হোম গদ্য গল্প সেলেব্রেটি

সেলেব্রেটি

সেলেব্রেটি
388
0

একটা সাপ। মশারি ফুটা করে ঢুকে গেছে। রোহানের বিছানায় ঢুকে গেছে সাপটা। ওর কি বিষ আছে? কামড়ে দিলে মরে যাবে? সাপটার নাম রোহান জানে না। বেশ মোটাসোটাই তো! এইটা ঢোঁড়া সাপ তো? আরে ধুর! ঢোঁড়া তো পানিতে থাকে। রোহান সেটা জানে। লাউডুগি? লাউডুগি খুব বড় হয় না। চিকনা। লাউডুগি সাপ একবার বাঁশঝাড়ে দেখেছে সে। লাউডুগি মেয়ে হলে বেশ সুন্দরী হতো। সুবোধ-বখাটে সব ছেলেরা পিছে লাগত। মুরব্বি গোছের লোকজনও আড়চোখে তাকাত। কিন্তু মশারি ছিঁড়া যে সাপটা ঢুকে পড়ল, যে সাপটাকে রোহান ওর শরীরে টের পাচ্ছে, তা লাউডুগি না। সাপের শরীরে কি বারোমাসি শীত নাকি? পুরা শরীর যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে। এ কী! ছোটবেলার বান্ধবী লিপিকে যেভাবে ইশারায় ডাকত ফিসফিস করে, সাপটাকে ঠিক সেভাবে ডেকে নিচ্ছে রোহান। হাতের কাছে। একদম মুখের কাছে। সাপের সাথে সে ফিসফিস স্বরে কথা বলতে চায়। অবশ্য মনে দ্বিধা, সাপটা বাংলা জানে তো! বিশেষ করে মমিসিংগা বাংলা! তাই সিদ্ধান্ত নেয়, ঢাকায় যে ভাষায় কথা বলে, সাপের সাথে ওভাবেই কথা বলবে। সাপটা রোহানের ডাকে সাড়া দেয়। তার তেলতেলা শরীরটা রোহানের গায়ে ট্রেনের মতো এঁকেবেঁকে আহ্লাদি ভঙ্গিতে এলিয়ে দিয়ে এগুতে থাকে। শিরশির করতে থাকে। সাপটার গলার নিচে ধরে মুখের কাছে এনে জিজ্ঞেস করে, ‘এই দুর্মুখ, আমার কাছে কী চাস তুই? আমার তর লগে কোনো সম্পর্ক নাই। কোনোকালে দেখাও হয় নাই। একটা চুমা ছাড়া তরে দেবার মতো কিছু নাই আমার। কী রে, চুমা খাবি আমারে?’ এই কথা বলার সাথে সাথেই ফোঁস করে ফণা তুলে রোহানের কপাল বরাবর একটা ঠোকর দিতে চাইল সাপটা।

টেলিফোন করে সিমি বলেও ফেলে, ভাইয়া তুমি নাকি ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে গেছ

