হোম গদ্য চর্যাপদ : শহীদুল্লাহ্‌র গবেষণা এবং অক্তাবিও পাসের তুলনামূলক আলোচনা

চর্যাপদ : শহীদুল্লাহ্‌র গবেষণা এবং অক্তাবিও পাসের তুলনামূলক আলোচনা

চর্যাপদ : শহীদুল্লাহ্‌র গবেষণা এবং অক্তাবিও পাসের তুলনামূলক আলোচনা
1.07K
0

চর্যাপদের প্রতি পাসের আগ্রহ এবং উল্লেখ আমরা লক্ষ করব ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত তার Conjunciones y Disyunciones গ্রন্থে। আর চর্যাপদ অনুবাদের এষণা আমরা লক্ষ করব পাস কর্তৃক অনূদিত কাব্যগ্রন্থ Versiones y Diversiones-এ। বিভিন্ন ভাষা থেকে কবিতার অনুবাদের এই সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। পাস ততদিনে ভারতের রাষ্ট্রদূতের চাকরি ছেড়ে মেহিকোতে থিতু হয়েছেন। ১৯৭৩ সালের ১২ মার্চে লিখিত প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় তিনি জানালেন যে, “ছয় বছরেরও বেশি সময় ভারতে থেকেছি এবং সংস্কৃত ও পালি ভাষায় বিশেষজ্ঞ  কয়েকজনের সাথে আমার সম্পর্কও আছে, তাহলে কেন তাদের সাহায্য নিয়ে কাব্য (Kavya)-কর্ম অনুবাদের চেষ্টা করছি না? দুই তিনটা খসড়া করেছিও, কিন্তু পছন্দ হয় নি : হেলেনীয় শিল্পকর্মের মতোই ‘কাব্য’-এর ঐতিহ্য আমাদের কাছে দূরবর্তী। আমার অনেক বেশি আগ্রহ বিভিন্ন স্বদেশি ভাষার কবিদের প্রতি—কবীর, তুকারাম, চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি আর সর্বোপরি সরহ ও কনহর মতো কবিদের হেঁঁয়ালিপূর্ণ লেখাগুলোয়। পরে আবার গেলে, যদি যাই, তাহলে হয়তো তাদের কিছু লেখা অনুবাদে উদ্বুদ্ধ হব।”

Vivi mas de seis años en la India y estoy en relacion con algunos especialistas en sanscrito y en pali: por que no intente traducir con su ayuda algun texto kavya? Hice dos o tres pruebas pero desisti: la tradicion kavya esta tan lejos de nosotros como el arte helenistico. Me interesan mas los poetas en lenguas vernaculos—Kabir, Toukaram, Chandidas, Vidyapati—y, sobre todo, los textos enigmaticos de poetas como Saraha y Kanha. En la segunda vuelta de mi vida, si hay segunda vuelta, quiza me anime a traducir algo de ellos.(Octavio Paz, Versiones y Diversiones, Joaquin Mortiz, 1984, Mexico, p 5-6)

পাঁচ বছর পর এই বইটির যখন দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয় তখন তিনি এই নতুন সংস্করণের ভূমিকায় লিখলেন: “কোনো বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সরহ ও কনহকে কোনোদিন অনুবাদের ধারণাটি আমাকে ছেড়ে যায় নি।”

No me abandona, ademas, la idea de traducir algun dia, con la ayuda de un especialista, a Saraha y Kanha.(Octavio Paz, Versiones y Diversiones, Joaquin Mortiz, 1984, Mexico, p 7)

লক্ষ করার বিষয় হলো মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি ছাড়াও তিনি চর্যাপদের দুজন কবির প্রতি আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায় কেবল চর্যাপদের সেই পূর্বোক্ত দুজনের কথাই উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে পাসের এই বইটি তার মৃত্যুর পর আরও একটি সংস্করণ বেরিয়েছিল ২০০০ সালে। সেখানে ১৯৯৫ সালে লেখা একটা ভূমিকা থাকলেও বাংলা ভাষার কোনো কবির উল্লেখ যেমন তাতে নেই, নেই তাদের কবিতার সেই প্রতিশ্রুত অনুবাদ। ১৯৯৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারিতে লেখা তার সর্বশেষ এই ভূমিকাতে তিনি জানালেন যে, “বহু বছর গড়িয়ে যাওয়ায় সলজ্জভাবেই ত্যাগ করতে হলো আগের ভূমিকা দুটোয় উল্লেখিত পরিকল্পনাগুলো।”

Al correr de los años abandone, no sin pena, los proyectos que mencionan los dos notas preliminaries. (Octavio Paz, Versiones y Diversiones, Galaxia Gutenberg, 2000, Mexico, p 14)

