুভব মাত্র যাকে স্পর্শ করাই যথেষ্ট। মানবচেতনা প্রকাশের সবচেয়ে টাচি ও অভিজাত ভাষাপ্রকাশ কবিতা; যা মূলত অনুভবের মখমলে মোড়ানো থাকে। এবং এও ঠিক যে শুধুমাত্র শব্দার্থের জ্ঞানে কবিতাকে ছুঁয়ে দেয়ার চেষ্টা যথেষ্ট নয়; কেননা শব্দার্থের বাইরেও থাকে কবিতার গুপ্ত অর্থ। যার জন্য ভাস্কর চক্রবর্তী কবিতা বিষয়ে ভাবতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘কবিতা লেখার প্রথম থেকেই ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হতো, যে-কোনো লাইন থেকেই একটা কবিতা শুরু হতে পারে, আর যে-কোন লাইনেই শেষ হয়ে যেতে পারে সেই কবিতা। কবিতা হবে আপাত-সরল। হাজারমুখো। বিষয়ের কোনো বাছবিচার থাকবে না। আর কবিতার একটা লাইন থেকে আরেক লাইনের দূরত্ব হবে কয়েকশ কিলোমিটার। কিন্তু অদৃশ্য একটা তলদেশে থাকবে মিলিমিটারের নিবিড় সম্পর্ক।’

প্রকৃত প্রস্তাবে সীমাবদ্ধ ভাষাশব্দের ব্যবহারকে অস্বীকার করে অজস্র অব্যবহৃত শব্দের সম্ভবনাকে জাগিয়ে দিতে গিয়ে যে নবতর উপমার জন্ম দেওয়া হয় তার মধ্য দিয়ে আমার ভাষাপ্রকাশ আমাকে আর সবার থেকে পৃথক করে ফেলে; আর আমি এহেন পৃথককরণের সীমানায় হয়ে উঠি কবিমানব; চূড়ান্ত অর্থে একজন চূড়ান্ত সংবেদনশীল মানবীয় মানুষ; যে মানুষটি পরিচিত জগতের দৈনিকতার ভেতর হাজারটা চোখে দেখে ফেলে এমন সব দৃশ্যকল্প যা আর সবাই দেখলেও তা পক্ষান্তরে থেকে গিয়েছিল আর সবার চোখের আড়ালে; অথবা এভাবে নতুন অর্থ ও বোধ নিয়ে প্রাত্যহিক বিষয়াদি এর আগে এতটা মহার্ঘ্য হয়ে ওঠার সুযোগ পায় নি; বরং তা সাধারণের কাছে পরিচিত বিষয়াদি হিসেবে আড়ালে থেকে গিয়েছে; অথচ কবির বোধে সেই প্রাত্যহিক সাধারণ হয়ে উঠতে পারে বহুমাত্রিক বোধের আধার; অথচ তারপরও এই যে কবি, যিনি শেষাবধি একজন মানুষ; যে মানুষটির অবস্থান মহাজগতের এই সীমাহীন সময়ের ভেতর এক সামান্য বুদবুদ; কবিতা এই সামান্য বুদবুদের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেয় অসামান্য বোধ; যেমনটি করে থাকেন একজন পৌরাণিক ঈশ্বর; যিনি নিথর মাটির দেহে ফুৎকার দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দেন ‘আত্মা’; ঈশ্বর মানবদেহে ‘প্রাণ’সঞ্চার করালেন; কবিতাপাঠের যোগ্যতা অর্জিত হলে ঈশ্বরের ফুৎকারের মতো মানববোধে এভাবেই প্রাণের সঞ্চার ঘটে; এবং প্রাণিজগতে একমাত্র মানবকুলই তখন হয়ে ওঠে অনুভূতিপ্রবণ জীব; যদিও জীবজগৎ শুধুমাত্র যৌনতা দ্বারা বংশবিস্তার ঘটিয়ে থাকে; কিন্তু জীবজগতে শুধুমাত্র মানবকুলই যৌনতার সাথে প্রেমকে সংযুক্ত করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে; আর যৌনতার সাথে যখন সংযুক্ত হয় প্রেম, তখন মানবকুলের বংশবিস্তার নিশ্চিত হয়; শুধুমাত্র যৌনতা নয়, বরং প্রেম ও যৌনতা দ্বারা আমরা বংশবিস্তার ঘটাই; এই প্রেম ও যৌনতার নামই কবিতা; পক্ষান্তরে যা একাধারে আত্মজৈবনিক ও বস্তুজৈবনিক।

