হোম গদ্য কবি আসে কবি যায়!

কবি আসে কবি যায়!

কবি আসে কবি যায়!
2.03K
0

সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে, উজ্জ্বলতা ধরে আর্দ্র,
                                            মায়াবী করুণ
এটা সেই পাথরের নাম নাকি? এটা তাই?
এটা কি পাথর নাকি নদী? উপগ্রহ? কোনো রাজা?
পৃথিবীর তিনভাগ জলের সমান কারো কান্না ভেজা চোখ?
মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র তীক্ষ্ণ তমোহর
কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?

আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেছি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
                        তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে—
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রুগ্‌ণ রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস!

হয়তো যুদ্ধের নাম, জ্যোৎস্নায় দুরন্ত চাঁদে ছুঁয়ে যাওয়া,
নীল দীর্ঘশ্বাস কেন মানুষের!
সত্যিই কি মানুষের?

তবে কী সে মানুষের সাথে সম্পর্কিত ছিল, কোনোদিন
ভালোবেসেছিল সেও যুবতীর বামহাতে পাঁচটি আঙুল?
ভালোবেসেছিল ফুল, মোমবাতি, শিরস্ত্রাণ, আলোর ইশকুল?

আবুল হাসান: রাজা আসে রাজা যায়

আমাদের দেশে সমালোচনা সাহিত্য নাই। দুইচারিখানা বহি বাদে বাজারে যাহা মিলিতেছে তাহাও যে বিশেষ উপাদেয় হলফ করিয়া বলা যাইতেছে না। রাষ্ট্র হিশাবে প্রতিষ্ঠা পাইবার সাড়ে চার দশক বাহিত হইবার পর এই কথা যারপরনাই সত্য। দেশের সংবাদপত্রের পাড়া বাড়িতেছে ঠিকই কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় সাহিত্য যাহা আছে তাহা না থাকিবার মতন। বাংলা ভাষা এমন নিষ্করুণ তাহা বলিতে চাহি না। বলিতে চাহি নাই বাংলায় সাহিত্য নাই। সাহিত্য হিশেবে যাহা বাংলা রাজ্যে আসিতেছে তাহার বিচার সভা নিয়া দুইচারি কথা তুলিতে চাহিতেছি। বালকবেলা হইতে শুনিয়া আসিয়াছি সাহিত্য সমাজের উপরি কাঠামোর বিষয়। ইহা কার্ল মার্কসের কথা। তবে হালে কোনো কোনো তরুণ ইহাকে বলিতেছেন, ‘এলিট’ ওরফে ‘বড়লোকি’ কারবার। সেই তর্ক রাষ্ট্রের ভেদাভেদ আর শ্রেণিকাঠামোর ’পরে খাড়াইয়া আছে। ‘উপরি’, ‘মাঝারি’ আর ‘তলানি’ যেই কাঠামোতেই সাহিত্য ফলিত হৌক না কেনো তাহা লইয়া দেশে বিশেষ রা হইতেছে না। তাই সমালোচনা সাহিত্যকে ‘নাই’ বলিলাম। ‘নাই’ কথাটা খানিক আত্মঘাতীমূলকও ঠেকাইতেছে। কেন?

সাহিত্যিকেরা বুদবুদের মতন ভাসিয়া ক্ষণস্থায়ী হইয়া বাঁচিতেছেন। তাহা হইলে ‘বুদবুদের আয়ু’ আর ‘সাহিত্যিকের আয়ু’ প্রায় সমান। বুদবুদ ভাবখানা আমরা মুখে মুখে সাহিত্য বাঁচিবার দিকে ইশারা করিয়াছি। আদতে আমাদের সাহিত্যদশা আদিদশায় পতিত। আদিতে যেই-রূপ মুখের ইশারা বা কথায় সাহিত্য কিংবা সাহিত্যিক বাঁচিয়া থাকিত। তবে আমাদের ইশারা জিজ্ঞাসা আকারে। ‘আমরা কি ঠেকিয়া শিখিব নাকি শিখিয়া ঠেকাইব?’ আমরা ঠেকিয়া শিখেতেছি ঠিকই, কিন্তু শিখিয়া ঠেকাইবার কাজ করিতেছি কি? সমালোচনা সাহিত্য আদতে শিখিয়া ঠেকাইবার কাজ। মানে কূলহীন তরীকে কূলের কুলি ওরফে মানুষের হাতে ধরাইয়া দেওয়া। আমরা মুখে ধরিয়া আবার হাত দিয়া মুখ মুছিয়া ফেলি। ফলে সমালোচনা সাহিত্য মুখে মুখে টিকিয়া থাকা মুশকিল।


