ভ্রূণ

ভ্রূণ
445
0

আজও টের পেলাম তুমি আছ। অনন্ত এক শূন্যতা থেকে আসা আমার গহ্বরে তোমার জীবন গঠন চলছে। এখন আমার অস্তিত্বের একটা অংশ তুমি। সীমাহীন চাওয়ার এ পাওয়া আমাকে আনন্দ দেয়, আশান্বিত করে। শূন্যতার মাঝে কাব্যিকময় এ পরিপূর্ণতা প্রত্যাশাতীত, অভূতপূর্ব। তাই বলে মা এখনই তোমাকে দেখতে ব্যাকুল নই। তোমার শরীর যে এখনও পূর্ণতা পায় নি। পত্রিকা, বই এবং ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে যেটুকু বুঝেছি, চোখ, মেরুদণ্ডসহ শরীরের অনেক উপাদানের চিহ্ন-ই তোমাতে দেখা দিতে আরম্ভ করেছে। হৃদযন্ত্রের অস্তিত্ব হয়তো প্রবল তবে তুমি ছেলে না মেয়ে তা এ অবস্থাতেও বোঝার উপায় নেই। যদিও তোমার লিঙ্গ নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথাও নেই। আমি জানি তুমি ভবিষ্যতে একজন মানুষ হবে। ছেলে হলেও আমার সন্তান, মেয়ে হলেও তাই। নির্দিষ্ট একজনকে কামনা করে তোমার আমিত্বকে ছোট করতে চাই না, তোমার বাবাও তাই বলে।

জেনে রেখ, আমি কঠোর মানসিকতার নারীবাদীদের মতো তোমাকে শুধুমাত্র মেয়ে হিশেবে পেতে চাই না। যে নিউক্লিয়াস দিয়ে তোমার যাত্রা তার অর্ধেকটা একটা পুরুষেরও, তাই না? আমি শুধুমাত্র নারীদের মানুষ ভেবে পুরুষদের অমানুষ ভাবতে শিখি নি। তেমনি নারী-বিদ্বেষীদের মতো তোমাকে ছেলে হিশেবেও কামনা করি না। মেয়ে হয়ে আমার মৃত্যুর পর কবরে মাটি দিতে পারবে না সত্যি, তাতে কী, জীবনভর মমতা কম দিবে না আশাকরি। তুমি জেনে আনন্দিত হবে, শরীরবিদ্যার মতে, হৃদয় আর মস্তিষ্কে নারী-পুরুষে কোনো ভিন্নতা নেই। মানবিকভাবেও চরিত্র, সততা, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ অভিন্ন।

তুমি যদি মেয়ে সন্তান হয়ে জন্ম নাও, তবে পরিপূর্ণ মর্যাদাসম্পন্ন নারী হতে আমি তোমায় সহযোগিতা করব, সর্বাত্মকভাবেই। জেনে কষ্ট পাবে, এ দেশের মানুষ (বিশেষ করে পুরুষ মানুষ) নারীদেরকে ভালোভাবে বাঁচতে দেয় না। তুমি তো পত্রিকা পড় না—যখন পড়বে জানতে পারবে, নারী জীবনের কি করুণ কাহিনি প্রতিদিনের পত্রিকাতে আতঙ্ক ছড়ায়। মিষ্টি মিষ্টি মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। বেঁচে থাকার তাগিদে গার্মেন্টস-এ কাজ নিয়ে যাওয়া-আসার পথে অনেক মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে। কারণ কিছু পুরুষ যে অমানুষ হয়ে উঠে। (তোমার বাবার মতোই দেহে, গঠনে তারা পুরুষ কিন্তু মানুষ নয়।) সেই রকম ছেলেরা তোমায় যন্ত্রণা দিবে। তোমার উদ্দেশে বাজে মন্তব্য করবে। অনৈতিক কাজে প্রস্তাব দিবে। এমনও হতে পারে তোমাকে তুলে নিয়ে যাবে, ধর্ষণ করবে। ভয় পেলে? ভয় পেও না। সব পুরুষের আচরণ, মানসিকতা এক নয়। অধিকাংশ পুরুষই নারীদেরকে সম্মান করে। তোমাকে অল্প কিছু কাপুরুষের কথা বলেছি এ জন্য যে, তোমাকে বলার মাধ্যমে আমি নিজেকেই সাবধান করছি।