বাংলা কবিতার, বিশেষ করে সরহ ও কনহর কবিতা যে-আগ্রহ নিয়ে অনুবাদের প্রতিশ্রুতি তিনি জানিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত তা আর করেন নি, তবে যে-খসড়াগুলোর কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় সেগুলোর চেহারা দেখা যাবে তার সমস্ত পাণ্ডুলিপি এবং খসড়া লেখা যদি ভবিষ্যতে কখনো প্রকাশিত হয়। আপাতত তার প্রকাশিত রচনার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু এটুকুই বলা যায় যে পাস-কর্তৃক চর্যার কোনো পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ নেই, তবে চর্যার কিছু খণ্ডিত অনুবাদ উদ্ধৃতি আকারে আছে তার একটি প্রবন্ধে। সেই নমুনাগুলো দেখার আগে আমাদের মনে যে-কৌতূহলগুলো জমাট বেধে আছে তার দিকে একটু ফিরে তাকানো যাক আলোচনার সুবিধার্থে।

cult-octaviopaz
অক্তাবিও পাস (৩১ মার্চ ১৯১৪ – ১৯ এপ্রিল ১৯৯৮)

এ তো ঠিক যে, ভারতীয় যা কিছু আছে তা তাকে কৌতূহলী করে তুলেছিল এবং তিনি সেই কৌতূহলের জবাব দিয়েছিলেন অসামান্য সৃজনশীলতা ও পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ,  প্রবন্ধগ্রন্থ এবং অনুবাদ। আমরা সেসবের বিস্তার, উল্লেখ ও আলোচনায় এ মুহূর্তে যাব না, এখানে তা প্রাসঙ্গিকও নয়,  বরং এ লেখার শিরোনামের সাথে সঙ্গতি রেখে মূল কৌতূহলে নিজেদেরকে কেন্দ্রীভূত রাখতে চাই।

চর্যাপদের খণ্ডিত অনুবাদ ও চর্যাপদের কবিদের প্রসঙ্গে তার আলোচনায় যে-নমুনাগুলো দেখতে পাই তা এসেছিল মূলত ভারতীয় তন্ত্রবাদ নিয়ে আলোচনার সূত্রে। ভারতীয় দর্শন ও তান্ত্রিক সাধনা নিয়ে ভারতীয় ও অভারতীয় লেখক গবেষকদের রচিত বইগুলো ছিল তার ভাবনার উৎস ও উপাদান। সে-সব উৎসের কথা তিনি জানিয়েছেনও তার লেখায়। আর সেই উৎসের তালিকায় আমরা দেখতে পাব বহুভাষায় পণ্ডিত মননশীল প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌কেও। ১৯২৮ সালে প্রকাশিত শহীদুল্লাহ্‌র অসামান্য গবেষণাকর্ম (Les chants mystiques de kanha et saraha (pulished by Adrien Maesonneuve, Paris, 1928)-গ্রন্থটি যে তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়েছিলেন তার কিছু উদাহরণ পাওয়া যাবে তার রচিত এক প্রবন্ধে। তিনি কেবল মনোযোগ দিয়ে সেটি পাঠই করেন নি, শহীদুল্লাহ্‌ কর্তৃক চর্যার কবিদের, বিশেষ করে সরহ ও কনহর ধর্মতত্ত্ব ও দার্শনিক ভাবনার যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে তার কিছু কিছু পরোক্ষ ছায়াও পাওয়া যাবে তাতে। তান্ত্রিক সাধনার দার্শনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে চর্যাপদের যে-কবিদের কথা উল্লেখ ও বিশ্লেষণ করেছেন, একাধিক  জায়গায় সেখানে কেবল শহীদুল্লাহ্ কর্তৃক নির্বাচিত ওই সরহ ও কনহকেই আমরা দেখতে পাই। পাসের লেখাটির দুএক জায়গায় অন্য দুএকজন কবির রচনার অংশবিশেষ উল্লেখ থাকলেও তারা কখনোই স্বনামে হাজির হন না। আমার এই ধারণার পক্ষে নিশ্চয়তাজ্ঞাপক আরেকটি নমুনা হচ্ছে এই যে, তিনি চর্যাপদের যে দুজন মাত্র কবির কবিতা অনুবাদের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন অনুবাদগ্রন্থের প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকায়, সেখানেও পাই শহীদুল্লাহ্‌-কথিত কেবল সরহ ও কনহরই উল্লেখ।


নারী হচ্ছে সবচেয়ে উদ্ভাসিত এক শরীরী খাবার : তান্ত্রিক ধর্মাচারও কি একেবারেই মাংসল ও আক্ষরিক অর্থে তাই বলে না?


