হোম গদ্য গল্প ধর্মহীন পল্লবনগরী

ধর্মহীন পল্লবনগরী

ধর্মহীন পল্লবনগরী
336
0

প্রথম কিস্তির লিংক

ধর্মহীন পল্লবনগরী ৪

নটিপাড়ায় আইজ ঈদ লাগছে। ঢেলকা খিছুড়ি জমিয়্যা যাইবার আগে যেইরূপ বল্কায়, আগুনের হল্কায়, সেইরূপ নটি মেয়েরাও এইদিন বল্কায়, আশু আগুনের আগমনে। উহারা ফুলের ন্যায় ফুটিয়্যা উঠে পুঁতিগন্ধময় ধর্মহীন এই পল্লবনগরীর রোগ সারাইবার মহান ব্রতে। সকাল হইতেই গতরে কাঁচা হলদি মাখিয়্যা লয়, চুলে মেন্দি আর খোস-পাঁছড়ায় নিমপাতা। তাহাদে গরম জলে চানাদি সারে, বাসনা সাবান সহযোগে। আতর সেন্ট মারিয়্যা লয় ক্যাত্তলাসহ শইল্যের নানা অলিতে গলিতে, কানের লতিতে। কেহ কেহ ভুরু ফ্লাক করে, কেউ মনোযোগী হয় অযাচিত নুম্বা পরিষ্কারে। তাহাদে চুনু পাউডাল কিরিম মারিয়্যা ওষ্ঠ রাঙ্গায় হরেক রঙ্গা রঞ্জনীতে। কেষ্ট বিষ্টু কাস্টোমারের জন্যি সাজায় সুগন্ধি তামাক ও মসল্লাদার তাম্বূল। ইয়ার ফাঁকে-ফুঁকে পাহাইড়া ও চইরা ছ্যাদর ছ্যারাদের ঠকানির নানা ফন্দি কষে। বেশির ভাগ ছোকরাই বুকে হাত দিয়্যাই লঙ্গি চ্যাড়াব্যাড়া কইরা ফালায়। ফলে উহাদের লইয়্যা ভাবনা নাই। কিন্তু তাগড়া যুয়ানেরা কেবল বুকেই থামিয়্যা যায় না, নামিয়্যা আসে আরও গভীরে। উহাদের ছাইতান মাছের ন্যায় চেঙ্গি দিয়্যা ধরিতে হয় সাত-সকালে। নেহেলে ইহারাই রাইত কাবার করিয়্যা দিয়্যা পারে, মোটে দুই/তিনটা টঙ্কার বিনিময়ে। ফলে ওই ভুল কেহই করিতে চাহে না। খেলা জমিয়্যা উঠিবার আগেই পতনের বাঁশি বাজে। নিষ্ঠুর রেফারির ন্যায় যথা সুমায়ে বাঁশি বাজাইতে না পারিলে তিন মাসের রুজগার এক রাইতে আসিয়্যা ধরা দিবে কিভাবে? তাই উহারা ফন্দি কষে কিম্বা লোক ঠকানোই ইহাদের কাজ। তয় কহনও কাউরে পছন্দ হইলে হারা রাইত রাখিয়্যা দেয়, নিজে থিক্যাই। রেফারি তেখন বেকার ঘুমায়, খেলা জমিয়্যা উঠে তুমুল বেগে। আয়নায় তাকাইয়্যা এইসবই ভাবে আয়নামতি। তার ছুট্টো গৃহে যবুনা বহিয়্যা যায়। পাখিরা কিচিরমিচির করিয়্যা ডাকে। পাল তোলা নৌকায়, হাজার হাজার মানুষ এপার-ওপার করে। আম্বিয়্যার বাপে আহে। খালোই ভর্তি মাছ। কয়, বউ মাছ কুটো, আমি কয়ডা চিন্যার চাইল নিয়্যা আসি, বেশি কইরা ঝাল দিয়্যা রাইন্দো, গুটা আলু দিয়্যা।


এমন একটা যাদু দেখামু…সেই যাদুতে তুমাগো পুঙলিঙ্গ ঝরিয়্যা পড়িয়্যা ইস্তিরি লিঙ্গ গজাইবো। এইবার হাজেরানে মজলিশের ভিড় ঠেলিয়্যা ক্ষুদ্র বালকদিগকে সটকে পড়িতে দেখা যায়