শক্তি-সামর্থ্যে তুমি নারীদের ছাড়িয়ে যাবে, এমনটা বলাই যায়।


তোমাকে বিয়ে দেবার সময়ও কি কম যন্ত্রণা পোহাতে হবে? এ সমাজ মেধাবী নারীর চেয়ে সুন্দরী নারীকেই বেশি মূল্যায়ন করে। জ্ঞানের চেয়ে যাদের কাছে শরীরই বড় তাদের জ্ঞান কিরকম হবে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ। ভাবতে পার, অনেক স্বামী বিয়ের পর স্ত্রীকে মারধর করে শুধুমাত্র যৌতুক নামক টাকার জন্য, গাড়ীর জন্য, বাড়ির জন্য। অবিশ্বাস্য লাগছে তোমার কাছে? এটাই সত্য, বাস্তবতা। শুনলে আরো অবাক হবে, এক্ষেত্রে নারীরাও কম যায় না। যৌতুকের জন্যেই শাশুড়ি তোমার স্বামীকে উস্কে দিবে, ননদদের লেলিয়ে দিবে, দেবরকে দিয়ে বদনাম রটাবে। তুমি হয়তো ভেবেছিলে নারী নারীদেরই পক্ষে থাকে। ভুল। অনেক নারী স্বার্থের জন্য পুরুষের আদলে গড়া কিছু কাপুরুষের পক্ষ নেয়, অন্যায়ের পক্ষ নেয়। আমার মেয়ে বলে তুমিও যে সেই কুটিল নারীদের মতো হবে না এমনটাই বা কিভাবে বলব। আমার নারী জীবনকে কলঙ্কিত করতে তুমি নির্লজ্জ হতে পার, হতে পার ক্ষতিকারক ভাইরাসের মতো সমাজ ধ্বংসের জ্বলজ্বল উদাহরণ। (যদিও কল্পনাতেও এসব ভাবনায় আমি আতঙ্কিত হই) তোমার মতো সব মেয়েরাই তো জন্মের মাধ্যমে নিষ্পাপ হয়ে পৃথিবীতে আসে। পঙ্কিলতা মুক্ত হতে পারে কতজন? মানুষ হতে পারে কতজন?

তুমি যদি ছেলে হও তাহলে ভেব না এ পৃথিবীটা তোমার জন্য স্বর্গের মতো হবে। যখন ইচ্ছা বাহিরে যেতে পারবে সত্যি—তবে কিছু বর্বর, নারী-পুরুষ উভয়ই হতে পারে, তাদের দ্বারা ছেলে হয়েও যে তুমি ধর্ষিত হবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে পারব না। প্রতিনিয়ত শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ও থাকবে। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে খুন হওয়ার ভয় যে থাকবে না এমন নয়। অনেক ছাত্র, অছাত্র, টেরর, এমনকি পুলিশ দ্বারাও তুমি নিপীড়নের শিকার হতে পার। তুমি ছেলে বিধায় পেশীবহুর শরীর হওয়াটাই স্বাভাবিক। শক্তি-সামর্থ্যে তুমি নারীদের ছাড়িয়ে যাবে, এমনটা বলাই যায়। তাই তো তোমাকে প্রথমেই শেখাব নারীদের কিভাবে সম্মান করতে হয়, মায়ের মতো (তোমার মায়েরও শারীরিক শক্তি কম)। এ সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করেই তোমার প্রতি অনেকের প্রত্যাশা থাকবে, এমনকি বাড়বে। সবকিছু বিবেচনায় পরিবারের দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে। তোমার শুভাকাঙ্ক্ষিদেরকেও তুমি নিরাশ করবে না আশাকরি। সমাজের প্রতি তোমার দায়িত্ব থাকবে বোনের চেয়েও বেশি। তাই বলে ভেব না তোমার বোনও কম দায়িত্ব পালন করবে। পারিবারিক কাজ সামলে তোমাকে সাপোর্ট দেওয়া মানেই তো অর্ধেক দায়িত্ব পালন করা

