হোম গদ্য টোলখাওয়া চেহারায় আঁধারে দাঁড়িয়ে লাভ নেই

টোলখাওয়া চেহারায় আঁধারে দাঁড়িয়ে লাভ নেই

টোলখাওয়া চেহারায় আঁধারে দাঁড়িয়ে লাভ নেই
401
0

২য় পর্ব

নরক হতে উত্তীর্ণ বোধগুলো দু’হাতে জড়িয়ে শূন্যে ছেড়ে দিলে সব ভাসতে থাকে চলনবিল পেরিয়ে রাজধানীমুখী; একটার পর একটা বিকেল, একটার পর একটা সন্ধ্যা আর রাত। কিছু হোক না হোক এবার অন্তত একটা সান্ত্বনা পাওয়া গেল ৷ যদিও খুব একটা সুবিধে করা গেল না কিছুতেই ৷ কিন্তু তারপরও একটা সান্ত্বনা পাওয়া তো গেল ৷ ঘন ঝোপঝাড়গুলোতে একেকটা অমায়িক বাঘ আমি স্পষ্ট ভাবছিলাম ৷ আর সাদাকালো দেহ বেড়ালের মতো চোখ, আফ্রিকার হাতি আরও যেন কী কী!

একটার পর একটা নদী লিখে যাচ্ছি,
মার্কার পেন দিয়ে আন্ডারলাইন করে রাখতে হচ্ছে ঘন ঝোপঝাড়গুলোকে।
সবচেয়ে শান্ত হরিণের দিকে দৃষ্টির চাকু ছাল ছাড়াচ্ছে বারবিকিউর তৃষ্ণা।
আর খুলে পড়ে যাচ্ছে আফ্রিকান হাতির দাঁত।
শক্ত জিপের চাকা কড়কড় করে উঠে আসছে কচি পায়ের উপর।
এন্টেনা দিয়ে বাঘদের ঘিরে রাখছে ডিসকোভারি চ্যানেল।
প্রাণীগুলি বড়ই লাজুক যখন তাদের সার্কাসে দেওয়া হয়।
ওদের মাতৃকালীন স্রাব হাসি ছড়াচ্ছে রানওয়ের গেটে,
সেখানে একদল বয়স্ক নর্তকী নিজেদের বুকের উপর বন্দুক
ধরে আছে

(লিখতে লিখতে যাচ্ছি ।। পদ্ম)

১.২
এইসব বিচ্ছিরি বোধের দেশে নিজের ভেতরে নিজেই গুটিয়ে থাকে নিঃসঙ্গ আকাশ। আর জীবন এতটাই প্রাণহীন যে, টোলখাওয়া চেহারায় আঁধারে দাঁড়িয়ে লাভ নেই।

নিজের ভেতরে নিজেই লুকিয়ে থাকবার চেষ্টা করতাম একসময়
কেউ দেখে ফেলতে পারে ভেবে হৃৎপিণ্ডটা সরিয়ে রাখতাম দূরে

আলোকিত পৃথিবীতে মুখ লুকানোর জায়গার খুব অভাব চলছে এখন

(পৃথিবী, পৃথিবী এবং নার্সিসাস ।। সাম্য রাইয়ান)


চকচকে ব্লেড দিয়ে অনবরত কাটছিল সে স্মৃতির পাউরুটি। প্রচণ্ড ক্ষুধায় তাকাচ্ছিল না এদিকে-সেদিকে, কোনোদিকেই; একমনে কাটছে তো কাটছেই। ওদিকে আরেক দৃষ্টান্ত; ব্লেড দিয়ে জলকাটার মতো করে চলছে ভূমিভাগপ্রক্রিয়া।

পূর্বের জীবন এখন কেবলই স্মৃতি। সেইসব সন্ধ্যা, বিকেল, রাত আর ঐসব গল্পশোনাকাল। সেইসব বৃক্ষ, নদী, বাড়ি, বুড়ি, শিশুর গল্প বলার কেউ নাই আর। শুধু জেগে আছি আমি স্মৃতির শলাকা পুড়িয়ে। হৃৎপিণ্ড এক জ্বলন্ত গোলক।

