হোম গদ্য গল্প লীলা রিরংসা

লীলা রিরংসা

লীলা রিরংসা
627
0

সাহসের সবটা নিয়েই ওস্তাদের ঘরে প্রবেশ করে ইদু। ফসিল খাটের উপর সটান-সোজা। বড় আয়েশি ভঙ্গিতে হাতজোড়া বালিশের পেছনে ছেড়ে, পা’দুখানাও বিছানার শেষ প্রান্তে ঠেকিয়ে দিয়েছে। যাতে কানা মানিকের পা টিপতে সুবিধা হয়। প্রত্যহ বাদ মাগরিব গলাসমান কেরুর সাথে দুই কলকি গাঁজা, মানে সিদ্ধিসেবা নেবার পর এভাবেই ওস্তাদ পিনিক নেয়। কানা মানিকের যত্নের পা টিপুনিতে সেই পিনিক আকাশে গিয়ে ঠেকে। এই সময় ডাকা বারণ, ডাকলে পিনিক ছুটে যায়। চড়-থাপ্পড়ের সাথে তখন মা-মাসি তুলে যে অশ্রাব্য খিস্তিবর্ষণ হয়, তা শুনলে কান হতে তাজা রক্ত উঁকি দেবে। উভয় সংকট এড়াতে বোবা ইঙ্গিতে কানা মানিকের সমর্থন চায় ইদু। এখনই বন্দোবস্ত না করলে ব্যাপারটা সাক্ষাৎ ক্ষত হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারচে বড় কথা, ফসিলের ডানহাত হয়ে থাকতে গেলে এইসব মামুলি ঝামেলার নিষ্পত্তি করে নিজের যোগ্যতাকে ধরে রাখতে চায় ইদু। এ মুহূর্তে কানা মানিকের এক চোখের ভাষায় রীতিমতো বিভ্রান্ত হচ্ছে। কারণ, বর্তমানে কানা চোখটা শব্দহীন ভাষা বিনিময়ে মারাত্মক এক বিপত্তি। এই তো মাসখানিক আগে লেনদেনে সামান্য হেরফের হওয়ায় পুলিশের দাবড়ানি সামাল দেবার প্রাক্কালে মানিকের ডান চোখে বাঁশের জিংলা ঢুকে ভবের খেলা সাঙ্গ হতে চলেছিল। তার আগে চোখের ভাষায় দিব্যি সব চালিয়ে নেয়া যেত। এখন তাই এক চোখের ভরসা না করে ইদু নিঃশব্দে খাটের মাঝামাঝি ফসিলের দেহ ঘেঁসে বসে। ডাকবে কি ডাকবে না এমন মনোদ্বন্দ্বের তোয়াক্কা না করে নিজেকে অর্ধেকের বেশি ঝুকিয়ে দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাসে মদের ঝাঁঝালো গন্ধ তীব্রতালে যাওয়া-আসা করছে। ঘামের স্যাঁতসেঁতে বগল-বন থেকে যে দুর্বিষহ দুর্গন্ধটা আসছে, সেটা রীতিমতো পাঁঠাগোত্রীয়—দুই’য়ে মিলে ইদুর নাকের পশম পুড়িয়ে দিতে চাইছে। ওস্তাদের বগলের দিকে দৃষ্টিপাত করলে জিওগ্রাফিতে দেখানো আমাজান অঞ্চলের ধারণা অর্জন অসম্ভব কিছু নয়। নির্ধারিত নরসুন্দরের ক্ষুর সুদীর্ঘ অলসতায় এতদিনে বিকল হয়েছে হয়তো! তা না হলে চুলের আগায় ক্ষেতের নাড়ার ন্যায় লালচে হয় কখনো? ইদুর স্পর্শমুহূর্তে কানা মানিক ভ্রূ আর কপাল কুঁচকে টিপুনির একটা হাত সরিয়ে এনে বাগড়া দেয়। কানা মানিকের ডান চোখ খোয়া গেছে তো কী হয়েছে, ব্যাটা বরাবরই তিন চোখের সমান দেখে। হুঁশ-জ্ঞান ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের চাইতেও এক ধাপ উপরে। তাই তো বাংলা মদের খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার বিশাল মহাল কড়ায়-গণ্ডায় হিশেব রাখতে ভুল করে না। অবস্থার প্রেক্ষিতে ব্যবস্থার সিদ্ধান্তে ইদু সময়ক্ষেপণ না করে ফসিলের বুকের ভিটায় শক্ত হাত রেখে মোলায়েম স্বরে ডাক দেয়।


আজকালকার পুলিশের অধিকাংশই ঠিক মানুষের বীর্যফল নয়।


—ওস্তাদ। ফসিল মালের পিনিকে দিশেহারা। বেহাল অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দেহ ত্যাগ করে আয়ুপাখি উড়াল দিয়েছে চিরতরে। কোনো সাড়া না পেয়ে আবারো ভীত হাতটায় বল প্রয়োগ করে পুনরায় চেষ্টা চালাতেই, মগডাল থেকে হঠাৎ মাটিতে নিপতিত হবার হতভম্ব কায়দায় তেতে ওঠে ফসিল।

—খানকীর পুত তর নানিরে চুদি, কতবার কইছি আমারে যহন-তহন ডিস্টাব করবি না।

—পেটলা হাবিলদার আইছে। আইজ হপ্তাবার, না করণ যাইব না। ঝামেলা অইতে পারে।

ইদুর সাবধানী কথায় ফসিলের অগ্নিরূপে তুষার ঝরে। চোখ মুদে কয়েকমিনিট চিন্তা চালায়।

—একশ টেকার একটা বান্ডিল দিয়া দে। আর কইবি, অছি সাবেবের লগে পরে আলাপ কইরা লমু।

ওস্তাদ-নির্দেশ শিরোধার্য। অপেক্ষমাণ হাবিলদারের হাতে টাকার বাণ্ডিল বুঝিয়ে দিয়ে ইদু তাড়াতাড়ি আপদ বিদায় করতে চাইছে। সেজন্য এক প্যাকেট বেনসন চুক্তির অতিরিক্ত নজরানা হিশেবে দেয়। পিকিত শব্দে একদলা পানের পিক ইদুর পায়ের কাছে ফেলে হাবিলদার। যার কয়েকটা ছিটা লুঙ্গিতে ঠাই নিয়েছে। পানমুখে চারটা হাজার টাকার নোট বের করে ইদুর সামনে ধরে।

—সবডি দেখতাছি জাল টেকা?