একদিন তুমি বিয়ে করবে। তোমার, আমার, আমাদের মিলিত পছন্দে প্রকৃত প্রস্তাবে নারী, বিদুষী, তোমার যোগ্য অর্ধাঙ্গিনী হলো। এ মেয়ে কিরকম মানসিকতার হবে তা অনুমান করতে পারি। ধর তোমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী তোমাকে যুদ্ধে যেতে, আদর্শের পথে লড়াই-এর অনুমতি দিল। সুন্দরী ও সহনশীল  স্ত্রীকে ছেড়ে তুমি সত্যের পথে যুদ্ধে গেলে। বীরত্বের সাথে যুদ্ধও করলে এবং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় মৃত্যু নয়, শহিদের মর্যাদা পেলে। তুমি তো কল্যাণের যুদ্ধে জীবন দিয়ে, সম্মান নিয়ে চলে গেলে। আর তোমার স্ত্রী তোমাকে হারিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুতে পতিত হবে, প্রতি মুহূর্তে, প্রতিদিন—পারিবারিক ভাবে এমনকি সামাজিক ভাবেও। এরকম অসহায় অথচ ত্যাগী মেয়েদের তুমি সম্মান করবে। আমি আশা করব তুমি জীবনে কোনো নারীকেই অসম্মান করবে না, ছোট করবে না। তাহলেই তুমি বড় হবে, প্রকৃত মানুষ হবে।


ধর্ষণ কি বোঝ? ধর্ষণ হলো নারীত্বের কান্না। তোমার মায়ের কান্না।


দেখ, নিজের সন্তান বলে ভালো ভেবে, তোমার সম্পর্কে কত ইতিবাচক কথাই না বলে ফেললাম। একবারও ভাবলাম না তুমিও পরীক্ষায় নকল করতে পার, নোংরা রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরতে পার,  সুদখোর রক্তচোষা হতে পার, খুনি, এমনকি ধর্ষণকারীও হতে পার। ধর্ষণ কি বোঝ? ধর্ষণ হলো নারীত্বের কান্না। তোমার মায়ের কান্না। ষড়রিপুর সাথে বসবাস করে সমাজের ত্রাস, দেশদ্রোহী হবে না এমনটাও নিশ্চিত বলতে পারি না। এসব ভাবনাও আমার ভেতরে কাজ করে—তাই তো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তোমার মনে যদি এই থাকে তবে আমার গর্ভেই যেন তোমার সমাধি রচিত হয়। আমার মৃত্যুর পর মাটি দেওয়ার জন্য তোমার মতো সন্তানের বেঁচে থাকার কোনো দরকার নেই। তোমার মাটি চাপা দেওয়া ঘরে আমার যে প্রায়শ্চিত্তের আর সীমা থাকবে না।

এখন ছেলে-মেয়ে নয়, তোমাকে আমার সন্তান হিশেবে সমাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। মনে রাখবে, এ পৃথিবীটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র এবং এটা কোনোভাবেই ভুলবে না যে, তোমাকে নিজের সাথেই যুদ্ধ করতে হবে সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে হাতের চেয়ে মস্তিষ্ককে বেশি কাজে লাগাবে। আক্রোশের চেয়ে বুদ্ধিমত্তাই হবে তোমার জয়ী হবার উত্তম উপায়। আমি জানি, তোমাকে এ যুদ্ধক্ষেত্রে আনার জন্য অর্থাৎ জন্মের মাধ্যমে পৃথিবীতে আনার জন্য গোপনে হলেও আমাদেরকে প্রায়ই দোষারোপ করবে। কারণ তোমার জন্য অপেক্ষা করছে ক্ষুধার রাজ্য, অসুস্থ শহর। তুমি নোংরা রাজনীতিরও স্বীকার হবে, বিকৃত ইতিহাস পাবে। স্বজনপ্রীতির মহড়া দেখে লজ্জিত হবে, ক্ষুব্ধ হবে। স্বার্থের কোঠা প্রথা দেখে নিজেকে সান্ত্বনা দেবার ভাষাও খুঁজে পাবে না। এমনকি মত প্রকাশের স্বাধীনতাও হারাবে।

