হোম গদ্য গল্প মাটির ঘ্রাণ

মাটির ঘ্রাণ

মাটির ঘ্রাণ
99
0

চোখ ডলতে ডলতে সাফা বারান্দার বেড়ায় হেলান দিয়ে বসে।  মনে মনে হিশাব করে, আজ মাঘ মাসের কত তারিখ। বাড়ির উত্তর দিকের গাছগুলাকে ঝাপটে ধরা কুয়াশার দিকে তাকিয়ে দিনের অনুমান করতে চায়। পারে না। চট করে ঘর থেকে মোবাইলটা এনে দেখে, ছয়টা একান্ন। ঘুম থেকে দেরিতে উঠার জন্য অবাক হলেও আজ সাফার আক্ষেপ হয় না। মাত্র দিন দুই আগে তার জমিগুলার ইরি আবাদ শেষ করেছে। এখন গরু-বাছুরের দিকে মন দিতে হবে। লোকে বলে,—ঘাসে বলদ, ভাতে মরদ। সাফার মনটা বেশ রমরমা হয়ে ওঠে। এবার সে ক্ষেতের ধরন মতো জাতে জাতে ধানও রুয়েছে। উত্তরের পাঁচ-কাঠা ক্ষেতটায় দিয়েছে বি, আর- ২৮। বড় চিকন ভাত হয়। তার বউ রোশনা মোটা চালের ভাত দেখলে খালি খুঁত খুঁত করে। আল্লায় চাইলে, এই এক ক্ষেতের ধানেই তাদের দু’জনের বছর উতরে যাবে। লাল তির মার্কা হাইব্রিড দিয়েছে দপ্তরিদের ভাইদের দুই ক্ষেতে। ন’বছর বয়েসে বাপের ভিজা লেংটি ধরে চাষবাস শুরু করেছিল। দ্যাখো এখনতক সে শুধু শিখছেই…।


এইডা বাঞ্জা। মাইয়া-মাগির শরীরের তড়-তাড় দ্যাইখ্যাই এইসব কওন যায়। আগের দিনের রাজাগোর দশটা-বিশটা রানী থাকত…। বাজান, তুই আরেকটা বিয়া কর।


সাফা ভাবে, চাষার শেখা তামাম জীবন। যদি সেই শিক্ষায় গলদ থাকে তাহলে তোমার মেইর ভেঙে পড়তে খুব বেশি দিন লাগবে না। বিশ কাঠা জমিনে সে শুধু গোবরই দিয়েছে কমপক্ষে সত্তর মণ। ইউরিয়া, টিসপি সাথে তাকে পটাশ সারও মাপ মতো দিতে হয়েছে। এখন ঘরে আছে মাত্র পাঁচ শ নব্বই টাকা! দুই সপ্তাহ পরেই জমিগুলাতে দিতে হবে এক ছিট ইউরিয়া সার। তা বাদে বেশ করে প্যাক ভেঙে দিতে হবে। পোকামারার বিষ, পানি জোগানোর ডিজেল…, বোশেখের আগে সে আর পিঠ সোজা করতে পারবে?

মনে মনে বরাদ্দ করে রেখেছে, টাকায় টান পড়লে সে কালা গাইটার বড় বাছুরটা বাজারে উঠাবে। সামনের তিনটা মাস অবশ্যই চোখের পলকে কেটে যাবে। কালা গাইটা গত চার বছরে তিনটা বাছুর দিয়েছে। ওটা তার হাতের গরু। বকনাটাকে পাল খাওয়ানোর তিন দিন পরেই সে রোশনাকে বিয়ে করে। অথচ রোশনার তলপেট এখনও বাগুন ক্ষেতের মাটির মতো ঠনঠনা। আর মাগি তাকে কথায় কথায় দোষে,—তোমার ফল নাই।

এই জাগাটায় এলেই সাফার সব হিশাব পালটে যায়! আর দ্যাখো বেলা দুপুর হয়ে যায় এখনও তার দেখা নাই। এই সাত-পাঁচ ভাবনার মাঝেই সাফা চেঁচিয়ে ওঠে,—চুতমারানি গ্যাছে কই?