—আসল অইলে কি তরে কইতাম চালায়া দে।

ইদু জানে এর অন্যথা নেই। কদিন পরপরই পেটলা এই অকাম উদ্ধার করে। এভাবেই এই লাইন চালাতে হয়। সবারই কমবেশি সেটিং থাকা চাই। এই যেমন, আমি দেবো তার উপরে, যে পেলো সে দেবে তারও উপরে—এই প্রক্রিয়াতেই জগৎ ঘুরছে। তা না হলে মাফিয়াদের সাম্রাজ্য চলবে কোন তরিকায়? নকল টাকার বিপরীতে আসলের আরাম নিয়ে পেটলা হাবিলদার ভুঁড়ি দুলিয়ে, সিগারেট টানতে টানতে রাতের অন্ধকারে অদৃশ্য হতে থাকে। প্রস্থানের দিকে তাকিয়ে ইদু পুলিশ সম্পর্কে তার ভাবনার পুনঃযাচাই করে। আজকালকার পুলিশের অধিকাংশই ঠিক মানুষের বীর্যফল নয়। উকিল যদি শয়তানের প্রথম সন্তান হয়, পুলিশ নির্ঘাত যমজ সহোদর। পাড়ার ইসলামি জলসায় শুনেছে, শয়তানের বাস নরকে। তাই যদি হয়, তাহলে এই দুই জাতি জন্ম দিয়ে শয়তান নিশ্চয় শতভাগ গর্বিত। হঠাৎ পরিচিত শব্দের শুনানি কানে আসতেই পেছন ফিরে চায়। ফসিল খাঁড়া হয়ে এল সাইজের পাকা দালানটার পাশ ঘেঁষা বাঁশঝাড়ে জলবিয়োগ করছে। তলপেট পাতলা করে শিশ্নের ঝাঁকুনিতে তলানির অবশিষ্ট ফোটাগুলো আন্ডারওয়্যারে সঞ্চিত করে জিপার লাগাতে লাগাতে এগিয়ে আসে।

—ডাইকা ভালোই করছস। রাইতে একটা ভিআইপি চালান আইব।

—হের লাইগাই নয়ডার পর থাইকা বাংলা বেচা বন্ধ রাখছি।

—ঠিক,  বোয়াল ধরতে চাইলে পুঁটি ছাইড়া দেওন বালা।

—সাপ্লাই আসনের আর বেশি দেরি নাই।

—চোখকান খোলা রাখবি, পার্টি আইলেই কল মারিছ।

ইদু গোয়েন্দা নজরকে শাণিত করে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক যথাস্থানে পজিশন নেয়। এদিকে ফসিল বাঁশের মাচায় আধশোয়া আয়েশি ভঙ্গিতে সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করে ফুসফুস ভর্তি ধোয়া নিতে থাকে। খেদমতে জুড়ি নেই কানা মানিকের। কেরুর ছিপি খুলে পেগ ঢালে, কচি ডাবের পানি মিশিয়ে হাতে তুলে দেয়। ফসিল সিগারেটের ধোয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে শূন্যে উড়ায়, ফাঁকে ফাঁকে মদের মগে চুমুক মারে। কানা মানিককে আজকের বিক্রয় হিশাব চূড়ান্ত করার কর্ম চাপিয়ে বিদায় জানায়। ফসিল যখন একাকী সময় কাটায়, যখন পাকস্থলীর মদ রক্তে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে, তখন জীবন-যন্ত্রণার উপর্যুপরি চাপে উত্থানের পর্বগুলো স্মৃতির নষ্ট নেগেটিভে জ্যান্ত ছবি হয়ে জ্বলজ্বল করে। মেথরপট্টির অন্ধ-ঘৃণিত বাস্তবতা থেকে পালিয়ে, প্রায় পাঁচ বিঘা আয়তনের খাস এই বাঁশবনে আশ্রয় নিয়েছিল। শুরুর দিকে শুধুই গাঁজার পুরিয়া বিক্রি করত। আর তখন থেকেই জেলে যাতায়াত অনেকটা অবকাশ যাপনের নামান্তর। তবে ভীষণ ভুগিয়েছে লেদ মেশিনে দেশি ওয়ান শ্যুটার প্রস্তুতকালে—হাতেনাতে ধরা খাওয়ার অস্ত্র মামলাটি। আড়াই বছর হাজত খাটিয়ে, রীতিমতো কয়লা বানিয়ে ছেড়েছে। সুদীর্ঘ জেলবাসেই মূলত জীবন ও জগৎকে দেখেছে, চিনেছে, বুঝেছে। আজ, এতদূর পর্যন্ত আসার নেপথ্যে জেলশিক্ষাই মূল অনুপ্রেরণা, চালিকাশক্তি। হাজার হাজার পোক্ত বাঁশের সুবিশাল সাম্রাজ্য কায়দা-কানুন খাটিয়ে, ভূমি অফিসের কর্তাদের মুদ্রাপ্রেমে হাত করে নিজের নামে ৯৯ বছরের লিজ করিয়ে স্থায়ী আস্তানা গেড়েছে। সম্প্রতি আয়ের বহুপথ দিনকে দিন সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হচ্ছে। বাঁশবনের অদূরে মূল সড়কের ওপারে বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ডের শত শত শ্রমিক তার ব্যবসাকে রীতিমতো শিল্পে পরিণত করেছে। বাংলা মদ ও গাঁজার সচ্ছল বাণিজ্যের আড়ালে দু’একটা অস্ত্রের চালান হজম করতে পারলেই টাকা আর টাকা। গুনতে গুনতে অপারগ হলেও বিরক্ত লাগে না তখন। গুরুত্ব বিবেচনায় ফসিলের কাছে টাকা ২০, আল্লা ১৯! অন্যথা হলে কি আর কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সমাজের গণ্যমান্যদের কাতারে নাম লেখাতে পারত? অর্থ আর ক্ষমতার দাপটে এখন বাঘে-কুমিরে একঘাটে শুধু জলই পান করে না, স্নানও করে। ফসিলের কীর্তিকলাপে অতিষ্ঠ মহল্লার সচেতন যুবসমাজ একত্র হয়ে যখন মাদক-বিরোধী উদ্যোগ নিয়েছিল—তখনই সুযোগ বুঝে কমিটির আহ্বায়ককে খালাস করে বাঁশবনেরই কোথাও পুতে রেখেছে। কলি জমানায় টাকা থাকলে দিনকে রাত বানানো সামান্য ইচ্ছের বিষয় মাত্র। খুনের মামলায় কিভাবে ঘুণ ধরানো যায়—সে বিদ্যা জেল থেকেই রপ্ত করা উচ্চতর ডিগ্রির নামান্তর! সে বিচারে জেলকে তাই উন্নত অপরাধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জ্ঞান করে আসছে। যাপিত জীবনে তাই অসম্ভব বলে কোনো শব্দকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। মানুষের লাথি-গুতা, সমাজের নিরন্তর লানৎ সইতে সইতে ফসিলের শরীরের ২০৬ টা হাড়ও বেঁকে গেছে। সেহেতু নিজেকে রক্ষার জন্য সাক্ষাৎ পিচাশ হতেও ন্যূনতম আপত্তি নেই। ইদুর ফোন পেয়ে ফসিল স্মৃতিবলয় থেকে সমতলে নেমে আসে।

—কী অইছে?

—মাল নামছে ওস্তাদ!

