হোম গদ্য গল্প অনুগল্প ১ : ফ্রেন্ড, নট মাস্টার

অনুগল্প ১ : ফ্রেন্ড, নট মাস্টার

অনুগল্প ১ : ফ্রেন্ড, নট মাস্টার
282
0

এক বইয়ের দোকানে গেছি, একটা বই কিনতে। যে বইটা খুঁজতেছি, দেখি একদম হাতের নাগালেই বইটার অনেকগুলি কপি স্তূপ করে রাখা। আমি খুব খুশি এমন একটা অজনপ্রিয় বই এই দোকানে এত কপি, হাতের কাছে রাখা…! বাহ, ব্যাপারটা প্রশান্তিকর মনে হইল। দোকানের ভিতরে চলতি অর্থে বেশ সুন্দরী একজন হাসি-হাসি মুখ করে আমার দিকে এগিয়ে এল। এই বইগুলা নাড়াচাড়া করছি দেখে বলল, স্যার এগুলা ধুলা ভরা, উপরে উঠিয়ে রাখব বলে এখানে জড়ো করে রাখা হয়েছে। এইগুলা এখনও কেন গোডাউনে তোলা হয় নাই—তাই ব’লে কালাম নামের ছেলেটাকে কর্কশ কণ্ঠে ঝাড়ি দিল। সুন্দরী মেয়েদের কর্কশ কণ্ঠ শুনতে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশ কর্কশ লাগে মনে হয়। যাক, তার পরে আমার দিকে তাকিয়ে পুরাই ক্লোজাপ হাসি দিল। বলল, স্যার কিভাবে আপনাকে আমি হেল্প করতে পারি…? আমি কিছু কইতাছি না। চুপচাপ আছি। অব্যবসায়ী বই এখনও ভিতরের বিদ্যার জোরে ভক্তি পায় নাই—এটা বুঝলাম। বিদ্যা ও ব্যবসার সমন্ধটা নিয়া সহজ হইলে ভালো।

 

11063169_916100965101692_965563534_n

 

মেয়েটার বয়স আমার চেয়ে কম না হলেও বেশি হবে না। এমন একটা মেয়ে স্যার স্যার কেন করছে বুঝতেছি না। আমি কইলাম, ‘আই এম নট মাস্টার বাট ফ্রেন্ড। করো ওস্তাদ হইতে চাই না, বন্ধু হইতে চাই।’ মেয়েটা এত সুন্দরী যে সে লাল না হয়ে সুন্দরের চোটে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। একটু ভড়কেও গেছে হয়তো। তখন তারে খুব বিশ্রী লাগল। মনে হলো চোখের কাজলটাও বেখাপ্পা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে লাল করা চুলগুলা ঘোড়ার লেঙ্গুরের মতো মনে হচ্ছিল। সেগুলা আবার মিনি পাংখার পাগলা বাতাসে উল্টা-পাল্টা উড়তেছিল। চুলে যখন মুখ ঢেকে যাচ্ছিল তখন সে আর সেগুলা ঝটকা টান দিয়া সরাই দিচ্ছিল না। বরং চুলেরর আড়ালে লাজ লুকাচ্ছিল যেন। আমি ধুলাঅলা বইটা কিনলাম। মেয়েটি পাশে দাঁড়িয়ে থাকল। দোকানের বয়স্ক লোকটি তার বাবা, বুঝতে পারলাম, যখন বয়সী লোকটি কন্যার কম পানি খাওয়া নিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করল। মুরুব্বি কইল, বাংলাদেশ এখনও মরুভূমি হয় নাই। পানির আকাল নাই। তুমি মরুদেশের মাইয়াও না। পানি খাইতে কি গলা চুলকায়! পানিতে কি চতরাপাতা আছে? যাও এখনই এক গিলাস পানি খাও। আমি মুরুব্বিকে অতি তাজিমের সহিত আঙ্কেল বলে ডাকলাম। মেয়েটি আমাকে গভীরভাবে উপেক্ষার দৃষ্টি দিয়া দেখল। বুঝলাম সে ‘ফ্রেন্ডলিনেসটা’ পছন্দ করছে না। আমার কণ্ঠের আলগা খাতিরা টানটা সে নিচ্ছে না, এইটা বুঝাই দিল একটা ঝটকা দৃষ্টিতে। বুঝলাম আমারে সে মাস্টারই রাখতে চায়। আমি কোনোদিনও মাস্টার হবো না। এবং ছেলেমেয়েতে বন্ধু টাইপের ব্যাপারও ব্যাদনার পানিতে বিশ্রীভাবে মাখা-মাখি হয় বলে শুনেছি। এটাও চাই না। বইটা নাড়াচারা করতে করতে একটা বড় হাঁচি আসে। নাকের সর্দিতে টিস্যু ভিজে যায়। হাঁচির বিকট শব্দে মেয়েটি কি চমকে গেছিল? খেয়াল করে দেখা হয় নাই।

রেজাউল করিম রনি

রেজাউল করিম রনি

সাংবাদিক, সহকারী সম্পাদক at নিউ এজ
জন্ম : ২০ জুলাই, ১৯৮৮, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ। কবি। তবে বিশেষ ঝোঁক তার সাহিত্য, রাজনীতি ও দর্শন নিয়ে বিশ্লেষণী লেখার প্রতি।

প্রকাশিত কবিতার বই : ‌‘গোলাপসন্ত্রাস’, ‘দাউ দাউ সুখ’। গদ্য: ‘শহীদুল জহিরের শেষ সংলাপ ও অন্যান্য বিবেচনা’।

ই-মেইল : rkrony@live.com
রেজাউল করিম রনি