রাহমানের লেখা একবাক্য, ‘আবুল হাসান মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত কবি, কবি ছাড়া আর কিছুই নয়।’


দুই.
নব্বই দশকের গোড়ায় পহেলা আবুল হাসানের কবিতা পড়িয়াছি। যতদূর মনে জাগিতেছে তাহার তিনখানা বই ‘রাজা আসে রাজা যায়’ (১৯৭২), যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪), পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫) এক লহমায় পড়িয়াছি। ওই সময় ষাটের আর-দুয়েক কবির ন্যায় আবুল হাসানের কবিতা তরুণ কবি-সাহিত্যিকদের মুখে মুখে ফুটিত। তাহারা আবুল হাসানকে ‘আপাদমস্তক কবি’ বৈকি ‘দুঃখবোধের কবি’ আকারে গ্রহণ করিত। আপাদমস্তক কবি কথাটার বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। ১৯৯৪ সালে আবুল হাসানের ‘রচনা সমগ্র’ প্রকাশিত হয়। বহিখানার ভূমিকাকার তাহার অগ্রজ কবি শামসুর রাহমান। ভূমিকা বেশি বড় নহে। গড়পড়তা লেখা। বিশ্লেষণ বিশেষ নাই। আছে কবি লইয়া কয়েক ছত্র মন্তব্য। আছে কবি চিহ্নিতকরণ। সাহিত্যে ‘চিহ্ন’ বিশেষ প্রকরণ। প্রকরণ এই অর্থে, আবুল হাসান বাংলা কবিতায় তাহার চিহ্ন ওরফে স্বাক্ষর রাখিয়াছেন। রাহমানের লেখা একবাক্য, ‘আবুল হাসান মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত কবি, কবি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ রাহমানের এই বাক্যকে লোকে সহজ করিয়া বলিত ‘আপাদমস্তক কবি’। রাহমানের চিহ্নায়নের এই কৃতিত্ব বাদ দিলে তিন শব্দবন্ধে আবুল হাসানকে চিহ্নিত করিয়াছেন। তিন শব্দবন্ধ ‘যৌবনের বিষণ্নতা’, ‘নৈঃসঙ্গ্য’, ‘দীর্ঘশ্বাসের কবি’। কিন্তু কেন হাসানের কবিতায় এইসব উপসঙ্গ সেই পদের কোনো ব্যাখ্যা নাই। শামসুর রাহমান কবি হিশাবে সূক্ষ্ম সমাজে যত চাউর বস্তুত চিন্তার স্থলে তিনি স্থূল বটেন। তিনি মন্তব্যকে কি সমালোচনা ভাবিতেন? কেননা সমালোচনার গোড়া মন্তব্য নয়, ভাবের বিশ্লেষণ। মন্তব্য মাত্রই উপলব্ধি মাত্র। উপলব্ধিতে যুক্তির জায়গা কম। আর ভাবের বিশ্লেষণের ভিত যুক্তি-কাঠামোয়। যাহা যে কোনো মন্তব্যকে বাস্তব আকারে হাজির করে। রাহমানের সেই বিশ্লেষণী ক্ষমতা নাজুক প্রকৃতির। কথাখান কেন বলিলাম?