দুনিয়াটা ভেটকি-মেরে আছে। বাইরে রোদের নাম-গন্ধ নাই। সাফা একটা আকিজ বিড়ি ধরায়। তার অনুমান, বউ টাট্টিতে গেছে। কোনোদিনও বউয়ের আগে সে ঘুম থেকে উঠতে পারে না। এই হারটুকু সে মানলেও তার মনের খুঁতখুঁতানি কাটে না। দ্বিতীয় বিড়িটা শেষ করে অধৈর্য হয়ে সে বউয়ের উদ্দেশে হাক মারে,—অহনও বাইরহস না? বউয়ের কোনো সাড়া না-পেয়ে তাকিয়ে দেখে, কুয়াশা-ভেজা বাতাসে টাট্টির ডালাটা দুলছে। এবার সে বদনা হাতে সেদিকেই হাঁটে। দ্যাখো মানুষটা কেমন একরোখা, বিলের ডহর থেকে যে একটার পর একটা বলকানো কুয়াশার তোড় তার বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে সেই জিনিস তার চোখে একটুও পড়ল না!

বিলপার থেকে পরিষ্কার হয়ে এসে, একগ্লাস পানি খেয়ে আবার বিড়ি ধরাতে ধরাতে রোশনাকে ডাকে,—চুতমারানি গ্যালো কই? বউকে সে এভাবেই তালাশ করে, সময় সময় মনের কথাও জানায়। রোশনা কিন্তু আসে না। তার বদলে পুব-উত্তর কোণা দিয়ে দলা দলা কুয়াশা উঠে এসে তার সারা উঠান দখল করে ফেলে!

বিলপার থেকে উঠে আসা বলকানো কুয়াশার দিকে তাকিয়ে সাফা ভাবে : গেল সপ্তাহেও তার মা এসে তার কানের কাছে ভগর ভগর করে গেছে,—আরেকটা বিয়া কর। এইডা বাঞ্জা। মাইয়া-মাগির শরীরের তড়-তাড় দ্যাইখ্যাই এইসব কওন যায়। আগের দিনের রাজাগোর দশটা-বিশটা রানী থাকত…। বাজান, তুই আরেকটা বিয়া কর। ঘরে যদি কেউ না থাহে, ত্যা আমি মরলে কব্বর দ্যায়া বাড়িত আইয়া কারে লইয়া বইবে?

সাফা মায়ের কথা মনে করে এখনও হাসছে। লাগা লাগা কয়টা বছর ভালো ফলন পেয়েছে। ফসলের দরও পেয়েছে মন্দ না। এতে তার একলা বাড়িটার লছনও ফিরেছে। এই সামান্যতেই মা তাকে রাজার সাথে তুলনা করে। মায়ের প্রতি দরদে সাফা বড় করে একটা শ্বাস ছাড়ে। মনে মনে চিন্তা করে, দুনিয়া কত বদলেছে, আর দ্যাখো তার বুড়ি মা এখনও শিশুই রয়ে গেল!

গতরের গামছাটা আরেকরটু টেনেটুনে ফের বিড়ি ধরাবার উদ্যোগ করে সাফা। ঠিক এই সময় দক্ষিণের শিমের মাচার নিচ দিয়ে খোকুনের দাদি তার ঘরের বারান্দায় উঠলে সে অবাক হয়। একে-ত শীত তার ওপর অত সকাল সকাল! বুড়ি ল্যাকপ্যাকে শরীরটা দলা-মচা করে তার চে’ একটু তফাতেই বসে,—তর বউ কই?
—মনে কয় বিলের ঘাডে গ্যাছে।

হুম… বলে বুড়ি মুখ ভ্যাটকায়। সাফা তাজ্জব হয়ে বুড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে। বুড়ির তোবড়ানো মুখে হাসির ছলে ভেংচি ফুটে আছে। তারপর কানাকানি করার ভঙ্গিতে বসে বসেই দুই কদম এগিয়ে আসে,—পচ্চিমপাড়ার সালাম হুনছি কইতাছে, তর বউ হাসু-ডাকাইতের লগে ঢাহার বাসে উঠছে।