এসব উদাহরণের ফলে আমার অনুমান পাস চর্যাপদের প্রাথমিক স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন শহীদুল্লাহ্‌র সৌজন্যে। যদিও আমাদের অজানা নয় যে চর্যাপদের ইংরেজি অনুবাদ ষাটের দশকে প্রকাশিত হতে শুরু করে তারাপদ মুখোপাধ্যায় এবং অতীন্দ্র মজুমদারের অনুবাদে। অতীন্দ্র মজুমদারের অনুবাদটি বেরিয়েছিল ১৯৬৮ সালে আর তারাপদ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদটিও বেরিয়েছিল ষাটের দশকের শেষের দিকেই। অক্তাবিও এসব অনুবাদ আদৌ দেখেছিলেন কিনা আমার সন্দেহ, যেহেতু এসব অনুবাদ বিদেশি কোনো প্রকাশনা সংস্থা থেকে বের হয় নি। অন্য আরেকটি অনুবাদ পাসের নজরে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি বেরিয়েছিল An anthology of Buddist Tantric song শিরোনামে Per Kvaerne-এর অনুবাদে ১৯৭৭ সালে। কিন্তু এটি কিংবা আগের কোনোটিই দেখার সম্ভাবনা এজন্যে নেই যে, পাসের বইটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬৯ সালে। তার মানে লেখাটি প্রস্তুত হয়েছে গ্রন্থাকারে প্রকাশেরও অন্তত দুএক বছর আগে। অতএব চর্যাপদের স্বাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে শহীদুল্লাহ্‌ই ছিলেন পাসের মূল ভরকেন্দ্র, তবে একমাত্র নয়। এটা অসম্ভব নয় যে তিনি যখন ভারতে রাষ্ট্রদূত হিশেবে অবস্থান করছিলেন তখন এই লেখাটির আগে ভারত থেকে প্রকাশিত প্রবোধচন্দ্র বাগচী বা অন্য কারোর অনুবাদে চর্যাপদ পড়ে থাকতে পারেন। কিন্তু অক্তাবিও পাসের লেখাটিতে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উল্লেখ যেহেতু নেই, তাই এটি নিছকই অনুমান ছাড়া আর কিছু নয়। তবে এটা ঠিক যে তান্ত্রিক সাধনার ধর্মীয়, দার্শনিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য তিনি Etienne Lamotte-এর Histoire du Bouddhisme indies (1958), Agehananda Bharati-এর The Tantric Tradition (1965), D.L. Snellgrove-এর অনুবাদ ও ভূমিকাসহ প্রকাশিত The Hevojra Tantra (1951), Philip Rawson-এর Erotic art of East (1966), R. A Slein-এর civilisation tibetanne (1962), Mircia Eliade-এর Le Yoga, inmortalite et liberte (1954), S.B. Dasgupta-এর An introduction to Tantric Buddhism (1958) এবং Obscure Religious cults (1962), Edward conze, I. B. Horner, David Snellgrove এবং Arthur waley-এর অনুবাদ ও সম্পাদনায় প্রকাশিত Buddhist texts through Ages (1954) ইত্যাদি গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছিলেন, এগুলোর উল্লেখ তার লেখায় টিকাটিপ্পনিতে রয়েছে।

শহীদুল্লাহ্ গবেষণাকর্মসহ উল্লেখিত এসব গ্রন্থের সাহায্যে পাস চর্যাপদ সম্পর্কে কোন দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, আমরা বরং সেদিকটায় নজর দিতে চাই। তার আগে তন্ত্রবাদে, এমনকি চর্যাপদেও দেহ ও যৌনতা কেন প্রধান বিষয় হিশেবে হাজির হয়েছে, তার অর্থ ও গুরুত্ব বুঝবার জন্য এ সম্পর্কে পাসের দুএকটি মন্তব্য উল্লেখ করাটা আশা করি অপ্রাসঙ্গিক হবে না। “নোভালিস বলেছিলেন, নারী হচ্ছে সবচেয়ে উদ্ভাসিত এক শরীরী খাবার : তান্ত্রিক ধর্মাচারও কি একেবারেই মাংসল ও আক্ষরিক অর্থে তাই বলে না?” Novalis dijo que la mujer es el alimento corporal mas elevado: no es eso lo que tambien dice, solo que carnal y literalmente, el rito tantrico? ((Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 78)) কারণ পাসের ভাষায় :