—বুইজা লইয়া সোজা আমার ঘরে আয়া পর।

বিশাল চটের ব্যাগে ওজনের দায় এড়াতে ইদু ফসিলের ঘরে ঢুকেই বিছানার উপর মেশিনগুলো ঢেলে রাখে। হাতে নিয়ে ফসিল স্বর্ণালংকারের নিখুঁত মনোযোগে যাচাই করে। ছয়টা নাইন এম এম, তাও রাশিয়ান। সঙ্গে দুটো কাটা রাইফেল খণ্ডে খণ্ডে ভাগ করা। সেগুলো দক্ষ হাতে সেট করে নিশ্চয়তার চাপা উত্তেজনা উপভোগ করে। ভোরের আগেই হাতবদল হবে। আরেক হাতে যাওয়া মানেই অর্থরসে রাজা। মনে মনে বাঞ্ছা কুড়ায়—বিরোধীদল যত হরতাল ও আন্দোলনমুখী থাকবে, অস্ত্রের চাহিদা ততই বেগবান হবে। আগামীর বাড়ন্ত অবস্থা কল্পনা করে ইদুকে দায়িত্ব দেয় অস্ত্র মজুদের। ইদু যত্নসহকারে প্রতিটি মেশিনে পলেথিন পেচায়—জলতলে সংরক্ষণে কোন ক্রমেই যাতে পানির স্পর্শ না লাগে। তারপর সিমেন্টের বস্তায় ভরে অভ্যস্ত হাতে লাইলনের লম্বা দড়ির এক প্রান্ত দিয়ে গিট লাগিয়ে এঁদো ডোবায় নামিয়ে দেয়। অন্য প্রান্তটা একটা বাঁশের মূলে শক্ত করে বেঁধে রাখে। তাতে সময় মতো টেনে তুলতে সুবিধা হয়।

—চাইরদিকে নজর রাখিছ, ফজরের আজানের আগেই পার্টি আইব। সবসময় মনে রাখবি—ব্যবসা দুই নম্বর অইতে পারে, মাগার জবানে এক নম্বর থাকতে অইব।


শরীরে জ্বর ও ঝড় উঠলে ওদের ভেতর যাকে পছন্দ, তাকে দিয়ে জ্বালা মিটিয়ে চলছিল।


নির্দেশনা বাতলে দিয়ে ফসিল নিজের আত্মরক্ষার ফাইভ স্টারটা  কোমরের পেছনে স্থাপন করে সিগারেট ধরিয়ে সামনে পা বাড়ায়। ইদু জানে, ওস্তাদ এখন কোনো কর্মে মনোনিবেশ করবে। তাই কোনো কথা খরচ না করে মালঘরে এসে কানা মানিকের পাশে শুয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণে। মধ্যরাতের নীরবতা বাঁশবনে এসে আরও বেশি স্তব্ধ-গম্ভীর। ঝিঁঝিঁ পোকার নিরলস কর্কশ চিৎকার রাতের অস্তিত্বকে শাণিত করছে। জোনাকদল মাড়িয়ে, বাঁশপাতার ফাঁক দিয়ে পতনপ্রিয় গলিত জ্যোৎস্না পদদলিত করে, বাঁশবনের শুরুর দিকটায় এসে থমকে দাঁড়ায়। দৃষ্টিসীমার কাছেই ইট-পাথরের দু’তলা শাদা বাড়িটার মুখোমুখি দাঁড়ালে প্রতিবারই মনে হয়, তাজমহল দর্শন করছে। বাড়ির অভ্যন্তরে জাদুবিদ্যার প্রাণপাখি, যে কিনা অপরের বিবাহিতা স্ত্রী। স্বয়ং সেই নারীই ফসিলের স্বপ্নলোকে আশ্চর্যবোদক চিহ্ন হয়ে অধরা থাকতে চাইছে। এমন নারী বোধ হয় পৃথিবীতে একটিও নেই, যিনি কোনো বিবাহিত পুরুষকে ভালোবেসে সারাজীবন কুমারীত্ব অটুট রেখেছে। কিন্তু এমন পুরুষ ফসিল নিজেই, অন্যের নিজস্ব নারীকে ভালোবেসে দিন দিন বয়স বাড়াচ্ছে। শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে নতুন যৌনসেবিকা এলে সবার আগে ফসিলকে বিনোদন দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হয়। তাছাড়া বিদেশি হাওয়ায় প্রলুব্ধ হয়ে মহিলা কলেজ ছাত্রীদের একটা অংশ অর্থাভাব তাড়াতে এ লাইনে নাম লিখিয়েছে। শরীরে জ্বর ও ঝড় উঠলে ওদের ভেতর যাকে পছন্দ, তাকে দিয়ে জ্বালা মিটিয়ে চলছিল। কিন্তু মহিমা নামের রঙ্গিন মেয়েটি বছরখানিক আগে শাদা বাড়ির বউ হয়ে আসার পর থেকে ফসিলের নারী লিপ্সায় অবিশ্বাস্যভাবে ভাটা পড়েছে। প্রমাণস্বরূপ বিগত ছয় মাসে ভুলেও কাউতে উপগত হয় নি! কানা মানিক ও ইদুর কাছে এটি সীমাহীন চিন্তাজট! এই তো সেদিন দোল পূর্ণিমার আন্দোলিত রাতে ইদু গৌরবে মুখ রক্তিম করে বলেছিল—

—ওস্তাদ এক্কেরে কচি, ইনটেক একটা মাইয়ার তালাশ পাইছি। তুমি পারমিট দিলে খবর লাগাই।

—এহন থাইকা মাইয়া মাইনসের লগে আকামকুকাম তো দূরের কতা, চিন্তাও করবি না। কতাডা মনে রাখলে বালা থাকবি।

কোথাও কি কোনো ভুল হচ্ছে বা ভুল শুনেছে! খতিয়ে দেখতে ইদু কানা মানিকের চাইতে বেশি কৌতূহলী হয়ে ওঠে।

—ওস্তাদের যন্ত্রে কি কোনো পবলেম দেহা দিছে?

