বদমাশ

বদমাশ
403
0

জানালা খোলা হয় না। ওপাশে দেয়াল। ইটের নিপুণ গাঁথুনি। প্লাস্টারবিহীন। কোথাও কোথাও নোনা ধরেছে। সবুজ-ধূসর শ্যাওলা। স্যাঁতসেঁতে। অদ্ভুত ভেজা ভেজা গন্ধ। দেয়ালের পেছনে গাছ। ছোট। বুকল ফুল। বরষার আগে আগে ফুল ফোটে। মাদক সৌরভ। নিচে ছড়িয়ে থাকে তারার মতো ফুল। জানালার কার্নিশে। চৌকাঠে। জানালা খুলে রাখলে সেই ফুল বিছানায় এসে জমে থাকে। এই দেয়ালের সঙ্গে শোবার খাট।

সে একদিন জানালা খুলে দিল। অনেকদিন পর। আলো তেমন আসে না। কিছু বাতাস। প্রলম্বিত ধীর। সেই সঙ্গে কখনো গন্ধ। দুর্গন্ধ। দূরে খাল নালার মতো দিঘল ড্রেন। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। ভয়ংকর বড়। সমস্ত ঘর অন্ধকার করে রাখে। সেই থেকে জানালা খোলা বারণ। নিষেধ। জানালা খোলা যাবে না। তারপরও কখনো কখনো মনে হয় জানালা খোলা হয়েছে। ঘরের সবখানে ছড়িয়ে থাকে মশা। সে নিষেধ শোনে না। অথবা মনে থাকে না। কিংবা কে জানে কী। একদিন তাই বলতে হলো।


দেয়াল ঘেঁষে গোলাপের সারি। সারা শরীরে কাঁটা নিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে।


‘নিমা, জানালা খুলে দিয়েছিলে?’
‘হুঁ।’
‘কেন খোলো বলো তো? ওদিকে বড় ড্রেন। মশার ফ্যাক্টরি। জানো তো মশার কামড় সহ্য হয় না।’

অরুণিমা মুখে হাসি নিয়ে টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ায়। হাতে অ্যারোসল।

‘মশা দেখি তোমাকে বেছে বেছে কামড়ায়। আমার কাছে তো আসে না।’
‘তুমি যে পরী।’

সে আবার মৃদু হাসে। নিশ্চুপ। চেহারায় সেই দুষ্টুমি কৌতুক। আমার দুচোখে মুগ্ধ বিস্ময়।

‘এসো একটু বাইরে বসি। চা খাবে আরেক কাপ?’
‘খাব।’

সে স্প্রে করে। আমাকে বাইরে বসতে হয়। আঙিনায় কয়েকটি ফুলের গাছ। নিমার খুব শখ। কয়েক রকমের ঘাসফুল। গোলাপি। লাল। শাদা। হলুদ। কতগুলো দোপাটি। গোলাপি। শাদা। দেয়াল ঘেঁষে গোলাপের সারি। সারা শরীরে কাঁটা নিয়ে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। কবে ফুল ফুটবে কে জানে। এখন ওর সঙ্গে আমারও অপেক্ষা।

‘তুমি ওই জানালা খুলো না।’
‘কেন?…বকুলের সুবাস আসে তো!’
‘ড্রেনের দুর্গন্ধ। আর মশা।’
‘মশা শুধু তোমাকে কামড়ায়।’
‘মশা খুব যন্ত্রণা।’
‘তুমি কিন্তু দু-বার মশার কথা বলেছ।’
‘বলেছি। আর বলব না।’

সে হাসে। এই একটি মুখ… আনন্দ মূর্তি। অবিমিশ্র সুন্দর। অপরূপা। এই একটি মানুষের জন্য কত কী করেছি। তখন নাইন থেকে টেনে। কাঁধের দু-পাশে বেণি। দুচোখে কাজল। চিকন ঠোঁটে লাজুক হাসি। কখনো দুষ্টুমি মনে হয়। আমার ঘরের জানালা খোলা। হাতে বই নিয়ে তাকিয়ে থাকি রাস্তায়। মনের অলিন্দে দখিনা বাতাস। সে আসে।

