হোম গদ্য ঘোড়া

ঘোড়া

ঘোড়া
454
0

ধূসর ঘোড়াটা জোরে ছুটছে। ঘোড়ার ওপর দুজন মানুষ। তারা সামনের দিকে ঝুঁকে বসে আছে। প্রথমজনের বাম হাতে লাগাম, ডান হাতে চাবুক। চাবুকটা আকাশের দিকে তোলা। আর ঘোড়ার নিচে পিষ্ট হচ্ছে এক ব্যক্তি। তার মুখে যন্ত্রণার চেয়ে হতবাক হওয়ার ভাবটাই বেশি। অনেক দিনের পুরনো, বিবর্ণ ছবি। তবুও কী তেজ! শ্যাওলা-পড়া পিচবোর্ডে ঝুলছে। রুমে ঢুকে প্রথম চোখ পড়ল ছবিটায়। বাবলু অবাক চোখে চেয়ে থাকে। নাসিরাবাদের একটি বাসা। টিউশনির প্রথম দিন আজ। একটু পর তার ছাত্রছাত্রী আসে। নতুন ছাত্র সজলের সাথে পরিচয়ের পরই জিজ্ঞেস করে ছবিটার কথা। সে জানালো, তার বাবার দূর-সম্পর্কীয় এক আত্মীয়ের আঁকা। খুলশীতে ওই শিল্পীর ছবি আঁকার স্কুল আছে।


শাড়িটা পরেছেন নাভির অনেক নিচে। নাভিটাকে মনে হয় প্রাচীন সুড়ঙ্গ-পথ। ফরসা পেট যেন দুপুরের আকাশের নীল।


সজলের বোন পড়ে ক্লাস ফোরে। তার ঠোঁট কড়া লাল লিপস্টিকে রাঙানো। একেবারে কামুক তরুণীর মতো ঠোঁট। এ কী করে হয়! বাবলুর মধ্যে বিদ্যুৎ চমকে ওঠে। নিজেকে ভয় হয় তার। দ্রুত চোখ সরিয়ে নেয়। একটু পর চোখ চলে যায় তার বুকের দিকে। মানুষ ইশারা করলে তার একটা ছায়া পড়ে। তার বুক তেমন। সে আবার ঠোঁটের দিকে তাকায়। ওই সময় তাদের মা আসেন। যেমন মোটা, তেমন বেঁটে। শাড়িটা পরেছেন নাভির অনেক নিচে। নাভিটাকে মনে হয় প্রাচীন সুড়ঙ্গ-পথ। ফরসা পেট যেন দুপুরের আকাশের নীল। তার নাম জানতে চান। নাম শোনার পর অকারণ হাসেন। তবে চেহারা দেখে মনে হলো, কাউকে সহজেই আপন করে নিতে পারেন এই মহিলা। তার ভালো লাগে।

বাসায় আসতে আসতে রাত। রাতে মানুষ নিজের হয়ে যায়। নিজেকে দেখে, চেনে। রাত এলে কেন যেন নিজেকে তার কচ্ছপ মনে হয়। ছোটবেলায় খালি গায়ের এক বুড়াকে দেখত—কালো লোকটার কাঁধে থাকত একটা লাঠি। লাঠির আগায় চার-পাঁচটা কচ্ছপ ঝুলত। দুষ্টু ছেলেদের কাণ্ড দেখতে মাথা বের করে পিটপিট করে তাকাত। কেউ লাঠি দিয়ে গুঁতা দিলে দ্রুত ঢুকিয়ে ফেলত মাথা। এখন মনে হয়, মানুষ সারা জীবন নিজেকে লুকানোর কাজই করে। বুড়াটা সবসময় নির্বিকার থাকত। কচ্ছপ শিকারের ফলাটার মতোই তীক্ষ্ণ ছিল তার চলন-বলন। তার চোখ ছিল মহিষের চোখের মতো। ইদানীং তারও ও রকম চোখ পেতে ইচ্ছে করে। ঝুলন্ত কচ্ছপ যেভাবে মাথা বের করে, আজকাল বাবলুর ভেতর থেকে সেভাবে মাথা বের করতে চায় কেউ। তাকে তার সুবিধার মনে হয় না।