এমন অপৌরুষেয় সন্দেহে, রাগে ফসিলের জুতোর তলা পর্যন্ত গরম হয়ে ওঠে।

—হালার পো বেশি বকবক করলে তোগরেই লাগামু।

মহিমাকে দেখার পরমুহূর্ত থেকেই ফসিল লুণ্ঠিত, কায়মনোবাক্যে তার দাসত্ব বরণেও আপত্তি নেই কোনো। একাগ্র কল্পনার দশ দিগন্ত জুড়ে যে দিকে তাকায়, মহিমাই ঘুরে ফিরে আসে। অবিরাম জাদু দেখায়। ফসিল যুক্তিহীনভাবে নিশ্চিত, এমন নেয়ামত খোদা নিজ হাতে বানিয়েছে—যে চাইলে তূর পাহাড়কে আরও একবার জ্বালিয়ে দিতে সক্ষম! ধ্যানে-জ্ঞানে অহর্নিশ এটা ভেবেই আনন্দ কুড়ায়—মহিমার জন্মই হয়েছে শুধুমাত্র ফসিলের জন্য। হৃদয়দানের পর বুঝি এমনই হয়—প্রেমিকার সাক্ষাৎ দর্শনে ব্যর্থ হলে, বিকল্প হিশেবে তার বাড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতেও ভালো লাগে। ফসিলের প্রণয়চঞ্চল মনে ঠিক এমনই রমরমা অবস্থা। সহসা বাস্তবতা ঢেউ দিলে, কিংবা যখন ভাবে মহিমা পরস্ত্রী—তখন স্নায়ুতে মারাত্মক রক্তপাত হয়। প্রবল ঈর্ষায় বাড়ির চারপাশে পাগলপ্রায় পায়চারি করে। বুকজ্বলা ক্ষমাহীন বাড়ে, দীর্ঘশ্বাসে বিদীর্ণ হয় মন্থর রাত।

.
অস্ত্রচালান আশাতীত সফল। কড়কড়ে বাণ্ডিল মাদকতামিশ্রিত ঘ্রাণ বিতরণ করছে। যেন অচেনা কোনো গ্রহ থেকে এ ঘ্রাণ প্রেরিত হয়েছে শুধু ফসিলের নিমিত্তে। অত্র চালানে হাইকমান্ড বেজায় সন্তুষ্ট। খোদ কেন্দ্রীয় নেতার পি এস মোবাইলে আশ্বস্ত করেছে—ভবিষ্যতে আরও আধুনিক ও কার্যকরী আর্মস চাই। যার ফলে নির্ভার ফসিল, ফুরফুরে তার মেজাজ শরীফ। রাত্রি জাগরণের ক্লান্তি সকালের গাঢ় ঘুমে পুষিয়ে, চড়ুইস্নানের পর গায়ে বিদেশি সেন্ট মেখে, রেবনের কালো সানগ্লাস চোখে চাপিয়ে হাতলঅলা নরম চেয়ারে আসন পাতে। যেখান থেকে মহিমার বাড়ির পুরোটাই চোখের আয়ত্তে উপাদেয় থাকে। পাশাপাশি নিজের অবাধ বাণিজ্যেরও খেয়াল রাখা যায়। যদিও সেটার জন্য তার তিন যোগ্য উত্তরসূরিই যথেষ্ট। তবুও সবকিছু নিজের নখদর্পণে রাখা বুদ্ধিমানের, বিচক্ষণতার। দিনের বেলায় ফসিল মদ ও গাঁজার মোহ থেকে দূরে থাকে। শাস্ত্রে আছে—মদের নেশা মুখে, গাঁজার নেশা চোখে। মহিমার কাছে নিজের কদর বাড়াতে অধুনা এ ফন্দির আশ্রয় নিয়েছে। তাই ভিন্নধর্মী মজা লুটতে তিন বোতল ফেনসিডিল গিলেছে। ইদু ফ্লাস্কভর্তি অতিরিক্ত পরিমাণ দুধ-চিনির সমন্বয়ে তৈরি কড়া মিষ্টি চা রেখে গেছে। সেই সঙ্গে চকলেট, পানি ও পর্যাপ্ত সিগারেটের সুব্যবস্থা তো আছেই। ফেন্সি একখান জিনিস বটে! নিজে প্রকাশ না করলে অন্য কারো পক্ষে টের পাবার কোনো উপায়ই নেই। অথচ গায়েবি তরিকায় পিনিকের তুঙ্গে নাচায়! সিগারেট তখন কি পরিমাণ উপাদেয় হতে পারে, যে কোনোকালে চেখে দেখে নি, তাকে বোঝাবার সাধ্য ইহজগতের কোনো কুতুবের নাই! যাকে বলে স্বর্গীয়, ভদ্রলোকের নেশা! যার বশীকরণ ছলে ভারত প্রতিবছর সিরাপ মন্ত্রে হাজার-হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে! প্রাত্যহিক কর্তব্য পালনের অছিলায় ফসিল বাংলা সিনেমার আধুনিক নায়কের বেশে একটার পর একটা সিগারেট ধরায় আর ঠোঁট কালো করে। ফিলিংস সামান্য নিম্নগামী হলেই চা আর চকলেটের আদরে পূর্বাবস্থা চাঙ্গা রাখে। নিয়মিত, দায়িত্বশীল পাহারা প্রদানের ব্যত্যয় ঘটে না সাধারণত। ঘটলে জীবন থেকে যেন একদিনের আয়ু কমে যায়। ফসিলের সমস্ত ইন্দ্রিয় জুড়ে মহিমা নিত্য উদিত হয়, আবার অস্ত যায়। এমন কাল্পনিক উর্বর অবস্থায় সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে, হঠাৎ আধভেজা মহিমা ধোয়া কাপড় রোদে শুকাতে ছাদে ওঠে। ইত্যবসরে স্বল্প দূরত্বকে পোষ মানিয়ে মহিমার সুডৌল স্তনের উদ্ভাস, নাভি অঞ্চলের মসৃণতা, কোমরের বাঁকবিভূতি, নিতম্বের নন্দন আর সরে যাওয়া শাড়ির পাড়ের নিচে জঙ্ঘারূপ দেখে বিমোহিত! অবমুক্ত নরম ত্বকে রোদের ঝিলিক বাদামি উল্লাস সৃষ্টি করছে! যেখান থেকে নজর সরালে চোখের জ্যোতি হ্রাস পেতে পারে। অপলক ফসিল ক্রমবর্ধমান আলোড়িত, স্বপ্নডানায় উড্ডীন রতিপতি। আফসোসে হায়, অঙ্গ পুড়ে যায়! চোখাচোখি হতেই সময়ক্ষেপণ না করে মহিমা রাজ্যের বিরক্তি জড়ো করে পাঠিয়ে দেয় ফসিলের বেহায়া নজরে। কাজটা অপছন্দের হলেও ফসিল সেটা ধরে নেয় প্রেমের বিপরীত প্রশ্রয় হিশেবে। মহিমার দ্রুত প্রস্থানে তার গোপন মনোবাসনা চরিতার্থের আভাস খুঁজে। যতই ক্ষীণ হোক, কোনো সম্ভবনাকে অবহেলা করতে নারাজ ফসিল। কারণ, সুযোগ কখনো বলে-কয়ে আসে না। বসার আসন ছেড়ে বিড়াল পায়ে শাদা বাড়ির পশ্চিমে অবস্থান নেয়। ভরদুপুর, সর্বদিক সুনসান। প্রাচীর টপকে ঠিক স্নানঘরের ছোট্ট জানালার তলে ওঁত পেতে বদ নিয়তের বন্দনা চালায়। শাওয়ারের শব্দে আশান্বিত ফসিল শীর্ষ সতর্কতায় কাচের খোলা জানালায় পিপাসার চোখজোড়া স্থাপন করতেই, বিস্ময়ে নিজের ভেতর চৌচির হবার যোগাড়! স্নানকালে মেয়েরা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে জলের আরাম নেয়—ইতঃপূর্বে ধারণায় ছিল না। জলবিলাসে অঙ্গসমবায় কি অপূর্ব আসক্তির—যেন সহস্র ভোল্টের বিদ্যুৎ ঠিকরে আসছে! ফসিলের অন্ধ হতে আর যেন বাকি নেই! রক্তের শিরা-উপশিরায় উন্মাতাল বইছে কামঝড়। লালাঝরা কুকুরের আদলে তাই দৃশ্যমত্ত। মহিমা ঘুরে ঘুরে শাওয়ার নেয়ার একপর্যায়ে আচমকা ফসিলকে দেখে আঁতকে ওঠে। যতটা সম্ভব তোয়ালে দিয়ে লজ্জা ঢাকতে ঢাকতে নিজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

—অসভ্য, জানোয়ার, ইতর—তোর মা-বোন নেই!

