হোম গদ্য গল্প তেলাপোকা

তেলাপোকা

তেলাপোকা
2.82K
0

বিগ বসের মেয়েকে দেখে আমার মাথাটা পুরাই আউট!

জীবনে সুন্দরী মেয়ে অনেক দেখেছি। সুন্দরী মেয়েদের সাথে অনেক প্রেমও করেছি। কিন্তু রিনিকে দেখার পর মনে হলো, আমার আগের সব দেখায় ভুল ছিল। প্রেমে পড়ায় ভুল ছিল। আমি অযথাই নিজেকে নিয়ে অহঙ্কার করি। অযথাই ভাবি—মেয়েদের কাছে আমি চকোলেট বয়!

নিজের জীবনের সমস্ত প্রেমের অভিজ্ঞতা নিজের কাছে যখন এক নিমেষে খারিজ হয়ে যায় তখন খুব সম্ভবত নতুন প্রেমের স্বাদ নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো গতি থাকে না। আমার বেলাতেও তাই হয়েছে। আমি মরিয়া হয়ে উঠেছি—যেভাবেই হোক, রিনিকে আমার চাই। যদিও জানি—তাকে পাওয়ার পথে রয়েছে অনেকগুলো বাধা।

১ নং বাধা রিনির বাবা, অর্থাৎ আমার বিগ বস—ড. আবিদ আলী। ২ নং বাধা রিনির মা—পারুল মেহজাবিন এবং ৩ নং বাধা স্বয়ং রিনি। অবশ্য ৩টা বাধার মধ্যে ১ নং বাধা আমার জন্য কিছুটা শিথিল। কিন্তু বাকি ২টা বাধা একেকটা চীনের প্রাচীর। তবু এগোতে হবে।


শক্ত বাধা পেরিয়ে রিনির দিকে এগোনো বেশ কঠিনই হবে। তারপরও দমে যাওয়ার পাত্র আমি নই।


এগোতে হবে বিগ বসকে ভর করে। কারণ তিনি আমার কাছে ধরা। কিভাবে ধরা সেটা বলি। ড. আবিদ আলী পশুসম্পদ বিভাগের মহাপরিচালক হলেও কম্পিউটারে অদক্ষ। কিন্তু কম্পিউটার যন্ত্রটার প্রতি তাঁর রয়েছে অদম্য আগ্রহ। বিষয়টা টের পেয়ে বিভাগের নতুন বিসিএস কর্মকর্তা হিশেবে আমি সানন্দে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। আমার কারণে প্রথম দিনই কম্পিউটারে প্রবেশ করার সুবাদে ব্যাপক খুশি হয়ে তিনি আমাকে গুরু সম্বোধন করেন। সেই থেকে শুরু। এখনো আমি তাঁর কম্পিউটার-গুরু পদে অধিষ্ঠিত রয়েছি। তাই আশা করি রিনি-মিশনে এই বিশেষ পদটি কাজে লাগবে।

কিন্তু মিসেস আলী অর্থাৎ পারুল মেহজাবিনকে একদিনের দেখায় যতটুকু বুঝেছি, তিনি হলেন প্রচণ্ড বদমেজাজি ও নিজের সাহেবকে হাতের আঙুলের ওপর নাচাতে পছন্দ করেন। এই ধরুন-না সেদিনের কথাটাই। ঘটনাটা খুবই সামান্য কিন্তু মিসেস আলীর কাছে তা ছিল মহাভারত অশুদ্ধ হওয়ার মতো ব্যাপার। একজন কম্পিউ-নবিস হিশেবে বিগ বস সেদিন কম্পিউটারে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন যে, লাঞ্চ করার কথা তাঁর মনেই ছিল না। এই খবর পেয়ে মিসেস আলী স্বয়ং পাজেরো হাঁকিয়ে অফিসে চলে আসেন। এসে দেখেন, তার বদ-স্বামীটি ফেইসবুকে স্মোকি হট সাইজের নব্য বান্ধবীদের সাথে চ্যাটিং-এ ব্যস্ত। মিসেসকে দেখে তো মিস্টারের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

