হোম গদ্য গল্প অভিশাপ অথবা কাকতালীয়

অভিশাপ অথবা কাকতালীয়

অভিশাপ অথবা কাকতালীয়
636
0

সুরত আলি মাঝি উঠোনে দাঁড়িয়ে আসমানের অবস্থা একবার পরখ করে নিল। তারপর স্বগতোক্তি করল। ‘বিয়ান অইছে কুনবালা! আবো সূর্যোর দেখা নাই। আল্লায় জানে, সূর্য আইজ কুনবালা উঠবো। হাজ করি রাখছে আস্তা আসমান। আল্লা, আইজ রোইদখান দেওবা। আর মেঘ দিও না। সাত দিনোর মেঘে দুনিয়াদারি বাসাই দিছো। আইজ মেঘ দিলে আর উফায় রইতো নায়। বাসি যাওয়া লাগবো। গরোর কাছাত পানি আইছে। রহম করোবা গরিবরে আল্লা।’

এ সময় কুলসুমার মা ঘর থেকে বের হয়ে এসে বলল, ‘বেমরাও কিতা কুলসুমার বাফ। নাও লইয়া যাও, গাটো। আব্দুল আলি লন্ডনি পার অইতা সাতটার সময়। গতদিন কইছইন তুমারে। যাও, বারোও।’
‘দেখো, কর কিতা! আমি বুলে বেমরাইয়ার! আল্লারে ডাকিয়ার। আল্লার নাম লইতে দিতে নানি কাফিরোর পুরি!’
‘এরে কাফির-উফির ডাকিও না। আমি কুনার গ্রামোর মেয়াসাবোর (হুজুর) পুরি। তুমি মাইমালোর বেটায় চৌদ্দ সিঁড়ির পূর্ণিয়ে আমারে পাইছো। শুকুর গুজার করো।’
‘ও টেরির গরোর টেরি। তুইন কিতা চোদরির (চৌধুরীর) পুরিনি! ঠগ মুল্লায় দেড় ব্যাটারিরে গসাইছে আমার কান্দো।’
‘হেতু কিতা দেকিয়া আইনচো নানি! চোউখ কানা আছলোনি তুমার।’
‘তোর বাফে কুটনামি করি আমার মাইজিরে রাইত দেখাইছে। মাইজি বুড়া মানুষ, কিতা দেখতে কিতা দেখছইন, আল্লায় জানে।’
‘তুমার মাইজি মনে অয়, আমার লাখাইন লক্কী টেরা আছলা। লক্কী টেরায় লক্কী টেরারে পছন্দ্ করছইন। বাস, শেষ।’
‘তুইন আস্তা দেড় ব্যাটারি। আমার মাইজি তোর লাখাইন কালা-কুলা দেড় ব্যাটারি আছলা না। রাজকইন্যা আছলা। রুফ দেকিয়া বাদেশ্বরোর জমিদার বেটায় দিওয়ানা অই গেছলা।’
‘মাইমালোর বেটায় দেখো জমিদারি মাত মাতের! বাম্মন অইয়া চান্দো আত দিলার।’
‘কা–লা চিকি নাফিতোর পুরি। আইজ তুইন শেষ।’ বলে সুরত আলি এগুতেই কুলসুমার মা এক দৌড়ে বর্ষায় যৌবন পেয়ে তরতর করে বেড়ে ওঠা পুঁইশাক গাছের জাংলার নিচ দিয়ে পালিয়ে গেল।

‘এরশাদ বেটার সময় যে পানি অইছিল্, হি সময় আস্তা দুনিয়া বুড়াইলেইছিল্। আমার যাদু মখলাইরে হি সময় খুয়াইছি আমি। পানিয়ে আমার যাদুরে বাসাই লই গেছিল্। আইজ থাকলে যাদু আমার জুয়ান অই গেল অইলে। হায়রে কপাল।’


সুরত আলি নৌকায় বসে বিড়িতে সুখটান দিচ্ছে। কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে মনের সুখে মুখ থেকে বাতাস বের করে আবার কুণ্ডলী নষ্ট করে দিচ্ছে।

