হোম গদ্য পুনশ্চ : আধুনিকতা

পুনশ্চ : আধুনিকতা

পুনশ্চ : আধুনিকতা
265
1
11103513_922605221117933_106193906_o
অলঙ্করণ : সারাজাত সৌম

দলবেঁধে সাহিত্য করা খারাপ নয় মোটেও। এর অনেক ভালো দিক আছে। তখনই তা খারাপ হয়ে ওঠে, যখন তার গোষ্ঠীবদ্ধতার উদ্দেশ্য ঢেকে দেয় তারই প্রতিক্রিয়াশীলতা

দু-একজন বন্ধু থাকে যার সঙ্গে সকল চিন্তা ভাগ করে নেয়া যায়। দুশ্চিন্তাগুলোও। আমার সেই বন্ধু জুননু রাইন। কবি। ওর সঙ্গে আধুনিকতা বিষয়ে আলাপ করছিলাম। ওর মতে, আধুনিকতার পরে আসলে আর কোনো ধাপ নাই। উত্তরাধুনিকতা একটা ফাঁপা বুলি। আধুনিকতা থেকে যা ছুড়ে ফেলা হয়, উত্তরাধুনিক নাম নিয়ে তা ফিরে ফিরে আসে। আমি মনে করি উত্তরাধুনিকতা একটা ধারণামাত্র। যে ধারণার মধ্যে সময়-বিভাজন আছে, দেশ-কালের ভাগ আছে। সমাজবিজ্ঞান বা দর্শনের উত্তরাধুনিকতাবাদের সৃষ্টিও সেই সময়কে ভাগ করে নিয়ে, সংস্কৃতি-অর্থনীতি-রাজনীতি ব্যাখ্যা করার সুবিধার্থে তাত্ত্বিকরা পুঁজিবাদ বিকাশের পরের সময়টাকে ‘পোস্টমডার্ন’ নামকরণ করেছেন। আর এই বিষয়কে হালে পানি পাওয়ানোর জন্য যেসব তত্ত্ব দাঁড় করানো হয়েছে, তাই উত্তরাধুনিকতাবাদ। পুরোটাই আসলে পাণ্ডিত্যের রাজনীতি। সাহিত্য যেহেতু এসবের বাইরে না, তাই উত্তরাধুনিকতা সাহিত্যেও আছে।

পৃথিবীখ্যাত পণ্ডিত নোয়াম চমস্কির মতে মূর্খ বৈদ্যদের আত্মপ্রচারই হলো উত্তরাধুনিকতাবাদ (Amusing and perfectly self-conscious charlatans)। যুক্তরাষ্ট্রের এই সময়ের কথাসাহিত্যিক জোনাথন লেথাম মনে করেন, আধুনিকতায় যে সকল শঙ্কা, তা বাদে যা থাকে সেটাই উত্তরাধুনিকতা (what exactly is postmodernism, except modernism without the anxiety)। আবার নোবেলজয়ী নাট্যকার হ্যারল্ড পিন্টারের মতে, উত্তরাধুনিকতা হচ্ছে সেই সময়, যেখানে বাস্তব আর অবাস্তবের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নাই, সত্য-মিথ্যার বেলাতেও একই অবস্থা। আসলে বিষয়টার সত্য বা মিথ্যা হবার দরকারই নাই; এটা এর দুই-ই হতে পারে। (There are no hard distinctions between what is real and what is unreal, nor between what is true and what is false. A thing is not necessarily either true or false; it can be both true and false.)। এই পণ্ডিতগণও মনে করেন, উত্তরাধুনিকতা একটা ধারণা ছাড়া কিছু নয়। আমার মতে, ধারণাটা প্রপঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যকে আলাদা করার রাজনীতির কারণে। ওরিয়েন্টালিজম তত্ত্বে যে ধারণাটা দিয়েছিলেন এডওয়ার্ড সাঈদ। বিশ শতকে পশ্চিমা দর্শনচর্চায় উত্তরাধুনিকতাবাদ ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। অথচ এর শুরু স্থাপত্যবিদ্যায়। নতুনতর স্থাপত্যবিদ্যাকে কেন্দ্র করে প্রথম ‘পোস্টমডার্ন’ একটি ভাবধারা (ideology) তৈরি হয়। যেটি পরে ছড়িয়ে গেছে সাহিত্যেও।

