হোম গদ্য গল্প মেঘের ফোঁটা ও ঘাসফড়িং

মেঘের ফোঁটা ও ঘাসফড়িং

মেঘের ফোঁটা ও ঘাসফড়িং
1.41K
0

এই গল্পের প্রথমেই একজন জামাই ও একজন বউয়ের রহস্যজনক আচরণ চোখে পড়ার মতো। মেঘের দিন এলে জামাই হাসে আর হাসে; আর শীতের দিন কিংবা অন্য কোনো দিন ঘাসফড়িং উড়ে এলে বউ তা কুড়িয়ে নেয় শাড়ির আঁচলে অথবা লুকিয়ে ফেলে ওড়নার নিচে।

প্রথমেই মেঘের দাপাদাপির কথা। মেঘ আর মেঘ। এক একটা মেঘের ফোঁটা পড়ে মাটিতে আর সাথে সাথে এক একটা ফোঁটা ফুটকা হয়ে যায় এবং তা গড়িয়ে গড়িয়ে যায় ঢালুর দিকে।

বারান্দায় বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে জামাই এ দৃশ্য উপভোগ করে আর হাসে। বউ ঘর থেকে খেয়াল করে। মেঘ এলে মানুষটা এভাবে হাসে কেন? এত সুন্দর পরিবেশে বউ জামাইয়ের কাঁধে হাত রেখে দাঁড়ায় : মেঘ নামলে আপনে এমন কইরা হাসেন ক্যায়া?

প্রশ্নের জবাবে জামাই পুরনো উত্তরটাই দেয় : মেঘ নামলে আমি হাসি; কিন্তু সব দিন তো হাসি না; কোন দিন হাসি আর কোন দিন হাসি না তা যুদি কইতে পারো তাইলে আমি তোমারে ইস্মার্ট ফোন কিইন্না দেম।

কথা ঠিক। সব দিন হাসে না সে। দিনের বেলাতে মেঘ নামলে হাসে। কিন্তু তাও সব সময় না। তবে স্মার্ট ফোন পাবার কথা শুনে চনমনিয়ে ওঠে বউ। এ ধরনের প্রস্তাব বহুবার পেয়েছে সে; কিন্তু কোনো বারই এ রহস্য ভেদ করতে পারে নাই; তবু প্রত্যেক বারই একটা না একটা কারণ বলে দেয়।

আজও চিন্তা করে বউ। লিল্লার মাথা। এত চিন্তা আসে; কিন্তু এই চিন্তাটা আসে না কেন? তখন তার মাথায় একটা চিন্তা আসে : বুঝছি; যেদিন আপনে আমারে আদর করতে চাইন হেইদিন মেঘ এলে আপনে হাসেন।

বরাবরের মতো এ কারণ শুনে জামাই জোরে জোরে হাসে : পারতা না বউ; পারতা না তুমি।

এবার মেঘ নামে আরো। জমি-জমা ঘর-দুয়ার-উঠান ভেসে যেতে চায়। থই থই করে পানি। জামাই হাসতেই থাকে। বউ তাকায়া থাকে : মরার মরদ, এত হাসি আয়ে ক্যায়া তোমার? তোমার হাসির রহস্য আমি বাইর করতে না পারলে আমার নাম জোছনা বেগম না।


বউ আদর করা শুরু করে। জামাই আনন্দে টুসটুসে হয়। আজ এত আদর আসে; আহ্! কী মোলায়েম স্পর্শ। কী মধুর লেহন!


তের বছর ধরে এ হাসি দেখে আসছে সে। তের বছর ধরে শাসন করছে তাকে। তের বছর ধরে অনেক সহ্য করতে হয়েছে তাকে। এবার জেদ চাপে। আর না। এবার কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু তার মতো সাধারণ বউ কী আর করতে পারে কিংবা করবে? তবু একটা উপায় বের করতে হবে।

বউ বারান্দায় বসে বসে ভাবে। একটা মোক্ষম সময় দরকার। অনেক চিন্তা করে একটা মোক্ষম সময় বের করে বউ। তিন দিন শরীর খারাপ থাকার পর আজ কাপড় ধুয়েছে সে। তার উপর আজ মেঘের দিন। ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব সবখানে। এ সুযোগটাই নিতে হবে।

নিশুতি রাতে আসমান থেকে টপটপ করে মেঘ নামে। কানে আসে আওড়াকাওড়া মেঘের দাপাদাপির শব্দ। টিনের চালের শব্দে মাতাল হয় তারা। বউ জামাইরে বিরাট চমক দেয়। বউয়ের সাজ দেখে জামাইয়ের চোখে আট্টাইশ লাগে। এত সুন্দর সাজ কোনো দিন সাজে নাই বউ। তার বউ সব সময় সুন্দর; কিন্তু আজকে তাকে লাগছে মায়াবী। নাকে আসে সুগন্ধি ফুলের গন্ধ। উতলা মন আরো উতলা হয়, বউকে বুকের মধ্যে ঢুকায়া ফেলতে ইচ্ছে করে।

