হোম গদ্য গল্প একটি পুরনো চিঠি

একটি পুরনো চিঠি

একটি পুরনো চিঠি
1.32K
0

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি হতাশা এবং স্ত্রী নাসরিন জাহানের ইচ্ছা পূরণের জন্য ইমিগ্রেশন নিয়ে সপরিবারে কানাডা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাধীন। উপরন্তু ইভটিজিং, যানজট, অনিয়ম, নিরাপত্তহীনতা, হরতাল ইত্যাদি কারণগুলো তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। সব মিলিয়ে মানসিকভাবে তারা এমন একটা পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, তারা ভাবছে, কানাডা গিয়ে অন্তত স্বাধীনভাবে, নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে জীবনটা কাটাতে পারবে। ফলে চাকরি, ঘর-সংসার, বাচ্চা লালন-পালন ও কনসালটেন্সি ফার্মের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ—এসব নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে তারা।


কোথায় যেন স্বাধীনের একটা টান পড়ে আছে। খুব গোপনে। নিভৃতে।


তাদের এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা আত্মীয়-পরিজন কেউ জানে না। এমনকি তাদের সাত বছরের ছেলেটিও না। তারা ভাবছে, যাওয়ার ডেট ফাইনাল না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কাউকে কিছুটি জানাবে না। তবে দুজনেরই ইচ্ছা আছে—ঘরোয়া একটা পার্টি দিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার।

কিন্তু কোথায় যেন স্বাধীনের একটা টান পড়ে আছে। খুব গোপনে। নিভৃতে।

ফলে সে একান্ত ব্যক্তিগত সময়ে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলে। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দেশের জন্য আর কিছু করার থাকবে না, ভবিষ্যতে নিজের সন্তানটি পুরোপুরি শেকড়হীন হয়ে পড়বে উপরন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা গোলাম রসূলের আত্মা তাকে কাপুরুষ বলে ধিক্কার জানাবে।

পাশাপাশি এটাও সত্যি, এথিকস ও মরালিটি রক্ষা করতে গিয়ে এই জীবনে কম অপদস্ত হতে হয় নি তাকে। সর্বশেষ আঘাত হিশেবে চাকরি খোয়াতে হয়েছে। তার একটাই দোষ, সে সৎ। যেহেতু তার কারণে অফিসের অন্যান্য কলিগদের ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিল তাই এমডি সাহেব তাকে ডেকে নিয়ে অতি দ্রুত সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দিতে বলেছিলেন। স্বাধীনের হাতে দুটো অপশন ছিল। এক. ঝাঁকের কই হয়ে ঝাঁকে মিশে যাওয়া। দুই. চাকরি ছেড়ে দেওয়া। সে দ্বিতীয় অপশনটাকেই বেছে নিয়েছিল। এমডিকে শেষ সালামটি দিয়ে অফিস ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল রাস্তায়। ঘণ্টি দোকানের বেঞ্চিতে বসে চায়ে চুমুক দিয়ে তার মনে হয়েছিল, একজন স্বাধীন মানুষ হিশেবে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে।

কিন্তু বাড়ি ফিরে স্ত্রীর গালমন্দও শুনতে হয়েছিল প্রচুর। গালিগুলো ছিল এরকম : আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর ও দায়িত্ব-জ্ঞানহীন পিতা ইত্যাদি। আপাতদৃষ্টিতে শব্দগুলো ভদ্রতাপুষ্ট মনে হলেও নাসরিনের প্রকাশভঙ্গিটি ছিল মারাত্মক। প্রতিটি শব্দ যেন তার শরীরে তিরের মতো বিঁধছিল। সে টু শব্দটিও করে নি। কেননা সে জানত, ঝড়ের পরে পরিবেশ শান্ত হবে। পরিবেশ শান্ত হয়েছিল কিনা মনে নেই, কিন্তু চাকর জীবনকে পুরোপুরি গুডবাই জানিয়ে যৎসামান্য অর্থ-পুঁজি দিয়ে সম্পূর্ণ নিজের নামে বাংলামটরে একটা অফিস নিয়েছিল স্বাধীন। অনলাইন গুডস ডেলিভারি বিজনেসের জন্য।