তন্ত্রবাদ সর্বোপরি এক যৌন-আচার। খ্রিস্টীয় বিবাহোৎসব জনসমক্ষে ঘটে কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌনকর্মটি সম্পাদিত হয় একান্তে। তান্ত্রিক উৎসবটি ঘটে ভক্তবৃন্দের সামনে একজন বা একাধিক দম্পতির প্রকাশ্য যৌনসঙ্গমের মাধ্যমে। এই যৌনচর্চা স্ত্রীর সঙ্গে নয়, বরং যোনিগীর সঙ্গে ঘটে থাকে, সাধারণত সেই যোগিনী হয়ে থাকে নিম্নবর্গের কেউ। খ্রিস্টান সম্প্রদায় এই কাজটি সম্পাদন করে শয়নকক্ষে, তার মানে এক ইহলৌকিক জায়গায় (un sitio profano)। তন্ত্র সুনির্দিষ্টভাবে এ কথা বলে যে, এটি উদ্‌যাপিত হতে হবে মন্দির কিংবা পবিত্র কোনো জায়গায়, এমন সব জায়গা হলে বেশি ভালো যেখানে মৃতেরা ভস্মীভূত হয়। ভস্মের উপর যৌনসঙ্গম, এর মানে জীবন ও মৃত্যুর মাঝে বৈপরীত্যের বিনাশ, শূন্যতার মাঝে উভয়ের বিলয়।

El tantrismo es ante todo un rito sexual. La ceremonia del matrimonio cristiano es publica pero la copulacion entre los esposos es privada. La ceremonia tantrica consiste en la copulacion en public, ya sea de varias parejas o de una sola ante el circulo de devotos. Ademas, no se practica con la esposa sino con una yogina, en general de baja casta. Entre los cristianos el acto se raliza en la alcoba, es decir, en un sitio profano; los Tantras prescriben formalmente que debe ser en un templo o en un lugar consagrado, de preferencia en los sitios de cremacion de los muertos. Copulacion sobre las cenizas: anulacion de la oposicion entre vida y muerte, disolucion de ambas en la vacuidad.

(Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 78-79)

চর্যাপদে যে বার বার শরীর, সঙ্গম, শূন্যতা ও নির্বাণের এত উল্লেখ, তার গূঢ় তাৎপর্য আমাদের সামনে পাস-কর্তৃক এই অসামান্য তুল্যমূল্যের বিচারে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সঙ্গম যে পরস্পর-বিরোধী জিনিসের মধ্যে এক বৈপরীত্যের বন্ধন তা তিনি উল্লেখ করে বলেন, “সঙ্গম আসলেই সংসার ও নির্বাণ-এর এক সত্যিকারের ঐক্য, অস্তিত্ব ও শূন্যতার মাঝে, ভাবনা ও অভাবনার মাঝে এক যথার্থ পরিচয়ত্ব।”

La copula es verdadera, realmente, la union de samsara y nirvana, la perfecta identidad entre la existencia y la vacuidad, el pensamiento y el no-pensamiento. (Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 79)

সঙ্গমের মাধ্যমে শরীরী সেতু পেরিয়ে উভয়ে যে আনন্দে পৌঁছান, তান্ত্রিক পরিভাষায় যাকে বলে ‘মহাসুখ’ তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পাস সরহ ও কনহর উল্লেখ করে বলেন—“সহর ও কনহর কবিতাগুলোর বক্তব্যে বলা হয় : চরম আনন্দের মুহূর্তে জন্ম হয় দিব্যজ্ঞানের, তার মানে বীর্যপাত ঘটল।”

Un comentario a los poemas de Sahara y Kanha dice: “en el momento del gran deleite, nace el pensamiento de la iluminacion, esto es, se produce el semen.” (Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 82)


বহু প্রতীকের সম্মিলিত স্রোতের এক চঞ্চল মানচিত্র রূপে চর্যাপদ আমাদের কাছে জীবন্ত হয়ে আছে।


জ্ঞানের অভিব্যক্তি হিশেবে ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে চর্যাপদ কতটা তাৎপর্যের সাথে বিবেচনা করেছিল সে কথা এর আগে আমরা লক্ষ করেছি দার্শনিক ভিটগেন্সটাইনের ভাবনার আলোকে। চর্যাপদের ভাষা সান্ধ্য ভাষা হিশেবে পরিচিত হলেও এই আলো-আঁধারি বয়ানের মধ্যেই একই প্রতীকে বহু প্রতীকের ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ এক লিপি-আলেখ্য হয়ে উঠেছে চর্যা—কল্পনার দৌলতে। শরীর কখনো হাজির হয়েছে বিশ্বলোকের ব্যাপ্তি নিয়ে, আবার কখনো শরীর ও বিশ্বলোকের প্রতীকী রূপ হয়ে উঠেছে ভাষা নিজেই। বহু প্রতীকের সম্মিলিত স্রোতের এক চঞ্চল মানচিত্র রূপে চর্যাপদ আমাদের কাছে জীবন্ত হয়ে আছে। অক্তাবিও চর্যাপদের কাব্যিক ব্যঞ্জনা, প্রতীকী অর্থ ও ভাষিক দ্যোতনার বহুবর্ণিল বিকিরণের সমগ্রতা সম্পর্কে সুগভীর পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন :

এই  কুহকী শারীরবৃত্তিক রূপের পাশেই রয়েছে এক ধর্মীয় মানচিত্র যার কথা আমি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি। এইখানে এই দেহে আছে পবিত্র নদী যমুনা এবং গঙ্গা, আছে প্রয়াগ এবং বেনারস, আছে সূর্য এবং চাঁদ। আমার তীর্থযাত্রায় আমি গিয়েছি অনেক পুণ্যস্থানে, কিন্তু কোনোটাই আমার দেহের চেয়ে পবিত্রতর নয় (সরহর কবিতা)। শরীর যদি হয়ে থাকে পৃথিবী, পবিত্র এক পৃথিবী, তাহলে ভাষাও তাই—এবং তা এক প্রতীকী ভাষা : প্রত্যেক ধ্বনিরীতি ও প্রত্যেক অক্ষরে রয়েছে এক বীজ (Bija), যা থেকে উচ্চারণমাত্র বিকিরিত হয় ধ্বনিতরঙ্গ ও নিহিতার্থ। রসনা প্রতিনিধিত্ব করে ব্যঞ্জনবর্ণ আর ললনা প্রতিনিধিত্ব করে স্বরবর্ণ। শরীরের দুই শিরা বা নালি এখন হয়ে ওঠে বক্তব্যের নারী ও পুরুষবাচক দিক। তন্ত্রবাদে কেন্দ্রীয় জায়গা জুড়ে আছে ভাষা, এ হচ্ছে মূর্ত রূপকের এক পদ্ধতি। এই পৃষ্ঠাগুলোর মধ্যে আমি তন্ত্রের (sandhabhasa) সংগুপ্ত ভাষার সমতুল্যতা, সংযোগ ও প্রতিধ্বনির খেলার উল্লেখ করেছি। আদি মন্তব্যকারীরা (commentobrs) এই কামজ-আধিবিদ্যক দুরধিগম্যতাকে (hermetismo) ‘সান্ধ্যভাষা’ হিশেবে উল্লেখ করেছেন; মির্চা এলিয়াদকে অনুসরণ করে আধুনিক কালের মন্তব্যকারীরা একে বলেছেন “অভিপ্রায়মূলক ভাষা”। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এটা বলেন না (বা এমনটা বলে থাকলেও একে তুলনা করেন জলন্ত কয়লার উপর দিয়ে কারোর হেঁটে যাওয়ার সাথে) যে, এই ভাষা খুবই কাব্যিক এবং তা কাব্যিক সৃজনের একই বিধানসমূহ মান্য করে চলে।

তান্ত্রিক রূপকগুলো অনুপ্রবেশকারীদের কাছে কৃত্যানুষ্ঠানের সত্যিকারের অর্থকে কেবল লুকিয়েই ফেলতে চায় না, বরং যে-সর্বজনীন তুলনা কবিতার ভিত্তি তারও এক মৌখিক প্রকাশ হয়ে ওঠে এগুলো। এই রচনাকর্মগুলো সেই একই মনস্তাত্ত্বিক ও শৈল্পিক প্রয়োজনবোধ দ্বারা পরিচালিত, যা আমাদের বারোক (Barrocos) কবিদেরকে স্প্যানিশ ভাষার মধ্যেই তাদের নিজেদের এক ভাষা নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করেছিল,  সেই একই প্রয়োজনবোধ জয়েস ও পরাবাস্তববাদীদের ভাষা নির্মাণে উৎসাহিত করেছে : বিশ্বজগতের দ্বৈতরূপ হিশেবে লেখার ধারণা। সরহর কাছে শরীর যদি হয়ে থাকে বিশ্বজগৎ, তাহলে তার কবিতা হচ্ছে এক শরীর, আর এই বাচনিক শরীর হচ্ছে শূন্যতা। এর এক ঘনিষ্ঠতম ও মনোমুগ্ধকর উদাহরণ হচ্ছে প্রোভাশাঁল কবিদের Trobar clus, প্রোভাশাঁল কবিতার দুরধিগম্যতা হচ্ছে এক বাচনিক আচ্ছাদন, যা অজ্ঞদের কাছে অস্পষ্ট আর রসজ্ঞদের কাছে তা প্রতিভাত হয় এমন এক স্বচ্ছতা নিয়ে যা নারীর নগ্নতাকে দেখার সুযোগ দেয়। এই গোপনের মাঝে থাকতে হবে। বলতে চাই, এর মধ্যে থেকেই একে না-জানতে হবে। অংশগ্রহণ করতে হবে এতে : আচ্ছাদন রচনা করাটা এক প্রেমময় কর্ম আর অনাচ্ছাদিত করা আরেক জিনিস। তন্ত্রের দুরধিগম্য ভাষার ক্ষেত্রেও ঠিক একই ব্যাপার ঘটে, এ ভাষার পাঠোদ্ধারের জন্য আসলে সংকেত (la clave) জানাটাই যথেষ্ট নয়, যদিও এটা জানারও দরকার আছে, বরং প্রবেশ করতে হবে প্রতীকের অরণ্যে, হতে হবে প্রতীকগুচ্ছের ভেতর এক প্রতীক। কবিতা এবং তন্ত্রবাদ এই অর্থে একই রকম যে, দুটোই বাস্তব এবং চর্চিত অভিজ্ঞতা সঞ্জাত।