জামাই গন্ধ নেয় মুখের; চুলের। আহ্! কী মাদকতা। এত সুন্দর রাতে বউ না থাকলে চলে না। এ কারণেই তসর দাদা গাইত : মেঘের রাইতে ঘুম আসে না যার; বউ না থাকলে পোড়া কপাল তার; বউ রাইখ্যা মেঘের রাইতে ঘুমায় যে মরদ; বউ কয় ধরলাম আমি বাপের বাড়ির পথ।

মেঘের রাতে বউদের পরি পরি লাগে। তারা বুকের মাঝে লুকাতে চায়। বাচ্চাদের মতো আচরণ করে। জামাই বউকে বুকের ভেতরে লুকায়া ফেলতে চায়।

বউ ভাবে, এ এক মোক্ষম সময়। এর চেয়ে মোক্ষম সময় আর হয় না। বুকটা টিপটিপ করে। সে তার পরিকল্পনা মতো কাজ শুরু করে। বড় নিষ্ঠুর এ কাজ। যে কাজে তাকেও পুড়তে হবে সমানভাবে। পুড়ুক সে; যত ইচ্ছে পুড়ুক; তবু তাকে জানতেই হবে রহস্যটা। তবু তাকে তার সন্দেহের মুখোমুখি হতে হবে।

বউ আদর করা শুরু করে। জামাই আনন্দে টুসটুসে হয়। আজ এত আদর আসে; আহ্! কী মোলায়েম স্পর্শ। কী মধুর লেহন! মরার সময় চলে ঘোড়ার গতিতে। আর সহ্য করা যায় না। আর ধরে রাখা যায় না।

মেঘ আরো ঘন হয়; মেঘ আরো মাতাল হয়। জামাইও আরো মাতাল হয়; আরো বেপরোয়া হয়। এক সময় বউয়ের বুকের উপরে চড়ে বসে। কিন্তু এত সুন্দর মুহূর্তেও বউ ছ্যাং ছ্যাং করে : নামেন আপনে; নামেন; আপনে আমারে ভালোবাসেন না।

বউ এক ধাক্কায় বুকের উপর থেকে নামিয়ে দেয়। জামাই এত আশ্চর্য হয় যে কতক্ষণ থুম মেরে বসে থাকে। নিমিষেই তার সারা শরীর মরা মানুষের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়।

কিছুক্ষণের মধ্যে তার বোধ ফিরে আসে এবং বউকে বোঝানোর চেষ্টা করে কত ভালোবাসে। কিন্তু কোনোভাবেই বউকে কাত করা যায় না। সোনার গহনা, দামি শাড়ি, মাসে মাসে পার্লারের খরচ, দামি মোবাইল কিনে দেয়ার আশ্বাসেও কাজ হয় না।

এক সময় জামাইয়ের মাথায় রক্ত ওঠে। জোর করে বউয়ের উপরে উঠতে চায়; বউ আবার ঝারা দিয়ে ফেলে দেয় তাকে : আগে আমারে কইবাইন কোন দিন আপনের হাসি আইয়ে আর কোন দিন আইয়ে না; না কইলে আমারে ধইরেন না।

জামাইয়ের মেজাজ ওঠে চাঙে। আরে শালা, বউ দেখি প্যাংসা ধরে।

মেঘ থামে। কানে আসে ব্যাঙের কোরাস। গরম লাগে। ভ্যাপসা গরম। কারেন্ট নাই। বাতাস দরকার। বাতাস। লিল্লার বাতাস কই। কোরাসের শব্দে কানে তালা লেগে যাবার অবস্থা। জামাই জেদে কিড়মিড় করে। জেদে কান গরম হয়ে ওঠে এবং শিশ্ন শক্ত হয়ে ওঠে। তাই বউকে আবারও ভোলানোর চেষ্টা করে সে। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে। কিন্তু বউ ভোলার জন্য আসে নাই আজ; মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনার জন্য আসে নাই। আবারও জোরাজুরি করলে বউ কিরা দেয় একটা : ঘরের বউয়ের সাথে মনের কথা কয় না যে; দিনেদুপুরে ঠাডা পইড়া মরুক সে।

এতেও কাজ হয় না। জামাই কিছুই বলে না। তবে তার জেদ আরো বাড়ে; কান গরম হয় আরো; শিশ্ন শক্ত হয় আরো : মরার বউ প্যাংসা ধরার টাইম পাইল না; লিল্লার মাগি; তোমার প্যাংসা দেখার জন্যে তোমারে বিয়া করছি নাকি? আয়; কাছে আয়; কাপড় খুল; আগে মাথাটা ঠান্ডা করি।

