হোম গদ্য উপন্যাস শেষ জাহাজের আদমেরা

শেষ জাহাজের আদমেরা

শেষ জাহাজের আদমেরা
337
0

৭ম পর্বের লিংক

পর্ব-৮

কোথা থেকে হঠাৎ একটা পিস্তল বের করল হায়দর। মঈন চমকে উঠল। তালেব আর জুলফিকারের চোখও এড়াল না। দুজন হাঁ করে তাকিয়ে রইল। মাথায় বাজ পড়ে দুজনকে যেন নিথর করে দিল। ট্রলারটি কখন নোঙর তুলল কেউ টের পেল না। মঈনের কান্নায় জুলফিকারের হুঁশ ফেরে, বিড়বিড় করে সে মুশকিল আসানের দরুদ পড়া শুরু করে। দু-হাত তুলে কাতরকণ্ঠে বলে, আবার কোন বিপদের মুখে ফেললে মাবুদ! মাত্র এক দিন আগে নিজের এলেম ও আমল নিয়ে যে অহঙ্কার তার ভেতরে জেগেছিল তাতে ভাঙন ধরল। সমস্ত অহঙ্কার নোনা জলে মিশে যেতে লাগল। দু-চোখে বিস্ময়ের ঘোর নিয়ে তীরের দিকে তাকিয়ে দেখল, উবু হয়ে বসে বিড়ি ফুঁকছে হায়দর। তার মনে হলো, মানুষ নয়, যেন একটা দুর্ধর্ষ জানোয়ার শিকারের আশায় ওঁৎ পেতে বসে আছে।

শাহপরীর জেটিঘাট থেকে মঈনকে জোর করে ট্রলারে তোলার সময় আশপাশের লোকজন হয়তো দেখেছিল, তার চিৎকারও হয়তো অনেকে শুনেছিল, কিন্তু সে-রাতে, আকাশে যে-রাতে ধবধবে পূর্ণিমা ছিল, মহেশখালীর গোরকঘাটা সমুদ্রতীরে অপহরণের ঘটনাটি কেউ দেখে নি। দেখবে কিভাবে, দিনের সূর্য অস্ত গেলে কে যায় গোরকঘাটার সৈকতে! সন্ধ্যার পর সেখানে চোর ডাকাত জলদস্যু আদমকারবারি আর অস্ত্র-চোরাকারবারীরা মিলিত হয়—একথা সবার জানা, যদিও কেউ কোনোদিন তদন্ত করে দেখে নি। কারা জলদস্যু, কারা অস্ত্র চোরাকারবারী আর কারা আদমকারবারি এবং কোথাকার মানুষ কোথায় পাচার হয়, এলাকার কেউ কিছু জানে না, কেউ তাদের চেনেও না। এটাও এক গোপন চক্র। এই চক্র সম্পর্কে যারা জানার চেষ্টা করে কোনো না কোনোভাবে তারাও চক্রে ঢুকে পড়ে। টাকার কারবার, ঢুকে পড়াটাই স্বাভাবিক। পুলিশও তেমন যায় না ওদিকে, গেলে তো মাসে মাসে হাওয়ায় চড়ে থানায় উড়ে আসা টাকাগুলো আর আসবে না। কোস্টগার্ডের লোকদেরও খুব একটা দেখা যায় না। জায়গাটা এত খল, জানা ছিল না ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা রাহাত কমল ও দীপঙ্কর দাসের। জানা থাকলে প্রায় নিশ্চিন্ত মনে তারা সঙ্গে আনা ভদকার গোটা একটি বোতল খালি করে দু-পা মেলে দু-হাতে ঠেস দিয়ে সৈকতের বালিতে বসে মনের সুখে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে জোছনা উপভোগে মত্ত হতো না।


বাবার মৃত্যুর পর, তার বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ, মায়ের ট্রাংক থেকে বেশ কিছু টাকা চুরি করে সে বাড়ি থেকে পালায়।