রাহমান তাহার কথার প্রমাণ-রূপ আরেক কবি আবু হেনা মোস্তফা কামালের মন্তব্য ধার করিয়াছেন। রাহমান কবি আবু হেনার যেই মন্তব্য যথার্থই আকারে শিরোধার্য করিয়াছেন, তাহা—‘চূড়ান্ত ব্যবচ্ছেদ করলে তাঁর (আবুল হাসানের) ভেতর মায়া ও মমতা, মানুষের জন্য দুঃখবোধ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না।’ প্রশ্ন হইতেছে আবু হেনার ‘দুঃখবোধ’ কেন রাহমানকে গ্রাস করিয়াছে? মন্তব্য করিতে গিয়া আবুল হাসানের কাঁধে ‘দুঃখবোধের’ চাবি লাগাইয়া দিয়াছে। চাবি মারিয়া ছাড়িয়া দিবার মানে দুই জনের কেহই সমালোচনার বাড়িতে প্রবেশ করিতে পারেন নাই। আবু হেনার মন্তব্য শুনিলে মনে হয়, হাসানের মনে ‘চীনের হোয়াংহো’ কিবা ‘মিশরের নীল নদের’ পানি ছাপাইয়া উঠিয়াছে! দুইজনের কেহই ভাবিয়া দেখেন নাই, নীল নদ কিবা হোয়াংহোতে বাঁধের ফলাফল কিরূপে সৌন্দর্য ধারণ করিতে পারে। বস্তুত তাহারা আইলে আইলে ঘুরিয়াছেন ঠিকই কিন্তু আবুল হাসানের কবিতার রূপ আর রস ধরিবার পুরাপুরি ফুরসত পান নাই। না হইলে কিভাবে মায়া ও মমতায় পৌঁছাইয়া আবুল হাসানের কাঁধে ‘দুঃখবোধের’ চাবি চাপাইয়া দিলেন?


আবুল হাসানকে জীবনানন্দ দাশের কবিতা শাসন করিয়াছে। কারণ তাহার কবিজন্মে ছোট্ট দুইখানা দাগ রহিয়াছে।


দর্শনশাস্ত্র বলিতেছে, রূপ হইতেছে ভাবের আকার। মানুষ ভাবের আকারে পৌঁছাইলে রসে ডুব মারিতে পারে। রূপ আকার পাইলে রস ধরা দেয়। মানে রূপ আকার পাইলে রস উথলাইয়া ওঠে। পাঠক পাথরেও লাবণ্য ওরফে সৌন্দর্য দেখিতে পায়। সাক্ষী হিশাবে আমরা আবুল হাসানের ‘রাজা আসে রাজা যায়’ বহির ধর্না দিয়াছি। বহিতে আবুল হাসান ‘আবুল হাসান’ কবিতারই সাক্ষী। আশ্চর্যজনক হইলে সত্য, কবি নিজেকে নিয়া লেখা ‘আবুল হাসান’ কবিতায় কোথাও ‘দুঃখ’ ভাবখানা ব্যবহার করেন নাই। কেন? কবিতায় দেখা যাইতেছে, পাথরে লাবণ্য কবি মায়ার জালে জড়াইতেন। ‘নদী’, ‘উপগ্রহ’, ‘রাজা’ ইতি-আদি চিহ্নায়নের ভেতর কবি নিজেকে খুঁজিয়াছেন। কিন্তু নিজের নামের ছয় অক্ষরকে বলিতেছেন, ‘মহাকাশের ছয়টি তারা’। কিন্তু বস্তু যদি নিজের রূপ ধরিতে না পারে তাহা হইলে মহাকাশের তারা কী অর্থ বহন করিবে? নিছক ঔজ্জ্বল্য কিংবা ‘আলোর ইশকুল’! কবির জিজ্ঞাসা এইরূপ—

মহাকাশে ছড়ানো ছয়টি তারা? তীব্র তীক্ষ্ণ তমোহর
কী অর্থ বহন করে এই সব মিলিত অক্ষর?

