হোম গদ্য গল্প ধামরাই টু গুলিস্তান

ধামরাই টু গুলিস্তান

ধামরাই টু গুলিস্তান
932
0

‘ধামরাই টু গুলিস্তান ডি লিংক’ লেখা মোটরগাড়িতে চড়লে আমার কেবলই ঘুম পায়। অথচ আগেও আমি এই গাড়িতে চড়েছি বহুবার—যখন ভার্সিটির ছাত্র ছিলাম আর নিপুণ নামের এক মেয়ের পিছে পিরিতের জন্য ঘুরতাম। নিপুণও আমার ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট ছিল কিন্তু ভার্সিটির জেনুইন স্টুডেন্ট বনতে পারে নাই। কারণ সে লেডিস হলে রাতযাপন করত না। তার বাড়ি ধামরাই হওয়াতে সে ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’ লেখা মোটরে চড়ত আর আমি তার মুখোমুখি খাড়ায়া থাকতাম। তো আজ অনেকদিন বাদে আবার এই মোটরে বসে আমি ঘুমাই আর স্বপ্নও দেখি নিপুণকে নিয়ে। ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’ লেখা মোটরগাড়িতে বসে নিপুণকে নিয়ে দেখা স্বপ্নটা ভাংতো না, যদি না ড্রাইভার কড়া ব্রেক ধরত। ঘুম ভাঙার পর আমি কড়া ব্রেকের টাল সামলাতে না পেরে নাজেহাল হলে পাশের যাত্রীটির গায়ে ঢলে পড়ি। তখন কেবলই কানে আসে কে যেন কারে হুয়োরের পুত সম্বোধনে চেঁচামেচি করছে। আর তখন পাশের যাত্রীটি যার গায়ে আমি ঢলে পড়ি তারে আমার চেনা চেনা লাগে। তখন ভাঙা স্বপ্নটা জোড়া লাগে। লোকটা আমারে মনে মনে বলেছে, হালায় গাঞ্জা খায়া গাড়িত ওঠছে নি কিংবা সারারাইত হালায় চুরি করছে। কিন্তু মুখ ফুটে যেহেতু বলতে পারে নাই তাই আমি স্বস্তি পাই। আর তখন তারে আমি চিনতে পারি আর বলি, আপনি নিপুণের মামা না, ওই যে জাহাঙ্গীরনগরে পড়ত নিপুণ?


পড়া; পলিটিক্স; প্রেম এই তিন ‘প’ মিলে ভার্সিটি লাইফ।


পাশের সিটে বসা যে-যাত্রীটারে আমি নিপুণের মামা ডাকছি তার নাখোশ ভাব দেখে বলি, আরে ওই-যে, একদিন আমারে ধরার লাইগা নিপুণ আপনারে মেসেজ দিয়া জানাইতেছিল ‘ধামরাই টু গুলস্তিান’ মোটরগাড়িটা কই থাইকা কই যাইতেছে। আর আপনি মিয়া রেডি হইয়া ছিলেন আমারে ধরার লাইগা। শুনছিলাম হস্তে সরিষার তৈলও নাকি মারছিলেন। কী হইল এমন চোখ কইরা রাখছেন ক্যা, ঘটনাটা কি ইয়াদে নাই? বুঝছি খুইলা বলতে হবে। তাইলে শোনেন মন দিয়া।