আতঙ্কে পুরা বাস কাঁপিয়ে ঘুম ভেঙে গেল রোহানের। হতবিহ্বল লাগছে তাকে। সারাটা চোখমুখ যেন সদ্য ব্যবহার করা ঝালমুড়ির ঠোঙা। পেটে এমন ক্ষুধা, আস্ত একটা রেস্টুরেন্ট এনে দিলে বুঝি সব খেয়ে ফেলতে পারবে। ঈদের আগের রাত আজকে। কোরবানি ঈদের রাত। আড়াই মাস পর বাড়িতে গিয়েছিল সে। নান্দাইল। রোহান থাকে ঢাকায়। একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ফার্মাসি। সিজিপিএ ভাল, মাশাল্লাহ। গান-বাজনা করে। গিটার বাজাতে সে পটু। লেখার হাত যথেষ্ট ভালো। লিরিক বেশ কাব্যিক। চেষ্টা করছে একটা ব্যান্ড গড়ে তুলতে। রোযার ঈদে রোহানের লেখা ও সুর করা তিনটা গান একটা মিক্সড অ্যালবামে ঠাঁই পেয়েছে। ও নিজেও গেয়েছে একটা গান। ডুয়েট। এ নিয়ে ওর নিজের মনে যেমন আনন্দ, বাবা-মা ছেলের ফার্মাসিস্ট ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ভেবেও অখুশি নয়। সন্তানের খ্যাতি সব বাবা-মা উপভোগ করে। গত ঈদে বাড়ি গিয়ে তা বুঝেছে রোহান। ওর গানের অ্যালবাম বাবা-মার শোবার ঘরে দেখেছে সে। কিন্তু এই গান গাওয়াটাই রোহানের কাল হলো! ঈদের রাতে সে বাবা-মাকে না বলে, খালিপেটে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছে। যে মা ওকে দশমাস পেটে ধরল, যে বাবা ওর জন্মদাতা, যে পিতা-মাতা ওকে বড় করে তুলেছে, যেসব ভাই-বোনের সঙ্গে পিঠেপিঠি বেড়ে উঠেছে, তারা কেউ ওকে বিশ্বাস করল না! ওদের কাছে গুজবই বড় হলো! তীব্র অভিমান, লজ্জা আর আত্মসম্মানবোধে সে পরিবারের সাথে ঈদ না করেই ঢাকার পথে এখন। মোবাইলটার সুইচ অফ করা। এভাবে বাড়ি থেকে চলে এসে ঠিক করেছে, না ভুল, তা ভাবতেও চাইছে না এখন।

পেটে তার দুনিয়া খেয়ে ফেলার খিদা। তার উপর অদ্ভুত এক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েও ফিরে আসতে হচ্ছে। মানসিক ক্লান্তিতে এমনিতেই মাথা কাজ করছিল না। এখন শরীরও কথা শুনছে না। রাস্তায় কোথাও বাসটাও থামে নি। ঈদের আগের রাত, রাস্তায় গাড়ি কম। যাত্রীও নাই বলতে গেলে। রোহান ছাড়া আর মাত্র দশজন হবে হয়তো। তার কম হবার সম্ভাবনাই বেশি। গুনে দেখে নি। তবে আন্দাজ করেছে। রাত বাড়ছে। যত তাড়াতাড়ি ঢাকায় পৌঁছানো যায়, ততই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। গাড়ির লোকজন তো বটেই, যাত্রীরাও। গাড়িটা এমনভাবে চলছিল, যেন নরকের রাস্তা দুনিয়াতেই নেমে এসেছে। আজই  এই গাড়িতে করে বুঝি সেখানে পৌঁছে যাবে। এই অনুভূতিটা আরো গাঢ় হলো, যখন জয়দেবপুর চৌরাস্তার ওখানে এসে হঠাৎ বাসটা থেমে গেল।

—মামা, গাড়ি আর যাইত না। গিয়ার কাম করতাছে না।

—বললেই অইল! পুরা রাস্তায় প্রবলেম অয় নাই। হঠাৎ গাড়ি নষ্ট অইয়া গেল! অতকিছু বুঝি না, তুমরা ঢাকা পৌঁছায়া দিবা।

—দেহুইন। ট্যাহা ফিরত দিতাছি। এহান তে ডাহার বাড়া যা, ওই ট্যাহা লইন। গাড়ি আর যাইত না। জুর কইরা নিবাইন নাহি?