মিসেস পারলে মিস্টারের কলার ধরে টেনে তুলে তখনই লাঞ্চ করান। কিন্তু ঘটনাস্থলে অকস্মাৎ আমার আগমন ঘটায় বেঁচে যান বস। আমি এসে দেখি, দুজন অপরূপ সুন্দরী তরুণী বসের রুমকে আলোকিত করে তুলেছেন। দুজনের চেহারা-দৈর্ঘ্য-সৌন্দর্য, হেয়ারস্টাইল একইরকম। কিন্তু কথাবার্তার ধাঁচ শুনে এবং ভালোভাবে ঠাহর করে বুঝতে পারি— এদের একজন আমাদের মিসেস আলী। আর বাকিজন আলী-কন্যা রিনি। এভাবেই পরিচয়। কথা না হলেও রিনির চৌকস রূপের ছটায় একেবারে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম আমি। সেদিন থেকেই পণ করি—একে আমার চাই-ই চাই। তো যাই হোক, আমার কাছে মনে হয়েছে মিসেস আলী বিগ বসের থেকে সম্পূর্ণ উল্টো চরিত্রের একজন মানুষ। ফলে তার মতো শক্ত বাধা পেরিয়ে রিনির দিকে এগোনো বেশ কঠিনই হবে। তারপরও দমে যাওয়ার পাত্র আমি নই।

আর যেহেতু রিনিই টার্গেট পয়েন্ট সেহেতু তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করব না।


মহাত্মা গান্ধী ভারতবর্ষকে স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য ইংরেজ লর্ডকে একটা চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু লর্ড সাহেব সে চিঠির কোনো পাত্তা দেন নি। প্রতিবাদস্বরূপ মহাত্মা গান্ধী ৩১৬ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে সমুদ্র পাড়ে যান—যেখানে ভারতীয় লবণ শ্রমিকরা কাজ করতেন। এই খবরটি সারা দুনিয়ার মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশ হলে তিনি গ্রেফতার হন। আর এটাই তিনি চাচ্ছিলেন। এর পরের গল্প তো সবার জানা। যা হোক, আমার মনে হয় মহাত্মা গান্ধীর সাথে আমার একটা জায়গায় বেশ মিল আছে। মানে পূর্ব পরিকল্পনার ছক। তিনি যেমন সূক্ষ্ম-পরিকল্পনা করে ইংরেজদের কুপোকাত করেছিলেন আমিও তেমনি সুন্দরী মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কুপোকাত করি।


শিউলি আমার কাছে এসে, সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’


অপরিসীম সাধনার মধ্য দিয়ে মেয়েদের কাছে আমি নিজেকে চকোলেট বয় হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। সর্বদা পড়াশুনায় ভালো রেজাল্ট, হাল ফ্যাশনের পোশাক পরিধান, চটপটে স্বভাব, সর্বোপরি আল্লাহ প্রদত্ত লাল্টু-মার্কা চেহারা আমাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এখন আমার কাছে প্রেম করা হলো ডাল-ভাতের মতো একটা ব্যাপার। বন্ধুরা কেউ কেউ ঈর্ষা করে আমাকে লাভগুরু নামে ডাকে। আমি মজা পাই। হাসি।

নিজের সম্পর্কে আজই প্রথম মুখ খুললাম। মুখ যখন খুলেছিই, তো শিউলির গল্পটা শেয়ার করি।

ঘটনা বেশ কিছুকাল আগের। উইমেন কলেজ রোডের বিশেষ স্থানে আমি প্রতিদিন ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতাম। শিউলি কখনো আমার দিকে ফিরেও তাকাতো না। কিন্তু যখন তার সহ্য-সীমা একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, সেদিন আমার গালে কষে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। কিন্তু থাপ্পড় খেয়েও আমি এমন ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি যেন আমাকে মোটেও থাপ্পড় মারে নি, আদর বুলিয়েছে। তারপরই ঘটে আসল ঘটনা—গান্ধীজির মতো আমিও যেটা চাচ্ছিলাম।