সাফা বুড়ির দিকে মরার মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। জবানে কোনো ভাষা জোগাচ্ছে না। এদিকে চার চোখ মোকাবেলায় কথাটা বলতে পারার আরামে বুড়ির ঘোলা চোখ দুটো ঝিলমিল করছে। সাফা বুড়ির দিকে তাকিয়েই থাকে। কবে সে বুড়িকে কষ্ট দিয়েছে, একটুও মনে করতে পারছে না। বড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস আসলেও সে চেপে রাখে। এখনও বুড়ি কাঙাল চোখে তাকে পরখ করছে। আন্দাজ করতে চেষ্টা করছে, খবরটায় সাফা কতটা আঘাত পেয়েছে।


মামু মামু করে খচ্চরটা যে মামির নিচের জমিন চাষবাস করা শুরু করবে এই কথা সে স্বপ্নেও ভাবে নাই!


গত কয় মাস ধরে রোশনা খুব ছটফট করছিল,—তুমি আরেকটা বিয়া করো। দ্যাখবা বছর ঘুরতে না-ঘুরতেই পুত পাইছ। সাফা এখন নিশ্চিত, রোশনার মনে অন্য জিনিস ছিল। মেয়েলোকটা ধরেই নিয়েছিল, চেট বদলালে তার পেটে ছেলে আসবে। কিন্তু রহমানের ঠকঠকা বুড়া দাদা গত বছর তাকে কানে কানে বলেছিল,—যে মেয়েলোকের বুক লালটি বরণ আর বোঁটায় খয়েরির ওপরে লাল ছোপ থাকে, তার কোনো ফল নাই। একদিন খেয়াল কইরা দ্যাহিস। সে দেখেছিল। বুড়ার কথাই ঠিক। সেই হিশাবে রোশনা বাঁজা। তবু সে ধীরিক ধরেছিল,—খোদার মক্কর, ভাগ্যের চক্কর দিলে দিতেও পারে।

সাফার কোনো সাড়া নাই, প্রতিবাদ নাই। বরং মানুষটার শরীর-গতর একেবারে আংরা-কালা হয়ে উঠছে। বুড়ির কেমন ডরডর লাগে। মনে ফের সাহসও আসে। কানাকানির মতো করে বুড়ি আবার বলে,—বাসডাকাইত হাসু হুনছি অহন ঢাকার ছিনতাই দলে ভিড়ছে, রোজগারও নাকি মেলা। বুড়ির আলাপ চলতেই থাকে। কিন্তু ওপক্ষের কোনো সাড়া-শব্দ নাই দেখে বুড়ি সাফার চোখে নজর রাখে। মানুষটার চোখের শাদা জমিনের কোনাকানা লাল হয়ে যাচ্ছে। এবার বুড়ি সত্যিই ভড়কে যায়। রাওলের ষাঁড়ের মতন সাফার মন-মর্জি। ক্ষেপে গেলে তিনহাত লম্বা বলছিঁড়া দাও নিয়ে লাফ দিয়ে পড়বে।

—যাই রে…, বলে বুড়ি সাপের মতো শরীরের সাত প্যাঁচ খুলতে খুলতে দাঁড়ায়।

সাফাও উঠে। ঘরে গিয়ে তালাশ করে, রোশনা কী কী নিয়ে ভেগেছে। সামান্য কয়টা কাপড়চোপড় আর পাঁচ শ নব্বই টাকা। নিশ্চিত হয়ে বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এই বেদন কাউকে যে বোঝাবার নয়, আর কী করেই বা লোকেরে মুখ দেখায়! সে মনের আক্ষেপে ভিরভির করে,—চুতমারানি ঠাটা পইর‌্যা মরল না ক্যান।

সকালের দিকে সাফার ঘুমটা বুঝি লাল মাটির আঠালো কাদা হয়ে ওঠে। ছেড়েও ছাড়তে চায় না। এই ঘুমটাই আজ কাল হয়ে গেছে! প্রায়ই জেগে ওঠে সে দেখত, তার পড়শি ভাগ্নে হাসু বারান্দায় বসে বিড়ি টানছে। সকাল নাই বিকাল নাই মাগির পুত মামু… মামু ডাকতে ডাকতে তার একলা বাড়িটাতে এসে ডাট মতো বসে থাকত। মামু মামু করে খচ্চরটা যে মামির নিচের জমিন চাষবাস করা শুরু করবে এই কথা সে স্বপ্নেও ভাবে নাই!