A la fisiologia magica que he descrito sumariamente se yuxtapone una geografia religiosa: “Aqui, en el cuerpo, estan los sagrados rios Jamuna y Ganges, aqui estan Pragaya y Benares, el Sol y la Luna. En mis peregrinaciones he visitado muchos santuarios pero ninguno mas santo que el de mi cuerpo.” (Poema de Sahara.) Si el cuerpo es tierra, y tierra santa, tambien es lenguaje y lenguaje simbolico: en cada fonema y cada silaba late una semilla (bija) que, al actualizarse en sonido, emite una vibracion sagrada y un sentide oculto. Resana representa a las consonantes y lalana a las vocales. Las dos venas o canales del curpo son ahora el lado masculino y femenino del habla.. El lenguaje ocupa un lugar central en el tantrismo, sistema de metaforas encarnadas. A lo largo do estas paginas he aludido al juego de ecos, correspondencias y equivalencias del lenguaje cifrado de los Tantras (sandhabhasa). Los antiguos comentaristas designaban a este hermetismo erotico-metafisico como “lenguaje crepuscular”; los modernos, siguiendo a Mircia Eliade, lo llaman “lenguaje intencional”. Pero los especialistas no dicen, o lo dicen como quien camina sobre ascuas, que ese lenguaje es esencialmente poetico y que obedce a las mismas leyes de la creacion poetica.

Las metaforas tantricas no solo estan destinadas a  ocultar al intruso el verdadero significado de los ritos sino que son manifestaciones verbales de la analogia universal en que se funda la poesia. Estos textos estan regidos por la misma necesidad psicologica y artistica que llevo a nuestros poetas barrocos a construirse un idioma dentro del idioma español, la misma que inspira al lenguaje de Joyce y al de los surrealistas; la concepcion de la escritura como el doble del cosmos. Si el cuerpo es cosmospara Sahara, su poema es un curepo– y ese cuerpo verbal es sunyata. El ejemplo mas proximo e impresionante es el del trobar clus de los poetas provenazales. El hermetismo de la poesia provenzal es un velo verbal:  opaciadd para el zafio y transparencia  que deja ver la desnudez de la dama al que sabe contemplar. Hay que estar en el secreto. Digo: estar y no saber el secreto. Hay que participar: tejer el velo es un acto de amor y destejerlo es otro. Lo mismo sucede con el lenguaje hermetico de los Tantra: Para descifrarlo realmente  no basta conocer la clave–aunque eso tambien cuente–sino penetrar en el bosque de simbolos, ser simbolo entre los simbolos. La poesia y el tantrismo se parecen en ser practicas, experiencias conceretas. (Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 82-84)


শহীদুল্লাহ্‌র অনুবাদে কেবল সরহ ও কনহ-র চর্যাগুলোই পড়েন নি, চর্যা সম্পর্কে শহীদুল্লাহ্‌র অনেক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন।


চর্যাপদের ভাষা ও উক্তিকে যতই হেঁয়ালিপূর্ণ ও দুরধিগম্য মনে হোক না কেন, তা আসলে বাস্তবের সেই অদৃশ্য স্তরের উন্মোচন যা আমাদের উপরিতলের বাস্তব অভিজ্ঞতার কাছে অজ্ঞাত। যেহেতু কবিতা সমতল ভাষার তাবেদারি করে না, ভাষার সীমাকে অতিক্রম করে বরং পৌঁছতে চায় ‘বাক পথাতীত’ এক ইশারার উদ্যানে তাই এর প্রধান বাহন হয়ে ওঠে সংকেত। অক্তাবিও পাস তন্ত্রের সাধক ও কবিদের এই ভাষার স্বভাব ও অভিপ্রায়ের পাঠোদ্ধার করে বলেন :