ধর্মহীন পল্লবনগরী ৫

ধর্মহীন পল্লবনগরীর সর্ববৃহৎ প্রাঙ্গণে মেলা জমিয়্যা উঠিয়্যাছে। সাপুড়িয়্যা সাপ নাচাইতাছে, বানরিয়্যা বানর। মুরগ নাড়াই জমিয়্যা উঠিবার প্রাক্কালে জাইর‌্যা পুলাহান ক্যাত্তলা বাইড়িয়্যা সুমানে পাদের আওয়াজ করিতেছে। হাফ ন্যাংটা মেয়েলুকের নগে ফুল ন্যাঙটা হাতি ঘুড়া ও বাঘ নইয়্যা মাঠে নামিয়াছে সার্কেস দল। লুকে-লুক্যারণ্য প্রাঙ্গণের এক কোণে ছাতিম বৃক্ষ ভুদাইয়ের ন্যায় খাড়িয়্যা রহিয়্যাছে। তারই পায়ের উফরে গামছা বিছিয়্যা অদ্ভুত মড়া সাপের মাথা, বানরের হাড্ডি বনরুইয়ের চামড়া নিয়্যা বসিয়্যা গলা ফাটাইতাছে সুবাহান। আমি গিরান্টি দিয়্যা কহিতে পারি, আপনেরা কেউ কামরুক কামাক্ষা যান নাই, ন্যাঙটা মেয়েগো নারী রাইজ্য দেকেন নাই। কারণ যে একবার দেকছে সে আর ঘুইরা আইবার পারে নাই। খালি আমার উস্তাদ শিলমোহন বাবু, বাপের বেটা আমের হামজা, খালি ছুটিয়্যা আসিতে পারিয়াছে, অনন্ত যৈবন নিয়্যা। এইক্ষণে সুবাহান থামে। বাসকো থিক্যা কী যানি বাইর করে, চুলের ন্যায় কালা কালা। কয়, এইডা কী? হাজেরানে মজলিশ, কন এইডা কী? হাজেরানে মজলিস উত্তর দিয়্যা পারে না। ভুদাইয়ের ন্যায় খাড়িয়্যা খাকে। তারই সুযুগে সুবাহান কয়, এইডা হইল মনা ও মনি। আশেক ও মাশেক। পেমের নীল দইর‌্যা। তেহেলে দেকেন, আশেক-মাশেক এখন দূরে আছে, কেউ কাউরে চিনে না। এই যে পেমের জল ছিটিয়্যা দিলাম, দেখেন কী ঘটে! হাজেরানে মজলিশ এইবার প্রত্যক্ষ করে মনা-মনি আশেক-মাশেক সদৃশ দুইটা চুলের ন্যায় গাছের শিকড় একটা আরেকটারে পেঁছাইয়্যা ধরিতেছে। ধরিতে ধরিতে একাকার হইয়্যা যাইতাছে। এইক্ষণে সুবাহান চিক্যার দিয়্যা উঠে, ‘হক মওলা….পেমের আশেক-মাশেক নীল দইরায় ডুবিয়্যা যাইতাছে। মনা-মনি খুনাখুনি করে না, তারা খালি একে অন্যরে ভালবাসিয়্যা যায়। তেহেলে এই যে পেমের ভালবাসাবাসি, সবে কিন্তু পারে না!’ কইয়্যা হাজেরানে মজলিশ পানে চায় সুবাহান। হাজেরানে মজলিশ নিজের অজান্তেই হু করিয়্যা উঠে। আর সুবাহান এই সুযুগে আরেকটা চিক্যার দেয়, হক মওলা। সাধু বাবা শিলমোহন, তুমি আমার বাবা, আমি তুমার পুত্রধন। কথা কও বাবা।’… কিন্তু বাবা কথা বলে না। হেইও করিয়্যা আরেকটা চিকার মারে সুবাহান। আর কয়, এইখানে বারো বচ্ছরের নিচে ক্যারা ক্যারা পুলাহান আছো? হাত তুলো… কিন্তু কেহই হাত তুলে না। তেমু সুবাহান কয়, তাহারা সরিয়্যা যাও। নেহেলে এমন একটা যাদু দেখামু…সেই যাদুতে তুমাগো পুঙলিঙ্গ ঝরিয়্যা পড়িয়্যা ইস্তিরি লিঙ্গ গজাইবো। এইবার হাজেরানে মজলিশের ভিড় ঠেলিয়্যা ক্ষুদ্র বালকদিগকে সটকে পড়িতে দেখা যায়। কিন্তু জাইর‌্যা পুলাপান ঠিকই রহিয়্যা যায়। উহাদের সম্মুখেই একটা ফটোক তুলিয়্যা ধরে সুবাহান। একটা ন্যাঙটা মেয়েলুক। সৌন্দর্যে উবুডুবু। তাহার বুকে মাছির ন্যায় উঁচু কালো