‘ওবা আসদ্দর বেটা, দরো বিড়ি টানো। রুজি কত করলায় বা?’
‘মান্দা নায়। এব্‌লা বেইল বারোটা বাজে। দেড়শ টেকা অই গেছে। ফেরি নষ্ট অওয়ায় ইলা রুজি অরবা। আরও দশ-বারো দিন বেরা-চেরা লাগি ফেরি নষ্ট অই থাকুক। হালা পেসিঞ্জার, কুনবায় দি যায়, দেখমুনি।’
‘তুমার কতবা, সুরত বেটা?’
‘তুমার তাকি দশ-বারো টেকা বেশি বা।’
‘লন্ডনি বেটায় কত দিলো?’
‘দশ টেকা। তেনি বিশ-পঁচিশ টেকা দে বেটা। আর বড় জবর লাম্বা মাত মাতে বা। আদ ঘণ্টা বুলে দেরি অই গেছে। লাখ টেকা নষ্ট অই গেছে। চউকে দেখলাম, তার বাফে ওউ শিবপুর খেয়াগাটো ছাত্তি (ছাতা) ঠিক করের, আর তাইন বালেস্টার অই গেছইন। বালেস্টারোর গরোর বালেস্টার। শিলখ এখান কয় নানি বা। দাদার নামো আদা-চাদা, বাফোর নামো গাঁধা, আর নিজোর নামো শাহজাদা। ওউ তাইন নিজোর নামো শাহজাদা।’
‘ইতা মাত মাতিও না। ইতা মাত মাতিয়া কিতা করতায়। তার বেটার কপালে দিছে, হে তো বালেস্টারি মাত মাতবো।’
বিড়িতে শেষ টান দিতে দিতে সুরত আলি বলল, ‘আমি যেইয়ার গি আসদ্দর বেটা। আজান অই যেইবো, বিয়ালে আইমু। আর আসমানোর অবস্থাও বালা নায়। কিতা কও বা?’
‘অও যাও। আমিও আইয়ার। অত টেকা খাইতো কে?’

সুরত আলি চলে যাওয়ার মিনিট পঁচিশেক পর আরেকটা খেয়া দিয়ে আসদ্দর আলিও নৌকা ঘাটে বেঁধে দ্রুত চলে গেল।


সুরত আলি শিবপুরবাজার থেকে কুলসুমার জন্যে ওড়না, লিপিস্টিক, এক ডজন চুড়ি আর কুলসুমার মায়ের জন্যে তিব্বত স্নো কিনে বিড়ি আরেকটা ধরিয়ে বাড়ির পথ ধরল।

‘কুলসুমা, ও কুলসুমা, তোর মা কানো?’
‘কেনে, কিতা অইছে, কুলসুমার বাফ?’
‘দরো, লও। সনো, চুড়ি আইনচি। দররে মাই, তোর জিনিস রাখ; ওউ নে।’
কুলসুমার মা আনন্দে হেসে দিল। তারপর বলল, ‘যাইতে টেরি, আইতে মাই, ই বেটার দেকি আগোর চুকচুকি নাই।’
‘বিজালার মাত মাতিয়ো না চাইন, কুলসুমার মা।’
‘কেনে, বিজালার মাত কেনে! ডং করিয়ার। ডং করতাম নানি? না, কারেন্ট আইলো তুমার গতরো (শরীরে)?’
কুলসুমা বাবা-মায়ের আলাপচারিতায় থাকা সমীচীন মনে করল না। সে চুপচাপ অন্যত্র সরে গেল।
‘কারেন্ট তো তুমার বেশি।’
‘কিলা?’
‘রাইত চের্বি (চর্বি) নামাইলে বুদ পাইবায়।’
‘তুমার তো ওউ এক গান।’
‘কেনে, ই গানো তুমি শরিক অয় নানি?’
‘আইচ্চা হুনো, ইতা মাত থও। পুয়ার লাগি কিতা আইনচো?’
‘এখলাইরে টেকা দিলাইমুনি।’
‘আইজ তো সাব গরম। মালটোবা মনে অয় বেশি কামাই লেইছো।’
‘অয়, ফেরি নষ্ট। পেসিঞ্জার যেইতো কুনবায়?’
‘হুনো, মেঘ যদি আরও দুয়েকদিন দিলায়, তে নু ইস্কুলো যাওয়া লাগবো। টেকা আতো রাকিও। সারা খরচ করি লেইলে ঠেকি যেইবায় নু। হেষে, উফাস থাকা লাগবো।’
‘কিতা যে মাতো! সুরত আলি কুনোদিন উফাস আছিল্ নি! এরে হুনো, এখলাইরে কইয়ো, ইস্কুলো যেইতো। ইস্কুলো তো যায় না হে।’
‘কিতা যে মাতো , কুলসুমার বাফ! দেশ বাসাই নেরগি, আর তুমি কও ইস্কুলো যেইতো! আগে মানু বাচউক, যেইবোনি ইস্কুলো। এরে হুনো, চাইয়া দেখো, পানি তো বাড়তে আছে। ওউ দেখো, বিয়ানো কানো আছলো, আর এ্বলা কানো আইছে। ইলা বাড়লে সারা রাইতে তো ডুবাই লেইবো। গত রাইত এমরানোর বইন হাপোর কামড়ে মারা গেছে। হুইনচোনি? এক কাম করো, আমরারে কুনারগ্রাম রাকিয়া আও, আর লগে তুমিও চলো।’
‘তুইন তোর পুয়া-পুরিন লইয়া যা বা। আমারে টানিস না।’
‘কেনে , গেলে কিতা অয়!’
‘উফতামি করিস না। বাটে বাটে তুমরারে দিয়া আইমুনি। আর গিয়াউ কিতা করতে! তোর যে বাবি (ভাবি) পাঞ্চাইত বেটি, মুখ ইকান তুমরারে দেকিয়া কালা ছালি মানাই থই দিবো।’