পুরুষ মানুষ হলে মাথা ঠান্ডা করতে হয়। মাথা গরম হয়ে গেলে পুরুষ মানুষ থাকতে পারে না। তাই তো তসর দাদা কইতো : পুরুষের পিরিতি তালপাতার মতন দপদপাইয়া জ্বলে রে; নারীর এ কী ধরন তুষের মতন ঘইষ্যা ঘইষ্যা পুড়ে রে।

শরীরে আগুন ধরে গেলে জামাই বউরে ঠেসে ধরে। বউ আর নড়তে পারে না; অনেক চেষ্টা করে; কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। জামাই দুই মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করে কুত্তার মতো হাঁপায়; কিন্তু তার শিশ্নে জ্বালাপোড়া শুরু হয়।

অন্ধকার ঘরে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। মোবাইলের আলোতে শিশ্ন দেখে জামাই; তাতে বিরাট এক আঁচড়, কলকল করে রক্ত ঝরছে।

বোঝা যায়, জোরাজুরি করার সময় বউয়ের নখের আঁচড় লেগেছে। বউও কাঁদতে থাকে। তার যোনিপথে রক্ত লেগে আছে। ব্যথায় টনটন করছে। মরার পুরুষ মানুষ এত খচ্চর হয়। তখন রাগে-ক্ষোভে শেষ কিরাটা দেয় বউ : ঘরের মানুষের সাথে লুকায় যে আপন কথা; তার বুকে বান দিলাম উঠব কইলজায় ব্যথা; রাসুলের দোহাই দিলাম দিলাম আল্লার কিরা; হাসরেতে ঠ্যাকা থাকব হইব মরণ-পীড়া।

জামাই রাগ করার সময় পায় না; সে তার শিশ্নের রক্ত বন্ধ করতে ব্যস্ত। ফুঁ দেয়, বাতাস দেয়, অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম লাগায়। রক্ত ঝরা বন্ধ হয়। বউ উপুড় হয়ে শুয়ে কাঁদতে থাকে। রাত শেষ হয়ে আসে, কারেন্ট আসে না।

এক সময় ভোর হয়। কিন্তু জামাই ঘর থেকে বেরুতে পারে না। খৎনা করানোর পরে বাচ্চারা যেভাবে হাত দিয়ে ধরে লুঙ্গি উঁচু করে হাঁটে তারও সেই অবস্থা।

জামাই-বউ কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তারা এক ঘরে ঘুমালেও কেউ কারো দিকে তাকায় না, কথা বলে না, কাছে আসে না।

একদিন ভরদুপুরে মেঘ নামে। বারান্দায় বসে জামাই হাসে। ঘর থেকে বউ তাকায়া থাকে। আস্তে আস্তে কাছে আসে। অনেক দিন পরে মেঘের দিনে সাধের বউকে কাছে পেয়ে জামাই খুশিতে আটখানা হয়।

বউ জামাইয়ের পিঠে বুক মিশিয়ে পেছন দিক দিয়ে জড়িয়ে ধরে। তখর গভীর এক আবেগ আসে জামাইয়ের, সে এই আবেগ ধরে রাখতে পারে না, যা মোমের মতো গলে গলে পড়ে। এত সাধের বউ তার। তাকে সে গোপন কথা বলে না।

একটু একটু করে রাত হয়; নিশুতি রাত। এক সময় তাদের বিরহের অবসান হওয়ার আয়োজন চলে। তখন জামাই আবেগ ধরে রাখতে পারে না। ইচ্ছে করে মেঘ ও ফুটকার রহস্য সব খুলে বলতে। যা হবার হবে; তাকে বলতে হবে। বউকে পেতে হলে তাকে সব বলতে হবে। তের বছরের রহস্যের অবসান দরকার। পরক্ষণেই মত পাল্টায় সে। না; বলা যাবে না। তবে একটা গল্প বলা শুরু করে সে :

তোমারে একটা গল্প কই বউ, এক দেশে ছিল দুই দোস্ত। এক্কেবারে নখ আর গোস্তের মতো সম্পর্ক। একজন আরেক জনকে ছাড়া খায় না, ঘুমায় না, কিচ্ছু করে না। তারা যেন দুই দেহের এক আত্মা। তারা এক সাথে বাজারে যায়। এক সাথে যাত্রা দেখে। এক সাথে মাছ ধরে।