আরেকটা দিক আছে যেটার প্রতি—আমার ধারণা—বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট মনোযোগ দেন নি : মন্ত্রগুলো হচ্ছে ইশারাময় সংকেত, চিহ্নিতকরণের ধ্বনিময় সংকেতমালা। প্রত্যেক দৈবত্ব, প্রত্যেক গুরু, প্রত্যেক শিষ্য, প্রত্যেক পূজারি, প্রত্যেক কুশলী, প্রতিটি আচার অনুষ্ঠানের ধারণা ও মুহূর্তের জন্য রয়েছে মন্ত্র। আমার এই জটিল ব্যাখ্যার চেয়ে বরং কবি কনহ এ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বলেছেন : অক্ষরগুলো আংটার মতো যোগিনীর নগ্ন গোড়ালিতে জড়িয়ে যায়। এগুলো হচ্ছে  সুরেলা শ্রদ্ধাঞ্জলি।

Hay otro aspecto sobre el que, me parece, no han reparado bastante los especialistas: los mantras son signos indicativos, señales sonoras de indentifiacion. cada divinidad, cada “guru”, cada discipulo, cada adepto, cada concepto y cada momento del rito tiene su mantra. El poeta  Kanha lo ha dicho mejor que esta enredada explicacion mia: las  silabas ( bijas)  se anudan en el tobillo desnudo de la yogina como ajorcas. Son atributos sonoros. (Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 85)

অক্তাবিও তার এই দীর্ঘ প্রবন্ধের শেষের দিকে কনহর কথা আরও একবার, এবং শেষবারের মতো উল্লেখ করে বলেন : “এ ধরনের অনুষ্ঠানে সঙ্গিনীই প্রথম শুরু করে এবং সবসময় সেই সঙ্গিনীটি হয়ে থাকে নিম্নবর্গের বা অচ্ছুৎ পেশার কেউ : চণ্ডালী কিংবা ডোম্বী (ধোপিনী)। শূন্যতার প্রতি কনহ তার এক চর্যাগীতিতে বলছেন : কাহ্নে গাই তু কাম চণ্ডালী। ডোম্বিতো আগলি নাহি ছিনালী।” এখানে চণ্ডালীর অর্থ তিব্বতী মরমী উত্তাপ : সূর্য ও চাঁদ, রমণীর রস ও পুরুষের বীর্য,  যথাযথ প্রজ্ঞার পদ্ম ও (কাম) করুণা-বজ্রের ঐক্য বিগলিত ও দ্রবীভূত হয় এক আকস্মিক অগ্নিস্ফুরণে। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বাস্তবতা হয়ে ওঠে সারবান বাস্তবতার শামিল : উভয়ই শূন্যতা। সংসারই নির্বাণ।* ”

La pareja es una iniciada casi siempre de casta baja o profesion impure: la candali o la dombi (lavandera). Kanha dice en uno de sus cantos a la vacuidad: “Tu eres la candali de la pasion. Oh dombi  nadie es mas disoluta que tu.”  Candali significa  aqui el “calor mistico” de los tibetanos: la union del sol y de la luna, el humor de la mujer y el esperma del hombre, el loto de la Perfecta Sabiduria y el rayo de la (com) Pasion fundidos y disueltos en una llamarada. La realidad fenomenal es identica a la realidad esencial: las dos son vacuidad. Samsara es Nirvana.* (Octavio Paz, Conjunciones y disyunciones, Cuadernos de Joaquin Mortiz, Mexico Segunda edicion: Febrero de 1985, P 86)

লক্ষণীয় এই যে উদ্ধৃতির শেষ বাক্যটির শেষে টিকানির্দেশক যে তারকা চিহ্নটি রয়েছে তার টিকায় তিনি শহীদুল্লাহ্‌র গবেষণাকর্মের কথা উল্লেখ করেছেন এভাবে : “কনহ ও সরহ-র কবিতাগুলো সম্পর্কে দেখুন : Les chants mystiques de Kahana et Sahara, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র সম্পাদনা ও অনুবাদ, প্যারিস ১৯২১।”

Mohammod_Sohidullah
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১০ জুলাই ১৮৮৫ – ১৩ জুলাই ১৯৬৯)

এই টিকা থেকে আমাদের কাছে এটা পরিষ্কার যে তিনি শহীদুল্লাহ্‌র অনুবাদে কেবল সরহ ও কনহ-র চর্যাগুলোই পড়েন নি, চর্যা সম্পর্কে শহীদুল্লাহ্‌র অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন। এমনটা ভাববার কারণ এই যে, যেখানে যেখানে তিনি বিশেষজ্ঞদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন সেখানে তা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণ হিশেবে বলা যেতে পারে, ভারতীয় ভাস্কর্য ও স্থাপত্যে বিদেশি প্রভাব প্রসঙ্গে আনন্দ কুমারস্বামীর সাথে পাসের ভিন্নমতের কথা দেখা যাবে এই গ্রন্থেরই ৫৮ নং পৃষ্ঠার পাদটিকায়। শহীদুল্লাহ্‌র কোনো ব্যাখ্যা ও বক্তব্যে তেমন কোনো দ্বিমত থাকলে তিনি তা জানাতেন বলেই আমার বিশ্বাস। যাই হোক, এখানে মতৈক্য ও মতান্তরের হদিস নেয়া আমাদের মূল লক্ষ্য নয়, বরং চর্যাপদ সম্পর্কে পাসের উপলব্ধির মানচিত্রটি প্রত্যক্ষ করা।