চুঁচি আর আর নীচের ঘন জঙ্গল দেখিয়্যা মোহিত হইয়্যা যায় হাজেরানে মজলিশ। এই সুযুগে সুবাহান আবার চিক্যার মারে, হক মওলা। সাধু বাবা শীলমোহন যাদুর দেশ, নারীর দ্যাশ কামরুক কামাক্ষা থিক্যা এই ছবি নিয়্যা আসিয়াছে। সবেই বলেন, সুবাহানাল্লা। আরও একটা জিনিস বাবা আনিয়াছে আপোনাদের জন্য। সেইটা কী? এইবার থইলা থিক্যা একটা শিকড় বাইর করে সুবাহান, কাঁফা কাঁফা হাতে। হাজেরানে মজলিশ মুহি বাড়ােইয়া ধরে। কয়, দেহেন তো চিনেন নিকি? কিন্তু কেহই চিনে না। এই সুযুগে সুবাহান আবারও চিক্যার মারে, সাদা লজ্জাবতী। কুথাও কুনুদিন দেকছেন? হাজেরানে মজলিশ না না করিয়্যা পাল্টা চিক্যার দিয়্যা উঠে। এই সুযুগে সুবাহান কহিয়্যা যায়, এই শিকড় দিয়্যা বানাইনা তাবিজ মাঞ্জায় বাইন্ধা বিছনায় উটপেন…. আঠারো মিনিটের আগে কলমের কালি পড়িবে না….বলেন সবে সুবাহানাল্লা….জয় সাধু বাবা শীলমোহন, আমি তারই পুত্রধন। আমি আপনেগো আরেকটা জিনিস দিয়্যা পারি কিন্তু দিমু না। কী সেই জিনিসি? হাজেরানে মজলিশ ফের কিছু কইয়া পারে না। সুবাহান একাই কয়। একটা বাটিতে জেলির ন্যায় কী যানি দেকা যায়…হাজেরানে মজলিশের কেউ একজন চিন্যা ফালায়। কয়, এইডা তো পারদ। সুবাহান খুশি হয়। কয়, তাত বুঝলাম, এইটা একটা পারদ। ইঙরাজিতে কয়, মারকারি। কিন্তু এইডা খাইলে কী হয়? হাজেরানে মজলিশ নিশ্চুপ হইয়্যা যায়। তারই সুযুগে ফের কতা কহিয়্যা উঠে সুবাহানে। কয়, এইডা খাইলে কিচ্চু হয় না, কিন্তু লিঙ্গ দিয়্যা বাইরাইলে আপনে রাজা। এক রাইতে দুই তিনশ নারী নেওয়া কুনু ঘটনাই ন্যা। শুনিয়্যা খুশিতে জিলক্যায় হাজেরানে মজলিশ। কিন্তু পরক্ষণে অজানা আশঙ্কায় বুবা ধরিয়্যা যায়। যখন সুবাহান কহে, কিন্তু ধরেন চাই, যুদি চোখ দিয়্যা বাইরায়, কী হইব তেখন? হাজেরানে মজলিশ জবাব করা পারে না। সুবাহান চিক্যার দিয়্যা উঠে, পকেট সাবধান। চোক কানা হইলে ক্ষতি নাই, কিন্তু পকেট সাফ হইলে ক্ষতি আছে। আর যুদি কান দিয়্যা বাইরায়…. তেহেলে কান ঠঁসা হইয়া যাইবে। আর যদি গুহ্যদ্বার দিয়্যা বাইরায়, তেহেলে কী হইবে? কহিয়্যা হাজেরানে মজলিশ পানে মিচকি মিচকি হাসে। এইক্ষণে হাজেরানে মজলিশ সবই বুঝিয়্যা যায়। মজলিশের ভিড়ে লুকাইয়্যা তাহা জামবানুর বুইড়া জামাই এইবার সুযুগ পাইয়্যা চিক্যার দিয়্যা উঠে, মারা খাইতে খাইতে জেবন শ্যাষ। তার বলার ঢঙে হাজেরানে মজলিশ খ্যাক খ্যাক করিয়্যা হাসিয়্যা উঠে। এই সুযুগে সুবাহান কয়, আমার এই সাদা লজ্জাবতীর শিকড়, তার চাইয়্যা অনেক ভালো। তাবিজে বাইন্দা বিছনায় উটপেন, আঠারো মিনিটের আগে কলমের কালি পড়বো না। আমি চ্যালেছ দিয়্যা কইলাম। মাত্র দুই ট্যাকা দুই ট্যক্যা দুই ট্যাকা। ছাতিম বিরিক্ষ ফ্যাল ফ্যাল কইর‌্যা চাইয়্যা থাহে। গত রাইতে ছাল-বাকলা তুইল্যা নেওয়ায় শইলড্যা খালি জ্বলে।