সেই রাতের সাক্ষী ছিল শুধু একজন, সিতারাবানু। শুধু সেই রাতেরই নয়, সে তো কমলের সারা জীবনেরও সাক্ষী। শুধু কমল কেন, এই বৃত্তান্তের সব চরিত্র ও ঘটনার সাক্ষীও তো সে। কমলের উড়নচণ্ডী স্বভাবের কথাও তার অজানা নয়। সেই কবে, প্রায় ষোল বছর আগে, উড়তে উড়তে একদিন ঢাকায় আসে। তখন তার নাম ছিল রাহাতুল ইসলাম কামাল। একটি নাট্যদলে অভিনেতা হিসেবে নাম লেখানোর কদিন পর নাট্যনির্দেশক তার নতুন নাম রাখল রাহাত কমল। তারপর থেকেই সে কারো কাছে রাহাত, কারো কাছে কমল নামে পরিচিত। তার গ্রামের বাড়ি আছে, বাড়িতে চাচা-জ্যাঠা-ভাই-ভাবীরা আছে, কিন্তু তাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। মামা-খালা-ফুফা-ফুফি বা বোন-বোনাইদের কেউ তার খোঁজ নেয় না। নেবে কিভাবে, তার ফোন নম্বরটি তো তাদের জানা থাকা লাগবে। সেও কোনোদিন কারো নম্বরে একটি বার ফোন করে জানতে চায় নি, কেমন আছেন? দরকার মনে করে না। পৃথিবীতে যেন তার কেউ নেই, কোনোদিন কেউ ছিল না, যেন সে আকাশ থেকে শিলার মতো টুপ করে মাটিতে পড়েছে, কিছুক্ষণ আলো-বাতাস গায়ে মেখে তারপর আবার মাটিতে মিশে যাবে।

বাবার মৃত্যুর পর, তার বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ, মায়ের ট্রাংক থেকে বেশ কিছু টাকা চুরি করে সে বাড়ি থেকে পালায়। পরবর্তী আট বছর তার জন্য কাঁদতে কাঁদতেই তার মা কবরে ঢোকে। মাকে কবরে শুইয়ে আসার পর কোনোদিন আর জন্মভিটায় যায় নি। বাড়ি ছাড়ার পর প্রায় দু-বছর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর এক বৌদ্ধমন্দিরের এক ভিক্ষুর আশ্রয়ে ছিল। বোয়ালখালী সরকারি কলেজ থেকে আইএ পাস করে আবার উড়াল দিল। এবার ঠাঁই নিল চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া নদীর ওপারে এক গেরস্তবাড়িতে, লজিং মাস্টার হিসেবে। লজিং থেকে, একটা কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে মাস্টারি করে বিএ পরীক্ষা দিল। ফল প্রকাশের আগেই চাকরির আশায় ঢাকায় চলে গেল। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও চাকরি পেল না। ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে কত বেকার পথে পথে ঘুরছে, সে তো মাত্র বিএ পাস, চাকরি পাবে কেমন করে। তাই বলে বেকারও বসে থাকে নি। কিছুদিন খেয়ে না খেয়ে থিয়েটারে অভিনয় করেছে। যখন বুঝল শুধু অভিনয় করে পেট চলবে না তখন শুরু করল ব্যবসা। বন্ধুভাগ্য ভালো তার। শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে মিশে আচরণবিদ্যাটা রপ্ত করতে পেরেছে ভালো। কথাও বলতে পারে বেশ, টকশোবিদদের মতো। যখন বলে, একেবারে বিশুদ্ধ বাংলায়, লোকজন মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই বাকশক্তির গুণে কারো সঙ্গে একবার পরিচয় হলে বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লাগে না। ষোল বছরে আর কিছু না পারুক, বেশ কজন বন্ধু জুটিয়েছে, যারা তার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। এক বন্ধু প্রথম শ্রেণির একটি দৈনিকের সহকারী সম্পাদক, অন্যজন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রযোজক। একাধিক ব্যবসায়ী বন্ধুও রয়েছে, যাদের সঙ্গে মাসে দু-একবার সাকুরা বা পিককে মদের টেবিলে আড্ডা দেয়। শুধু বন্ধু কেন, ভক্ত-শিষ্যও আছে একাধিক, যারা তাকে গুরুর মতো মানে এবং কেউ কেউ গুরু সম্মোধন করে। এছাড়া শহরের মধ্যসারির তিন ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক, যারা তাকে স্নেহের পাশাপাশি বিশ্বাসও করে, যাদের একজন বিশিষ্ট রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী, সাহিত্যপাড়ায় যাকে সে কবি হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল।

