হোম গদ্য গল্প এক ফ্রিজের গল্প

এক ফ্রিজের গল্প

এক ফ্রিজের গল্প
1.11K
0

‘ছেপ আমার, পুটকি বি আমার, তুই দিবি ঠ্যালা, খানকির পোলা, তাইতে নাটকার কষ্ট।’ মুখটা খিঁচিয়ে কথাটা শেষ না করতেই ছোঁ মেরে টাকাগুলো নিয়ে নিল বিদ্দুত, যা সে ক্ষণকাল আগে নিজেই তা দিয়েছিল কেটুরে—এবং উদ্দেশ্য সরল—আসন্ন রমজানে কিছু বরফ আইন্না যাতে সে বিক্রি করে মুরগিটোলা মসজিদের সামনে। ভাদাইম্মা কেটুরে একটু লাইনে আনার জন্য অনেকদিন ধইরা বিদ্দুতরে অনুরোধ করছিল কেটুর বড় বইনে। বইনে অনুরোধ অনেকরেই করছে। মানুষও কম কয় না কেটুরে। কিন্তু কে হোনে কার কথা। গায়ে গতরে কম না—কিন্তু কাজে মন বহাইতে পারে না। ক্যান্, হাউয়ার পোতে কি পারে না এই রমজানে বরফ বেচতে—আয় পাহাইড়া বরফ। আয় পাহাইড়া বরফ।


প্রথম পুরস্কার আছিল ফ্রিজ। কোনো এক সাবানের ভেতর লটারির চাবি ঢুকাইয়া দিছে কোম্পানি


এইবার রোজা পড়ছে ভাদ্র মাসে। ওর মায়রে চুদি বিলাই খানকির পোলাবি পানিত নামব। রোজায় যত কষ্ট তত সোয়াব—হুজুরে কয়। ছোয়াবের মায়রে বাপ। যত গরম তত বরফ। যত বরফ তত লাভ। এইবার বরফ বিক্রি অইব দেদারছে। ১ টাকা সের বরফ বেচন যাইব ৪ টাকায়। সামনের মঙ্গলবারে তারাবি। কেটুর বইনের লগে পরামর্শ কইরা, বুদ্দিটা অবশ্য বিদ্দুতের, কেটুরে বরফ বেচনের পরামর্শ দিছিল। প্রতিদিন জোহরের পরপরই পাগলাবাজারের কোল্ডস্টোরের থন ১ মইন্না বরফের গোটা ৬ চাঁই আইন্না ২ মইন্না ছালার বস্তা আর ফরাশগঞ্জ থন সমিলের কাঠের গুঁড়া আইন্না দিয়া ঢাইকা রাখলে বরফ সহজে গলব না। ভ্যানে আনতে আর কয় টেকা লাগব। অর্দাঅর্দি লাভ। খালি মাল যেন পইড়া না থাকে, অবশ্য বৃষ্টি না অইলে পইড়া থাকনের চান্স নাইক্কা। বৃষ্টি অইলে বরফ অইব পানি। আর পানির কি দাম আছে কোনো।

তো কেটুরে যখন টেকাটা দিয়া বরফ বেচনের কথা কইল বিদ্দুত—উল্টা কেটু কয়—বরফ কইত্তে আনতে অইব হেয় তা জানে না। আর বিদ্দুত যেন ওর লগে যায়। এই রিকোস্ট করতেই মাক্ষি গিরা গরম তেলমে। বিদ্দুতের গতরে যেন বুদ্ধার ডাইলপুরির গরম তেল ছিট্টা আইল। তাই একেবারের শুরুর কথাটা কেটুরে হোনাইয়া গলি থেইক্কা বাইরাইয়া গেল। যাওনের সময় উল্টাদিক থেইকা আসা একটা ইয়াং বাইডির মাথায় হুদাই ঠুয়া মারল। এহানকার বাইডিরা বিদ্দুতের এই ব্যবহার আগে-পরে অনেক দেখছে। ব্যথা কিছুটা পাইছে তো বটেই, তবে বিষয়টা তেমন পাত্তা পায় না। সবাই জানে মাথায় মাল উঠলে বিদ্দুতের ঠিক থাকে না। বিদ্দুত অইল রইস। জারাসারা মাস্তানি করলে বি মাগার লোক খারাপ না।