মাইঞ্জায় বাইন্দা বিছনায় উটপেন, আঠারো মিনিটের আগে কলমের কালি পড়বো না


ধর্মহীন পল্লবনগরী ৬

দুই টেক্যা দুই টেক্যা দুই টেক্যা…. কইতে কইতে সুবাহান মুখে ফ্যান্টা তুইল্যা ফালায়। আর একটা সাদা শিকড়ের ন্যায় কী যানি নিয়্যা হাজেরানে মজলিশমুখী আইগিয়্যা যায়। কিন্তু সুবাহান যেত আইগায়, হাজেরানে মজলিশ তেত পিছ্যায়। ফলে সুবাহান নতুন কইরা হাঁক ছাড়ে, সাধুবাবা শীলমোহন…. আমি তাহার পুত্রধন। বাবার আশীব্বাদ আর মায়ের কিরিপা….তাই এই ওষুধের দাম অর্ধেকে নাইম্যা এখন এক ট্যাকা এক ট্যাকা এক ট্যাকা। আর তাবিজের দাম মাত্র চাইরানা। মোটমাট পাঁচ সুকি দিলেই পাইয়্যা যাইবেন অনন্ত যৈবন। মাইঞ্জায় বাইন্দা বিছনায় উটপেন, আঠারো মিনিটের আগে কলমের কালি পড়বো না… আমি চ্যালেছ দিয্যা কইলাম! নিবেন কেউ, ভর্দমহোদয়গণ? এই শুনিয়্যা নজ্জাশরমের মাতা খাইয়্যা এক পাহাইড়্যা ছেড়া কুছে হাত দেয়। গেল-বার নটিপাড়ায় যাইয়্যা সুবিধা করা পারে নাই, এক চেঙ্গিতেই কাম সাবাড়। তাই ভাবে, যুদি সাদা লজ্জাবতী সত্যি হয়, তেহেলে সারা রাইত কাবার কইরা দিয়্যা পারুম। কুছে হাত দেওয়া মাত্র তার পানে ছুইট্যা যায় সুবাহান। চিক্যার দিয়্যা উঠে… এই না হইলে বাঘের বাচ্চা…! কইয়্যা হাজেরানে মজলিশ পানে চায়, দেহে আরও কয়্যাক জন কুছে হাত দিছে। সুবাহান শীতের দিনেও ঘাইম্যা উটছিল পরাই। কিন্তু আর তার কিনো চিন্তা নাই। সে এখন জানে একে একে সবেই তার সাদা লজ্জাবতী নইয়্যা নটিবাড়ি দৌড়াইবে। হাজেরানে মজলিশ নটিপাড়ামুহি রওনা হইলে সুবাহান বাসকো প্যাটরা গুছাইতে তাহে। তেখন জামবানুর বুইড়্যা জামাই গলা খাঁকারি দেয় আর কয়, ব্যপসা তো ভালোই করলি, কিন্তু ট্যাকসো তো দিলি ন্যা… সুবাহান এইবার ঘাইম্যা যাইতে নেয়। কয়, আজ্ঞে কর্তা…এই কইরা কুনুরূপে দিন গুজরান… বুইড়্যা জামাই হাসে, কয়…তা তো দেকপারই নুইছি…এক বচ্ছরে ফুইল্যা ঢোল হইছত… সুবাহান তার হতাশায় তৈরি কাটবোডিমার্কা বোডিতে টুপল্যার ন্যায় ভুঁড়ি জামার তলে সামলিয়্যা রাখার বৃথা চেষ্টা করে। আর আমতা আমতা কইর‌্যা কয়, না…কনে? না কনে…মানে? কইয়্যা জামবানুর বুইড়্যা জামাই সুবাহানের টোপলা ভুঁড়িতে ছাতির ডাঁটি দিয়্যা খোঁচা দেয়। আর কয়, তা যাইগ্গা, কিন্তু তুই যে আমারে মৃগনাভী কইয়্যা চক্রাবক্রা একটা ছাগলের নাভি ধরিয়্যা দিলি….