একবার এক সাথে মাছ ধরতে বিলে যায়। বিলে এত মানুষ আসে। এত এত মাছ ধরা পড়ে। দুই দোস্তও মাছ ধরে, গজার মাছ, শৈল মাছ, বোয়াল মাছ। বিলের টানে একটা মেয়ে মানুষ তাদের দিকে তাকায়া থাকে। আল্লাহ দিলে মেয়েটা চান্দের মতন ফকফকা। বাতির শিসের মতন লাল। তখন দুই দোস্ত কাছে যায়। বাপের নাম জিগায়, দাদার নাম জিগায়। মেয়েটাও ক্যামন বাক্কুম বাক্কুম করে, তেলম তেলম করে বলে : আপনারা কোন গেরাম থেইকা আইছুইন।

দুই দোস্ত মাছের কথা ভুলে মেয়েটার দিকে তাকায়া তাকায়া বলে : আমরা বালিয়াপাড়া থেইকা আইছি।

এইভাবে তাদের আলাপ বাড়ে। যে বিলে হল্লা হয় তার টানেই এই মেয়ের বাড়ি। সে হল্লা দেখার জন্য আসছে। মাছ দেখার জন্য আসছে। মানুষ দেখার জন্য আসছে। দুই দোস্ত মেয়েটার সাথে আলাপ করে অনেক।

শেষমেশ তারা তাদের সব মাছ মেয়েটাকে দিয়া খালি হাতে বাড়ি ফিরে বলে : আইজকা হল্লা হয় নাই; আগামী মঙ্গলবারে হল্লা অইব।

মঙ্গলবারে দুই দোস্ত মেয়েটার সাথে দেখা করে। মেয়েটা থল থল করে। ইস, হাঁটার ঢং কত। চোখে-মুখে বাহারি ছন্দ। দুই দোস্ত একজন আরেক জনের দিকে চাওয়াচাওয়ি করে। দুই দোস্তÍই মেয়েটাকে পছন্দ করে ফেলে। আসলে এই মেয়েকে যে পছন্দ করবে-না হয় সে পুরুষ-না অথবা সে সাধু-সন্ন্যাসী। রক্ত মাংসের পুরুষ দেখা মাত্র মেয়েটাকে পেতে চাইবে। এত দিন মেয়েটা কেমনে টিকে আছে তা-ই এক রহস্য। শালার মেয়ে একটা। এক্কেবারে ঠাসা।


সুন্দর মেয়ে আল্লাহর দুনিয়াতে কমই আছে। রাজপুত্র দেখতে রাজপুত্রের চাইতে সুন্দর।


দুই দোস্তÍই মেয়েটাকে বিয়া করতে চায়। দুইজনই ঘটক পাঠায় মেয়ের বাড়িতে। যে দোস্তের গোলা ভরা ধান আছে, গোয়ালভরা গরু আছে, পুকুরভরা মাছ আছে, যার বাপ মাসে মাসে সুদের টাকা তুলে সেই দোস্তের সাথে মেয়েটার বিয়া ঠিক হয়। অন্য দোস্ত গুমরে গুমরে মরে। কিন্তু অন্য দোস্ত দোস্তের বিয়ার আগে-পিছে থাকে। দোস্তের বিয়াতে থাকতে হয়। না থাকলে চলে না। কিন্তু তার কী হবে? সে হারতে চায় না। শত্রুর কাছে হারা যায়; কিন্তু দোস্তের কাছে হারা যায় না। যেভাবেই হোক জিৎ চায় তার; জিৎ। কিন্তু তার মনের কথা কেউ জানতে পারে না।

বিয়া হওয়ার দুই মাস পরে এক মেঘের দিনে উত্তর পাড়ার ইস্কুল ঘরের মাঠে দুই দোস্তের দেখা হয়। ধারে কাছে ঘর নাই, বাড়ি নাই। উজাউড়া মাঠের চাইর পাশে ধান ক্ষেত আর ধান ক্ষেত। শুক্কুরবার ঠিক দুপুরে এই মাঠে মানুষ থাকে না। থাকার কথাও না। যে দোস্ত মেয়েটাকে বিয়া করতে পারে না যে দোস্তের হালের বদল নাই, বিঘা বিঘা ধান ক্ষেত নাই, পুকুর নাই সেই দোস্ত তার দোস্তের সামনে ভাড়াইট্টা ডাকাইত নিয়া খাড়ায় : দোস্ত তোমারে আইজ মাইরালায়াম; তোমারে দেখলে আমার শরীলে চুতরা পাতা খামছাইয়া ধরে; আমি কোনো দিন ইজ্জত পাই নাই; সব মানুষ তোমারে দাম দেয়; আমি কী দোষ করছি; সারাটা জীবন ছোট হইয়া থাকলাম; আমি গরিব বইলা তুমি আমারে দিয়া কত কিছু করাইলা; সব মাইন্না নিলাম; কিন্তু তুমি কিনা আমার পছন্দের মানুষটারেও কাইড়া নিলা; আইজ আমি তোমার জানডা কাইরা নেম।