তর্কাতর্কি করেও বোঝা গেল, কোন লাভ নাই। ইতোমধ্যে নিজস্ব গেট দিয়ে গাড়ির চালক উধাও হয়ে গেছে। কী আর করা! গাড়ির সব যাত্রী নেমে হা-হুতাশ করে, মুখে চালক আর কনডাক্টরের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে করতে ঢাকায় পৌঁছানোর গাড়ি খুঁজতে লাগল। টাঙ্গাইল রোড ধরে আসা একটা গাড়িতে উঠে গেল সবাই। সেও প্রায় পৌনে একঘণ্টা অপেক্ষার পর। সেই দলে রোহান নেই। রোহানের পেটে কুমির। তার খেতে হবে। তাই ময়মনসিংহ থেকে আসা গাড়ি থেকে নেমেই রেস্তোঁরার খোঁজে লেগে যায় সে। মাথা চাকার মতো ভনভন করে ঘুরছে। চোখে ঝাপসা দেখছে। হাঁটতে হাঁটতে একটা খুপরি ঘরের মতো রেস্তোঁরা পেয়ে গেল। দূর থেকে আসা খাবারের গন্ধ নাকে লাগতেই পড়িমরি ছুটতে লাগল। ওই রেস্তোঁরাকে মনে হলো বেহেশতের হেরেম। যেন হুরপরি রান্না করে তাকে ডাকছে। এই ডাক উপেক্ষা করা যায় না। সে সাড়া না দিলেও, পেটসহ শরীরের সব ইন্দ্রিয় সাড়া দিয়েছে। রোহান জানে না, এই রাস্তাটা কোনদিকে গেছে। ঢাকার রাস্তা কোন দিকে। ওসব মনে নেই তার। আহা! মনে হয় কতযুগ ভাত খায়নি সে! রেস্তোঁরায় গিয়ে দেখল, আরামসে খেয়ে নিচ্ছে বাসচালক আর গাড়ির লোকজন। অন্য কেউ হলে হয়তো ঝারিঝুরি মারত। রোহানের সে সময় নাই। ওর সব ভাবনা এখন খাবারের দিকে। মামা, যা আছে দেন—বলে টেবিলের এক কোণে বসে পড়ল। পাঁচ মিনিটের অপেক্ষাকে তার মনে হলো এক আলোকবর্ষ দূর থেকে বুঝি খাবার নিয়ে আসা হচ্ছে। খাবার দিয়ে গেল। সেদিকে খেয়াল নাই রোহানের। তার মন চলে যাচ্ছে এক মাস আগে। এক পড়ন্ত দুপুরে। ফেইসবুকের ইনবক্সে।

—রোহান, তুমি তো মিয়া সেলেব্রেটি হয়ে গেছ। তোমার মিউজিক ভিডিও দেখলাম ইউটিউবে। লন্ডনে বইসাও খবর পাইয়া গেসি মিয়া। তুমি মিয়া এত ভাল গান-বাজনা করো, কাজিন হইয়াও জানতাম না! তুমি জানাও নাই। তারপরও জাইনা গেসি। তুমি সেলেব্রেটি হয়ে গেছ। ভাল্লাগতেসে।

—কি যে কন নয়ন ভাই! আপনাদের দোয়া। এই এট্টু-আধটু গানবাজনা করতেসি আর কি। সেলেব্রেটি-মেলেব্রেটি কিসু না ভাই। দোয়া কইরেন, যেন ভাল কিছু গান গাইতে পারি।

এই কথোপকথনের পর রোহানের গ্রামের বাড়ি আর তার আশেপাশের এলাকায় কী ঘটছে, তা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নাই রোহান বা নয়ন, কারোরই। নয়ন তো লন্ডনে থাকে। রোহানের পাড়াত-জ্যাঠাতো ভাই। রোহানের গান মিউজিক ভিডিওতে দেখে খুব খুশি হয়ে টেলিফোনে নয়ন তার সাতষট্টি বছরের বৃদ্ধা মাকে বলেছিল, ‘আম্মা, সদরুল কাকুর ছেলে তো গান গাইয়া সেলেব্রেটি হয়ে গেছে। বিদেশে বইয়াও তারে দেখছি আমি।’