চর্যাপদের প্রতি অক্তাবিও পাসের মতো একজন প্রথম সারির কবি ও সাহিত্য-সমালোচকের মনোযোগ, এবং  সেই মনোযোগকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে রূপান্তরিত করাটা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। গুরুত্বের প্রধান কারণ বাংলাভাষী কিংবা অন্য ভাষারও কোনো কবি ও সমালোচক বৈশ্বিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চর্যাপদের বাচনিক অনন্যতা ও কাব্যিক সৌন্দর্যের মূল্যায়ন করেন নি কখনো। পাসের পক্ষে এই মূল্যায়ন সম্ভব হয়েছিল এই কারণে যে, তিনি আমাদের কালের সেই বিরল লেখকদের একজন যিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহু বিষয়ে কেবল সুপণ্ডিতই নন, ছিলেন বহুভাষী ও সৃষ্টিশীল এক লেখক। সমালোচনা সাহিত্যে সৃজনশীলতা ও পাণ্ডিত্য—এ দুয়ের সফল ও আশ্চর্য প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি পঠিত রচনার অর্থের ও সৌন্দর্যের অজ্ঞাত ঔজ্জ্বল্যকে উন্মোচিত করেন। চর্যাপদের ক্ষেত্রে পাসের এই প্রণম্য উন্মোচন ঘটেছিল ষাটের দশকেই, কিন্তু বাংলাভাষী পাঠকদের গোচরে এল উন্মোচনের অর্ধশতাব্দী পরে। আমি নিশ্চিত ভবিষ্যতের আরও বহু মনীষার শংসা-পালক যুক্ত হবে চর্যাপদের গৌরবোজ্জ্বল মুকুটে।


পাঠান্তর : কনহ = কানহ, কাহ্ন, কাহ্নু
রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন

জন্ম ১৯৬৫, শরিয়তপুরে। লেখাপড়া এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরেই। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। ভিন্ন পেশার সূত্রে মাঝখানে বছর দশেক কাটিয়েছেন প্রবাসে। এখন আবার ঢাকায়। ইংরেজি এবং স্পানঞল ভাষা থেকে অনুবাদের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি সাহিত্য নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশ।

প্রকাশিত বই :
অনূদিত কাব্যগ্রন্থ—
গেয়র্গ ট্রাকলের কবিতা (মঙ্গলসন্ধ্যা প্রকাশনী, ১৯৯২)
সি পি কাভাফির কবিতা (শিল্পতরু প্রকাশনী, ১৯৯৪)
টেড হিউজের নির্বাচিত কবিতা (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৪)
আকাশের ওপারে আকাশ (দেশ প্রকাশন, ১৯৯৯)

অনূদিত সাক্ষাৎকার গ্রন্থ—
সাক্ষাৎকার (দিব্যপ্রকাশ, ১৯৯৭)
কথোপকথন (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৭)
অনূদিত কথাসমগ্র ( কথাপ্রকাশ)

সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ—
মেহিকান মনীষা: মেহিকানো লেখকদের প্রবন্ধের সংকলন (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ১৯৯৭)
খ্যাতিমানদের মজার কাণ্ড (মাওলা ব্রাদার্স, ১৯৯৭)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত কবিতা (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত সাক্ষাতকার (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত প্রবন্ধ ও অভিভাষন (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
প্রসঙ্গ বোর্হেস: বিদেশি লেখকদের নির্বাচিত প্রবন্ধ (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
রবীন্দ্রনাথ: অন্য ভাষায় অন্য আলোয় (সংহতি প্রকাশনী, ২০১৪)
মারিও বার্গাস যোসার জীবন ও মিথ্যার সত্য (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ২০১৫)

গৃহীত সাক্ষাৎকার—
আলাপচারিতা ( পাঠক সমাবেশ, ২০১২)

কবিতা—
আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি (শ্রাবণ প্রকাশনী, ২০১৪)

জীবনী—
হোর্হে লুইস বোর্হেসের আত্মজীবনী (সহ-অনুবাদক, সংহতি প্রকাশনী, ২০১১)

প্রবন্ধ—
দক্ষিণে সূর্যোদয়: ইস্পানো-আমেরিকায় রবীন্দ্র-চর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস( অবসর প্রকাশনী, ২০১৫)

ই-মেইল : razualauddin@gmail.com
রাজু আলাউদ্দিন