‘এই বিয়ে করবি?’
‘করব।’
‘তোর মা-বাবা রাজি হবে তো?’
‘আমার একটা ডাকাত ভাই আছে। বলে দেবো। খুন করে ফেলবে তোকে।’
‘শফিককে বলিস না, নিমা। আমার অরুণিমা।’
‘বদমাশ কোথাকার।’
‘তোকে খুব ভালোবাসি রে।’
‘ওই জন্যই তোকে মারবে। আমিও মারব।’
‘মার না।’
‘বদমাশ।’

তারপর হাজার কবিতা লিখি। উনিশ বছর বয়স কবিতা লেখার। আকাশের রংধনু আর পাখি দেখার। ভেসে বেড়ানো মেঘের মতো উদাস প্রতীক্ষার। সে আসে। কবিতা লিখি। সব কবিতা ওর জন্য। একদিন কবিতা ছেড়ে হাত ধরলাম। ওর দুচোখে দুষ্টুমি। লাজুক হাসি। পালিয়ে গেলাম বড় বোনের বাসায়। আপা আর দুলাভাই বললেন—

‘পাগলা করেছিস কী! ওর বয়স সবে পনের। ইলোপ কেসে ফাঁসিয়ে দেবে।’

কী বলব? সাহস করে সমুদ্রে নেমে ভ্যাবাচ্যাকা। অনিশ্চিত পথযাত্রায় একটু তো ভয় ভয় লাগে। অরুণিমা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। কিছু বলতে হয়। সে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে ওঠে—

‘আমি নিজের জ্ঞানে এসেছি। ওর কাছেই থাকব।’

আমার সাহস দ্বিগুণ। কিছু পেতে গেলে সাহস থাকতে হয়। অপমান সইবার মতো মুখছবি। কথা হজম করার মতো বুকে নিষ্পৃহ সাহস। সবকিছু করতে পারি। তখন দুর্দান্ত সাহস। হিমালয় পেরোতে বললে… পারি। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে ঝাঁপ দিতে বললেও। এত সাহস হয়তো ওর কাছে থেকে পেয়েছি।

তারপর ওকে নিয়েই পেরিয়ে গেল কতগুলো বছর। সকলে প্রায় মেনে নিয়েছে। মানুষ হিশেবে মন্দ না। কথা যা একটু বেশি বলি। ওর অপছন্দ আজকাল। সে কথা বলতে দেয় না। কবিতা লেখা হারিয়ে গেছে। আমার এখন অন্য কবিতা।

কোনো কোনোদিন অফিস থেকে ফিরে এসে দেখি, সে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। ওটা বন্ধ। একটি হালকা পর্দা ঝোলে। নিষ্প্রাণ। নিস্পন্দ। কোনোদিন বলতে ইচ্ছে হয়, তুমি জানালা খুলে দিয়ো। বলা হয় না। বকুল গাছ আরও বড় হয়। মাথা উঁচু আকাশ স্পর্শ করতে চায়। চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে ডালপালা। ফুল ফোটে নি। এখন ফুলের সময় নয়। রাস্তায় নেমে দেখি। সামনে বিশাল মাঠ। তার কোণায় কোণায় ঝোপঝাড়। নাম না জানা অচেনা লতাগুল্মের সারি। কতগুলো দ্রোণপুষ্প। কালোমেঘ। মালতি। ভাট ফুল। সম্মুখে বড় গভীর ড্রেন। জলাবদ্ধ নোংরা। মশা আর মশা।


আমার অরুণিমা। আমার কবিতা। মায়াবী। আকাশ থেকে নেমে আসা অচেনা অথবা চিরচেনা পরী।


একদিন দেখি অরুণিমা শুয়ে আছে। দরজা খুলে দিয়ে আবার বিছানায়। জানালা হাট হয়ে খোলা। ঝাঁকে ঝাঁকে মশায় ঘর অন্ধকার। অদ্ভুত মিহি গুঞ্জন। জানালা বন্ধ করতে করতে ওর দিকে তাকালাম। চোখ-মুখ লাল। কোনোদিন ওকে এত উদাস আর ক্লান্ত দেখায় নি। সন্ধ্যের আগেই শুয়ে আছে। কপালে হাত দিতে দিতে জিজ্ঞেস করি—