তিন.
প্রায় দুই দশক গত হইবার পর আবার আবুল হাসান পড়িতেছি। আগের পড়া আর বর্তমান পড়ার ভেতর আবুল হাসান প্রায় একই ঠেকিতেছে। আবুল হাসানকে জীবনানন্দ দাশের কবিতা শাসন করিয়াছে। কারণ তাহার কবিজন্মে ছোট্ট দুইখানা দাগ রহিয়াছে। আবুল হাসান আর জীবনানন্দ দাশ দুই কবির বাড়ি বরিশালে। আবহাওয়া আর প্রকৃতির কথা বিচারে আনিলে দুই কবির ভেতরগত কাঠামো একই। ফলে কখনো কখনো দুজনের কবিতাকে একই মনে হয়। ভাষার কথা বিবেচনায় আনিলে দুই কবির ফারাক ক্রিয়াপদে। জীবনানন্দ দাশ সাধু ক্রিয়াপদকে যেইরূপে কবিতার ছত্রে ছত্রে ব্যবহার করিয়াছেন সেই বেলায় আবুল হাসান অনেক বেশি প্রমিত ওরফে অসাধু ক্রিয়ার। ফলে জীবনানন্দ দাশের কবিতার চাহিতে হাসানের কবিতার স্বর বেশ খানিকটা হ্রস্ব। এই গেল এক ছত্র দাগ। অন্য আরেক দাগ ‘আবুল হাসান’ কবিতায়—

আমি বহুদিন একা একা প্রশ্ন করে দেখেছি নিজেকে,
যারা খুব হৃদয়ের কাছাকাছি থাকে, যারা এঘরে ওঘরে যায়
সময়ের সাহসী সন্তান যারা সভ্যতার সুন্দর প্রহরী
                        তারা কেউ কেউ বলেছে আমাকে—
এটা তোর জন্মদাতা জনকের জীবনের রুগ্‌ণ রূপান্তর,
একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার ধরে রাখা,
তুই যার অনিচ্ছুক দাস!


হাসান বাঁচিয়াছিলেন মাত্র ২৯ বছর। বাঁচিয়া থাকিলে তাহার পরিপূর্ণ রূপ প্রস্ফুটিত হইত, হয়তো হাসানের কবিতার মতনই—ভালোবাসার ফুল।


আবুল হাসান অপরের মুখে নিজের সার কথা বলিয়াছেন। বলিয়াছেন, ‘জনকের জীবনের রুগ্‌ণ রূপান্তর’ ‘একটি নামের মধ্যে নিজেরি বিস্তার’ আর ‘অনিচ্ছুক দাস’। হাসানের ভাব পরখ করিলে ফ্রিদরিখ এঙ্গেলসের ‘অ্যান্টি ডুরিঙের’ কথা ভাসিয়া ওঠে। অনেকখানি এঙ্গেলসের ‘নেগেশন অব দ্য নেগেশন’ তত্ত্বের আভায়। বাঙাল দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম ‘নেগেশন অব দ্য নেগেশন’ ভাবের বাংলা করিয়াছেন ‘নাস্তির নাস্তি’। মানব প্রকৃতির স্বভাব এক নামের ভেতর আরেক নাম জন্ম দেওয়া। মানে পিতার নামের ‘না’ বোধের ভেতর সন্তানের নামের আবির্ভাবে হ্যাঁ বোধে রূপান্তর হয়। কেননা জনকের সন্তান জনকেরই রূপান্তর বটে। মানে ‘হ্যাঁ’ বোধের মৃত্যু মানেই ‘না’ বোধের জন্ম। সেই অর্থে ‘না’ বোধ না-ই। যাহা বস্তুগত ভাবে নাই, কিন্তু অপর বস্তুতে তাহার রূপ আর রস ধরিতেছে তাহাকে কবি বলিতেছেন ‘তুই যার অনিচ্ছুক দাস’। এই গেল দর্শনের সুন্দর রস। আবুল হাসানের নামের রূপ অন্য অর্থে। ‘আবুল’ উর্দু শব্দ। আবুলের আদি শব্দ ‘আবু’। আরবি ‘আবু’ শব্দের অর্থ ‘আব্বা’। আর হাসান শব্দের অর্থ ‘ভালো’/‘সুদর্শন’/‘উপকারী’। ফলে আবুল হাসানের অর্থ ‘সুদর্শনের বাপ’।