আমরা বাঙালিরা এখনো আধুনিক হতে পারি নি পুরোপুরি। আমাদের মধ্যে গ্রাম্যতা এবং আধুনিকতা একসঙ্গে বিরাজ করছে। তাই আমরা না আধুনিক, না গ্রাম্য। এর মাঝামাঝি কিছু একটা। এ বিষয়ে জুননু রাইনকে প্রশ্ন করে যে উত্তর পেলাম, “আধুনিকতার প্রকৃত কোনো বিপরীত শব্দ নেই, বিষয়টি বোঝা এবং বোঝানোর জন্য ‘গ্রাম্যতা’ শব্দটি ব্যবহার হয়। গ্রাম্যতা মূলত খাল বিল নদী নালা প্রকৃতি বা প্রাকৃতিক মানুষ—এইসব পরিবেশ-পরিস্থিতিকে বোঝায় না। গ্রাম্যতা হলো ব্যক্তিক স্বভাব। এদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া যায় সহজে কোনোকিছু মেনে নিতে না পারার সীমাবদ্ধতায়। বিশেষত নতুনতর কোনোকিছু। অকারণেই কোনোকিছু নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত হয়, আবার নতুন সব কিছুকেই তার শত্রু মনে হয়। সহজে গ্রহণ এবং বাতিল করার প্রবণতাই গ্রাম্যতা। আর আধুনিকতার মূল ভিত্তি হচ্ছে সংশয়। ছেড়ে দেয়া বা ধরে রাখা—এর কোনোটাই আধুনিক মানুষ থেকে পার পায় না চিন্তার জোয়ারে না ভেসে। কারণ আধুনিক মানুষ যুক্তির বাইরে গিয়ে কিছু করে না। আমি যখন একটা বিষয়ের বিচার করতে পারব, তুলনামূলক বিশ্লেষণ করতে পারব এবং নিজেই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইব, তখনই আমি একজন আধুনিক মানুষ। সেজন্য সভ্যতা এগিয়ে যেতে আধুনিকতা একটা ইতিবাচক বিষয়। গ্রাম্যতার মূল আশ্রয় প্রতিক্রিয়াশীলতা। আধুনিকতা আর গ্রাম্যতার পার্থক্য যুক্তি ও সেন্টিমেন্টে। এই দুই শ্রেণির মানুষ সবখানেই থাকে। গ্রামে, শহরে, শিক্ষা এবং অশিক্ষায়ও। “

অর্থাৎ আধুনিক মানুষ যুক্তির বাইরে গিয়ে কিছু করেন না। কেউ তার কাছে বিচার বিবেচনা ছাড়া বীরের আসন পায় না, আবার শয়তানের আসনও পায় না। আর গ্রাম্যতা যদি মূর্খতার উদাহরণ হয় তাহলে বলা যায়, মেগাসিটিতে বসবাস করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে, কর্পোরেট দুনিয়ার বাদশা হয়ে বা সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে থেকেও আমাদের দেশের অনেক মানুষ গ্রাম্য। শহরে থাকলেই বা সভ্যতার সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী জীবনযাপন করা কোনো মানুষকে আমরা আধুনিক মানুষ বলতে পারি না। আবার গ্রামে বসবাস করেও অতি আধুনিক মানুষ হওয়া যায়। যেমন আরজ আলী মাতুব্বর। সারাজীবন গ্রামে কাটিয়ে দিয়েও দর্শনে মননে তিনি আধুনিক চিন্তাশীলতার প্রতীক। যতীন সরকারও তো আজীবন মফস্বলেই কাটিয়ে দিলেন।