কেটুরা বি রইস, মানে স্থানীয়। নিজেগো বাড়ি আছে, বাড়ির সামনে দোকান বি আছে। লেকিন নিজে দোকানদারি করব না। ভাড়া দিছে বাইডিগো, মানে ফরিদপুইরাগো, যারা আসলে ঢাকায় এইহানে থাইকা ছোটখাট গাওয়াল করে। নিজের ঘরের ভাড়া তো আর কেটু মিয়ার লাগে না, উল্টা ঘর ভাড়া পায়। সংসার চইলা যায় আর কি। তো বরফ বেচনের কথা আইলে কেটু মিয়ার মনে পড়ে তার প্রথম বরফ খাওনের স্মৃতি। বৃষ্টির সুময় আসমানের থন যেই বরফ পড়ে হেই বরফ খাওনের কথা বাদ দিলে সে পয়লা বরফ খাইছে তার নানির বদৌলতে। তার নানি তহন জিন্দা আর হেয় ছিল মহল্লার পাকা দাই। যেই রাশেদ তার হাতে অইছে এবং যেই রাশেদ কেটু মিয়ার সমবয়সী সেই রাশেদ গো বাড়ি থন সে একবার একবাটি বরফ আনছিল। কার জানি প্রসব বেদনা উঠলে কী এক প্রয়োজনে ওর নানির চাহিদা মতে হেই বরফ আনন লাগে। কেটু মিয়া তখন ছোট আর নানির নেওটা। নানির লগে লগে ঐ ছটিঅলা বাড়িতে হেয়ও গেছিল, প্রায় এমনটা যায় সে এবং ঐসকল বাড়ি থন টুকটাক এইটা সেইটা খাবার জোটে মাজেমইদ্দে সেই আশায়। তো হেইদিন সবাই যখন সদ্য মা হওয়া মেয়েটিকে নিয়া ব্যস্ত এবং অন্য কোনো খাবার তখনো তার জোটে নাই তখন সে চুপকে চুপকে ব্যবহার করা বরফের কয়েক টুকরা নিয়া পগারপার। বরফ যে এত ঠান্ডা অইবার পারে সে আগে বুঝবার পারে নাই। ঠান্ডায় তার ছোট দুই হাতের তালু জইমা আইতাছে। পালিয়ে রাস্তায় আসতে আসতে ১ টুকরা বরফ যেন ফাল দিয়া ড্রেনে পইড়া গেল।

ঐটার মায়া ত্যাগ কইরা লৌড় পাইড়া বরফ নিয়া আইসা বইল গিয়া তাজুগো বাড়ির পায়খানার কোনায়, সাইডে গোসলখানা তবে পায়খানার জায়গাটাই বেশি নিরিবিলি আর নিরাপদ, সাধারণত এইখানেই আইসা পোলাপাইনরা পলাইয়া থাকে। তো হাতের তালু অসার অইয়া যাইতাছে দেইখা উঁচা ঐ পায়খানার সিঁড়ির গোড়ায় বরফের টুকরাগিনি রাইখা মজা কইরা খায় কেটু মিয়া। আর খাওনের সময় তার মনে আহে তার চেয়ে মাস নয়েক ছোট মামাত ভাই, যে কিনা তার যত রকমের দুষ্টামির সঙ্গী, সেই সাপুর কথা, যদি ওরে বি সে বরফের একটুকরা এখন খাওয়াইতে পারত! আহা, তার দামটা ওর কাছে একটু বাড়ত। কিন্তু ওরে খুঁজতে গেলে যে বরফ পানি অইয়া যাইব গা, তা কেটু মিয়া জানে। তাই ঐ চিন্তা বাদ দেয় সে। কিন্তু এই স্মৃতি মনে আহনের পরপরই তার মনে উঠে—মুরগিটোলায় পয়লা ফ্রিজ আহনের গল্পটা, যা তারা হুনছে অনেকের কাছেই, হেইটা।