পেঁপে গাছের ডাল দিয়ে শিশুরা বাঁশি বাজাত। সেভাবে সে চাইছে কোনো মেয়েকে পেতে। বন্ধুর মতো, প্রেমিকার মতো; যার কাছে মন খুলে দেবে। নিজেকে যাচাই করবে, চিনবে, সমর্পণও করবে। বলবে, যা আমি পাই নি তা দাও। আমাকে আলোর মতন ভরিয়ে দাও। অভাগা হলে যা হয়, পায় নি কাউকে। মানুষ একা একা চলতে পারে না। তাই সে পথে নেমেছে। কত খুঁজেছে, কত কথা জমিয়েছে! সারা দিন ক্লান্ত ও শূন্য দিন কাটানোর পর রাতে হাজার হাজার স্বপ্ন দেখত। ওসব স্বপ্নের কোনো আগা-মাথা থাকত না। বেশির ভাগ সময় দেখত, মরুভূমির মধ্যে সে হাঁটছে। তার পেছনে উট। সে উটটাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে শরীর চিমসে যায়। কঙ্কালসার দেহ পড়ে যায় বালিতে। এসময় শুরু হয় মরুঝড়। বালির আঘাতে জেগে ওঠে সে।

গ্রামে থাকার সময় কতদিন পথ চেয়ে বসে থেকেছে! মীনাক্ষী স্কুল থেকে আসবে। তার নাকে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম থাকে। সেদিকে তাকিয়ে বলবে মনের কথা। বলতে পারে নি। পরদিন সকালে পুকুরে গোসল করতে নেমে খুঁজে পায় নতুন সুখ। পানির মধ্যে মোমবাতি নাড়াচড়া করে, অন্যরকম পুলক জাগে। সুখ হাতের মুঠোয় নেয়। তবে চরম মুহূর্তের পর নিজেকে অপরাধী মনে হয়। বাবলুর মনে তিরের ফলা হয়ে আছে সেই রাত। মনের মধ্যে পোকা ঢুকেছিল। মাঝরাতে সেই পোকা জাগিয়ে দেয়। মামাত বোনেরা বেড়াতে এসেছে। মশারি আলগিয়ে তাদের খাটে ওঠে। সেভেনে পড়া অরুণা মনে হয় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।

অরুণার মুখে হাত বুলায়। এরপর জামার তলে হাত ঢুকিয়ে বুক ছোঁয়। সে কাঁপে, হাত নামে। শেষ পর্যন্ত সেলোয়ারের গিঁট খুলতে পারে। কী করবে বুঝতে পারছিল না। আস্তে আস্তে সরে যায়। নিজের খাটে এসে আফসোস করে। এরপর বাজাতে থাকে একান্ত গিটার। সেই থেকে সে নিজের কাছে অপরাধী হয়ে থাকে। তারপর তো শহরে চলে এল। শহরের অলি-গলিতে হাঁটে, চাকরি খোঁজে। উড়ো ভাবটা আছে। স্টেশন রোডে ক্যাসেটের ফিতায় কেউ কাউকে নিঃস্ব করে। চৈতন্য গলি কবরস্থানের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে থাকা লোকটা যেন সে। এক বস্তা নোংরা কাপড় পরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। অদূরে কাঁথা মুড়ে শুয়ে থাকা মেয়েটার পা দেখা যাচ্ছে। দেয়ালের ওপাশে টিউবলাইটের আলো কুয়াশায় ঘোলাটে।


একটা ছেলে একটা মেয়েকে আদর করছে—এ রকম গল্প। পড়তে পড়তে কান লাল হয়ে যায়, ঝাঁ ঝাঁ করে। মনে হয় সেই কানে বাসন্তীদি চুমু খেয়েছিল।