তখনও ফসিলের দৃষ্টি কামনায় চকচক করছে।

—তোমারে যদি মা-বইন ভাবন লাগে, তাইলে বউ বানামু কারে?

অসভ্যতা আর সহ্য করতে পারে না মহিমা। লজ্জা ও ঘৃণায় মুখের জমাট থুতু ফসিলের মুখাবয়বে লেপটে দিয়ে সজোরে জানালাটা আটকে দেয়। তাতেও নিরাপত্তার অভাব অনুভূত হওয়ায় লজ্জা নিবারণের তোয়ালেটা বন্ধ কাচের সর্বনাশা জানালায় চাপিয়ে দিশেহারা গতিতে স্নানঘর থেকে বেরিয়ে এসেও নিজেকে সুরক্ষিত ভাবতে পারে না।


শিশ্ন চুইয়ে কয়েক ফোটা উষ্ণ নাপাক জল উরুতে নির্গত হবার মধ্য দিয়ে বার্তা রেখে দিলো।


কোনো প্রকার অঘটনভীতি বা আপত্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে নয়, বরং থুতু লেপনের কলংকিত, লাঞ্ছিত মুখ কেউ দেখে ফেলার আগেই ফসিল পলায়নপন্থায় নিজের ডেরায় আত্মগোপন করেছে। এই প্রথম অপমান-অপদস্ত হবার খেয়াল জেগেছে তার জংধরা বোধে। বেসিন লাগোয়া আয়নার মুখোমুখি দাঁড়াতেই ফসিল আবিষ্কার করল—চরম অভিশপ্ত, দণ্ডিত, বমি উদ্রেককারী আত্মপ্রতিবিম্বের দায়িত্ব নিয়ে কেউ একজন অবিরাম ধিক্কার দিয়ে যাচ্ছে। যাকে আগে দেখার সুযোগ ঘটে নি। পর্বতসমান অবজ্ঞা নিয়ে নির্বিকার, নতমুখ! ভেতরে ভেতরে ফুসে উঠছে গোখরার মেজাজ। এমনও হয় তাহলে, কঠিন দুঃসময়ে খুব তুচ্ছ বিষয়ের নিষ্প্রাণ প্রণোদনা ভয়াবহ কোনো দুর্ঘটনার সূত্র বহন করে! ইত্যানুসারে আরেকটি পুরনো ক্ষতের প্রদাহ বা প্রত্যাখ্যান ফসিলকে মারাত্মক ক্ষিপ্ত হবার কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। মহিমার জন্মদিনে বেনারসি পল্লী থেকে কিনে আনা সবচে দামি শাড়িটার সাথে কয়েকটা তাজা গোলাপ উপহার হিশেবে পাঠিয়েছিল। যথারীতি ইদু কলিং বেল চাপলে ঘটনাচক্রে মহিমাই দরজা খুলে অভেদ্য প্রতিরোধ গড়েছিল।

—ওস্তাদ আফনের লাইগা ফুলেল শুভেচ্ছা পাঠাইছে।

—তোদের ওস্তাদকে গিয়ে বলিস, ফুলের উপর আমি গু দেখতে পাচ্ছি।

অনুভূতির তাৎক্ষণিক প্রকাশ শুনে ইদুর শ্রবণশক্তি কমে আসছিল যেন! ঝাঁটার আঘাতে নাস্তানাবুদ হবার আগেই বুদ্ধি খাঁটিয়ে অক্ষত ফিরেছে। উভয় ঘটনার সহ্যাতীত অবমাননা ফসিলকে ক্রমাগত অখণ্ড আক্রোশের দিকে ধাবিত করছে।

—আগেই কইছিলাম বাগাইতে পারবা না। এহন তো ইজ্জতের চাক্কা পুরাই পানচার।

—ফসিল কী চিজ হেইডা জিন্দেগীতেও মালুম করবার পারবি না রে ইদু।

নজিরবিহীন অপমানের এমন ভয়াবহ পরিণতিতে যে কারো তছনছ হবার কথা! ফসিল তারও অধিক চূর্ণ-বিচূর্ণ! সর্বহারা! কলংকের কালিমা সরাতে সারা মুখে এলোপাথাড়ি পানির ঝাপটা নিতে থাকলে দেহের সন্মুখভাগ সম্পূর্ণ ভিজে যায়। ইদু তোয়ালে এগিয়ে দিলেও জল ছাড়াবার অনাগ্রহ নিয়ে বিনাবাক্যব্যয়ে নিজেকে বিছানায় ছেড়ে দেয়। কানা মানিক টিপা-খেদমতে নিয়োজিত হতে চাইলে উভয়কে ইশারায় স্থান ত্যাগের ধারাল আভাস দেয়। ফসিল নিজেকে একার সন্ন্যাসে নিয়ে যেতে চায়। বালিশের তলা হতে আরেকটা ফেন্সির ছিপি খুলে এক ঢোকে পেটে চালান করে, হাত-পা মেলে চিৎ-কায়দায় ঘূর্ণায়মান সিলিং ফ্যানের দিকে নিবিষ্ট-উদাস প্রাণে তাকিয়ে থাকে। উত্তেজনা দমাতে সিগারেটের আগুনে সিগারেট ধরায়। মহিমা বলে রক্ষা। অন্য কেউ হলে কসাইয়ের কারিশমায় ভাগা বসিয়ে ক্ষান্ত হতো এতক্ষণে। উত্তপ্ত মগজে আবেগি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পাত্র নয় ফসিল। একান্ত বোঝাপড়া চলছে চিন্তাকক্ষের পরিধি জুড়ে। উপযুক্ত বিহিত করতে না পারলে সাক্ষাৎ সাগরেদদের কাছে ইজ্জতের ছিটেফোঁটাও থাকবে না। নিজের করণীয় সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল উপস্থিত। এরই মধ্যে সিগারেটের গোটা প্যাকেট ছাই হয়েছে। সিদ্ধান্তের সাথে সিগারেটের নিশ্চয় কোনো সুগভীর সখ্য আছে। নতুন প্যাকেট খুলে অগ্নিসংযোগ করতেই সুরাহার সূচিমুখ যেন নিমিষেই উন্মোচিত হলো। ততক্ষণে নিজের ভেতর স্বাভাবিকতার শিহরন পুনরায় উজ্জীবিত হবার প্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো মূল্যে মহিমাকে দখল করাই হবে একমাত্র নিয়ত ও নিয়তি। সিদ্ধান্তটা বাস্তবায়নের চাপা উদ্দীপনা নিয়ে ফসিল বাইরের খোলা হাওয়ায় বেরিয়ে আসে। লম্বা, সরু পায়ে হাঁটতে হাঁটতে আবারো সেই সবুজবেষ্টিত চেয়ারের পাশে—যেখানে দাঁড়ালেই স্বর্গীয় তাজমহল বাড়ি। সন্ধ্যার ঠিক আগে মহিমা রাণীসাজ সেজে বরের বাহুতে নির্ভরতা রেখে ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি করছিল। এই অসহনীয় দৃশ্যটার পুনরাবৃত্তির বসন্ত ফসিলকে উন্মাদ করে দেয়। ঈর্ষাবিষে নীল হতে হতে প্রতিজ্ঞাপরায়ণ ফসিল তার একক প্রতিদ্বন্দ্বীর আসন্ন চিরবিদায় নিশ্চিত করার অব্যর্থ ছক সাজাতে থাকে।