গ্রাম্যতা রয়ে গেছে আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যেও। একটা বিরাট অংশ গ্রাম্যতাকে ছাড়িয়ে রীতিমতো অসভ্য। দুটো উদাহরণ দেই, ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ক্লোয়ি হোনাম নামে একজন কিউই-আমেরিকান কবি আছেন। আমাদের বয়সী (তিরিশের আশেপাশে)। আমাদের সময়ে পশ্চিমা দুনিয়ায় কেমন কবিতা লেখা হচ্ছে, তা জানার তাড়না থেকে তরুণ কবিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। কয়েকজনকে পেয়েও যাই। প্যারিস রিভিউতে ক্লোয়ির কবিতা পড়ে ভালো লেগে যায়। নানা জায়গা থেকে ওর কবিতা জোগাড় করে পড়ি। ওর সঙ্গে ফেইসবুকে যোগাযোগ করি। মাঝেমাঝে কবিতা নিয়ে কথা হতো। ক্লোয়ির অনুমতি নিয়ে কয়েকটা কবিতার ভাবানুবাদ করে ফেইসবুকে দেই। একটা কবিতায় ‘টার্কি’ দিয়ে ইমেজ তৈরি করেছেন কবি। সেখানে একজনের কমেন্টের একটা অংশ এরকম, “একটা কবিতাকেও আপনি অনুবাদের আগে মনে ধারণ করবার অবকাশ পান নি। করার সর্বোচ্চ চেষ্টাটিও করেন নি। সে যাই হোক, তিনটির কোনো একটি লেখাকেও আমি ভাবানুবাদ তো দূরেরই কথা, শাব্দিক অনুবাদ হিসেবেও নিতে পারছি না, যেমন নিতে পারছি না একটা সম্পুর্ণ বাক্যকেও। এটা আমার অক্ষমতা নয়, সেক্ষেত্রে আপনি যদি একটা ‘পাখি’কে জাতি বানিয়ে ফেলেন…Turkey মানে তুর্কি নয়, এটা একটা পাখি ‘টার্কি’।

‘টার্কি’ নামের একটা পাখি আছে। একই বানানে (Turkey) একটা জাতিও আছে। জাতিটাকে বাংলায় তুর্কি বলা হয়। সৌন্দর্য এবং বন্যতার কারণে আবার এই পাখিকে উপমা করেই আমরা ‘তরুণ তুর্কি’ বলে কাউকে কাউকে বিশেষায়িত করি। বাংলায় আমরা জাতি Turkey-কে তুর্কি লিখতে পারি, তাহলে পাখিটাকে কেন নয়? তাছাড়া একজন ব্যক্তি এত পরিশ্রম করে একজন কবির কবিতা নানা জায়গা থেকে খুঁজে বের করে পড়ল এবং কবির সঙ্গে আলোচনা করে ভাবানুবাদ করল, তা নিজের ভেতর ধারণ না করেই? আর তিনি প্রথমবার পড়েই পুরোপুরি ধারণ করে ফেললেন! ওটাও মেনে নেয়া যায়। সেখানেই থেমে না থেকে ফেইসবুকে ক্লোয়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমার অনুবাদ নিয়ে বিষবাষ্প দিয়েছেন ক’জনা!

দ্বিতীয় উদাহরণটি কবি হাসান রোবায়েতকে নিয়ে। যে ক’জন তরুণ কবিতায় বসবাস করে, হাসান তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখছেন। গত ২৫ মার্চ হাসান রোবায়েত তার ফেইসবুক টাইমলাইনে ‘রাইপাহাড়ের গান’ নামের একটা কবিতা পোস্ট করেন।