শুরু হয় শিউলির অনুশোচনা পর্ব। একটি ছেলে, যে কি-না তার জন্য ফুল হাতে হররোজ দাঁড়িয়ে থাকে; তার অপরাধ—সে কাউকে ভালোবাসে, কিন্তু ভালোবাসার অপরাধে কাউকে থাপ্পড় দেওয়া তো আরো বেশি অপরাধ!—এই মহৎ বোধটি শিউলিকে পীড়া দিতে থাকে। ঘটনা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, শিউলি রাতে ঘুমাতে পারে না, পড়াশুনায় মন বসাতে পারে না—সারাক্ষণ শুধু থাপ্পড় কিংবা আমাকে নিয়ে ভাবতে থাকে। ওদিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমি উইমেন কলেজ রোডে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর যেটা হয়, কলেজে যাওয়া-আসার পথে বিশেষ স্থানটিতে আমাকে দিনের পর দিন খুঁজতে থাকে শিউলি।

টানা সাতদিন পর যেদিন আমি কলেজ রোডে যাই, আমার জন্য অপেক্ষা করছিল ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত—প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু। শিউলি আমার কাছে এসে, সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ এভাবেই শিউলি তার মনটি আমার হাতে সঁপে দেয়। নিতান্ত ক্ষুদ্র এই উদাহরণটির মাধ্যমে আমি আমার প্রেমের শক্তিমত্তার কিছুটা হলেও প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করলাম। আশা করি রিনির ব্যাপারেও আপনাদের সাপোর্ট পাব।


আমি অপেক্ষায় আছি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন রিনি আর আমার মধ্যে কোনো প্রাচীর থাকবে না। আপনারাও জানেন—সুতীব্র বাসনা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ মনোজাগতিক নানাবিধ সমস্যায় ভোগে।



আমি এমন এক কূটচাল-জাদুর ফাঁদ পেতেছি, বিগ বস ক্ষণে ক্ষণে আমাকে ডাকেন। আমাকে ছাড়া তিনি কিচ্ছু করতে পারেন না।

পুরো অফিসের সবাই অবাক। এই কি সেই বস! তাদের ধন্ধলাগা চোখ দেখে আমি মুদু মৃদু হাসি। বস আগে যেমনটা ছিলেন—দুনিয়ার সকল মানুষের ওপর বিরক্ত এমন ভঙ্গি নিয়ে অফিসে ঢুকতেন। তাঁর পানসে-কালো ঠোঁট দুটি এমনভাবে একটার সাথে আর একটা লেপ্টে থাকত যে, মনে হতো সুপার গ্লু মারা। ফলে তাঁর আগমনে অফিসের তটস্থ পিয়নবাহিনী ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ত। তিনি নিজের রুমে ঢুকেই চেয়ারের টাওয়েল এবং টেবিল দেখতেন। প্রতিদিনই তাঁর চোখে পড়ত টাওয়েল উল্টে ভাঁজ পড়ে আছে এবং টেবিলের গ্লাসে চায়ের দাগ নয় তো অন্যকিছু। এই নিয়ে তিনি পাক্কা ত্রিশ মিনিট পিয়নবাহিনীর ওপর গালিগালাজ চালাতেন। এটা ছিল তাঁর রুটিন্‌ড হম্বিতম্বি।