আমি তখন থার্ড ইয়ারে পড়ি আর পিরিতের জন্য হাপিত্যেশ করি। ‘পিরিতি পিরিতি পিরিতি পিরিতি পিরিতি সজনী গো পিরিতি আজো শিখলাম না’ এই গান যখন মুখে বাজত তখন একদিন ডিপার্টমেন্টে নিপুণ আসে। ডিপার্টমেন্টে জুনিয়র ব্যাচ আসার পর পর, যে সিনিয়র পোলারা পিরিতের আঠায় নিজেকে আটকাতে পারে নাই তারা ফাঁদ পাতে। আমিও পাতছিলাম বেশ কয়েকবার কিন্তু ফাঁদে কেউ পড়ে নাই। আমরা যখন ভার্সিটিতে নতুন তখন ওরিয়েন্টেশনের দিন এক মাস্টারমশাই বলেছিলেন, পড়া; পলিটিক্স; প্রেম এই তিন ‘প’ মিলে ভার্সিটি লাইফ। যারা দুই ‘প’ এর সঙ্গে থাকে তারা জিনিয়াস, যারা তিন ‘প’ এর সঙ্গে থাকে তারা ওভারজিনিয়াস, আর নরমালি এক ‘প’ সবার সঙ্গে থাকে। তো থার্ড ইয়ারে উঠার পর আমি কোনো ‘প’ এর সঙ্গে নিজেকে না জড়ানোয় হতাশ হয়ে পড়ি। আমার কিছু ইয়ার ছিল যারা মাঝে মাঝে গাঞ্জামাঞ্জা খাইত। আমার বেশি হতাশা বোধ হইলে মাঝে মধ্যে দিতাম দুয়েক বাড়ি। ওইরকম হতাশার দিনগুলিতে নিপুণ ঢেউ তুলে ডিপার্টমেন্টের করিডোর দিয়ে হাঁটা দিতে দিতে আমারে এসে জিজ্ঞাসা করে, এক্সকিউজ মি, ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস কোনদিকে বলতে পারেন?

ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস কোনদিকে নিপুণের এই প্রশ্নের জবাবে আমি সেদিন কিছুই বলতে পারি নাই। তবে ক্লাসের দিকে সে যখন হাঁটে তখন আমিও ছিলাম হালকা পাশেপাশে। আর এই দৃশ্যটা আমার ওইসব ইয়াররা দেখে আর বলা শুরু করে,  প্রেমের সুধা পান করে নাও ওরে আমার দিওয়ানা। কিংবা তখন আশিক বানায়া আশিক বানায়া গানটার খুব চল ছিল। আমার অবস্থা তো এমনিতেই নাচনে বুড়ি তার ওপর ঢোলের বাড়ি—কাহাতক আর সহ্য করা যায়। কিন্তু আমার লেখা চিত্রনাট্য অনুযায়ী তো আর কাহিনি আগায় না। তখন মনে পড়ে ভার্সিটির এক মাস্টারমশাই বলেছিলেন, ভার্সিটিতে মেয়েরা ক্লাস শুরু করার পর প্রেমের প্রস্তাব পেলে ভাবে, তার প্রেমিক পুরুষটি পৃথিবীর বাইরে মানে মঙ্গলগ্রহের কেউ হবে। কিছুদিন পর সে ভাবে, প্রেমিক পৃথিবীতেই আছে তবে আমেরিকা কিংবা ইউরোপ। তারপর ভাবে, না বাংলাদেশেই আছে তবে ডাক্তার না হয় ইঞ্জিনিয়ার। এভাবে দিন গড়াতে থাকলে সে দেখে তার পেছনে প্রেম দাও প্রেম দাও বলে যে-ছেলেরা ঘুরত তারা যখন আর ঘুরে না তখন সে ভাবে এই ভার্সিটিতেই আছে ওই ছেলেটা। কিন্তু ততদিনে মেঘে মেঘে বেলা অনেক গড়ালে বান্ধবীদের প্রেম করা দেখে বলে, একটা ছেলে হলেই চলবে।


এই মাইয়াও তো হলে থাকে না। তাইলে পিরিতের মজা পাবি ক্যামনে?


