হোম গদ্য গল্প পাণ্ডুলিপি থেকে : অসমাপ্ত গল্প

পাণ্ডুলিপি থেকে : অসমাপ্ত গল্প

পাণ্ডুলিপি থেকে : অসমাপ্ত গল্প
602
0

শিল্পী নাজনীন একজন নিপুণ কথাচিত্রী। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের প্রাত্যহিক জীবনের চালচিত্র তার লেখনীতে অন্যরকম সুষমায় ফুটে ওঠে। প্রেম, বিরহ, শরীরী মহিমা, সংকট, মানবিকতা এবং গল্পের সৌন্দর্য বর্ধনে সামাজিক দায়বদ্ধতা তার ছোট ছোট গল্পের ভেতরে আশ্চর্য এক ভুবন তৈরি করে। যে ভুবন বাস্তবের নিরিখে মায়াবী জগতের কথাও বলে। ২০১৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ছিন্নডানার ফরিঙ সেই সত্যতা গ্রহণে আমাদের অনুপ্রাণিত করে। ২০১৭ সালে অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত আদম, গন্দম ও অন্যান্য গল্পগ্রন্থটিও সেই আবেদন অক্ষুণ্ন রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আজ পাণ্ডুলিপি থেকে ‘অসমাপ্ত গল্প’ পরস্পরের পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ফারুক মুহাম্মদ। প্রকাশ করেছে ছিন্নপত্র প্রকাশনী।


হঠাৎই ভীষণ ফুরফুরে লাগে নীতুর। ভীষণ নির্ভার। প্রহর ঠিক বলে। লেখক, কবিদের সত্যিই অনেক সুবিধা। কলমের কালিতে তারা বুকে জমা দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বেদনা সব উজাড় করে দিতে পারে। পারে নিজেকে মেলে ধরতে। এইমাত্র গল্পটা শেষ করেছে নীতু। অনেকদিনের চেপে থাকা পাথরটা নেমে গেছে বুক থেকে। প্রহর! কী করছে সে এখন?

খোলা অন্ধকার আকাশের চোখে চোখ রেখে সিগারেটে টান দেয় নীতু। বারান্দায় রাখা ইজি চেয়ারে আধশোয়া হয়ে নির্ঘুম চেয়ে থাকে সপ্তর্ষিমণ্ডলের দিকে। আজ চাঁদ নেই। আকাশ অন্ধকারে ঢাকা। প্রহর নিশ্চয়ই এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। সে রাত জাগতে পারে না। নীতু জানে।

প্রহর কি জানে তাকে ভেবে নীতুর বিনিদ্র প্রহরগুলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে ক্রমশ! ক্রমশ তার বুকের মধ্যে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছে একটি মঙ্গলপ্রদীপ! হয়তো জানে! হয়তো জানে না! নিজের অজান্তেই তপ্ত একটি দীর্ঘশ্বাস গড়িয়ে পড়ে নীতুর। মেয়েদুটো ঘুমিয়েছে ঢের আগে। ঘুমিয়েছে মৃদুলও। প্রতিদিনের মতোই একাকী নিজের ঘরে লেখা নিয়ে বুঁদ হয়েছিল নীতু। কখন রাত্রি গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে টের পায় নি নিজেই। পড়া আর লেখা এই এক নেশা! মৃদুল বিরক্ত, হতাশ। সংসারে মন নাই নীতুর। মেয়েদুটো বড় হচ্ছে নিজের মতো করে। নীতু সবার সাথে থেকেও বিচ্ছিন্ন, একা। মাঝে মাঝে ভয় হয়, আরও যখন বয়স হবে, আরও যখন একাকিত্ব ঘিরে ধরবে তাকে, সে ভার বইতে পারবে তো সে? নাকি একাকিত্বের সে যন্ত্রণা আরও বেশি অস্থির, উত্যক্ত করে তুলবে তাকে! ভেবে বুকটা কেঁপে ওঠে নীতুর। সিগারেটের ধোঁওয়া আরও বেশি আচ্ছন্ন করে তোলে, আরও বেশি ডুবিয়ে নেয় হতাশার রাজ্যে।


হিন্দু হওয়াটা ভয়ংকর অপরাধ!