কবিতাটা এরকম, ‘সেলাইযন্ত্রের পাশেই জামাকে দেখানো হলো সমুদ্র/ ও রাইপাহাড়ের গান/ গাছ ও এক পিঠ তোড়া । টস-করা কয়েন/ দুয়ের নামতায় অভ্যস্ত কিনা এইরূপ ঘাম ও আতাফল ঘুরে/ পেকে ওঠে জ্বর আর ভাত কামড়ানো শেষে একরাশ খাঁচাসুদ্ধ মুদি/ ছুঁড়ে দেয় হাই । পোশাক পাল্টানোর পর মেয়েটা/ পার হয় বিয়েবাড়ি।’

সেখানে হাসানকে গালি দিয়ে একজন কমেন্ট করেন, ‘তোকে কবিতা লিখতে কে বলছে?’ কমেন্টের নিচে এই সময়ের কয়েকজন কবিকে ট্যাগ করেন (পরে সেইসব ট্যাগ আর কমেন্ট মুছে ফেলে নতুন কমেন্ট করা হয়েছে। ট্যাগকৃতদের মধ্যে সেই ক’জন আছেন, যারা আমার ক্লোয়ি হোনামের অনুবাদ নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন)। হাসান বিরক্ত হয়ে লিখেছে, ‘এটা কী ধরনের আবদার, ঠিক বুঝতে পারলাম না; কবিতা লেখার জন্য কারু কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে আসতে হবে নাকি!’

সত্যিই তো! পাঠক হিসেবে আমি বা আমরা কি এই দাবি তুলতে পারি, আমার বিবেচনাবোধ বা ভাবনা ও রুচিপদ্ধতির বাইরে কথা বলতে বা লিখতে পারবেন না একজন লেখক? দলবেঁধে সাহিত্য করা খারাপ নয় মোটেও। এর অনেক ভালো দিক আছে। তখনই তা খারাপ হয়ে ওঠে, যখন তার গোষ্ঠীবদ্ধতার উদ্দেশ্য ঢেকে দেয় তারই প্রতিক্রিয়াশীলতা।

এক জন্মদিনে কোনো একজন তরুণী কবি আল মাহমুদকে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ছবিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে আল মাহমুদের বিয়ের খবর ছড়িয়েছে একটা গোষ্ঠী! তাতে এই কবির কি কোনো ক্ষতি হলো?

আমি মনে করি, কারো যদি অহংকার করার মতো কিছু থাকে তবে তাকে নিয়ে অহংকার অন্যরাই করে। সেই অহংকারটা স্মার্টনেস। আর অহংকার করার মতো উপাদান নিজের মধ্যে না থাকার পরেও কেউ যদি অহংবোধে বুকের ছাতি ফোলান, তবে সেটা স্টুপিডিটি।

11027124_10202835903738077_7991405568505438575_n
যে ছবিটি বিয়ের খবর ছড়িয়েছিল

আমরা লেখা দিয়ে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাস বুঝে ফেলার চেষ্টা করি। কে কোন মতাদর্শের সেটাও নির্ণয় করার চেষ্টা করি। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চেয়ে কাজকে আমরা প্রাধান্য দেই না। নাস্তিকদের মূর্খামি নিয়ে কথা বলার কারণে কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারকে অনেকে মৌলবাদী বানিয়ে ফেলছেন। অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, আহমদ শরীফ, দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ মনীষী নাস্তিক ছিলেন। কিন্তু তারা কখনো কোনো ধর্মের বিপক্ষে লেখেন নি, কোনো ধর্ম ও বিশ্বাসীদের আক্রমণ করেন নি। তাঁরা যুক্তি দিয়ে, ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ ক্ষমতা আর লেখালেখি দিয়ে নিজেদের প্রকাশ করেছেন। আর যারা নাস্তিকদের কতল করার জন্য রাস্তায় রাস্তায় চাপাতি নিয়ে ঘোরে, তারা তো ছাগলের সাত নম্বর বাচ্চাতুল্য। গ্রাম্যতারও অধিক গ্রাম্য মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ওদের ওভাবে গড়ে তুলছে। তো ওইসব ধর্মান্ধ আস্তিক আর ধর্মকর্মকে গালাগালি করা নাস্তিকদের পার্থক্য রইলো কোথায়? দুই-ই তো গ্রাম্য আর অসভ্য। এটুকু বোঝাতে গিয়ে জাকির তালুকদার মৌলবাদী আখ্যা পেয়েছেন! সমস্যাটা আস্তিক্য আর নাস্তিক্যবাদে না, আচরণ আর প্রকাশভঙ্গিতে। এক জন্মদিনে কোনো একজন তরুণী কবি আল মাহমুদকে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ছবিকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে আল মাহমুদের বিয়ের খবর ছড়িয়েছে একটা গোষ্ঠী! তাতে এই কবির কি কোনো ক্ষতি হলো? আল মাহমুদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে আমি একমত নই। কিন্তু তাঁর কাব্যপ্রতিভা অস্বীকার করা বা মিথ্যা বিয়ে দিয়ে কৌতুক করা চরমতম অশিক্ষা আর গ্রাম্যতার প্রকাশ ছাড়া কিছু নয়।