কদমতলীর দিকে যেতে যেতে বুঝতে পারে নিজের প্রতি করুণা হচ্ছে তার। আদি-অন্ত নাই এ রকম কাউকে খোঁজে। সে কি ভগবানকে খুঁজছে? তাকে পেলে টিটুর মতো জিজ্ঞেস করত, ভগবান তুমি কোথায় থাকো? আমাকে এমন কোথাও নিয়ে চলো, যেখানে না পাওয়ায় জর্জরিত হতে হয় না। এই ভার আর সইতে পারছি না। মনে হয়, তার জন্ম হয়েছে শূন্যতার দুয়ারে ধরনা দেওয়ার জন্য। সকালে সূর্য ওঠার সাথে সাথে বেঁচে ওঠে। সারা দিনে অনেকবার হারিয়ে যায়। রাত প্রায় এগারোটা। মশারি খাটিয়ে শুয়েছে। সাদাটে ও গোলাপি রঙের কম্বলটা গায়ে দেয়। বাইরে ওত পেতে আছে মাঘ মাসের বাঘ। নানা রকম ভাবনা। সারা দিন নিজের মনে কেঁদেছে। মেঘ দৌড়ে হিমালয়ের দিকে যায়। আর সে যেতে চেয়েছে বৃষ্টির মতো কিছু আশার দিকে।

দুপুরে হোটেলে ভাত খেয়েছিল। মোটা সিদ্ধ চালের ভাত, ডিম আর পানসে ডাল। ভাতে কয়েকটা সাদা পোকা পেয়েছে। মৃত লোককে যেভাবে শোয়ানো হয়, সে রকম টান টান শুয়ে ভাবে, ধানখেতে পড়ে আছি। আমার গায়ে জোছনার চাদর। ক্লাস নাইন থেকেই সে টিউশনি করে। ইন্টার পাস করে এক বছর পর্যন্ত বাড়িতে টিউশনি করেছিল। তারপর শহরে এল। বেপারিপাড়ার এই বাসায় লজিং থাকে প্রায় পাঁচ মাস হলো। থাকা-খাওয়া ফ্রি। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আনা-নেওয়ার কাজও করতে হয়।

মায়ের সাথে রাগ করে বিশ্বজিৎ বাবলুর রুমে আসে, লাইট জ্বালায়। এক হাতে বালিশ, অন্য হাতে কোলবালিশ। বলে, ‘স্যার আমি আপনার সাথে থাকব।’

সে একটা স্বপ্ন সাজাচ্ছিল। বিরক্ত হলেও হেসে বলতে হয়, ‘আসো।’ বাম পাশে জায়গা করে দেয়।

বিশ্বজিৎ কাঁথার জন্য চিৎকার দেয়। কাজের মেয়ে কাঁথা আনে। বাবলু আলো জ্বালিয়ে শুতে পারে না। লাইট নিভিয়ে দিয়েছিল। একটু পর মা এসে ডিম লাইট জ্বালান।

সে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বর্ষায় তারা কাদা মাঠে ফুটবল খেলত। সেভাবে মাঠটা তৈরি করেছিল। হাতের মুঠোয় কিছুক্ষণ নাড়াচাড়াও করেছে। এখন নিজেকে সাইড লাইনে বসে থাকা খেলোয়াড় মনে হয়। আঁধার চলে গেছে। খেলা ছেড়েও চলে গেছে সবাই। পাশ ফিরে শুয়ে থাকে। তার কিছু ভালো লাগে না। অনেকদিন আগের কথা। তখন সে কিশোর, হাই স্কুলে পড়ত। কিস মানে যে চুমু, সন্তান কিভাবে হয় তা জানত না। তবে জানার ভাব দেখাত। একদিন দিদির বাড়ি বেড়াতে গেছে। দিদির ননদ বাসন্তীদি ছিল দুষ্টুর একশেষ। তাকে নানা রকম গল্প বলত। ওইদিন এসে বলল, ‘আমার কাছে একটা বই আছে, পড়বে?’ বাবলু সুবোধ বালকের মতো মাথা নাড়ল।