বারান্দায় ফিরে এসে সাফা আরেকটা বিড়ি ধরায়। দুই টান দিতে না দিতেই রমিজ আর খুকোনের বাপ বারান্দায় ওঠে। সাফা শাদা চোখে তাকিয়ে থাকে। টু শব্দটা করে না। রমিজও এক পলক তাকে দেখে। খুকোনের বাপ বসেতে বসতে বলে,এইতা কী হুনি? সাফা গুম হয়ে বসেছিল, খুকোনের বাপের কথায় ফাৎ করে ওঠে,—কী বাল হুনঅ? ধমকে রমিজ থতমত খেয়ে খুকোনের বাপকে নিষেধ করে,—কাপড়ের তলের আলাপ বাতদেও চাচা।

আর কোনো আলাপই জমে না। বিড়িটিড়ি টেনে রমিজরা যাওয়ার একটু পরে সাফার বাড়ির মোটা বাতরটা কাপড়ের বিচিত্র রঙের চকমক করে ওঠে। তার মালুম হয়, সারা পশ্চিমপাড়াটাই ঝাঁক বেঁধে তার বাড়ির দিকে আসছে। এতক্ষণে তার চেতন হয়। সে নিজেকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে—বুচ্ছি, এইভাবে অইত না, বলতে বলতে সেও উঠানে নেমে পড়ে। আট বছরের খুকি থেকে নব্বই বছরের বুড়ি, সব তার বাড়ির দিকে পিঁপড়ার লাছি বেঁধে আসছে। সাফার আংরা-কালো মুখ তেঁতে ওঠে। সে ঠিক বুঝে গেছে, পাড়ার মানুষের কাছে তার বাড়িটা এখন চিনির গোদাম।

সাফা আর একটুও সবুর করে না। শাঁ করে এসে ঘরে ঢুকে বালছিঁড়া দা-টা খোঁজে লয়। একবার থমকে দাঁড়ায়। মনে পড়ে : তখন সবে তার শরীর তাও মেলছে। পাঁচ-ছ’ কাঠার ক্ষেত এক নাস্তার বেলাতেই হাল-মই দিয়ে আসতে পাড়ে। উঠতে-বসতে বড় ভাইয়ের সাথে তার ঠোকরা-ঠোকরি আগে থেকেই ছিল, শেষের দিকে যেন তা অসহ্য হয়ে ওঠে। শেষমেষ তার বাপ বলল,—তরা মুক্ষু জাহেল, কুত্তার অদম। এক বাড়িতে তগর সইব না। তুই উত্তরের কান্দাত্ যা। তখনই এই বাড়ির পত্তন। পয়লা পয়লা সে বিলপারের একলা বাড়িতে ভয় পেত। আর তখন সে ছাবু কামারের কাছ থেকে এই বালছিঁড়া দা-টা বানায়। মেলাদিন পরে আবার এখন বালছিঁড়া দা-টা তার কামে লাগবে!

কিছু বালু আর দা-ধারানিটা নিয়ে সাফা বারান্দায় ফিরে আসে। ধারানিতে মুঠি মুঠি বালু ফেলে, একমনে দা-টা ঘঁষে। পিলপিল করে মিছিলটা এসে শিমের মাচার নিচে দাঁড়িয়েছে। চোখ চিকন করে ওরা সাফার কির্তি দেখে। ময়লা-জঙ্গারের নিচে ঘুমিয়ে থাকা দা-য়ের আসল জিনিস, রাগি, দুখী মানুষটার প্রত্যেকটা ঘষায় ঘষায় ঝিলিক দিয়ে বেরিয়ে আসছে। এরা সবাই সাফাকে চিনে। তার মতিগতি কম-বেশি জানে। তাই টু শব্দটা না-করে ফের মোটা বাতর ধরে ফিরে যায়। সাফা দুখের মাঝেও হাসে,—হালার মানু, শক্তের ভক্ত, নরমের যম।