আমগো মুরগিটোলায় পয়লা ফ্রিজ মানে ঐ রেফ্রিজারেটর আর কি, আনছে অইল রাশেদগো দাদায়। আনছে কইলে ভুল অইব। আসলে পাইছে। তখন তো ফ্রিজ একটা বিরাট ব্যাপার। খানদানি বড়লোক ছাড়া কারো বাড়িতে দেখা যাইত না। সেইবার ‘বকমার্কা’ সাবান কোম্পানি কী এক লটারি ছাড়ছিল। প্রথম পুরস্কার আছিল ফ্রিজ। কোনো এক সাবানের ভেতর লটারির চাবি ঢুকাইয়া দিছে কোম্পানি। সেই চাবি যে পাইব ওইটাই পুরস্কার। বাইরে এজমালি গোসলখানায় কাপড় ধোয়ার সময় সাবান ক্ষয় হইতে হইতে হঠাৎ চাবিটার এক অংশ দেখতে পেয়ে রাশেদের বড় ফুফু প্রথমে কিছু বুঝবার পারে না। হেয় নিজেরে জিগায়—সাবানের ভিতর চাবি আইব কেলা। মর জ্বালা। তখন অবশ্য রাশেদ হয় নাইক্কা। আর হেই ফুফুরও বি সাদি হয় নাই। সাবানের ভিত্রে চাবি পাওনের কথা হুনতে রাশেদের দাদার বি পয়লা ভিরমি লাগে। কিন্তু কিয়ৎ পরেই তার মনে পড়ে লটারির কথা। সে ফালদা গিয়া চাবিটা হাতে নিয়া দেখে। সত্যিই তো—একটা সুন্দর চাবি। চাবির মাথায় একটা মার্কা বি দেখন যাইতাছে। মগর মার্কা কিসের রাশেদের দাদা মানে সোনার বাপে মানে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ধরবার পারতাছে না। তখন তো সাবানের কোনো প্যাকেট আছিল না। বিক্রি অইত সের দরে, কেজির হিশাব তখনও চালু হয় নাই। ৪ সাবানে ১ সের। লোহার শিক আছিল, সেই শিকের পুটকির মধ্যে ফুদ্দি থাকত। ফুদ্দি দিয়া পাটের রশি ঢুকাইয়া সাবান ছেদ কইরা ৪ সাবান একলগে বাইন্দা দিত।

তো যেইদিনকা মহল্লায় পয়লা ফ্রিজ আহে ঐদিনকা তো বটেই পুরা দেড়-হাপ্তা বিষয়টা ছোটবড় সবার কাছে টক অব দ্য মহল্লা হইয়া থাকে এবং মুরগিটোলা খালে টালুর বড় ভাই শালুর রহস্যজনক ডুইবা মরণের আগ পর্যন্ত তা বহাল থাকে।