কুলসুমার মা স্বামীর এ কথায় বিব্রত হয়ে গেল। শত হলেও বাবার বাড়ি। মেয়েরা এই একটা ব্যাপারে স্পর্শকাতর থাকে। তার আঁতে ঘা লাগল। তবে, মুখে সে কিছুই বলল না। মনে মনে ভাবির ওপর লানত বর্ষণ করল।
‘হাছাউ, ওউ বাবি ওগু বড় বেততমিজ। তাইর লাগি বাফোর বাড়ির বদনাম হুনা লাগের। বড় বাইসাবরে এমন মাউগাকানা (স্ত্রৈণ) মানাইছে, উটে আর বয় তাইর কথায়, বড় বাইসাব। ঠাটা পড়ব, তোর উফরে বেটি।’

সুরত আলি আর কথা বাড়াল না। খেয়ে-দেয়ে একটু জিরিয়ে নিয়ে ছেলে এখলাইকে সঙ্গে নিয়ে খেয়া পারাপারের জন্যে ঘাটের দিকে রওয়ানা হয়ে গেল।


বৃষ্টি পড়া আবার শুরু হয়েছে। বিকেল থেকে মুষলধারে অঝোরধারায় বৃষ্টি ঝরছে। সোনা ব্যাঙগুলো তারস্বরে ডেকে যাচ্ছে। পশ্চিমাকাশে কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চমকানির সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড গগনবিদারী আওয়াজ নিয়ে ধরণী প্রকম্পিত হচ্ছে। মনে হচ্ছে, রাতের বেলায়ই রোজ কেয়ামত শুরু হয়ে যাবে। কুলসুমার মার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল।
‘এরশাদ বেটার সময় যে পানি অইছিল্, হি সময় আস্তা দুনিয়া বুড়াইলেইছিল্। আমার যাদু মখলাইরে হি সময় খুয়াইছি আমি। পানিয়ে আমার যাদুরে বাসাই লই গেছিল্। আইজ থাকলে যাদু আমার জুয়ান অই গেল অইলে। হায়রে কপাল।’

কুলসুমার মার চোখ দিয়ে দরদর করে অশ্রু পড়তে লাগল। সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল, বাপের বাড়ি যাওয়ার।

অশীতিপর বৃদ্ধা তখন চিতা-হরিণীর লড়াই দৃশ্য দেখে হাত-পা ছুড়ছেন, আর গোঁ গোঁ ধ্বনি উচ্চারণ করে নিজের অসহায়ত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছেন


কুলসুমার মার বাপের বাড়ি যাওয়া আর হলো না। কুলসুমার খালা আজ সকালবেলা নৌকা নিয়ে এসেছেন। বহরগ্রামের যেদিকটায় খাল আছে, বর্ষায় যেটা ফুলেফেঁপে ছোট নদীর রূপ নেয়, সেই খাল দিয়ে ভাগাউড়ার নিজ বাড়ি থেকে ছেলে হাফিজ উদ্দীনকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়িতে এসেছেন। উদ্দেশ্য, বোন-বোনঝি-বোইনপুতকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া।

কুলসুমার মা কোন এক অজ্ঞাত কারণে ছোট বোনের সঙ্গে যেতে রাজি হলো না। ছোট বোন জোর-জবরদস্তি করায় বলল, ‘আমি কুলসুমার বাফরে থইয়া কুন কানো যেইতাম নায়। তুইন তোর বইনঝিরে লইয়া যা।’
সকাল থেকেই আজ বৃষ্টিটা থেমে গেছে। বেলা গড়িয়ে যখন দুপুর , তখন থেকেই মেঘের ফাঁকে ফাঁকে সূর্যটা লুকোচুরি খেলছে। কুলসুমার খালা দেরি করা আর সমীচীন মনে করলেন না। কুলসুমাকে সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিলেন।
কুলসুমা, খালার বাড়ি যাওয়ার সপ্তাহ খানেকবাদে তার জীবনের কলঙ্কময় সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যায়। পরিণামে সে আত্মহত্যা করে।

ঘটনার বিবরণ মোটামুটি এ রকম :

সেদিন ছিল শ্রাবণ মাসের কুড়ি তারিখ। সপ্তাহখানেক ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যার প্রকোপ আর নেই। পানি নেমে গেছে। হাওড় পাড়ের মানুষেরা, যারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল, ফিরতে শুরু করেছে।