.
বাংলা মদের মেইন ডিলারের গোডাউনে রেট পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমদানি বন্ধ। এমনিতেই ফসিলের মন-মর্জি ভালো যাচ্ছে না। তার উপর যদি ব্যবসায় ধ্বস নামে তো রক্ষা নেই! আপদের সাথে বিপদের আভাস টের পেয়ে, মহিমা দর্শন বা তাজমহল পাহারা থেকে আজকের মতো অব্যাহতি নিয়ে, নিজ আবাসনে ফিরে বিকল্প বুদ্ধি প্রয়োগ করে স্বার্থ হাসিলের উপায় খুঁজছে। ব্যবসা হোক বা না হোক, নিয়মমাফিক সাপ্তাহিক মাসোয়ারা জায়গায়-জায়গায় না দিতে পারলে জেলখানার মোটা শিক গুণতে হবে। থানা-পুলিশ টাকা ছাড়া পোষ মানে না। ছুতা পেলেই হয়, হাসতে-হাসতে হাতকড়া ঝুলিয়ে দেবে। কেবল ঘুষেই ওদের হুঁশ ফেরে! মাত্র এক ড্রাম বাংলা মজুত আছে। যা আগামীকালের চাহিদাসহ হিশেব কষলে নেহাত লোকসান। ফসিল প্রাথমিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়—ঝামেলা উৎরাতে প্রতি আউন্সে দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। এক’কে কোনোভাবে দুইড্রামে চালিয়ে নিতে পারলেই কেল্লা ফতে! মানে, বাড়তি আরেকদিনের আগাম বিপত্তি মোকাবেলার পন্থা আবিষ্কার! উপায় অবশ্য একটা বার করে ফেলেছে! কথায় আছে না, শয়তানের মগজ বারো দিকে সমান খেলে! ফসিল তো এ বিদ্যায় পরীক্ষিত প্ল্যান-মাস্টার! এখন তাই বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়া বাঞ্ছনীয়! বিলম্ব না করে নিজ কামরার ইউরেনাল খুলে কোণার হল-সাইজ ঘরটায় যেখানে রোজ ৮/১০টা মদ্যপান ও কলকির আসর একতালে চলে। কার্পেট বিছানো সাজানো অংশটা জুয়ারুদের দখলে শেষ রাতেও সরব থাকে। বোর্ড প্রতি নগদ অর্জিত থোপ মানেই বিনা পুঁজির অঢেল-কাঁচা টাকা আয়! জুয়ার সার্বিক দায়-দায়িত্ব সামাল দেয় পিস্তল মোহন। ফসিলের গোপন অব্যর্থ শক্তি, বিশ্বস্ত ক্যাডার। পুলিশের টপ লিস্টে কয়েক বছর ধরেই প্রথম স্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে! অচিন্তনীয় ঘুপিয়া মাল! দুইহাতে আঙুল মাত্র আড়াইটা। ওই আড়াই দিয়েই হেন কোনো অকাম নাই যে করে নাই! মোহনের বিকলাঙ্গ হস্তদ্বয়ের আড়াই আঙুলেই সব রহস্যের সূতিকাগার, অসম্ভবের সম্ভব! বড়-ছোট প্রায় সব মামলায় জামিন নিয়েছে আইনের এই দুর্বলতা ও অছিলায়। কারণ, আদালতে বহুবার বিজ্ঞানসম্মতভাবে একথা প্রমাণিত হয়েছে—যে লোক নিজের শার্টের সামান্য বোতামটাও লাগাতে অক্ষম, সে কোনো প্রকার অস্ত্রের দ্বারা খুন-জখম-জাতীয় অপরাধ সংঘটিত করার ক্ষমতা রাখে না। বরং জামিন না পাওয়াটাই তখন আইনের অবমাননা, উল্টো মানবাধিকার লঙ্ঘন হিশেবে বিবেচিত হয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি হয়। রতনে রতন চেনে—প্রবাদের যথার্থতা মেলে জেলবাসে ফসিলের সাথে পিস্তল মোহনের পরিচয় পরবর্তী সখ্যতায়। টাইফয়েডে আক্রান্ত অবস্থায় যখন যমদূতের ছায়া দেখেছিল। হাড্ডিসার দেহ, অঙের অসাড়তায় প্রাণবায়ু যায় যায় দুঃসময়ের অপ্রত্যাশিত ক্ষণে। দূরদর্শী ফসিল নিজের টাকা খরচ করে চিকিৎসাসহ সব রাজকীয় প্রয়োজন মিটিয়ে পিস্তল মোহনকে ভাইয়ের মর্যাদায় আরোগ্য এবং জামিনেরও ব্যবস্থা করে চিরঋণী-রোবট বানিয়ে রেখেছে। জুয়ার টাটকা আয়ের তিন ভাগের এক ভাগ পুলিশের, আর দুইভাগে সমবণ্টন ফসিল ও মোহনে। তুলনায় অকাট জল্লাদ হলেও একটা কঠিন নীতি আছে পিস্তল মোহনের—দুনিয়া লিখে দিলেও নারী-শিশু বিষয়ক কোনো জটিলতায় রাজি করানো তো দূরে থাক, প্রস্তাব দিলেও বুলেট বসিয়ে দিতে পারে। তো সেই ঘরের সুবিধা মতো জায়গায় স্থাপণ কাজ চলতে থাকে। মাঝখানের ঘরটা মালখানা হওয়াতে সুবিধার সবটাই সানন্দে নিতে পারছে। দেয়ালের নিচের দিকে ইউরেনাল বরাবর ড্রিল মেশিনে ছেদা করে প্লাস্টিকের পাইপ সংযুক্ত করে, আরেক প্রান্ত খালি ড্রামের ভেতর নামিয়ে চিন্তামুক্ত হয়। আসরের ওয়াক্ত থেকেই শ্রমিক শ্রেণির গাঁজা সেবনকারীরা উপস্থিতি বাড়াতে থাকে। কানা মানিক আগতদের কানে ওস্তাদের হুকুম তুলে দিতে ভুল করে না—যত্রতত্র মূত্র ত্যাগ পরিহার করে এখন থেকে সবাই যেন এই ইউরেনাল ব্যবহার করে। ভুলবশত হয়ে গেলে নগদ জরিমানা গুণতে হবে বলে হুশিয়ারি শোনায়। কলকির টানের সাথে পালা করে গঞ্জিকাসেবীদের পানির পিপাসা বেগবান হওয়াই স্বাভাবিক। সাধারণ চাহিদার মাত্রা তখন তুলনামূলক দুই-তিন গুণ বৃদ্ধি পায়। আসরপ্রতি দুই ডজন করে টেস্টি স্যালাইন বাড়তি মহব্বতের নমুনা হিশেবে প্রেরণ করা হয়েছে। মহোৎসব শুরু। ফ্রি পেলে বাঙালি আলকাতরাও খায়—সেখানে টেস্টি স্যালাইনের কদর পেয়ে যখন-তখন গলা ভেজায়। কানা মানিক অগণিত সবাইকে ব্যস্ত রাখার কর্মে নিয়োজিত। অন্যদিকে ইদু আর ফসিল মালঘরে মূত্র উৎপাদন দেখে আত্মহারা! গামছায় মুখ পেচিয়ে, দুহাত গ্লাভসে ঢুকিয়ে ইদু ফর্মুলা অনুযায়ী গণমূত্র ও সোডাপানির মিশ্রণ দিয়ে চলে। চলমান আহরণ প্রক্রিয়ায় বিশ লিটারের দাগটা ছুঁলেই, তার সঙ্গে যুক্ত হয় স্টকে থাকা একমাত্র ড্রামের খাঁটি বাংলা মদের বিশ লিটার। এভাবেই বিশকে চল্লিশ লিটারে উন্নীত করছে। রাত ৮টার আগে কোনোভাবেই মদের কাউন্টার খোলা হবে না। নেশার ক্ষেত্রে কৃত্তিম সংকট তৈরি করা মানেই, খায়েশ মতো ভোক্তার নিকট হতে অর্থমূল্য আদায়ে সমর্থ হওয়া। ওস্তাদের উপস্থিত বুদ্ধির অভাবনীয় সাফল্য দেখে ইদু গদগদ ভাব নিয়ে কদমবুসি করে।