২ দিন পরে শালুর লাশ ভাইসা উঠল দয়াগঞ্জ মোড়ের খালপাড়ের বাঁশপট্টির কাছে


পচাপানির খালে শালুরে পূর্ণিমা রাইতে, আসলে পূর্ণিমা আছিল কিনা কে জানে, তয় জোছনা আছিল বইলা সবাই মত দেয়—যেদিন গিরগি খবিশে ডুবাইয়া মারে হেইদিন থেইকা ফ্রিজের কাহানি ফিকে হয়ে আসে। তল্লাটের লোকেরা তখন সেই মৃত্যুরহস্য উদ্‌ঘাটনে তটস্থ হয়। শালু বাঁশের আড়বাঁশি বাজাইত জবর। শহুরে পোলা অইয়া অমন সুন্দর বাঁশি বাজানো কেমতে ও শিখল তা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়। খালপাড়ে সুয়ারেজের যে বড় বড় খালি পাইপ আছিল সেই পাইপের উপর বইসা শালু বাঁশি বাজাইত। সকাল-সন্ধ্যা ঐহানেই পইড়া থাকত। বন্ধুবান্ধবও জুটছিল ওর মতো আজাইরা। বাইন্নানগর কাউয়ারটেকের থন বি ইয়ারবন্ধুরা আইত। কেউ কেউ গাঁজা খাইত, লুডু আর ষোলো গুটি খেলত। আর সরু খালের অপর পাড়ে কাউয়ারটেকের যেসব মাইয়ারা বদনা নিয়া খালপাড় লাগোয়া বেড়ার পায়খানায় হাগতে আইত তাগো লগে ফিল্ডিং মারত। পায়খানায় হাগতে বইসা কোনো কোনো তরুণী কখনো মুগ্ধ হয়ে শুনত শালুর বাঁশির সম্মোহনী সুর। চাঁদনিপশর রাইতে সেই সুর যেন ঐন্দ্রজালিক হয়ে উঠত। সেইসব দিনগুলোতে নাওয়াখাওয়া ভুলে শালুও যেন কেমন স্বপ্নাতুর ঘোরলাগা যুবক হয়ে উঠত। দিনমান খালপাড়ে পইড়া থাকত দেইখা ওর মায় একদিন রাগ কইরা কইয়া ফালায়—এই খালই তোরে একদিন খাইব, দেহিস। মায়ের কথা যে একদিন সত্যি সত্যি এইভাবে ফলব তা কি আর শালুর মা জানত! শালুরে হারাইয়া ওর মায় বি পাগলপ্রায়। কেউ কয় শালুর লগে পরীস্থানের এক কুমারী পরীর লাইন আছিল। ঐ পরী ওরে নিয়া গেছে। কিন্তু যেহেতু ২ দিন পরে শালুর লাশ ভাইসা উঠল দয়াগঞ্জ মোড়ের খালপাড়ের বাঁশপট্টির কাছে—তাই এই ঘটনার সাথে পরীস্থানের পরীর জড়িত থাকার ব্যাপারটা প্রশ্ন হয়ে রইল। পরীর লগে শালুর লাইন থাকনের ব্যাপারটা পাবলিক মাইনা নিলেও, যেই পরী ওরে মহব্বত করে হেই পরী কেইল্লেইগা শালুরে ডুবাইয়া মারব হেইটার বিষয়ে পাবলিক ক্লিয়ার না। কেউ কয় খালিপেটে গাঁজাউজা খাইয়া মাথাগুইরা পচাখালে পইড়া গেছে, আর উঠবার পারে নাইক্কা। কেউ কয় কাউয়ারটেকের-ই এক মাইয়ারে লগে, যে মাইয়া পায়খানায় আইতে-যাইতে শালুরে দেখত আর তার বাঁশির সুরের আশেক ছিল সেই মাইয়ারে লগে শালুর লাইন আছিল, আর হেই মাইয়ার আরেক প্রেমিকই শালুর দোছবান্ধব দিয়া শালুরে খুন করছে। কিন্তু একেকজন একেক কথা কয়; কে কারটা বিশ্বাস করব হেইটা তার ব্যাপার। কেটুমিয়া নিজের মতো একটা মত মনে মনে মাইনা নিছে।

তয় শালুর ঐ অন্তর্ধান এবং তৎপরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্রিজ কী, কেমনে এইডা কাম করে এইসব আলোচনা সরবে সচল থাকে—কেউ কয়—ঐ আসমানের লগে ঠেইকা আছে যে হিমালয় পর্বত হেই হিমালয়ের মাথায় যেইরহম শাদাশাদা বরফ থাকে ঐরহম বরফ নাকি এই বাকসোটার মইদ্দেও পয়দা অইব। মাছমাংস শাকসবজি সবসময় তাজা থাকব। মনে অইব এই মাত্র ক্ষেত থেইকা তুইলা আনছে। খাওনদাওনের পর যা থাকব তা বি তুইলা রাখন যাইব হোনে। পচব বি না, গলব বি না। কেউ কয়—এই ফ্রিজের ভেতর থেইকা ১ বছর পরও যদি কোনো মাছ বাইর কইরা কোনো মতে একবার পুকুরে ছাইড়া দেঅন যায় তইলে হেই মাছ ন্যাশনাল ফ্লাগের মতো লেঞ্জা লাড়াইয়া আন্দা অইয়া লৌড় দিব।