প্রহরের সাথে সম্পর্কটা ভারি অদ্ভুত তার। ভারি জটিল। একবিংশ শতাব্দীর এই আবেগহীন, অনুভূতিহীন পৃথিবীতে দুজন মধ্যবয়সী নর-নারী কী করে এমন একটি আবেগ লালন করে একে অপরের প্রতি! যেখানে কেউ কাউকে চোখেও দেখে নি তারা! ভাবনাটা নীতুকে খুব চমকে দেয় হঠাৎ! মধ্যবয়সী! নীতু কবে মধ্যবয়সী হয়ে গেল! কবে তার জীবন থেকে ঝরে গেল এতগুলো বছর! আহ্! অস্ফুটে শব্দটা বেরিয়ে আসে কণ্ঠ চিরে।

প্রহরের কণ্ঠটা কানে বাজে! প্রহরের কণ্ঠে কি ব্যঙ্গ ছিল? নাকি শুধুই অপমানের কষ্ট আর বঞ্চনার জ্বালা ছিল তাতে? না, নীতুর মনে হয় তাতে প্রচ্ছন্ন বিদ্রূপ ছিল, নিজের প্রতি, নীতুর প্রতি, সময়ের প্রতি, সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি! নীতু সহ্য করতে পারে নি। সে দুহাতে কান চেপে অসহ্য যন্ত্রনায় কুঁকড়ে ওঠে বলেছে—আহ্! প্রহর! আর বলো না! প্লিজ! আর বলো না!

প্রহর থামে নি। হো হো হাসিতে নীতুকে অগ্রাহ্য করে সে বলে গিয়েছে আদ্যোপান্ত! শেষে বলেছে, কেমন লেগেছে নীতু, আমার গল্পটা? চমৎকার না?

শরবিদ্ধ হরিণীর যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে নীতু ভেবেছে প্রহর কী করে এত নিষ্ঠুর হয় তার প্রতি! প্রহর কি জানে না, তার কষ্ট নীতুর বুকে কতটা তীক্ষ্ণ হয়ে বেঁধে!

প্রহর! আহ্! প্রহর! একটুকরো স্বপ্ন তার! একটুকরো খোলা আকাশ! অথচ প্রহর থাকে সুদূর বৃটেনে! জানে দেখা হবে না কোনোদিন! তবু কেন সে প্রহরের কাছেই সমর্পিত হয়! এই যে নাম না জানা বোধ, অনুভূতি, এই প্রায় পঞ্চাশে এসে, কী নাম এর? ভালোবাসা? গতকাল কিনে আনা ভদকার বোতলটা সন্তর্পণে বের করে নীতু। পাছে ঘুম ভেঙে যায় মৃদুলের, মেয়েদের! সোডা আর জল মিশিয়ে আবার বসে বারান্দায়। চুমুক দেয় ধীরে ধীরে।

আজ সন্ধ্যেয় প্রহরের সাথে কথোপকথন মনে পড়ে। নিজের মেয়ের দুষ্টুমির ফিরিস্তি দিচ্ছিল প্রহর, হাসছিল খুব। তখনই নীতু আচমকা খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলেছিল, আচ্ছা প্রহর, তোমার কিছুই মনে পড়ে না, না?

থমকে গিয়ে প্রহর অবাক কণ্ঠে বলেছিল, কী, নীতু?

পূর্বজন্মের কথা?

মানে? প্রহরের কণ্ঠে বিস্ময়!

তোমার মনে নেই পূর্বজন্মে পুষ্প আমাদের মেয়ে ছিল? তোমার-আমার?

প্রহর হাসে। নীতুও হাসে। কিন্তু নীতুর চোখে জল উপচায়। ওপ্রান্তে প্রহর বোঝে না তা। সে আরও দুষ্টুমি করে। ছেলেমানুষি করে আরও। একটু একটু করে প্রতিদিন প্রহর ঢুকে যাচ্ছে নীতুর প্রাত্যহিক গৎবাঁধা জীবনের ছকে। অথচ হাজার মাইলের দূরত্বে আছে প্রহর। নীতুর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে প্রহরকে খুব করে একবার বুকের সাথে আঁকড়ে ধরে। চোখে জল নিয়ে সে তাকিয়ে থাকে প্রহরের সদ্য পাঠানো ছবিটার দিকে। প্রহর! চোখে রাজ্যের মায়া আর মুখে মৃদু হাসি নিয়ে তাকিয়ে আছে। কার দিকে তাকিয়ে আছে সে? নীতুর ‍দিকে? নাকি যে দেশ তাকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তার দিকে? নীতু হতাশায় আরও বেশি ডুবে যেতে চায় ভদকার ঘোরে।