—বহুত মরদ দেখছি জীবনে, তুমি ওস্তাদ একখান জিনিস!

—কতা কম, কাম বেশি। বাতাসেরও হুনছি কান আছে।

ইদু গলার স্বর নিচুতে নামিয়ে, ফিসফিসে গলায় জানতে চায়—

—আরেকটা ব্যাপার ভাবছ ওস্তাদ, মুতের লগে বাংলা খাইয়া কেউ মইরা গেলে তো কেইস খাওন লাগব?

—যে মরার হে মরব, কার কী? আমার দরকার টেকা।

ওস্তাদ-সাগরেদের সাবধানী কথোপকথনের একপর্যায়ে নারী-পুরুষের সম্মিলিত আহাজারিতে ফসিলের কান খাড়া হয়। বিলাপ ধ্বনি আশপাশ থেকেই আসছে। তাজমহলে কিছু হয় নি তো? আশংকাগ্রস্ত ফসিল দিন-দুনিয়া ভুলে মালঘর হতে বাইরে বেরিয়ে আসে। লোক সমাগম বাড়ছে তাজমহলের বন্ধ সদর দরজায়। দুর্ভাবনার উঠানামা টের পাচ্ছে নিজের ভেতর। জনমনে একথা-সেকথা চালাচালি হচ্ছে। কয়েক মিনিট জোরাল চেষ্টা করেও সত্যাসত্য কিছুই উদ্ধার করতে পারল না। তবুও মূল ফটকের সামনে অনড় দাঁড়িয়ে থাকে। এমতাবস্থায় বয়স্ক এক মহিলা রিকশা থেকে নেমেই দৌড়ে লোহার দরজার সামনে এসে সন্তাপ করতে থাকে। ওরা আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে বাঁচতে দিলো না—বিলাপ করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মহিমা নেই! অযাচিত দুঃসংবাদটা শুনতেই ফসিল কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারছে না নিজেরে। কী করে সম্ভব? অদ্যকার বিকেলে যাকে সুখোচ্ছল দেখেছে—সে কিনা এখন মৃত! অপ্রস্তুত দেহের ভার কিছুতেই সামলাতে পারছে না আর। কেউ যেন তার কলিজা টেনে ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। যার উৎপীড়ন থেকে নিস্তারের বিন্দু পরিমাণ সুযোগ নেই। মহিমার আকস্মিক মৃত্যু খবরে স্তব্ধ ফসিলের স্নায়ুতে অনর্গল বিগ্রহ হচ্ছে। অন্যদিকে সন্দেহের প্রবল চাপে টিকতে না পেরে রুদ্ধশ্বাসে নিজেকে গৃহে ফিরিয়ে এনেছে। ওস্তাদের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ইদু দ্রুতলয়ে গাঁজার আসর ভেঙ্গে দেয়। নীড়ে ফিরছে মাগরিবের পাখিরা। বাঁশবাগানের গোমরানো সন্ধ্যা রাত্রির আকার নিতে উদ্‌গ্রীব। অস্ফুট ব্যথার গোঙানি আর দীর্ঘশ্বাসগুলো চার দেয়ালে বাধা পেয়ে তারই ভেতর আরও সজোরে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ছিপি খুলে ক্ষুধার্ত শিশুর আবেগে এক চুমুকে আধা বোতলে নামিয়ে আনে কেরুর ফ্যামিলিসাইজ বোতলটা। বিছানা ও মেঝেতে গড়াগড়ি খায় বেসামাল। ব্যথাবিষে কুঁকড়ে ওঠে, আবার মদের বোতলে চুমুক বসায়। কান্নার নোনাবহর আটকাতে পারছে না কিছুতেই। সময় সামনে গড়ায়। সমগতিতে বাড়ে যন্ত্রণার ডালপালা। বাদ এশা—ইদু সংবাদ বয়ে আনে মহিমার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তরিঘড়ি উপায়ে লাশ দাফনের বিষয়টিই প্রমাণ করে মহিমার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক পরিণতির ছিল না। না—আত্মচিৎকারে আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে তুলছে। কম্পিত হাতে খালি হয়ে আসা বোতলটা ইদুর দিকে ছুঁড়ে নতুন বোতলের তালাশ করে। লোড সামলাতে না পারলেই ঘুমিয়ে পড়বে—এমন আশা নিয়ে ইদু এবার নিজ হাতে আরেকটি নতুন বোতলের মুখ খুলে ফসিলের দিকে এগিয়ে যায়। তড় সইছে না ভঙ্গিতে ফসিল পুরো র গিলে চলছে। প্রলাপ বকছে বিরতিহীন। নিজেরই অজান্তে, নিজেকে পৌঁছে দিয়েছে বিকারগ্রস্তের অদেখা জগতে। নজিরবিহীন নেশায় টলায়মান শরীর নিয়ে ফসিল দাঁড়াতে চাইছে, হাতে অসমাপ্ত মদের বোতল। সর্বশক্তি নিয়োগ করে ইদুকে স্বরবিকৃত কণ্ঠে চেঁচিয়ে ডাকে।