বাসন্তীদি কামিজের ভেতর থেকে ভাঁজ করা বইটা বের করে দেয়। সে পড়ে, একটা ছেলে একটা মেয়েকে আদর করছে—এ রকম গল্প। পড়তে পড়তে কান লাল হয়ে যায়, ঝাঁ ঝাঁ করে। মনে হয় সেই কানে বাসন্তীদি চুমু খেয়েছিল। তার ঠিক মনে নাই। শরীর যেন সজারুর কাঁটা। একটু একটু জাগছে। মোমবাতি ধরে নড়াচড়া করে। সকালে বাসে পতেঙ্গা গিয়েছিল। মাফলারে কান ঢাকা হেলপার চিৎকার করে একেকটা স্থানের নাম বলে। ঘুমের অচেনা জায়গায় যেতে যেতে তা মনে পড়ে। ভাবে, চিৎকার দিয়ে নিজেকে জাগিয়ে দেবে। তারপর ড্রাইভারকে বলবে, তুমি সরে যাও। সে গাড়ি চালাবে। এত দ্রুত চালাবে, ভয় পেয়ে যাবে সবাই। একের পর এক স্থান পেরিয়ে যেতে থাকবে। তাকে কেউ আটকাতে পারবে না।


বনানী কমপ্লেক্সে ইংরেজি সিনেমায় প্রথম দেখা যৌনদৃশ্য ও শীৎকারের আওয়াজ মনে পড়ে। সেও যেন ধর্ষিত হচ্ছে। নিজের গলায় জোরে চাপ দেয়। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।


ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। মনে হলো, অনেক বছর ঘুমিয়ে আছে। তলপেটে চাপ, কিন্তু ঘুমের জন্য উঠতে পারে না। অনেক কষ্টে ওঠে। টয়লেট থেকে বেরিয়ে দেখে বারোটা দশ। রাতের ওপর খুব রাগ হয়। আজ একটা চটি বই পড়েছিল। তাই মনটা এলোমেলো হয়ে আছে। বারবার পড়াগুলো মনে পড়ছে। শয়তান তাকে একটা কামড় দেয়। উহ! সে আর পারছে না। দূরের কুকুরের মতো মন কাঁদে। মাথার চুল খামছে ধরে। পারলে গভীর প্রেম করত কারো সঙ্গে। পৃথিবীতে ভাসাত প্রেমের নৌকা। তারপর মার স্বপ্নের মতো একটা ঘর বানাত।

মা তুমি কোথায়? মাকে হারিয়েছে বেশ কয়েক বছর হলো। ছোট ছোট ভাই-বোনেরা অভাবেই বেড়ে উঠছে। কোথাও কোনো সাধ নাই, প্রেম নাই। যেন সে উদ্বাস্তু। হঠাৎ মনে হয়, মাকু চালানোর শব্দ শুনছে। ভাবে, গামছা আর লুঙ্গি তৈরি করতে করতেই মা-টা মরে গেল। বাবার হাত এখন আর চলে না। জোরে মাকু চালাতে ইচ্ছে করে। তখন ঠাকুমা এসে বলবে, বাছা, সামলে। সামলেই চলতে চায় সে। আর চায় আলো। অন্ধকার ভালো লাগে না। কিন্তু কেউ তার মন টেনে নেয়। সে হাত রাখে বিশ্বজিতের গালে। বিশ্বজিৎ চমকে বিচ্ছুর মতো গুটিয়ে যায়। সেও শক খাওয়া হাত গুটায়। একটু পর গাল টানে। সে ঘুমে জড়। মেয়েদের গাল কি এর চেয়েও নরম! কোনো মেয়েকে ভাবতে চায়। তার স্তনকে বয়া বানিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিত। প্যান্টের ওপর দিয়ে পায়ুপথ ছোঁয়।