প্রহরের গল্পটা বুকের মধ্যে মস্ত পাথর হয়ে চেপে ছিল তার। বুকের মধ্যে কষ্ট যেন ছুরি হয়ে বিঁধছিল নিত্যদিন। আজ সে লিখে ফেলেছে গল্পটা। কিন্তু প্রহরকে বলা হয় নি তার অন্যরকম আরও অনেক গল্পও এখানে আছে, থাকে। সেগুলোও লেখা হয় নি, হয় না। যে কষ্ট প্রহরকে বাধ্য করেছে দেশ ছাড়তে, তার চেয়ে দ্বিগুণ কষ্ট নিয়েও নীতুদের মতো কেউ কেউ থেকে যায়, থেকে যেতে হয় তাদের! কারণ সবার ভাগ্যে বৃটেন যাওয়ার সুযোগ জোটে না।

অজপাড়াগাঁয়ে জন্মেছিল প্রহর। অনেকগুলো ভাইবোন ছিল তারা। বাবার চাকরি ছিল শহরে। সেখানেই থাকত। মা তাদেরকে নিয়ে গ্রামে থাকত, একা। বাবা ছুটিছাটায় আসত। তখন উৎসব শুরু হতো। বেশ সুখী একটি পরিবার, প্রাণ ছিল।

মায়ের মুখে শোনা গল্পটাই নীতুকে শুনিয়েছিল প্রহর। তার মা তখন তরুণী বধূ। প্রহর তখনও জন্মায় নি। ছোট দু সন্তানকে নিয়ে মহুয়া গ্রামে থাকে। স্বামী শহরে ।

সেদিন খুব নীল ছিল আকাশটা। শরতের আকাশে নীল-শাদা মেঘ উড়ছিল ময়ূর পেখম তুলে। মহুয়ার মনটা ভারি উচাটন ছিল সেদিন। শহরে থেকে কবে আসবে লোকটা কে জানে! মনটা ভারি কেমন কেমন করছিল। মন ছিল না কোনো কাজে। ছেলে দুটো কোথায় যে খেলতে গেল! মহুয়া অনেকটা সময় নিয়ে বিনুনি করে চুলে, চোখে কাজল পরে, সিঁথির সিঁদুরটা গাঢ় করে আরো। পায়ে আলতা পরে সে। গুনগুন করে কী একটা গানের সুরও ভাঁজে। বেলা পড়ে এল। মহুয়া রান্নার চাল নিয়ে যায় পুকুর ঘাটের দিকে। কতক্ষণ পুকুরের বাঁধানো ঘাটে পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকে আনমনে। কতগুলো হাঁস মহানন্দে সাঁতার কাটে পুকুরে। মুগ্ধ হয়ে দেখে মহুয়া। পুকুরের স্বচ্ছ জলে আকাশের প্রতিবিম্ব দেখে অপলক। তারপর চালগুলো ধুয়ে নিয়ে মৃদু পায়ে ফিরে চলে বাড়ি অভিমুখে।

বাড়িটা সুনসান তখনও। ছেলেরা খেলা শেষে ফেরে নি। ঘরের দেউড়িতে পা দিয়ে হঠাৎ মাটির দিকে চোখ পড়তেই ভূত দেখার মতো চমকে ওঠে মহুয়া। মাটিতে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের দাগ! বাড়ির ভেতর দিকে চলে গেছে। শরীরে কেমন অবশ একটা ভাব টের পায় মহুয়া। শিউরে ওঠে ভয়ে। রক্ত কিসের! কেনই-বা তা তাদেরই বাড়ির ভেতর দিকে গেছে! দেউড়ি অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করতেই মহুয়ার হাত থেকে ছিটকে পড়ে পাতিলসুদ্ধ চাল। অস্ফুট চিৎকারে সেখানেই বসে পড়ে মহুয়া। রান্নাঘরের ঠিক সমুখে সদ্যকর্তিত একটা গরুর মুণ্ডু। টকটকে লাল রক্ত তখনও চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। গরুটা বিস্ফারিত চোখে যেন মহুয়ার ভয় পাওয়া মুখটাকেই দেখছে অবাক বিস্ময়ে!

দু দিন পড়শিদের বাড়িতে দু ছেলেকে নিয়ে ছিল মহুয়া। তারপর স্বামী তাদেরকে নিয়ে এল শহরে, নিজ কর্মস্থলে। আর কখনও স্বামীর ভিটেতে ফেরা হয় নি মহুয়ার। প্রহরদেরও আর দেখা হয় নি কোনোদিন বাপ-ঠাকুরদার ভিটে।