আমি নিপুণের পিছে ঘুরতে থাকি আর আশায় বুক বাধি যে, একদিন নিপুণের দর কমবে। আর তখন সে আমাকে চোখ বন্ধ করে বেছে নেবে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন দুইদিন তারপর বেশ কয়েকদিন এক ছেলের সঙ্গে হাসতে হাসতে নিপুণ ক্যাম্পাসের এইখানে ওইখানে ঘুরে। আমি এইবারও হতাশ হয়ে পড়ি। তখন ভাবি আমাকে দিয়ে হবে না। ওইসব হতাশার দিনে ইয়ার দোস্তর দল আমাকে ঘিরে ধরে। আর তখন ঠাকুরগাঁও থেকে পড়তে আসা আব্দুর রউফ যে-সাভারের এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম প্রেম খেলত সে অভিজ্ঞতার সুরে সান্ত্বনা দেয়, আরে এই মাইয়া তো হলে থাকে না। সন্ধ্যার আগে বাড়ি পালায়। ক্যাম্পাসে প্রেম জমে তো সন্ধ্যার পর। আমারে দেখ প্রেম কইরা সন্ন্যাসী হইছি। সবাই যখন সন্ধ্যার পর নিজ নিজ ডার্লিং নিয়া আন্ধার খুঁজে তখন আমি লোকাল মাইয়ার লগে প্রেম কইরা হারিকেন জ্বালায়া জপ করি। যে-মাইয়া হলে থাকে না আগে জানলে জীবনেও ওই মাইয়ার লগে প্রেম করতাম না। তারপর সে নিপুণের বরাত দিয়ে বলে, তোর এই মাইয়াও তো হলে থাকে না। তাইলে পিরিতের মজা পাবি ক্যামনে?

প্রেমবিষয়ক এইসব নানান কথা শোনার পরও আমি নিপুণকেই প্রেমিকা বানাতে চাই। আর তখন আমার গাঞ্জামাঞ্জা টানা ইয়ার দোস্তরা ব্যাপারটা ফিল করতে থাকে। তো এমনই একদিন যখন বৃষ্টির হালকা পতন হচ্ছিল তখন নিপুণ আর ওই ছেলেটাকে রোমান্টিক মুডে দেখা পায় আমার গাঞ্জামাঞ্জা খাওয়া দোস্তরা। মানে পেয়ার হুয়া একরার হুয়া পেয়ার সে ফির কিউ ডারতাহে দিল টাইপের অবস্থার মধ্য দিয়া তারা হাঁটছিল। হয়তো-বা তখন আমার গাঞ্জামাঞ্জা বন্ধুরাও মুডে ছিল। তখন তারা ছেলেটাকে হালকা পাতলা ডলা দেয়। নিপুণ ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিল তাই কোনো আওয়াজ করে নি। পরেরদিন থেকে ছেলেটাকে আর নিপুণের সঙ্গে দেখা যায় নি। নিপুণ যেহেতু লেডিস হলে থাকত না তাই বিকালের পর কিংবা অফ ডে-তে তার দেখা পাওয়ার চান্স ছিল না। তাই তার ক্লাস-রুটিন ম্যানেজ করি। নিজের ক্লাস আগেও ঠিক মতন করি নাই আর তখন নিজের ক্লাসের চেয়ে নিপুণের ক্লাসের খোঁজ বেশি রাখা শুরু হয়। নিপুণ ক্লাস শেষ করে বাসায় যাওয়ার সময় আমি তার পিছে হাঁটা দেই। সে ছাতা দিয়ে নিজেকে যতই আড়াল করতে চায় আমি ততই ফাঁক করতে থাকি। এভাবে পায়ের পথ শেষ হলে আমরা ডেইরি গেটে আসি। তখন আমাদের সামনে এসে হার্ড ব্রেক করে ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’ ডি লিংক মোটরগাড়িটা। দুয়েকমিনিটের ব্রেকে গাড়িতে চড়ে নিপুণ ইঞ্জিন কাভারে বসে। আর আমি খাড়ায়া থাকি তার সামনে। তখন বাসের কন্ট্রাক্টর এসে পেছনের সারিতে সিট দেখিয়ে বসতে বললে, নিপুণের সামনে হিরো হওয়ার জন্য কিংবা তার দৃষ্টি ধরার জন্য ঝাঁঝাল গলায়, বসব না যা—বলে চিল্লায়া ওঠি। তখন নিপুণ আমার দিকে না দেখে কেবল তার দৃষ্টিটাকে পায়ের পাতায় আটকে রাখে। পরিস্থিতিটা তখন আমার কিংবা নিপুণ কারোরই অনুকূল কিংবা প্রতিকূল কোনোটাতেই থাকে না। আমি কেবল চাই সে একবার মাথাটা তুলে আমার দিকে যেন তাকায় আর সে মনে মনে নিজের পায়ের পাতা ছাড়া আর কোনোদিকে তাকাবে না এমন কসম কাটে। এভাবে একসময় মোটরগাড়িটা নয়ারহাট এলে নিপুণ নেমে পড়ে। আমিও নেমে পড়ি। নিপুণ হাঁটতে থাকে। আমিও হাঁটতে থাকি। নিপুণ কি-বা মনে করে পেছনে ঘাড় ঘোরালে আমার চোখে চোখ পড়ে যায় আর তখনই তার হাঁটার গতি বাড়তে থাকে। আমি তখন গতি কমাই।