রোজায় একটু ঠান্ডা পানি বা এক টুকরা বরফের জন্য প্রতিবেশী অনেকের মনেই আরজু থাকে। ২/১ জন ছাড়া কেউ এহনো সেই আরজু পেশ করে নাই। তয় রাজ্জাক মিয়ার তকদির ভালা। বাইত্তে ফ্রিজ আহনের পর থেইকা তল্লাটে তার সম্মান বাইড়া গেছে। তার মনে অইতাছে লোকে এহন তারে আগের থেইকা বেশি সালাম দেয়। রাজ্জাক মিয়া তার প্রতিবেশী ২/৪ জন রইস রোজাদারদের বাড়িতে আসরের পরপরই বরফের টুকরা পাঠায়। আর ইমাম সাবরে রোজই পাঠায়। জানে সে, এতে করে সোয়াব তো মিলবই, মাঝখানতে তার দাম বি বাড়ব, ইমাম সাব বি হাতে থাকব।

কিন্তু ভেতরে ভেতরে এদিকে কেটু মিয়া যে একটা ফ্রিজ হইয়া গেছে—তা মহল্লার কেউ জানে না। বউয়ের লগে প্রতিরাতেই খিটমিট লাগে তার। আগ্রহ যে ওর নাই তা না—কিন্তু কাম করতে গেলেই লেওড়া আর খাড়ায় না। চিৎকাইত যাই করা হোক না কেন লেওড়া তখন লাউয়ের ডগার মতো নেতাইয়া পড়ে। শইল হালায় বরফের টুকরা অইয়া যায়। পয়লা পোলা যে ওর কেমতে অইছে তা নিজেই ভাবে কেটু। হেই পোলার বয়স এখন ৭। পড়তে দিছে নামাপাড়ার কোব্বাদ সর্দার প্রাইমারি ইশকুলে। ওয়ানে।

টাকা না-থাকলে নাকি পুরুষের মর্দামি থাকে না। তবে কি কেটুর এই অবস্থা ঐ কারণেই। কিন্তু তা কেমতে—যেই বাইডিরা ঢাকায় থাইকা গাওয়াল করে, খালপাড় লাগোয়া বেড়ার বস্তিতে চিৎকাইত ইলিশ ফাইল অইয়া ঘুমাইয়া রাইত পার করে অগোবি পয়সা নাইক্কা, মগর ওরা তো বছর না যাইতেই ফিরবি সন্তানের বাপ অয় বইলা হুনি।

তো পয়লা রমজানে বিদ্দুত ঠিকই কেটুরে নিয়া পাগলাবাজার থন ৬ চাড়ি বরফ নিয়া আহে। আরেকটু আগাইলে নারায়ণগঞ্জ—হেনে টানবাজারের খানকিপাড়ায় যাওন যাইত—ইচ্ছাটা বিদ্দুতের মনে চাগা দিছিল—আগে ২/৪ বার গেছে সে, কিন্তু এহন রোজা রাখছে বিদ্দুত-কেটু দুইজনেই; যদিও কেটু তার বয়সে বড়, এবং মহল্লার বড় ভাই, আবার প্যাঁচেগোচে আত্মীয় বি অয়। যদিও কেটুর বইনের লগে বিদ্দুতের ইদানীং একটা পেয়ারের সম্পর্ক পিছলাপিছলি করবার লাগছে এবং কেটু মিয়া তা টের পায়, মাগার কোনো উচ্চবাচ্য করে না। বিদ্দুত যেদিন পয়লা মহল্লার আরেক বড় ভাইয়ের লগে নটীপাড়ায় যায় হেইদিন বিদ্দুত একটু শরমিন্দা ছিল—হেই বড় ভাই কয়—আরে রাখ মিয়া, মসজিদে আর খানকিপাড়ায় বাপ-পোলায় বি লেবেল অইয়া যায় গা। খোদা আর বোদার কাছে সব সেজদাই এক হমান।