শহরে এসে বেশ ছিল তারা। তেমন কোনো অসুবিধে ছিল না। কিন্তু হঠাৎ এলোমেলো হয়ে গেল সব। চারদিকে কেমন থমথমে পরিবেশ। বাতাসে বিপদের গন্ধ। ১৯৭১। শুরু হলো যুদ্ধ। হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য তা আরও ভয়াবহ। জীবন তখন হাতের মুঠোয়। মৃত্যু খুব সহজ। মুসলমান বা হিন্দু সবার জন্যই সে সময়টা ছিল ভয়ংকর অগ্নিগর্ভ একটি সময়। তবু হিন্দুদের জন্য সময়টা হয়ে গেল আরও বেশি বিভীষিকার। যেন হিন্দু হওয়াটা ভয়ংকর অপরাধ! বিহারিদের সাথে কতিপয় বাঙালিও তখন হিন্দুদের ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছে মিলিটারি বাহিনীর কাছে। নারী ও শিশুদের ওপর চালাচ্ছে ভয়াবহ অত্যাচার। এক অন্ধকার রাতে মহুয়া আর তার সন্তানকে নিয়ে স্বামী ভারতের উদ্দেশ্যে শহর ছাড়ল। সন্তানদের আর স্ত্রীর নিরাপত্তার কথা ভেবে ভারতে পাড়ি জমালেও শেষ পর্যন্ত ভারতে বসে থাকে নি প্রতুল। ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে সে অংশ নেয় মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধ শেষে পরিবারকে ফিরিয়ে আনে দেশে। দেশের প্রতি ভালোবাসাই আত্মীয়, বন্ধু সবার পরামর্শ, অনুরোধ উপেক্ষা করে পুনরায় নিজ ভূমে ফিরিয়ে আনে তাকে।


আহ্! প্রহর! আর কতদিন পুষ্পকে বাংলাদেশ চেনাবে তুমি!


ফিরে আসে প্রতুল। ফিরে আসে মহুয়া ও তার সন্তানেরা। স্বাধীন বাংলাদেশের লালসবুজ পতাকার দিকে তাকিয়ে প্রতুল ও তার পরিবার স্বপ্ন বোনে সবুজ আগামীর, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের। ততদিনে প্রহর জন্মেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা চিনেছে। সে জানে তার একটি দেশ আছে, একটি পতাকা আছে, আছে তার জন্য একটি সুনিশ্চিত আবাস, নিরাপদ জীবন।

ভুল ভাঙে প্রহরের। ভাঙে স্বপ্ন। সে দেখে তার দেশটি মূলত তার নয়! এখানে সে ক্ষেত্রবিশেষে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক! অনেক সময় সে এমনকি দেশদ্রোহীও! সংবিধান মতে! যত বড় হয় প্রহর ততই টের পায়, না যুদ্ধ শেষ হয় নি। যুদ্ধ চলছে। খুব স্থূলভাবেই চলছে। এবং তারচেয়ে বেশি যন্ত্রণা নিয়ে সে টের পায় চলমান এই যুদ্ধে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে প্রহরের মতো সংখ্যালঘুরা। এক ঘৃণ্য রাজনীতির শিকার হয়ে প্রহরেরা দিন দিন ঢুকে পড়ছে নিরাপত্তাহীনতার এক শীতল গহ্বরে। এই গহ্বর থেকে বাঁচতে তাদের অনেকেই ঢুকে পড়ছে গহ্বর খননকারী দেশেরই বুকের মধ্যে! যেন আগুন থেকে বাঁচতে তারা ঝাঁপ দিচ্ছে দাউদাউ জ্বলা এক মস্ত চিতার গর্ভে!

প্রতুল চলে যায়। তখনও দেশের এতটা দুর্দশা ছিল না। তবু আঁচ পাওয়া কি যায় নি ভবিষ্যৎ আগুনের? গেছিল। দেশের জন্য একবুক ভালোবাসা নিয়েই তবু চিতায় উঠেছিল প্রতুল। যেমন দেশের জন্য সীমাহীন প্রেম নিয়ে সে যোগ দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে।