দারুণ আক্রোশে এই দোস্তের চোখ দিয়া রক্ত বের হওয়ার মতন অবস্থা। ভাড়াইট্টা ডাকাইতরা আরেক দোস্তরে ধরে মাটিতে শুয়াইয়া দেয়। এই দোস্ত সিমারের মতন আরেক দোস্তের বুকের উপর চইড়া বসে রাম দা গলার উপরে ধরে। কবুতরের বাচ্চার মতন ছটফট করতে থাকে আরেক দোস্ত।

তখন আসমান থেকে পড়ে বড় বড় মেঘের ফোঁটা। মাটিতে পড়ার সাথে সাথে মেঘের ফোঁটাগুলি ফুটকা হইয়া যায়। আরেক দোস্ত চিল্লাইতে পারে না। সে অবাক হয়; এত বেশি অবাক হয় যে কিচ্ছু কইতে পারে না। তবু একবার আশেপাশে চোখ ঘুরায়। না; শুক্কুরবারের ঠিক দুপুরে উজাউড়া মাঠে একটা কাকপক্ষীও নাই। তখন তার চোখ থেকে গড়ায়া গড়ায়া পানি পড়ে, এই পানি মেঘের পানির সাথে মিশে যায়। তখন তার চোখে পড়ে ফুটকাগুলি। এই মাঠে ফুটকা ছাড়া তার আপন কেউ নাই। সে যখন বুঝতে পারে তার বাঁচার আর রাস্তা নাই তখন ধরা গলায় কয় : মেঘের ফুটকারে ফুটকা তরে সাক্ষী রাখলাম; তুই সাক্ষী দেইস।

কিছুদিনের মধ্যে সব ঠিক হইয়া যায়। চল্লিশা পার হওয়া সাথে সাথে মেয়েটাকে বিয়া করার জন্য পাগল হয় অন্য দোস্ত। বিধবা মেয়ে ঘরে রাখা বিপদ। কিন্তু পরির মতন সুন্দর হইলে মহাবিপদ। তাই মেয়েটার বাবা-মা এক দিনের মধ্যে বিয়া দিয়া দেয় অন্য দোস্তের সাথে।

বিয়া হওয়ার পরে তারা সুখে-শান্তিতে থাকতে থাকে। একদিন এক মেঘের দিনে অন্য দোস্ত মেঘের ফুটকা দেখে হাসে। বউ জিগায়, তুমি হাসো ক্যায়া? অন্য দোস্ত কয় না; তবে পরির মতন সুন্দর বউরের আবদার রাখতে হয়, বউরে আদর ললাইয়া কয় : শালা ভোদাইয়ের বাচ্চা; মওতের সময় এই মেঘের ফুটকারে সাক্ষী মানছিল, তুমিই কও বউ এই ফুটকা ক্যামনে সাক্ষী দিবো? এই ফুটকার না পাও আছে না চোখ আছে? না আছে কান, না আছে মুখ।

অন্য দোস্ত হাসে, হাসতে হাসতে ঢলে পড়ে। কিন্তু এক দিন তারা ঝগড়া লাগে এবং এই ঝগড়ার সময় বউ অন্য দোস্তরে ডর দেখায়; বাড়ির পাশ দিয়া যাওয়ার সময় কেউ একজন তাদের ঝগড়া শুনে ফেলে। এই গোপন কথা এক কান, দুই কান, তিন কান কইরা চলে যায় ফুটকারে সাক্ষী মানা আরেক দোস্তের ভাইদের কানে। আর যাস কই? অন্য দোস্ত যায় জেলহাজতে; ঝুলতে হয় ফাঁসির দড়িতে :

এই গল্প শোনার পরে বউয়ের খুব মন খারাপ হয় এবং খুব চিন্তার মধ্যে পড়ে। তার ভালোবাসার কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে স্বপ্নের রাজকুমারের কথা। অনেকক্ষণ থুম মেরে বসে থাকার পর বলে :

আমারও একটা গল্প আছে।

বউয়ের চোখমুখ শক্ত হয়ে ওঠে। অন্ধকার ঘরে ঘনঘন শ্বাসের শব্দ পাওয়া যায়। তখন বউ গল্প বলা শুরু করে :

আপনে আমারে একটা গল্প শুনাইছেন; এইবার আমি আপনারে একটা গল্প শুনাই; আমার গল্পের নাম কাঠুরেকন্যা ও রাজপুত্র। এক দেশে ছিল একটা কাঠুরেকন্যা আর একটা রাজপুত্র। কাঠুরেকন্যা ছিল বাতির শিসের মতন লাল। মাথার চুল পড়ত কোমর ছাড়াইয়া। এত সুন্দর মেয়ে আল্লাহর দুনিয়াতে কমই আছে। রাজপুত্র দেখতে রাজপুত্রের চাইতে সুন্দর। যেমন তার নাক তেমন চোখ, তেমন তার গায়ের রং। কিন্তু একদিন শিকার করতে গিয়া পথ হারাইয়া ফেলায় সে। পথ খুঁজে না পাইয়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। অনেক খোঁজার পরেও কোনো রাস্তা পায় না।