শিমুল মাহমুদ
Shimul Mahmu

শিমুল মাহমুদ

জন্ম ৩ মে ১৯৬৭, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পাঠ গ্রহণ শেষে ইউজিসি-র স্কলার হিসেবে পৌরাণিক বিষয়াদির ওপর গবেষণা করে অর্জন করেছেন ডক্টরেট ডিগ্রি। বর্তমানে তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, চেয়ারপারসন ও কলা অনুষের ডিন-এর দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
মস্তিষ্কে দিনরাত্রি [কারুজ, ঢাকা: ১৯৯০]
সাদাঘোড়ার স্রোত [নিত্যপ্রকাশ, ঢাকা: ১৯৯৮]
প্রাকৃত ঈশ্বর [শ্রাবণ প্রকাশন, ঢাকা: ২০০০]
জীবাতবে ন মৃত্যবে [শ্রাবণ প্রকাশন, ঢাকা: ২০০১]
কন্যাকমলসংহিতা [ইত্যাদি, ঢাকা: ২০০৭]
অধিবিদ্যাকে না বলুন [ইত্যাদি, ঢাকা: ২০০৯]
আবহাওয়াবিদগণ জানেন [চিহ্ন, রাজশাহী: ২০১২]
কবিতাসংগ্রহ : সপ্তহস্ত সমুদ্রসংলাপ [রোদেলা, ঢাকা: ২০১৪]
স্তন্যপায়ী ক্ষেত্রউত্তম [অচেনা যাত্রী, উত্তর ২৪ পরগণা: ২০১৫]
বস্তুজৈবনিক [নাগরী, সিলেট: ২০১৬]

গল্প—
ইলিশখাড়ি ও অন্যান্য গল্প [নিত্যপ্রকাশ, ঢাকা: ১৯৯৯]
মিথ মমি অথবা অনিবার্য মানব [পুন্ড্র প্রকাশন, বগুড়া: ২০০৩]
হয়তো আমরা সকলেই অপরাধী [গতিধারা, ঢাকা: ২০০৮]
ইস্টেশনের গহনজনা [আশালয়, ঢাকা: ২০১৫]
নির্বাচিত গল্প [নাগরী, সিলেট: ২০১৬]
অগ্নিপুরাণ ও অন্যান্য গল্প [চৈতন্য, সিলেট: ২০১৬]

উপন্যাস—
শীলবাড়ির চিরায়ত কাহিনী [ইত্যাদি, ঢাকা: ২০০৭]
শীলবাড়ির চিরায়ত কাহিনী [ধানসিড়ি, কলকাতা: ২০১৪]
শীলবাড়ির চিরায়ত কাহিনি [চৈতন্য সংস্করণ, ২০১৬]

প্রবন্ধ—
কবিতাশিল্পের জটিলতা [গতিধারা, ঢাকা: ২০০৭]
নজরুল সাহিত্যে পুরাণ প্রসঙ্গ [বাংলা একাডেমী, ঢাকা: ২০০৯]
জীবনানন্দ দাশ : মিথ ও সমকাল [গতিধারা, ঢাকা: ২০১০]
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ধারার কবিতা [গতিধারা, ঢাকা: ২০১২]
মিথ-পুরাণের পরিচয় [রোদেলা, ঢাকা: ২০১৬]

ই-মেইল : shimul1967@gmail.com
শিমুল মাহমুদ
Shimul Mahmu