শেষ সম্বল স্বামীর ভিটেটুকু, সেও দখল হয়ে গেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের থাবায়। টুঁ শব্দটি করলেই মেরে ফেলার হুমকি, সীমান্তের ওপারে চলে যাওয়ার পরামর্শ! তবু হাল ছাড়ে নি মহুয়া। সন্তানদের আগলে রাখার, মানুষ করার দুর্মর বাসনা ও পণ তাকে সাহসী করেছে, করেছে দৃঢ়। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সে সন্তানদের শিক্ষিত করেছে, মানুষ করেছে। তৈরি করে নিয়েছে নিজেরও একটি শক্ত অবস্থান। তবু কোথায় যেন সুতোটা ভারি নড়বড়ে মনে হয়। মনে হয় এই বুঝি আবার ছাড়তে হয় নতুন গড়া আবাসটুকু। এই মাটিতে মিশে আছে তার পূর্বপুরুষ, এই মাটির জলহাওয়ায় বেড়ে উঠেছে সে আর তার সন্তানেরা। এই মাটি ছেড়ে, এই শেকড় ছেড়ে কোথায় যাবে সে! কোথায় যাবে তারা! কিন্তু এই দেশ, এই মাটি তাকে জল দেয়, হাওয়া দেয়, সব দেয় শুধু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাটুকু দেয় না। দেয় না সুস্থভাবে বাঁচার স্বস্তিটুকু। দেয় না নাগরিক অধিকারের ষোল আনা পাওনাটুকুও। সরকারি অফিসে মসজিদ থাকে, গির্জা বা মন্দির থাকে না। তবে কি তাদের ধর্মাচরণের প্রয়োজন নাই! না কি রাষ্ট্র ধরেই নিয়েছে যে বিধর্মী হিশেবে তারা নরকগামী হবে, যেহেতু রাষ্ট্রের ধর্মই ইসলাম!

বাবা! তুমি কি তবে নরকে আছ, মুক্তিযুদ্ধের পুরস্কার-স্বরূপ! প্রহরের কণ্ঠটা সুতীক্ষ্ণ ফলা হয়ে আমূল গেঁথে যেতে চায় নীতুর কানে। নীতু দুহাতে কান চেপে ধরে। যন্ত্রণা পুড়িয়ে দিতে চায় তাকে।

প্রহর দেশ ছেড়ে গেছে। প্রহরেরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে একে একে। তাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে, উৎসাহিত করা হচ্ছে। ঘৃণ্য এক ভূ-রাজনীতির চক্রে ঢুকে গেছে দেশ, ঢুকে গেছে গোটা সময়। গালভরা বুলি আর আশ্বাসে তবু খৈ ফুটছে কথার।

প্রহর দেশ ছেড়েছে। বৃটেনের চাকচিক্যে বেশ আছে সে। তবু বুকের মধ্যে সে লালন করে সবুজ একটুকরো বাংলাদেশ। লালন করে দেশের জন্য একবুক ভালোবাসা, কষ্ট। পুষ্পকে সে চেনায় তার জন্মভূমির লাল সবুজ পতাকা। চেনায় সুন্দরবন।

আহ্! প্রহর! আর কতদিন পুষ্পকে বাংলাদেশ চেনাবে তুমি! কতদিন চেনাবে সুন্দবন! সুন্দরবনে আগুন লাগল বলে! বাংলাদেশের মানচিত্রে শকুনের কালো ছায়া উড়ছে! কে জানে কখন তা স্থায়ী ছায়া হয়ে ঢেকে দেবে এদেশের সোনালি রোদ্দুর! তুমি, তোমরা দেশ ছেড়ে বেঁচেছ। কিন্তু আমরা যারা এ দেশের সাধারণ জনগণ, আমরা প্রতিদিন হেরে যাচ্ছি অপশক্তির কাছে, নষ্ট রাজনীতির কাছে। আমাদের ইউরোপ যাওয়ার সুযোগ নেই, বৃটেনের ভিসা নেই। তোমাদের চেয়ে আরও ঢের কষ্ট নিয়েও আমরা এখানে আছি, আমাদের কেউ বলছে না, এসো, তোমাদের জন্য আমার দেশের দরজা খোলা! কেন বলছে না, প্রহর! তোমার কষ্টে আমার যদি কষ্ট হয় তাহলে আমাদের কষ্ট কেন তোমাকে পোড়ায় না! তবে কি এ দেশকে সত্যিই নিজের করে ভাবছ না তুমি, তোমরা!

না, তা নয়! নীতু জানে, তা নয়। প্রহরদের বুকের মধ্যে সবুজ একটুকরো বাংলাদেশ জেগে থাকে। দেশ ছেড়ে যাবার কষ্ট তাদের বুকের মধ্যে অবিরাম খোঁচায়, দগ্ধে মারে। তবু কেন চলে যায় প্রহরেরা? কেন নীতু চাইলেই ছুঁতে পারে না প্রহরের উষ্ণ চিবুক!

আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কি যে বলে নীতু, নিজেই জানে না । চমক ভাঙে মৃদুলের বিরক্ত, ভারি, ঘুমঘুম স্বরে! মৃদুল বলে—না ঘুমিয়ে আজও বসে আছ! পাগলামি আর কতদিন চলবে!

চমকে, ফিরে তাকায় নীতু! অন্ধকারে মৃদুলের শরীরটা আবছা দেখায়। তার ছায়ার দিকে তাকিয়ে নিজেই যেন নিজেকে প্রশ্ন করে নীতু—কতদিন চলবে!