লুঙ্গি, যদিও ঢাকাইয়ারা কয় লং, আর শাদা পাঞ্জাবি পইরা মাথায় শাদা কিস্তি টুপি লাগাইয়া মুরগিটোলা মসজিদের সামনে কেটু মিয়া বরফ বেচতে বহে জোহরের পর থেইকা। এখন অবশ্য চটের বস্তা আর স’মিলের গুঁড়া দিয়া ঢাইকা রাখছে। আসল বিক্রি অইব আসরের পর। ‘আয় পাহাইড়া বরফ। আয় পাহাইড়া বরফ।’ কইয়া যেসুমকা চিল্লাইব হেইসুম  নাদুশ আর লোমশ শরীরের কেটুরে দেইখা অবশ্য মাঝে মাঝে হিমালয়ের চমরি গাই কারো কারো মনে অইতে পারে। সারা বছর কাজে মন না বসলেও কেটু মিয়ার এখন ঝানু ব্যবসায়ীর মতো আচরণ, আর পাক্কা ত্রিশ রোজা ঠিকই রাখব, তয় তারাবি নামাজ পড়ব না। পড়ব না কেলা যদি জিগায়, তয় কয়—আত-পা ভাইঙা আহে। শইল্লে লোড নেয় না।

রোজার মাস সংযমের মাস। এই মাসে নাকি নফস ঠিক রাখতে হয়—কেটুর আর ঠিক কি রাখতে অইব। তার নফস তো আল্লাপাক অটোমেটিক ঘড়ির লাহান ঠিক কইরা রাখছে। আগে লক্ষ করেছে সে—এমনে দিনে বা জুম্মার নামাজের সময়ও যদি সহসা কুচিন্তা মাথায় আইত তখন ডান্ডা খাড়া অইয়া যাইত। আর এহন সেই ডান্ডা আন্ডাআলির কাছে গেলেও খাড়া অইতে চায় না। ডান্ডার কি যে অইল তা জানে মাওলা ভাণ্ডারী। রমজান আহাতে কেটু মিয়া ভাবে, ‘যাউক, রমজানের দোহাই পাইড়া অন্তত ১ মাস বউয়ের লগে তার কেওয়াজ অইব না। এই ১ মাস নুনু-কালচার বন্‌।’ রমজানে শুধু তার বউ না, পুরান ঢাকার তাগো মহল্লার সব বউরা বি ইসপেশাল মুসুল্লি হইয়া যাইব। হায়েজের দিনকয় ছাড়া সব রোজা রাখন চাই। ঈদের পরে সাক্ষীরোজা বি রাখব। এদিকে বাঙালগো বউগো কথা আলাদা। ওরা ঢাকাইয়া বউগো মতো এক মাসের প্যাকেজ মুসুল্লি অয় না।


মানুষ যত বেশি পাপ বি তত বেশি


বিক্রিবাট্টা ভালাই। অহন পর্যন্ত বৃষ্টি হয় নাই। লাভ ভালোই জমতাছে। এইবার ঈদটা খারাপ অইব না। বউ আসিয়ারে, পোলা টুটুলরে এবং মারে বি ভালা চাইয়া কাপড়উপর দেওন লাগব। বাপ তো পরকালে। সুরিটোলায় যে বইনে থাকে ওরে বি দেওন দরকার। ঐ বইনটারে বুড়াকালে বিয়া করছে নিজাম ওস্তাগর, যদিও হেয় পরে রাজমিস্ত্রি অইছে, লেকিন ওস্তাগর নামটাই পাবলিকে খাইছে। ঐ নিজাম হালার কঠিন পাইলস, এহন তো যা তা অবস্থা। বিছনা নিছে। কোনো কাজকাম করবার পারে না। এইদিকে বইনটার জীবন শেষ। যৌবন বি খতম।