যা বলছিলাম। আমাদের কাছে কাজের চেয়ে ব্যক্তি, দল আর মতাদর্শই মুখ্য। তা হোক রাজনৈতিক মতাদর্শের বেলায় বা সাহিত্যের গোষ্ঠীচর্চায়। আমাদের নিজস্ব সিন্ডিকেট বা গোষ্ঠীর বাইরেও যে সাহিত্য আছে, মতবাদ আছে, তা আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। বিশ্বাস করলেও শ্রদ্ধাবোধ নেই। আড়ালে প্রশংসা করি, ঈর্ষান্বিত হই, কিন্তু সামনে অপ্রশ্রয় আর গম্ভীর একটা ভাব নিয়ে থাকি। আসলে অসততা আর ভণ্ডামি আমাদের শিরায় শিরায়। যাকে মানছি বা পছন্দ করছি, তার সবকিছুই প্রণিধানযোগ্য, তিনি ফেরেশতা; যাকে আমার পছন্দ নয়, তিনি শয়তান! তার কোনোকিছুই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই হচ্ছে আমাদের চরিত্র। এদিক থেকে আমরা পুরো মাত্রায় উত্তরাধুনিক। ভালো-মন্দ মিলিয়েই একজন মানুষ। সেই মানুষটার স্খলনগুলো দেখার পরে তা মেনে নিয়েও তো তাকে ভালোবাসা যায়। সম্মোহনই কি সবকিছু? এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কাছেই যাই—’নিন্দা পরব ভূষণ করে কাঁটার কণ্ঠহার/ মাথায় করে তুলে লব অপমানের ভার।’

আলগা প্রশস্তি আর পুরস্কারও একপ্রকার গ্রাম্যতা। এসবের চেয়ে বড় সর্বনাশ আর নাই। সমকালের স্তুতির পুরস্কার হয়তো ভবিষ্যৎ সময়ের উদাসীনতার ইঙ্গিত। তাই বলি, আমাকে ঈশ্বর বানিও না। শয়তানও না। আমি যা, শুধু ওইটুকুই বলো। বাড়িয়ে বলা যেমন গ্রাম্যতা, অকারণ শয়তান বানানো তারচেয়েও খারাপ। আমরা যেন গ্রাম্যতা ধারণ না করে আধুনিকতা চর্চা করি।


মিরপুর, ঢাকা
১১.০৪.২০১৫

আগের কিস্তির লিংক
রুহুল মাহফুজ জয়

রুহুল মাহফুজ জয়

জন্ম ৩১ মার্চ ১৯৮৪, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক। পেশা : সাংবাদিকতা।

শিল্প-সাহিত্যের ওয়েবজিন শিরিষের ডালপালা’র সমন্বয়ক।

প্রকাশিত বই :
আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো [কবিতা, ২০১৬, ঐতিহ্য]

ই-মেইল : the.poet.saint@gmail.com
রুহুল মাহফুজ জয়

Latest posts by রুহুল মাহফুজ জয় (see all)