বিরক্ত মৃদুল চলে যায় নিজের রুমে। ঘুমহীন লাল চোখে ইজিচেয়ারে মূর্তির মতো বসে থাকে নীতু। প্রহর নিশ্চয়ই এখন ঘুমুচ্ছে। আহা! ঘুমোক প্রহর।

প্রহর বলে সে কোনো স্বপ্ন দেখে না। দুঃস্বপ্নও নয়। নীতুর ভারি অবাক লাগে। স্বপ্ন ছাড়া কি করে বাঁচে মানুষ! এই যে সে, নীতু, প্রায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়স, সে তো প্রায় প্রতিদিন কত কত স্বপ্ন দেখে। প্রায় রাতেই দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠে বাকি রাত জেগে থাকে নির্ঘুম! তাহলে প্রহর কেন স্বপ্ন দেখে না?

সে প্রহরকে স্বপ্নে দেখে প্রায়ই! প্রহরকে দেখে তার একান্ত আপনার জন হিশেবে, প্রাত্যহিক জীবনের আটপৌরে অনুসঙ্গ হিশেবে। যেন দীর্ঘদিনের অভ্যস্ত জীবন তাদের! অথচ প্রহর! তবে কি তার মধ্যে নীতুর জন্য আদৌও কোনো অনুভব নেই? নীতু কি তবে মিথ্যেই প্রহরের কষ্টগুলোকে, দুঃখগুলোকে নিজের বলে লালন করে বুকের মধ্যে, ধারণ করে একান্ত অনুভূতিতে? আর এই বয়সে এসে, এই পৌঢ় জীবনের সীমান্তে দাঁড়িয়ে অদেখা, অচেনা এক পুরুষের জন্য এই যে গোপন শিরশিরে এক অনুভূতি বুকের মধ্যে তা ঠিক কী আর কেন? যেখানে কোনোদিন দেখা হবার সম্ভাবনা নেই, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এমনকি ফোনে কথা বলার ইচ্ছেটুকুও নেই কারও মধ্যেই সেখানে এই আশ্চর্য অনুভূতিটাকে কী নাম দেওয়া যায়? ভালোবাসা? প্রেম? ভেবেই অজান্তে হেসে ওঠে নীতু। ভারি হালকা লাগে শব্দদুটো। প্রেমে পড়ার, ভালোবাসাবাসির বয়স তো আর নেই! পরক্ষণেই ভাবে, এসবের কোনো বয়স কি আদৌ ছিলে কোনোদিন, না আছে? নেই। তবু নিজের ভেতরে প্রহরের জন্য জন্ম নেওয়া অনুভূতিটাকে সে ঠিক চিনে উঠতে পারে না। প্রহরের জীবনে তার মতো একাকিত্ব নেই। নেই কোনো অপূর্ণতাও। নীতুর ভেতরে জন্ম নেওয়া বোধটাকে উপলব্ধি করা প্রহরের পক্ষে তাই অসম্ভব। তবু নীতু কেন সমর্পিত হয় প্রহরের প্রতিই? প্রহরই বা কেন নীতুকে বলে—ভালোবাসি! নর-নারীর চরিত্রের এ কি দুর্জ্ঞেয় রহস্য! যদি এমন হতো, নিয়মিত দেখা হচ্ছে তাদের, কথা হচ্ছে, তথাকথিত শরীর-নামক অনুসঙ্গটি নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের, তাহলে একটি সহজ ব্যাখ্যা হয়তো মিলত এ প্রশ্নের। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যাখ্যাটা সহজে মিলতে চায় না। নীতুর দিক থেকে মেলে, তার একাকিত্ব, যন্ত্রণা তাকে ধাবিত করছে প্রহরের দিকে, প্রহরের অস্তিত্বের দিকে। কিন্তু প্রহরের দিক থেকে এর ব্যাখ্যা কী হতে পারে? নারীর প্রতি সহজাত আকর্ষণ? অদেখা, অচেনা, স্পর্শের বাইরের নারীর প্রতিও কি থাকে এ আকর্ষণ? নাকি আসলে দেশের প্রতি টান, মায়া আর মমত্বই নীতুর প্রতি আকর্ষণের মূল রহস্য প্রহরের? নীতু কি তবে প্রহরের কাছে এক টুকরো দেশ? ছিঁড়ে যাওয়া ঘুড়ির একটা টুকরো? যা ছিঁড়ে গেছে জেনেও হাতে নিয়ে বুক চেরা দীর্ঘশ্বাসে, নিবিড় মমতায় ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে জড়িয়ে নিতে বুকের সাথে? তবে কি এও ভালোবাসারই অন্য নাম?