এটা এমন এক দেশ যেখানে মানুষ মানুষের মানবিক দিক লক্ষ্য করেও প্রায়শই তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। বর্ণময় জীবনের অধিকারী এমনও ব্যক্তি—যে সুশিক্ষাকে সমাজে ছড়িয়ে দেবার ব্রত গ্রহণ করেছে, সেরকম ব্যক্তিকে দৃষ্টিভঙ্গির সামান্য পার্থক্যের কারণে অপবাদ দিতে এমনকি পরিত্যাগ করতেও দ্বিধা করে না। অথচ পরিত্যাগ করা সেই ব্যক্তিরাই স্বার্থের জন্য বারংবার তোষামোদ করে যায় কুন্ঠিতবোধ ছাড়াই। আশা করব, এসব বিষয় মোকাবেলা করে তুমি দুর্বলের প্রতি কঠোর হবে না, পার তো সংবেদনশীল হবে। এবং সবলের অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথা নত করবে না। তোমার মাথা উচু থাকে সেই প্রচেষ্টাও করে যাবে নিরন্তন, আমৃত্যু।

মনে রেখ, তোমার চেয়ে বেশি আপন আমার আর কেউ হবে না। তুমি আমাদের ভালোবাসার ফসল এটাও অস্বীকার করতে পারবে না। তুমি না থাকলে আমাদের ভালোবাসা কমতো না, তোমার প্রতি ভালোবাসাও জাগতো না। গর্ভের দেশে না আসলে তোমাকে তো চিনতামই না, ভালোবাসা জাগতো কোত্থেকে? কিন্তু তুমি এসেছ। আমাদের ভালোবাসা দিয়ে তোমাকে আহবান করেছি। সৃষ্টিকর্তা পাঠিয়েছে। এখন তুমি আমার সবচেয়ে আপন, এমনকি তোমার বাবার চেয়েও। তোমাকে পৃথিবীতে আনতে বাবাও সমান অংশীদার, তাই না? তাহলে বোঝ আমাদের বন্ধনটা কিরকম। তারপরও, শুধুমাত্র তোমার-আমার এ বন্ধনই চিরস্থায়ী—যেটা তোমার বাবার ক্ষেত্রেও নয়। একদিন বুঝতে পারবে, আমার আর তোমার বাবার বন্ধনেও চিড় ধরা অস্বাভাবিক নয়। হয়তো একটা সময় এ ভালোবাসার নদীতেও ভাটা পড়তে পারে।


গঠনে শুধু নয়, সামগ্রিক আচরণে তোমায় যেন মানুষই মনে হয়, অন্যকিছু নয়।


জেনে অবাক হবে, এ আকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কেরও ছিদ্র পথ আছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বে এ ছিদ্র পথ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে বেরিয়ে যেতে পারে আমাদের ভালোবাসার অমৃত সুরা। যে কোনো সন্দেহের থাবায়ও আমাদের অস্তিত্ব রক্তাক্ত হতে পারে। সম্পর্ক চলে যেতে পারে হুমকির মুখে, এমনকি ছিন্ন হওয়ার পথেও। আমরা পরম বন্ধু হতে চরম শত্রুতে পরিণত হতে পারি। (যদিও আমি অবচেতন মনেও এ সম্পর্কের সামান্যতম শিথিলতার কথা চিন্তাও করতে পারি না। আমি জানি তোমার বাবাও এমনটা ভাবে না।) কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে তা কি সম্ভব? তোমার মতো পরম আত্মীয় (জন্ম-জন্মান্তরের) আমার আর কে আছে? এ সম্পর্ক শত বিবাদেও বিচ্ছিন্ন হবার নয়। অন্তত আমি পারব না।