সাফা উঠে দাঁড়ায়। এখান থেকেই মিছিলটার ফিসফিসানি সে শুনতে পারছে। সবার ওপরে আবিদের বউয়ের গলা। বউটা কিসিঞ্জারের শেষ। ফোসলায়া ফোসলায়া আবিদরে মা-ভাইদের কাছ থেকে আলগা করছে। সারাপাড়া জুড়ে সুদে টাকা লাগায়। খরা-বাদলা নাই খালি বকম বকম করে। সাফা দেখে, ফিরতি পথেও সে সবার আগে। তারমানে সে-ই আঞ্জাম করে সবকটারে নিয়ে এসেছিল। তার হাত-পা, চাপা ও পা শক্ত হয়ে ওঠলে মনে মনে একটা গালিও দেয়।


এইবার সে মাটিবন্ন লমলমা পাত্রী খোঁজবে। যার বুক থেকে চাষ দেওয়া জমিনের মিষ্টি ঘ্রাণ উঠবে।


ঘরের বেড়ায় দা-টা ঠেস দিয়ে সে গোয়াল ঘরের দিকে ছুটে। গরুগুলা তাকে ডাকতে ডাকতে শেষ। দুই কদম যেতেই তার নাকে লাগে চাষ দেওয়া জমিনের মিষ্টি ঘ্রাণ। উত্তরের মাঠে গুমগুম করে ট্রাক্টর ছুটছে। হাঁটার মাঝেই সে মনটা স্থির করে ফেলে,—আর সুন্দর না; সুন্দরে বান্দর। এইবার সে মাটিবন্ন লমলমা পাত্রী খোঁজবে। যার বুক থেকে চাষ দেওয়া জমিনের মিষ্টি ঘ্রাণ উঠবে।

এবার সাফার হাঁটায় তার নিজস্ব ছন্দ ফিরে আসে। সে স্থির নিশানার মতো করে ভাবে : মাগি গ্যালে মাগি পাইমু কিন্তুক গরু…। সে গোয়ালঘরের কাছে এসে দাঁড়ায়। তার পিঠে মিঠা রোদের তিরতিরানি, সামনে লম্বা ছায়া। ছায়ার পাশে বাড়ির একমাত্র নিঃসঙ্গ কুকুরটাও এসে দাঁড়িয়েছে। তরমুজ লাল জিবখানা ল্যাচপ্যাচ করে অবলা জীবটা তার মনযোগাতে চাইছে।

সাফা দেখে, গরুগুলা হাঁক-ডাক বন্ধ করে দিয়ে ভোঁস ভোঁস করে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। সে এর মানে বুঝে। এদের আক্কল-ইশারা দেখে, আশপড়শি মানুষগুলার নোংরা নিষ্ঠুরতার কথা ফের মনে পড়ে। এতে শুধু কষ্টই বাড়ে। আজব অনুভবে হাত-পা লোলা হয়ে আসতে চায়। নিজের কাছে নিজেকে এক খণ্ড ছনবন মনে হয়। চোখ ফেটে জলও আসে। শত ভেবেও সে বোঝতে পাড়ে না,—মানুষের মন ক্যানে অত নিচা!

শেখ লুৎফর

জন্ম ১৯৬৬, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
স্নাতক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : শিক্ষকতা।

প্রকাশিত বই :
গল্প—
উল্টারথে [ঐতিহ্য, ২০০৮]
ভাতবউ [ঐতিহ্য, ২০১৩]

উপন্যাস—
আত্মজীবনের দিবারাত্রি [ঐতিহ্য, ২০১০]

কিশোর উপন্যাস—
সুতিয়া নদীর বাঁকে [রূপসি বাংলা, ২০১৪]

ই-মেইল : sheikh.lutfor32@gmail.com

Latest posts by শেখ লুৎফর (see all)