‘জ্বর?’
‘সেই মাথাব্যথা। তুমি হাত-মুখ ধোও। চা করে দিই। নাকি কফি খাবে?’
‘তুমি শুয়ে থাকো… রেস্ট নাও। কোনো ট্যাবলেট খেয়েছ?’
‘শুয়ে থাকব কি? রান্না করতে হবে না? কী খাবে?’
‘কিছু করতে হবে না।’
‘না তোমার কষ্ট হবে। একটুপর উঠছি।’
‘উঠতে হবে না। আর জানালা খুলে মশার কামড় খাচ্ছ? ম্যালেরিয়া ধরেছে তোমাকে।’
‘কী যে বলো! সেই ভালুক-জ্বর আর আজকাল আছে?’

সামনের রেস্তোরাঁ থেকে নান আর কাবাব আনা হলো। ও শুয়ে থাকল। কিছু খেল না। খেতে ইচ্ছে করছে না। বিবমিষা।

রাত নয়টা। আকস্মিক বিছানায় এপাশ-ওপাশ ছটফট। টেবিল ছেড়ে উঠি। রক্ত। অরুণিমার নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। এ অসুখ যে কত জ্বালাবে কে জানে। অনেকদিন হয়ে গেল। ডাক্তার ধরতে পারে না। আবার যেতে হবে। তার মুখ-চোখ দ্রুত পাণ্ডুর ফ্যাকাসে হয়ে যায়। রক্ত দেখে মাথা কেমন কেমন করতে লাগল। রক্ত আর রক্ত। বিছানা… ঘরের মেঝে… চারদিকে শুধু রক্ত। টিস্যু পেপার শেষ হয়ে যায় যায়। কী করে কী হলো? কী করি?

হাসপাতাল। ডেটল-ফিনাইলের গন্ধ ভুর-ভুর। রোগাক্রান্ত মানুষের গায়ের গন্ধ। বিকট দুর্গন্ধ। বিদঘুটে। অসহায় চাহনি। কারও ব্যস্ত চলাচল। কারও কৌতূহল। কোনোকিছুর মূল্য নেই। দৃষ্টিতে এসে এসে দ্রুত সরে যায়। মানুষকে অনেকসময় অনেককিছু সহ্য করে নিতে হয়। উপেক্ষা করতে হয়। আমার পালা।

বাতাসের বেগে খবর চলে গেছে। যারা কোনোকিছু মেনে নেয় নি। যারা তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেয়। তারা এসেছে। আলোচনা। গুঞ্জন। কথাবার্তা। ফিসফাস। এরই ফাঁকে শফিক এসে শক্ত করে হাত চেপে ধরে।

‘ওর কিছু হলে তোকে খুন করে ফেলব, শালা।’

কার বুকে কী ঝড় বয়ে চলে কেউ জানে না। কী বলি? কি বলার আছে? কখনো ওর মুখে কখনো মেঝের শীতলতা অথবা ডাক্তারের চেহারা-ভাবভঙ্গি দেখতে দেখতে বুঝতে বুঝতে রাত পার হয়ে যায়। মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। চারপাশ ঘিরে থাকে। কথার পিঠে কথা। প্রয়োজনীয়। অপ্রয়োজনীয়। কোনো কথা কানে আসে না। কোথাও একটি ঝড় ওঠে। কবিতার স্তবগান বেজে যায়। ওর অর্ধ-নিমীলিত দুচোখে নাকি এই পোড়া বুকে কে জানে।

সকালে চোখ মেলে দিল সে। যেভাবে আকাশে সূর্য ওঠে। ধীরে ধীরে মধ্য-আকাশে ওঠে যায়। আমার বুকে পাখি ডেকে ওঠে। সেই বুকলের সুবাস ভেসে ভেসে মন-উন্মন। ওকে হয়তো আর পাণ্ডুর-ফ্যাকাসে দেখায় না। সেই যেমন দু-কাঁধের পেছন থেকে এগিয়ে আসা প্রগাঢ় বেণি বুকে এসে আমার বিকেল আলোকিত করে দেয়। তার ঠোঁটে সেই হাসি। মৃদু। আজও হয়তো সেখানে দুষ্টুমি খেলা করে। আমার অরুণিমা। আমার কবিতা। মায়াবী। আকাশ থেকে নেমে আসা অচেনা অথবা চিরচেনা পরী। আকাশের অনুজ্জ্বল মধ্যভূমিতে আবার আলোকিত খেলা। বিষণ্ন ম্লান দিনযাপন রংধনু বর্ণিল? ইশারায় কী বলে সে? কী বলতে চায়?