যদি ছেলে সন্তান হও তাহলে তোমাকে মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ব আমার, আমাদের। তুমি মানুষ হবে কিনা জানি না, তবে হাতে-পায়ে বড় হবে নিশ্চিত। তোমার একটা নিজস্ব জগৎ তৈরি হবে। সে জগতে আমার কিংবা আমাদের কতটুকু মূল্য থাকবে তাও অজানা। বিয়ের সময় তুমি আমাদের পছন্দ করা মেয়েকে কি বিয়ে করবে? নাকি তোমার প্রেমের ইতিহাস রচনায় বাবা-মার ইচ্ছাকে অবমূল্যায়ন করবে? শেষ সময়ে আমাদের দেখবে কি-না তাও অজানা। মনে রেখ, বৃদ্ধাশ্রমেও আমাদের যেতে আপত্তি নেই কিন্তু তোমার কাছে ছোট হয়ে কিছুতেই থাকতে পারব না। তেমনি তোমাকেও ছোট দেখতে ভালো লাগবে না। মানুষের মতো মানুষ হয়েই তুমি বড় হবে এমনটাই প্রত্যাশা এবং প্রার্থনা করি।

যদি কন্যা সন্তান হও, তবে তোমাকেও যথাযথ মানুষ করার দায়িত্ব আমাদের। সেক্ষেত্রে তোমাকে মনের মতো করে মানুষ করতে চাইব। কারণ ছেলে সন্তানের মতো বাহিরে বাহিরে থাকার চেয়ে তুমি বাড়ির অন্দরে থাকতেই বেশি পছন্দ করবে। আমার সাথে। আমি তোমায় বেশি করে সময় দিতে পারব। আমার মতো করে গড়ে তুলতে চাওয়ায় কোনো কমতি রাখব না। তুমি বড় হবে। তোমারও একটা নিজস্ব সত্তা হবে। স্বতন্ত্র চিন্তা-ভাবনার অধিকারিণী হতে আমিই তোমাকে সহায়তা করব। বিয়ের ব্যাপারেও তোমার মতামতকে গুরুত্ব দেব। তুমি যদি আমাদের মতামত উপেক্ষা করে নিজের পছন্দ মতো পাত্র ঠিক করে ফেলো, সে ক্ষেত্রে ব্যথা পেলেও অবাক হব না।

মেয়ে বলেই যে লক্ষ্মী হয়ে থাকবে, মা-বাবার দেখানো পথে চলবে এটা আশা করা আমার পক্ষে বোকামি-ই হবে, এমনটাই মনে হয় আমার। আমিও তোমার বাবাকে পছন্দ করে, প্রেমের সম্পর্ক গড়েই বিয়ে করেছি, তবে আমার বাবা-মায়ের অমতে নয়। বিয়ের পর এদেশে থাকবে নাকি বিদেশ চলে যাবে সেটাও তোমার নিজস্ব ব্যাপার। স্বামীর সাথে একান্ত সম্পর্ক গড়তে আমাদেরও ছাড়তে পার—সেটা তোমার ইচ্ছাতেও হতে পারে, অনিচ্ছাতেও হতে পারে। তোমার যে কোনো ইচ্ছাকেই আমি সমর্থন করব। আমার মনে হয় তোমার বাবাও করবে। তবে আশা করব, নারী হয়ে তুমি কোনোদিনই নারীত্বের অবমূল্যায়ন করবে না। পার তো সুন্দরের পক্ষে, নারী সমাজের পক্ষে, সমগ্র মানব সমাজের প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার দোয়া সবসময় তোমার সাথে থাকবে।

প্রিয় সোনা, আবারও বলছি, লিঙ্গ দিয়ে নয়—আনন্দের টুকরো ভ্রূণটা আমাদের সন্তানই হবে। প্রার্থনা শুধু একটাই—গঠনে শুধু নয়, সামগ্রিক আচরণে তোমায় যেন মানুষই মনে হয়, অন্যকিছু নয়।

মহ্‌সীন চৌধুরী জয়

জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৮৪, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

কবি ও কথাসাহিত্যিক।

মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর।

পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিত বই :
সমাপ্তির যতিচিহ্ন [উপন্যাস, ইমন প্রকাশনা, ২০১৩]

ই-মেইল : joychironton@gmail.com

Latest posts by মহ্‌সীন চৌধুরী জয় (see all)