দেখতে দেখতে রাইত হইয়া যায়। ডরে কাঁপতে থাকে সে। একলা একলা এই বনের মধ্যে থাকা মানে মরণের সাথে ঘর-সংসার করা। আশেপাশে রাক্ষসক্ষুক্কস আর জন্তু-জানোয়ারের আস্তানা। রাজপুত্র ডরে পাগলের মতন দৌড়াইতে থাকে। এক সময় সাপের মতন প্যাঁচানো গাঙের কাছে একটা আগুন দেখতে পায়। এইবার আত্মায় পানি আসে। তখন সে একটা কুঁড়ে ঘর দেখতে পায়। এই ঘরটা একটা কাঠুরের। কাঠুরে সারা দিন কাঠ কেটে বাতির আজানের সময় কাঠ বিক্রি করে চাল-ডাল কিনে ঘরে ফিরে। কাঠুরের বউ নাই। অনেক আগেই বাঘের পেটে গেছে। তার আছে একটা মেয়ে। রাজপুত্র কাঠুরের কাছে আশ্রয় চায় এবং তার পরিচয় দেয়।

কাঠুরে ও কাঠুরেকন্যা সাধ্যমত সেবা-যত্ন করে। রাজপুত্র এক দৃষ্টিতে কাঠুরেকন্যার দিকে তাকায়া থাকে। কত রাজকন্যা দেখছে জীবনে; কিন্তু এই রকম বনের রাজকন্যা দেখে নাই। রাজপুত্র পাগল হইয়া যায়। কাঠুরেকন্যার বুকের ভিতরটাও উথালপাথাল করে। বাবা ছাড়া কোনো পুরুষ দেখে নাই জীবনে। পুরুষ মানুষ এত সুন্দর হয় তার জানা ছিল না। রাজপুত্র পরের দিন যাবার সময় কয় : আমি কাল আবার আসব।

পরের দিন কাঠুরে কাঠ কাটতে বনে গেলে তাদের দেখা হয় গাঙের পারে। তারা প্রজাপতির মতন উড়ে আর উড়ে। তারা একজন আরেক জনকে পরাণের চেয়ে বেশি ভালোবেসে ফেলে। প্রত্যেক দিন তাদের দেখা হয় গাঙের ঢালাতে। এত সুন্দর গাঙ। এত সুন্দর তার ঢাল। গাঙের ঢালের ঘাসগুলাতে বসলে তাদের মনে হয় মখমলের বিছানায় বসে রইছে। শুইলে মনে হয় ঘরের বিছানাতে শুয়ে রইছে। এত নিশ্চুপ জায়গা আল্লার চান্দের নিচে আর নাই।

তারা দুনিয়াতে থেকেও সুখ পায় বেহেশতের মতন। তারা কাছে আসতে আসতে এক সময় সঙ্গমে মিলিত হয়। প্রথম মিলনে কাঠুরেকন্যার শাদা পায়জামা রক্তে ডুবুডুবু হইয়া যায়। পায়জামা থেকে রক্ত চুয়ে মখমলের মতন ঘাসে লাগে, ঘাস থেকে মাটিতে লাগে, মাটি থেকে গাঙের পানিতে লাগে। গাঙের পানি রক্তের মতন লাল হইয়া যায়।

মাটিতে লেগে থাকা রক্ত, ঘাসের উপরে লেগে থাকা রক্ত শুকায় না। তখন ঝাঁকে ঝাঁকে ঘাসফড়িং উড়ে আইসা সেই রক্ত চেটে চেটে খায় এবং ঘাসগুলা আবার মখমলের বিছানার মতন মোলায়েম হয় এবং আগের মতন পবিত্র হইয়া যায়।

কিছুদিন পরে কাঠুরেকন্যার মাসিক বন্ধ হইয়া গেলে দরজা বন্ধ করে ফুঁপাইয়া কান্দে; কারণ,অনেক দিন ধরে রাজপুত্র আসে না। রাজপুত্রের সাথে তার দেখা হয় না। সে তার জন্য অপেক্ষা করে। না। নাই, রাজপুত্র নাই। কিন্তু তার মন মানতে চায় না। তার অন্তর দুরু দুরু করে। বাবার কাছে মিছা কথা কয়; কয় শরীর খারাপ। কিন্তু সে ঠিক মতো খায় না; দায় না; ঘুমায় না। বনের পাখির মতন ফাৎফাৎ করে তার পরাণ। খুলায় দেওয়া কৈ মাছের মতন ছ্যাৎ ছ্যাৎ করে তার আত্মা। মনে পড়ে কত কথা, কত সুখের কথা। এই গাঙ সাক্ষী। এই জমিন সাক্ষী। এই আসমান সাক্ষী। এই বাতাস সাক্ষী। এই বনের গাছপালা সাক্ষী। সে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায় আর বাবার মুখে শোনা গীত গায় : বন্ধুর জন্য পানি ভাঙলাম ভাঙলাম বনের কাঁটা; খোদাতালা লেইখা রাখছে আমার কপাল ফাঁটা; মন দিলাম দেহ দিলাম দিলাম পোড়া জীবন; বন্ধু আমার চায় যে দেহ চায় না আমার মন; বন্ধুর জন্য শেষ করলাম সাধের রূপ-যৌবন; বিধির বিধান আগে জানলে দিতাম না এ মন।