—ঐ ইদু খানকির পুত, কই গেলি? ভয়ে জবাব দিতে ভুলে গিয়েছিল ইদু। দ্বিতীয় হুংকারের সাথে পোয়াখানিক মদ-বমি হয়ে ফসিলের বুকভাগ ভিজিয়ে দেয়।

—কও ওস্তাদ।

—কুদাল আর শাবল ল।

—রাইতের বেলা কুদাল-শাবল দিয়া কী অইব?

—যা কইতাছি হেইডা কর, নাইলে ফুডা কইরা ফালামু।


ফসিল ধারণাতীত পাশবিক, অত্যুগ্র কামার্ত! যৌনজলের একক পিপাসাপতি!


এ কথা বলেই কোমরের পেছনে রাখা ফাইভ স্টারটা হাতে নিয়ে তাক করে রাখে। ওস্তাদের মস্তিষ্কবিকৃত অগ্নিরূপ যে কোনো অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। তাই নিরুপায় কুদাল-শাবল হাতে তুলে ফসিলকে অনুসরণ করতে থাকে। রাতের জমাট অন্ধকার ভেদ করে, অসাড় দেহ টেনে-হিঁচড়ে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এক হাতে ফাইভ স্টার অন্য হাতে মদের বোতল। বাঁশবাগান পেরিয়ে, দক্ষিণের বিশাল তালদিঘির পাড় ঘেঁষে এলোপাথাড়ি পায়ে সামনে বাড়ে। অন্ধকারে মেঘলাগোয়া তালগাছগুলো দেখতে ভীষণ ভূতুরে আর দানবীয়। ভয়ে ইদুর সারা গা ছমছম করছে। উপায়হীনতার ক্ষমাহীন দাপটে কখন যে গোরস্থানে এসে পৌঁছেছে টেরই পায় নি, তাও আবার নাপাক শরীরে! ময়-মুরব্বীর মুখে শুনেছে, নাপাক শরীরে গোরস্থানে গমন করলে অঙ্গে পচন ধরে। ফসিল যেই-না মহিমার কবরের সামনে দাঁড়ায়, তখন ইদু ভয়ের নির্মম বাঁকে মূর্ছা যাবার উপক্রম। শিশ্ন চুইয়ে কয়েক ফোটা উষ্ণ নাপাক জল উরুতে নির্গত হবার মধ্য দিয়ে বার্তা রেখে দিলো।

—কবর খোঁড়।

—কী কও ওস্তাদ, আল্লার গজব নামবো!

—তর গজবের কপাল ঠাপাই, জলদি হাত চালা। নাইলে…।

স্নায়ু বিকল ফসিলের ঝাঁঝাল আদেশ উপেক্ষার কোনো পথ খোলা নেই। প্রাণ রক্ষার তাগিদে ইদু উপায়ন্তর না পেয়ে কবরের নরম মাটি কুদাল-শাবলে আলগা করতে থাকে। উপরের মাটি সরানোর পর কবরের উত্তর দিকটার চাটায়ের দুই হাত আন্দাজ কেটে সারি-সারি বাঁশের স্তরে পৌঁছালে হাতে কম্পন অনুভব করে। কয়েকটা শেয়ালের হঠাৎ ছুটে যাওয়া দেখার পর ইদুর পৃথিবীও শব্দহীন কাঁদছে, থরথর কাঁপছে। প্রবেশ পথ তৈরি হতেই ফসিল ধাক্কা দিয়ে ইদুকে সরিয়ে নারদের ক্ষিপ্রতায় কবরে নামে। মোক্ষম সুযোগ পেয়ে ইদু অঙ্গপচন ও আল্লাহ ভয়ে তাড়িত হয়ে লুঙ্গি তুলে দৌড়ে পালায়। ফসিলের মাতাল মাথায় খেলছে হননেচ্ছা, বর্বর বিক্ষিপ্ততা। মহিমার অধরের উদ্দীপক তিল, জঙ্ঘার বাদামি বিনোদন, গ্রীবার গৌরব, স্তনের সম্ভ্রান্ত চূড়া, মসৃণ তলপেট আর বিবস্ত্র স্নানের নন্দনদৃশ্যগুলো। মানসিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া, স্বপ্ন-অপ্রাপ্তির মিশ্র রসায়নে ফসিল ধারণাতীত পাশবিক, অত্যুগ্র কামার্ত! যৌনজলের একক পিপাসাপতি! মহিমার পক্ষ থেকেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই আজ! সেও যেন নিজেকে উৎসবের যোগ্য করে রঙ্গিন প্রশ্রয়ে প্রস্তুত রেখেছে! এই তো সেই সুবর্ণ তমিস্র রাত! ফসিল অন্য, ব্যাভিচারে বন্যবশ্য, সম্ভোগে নিমজ্জিত! কোমরের ক্রোধ হঠাৎ নিভে গেলে, জ্যোৎস্নার আলোয় নিজেকে দেখে চমকে ওঠে! কিছুটা স্বাভাবিক হতেই অবয়বহীন ভয়ের তাড়া সামলাতে ফিরতে উদ্যত হয়। মাথা উঁচিয়ে কবরের দু’পাশে হাতের নির্ভরতা রেখে নিজেকে যত দ্রুত সম্ভব উপরে উঠাতে চাইছে। কিন্তু পারে না। কেউ তার পা দুটো সজোরে টেনে ধরেছে!

অনন্ত সুজন

জন্ম ২৭ নভেম্বর ১৯৭৭; ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
শিক্ষা : স্নাতকোত্তর (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)। পেশা : লেখালিখি।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
পিপাসাপুস্তক
জেল সিরিজ
লাল টেলিগ্রাম
সন্ধ্যার অসমাপ্ত আগুন

সম্পদনা :
শূন্যের সাম্পান [প্রথম দশকের নির্বাচিত কবি ও কবিতা]
অনতিদীর্ঘিকা [প্রথম দশকের দীর্ঘ কবিতা সংকলন]

সম্পাদিত ছোটকাগজ : সুবিল

ই-মেইল : anantasujon77@gmail.com

Latest posts by অনন্ত সুজন (see all)