এভাবে ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’-এ চড়তে থাকি দুইজনে। আমার দিকে সে দেখে না। আমার মুখেও কথা ফোটে না। তারপর নয়ারহাটে গাড়ি থামে। সে নামে। হাঁটা দেয়। আমি হাঁটি তার পিছে। দিনে দিনে পিছে হাঁটার দূরত্ব কমতে থাকে। আমি ভাবি এভাবেই একদিন পাশাপাশি হাঁটা হবে। তারপর কথা হবে। হাতে হাত রাখা হবে। এসব ভাবনার দিনে নিপুণ বাস থেকে নেমে একটা চিপা গলিতে ঢুকে পড়লে আমিও ঢুকি। তারপর গলির মাথায় গেলে দেখি কয়েকটা ষণ্ডা পোলা। আর যাওয়ার সাহস হয় না।


আমি নিপুণের কাছে যাই প্রতিবছর আজকের এইদিনে।


তখন একদিন আমার ইয়ার দোস্তরা পিরিতের খবর নেওয়ার জন্য হাজির হলে ঘটনা শুনে হতাশ হয়। তখন জুওলজির আসাদুল্লাহ সরদার যে বাপ-মায়ের দেয়া নাম বাদ দিয়া ভার্সিটিতে প্রেম করার জন্য ‘প্রিয়’ নাম নেয় তারপর সবার টিটকারিতেও বাদ দেয় না, সে সবার সামনে আমারে ম্যাদা বলে। এইকথায় সবাই হো হো করে উঠলে আামার ভেতর মরে যাওয়ার জেদ চাপে। এই প্রিয় ফার্স্ট ইয়ারে এক মেয়ের প্রেমে পড়ে আর তাকে গুলিস্তান থেকে কেনা আটা মোবাইল গিফ্‌ট করে টক অব দ্য ব্যাচ হয়েছিল, তারও একটা গার্লফ্রেন্ড আছে। আমরা তখন ফার্স্ট ইয়ারে নতুন। প্রতিদিন ২টার ভার্সিটি বাসে চড়ে নিউমার্কেট আসি বড়োলোকের সুন্দরী বউ বেটি দেখার জন্য। তো একদিন প্রিয় চলে যায় গুলিস্তান। আর সেখানে এক লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারপর লোকটা তারে বলে, সে খুব বিপদে পড়ছে, জরুরি টাকার দরকার। তখন প্রিয়কে তার মোবাইলটা দেখায় আর বলে, মাত্র একহাজার টাকা হলে সে এটা বিক্রি করবে। তখন নাকি মোবাইলটার চার্জও ছিল না। অনেক দরদামের পর প্রিয় মোবাইলটা নয়শ টাকায় কেনে। তারপর ভার্সিটিতে এসে আমাদের কিছু না বলে, সরাসরি যে-মেয়েটার পিরিতে পড়েছিল তার হাতে মোবাইলটা দেয়। মেয়েটা মোবাইলে সিম লাগানোর জন্য খুলে দেখে ব্যাটারির জায়গায় আস্ত একটা আটার ব্যাটারি। তো সেই আটার ব্যাটারি প্রিয়ও প্রেম করেছিল তবে অন্য আরেকটা মেয়ের সঙ্গে। এইরকম হতাশায় আমি ডিসিশনটা নিয়ে ফেলি আর পরদিন যখন নিপুণ বাড়ি যাওয়ার জন্য ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’-এ চড়ে তার সামনে কটমট করে খাড়ায়া থাকি। দেখি নিপুণ ঘনঘন তার মোবাইলটা টিপছে। আমি বুঝি