কিছু দিন পরে রাজপুত্র পাগলের মতন ছুইটা আসে। গাঙের পাড়ে যায়; কই, কাঠুরেকন্যা কই? গাঙে পানি নাই; পানির বদলে রক্তের স্রোত বায়া বায়া যায়। তখন রাজপুত্র অস্তির হইয়া ওঠে। কত পাপ করছে সে। আল্লাহ-বিল্লাহ করতে করতে এক সময় কাঠুরেকন্যার দেখা পায়। রাজপুত্র কাঠুরেকন্যাকে বিয়া করে রাজপ্রাসাদে নিয়া যায় এবং রাজারে কয় : এই মেয়েটা গোবিন্দপুর রাজ্যের রাজকন্যা।

রাজা ভাবে, তার রাজকুমার বিরাট এক বীর; কত সুন্দর রাজকন্যা জিতে এনেছে। কিন্তু এই রাজ্যের উজিরপুত্র কাঠুরেকন্যাকে দেখে তাজ্জব হইয়া যায়। এত সুন্দর কাঠুরেকন্যা। আহারে, সে ইচ্ছা করলেই এই কন্যাকে বিয়া করতে পারতো। কত বোকা সে। সাথে সাথে থেকেও একবারও দেখে নাই।

উজিরপুত্র আর রাজপুত্র একজন আরেক জনের জানের দোস্ত। কাঠুরেকন্যার সাথে দেখা করার সময় উজিরপুত্র সাথে যাইত। কিন্তু সে একটু দূরে থাকত বলে কন্যাটাকে কোনো দিন দেখে নাই। উজিরপুত্র নিজের উপর রাগ করে; মানুষ তাকে এত চালাক কয়; অথচ এইবার সে বোকার মতন কাজ করছে। এত সুন্দর কন্যা তার বউ না হলে সে কিসের চালাক? তাই সে পরিকল্পনা করে এবং ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়া একটা চিঠি লেখে রাজার কাছে। চিঠি পড়ে রাজা সব জানতে পারে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করে রাজা অনেক উত্তেজিত হয় এবং রাজপুত্রকে ত্যাজ্যপুত্র করে এবং তাদেরকে রাজপ্রাসাদ থেকে বের করে দেয়। রাজপুত্র ও কাঠুরেকন্যা বনে ফিরে আসে। কিছুদিন পরে রাজপুত্রও পুরোদমে কাঠুরে হইয়া যায়।

এক দিন রাজপুত্র কাঠ কাটতে গহিন বনে চলে যায়। আগে থেকে ওত পেতে থাকা উজিরপুত্র রাজপুত্রের বুকে বিষের ছুড়ি ঢুকাইয়া দেয়। রাজপুত্রের চোখে রাজ্যের আন্ধার নেমে আসে। বনের গাছপালা হায় হায় করতে থাকে। তখন ঝাঁকে ঝাঁকে ঘাসফড়িং উড়ে আসে। মাথা ঘুরতে ঘুরতে এক সময় ঘাসের উপর শুয়ে পড়ে রাজপুত্র।

একটা ঘাসফড়িং তার চোখের সামনে বসে। সে উজিরপুত্রকে অভিশাপ দেয় : আমার আব্বাহুজুর তোমার গর্দান নিবে; এই পাপের শাস্তি তুমি পাবেই পাবে।

রাজপুত্রকে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়ার পর রাজা শোকে বিছানায় পড়ে এবং রাজপুত্রকে খুঁজে আনার জন্য নির্দেশ দেয়। রাজার নির্দেশ মতন রাজপুত্রকে পাওয়া যায়; কিন্তু জীবিত না; মৃত। রাজপুত্র হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাজা প্রতিজ্ঞা করে; কিন্তু হত্যাকারীকে পাওয়া যায় না।