তারপর এক কাপ দুধ-চায়ের সাথে ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে ৩/৪টা পেপারে চোখ বোলানোর পালা। বলে রাখি, এটা অতীব ডেঞ্জারাস পিরিয়ড। কারণ সাংবাদিকরা পেপারে কী-সব যে লেখে আর তা পড়ে তিনি প্রচণ্ড ক্ষেপে যান। এ-সময় তিনি এটাসেটা ভেঙেও ফেলেন। তো একদিকে ৩/৪টা পেপারে চোখ বোলানোর ক্লান্তি অপরদিকে সাংবাদিককুলের প্রতি ক্ষোভ—সব মিলিয়ে এক কাপ  ‘র’ চায়ের টাইম চলে আসে। তারপর টানা এক ঘণ্টার বিশ্রাম। শুধু এ-টুকুই নয়—আরো আছে;—ফাইলঅলারা ততক্ষণে ঘুরঘুর শুরু করে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, এই কিসিমের বসদের কলম ফাইল-সিগনেচারের ব্যাপারে বড়ই সচেতন থাকে। নগদ নাই তো কলমের কালিও শেষ। এরই জের ধরে কারো ফাইল আসা মাত্র চলে যেত টুপ করে, আবার কারো ফাইল দিনের পর দিন আটকে থাকত স্তূপের নিচে। বসের এই কাজ পরিচালনা করতো অফিসের পিয়ন শ্রীমতী প্রমিলা দেবী। কিন্তু সাম্প্রতিক হালহকিকত দেখে শ্রীমতী প্রমিলা দেবীর কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। প্রমিলার ধারণা—আমি তার স্যারকে বাগিয়ে নিয়েছি। ব্যাপারটা ভাবলে ভালো লাগে। মনে মনে বলি—সো স্যরি শ্রীমতি প্রমিলা দেবী!

এটা ভেবে ভালো লাগে যে, আমি আমার ডিপ্লোম্যাটিক বুদ্ধি দিয়ে বিগ বসকে আমূল বদলে ফেলেছি। তিনি আর আগের মানুষটি নেই। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল। এখন আমি চাইলেই তাঁর পাজেরো হাঁকাতে পারি, যেকোনো বিষয়ে আলাপ জুড়ে বসতে পারি—এমনকি কোন ফাইল সিগনেচার হবে, কোনটা হবে না—এ ব্যাপারেও ডিসাইড করতে পারি। (যদিও ফাইল-বাণিজ্য আমার কাজ নয়। কেননা প্রেমই আমার আরাধনা।) তো আমার বসের এই যে পরিবর্তন, এটা আমাকে অনেক বেশি কনফিডেন্ট করে তুলেছে। আমি চাইলেই যে অনেক কিছু করতে পারি—এটা তারই উদাহরণ। যদিও এটা আমার মূল চাওয়া নয়। আমি অপেক্ষায় আছি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন রিনি আর আমার মধ্যে কোনো প্রাচীর থাকবে না। আপনারাও জানেন—সুতীব্র বাসনা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ মনোজাগতিক নানাবিধ সমস্যায় ভোগে।


ক্বচিৎ কখনো বাড়িতে ঢুকতে কি বেরোতে চোখে পড়েছে তার রুমলাগোয়া ব্যালকনিতে পাতলা ফিনফিনে রাত পোশাকের দোলাচল আর মিষ্টি গোলাপি বাটারফ্লাই  ডিজাইনের অন্তর্বাস…



নির্ঘুম শেষরাত্রিকালে মাথায় অদ্ভুত এক পাকাবুদ্ধি ঝনঝনিয়ে ওঠে। পরদিন অ্যাপ্লাই করা-মাত্র বস এক বাক্যে রাজি। ব্যাপার খুব সহজ। বসকে লেখক বানাব। তিনি আপাতত পত্রিকায় কলাম লিখবেন। কলাম ফাটানোর পর মূল বিষয়ে ঢুকে পড়বেন। অর্থাৎ উপন্যাস। কিন্তু সমস্যা হলো—বসের দ্বারা একটা লাইনও লেখা সম্ভব নয়। বস্তুত মহাপরিচালকের পদটি অলঙ্কৃত করা ছাড়া তিনি আর কিছু পারতে চান বলে মনে হয় না। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমার ওপর দায়িত্ব পড়ে এবং সুযোগ পেয়ে যাই তার আলিশান বাড়িতে যাতায়াতের।