মজার ব্যাপার হইল তাহার পিতৃদত্ত নাম ‘আবুল হোসেন’। কিন্তু চল্লিশের অগ্রজ কবির নামের কারণে কবি নিজের নাম ‘আবুল হাসান’ রাখিয়াছেন। তবে আরবিতে হাসান আর হোসেন একই অর্থ বহন করে। তবে এই কথা বলিতে হইবে, জীবনানন্দ দাশের কবিতা-রস আর রূপ যত না সুন্দর, আবুল হাসানে তাহা খানিকটা কম। কারণ হাসান বাঁচিয়াছিলেন মাত্র ২৮ বছর। বাঁচিয়া থাকিলে তাহার পরিপূর্ণ রূপ প্রস্ফুটিত হইত, হয়তো হাসানের কবিতার মতনই—ভালোবাসার ফুল। পরিশেষে জিজ্ঞাসা হইতেছে, আবুল হাসানের রূপ কী? আবু হেনা মোস্তফা কামাল কিংবা শামসুর রাহমানের চিন্তায় আবুল হাসানের রূপ চেনা যাইবে না। চিনিতে হইলে তাহার কবিতা ফের পড়িতে হইবে। না হইলে কবি আসিবে কবি যাইবে কিন্তু কবি অচেনাই থাকিবে।

চার.
আবুল হাসান আধুনিক কবি। ইহা নতুন নহে। কেন তিনি আধুনিক? পুঁজিতান্ত্রিক আধুনিকতা মানুষকে সংশয়-আকীর্ণ করিয়াছে। সংশয় নিছক অবক্ষয়ী রূপ নহে। কেননা ক্ষয়ের অক্ষয় রূপই সংশয়। ফলে সংশয় জিজ্ঞাসার জন্ম দিতে বাধ্য। তাই হাসান কহেন, ‘হয়তো যুদ্ধের নাম’। যুদ্ধ তো জীবন নহে। জীবন সংহারের অন্য রূপ মাত্র। এমন জিজ্ঞাসার ভেতর দিয়ে অবক্ষয়কে চিহ্নিত করতে চান তিনি? ফলে ভাবগতভাবে মানুষ কি ‘নীল দীর্ঘশ্বাস’? কবিরও জিজ্ঞাসা, ‘নীল দীর্ঘশ্বাস কেন মানুষের/ সত্যিই কি মানুষের?’ অবারিত নীলের ভেতর সংশয়ের রূপক। সংশয় থেকে যে প্রশ্নের জন্ম তাহার কেন্দ্রে ‘মানুষ’। যেন মানুষ ‘জোছনার আলোয়’ ম্লান হয়ে আসে। কবির এহেন গভীর সংশয় জাগরণের। এই জাগরণ প্রশ্নমুখর আর সুন্দর হাসানের। কবিতায় যাহা শব্দ, নিছক তাহা এক শব্দ নহে। শব্দের অর্থ তাই অন্য শব্দে। আবুল হাসান ঠিক তাহাই।

সাখাওয়াত টিপু

সাখাওয়াত টিপু

জন্ম ১৯৭১, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম। লেখক ও চিন্তাবিদ।


প্রকাশিত বই :
কাব্যগ্রন্থ—
১. এলা হি বরষা
২. যাহ বে এই বাক্য পরকালে হবে
৩. শ্রী চরণে সু
৪. বুদ্ধিজীবী দেখ সবে
৫. কার্ল মার্কসের ধর্ম


সম্পাদনা ও গবেষণা—
১. জাতীয় সাহিত্য (ভাষা ও দর্শনের কাগজ)
১. চাড়ালনামা (নাসির আলী মামুনসহ যৌথ)


ই-মেইল : shakhawat.tipu@gmail.com
সাখাওয়াত টিপু