আরো ভাবে কেটুমিয়া, আসিয়ারে যহন বিয়া করে তহন তো এই সমস্যা আছিল না। আজেবাজে কোনো অভ্যাসও নাই। বালেগকাল থেইকা যৌবনে আহনের পথে মাঝেমইদ্দে হাত মারছে, কিন্তু তা-ও তো সংখ্যায় খুব বেশি না। ঐরকম মাঝেমইদ্দে হাত মাইরা কবিচোরপুলিশ মায় প্রেসিডেন্ট বি বড় অইছে। তাইলে কি সবার সন্তান পয়দা অহন বন্ধ অইয়া গেছে গা।

কেটুর এহন মনে সন্দেহ জাগে—টুটুল কি তবে তার নিজের পোলা না! টুটুল তো দেখতেও তার মতো হয় নাইক্কা। কেটু নিজে কালা। শইল্লে পশম আর পোলাটা হইছে ফর্সা। তয় তার বউয়ের রঙ কলাম কেটুর থেইকা ভালা। ফর্সাই কওন যায়।

বরফ বেঁচতে বইয়া কেটুর অনেক কথাই মনে আসে। বরফের দেশের লোকদের কি আমাগো চাইয়া বেশি সেক্স, না কম? অত ঠান্ডার মইদ্দে আন্ডাজোড়া তো ডান্ডাবেড়ি পইড়া থাকনের কথা। মাগার তাগো লেওড়া খাড়ায় কেমনে ভাবে ও, যদিও তার শিশ্ন এখন তারই বিক্রি করা হিমালয়ের বরফের মতোই ঠান্ডা অথবা রাশেদের দাদার ফ্রিজের বরফের মতো। একই কথা। সব বরফই কি তবে একরকম ঠান্ডা। এখন ঢুকানোর চাইতে লাড়তে-চাড়তেই কেটুর ভালা লাগে। বরফে হাত দিলেও এক ধরনের উত্তেজনা পাওয়া যায়, মাগার তার লেওড়ার গোড়ায় হাত দিলে লম্বা লম্বা বাল ছাড়া কিছুই পাওন যায় না। চোদন নাই, তাই নিড়ানি নাই।

এইদিকে রমজানের অর্ধেকের বেশি পার হইয়া গেছে গা। বউ কোনো ডিস্টার্ব করে নাইক্কা। কেটু তাই ভাবে রমজানটারে যদি কোনোমতে বাড়ান যাইত! কেটু হুনছে হুজুরগো কাছথন—আল্লায় নাকি হারা বছরই রোজা রাখনের ফরমান দিছিল, কিন্তুক নবিজি তার উম্মতগো কথা চিন্তা কইরা আল্লার লগে নিগোশন কইরা হারা বছরের রোজা ১ মাসের মইদ্দে বাইন্দা আনছে। কেটু নিজের অবস্থার কথা মাথায় রাইখা কয়—‘নবী হালায়…’, ‘হালায়’ শব্দটা মুখ দিয়া বাইরাইয়া গেছে গা দেইখা লগে লগে সে দুইবার তওবা বি করল, আর তওবা শব্দটা কওনের লগে লগে ডান হাত দিয়া দুই গালে দুইবার চাটি বি মারল। কেটু কয়, নিগোশন করল কেইল্লেইগা। হারা বছর রোজা থাকনই ভালা আছিল। এত চোদাচুদিও অইত না আর এত আন্ডাবাচ্চা বি পয়দা অইত না। মানুষ যত বেশি পাপ বি তত বেশি। আর ঐ পাপের ভারেই একদিন পৃথিবী ডুবব।

এইসব হুদবেহুদ কথা ভাবতে ভাবতে তার মনে আহে আরেক কথা। নানারকম সেক্স-বটিকার কথা হেয় হুনছে। কিন্তক এহনো ট্রাই কইরা দেহে নাই। গাঁজা খাইয়া সেক্স করতে গেলে নাকি মজা বেশি লওন যায়—এই কথা মাথায় রাইখা একদিন টোকনের লগে গাঁজা খাইতে গেছিল কেটু মিয়া। অভ্যাস নাই। তাই ২ টান দিয়াই মাথা ভনভন। হেই থেইকা খামোখা আর ঐ পথে যায় নাই। যেমুন আছে হেইমুনই থাকন ভালা মনে করছে।