আমার বর্তমান অফিস বিগ বসের মোহময় ড্রয়িং রুম। প্রতিদিনের মতো নিবিষ্ট মনে সেদিনও কলাম লেখার কাজ করছিলাম। কলাম শিরোনাম: ‘পশুসম্পদের গুরুত্ব।’ সত্যিকারের লেখকদের মতো কলাম লেখার কাজে এতটাই বুঁদ হয়েছিলাম যে, রিনি কখন ড্রয়িং রুমে এসেছে টের পাই নি। এর আগে অনেক চেষ্টা করেছি তার সামনাসামনি হওয়ার। সুযোগ পাই নি। ক্বচিৎ কখনো বাড়িতে ঢুকতে কি বেরোতে চোখে পড়েছে তার রুম-লাগোয়া ব্যালকনিতে পাতলা ফিনফিনে রাত পোশাকের দোলাচল আর মিষ্টি গোলাপি বাটারফ্লাই ডিজাইনের অন্তর্বাস…

রিনি দূর থেকে আমাকে দেখে চমকে উঠে বলে, ‘হু ইজ দেয়ার?’

আমি উঠে দাঁড়াই এবং কাঁচুমাচু করে নিজের পরিচয় দেওয়ার মতো ভঙ্গি করি। রিনি ডিবি পুলিশের মতো আমার দিকে এগিয়ে আসে। এই ফাঁকে সন্তর্পণে আমি একটা তেলাপোকা ছেড়ে দিই। (বলতে লজ্জা নেই প্রেমাস্ত্র হিশেবে এই ধরনের জিনিস যেমন—ছোট ব্যাঙের বাচ্চা, টিকটিকি, চকোলেট কিংবা লুকোনো গোলাপ টাইপের কিছু সবসময় আমার কাছে থাকে।) আল্লাহর কী অশেষ মেহেরবানি—তেলাপোকাটি একেবারে পোষা কুকুরের মতো এক দৌড়ে রিনির কাছে চলে যায়। ঠিক তার পায়ের কাছে গিয়ে লক্ষ্মী হয়ে বসে। আপনারা আশ্চর্য হলেও আমার কিছুই করার নেই, তেলাপোকাটি রিনির পা বেয়ে উঠতে শুরু করে। আর তখনই দিশেহারা রিনি সজোরে চিৎকার করে আমার দিকে ছুটে আসে। আমাকে জড়িয়ে ধরে আশ্রয় খোঁজে এবং তেলাপোকার হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজেকে অদৃশ্য করে ফেলতে চায়। আমি তার এলোচুলে বিলি কেটে দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করি, ‘ডোন্ট ওয়ারি! আমি তো আছিই!’

রিনি মূর্ছা যায়।

 

পুুুনশ্চ ১:
আপনারা যারা আমার গল্পটিকে গাল-গপ্পো বলে টিপ্পনি কাটছেন তাদের জন্য ব্রেকিং নিজউ: আসছে দোল-পূর্ণিমায় ঢাকা ক্লাবে রিনি আর আমার জমকালো শুভ-বিবাহ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নব-দম্পতির পক্ষ থেকে আমি আপনাদেরকে নিমন্ত্রণ করছি। আপনারা যারা আসবেন এবং যারা আসবেন না—সবার কাছেই আমরা দোয়াপ্রার্থী।

পুুুনশ্চ ২:
আমার সকল চাওয়া পূর্ণ হলেও একটা চাওয়া এখনো বাকি। সেটা হলো—পশুসম্পদ বিভাগের প্রধান পশুটিকে ধীরে ধীরে মানুষ করে তোলা। আপনাদের ভালোবাসা আর সহযোগিতা পেলে সেটিও পূর্ণ হবে।

মহিউদ্দীন আহ্‌মেদ

জন্ম ১ জুলাই ১৯৭৮, ধামরাই, ঢাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশায় স্ক্রিপ্ট-রাইটার।

সম্পাদিত ছোটকাগজ : জলসিঁড়ি।

ই-মেইল : mohiuddin_neil@yahoo.com