মাস ছয়েকের মধ্যে ব্যবসাটা প্রায় জমে উঠার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছিল। কিন্তু মিষ্টি খাবারের গন্ধ পেয়ে পিঁপড়েরা যেমন ছুটে আসে ঠিক তেমনি বখাটে ছেলেপেলেরা হানা দিয়েছিল তার ছোট্ট অফিসে। দেলু নামের সুদর্শন ও স্মার্ট ছেলেটি জামরুল চিবোতে চিবোতে অফিসে ঢুকে বলেছিল, ‘আমিও আপনার মতো এমএ পাশ। আমারও সার্টিফিকেট আছে। আপনার সাথে আমার পার্থক্য হলো, আপনি একা। আর আমি ডাক দিলে এক্ষুণি ৩০টা ছেলে একত্র হবে। সুতরাং সাফ সাফ বলে দিচ্ছি, এই এলাকায় বিজনেস করতে হলে, আমার পাওনাটা মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বুঝিয়ে দিতে হবে। নাহলে কিন্তু বিপদ।’

একই দিনে আরও একটি লোমহর্ষক ঘটনা।

নীলকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছিল নাসরিন। সেদিন না ছিল হরতাল না ছিল পরিবহন ধর্মঘট। তবুও রিকশা পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় বিশ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর উপায়ান্তহীন নাসরিন ফোন করেছিল স্বাধীনকে, ‘তুমি কি একটু বেরুতে পারবে?’

স্বাধীন বলেছিল, ‘পারব কিন্তু ২ ঘণ্টা লাগবে মিনিমাম। অফিসে আসার পথে মিরপুর রোডে যে জ্যাম দেখে এসেছি ওটা সারাদিনেও কাটবে কিনা সন্দেহ। তুমি এক কাজ করো। পরাগদের বাসার গলি হয়ে বাবর রোডের মোড় পর্যন্ত হেঁটে যাও। ওখানে গেলে রিকশা পাবে।’

‘বলো কি! বাবর রোডের মোড় পর্যন্ত পাক্কা ১৫ মিনিটের হাঁটা পথ। ততক্ষণে নীলের ছুটির ঘণ্টা বেজে যাবে।’

‘চিন্তা করো না। নীল  ওয়েট করবে।’

ফোনে কথা বলতে বলতেই বাবর রোডের দিকে হাঁটা দিয়েছিল নাসরিন। হঠাৎ পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠেছিল : ‘হ্ইা! রেট কত?’

নাসরিন ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল, হ্যাংলো দুই যুবক তার দিকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে মারছে আর নিজেদের জিপারের উপর হাত বোলাচ্ছে। নাসরিন প্রায় দৌড়ে চলে গিয়েছিল বাবর রোডের মোড় পর্যন্ত। বখাটে ছেলেদের নোংরা কথা শুনে তার চোখ দিয়ে টসটস করে পানি পড়ছিল। ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফিরে হড়হড় করে বমি করেছিল সেদিন। নিজেকে অপবিত্র মনে হয়েছিল।

প্রচণ্ড ক্ষেপে সজোরে স্বাধীনকে বলেছিল, ‘থাকবে আরো এদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার দেওয়া স্বাধীন নাম নিয়ে? অহংকার করবে দেশ নিয়ে আরো? তোমার যা ইচ্ছা, করো। কিন্তু আমি আর থাকব না। ছেলেকে নিয়ে চলে যাব।’

স্বাধীন অস্ট্রিজ পাখির মতো অর্থহীন দৃষ্টিতে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। মুখে কোনো কথা বেরুচ্ছিল না। চোয়াল শক্ত হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল বোবা হয়ে যেতে পারলে ভালো হতো। তারপর বরফ গলে পড়ার মতো দ্বিধা কেটে গিয়েছিল। প্রবল হয়েছিল চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

২.
খুবই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জিনিস আছে, যা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে। জিরো সাইজের জামা-প্যান্ট, পুতুল এবং একটি চিঠি। এগুলো হচ্ছে, স্ত্রী এবং অনাগত সন্তানের জন্য পাঠানো এক মুক্তিযোদ্ধার উপহার। একটি পুরনো ট্রাঙ্কে এগুলো গচ্ছিত আছে। স্বাধীন ছাড়া আর কেউ এর হদিস জানে না।


দেশ মানে মা। মাকে ছেড়ে গেলে কি কোনো সন্তান ভালো থাকে?


সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর স্বাধীন পুরনো ট্রাঙ্কটি খোলে। জিনিসগুলো দেখতে দেখতে তার চোখ ছলছল করে ওঠে।

ঠিক তখন একটি কম্পমান কণ্ঠ ভেসে আসে : ‘দেশত্যাগ করার সিদ্ধান্ত কি সঠিক বলে মনে করিস বাবা? দেশ মানে মা। মাকে ছেড়ে গেলে কি কোনো সন্তান ভালো থাকে? তোর প্রাণ তো মিশে আছে এদেশের মাটিতে। প্রতিটি ধূলিকণায়। কী করে তাকে সরিয়ে নিয়ে যাবি?’…

ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে স্বাধীন। কণ্ঠের উৎস খোঁজার জন্য আঁতিপাঁতি  করতে থাকে। না, কেউ নেই ঘরে। অবশেষে দেয়ালে ঝুলানো মৃত গোলাম রসূলের ছবির দিকে তাকিয়ে মনে হয় এটি তার বাবার কণ্ঠস্বর।

স্বাধীনের মা আয়েশা বেগম বহুদিন এই উপহারগুলো আগলে রেখেছিলেন। মৃত্যুর আগে স্বাধীনের হাতে সঁপে দিয়ে বলে গেছেন, ‘যত্নে রাখিস বাবা!’

হঠাৎ নাসরিনের পায়ের শব্দে চমকে ওঠে স্বাধীন।

‘বাবার স্বপ্নের দেশ আর এই দেশ এক নয় স্বাধীন। তোমাকে বুঝতে হবে। কষ্ট পেলে চলবে না। থেমে পড়লে চলবে না। নীলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে।’

‘কেন এসব কথা বলছ? আমি তো থেমে পড়ি নি। সিদ্ধান্ত থেকে সরেও যাই নি। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা কথা মনে হলো। বাবা আমার নাম রেখেছিলেন স্বাধীন। স্বাধীনতার প্রতীক এই নাম। কিন্তু আমি কি সেই নামের ভার বহন করতে পারছি?’

‘দেখো, এটা ইমোশন দেখানোর সময় নয়। ডোন্ট বি ইমোশনাল। প্লিজ তীরে এসে তরী ডুবিয়ো না।’

৩.
পরদিন বাবার চিঠিটি লেমিনেটিং করে নীলক্ষেত থেকে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে স্বাধীন। স্বাধীনের পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইকারী বলে, ‘সাথে যা আছে চুপচাপ দিয়ে দেন। কথা বললেই গুলি।’

স্বাধীন মোবাইল, ঘড়ি ও মানিব্যাগ দিয়ে ছিনতাইকারীদের কাছে অনুরোধ করে ব্যাগটি না নেওয়ার জন্য।

ছিনতাইকারী বলে, ‘এহ! মামাবাড়ির আব্দার! বললেই হলো? ফুটেন মিয়া।’

বাবার চিঠিটি খোয়া যাওয়ার পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। দেশের প্রতি তার মন আরো বিষিয়ে ওঠে। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ অনিবার্য হয়ে উঠে দেশত্যাগ।

নাসরিন বলে, ‘আশা করি এরপর আর দেশের জন্য কোনোরকম পিছুটান নেই। অফিস বিক্রি করেছ। আজকে ব্যাগটি খোয়া গেল। আর কী বাকি? শুধু জানটা, এই তো? যে কয়দিন দেশে আছ, জানটা হাতে নিয়েই চলতে হবে।’

৪.
ইতোমধ্যে ভিসা আসে। আরো আসে একটি কুরিয়ার। বিস্মিত ও আনন্দিত স্বাধীন নাসরিনকে পড়তে দেয় চিঠিটি। নাসরিন পড়তে শুরু করে।

১৫ নভেম্বর ১৯৭১
প্রিয় রেবেকা
আমার শুভেচ্ছা জানিবা। আশা করি ভালো আছ। তোমাদিগকে খবর দেওয়া ছাড়া তোমাদের কোনো খবর পাওয়ার উপায় নাই, আর আশা করেও লাভ নাই। আমি অদ্য মহেশখলা থেকে তুরার পথে রওয়না দিয়েছি। ৩৫ কিলোমিটারের হাঁটা পথ। এখানে গতকাল ও পরশু পুলিশ বনাম আর্মির মধ্যে সাংঘাতিক সংঘর্ষ হইয়াছে। শহর ছেড়ে লোকজন সব পালাচ্ছে। শহর একদম খালি। ২৫০ এর মতো পুলিশ মারা গিয়াছে। আর্মি মাত্র ৪ জন।

আমার জন্য ব্যস্ত হোয়ো না। যেভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আমাদের বেঁচে থাকাটাই লজ্জার। তোমাদের দোয়ার জোরে হয়তো মরব না। কিন্তু মরলে গৌরবের মৃত্যুই হবে। ঘরে শুয়ে শুয়ে মরার মানে হয় কি? তোমার শরীরের কি অবস্থা জানি না। যত কষ্টই হোক, অনাগত সন্তানের জন্য সহ্য করতে হবে তোমাকে।