ওইদিকে উজিরপুত্র কাঠুরেকন্যাকে বিয়া করে সুখে-শান্তিতে ঘর-সংসার শুরু করে। কিন্তু বিয়ার আট মাস যাওয়ার আগেই কাঠুরেকন্যার ঘরে এক ছেলে হয়। এই ছেলে দেখতে হুবুহু রাজপুত্রের মতন। রাজপুত্রকে হত্যা করার পরে উজিরপুত্র স্বপ্নে ঘাসফড়িং দেখে; দেখে ঝাঁক বেঁধে ঘাসফড়িং তাকে ধাওয়া করে। ঘাসফড়িং দেখলে উজিরপুত্র আঁতকে ওঠে। কখনো কখনো দাঁত কিড়মিড় করে হাত দিয়া টিপে মেরে ফেলে অথবা পা দিয়া পিশে ফেলে। তার এই রকম আচরণ দেখে কাঠুরেকন্যার সন্দেহ হয় এবং তার কারণ জানতে চায়; কিন্তু উজিরপুত্র কয় কোনো কারণ নাই।


গল্পগুলো সত্যি না। সব বানানো গল্প। কিন্তু গল্পের অন্য দোস্ত ও উজিরপুত্রের পরিণামের কথা ভেবে আঁতকে ওঠে সে।


কাঠুরেকন্যা ঘাসফড়িং পাইলে আঁচলের নিচে ঢুকাইয়া রাখে। অথবা হাতে নিয়া গালে লাগায়। কাঠুরেকন্যার সন্দেহ বাড়তে থাকে। তাই সে উজিরপুত্রের সাথে অনেক মিল দেয় এবং তার কাছে ঘাসফড়িং সম্পর্কে জানতে চায়। কিন্তু চালাক উজিরপুত্র ঘাসফড়িং সম্পর্কে কিছু কয় না; অন্য একটা কাহিনি কয়। কাহিনিটা শুনে বুদ্ধিমতি কাঠুরেকন্যা সব বুঝে ফেলে এবং রাজাকে চিঠি লিখে সব কথা খুলে বলে।

রাজা অনুসন্ধান করে প্রমাণ পায় উজিরপুত্র কাঠুরেকন্যাকে বিয়া করে সুখে শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করছে। রাজা তার পুত্রঘাতকের পরিচয় পায় এবং উজিরপুত্রের গর্দান নেয়। কাঠুরেকন্যা রাজাকে কয় উজিরপুত্রের সাথে বিয়ার আট মাস পরে এই বাচ্চার জন্ম হয় এবং উজিরপুত্র যখন তাকে বিয়া করে তখন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল সে। রাজা তার পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়া সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। ওই যে একটা ম্যাচ আমার গল্প শেষ।

গল্প শোনার সময় অনেক ঘেমেছে জামাই। তার বউ তাকে এ গল্প শুনিয়েছে কেন? এটা কি তার গল্পের জবাব? নাকি এটি সাধারণ এক রূপকথা? বিরাট এক ভাবনার মধ্যে পড়ে সে। বউ কাঁদতে থাকে। তখন তারা একজন আরেক জনের দিকে সন্দেহ নিয়ে তাকায় এবং চোখ চাওয়াচাওয়ি করে বাকি রাত কাটিয়ে দেয়।

এক সময় ভোর হয়। পুবের জানালা দিয়ে আলোর ঝিলিক পড়ে বিছানায়। ক্লান্ত পায়ে ভর দিয়ে জামাই পাশের ঘরে যায়। তার ছেলে রাজকুমার। বারো বছর চার মাস বয়স। কী সুন্দর মুখের গড়ন। কী সুন্দর চোখ।

জামাই গভীর দৃষ্টি দিয়ে ছেলে রাজকুমারের দিকে তাকায়। যে রাজকুমারের জন্ম হয়েছে বিয়ে করার আট মাসের মধ্যে। যে রাজকুমার বাতির শিসের মতো লাল। যে রাজকুমার রাজপুত্রের মতো সুন্দর। যে রাজকুমারের নাম রেখেছে তার সাধের বউ। কিন্তু তার ভাবনা থেকে দুই দোস্তের গল্প, কাঠুরেকন্যা ও রাজপুত্রের গল্প সরে না।

না, গল্পগুলো সত্যি না। সব বানানো গল্প। কিন্তু গল্পের অন্য দোস্ত ও উজিরপুত্রের পরিণামের কথা ভেবে আঁতকে ওঠে সে।

মেহেদী ধ্রুব

কথাসাহিত্যিক। জন্ম ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯; বালিয়াপাড়া, শ্রীপুর, গাজীপুর, ঢাকা।

শিক্ষা : বিএ (অনার্স), এমএ (বাংলা), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

পেশা : প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, সিলেট ক্যাডেট কলেজ। ৩৬তম বিসিএস থেকে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত।

ইমেইল : mhdhruboknu1989@gmail.com

Latest posts by মেহেদী ধ্রুব (see all)