‘ভয় পেয়েছিলে?’

ওর হাত চেপে ধরি। কাচের চুড়িগুলো ফরসা হাতে অতিরিক্ত রঙিন দেখায়। ঝিকিমিকি তারা। দুচোখের পাতা থিরথির। ঠোঁটের উপরে রক্তের হালকা দাগ। আলগোছে মুছে দিতে চাই। সে আবেশে দুচোখ বোজে। আবার তাকায়। আমার দৃষ্টিতে সরোবর। কত পদ্ম দল মেলে দিয়ে হাসে।

‘এই বলো না… ভয় লাগছিল?’
‘না।’
‘মিথ্যেবাদী। চোখ-মুখ এত শুকনো! কেন? যদি মরে যাই?’
‘তুমি এখন মরতে পারো না,  অরুণিমা। এসব বললে মার দেবো কিন্তু।’
‘সে তুমি পারবে না, বদমাশ।’
‘পারব না ঠিক… তুমি জানো।’
‘জানো ওই বকুল গাছে না একটা পাখি আসে। প্রতিদিন।’
‘তুমি জানালা খুলে তাকে দেখ?’
‘হু।’
‘গাছ থাকলে পাখি আসবে এ আর অদ্ভুত কি?’
‘না এ পাখিটা ঠিক তেমন নয়… অন্যরকম।’
‘যেমন?’
‘তুমি যখন অফিসে চলে যাও, দুপুর হয়ে আসে; হাতে কোনো কাজ থাকে না। জানালায় পাখিটা ডেকে ওঠে। আমি জানালা খুলে দিই। পাখিটা এ ডাল থেকে ও ডালে লাফিয়ে লাফিয়ে ওড়ে। তারপর নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকে। তোমার মতো অস্থির-নিষ্কম্প। মনে হয় তুমি সেই পাখি। রুপালি ডানা। ধূসর-কালো শরীর। নির্নিমেষ মায়াবী চোখ।’

‘কি পাগলামি, অরুণিমা?’
‘শোনো না… তুমি জানালার ধারে বসতে। আমার স্কুল ছুটি হয়। তোমার চোখের ভাষা আমি পড়ি। পড়তে পড়তে বুঝতে শিখি। তুমি পাগল।’
‘হা হা হা!’
‘আমাকে একটু জড়িয়ে ধরবে?’


একটু শব্দ করল না। জানিয়ে গেল না। ‘এই আমি চলে যাচ্ছি, বদমাশ।’


দুচোখের মিনতি নয়। আদেশ। এত মানুষজনের ভিড়ে তবু জড়িয়ে ধরি। তার গোলাপি গালে চুমো দিয়ে ফেলি। একবার। আবার। পরপর কতগুলো… জানি না। আমার ম্লান আকাশ অনেক আলোয় রংধনু হয়ে যায়। এই বেঁচে থাকা সকাল সারারাতের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ধুয়ে মুছে দেয়। ওর হাত ধরে থাকি। তারপর আকাশে রংধনু বেশিক্ষণ থাকে না। তাই শেষবেলা আলোর ঝলকানি দিয়ে অরুণিমা… অরুণিমা… কোথায় চলে গেলে?