আমার এই চিঠি রাখিয়া দিয়ো অনাগত সন্তানের জন্য। জানি না তার সাথে আমার আদৌ দেখা হইবে কিনা। যদি আর না ফিরি, তাহা হইলে যখন সে বড় হইবে আমার এই হস্তাক্ষর দেখিয়ে বলবে, তোমার বাবা দেশকে ভালোবাসত। নিজের দেশের প্রতিটি মাটি-কণা ভালোবাসত। তোমার প্রতি অনুরোধ, আমার সন্তান যেন আমার আমার আদর্শ নিয়ে বড় হয়। তার কাছে সবার উপরে যেন স্থান পায় নিজের দেশ।

শেষ কথাটা বলি। আমার অনাগত সন্তান ছেলে হইলে তার নাম রাখিবে স্বাধীন; আর মেয়ে হইলে মুক্তি। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, আমার সন্তানটি যেন হয় শ্রেষ্ঠ মানুষ, সু-নাগরিক এবং দেশ-প্রেমিক।

ইতি:
গোলাম রসূল।


মা বহুদিন এই চিঠিটি বুকে আগলে রেখেছিলেন।


চিঠি পড়া শেষ করে ছলছল চোখে স্বাধীনের দিকে তাকায় নাসরিন।

‘তুমি আমাকে এতদিন এই চিঠিটার কথা বলো নি কেন? আমি কি আরো আগেই এটার কথা জানতে পারতাম না?’

‘পারতে। আমি ইচ্ছে করেই জানাই নি। ভেবেছিলাম, আর ক’বছর পর জানব। আমার মা বহুদিন এই চিঠিটি বুকে আগলে রেখেছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমার হাতে এটি সঁপে দিয়ে গেছেন। আমি এতদিন আগলে রেখেছি। আজ থেকে এটি তোমার কাছে থাকবে। নীল বড় হলে তুমি তাকে দেবে। আমরা কেউ থাকব না। কিন্তু এটি থেকে যাবে।’

বিস্মিত নাসরিন কিছুই বলতে পারে না। হতবিহ্বল হয়ে পড়ে।

৫.
গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যায় নাসরিনের। দেখে স্বাধীন পাশে নেই। সে শোয়া থেকে উঠে বসে এবং খাট থেকে নেমে চলে যায়।

নাসরিন দেখতে পায় ড্রইংরুমের দেয়ালে টানানো বাবার ছবির দিকে নির্নিমেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্বাধীন। নাসরিন তার কাঁধে হাত রাখে।

স্বাধীন বলে, ‘আমরা যদি কানাডা চলে যাই, আমাদের ছেলেটি পুরোপুরি শেকড়হীন হয়ে পড়বে। পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কালচার ভুলে যাবে। আমাদের কথা ভুলে যাবে। আর এটা যদি হয়, তাহলে আমি আমার বাবার কাছে কী জবাব দিব? সন্তান হিশেবে যদি বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে না পারি তাহলে এই জীবনের কী মূল্য আছে বলো? আমি আমার দেশের সাথে প্রতারণা করতে পারব না।’ নির্লিপ্তভঙ্গিতে তাকিয়ে থাকে নাসরিন।

স্বাধীন বলতে থাকে, ‘আমার মনে আর কোনো ভয় নাই। আমি আবার শুরু করব। শূন্য থেকে শুরু করব। যেই দেশের একজন ছিনতাইকারী মুক্তিযোদ্ধার একটি চিঠিকে এতটা সম্মান করতে পারে সেই দেশ শেষ হয়ে যেতে পারে না। সেই দেশের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেতে পারে না। যেই দেশে এখনো কোকিল ডাকে, যেই দেশে এখনো ফুল ফোটে, সেই দেশ রসাতলে যেতে পারে না। তুমিই বলো, কানাডা চলে গেলে কি বাবার স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে? বাবার স্মৃতিকে অহংকার রূপ দিতে হবে। নিজের দেশ নিয়ে আঁকড়ে থাকতে হবে। তাহলেই একদিন সত্যিকারের সুখ-শান্তি আসবে। অন্য কোনো দেশ নয়, মাথার উপর নিরাপত্তার ছায়া দিতে পারে কেবল নিজের দেশই। এই দেশের জন্য আমার বাবা যদি রাইফেলের সামনে নিজের বুক পেতে দিতে পারেন তাহলে আমি কেন নিজের দেশকে গড়ে তুলতে ভয় পাব?’

মহিউদ্দীন আহ্‌মেদ

জন্ম ১ জুলাই ১৯৭৮, ধামরাই, ঢাকা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশায় স্ক্রিপ্ট-রাইটার।

সম্পাদিত ছোটকাগজ : জলসিঁড়ি।

ই-মেইল : mohiuddin_neil@yahoo.com