এরপর যা যা ঘটছে তার জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউই। নয়নের মা পাড়ার যার সাথেই দেখা হয় তাকেই বলে, ‘সদরুলের ছেলে ত বেডি অইয়া গেসে! হুনছস নি?’ এই কান, ওই কান করে করে এই কথা পৌঁছে গেল রোহানের বাবা-মা, ভাই-বোনের কানে। নয়ন নাকি বিদেশে দেখেছে রোহানকে। রোহান বেটি হয়ে গেছে! রোহানের বাবা সদরুল আলম বা মা রোজিনা আক্তার—এই খবরকে পাত্তা দেয় না কেউই। তাই রোহানের সাথে মোবাইল ফোনে প্রতিদিন তিন-চারবার কথা হলেও এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করে না। কিন্তু মানুষের মুখ তো বন্ধ রাখা যায় না। রোহানের ছোটবোন সিমিকে ওর এক বান্ধবী বলেছে, সে নাকি পত্রিকায় পড়েছে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে ভারতে এক ছেলে মেয়ে হয়ে গেছে। সেই মেয়ে বিয়ে করে সংসারও করছে। কোথায় কোথায় যেন মেয়েও ছেলে হয়ে গেছে। রোহান ভাইয়েরও ওরকম কিছু হয়েছে হয়তো। না হলে মানুষ বলবে কেন! সন্ধ্যায় রোহানকে টেলিফোন করে সিমি বলেও ফেলে, ভাইয়া তুমি নাকি ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে গেছ!

—কী আবোল-তাবোল বকতাছস! তোর মাথার তার-তুর ছিঁড়া গেছে নাকি!!

সদরুল স্ত্রী আর সিমি-রোকনের সামনেই বলে, কাপড় খুইলা দেখা

ছোটবোনকে না হয় ধমক দিয়ে চুপ করালো রোহান। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে এ খবর যে এখন গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে, তা কিভাবে থামাবে। হাটে পরিচিত মানুষ সদরুল আলমকে দেখলেই জিজ্ঞেস করে, খবরডা হাছা নি? সদরুল এক কথায় বলে, গুজব। অবস্থা এমন হয়েছে যে, রোহানের পরিবারের কারো বাড়ি থেকে বেরোনোই দুস্কর। রোজিনা আক্তার, রোহানের মা, পুত্রকে ফোন করে বলে তাড়াতাড়ি বাড়িতে আসতে। এই গুজবের কবর দিতে হবে। কিন্তু ছেলে মাকে বলে, ‘সামনে ঈদ আম্মা। দুইটা অ্যালবাম আর একটা নাটকের গান করতেছি। আমার দম ফেলার সময় নাই। ঈদের দুইদিন আগে চলে আসব।’ সদরুল নিজে ঢাকায় ছুটে যেতে চায়। ছেলেকে দেখতে। কিন্তু মোবাইলে ফোন করে একথা জানানোর পরে বাবাকেও ব্যস্ততার কথা বলে রোহান। বলে সে সারাদিন হোস্টেলের বাইরে থাকে। কাজের চাপে মাঝেমাঝে রাতেও ফেরে না। তাই বাবাকে ঢাকায় যেতে মানা করে দেয়। বলে দেয়, হাট থেকে যেন তাগড়া দেখে একটা ষাঁড় কেনা হয় কোরবানির জন্য। ঈদের দুদিন আগে বাড়ি ফেরে রোহান।