অন্ধকার বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে দেখতে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে নীতু। মাঝে মাঝে মনে হয় প্রহর সত্যিই ভালোবাসে তাকে! মনে হয় বুকের মধ্যে সে টের পায় প্রহরের অস্তিত্ব। তখন আর নিজেকে মোটেই একা লাগে না তার। বুকের মধ্য থেকে প্রহর যেন বলে ওঠে—আছি, আমি আছি! ভয় নেই!


অচেনা, অজানা, অনাত্মীয় পুরুষের অস্বিত্বের জন্য এই যে হাহাকার, তৃষ্ণা, কী নাম এর?


গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে তখন। সুখের চোরাস্রোত তাকে ভাসিয়ে দিতে চায়, ডুবিয়ে দিতে চায়। নিজেকে সবচেয়ে সুখী মানুষটি মনে হয় তখন। আবার মাঝে মাঝে, যখন প্রহরকে আর খুঁজে পায় না নিজের মধ্যে, তখন ভারি হাহাকার করে ওঠে মন, কষ্টের তীব্র আগুন পুড়িয়ে দিতে চায় নীতুর অস্তিত্বের ভিটে! প্রহরকে ভারি অচেনা লাগে তখন, অনেক দূরের মনে হয়। চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে তখন—আহ্! প্রহর! কোথায় তুমি!

অচেনা, অজানা, অনাত্মীয় পুরুষের অস্বিত্বের জন্য এই যে হাহাকার, তৃষ্ণা, কী নাম এর? জানে না নীতু। শুধু জানে প্রহর তার বুকের মধ্যে অনেকটা জায়গা দখল করে আছে। সে নীতুর মনোজগতের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ এখন। প্রহরেরটা? সে প্রহরই জানে! সে তো আর নীতুর মতো একাকিত্বের যন্ত্রণা আর হাহাকার বুকে নিয়ে, প্রাত্যহিকতার নানাবিধ অপূর্ণতা নিয়ে পড়ে নেই বাংলাদেশের জ্যামে ভরা শহরের নোংরা এলাকার মাত্র দেড় হাজার স্কয়ারফিটের এক সাধারণ ফ্ল্যাটে! বিলেতের আয়েশি জীবনে সে গা ভাসিয়েছে সময়ের স্রোতে।