আতর মাইর‌্যা, ওইটা ধুয়া পানি খাইয়্যা ভেদ বমি করতে করতে মইরাই গেছিলাম গা… সুবাহানের গলা শুকিয়্যা আহে। খটখটা গলায় কয়, কী যে কন কত্তা! কী আবর কমুরে কুত্তার বাচ্চা…তুই আমারে মাইরাই ফালাইছিলি…অল্ফর জন্য বাঁইচ্যা গেছি। তাইলে কত্তা, আমনে বন ঠিকমতো সেবন করেন নাই। কইয়্যা সুবাহান আরেকটা ভুল করে। কর্তা এইবার চিক্যার দিয়্যা উঠে। কয়, চ্যাঙটাকি ফুটার আগেত্থন আমি মৃগনাভী চাবাই, তুই আমারে মৃগনাভী চাটা শিকাস? এইবার মোক্ষম জবাবটা সুবাহানের জিউভায় চলিয়্যা আসে, কিন্তু নিজেরে থামায়। তেহেলে মৃগনাভী ভাবিয়্যা ছাগলের নাভি নিলাইন ক্যা? না কহিয়্যা কয়, গুস্তাকি মাপ করবেন হুজুর, আমার ভুল হইয়্যাছে। খাড়ান আপনেরে একটা নতুন জিনিস দিত্যাছি। কইয়্যা ঝোলা থিক্যা একটা শিশি বোতল বাইর করে। জামবানুর জামাই আগ্রহী হইয়্যা উঠে। কয়, কী এইড্যা? সুবাহান কয়, মাহেরু জানোয়ার আর লাল সাপের বাচ্চার ত্যাল। একবার সেবন করিয়্যা দেকপেন, শইল্যে আঠারো বচ্ছরের বাচ্চার যৌবন চলিয়্যা আসিবে। এক নিমিষে রাইত কাবার হইয়্যা যাইবো। জামবানুর বুইড়্যা জামাই থরোথরো হাতে শিশি বোতল ধরিতে যায় আর কয়, রাইত কাবার নিয়্যা চিন্তা নাই, খাড়াইবো কিনা তাই ক? সুবাহান এইবার খিছখিছ কইর‌্যা হাসে, আর কয়, খাড়ানের মালিক আল্লাহ। বিসমিল্লাহ কইয়্যা সেবন করবেন, আর আল্লারে ডাকপেন… কর্তা আবার ক্ষেইপ্যা উঠে। কিন্তু এই ক্ষেপন্তিসে কিনো জোর নাই। কয়, স্ট্যান্ডিং আপের নিগ্যা যুদি আল্লারেই ডাকন নাগে, তেহেলে তর এই লাল সাপের বাচ্চা দিয়্যা কী ফালামু? এইবার মিচি মিচি হাসতে হাসতে সুবাহান কর্তার কানের কাছে মুখ নিয়্যা কী যানি কয়। কর্তার মুখ উজ্জ্বল হইয়্যা উঠে। কর্তা কয়, আগে কবি ন্যা কুত্তার বাচ্চা? আদরের গালি দিয়্যা বসে। সুবাহানের হাতে এক ট্যাকার একটা নোট ধরাইয়্যা দিয়্যা জামবানুর বুইড়া জামাই হন হন কইর‌্যা হাঁটা ধরে।

Abu Mustafiz

আবু মুস্তাফিজ

জন্ম ১৭ অক্টোবর, ১৯৭৬, টাঙ্গাইল। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, সরকার ও রাজনীতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা : ব্যবসায়।

প্রকাশিত বই :
গল্প—
লুহার তালা [শুদ্ধস্বর, ২০১০]
একটি প্রাকৃতিক সাইন্স ফিকশন: শিন্টু ধর্মাবলম্বী রাজা, সবুজ ভদ্রমহিলা ও একজন অভদ্র সামুকামী [গুরুচণ্ডা৯, কলিকাতা, ২০১২]
ট্যাকারে ট্যাকা [শুদ্ধস্বর, ২০১৪]

ই-মেইল : abumustafiz@gmail.com
Abu Mustafiz