নান্দাইল বাজারে রোহানের পা পড়তে পড়তেই খবর ছড়িয়ে পড়ে ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে যাওয়া সদরুল আলমের পোলা আসছে। প্রতিবেশীরা তো বটেই, আশেপাশের গ্রাম থেকেও মানুষ আসতে থাকে রোহানকে দেখার জন্য। রোহান ছেলে থেকে মেয়ে হবার পর দেখতে কেমন হয়েছে, তার বিয়ে হবে কিনা, এসব নিয়ে কৌতূহল তাদের। সদরুল আলমের পরিবারের কেউ বাইরে বের হতে পারে না। দিনভর শতশত কৌতূহলী মানুষের চোখ খুঁজে ফেরে রোহানকে। মেয়ে হবার পর নাম কী রেখেছে, এ ব্যাপারেও নানা জনের নানা মত। ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ঈদের আগের বিকালে বাড়ির ফটকে রোহানকে জোর করে নিয়ে এসে মানুষজনকে দেখিয়ে সদরুল বলে, আমার ছেলে ছেলেই আছে। দেখছেন তো? তারপরও মানুষের বিশ্বাস হয় না। ভিড় থেকে একজন বলে ওঠে, ‘পেলাস্টিক সার্জারি কইরা ছেলের মতন সাইজা রইছে। বুঝি না মনে করছুইন? নয়ন ভাই বিদেশে দেখসে হ্যারে। বিদেশে পেলাস্টিক সার্জারি করবার গেসিল।’ অবিশ্বাস নিয়ে সদরুল আলম রোহানের দিকে তাকায়। এমন অসহায় পরিস্থিতে কখনও পড়তে হবে, রোহান কখনও কল্পনাও করতে পারে নি। বাবাকে কী বলবে বুঝে পায় না। সে যেন বোধহীন পাথর হয়ে গেছে। বাড়ির ভেতর যাবার পর বাবা-মা, ভাই-বোনকে সে বোঝায় এসব গুজব। কিন্তু ওদের চোখে-মুখে কেমন অবিশ্বাস! রোহান বলে, আচ্ছা তোমরা কি আমার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখছ? কোনো শারীরিক পরিবর্তন হইছে কি আমার? হয় নি তো। তাহলে এমন করার কারণ কী! তোমরাও যদি বাইরের মানুষের মতো করো! সদরুল স্ত্রী আর সিমি-রোকনের সামনেই বলে, কাপড় খুইলা দেখা!

লজ্জায় মাটিতে মিশে যায় রোহান। জন্মদাতা পিতাও গুজবের ডালপালায় নিজের বিশ্বাসকে পেঁচিয়ে ফেলেছে! অতিগুজব কখনো কখনো সত্যকে অজগরের মতো গিলে ফেলে তাহলে। রোহান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সন্ধ্যায় মা রান্নাঘরে, বাবা মসজিদে, ভাইবোনেরা নিজেদের ঈদ আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময়টাতে কাঁধব্যাগটা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে রোহান। কাউকে কিছু না বলে সে ঢাকার পথ ধরে।

—মামা, ও মামা, ভাত-তরকারি তো ঠাণ্ডা অইয়া গেছে। খাবেন না? হোটেল বন্ধ কইরা দিমু।

রোহান কোনো সাড়া দেয় না। আবারও ডাকে সস্তা রেস্তোরাঁর বয়। এবার কোনোভাবে রোহানের মুখ থেকে বের হয়, উঁ। রেস্তোরাঁর মালিক গামছায় চোখ-মুখ মুছতে মুছতে রোহানের কাছে এসে দাঁড়ায়। আলতো করে কপালে হাত রাখে। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। তার হুঁশ যায় যায় অবস্থা।

রুহুল মাহফুজ জয়

রুহুল মাহফুজ জয়

জন্ম ৩১ মার্চ ১৯৮৪, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক। পেশা : সাংবাদিকতা।

শিল্প-সাহিত্যের ওয়েবজিন শিরিষের ডালপালা’র সমন্বয়ক।

প্রকাশিত বই :
আত্মহত্যাপ্রবণ ক্ষুধাগুলো [কবিতা, ২০১৬, ঐতিহ্য]

ই-মেইল : the.poet.saint@gmail.com
রুহুল মাহফুজ জয়

Latest posts by রুহুল মাহফুজ জয় (see all)