হাফিজ উদ্দীনের ছোট ফুফুজি আঙ্গুরা বেগম আর বড় ভাইয়ের বাড়িতে থাকা সমীচীন মনে করলেন না। বড় ভাইয়ের মৃদু আপত্তি সত্ত্বেও ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। কুলসুমার খালা বিকেলে ফিরে আসবেন, এই শর্তে স্বামীর অনুমতি নিয়ে ননদ আঙ্গুরার সঙ্গে তাঁর বাড়ি গেলেন। হাফিজ উদ্দীনের মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলে গেল। অজুহাত দাঁড় করিয়ে সে আর মায়ের সঙ্গে গেল না। নৌকায় সঙ্গ দিয়ে বিলপার বাজারে গিয়ে নেমে পড়ল।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমাকাশ অন্ধকার হতে হতে মধ্যদুপুরে প্রচণ্ড বৃষ্টি নেমে এল। কুলসুমার খালু সবেমাত্র বাজার থেকে নৌকায় ফিরেছেন। মায়ের জন্যে জয়দুর্গা ফার্মেসি থেকে ওষুধ পত্তর নিয়ে এসেছেন। অশীতিপর বৃদ্ধা মা তাঁর বয়সের ভারে ন্যুব্জ, বাকশক্তিহীন, বিছানায় মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

ষোড়শী কুলসুমা এ সময়, নিবিড়ভাবে নিজ দেহের পর্বত শৃঙ্গের চড়াই-উৎরাইয়ে মুগ্ধ অবস্থায়, অকস্মাৎ খালুর বাহুবন্ধনে আটকা পড়ে উন্মুক্ত চিতার আঁচড়ে ক্ষত-বিক্ষত হরিণী যেমন পালাতে চেষ্টা করে, সে চেষ্টারত। অবশেষে, ক্ষুধার্ত চিতার প্রচণ্ড আক্রমণে দিশেহারা হরিণী আর টিকতে পারে না, আত্মসমর্পণ করে। নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করে চিতার ভোগে পরিণত হয়।

অশীতিপর বৃদ্ধা তখন চিতা-হরিণীর লড়াই দৃশ্য দেখে হাত-পা ছুড়ছেন, আর গোঁ গোঁ ধ্বনি উচ্চারণ করে নিজের অসহায়ত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছেন।
ষোড়শী একেবারেই ভেঙে পড়েছে। পিতৃসম আপনজন কর্তৃক সতীত্ব লুণ্ঠনে অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছে। হাঁটু ভেঙে বসে খাটে দুহাত রেখে বিছানায় মুখ গুঁজে দিয়ে পড়ে আছে। ধূর্ত চিতা হরিণী ভোগ করে অজানা আতঙ্কে শিহরতি হয়ে স্থান ত্যাগ করে চলে গেছে।
বাবা বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট ত্রিশেকবাদে হাফিজ উদ্দীন কোত্থেকে যেন এসে বিধস্ত কুলসুমাকে একা পেয়ে ধর্ষণের ষোলকলা পূর্ণ করে। কুলসুমা পিতা-পুত্র কর্তৃক ধর্ষিত হয়।

আপনজন কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার ক্ষোভে, লজ্জায়, অভিমানে, ষোড়শী নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তাৎক্ষণিকভাবে, দরজা লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করে। এর মিনিট পাঁচেক বাদে অশীতিপর বৃদ্ধাও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। দু-দুটি জীবনের অবসান হয়ে যায়।


সুরত আলির মনে শান্তি নেই। খেয়া পারাপারে তার আর মনোযোগ নেই। বলতে গেলে যায়ই না। একদিন যায় তো, সাতদিন বসে থাকে। তীব্র দারিদ্র্য এসে গ্রাস করায় খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন নেই। প্রয়োজনও নেই। শরীর ভেঙে শীর্ণকায় হয়ে গেছে।

সারাদিন এখন সে ভাবলেশহীনভাবে নদীর ঘাটে বসে থাকে। তার কুলসুমা আত্মহত্যা করার পরের দিনের পরের দিন এখলাইও সাপের কামড়ে মারা গেছে।
সুরত আলি এখন উম্মাদ। বদ্ধ উম্মাদ। কুলসুমার মাও তাকে ছেড়ে কুনারগ্রাম চলে গেছে।

উম্মাদ সুরত আলি মাঝিকে এখন আমরা পাই, গোলাপগঞ্জ ত্রিমোহনীর মোড়ে, হুইসেল নিয়ে বিচিত্র পোশাকে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায়। সারাদিন সে এ কাজ করে। এ কাজ করে সে কী শান্তি পায়, সেই জানে।
আমরা জানি না।

iqbal@gmail.com'
iqbal@gmail.com'

Latest posts by ইকবাল তাজওলী (see all)