আরেকজনে অবশ্য আরেকটা পরামর্শ কেটুরে দিছিল। কইছিল—অন্য কোনো মাগির লগে কিছুদিন লাগালাগি করতে, এতে নাকি কাম অইতে পারে। নতুন বোদা পাইলে সেক্স নাকি নতুন কইরা জাগে। উদাহরণ হিশাবে কয়, বড়লোকরা তো তাই করে, দেখস না! ওরা বুড়া অইয়া যায়, লাঠি নিয়া চলে মাগার লেদারস্টিক ঠিকই থাকে। মাগি বদলায়, তেলমবিল পায়—লেওড়ার ইঞ্জিনপত্তর ভালা থাকে। কিন্তু কেটু মিয়া অবশ্য এইসবের মইদ্দে নাই। আসিয়ারে সে ভালাবাইসা বিয়া করছে। দরদ আছে তার ওপর। যদিও আসিয়ার আগে পারুলের লগে তার একটু মাখামাখি আছিল। চুম্মাচাম্মি অইছে, আর কামিজের ওপর দিয়া একটু দুদ টেপাটেপি—এর চেয়ে বেশি অধঃপতন আর হয় নাইক্কা। হেই পারুলের দুধের সাইজ বি এহন হেয় ভুইলা গেছে। বিয়ার আগে অবশ্য আসিয়ারে লাগানের সুযোগ পাইছিল কয়েকবারই। কিন্তু ক্যান যেন তা হয় নাই। বিয়াটা অইয়া যাওনের পর কেটু মিয়া বুঝছে—আসিয়া জবরদস্ত মাইয়া। ধরলে ছাড়ে না। চিৎ অইয়া কাইত অইয়া—কোনোটাতেই তার না নাই। বিয়ার পরপর প্রায় প্রতিদিনই তার লাগত। কেটু মিয়াও নিরাশ করত না। লেকিন পোলাটা অওনের পরই সিন পাল্টাইয়া যায়। এদিকে ‘নয়া-বোদা তত্ত্ব’র কথা চিন্তা করনের সময় প্রথমেই কেন জানি তার মনে পড়ে পারবিনের কথা। তার কিশোরকালের প্রেমিকা। বিয়া হইছে পাশের মহল্লায়, নারিন্দায়। পারবিন তারে আইজও চায়। এড়েঠেরে তারে কত ইশারাভি করে। যদিও সে এতদিন মাতে নাই। আইজ বারেবারে পারবিনরেই তার মনে পড়ে। কেটু মিয়ার আরও মনে পড়ে এবং ভাবে নারিন্দার থন ‘মাদ্রাজ হারবাল মেডিসিন’ থেইকা এক ফাইল খাইয়া দেখব নাকি। ওরা তো কয়—৩ ঘণ্টায় ফলাফল। বিফলে মূল্য ফেরত। রমজান মাসেও সেবন করা যায়। কোনো অনুপান লাগে না। খালি হ্যান্ডবিলটা লগে কইরা নিয়া যাইতে কইছে। লেকিন হ্যান্ডবিল নিয়া গেলে কি কাম অইব কেটু মিয়ার মাথায় তা ধরতাছে না। তারপরেও গতকাল মাগরিবের পরে ধুপখোলা মাঠে ক্যানভাসারগো থন পাওয়া সেই হ্যান্ডবিলটা এহনো আছে কিনা তা দেখতে বুকপকেটে হাত ঢোকায় সে, আর এই সময়ই মসজিদ থেকে আসরের আজান ভাইসা আসে। কেটু মিয়া সামনে আগাইতে থাকে, আইজ তার মাথা বি, দিল বি—কোনোটারই দিশ নাই।

অস্ট্রিক আর্যু
অস্ট্রিক আর্যু

Latest posts by অস্ট্রিক আর্যু (see all)