তুমি আর শুধু সন্ধ্যা নও—
স্মৃতির আঁধার:
ওই যে পাখিটি ডাকল সাঁঝের শেষ ডাক;
ওই যে দূরে কোথায় কী একটা শব্দ হঠাৎ;
শাঁখ বাজছে, উলুধ্বনি, শিশু কাঁদে;
এই যে ঘরেতে কত কালের মাকড়সারা,
কলমদানির গায়ে ধুলো, ফুরনো কলম…

শেষ হলো তবে?
আঁধারের প্রতিটি ভিতরে এখন যাত্রা গহীন:
আকাশ সারাটা জুড়ে উঠছে ফুটে মোহন মিথ্যা
ক্লেদ পাপ মিথ্যাচার ছলা ও ছলনা
ক্লান্তশ্বাস দ্রুতশ্বাস কত দীর্ঘ নিঃশ্বাস
অশ্রু আর রক্ত আর ঘ্রাণ ও লবন

আরও কত অজানা নক্ষত্র…

তারপর
আগুন জ্বালার ঠিক পূর্বক্ষণে ভেবে নিতে দিও
সব স্মৃতি ভাবা হলো কি না—!

(স্মৃতি ।। অনুপ চন্ডাল)


এইখান হতে যতগুলো শব্দ শোনা যায়, তার সবগুলো কিছুটা সময় নিয়ে, মিশ্রিত, একটি গর্জন হয়ে হাজির হবে। আর দূর হতে ভেসে আসা শত-সহস্র কণ্ঠস্বর কুলধ্বনির মতোই মিশে যাবে একটি বিন্দুতে। আর সেই বিন্দুগুলো, অগণিত, জড়ো হতে হতে তৈরি হবে আরেকটি বিন্দু। এর ভেতর দিয়ে তুমি বার মাস কেবল ভেরেণ্ডা ভেজে খাও, নয় বৌয়ের পুতুলনাচ দেখো, মরার উপর খাঁড়ার ঘা দেখো, কোথাওবা উটের পিঠে স্বচ্ছ জলকণা জন্ম নিতে দেখো। তারপরেও জেনো, তবু অনেক কিছুই জানবার থাকে বাকি।

অভ্যেসে মিলাও বিন্দু, তার মাঝে ভাব বহুদূর, তার মাঝে
সব দায়দেনা শোধবোধ কর, তারপর ঘুমাও ছ’মাস,
বিন্দুবিসর্গের খোঁজ আর তখন থাকে না, বাকি বার মাস
কেবল ভেরেণ্ডা ভেজে খাও, নয় বৌয়ের পুতুলনাচ দেখ,
মরার উপর খাঁড়ার ঘা দেখ, কোথাও উটের পিঠে স্বচ্ছ
জলকণা জন্ম নিতে দেখ, তথাপি অনেক কিছু জানবার
থাকে বাকি, ওইটুকু বিন্দুর সমান তবু এখনও অনেক
কিছু তুমি জানতে পারো না, তাই খেদে কিচেন-নাইফ দিয়ে
অন্নচিন্তা কুচি কুচি কর, কেটে-ছিঁড়ে দেখ সব সম্ভাবনা,
পান কর সমস্ত নির্যাস, মদ ও কৌমার্য, তার মাঝে চলে
আরও কিছু কাল, ফের শুরু হয় আরও সুক্ষ্ম জল্পনা-কল্পনা,
বিন্দু বিন্দু ভাব জমে, ভাব থেকে জন্মায় কথা সারিৎসাগর,
তার অর্থে টের পাও নিয়তির খেল, আক্ষেপে আটকে যায়
সব, তাতে তুমি খুদে বিন্দু হয়ে যাও, ধর, ক্ষুদ্রতম কেউ,
যেন অণুপ্রমাণিত, না কি ফের নরকে বিছানা নেবে তুমি,
সারাক্ষণ থাকবে সবার কুনজরে, তার চেয়ে হও দেবদারুগত,

(বিন্দুবিসর্গের খোঁজে ।। শান্তনু চৌধুরী)

১ম পর্বের লিঙ্ক