আকাশে শুকতারাটা জ্বলজ্বল জ্বলে। সেদিকে তাকিয়ে নিজের ভেতর এক সীমাহীন শূন্যতা টের পায় নীতু। হাহাকার জাগে বুকে। কি এক কষ্ট দম বন্ধ করে দিতে চায় তার। মনে হয় ঐ অনন্ত আকাশ, তার বুকে ভেসে থাকা অসংখ্য নক্ষত্রপুঞ্জ, রাতের এই জমাট আঁধার, হৃদয় উদাস করা এই উতল হিমেল হাওয়া সব এমনি পড়ে থাকবে। এমনি রাত আসবে পৃথিবীতে, আসবে দিন, শুধু সেই হারিয়ে যাবে কোনো অতল, অসীম মহাশূন্যে। বুকের মধ্যে এমনি শূন্যতার দহন আর হাহাকার নিয়ে সে একা নাই হয়ে যাবে আর এক অন্তহীন হাহাকারের গহ্বরে। পরক্ষণেই সে ভাবে, না, সেই অনন্ত গন্তব্য পথে কী আছে তা তো আদতে জানা নাই তার! হাহাকার নাকি আনন্দরাশি অপেক্ষা করে আছে তা জানে না তো সে! কিন্তু এই যে জীবন, কাটিয়ে দিচ্ছে সে সীমাহীন একাকিত্ব আর হাহাকার সাথে নিয়ে কী অর্থ আছে এ জীবনের? প্রহর চলে গেছে, এই চলে যাওয়া তার জীবনে খুব অর্থবহ তো নয়! প্রহর কোনোদিন ছিলই না তার জীবনে। কিন্তু তবু প্রহর আছে! ভীষণভাবে তার জীবনে আছে। নীতুর বুকের মধ্যে নিভৃত ভাবনাগুলো প্রবলবেগে বুদ্বুদ তুলে জানান দিয়ে যায় প্রহরের অস্বিত্ব। প্রহরের অনস্তিত্ব স্বীকার করার শক্তিটুকু তাই নিজের মধ্যে খুঁজে পায় না নীতু। কিন্তু নিজের মধ্যে তৈরি হওয়া প্রবল ঝড়টার ধাক্কা সে সামাল দিতে পারে না কিছুতেই। ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসা শরীরটা নিজের ভেতরে তৈরি হওয়া বেসামাল ঝড়ে ফুলে ফুলে ওঠে। দু হাতে মুখ ঢেকে সে ফুঁপিয়ে ওঠে নিপুণ সতর্কতায়। মেয়েরা পাছে টের পায়, পাছে টের পায় মৃদুল! সপ্তর্ষিমণ্ডলের প্রশ্নবোধক চিহ্নটা তেমনি জিজ্ঞাসা নিয়ে তাকিয়ে থাকে বোবা চোখে। নিজের ভেতরের যন্ত্রণাগুলোকে আজ অনেকটা ওগরে দিয়েছে নীতু। প্রায় পঞ্চাশ পেরোনো ভরাট শরীরটা ইজিচেয়ারে এলিয়ে দিয়ে সে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সিগারেটে টান দেয় অকারণ। সিগারেট নিভে গেছে কখন, সে খেয়াল রাখে নি সে। পাশের ছোট্ট টেবিলটায় ভদকার বোতলটা খোলা পড়ে থাকে, গ্লাসটা অর্ধেক খালি। যাক, প্রহরের গল্পটাও আজ লেখা হয়ে গেল। এবার নিশ্চয়ই প্রহর অষ্টপ্রহর তার বুকের মধ্যে উজ্জ্বল প্রদীপ হয়ে জ্বলবে না আর! ভেবেই আপন মনে হেসে ওঠে নীতু! জ্বলুক, প্রহর তার বুকের মধ্যে মঙ্গলপ্রদীপ হয়ে জ্বলুক, পুড়িয়ে দিক তার অন্তরের যত কালিমা ও পাপ, আঁধার ও ভ্রম। সোনা হয়ে উঠুক তার তাপিত হৃদয়। সে জানে এক জীবনে অনেক অপ্রাপ্তি যেমন জমা হয় মানুষের জীবনে তেমনি কিছু প্রাপ্তিও সেখানে থাকে, খালি চোখে হয়তো তা দেখা যায় না তবু কেউ কেউ হৃদয় দিয়ে অনুভব করে সে প্রাপ্তির একান্ত আবেশ।

অন্ধকারে একটি নারীর শরীর আবছা এলানো থাকে ইজিচেয়ারের হালকা দুলুনির ভাঁজে। অন্ধকার হা করে গিলতে চায় তার শরীরী অস্বিত্ব। কিন্তু অন্ধকার জানে না নিজের অন্তর্লোকে ছড়িয়ে পড়া আলোয় নীতু আচ্ছন্ন হয়ে গেছে, অন্ধকারের সাধ্য নেই সে আলো ঢেকে দেয়। সপ্তর্ষিমণ্ডল ঈর্ষায় জ্বলে। বহুদূরে, হাজার মাইল দূরের একটি শহরে তখন ম্যাপললিফের পাতা ঝরে পড়ে। হাওয়া বয়ে যায় দীর্ঘশ্বাসে। গৃহের মায়াবী উষ্ণতায় তখন অঘোরে ঘুমোয় প্রহর নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশী। হয়তো সে ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে গ্রিনকার্ডের অথবা তার বুকের মধ্যে ঢেউ তুলে যায় লাল সবুজের এক জাদুর পতাকা। দূরত্বটা তবু অনতিক্রম্য। নীতু আর প্রহর দু জনের স্বপ্নে যেমন হাজার মাইলের ব্যবধান। আবার অন্যদিকে এই ব্যবধান কোনো ব্যবধানই নয়। তাদের মধ্যে আদতে কোনো দূরত্ব নেই। একজনের বুকের মধ্যে অন্যজন জ্বলে, সংগোপনে, নিরন্তর। শুধু কষ্টগুলো ঢেউ ভাঙে অবিরাম, দূরত্ব মেপে চলে।

শিল্পী নাজনীন

শিল্পী নাজনীন

জন্ম ১৪ জুলাই, ১৯৮১; কুষ্টিয়া। কবি, কথাচিত্রী।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : শিক্ষকতা।

প্রকাশিত বই :
ছিন্নডানার ফড়িঙ [উপন্যাস, কাা বুকস, ২০১৬]
আদম গন্দম ও অন্যান্য [গল্পগ্রন্থ, ছিন্নপত্র প্রকাশনী, ২০১৭]
তোতন তোতন ডাক পাড়ি [শিশুতোষ গল্প, ছিন্নপত্র প্রকাশনী, ২০১৭]

ই-মেইল : 81naznin@gmail.com
শিল্পী নাজনীন