হাতটা ধীরে ধীরে সামনে নিয়ে রাবারের প্যান্ট আলগা করে। ভেতরে ঢোকায়। বিশ্বজিৎ একটু নড়ে-চড়ে। সে হাত স্থির রাখে। বনানী কমপ্লেক্সে ইংরেজি সিনেমায় প্রথম দেখা যৌনদৃশ্য ও শীৎকারের আওয়াজ মনে পড়ে। সেও যেন ধর্ষিত হচ্ছে। নিজের গলায় জোরে চাপ দেয়। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এবার ছুঁতে পারে বিশ্বজিতের মোমবাতি। সাইজটা তার তর্জনীর মতো। দেখতে চাইছে ওটা কেমন জ্বলে। কিছু সুখ হয়তো পাবে। ছালিবিছালি করে কোলবালিশ জড়িয়ে ধরে বিশ্বজিৎ। ভয়ে হাত সরিয়ে নিজের কাছে আসার আগেই জ্বলে ওঠে বাবলুর মোমবাতি। এখন জ্বালানোর ইচ্ছে ছিল না। তাই ক্ষোভ জমে, হতাশও হয়। বাকি রাত কাটল দুঃস্বপ্নে। ঘোড়ার মতো ছুটে চলে সে। চলতে চলতে সাগরের পাড়ে যায়। বড় বড় ঢেউয়ে চোখ রেখে বেঁচে থাকার মানে খুঁজে পেতে চায়।

ছোটবেলায় ঠাকুরদার পাশে বসে তাঁত চালাত। মাকু একবার ডানে, আরেকবার বামে টানত। শব্দ হতো টগর টগ, টগর টগ। এখন মনে হয়, টগ বগ, টগ বগ শব্দ হচ্ছে। ঘোড়ায় চড়ে সে যাচ্ছে। কোথায় যায় সে? সকালে বাসে একটা লোক ম্যাজিক বই বিক্রি করছিল। লোকটা বলে, ‘এটা ম্যাজিক নয়, খেলা।’ ছবির ওপর কালো দাগ টানা একটা প্লাস্টিক নাড়ায়। তখন জাতীয় পতাকা হাতে ছেলেটা ঘোড়ায় চড়ে টগবগ করে যায়। কবিতার বীরপুরুষ মার পাশে পাশে যেত। তারও বীর হয়ে যেতে ইচ্ছে করে। যেতে যেতে মার সিঁদুর, সিঁদুর আম, জবা-লাল সব রঙ; সবুজ, বাংলার সব সবুজ মনের ভেতর জমা হয়। কিছু একটা বানাতে চায়। এই সবুজ আর লালের জন্য তার কিছু করার আছে। এ কথা ভাবতে গিয়ে মনে হয়, বেঁচে থাকার জন্য কিছু যোগ্যতা লাগে। তা অর্জন করতে হয়। আর একা একা বেঁচে থাকা ভালো নয়।

বালুচরে তলোয়ার হাতে সে হাঁটে। এ সময় নদী পেরিয়ে অনেক ঘোড়সওয়ার আসে। হাত বাড়িয়ে দেখে, তলোয়ারটা কাগজের। হাঁটু ভাঁজ করে সে নতমুখে বসে থাকে। তাঁতির বাড়ি কি ব্যাঙের বাসা হয়ে গেছে? আর সে ব্যাঙ! ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করা ছাড়া কোনো কাজ নাই। পাড়ার ব্যাঙ মানুষেরা তাঁত ফেলে গীত গায়। সে দেখে, গীত গাওয়া মানুষেরা নানা রকম ঘোড়ার নিচে পিষ্ট হচ্ছে। আশ্চর্য! তখন জ্বলে ওঠে তার মোমবাতি। সে কী করবে ভেবে পায় না। মোমবাতি গলে গলে ঘোড়ার লাদির নিচে ডুবে যায়।

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১], লাল পা [গল্প, ২০১৩]।
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]।

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯], মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]।

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)