ওইদিন রাতের গভীর নিস্তব্ধতায় চলে গেল সে। একটু শব্দ করল না। জানিয়ে গেল না। ‘এই আমি চলে যাচ্ছি, বদমাশ।’ ভোরের অন্ধকারে একলা অন্ধকার কোণায় বসে রইলাম। কতক্ষণ জানি না। সব শেষ আমার। কেন এমন করে শেষ হয়ে যায়? ক্যানসার অমনই। অতিধীর পায়ে আসে… নিশ্চুপ চলে যায়। স্বপ্নের মতো রেখে যায় কিছু স্মৃতি কিছু গান। বেঁচে থাকার মলিন দিনকাল পথরেখা। আমার শুধু তেপান্তর মাঠ। বিরান মরুভূমি।

আজ আকাশে চাঁদ জেগেছে। চারপাশে রুপালি আলোর জলসা। বরষা হিমেল শীত-শীত রাত। আকাশের কোণায় জেগে থাকা মেঘ চলে গেছে অনেক দূর। আঙিনায় সারাদিন হাসিমুখ হিল্লোল ঘাসফুল নুয়ে পড়ে। আমার কিইবা দিন কিইবা রাত। কয়েক সপ্তাহ হলো সে চলে গেছে। অরুণিমা নেই। সত্যি কি? কখনো কখনো চমকে উঠি। সত্যি সে নেই। দুষ্টুমি হাসির সেই বদমাশ ডাক হারিয়ে গেছে। কখনো মনে হয় পাশে বসে আছে। বুকে হাত রেখে শুয়ে পড়েছে। ঘরময় ছড়িয়ে গেছে সংগীতের মিহি ধ্বনি। আমার আঙুল সেই হাত ধরে থাকে। তারপর অদ্ভুত বিষণ্ন শূন্য খাঁ-খাঁ। পোড়া মন ব্যাকুল হয়ে যায়। আমার কোনো কবিতা নেই। কোথায় হারিয়ে ফেললাম? এখন কোথায় যাই? কী করে ফিরে পাব তাকে?

জানালা বন্ধ। কখন যে ফাঁক-ফুকুর দিয়ে বকুলের সুবাস ভেসে আসে বুঝি নি। সে আছে… আর আছে বলেই সম্মোহিত জানালা খুলে দিই। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা ঘরের সবটুকু দখল করে নেয়। মনের সুখে কামড়াতে থাকে। কোনো বোধ নেই।

দূরের আকাশে আলোর শামিয়ানা। নক্ষত্রেরা পরস্পরের হাত ধরে ছায়াপথ মেলে দিয়েছে মহাশূন্যে। সকল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে হেসে চলে বিশাল চাঁদ। হিম হিম রুপালি রাত। সেই ক্যানভাসে একলা একটি বকুল গাছ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে। হালকা সুবাসে ঘর ভরে যায়। যেতে থাকে। সেই মাদকতায় মন কোথায় হারিয়ে যায়? অতীতের দিনে কিংবা হারানো দিনকাল স্বপ্নময় রাত। অনেক দূর থেকে ভেসে আসে আকরাম বিহারির বাঁশি। বাঁশিতে কান্নার সুর। সময় বয়ে যায় কি না জানি না। জানা থাকে না। বোধের সমস্ত অস্তিত্ব বিষণ্ন সুরে বিলীন হতে থাকে। তারপর কোত্থেকে একটি পাখি ডানা ঝাপটায়। উড়ে এসে বসে। একেবারে হাতের নাগালে। আলোছায়ায় হলুদ-কালো-বর্ণিল। সে ডাকে না। কথা বলে না। উড়ে যায় না। নিশ্চুপ নিষ্পলক দৃষ্টি। তাকিয়ে থাকে। দিঘির জলের মতো অতলান্ত গভীর। জানালার আরও কাছে এগিয়ে যাই। পাখি সরে যায় না। অপলক দৃষ্টি চাহনি। সেই চোখ কিছু বলতে চায়। কী কথা? অরুণিমা… একবার শুধু একবার বলো। তারপর কখন পাখি ডেকে ওঠে? বদমাশ।

 

মাহবুব আলী

জন্ম ৪ আগস্ট; দিনাজপুর। কথাসাহিত্যিক।

শিক্ষা : রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : প্রভাষক, বেসরকারি কলেজ।

প্রকাশিত বই :
অস্তিত্বের পলায়ন [গল্প, ১৯৯২]

ই-মেইল : mahbubali.din@gmail.com

Latest posts by মাহবুব আলী (see all)