নাই কাহিনি কী। তারপর যখন বাস থেকে নিপুণ নামে আর তার পিছে আমি নামি তখন নিপুণ বলে, মামা ওই যে, ওই যে ওই ছেলেটা আমার পিছে লাগছে। লোকটা আমারে দেখার আগে আমি সটকে পড়ে পাশের একটা চায়ের দোকানে ঢুকে গ্লাসে মুখ লাগাই আর আড়ালে দেখি। নিপুণ বলার পরই হাঁটা দিয়ে নিপুণের মামা আমারে খুঁজে বেড়ায়। তার মামা আমার চেহারা ভালো মতো দেখে নাই তাই ধরা পড়ি নাই। এর পরদিন আমি আবার নিপুণের সামনে ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’-এ খাড়ায়া থাকি। মোটর নয়ারহাট থামে। নিপুণ নামে কিন্তু আমি আর নামি না। জানালা দিয়া দেখি নিপুণ হাঁটে। নিপুণ যখন দৃষ্টির আড়ালে যাবে তার আগ মুহূর্তে পিছনে ফিরে দেখে। আমি পিছনে নাই। এভাবে দিন গড়াতে থাকে। আমি নিপুণের সামনে ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’-এ খাড়ায়া থাকি। তারপর নিপুণ বাস থেকে নামে কিন্তু আমি নামি না। তারপর থেকে আমি আর কোনোদিন নিপুণের পিছনে হাঁটি নাই। তখন নিপুণ একদিন বলে, নাই যদি নামবেন তাইলে বাসে উঠেন কেন? এরপর থেকে নিপুণের পাশে পাশে হাঁটছি।

আমার পাশে বসা লোকটা যারে আমি নিপুণের মামা ডাকছি লোকটা এইবার চোখ তুলে তাকায় আর বলে, তাইলে নিপুণ গেল কই? আমি তার দিকে তাকায়া বলি, এইটা তো আপনি আমারে বলবেন। লোকটা আমারে ধুর মিয়া বললে আমি তারে বলি, একদিন ‘ধামরাই টু গুলিস্তান’ হার্ডব্রেক করতে পারে নাই আর তখন নিপুণ ভার্সিটি গেটের রাস্তার পাশে খাড়ায়া ছিল। তারপর নিপুণের সঙ্গে কারও আর কোনোদিন দেখা হয় নাই। আজ অনেকদিন পর ‘ধামরাই টু গুলিস্তান ডি লিংক’-এ বসার পর যে-স্বপ্নটা দেখি তাতে মোটরটা হার্ডব্রেক না করলে হয়তো-বা আমরা ঘর করতাম।

লোকটা তখনও আমার কথা বুঝতে না পারলে বলি, আমি নিপুণের কাছে যাই প্রতিবছর আজকের এইদিনে।

Masud Parvaj

মাসুদ পারভেজ

জন্ম ২১ জানুয়ারি, ১৯৮৫; দিনাজপুর।

শিক্ষা : স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, বাংলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, শাবিপ্রবি, সিলেট।

প্রকাশিত বই—

জীবনানন্দের ট্রাঙ্ক [কবিতা, চৈতন্য, ২০১৬]
বিচ্ছেদের মৌসুম [গল্প, দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৫]
ঘটন অঘটনের গল্প [গল্প, বটতলা, ২০১১]

ই-মেইল : parvajm@gmail.com
Masud Parvaj