গণযোগাযোগে এই দক্ষতার কারণেই পল্টন টাওয়ারে দুটি রুম ভাড়া নিয়ে প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করার সময় টাকা-পয়সার তেমন সমস্যায় পড়তে হয় নি, যার কাছে চেয়েছে কিছু না কিছু পেয়েছে। প্রথম বছর ব্যবসায় মনোযোগ দিয়েছিল বলে উন্নতিও করতে পারল বেশ। কিন্তু রক্তে যে বাউণ্ডুলেপনা! টানা এক মাস ঢাকায় থাকলে সে হাঁপিয়ে ওঠে, মাসে অন্তত একবার পিঠে ব্যাগটা ঝুলিয়ে বেরিয়ে তাকে পড়তেই হবে। কোথায় কোথায় চলে যায় ঠিকঠিকানা থাকে না। আজ রাজশাহী তো কাল ময়মনসিংহ, পরশু আবার সিলেট, তরশু আবার চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম ঘুরে দেখা তার জীবনের অন্যতম স্বপ্ন। মাঝেমধ্যে ভিসা লাগিয়ে ভারতও যায়। আগরতলায় তার অনেক বন্ধুবান্ধব, যাদের সঙ্গে ফেইসবুকের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। ব্যবসা শুরুর দেড় বছরের মাথায় একবার সিদ্ধান্ত নিল গোটা বাংলাদেশ দেখা শেষ হলে সব ছেড়েছুঁড়ে ভারত চলে যাবে। গোটা ভারতবর্ষ ঘুরে চলে যাবে অন্য কোনো দেশে। রাশিয়া অথবা ফ্রান্স, যে দুটো দেশ তার তীর্থস্থান। সেখান থেকে ল্যাটিন আমেরিকা―গ্রাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, মারিও ভার্গাস ইয়োসা ও হোসে সারামাগোর দেশে। সমগ্র পৃথিবী সে ঘুরে দেখতে চায়, গোয়ালের গরুর মতো সারা জীবন এক জায়গায় পড়ে থাকবে না। থাকাটা তার কাছে অসম্ভব। মাঝেমধ্যে বন্ধুদের বলে, আমি প্রকৃতির সন্তান। পৃথিবীর প্রতিটি দেশই আমার। উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু সবই আমার। যেখানে ইচ্ছে চলে যাব, ঘুরে বেড়াব, থাকব। বন্ধুরা হেসে উড়িয়ে দেয়, এত সোজা! পৃথিবীটা কি তোমার কথামতো চলে? তুমি তো এই রাষ্ট্রের নাগরিক। তুমি চাইলে আর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব রাষ্ট্র তোমাকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে? প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তো কিছু নিয়ম-কানুন আছে।


রাষ্ট্র তো একটা নিপীড়ন যন্ত্র, কতিপয় দস্যুর দস্যিপনার নিরাপদ আখড়া। আমাদের গরুর পাল বানিয়ে হাতে একটা দণ্ড নিয়ে তারা রাখাল সেজেছে।


তখন শুরু হয় রাষ্ট্র নিয়ে তার তত্ত্বের প্যাঁচাল, দেখ ভাই, আমার কোনো রাষ্ট্র নেই। প্রকৃতির সন্তানের কোনো রাষ্ট্র থাকে না। রাষ্ট্র আমাকে কি দেয়? এই যে বলা হচ্ছে এটা আমার রাষ্ট্র, আসলেই কি এটা আমার রাষ্ট্র? ওটাও কি আমার রাষ্ট্র? আমার বা তোমার বলতে কোনো রাষ্ট্র কি আছে? রাষ্ট্র তো একটা নিপীড়ন যন্ত্র, কতিপয় দস্যুর দস্যিপনার নিরাপদ আখড়া। আমাদের গরুর পাল বানিয়ে হাতে একটা দণ্ড নিয়ে তারা রাখাল সেজেছে। নিজেদের স্বার্থে তারা আমাদের বলছে, সাবধান, কাঁটাতারের ওপারে যেয়ো না, কারণ ওটা তোমার রাষ্ট্র নয়, তোমার রাষ্ট্র এটা। এখানে তুমি স্বাধীন, ওখানে তুমি পরাধীন। কি হাস্যকর! একই চন্দ্র-সূর্য এবং একই আকাশের নিচে মাটির এই ভূখণ্ড কত না খণ্ড-বিখণ্ড! আসল কথা হচ্ছে পশুরা যেমন প্রকৃতির সন্তান, আমিও তাই। পশুদের রাষ্ট্র নেই, অথচ আমার আছে! কেন বলতে পারো? আমার রাষ্ট্র না থাকলে রাখালরা ছড়ি ঘোরাবে কার ওপর? তারা রাষ্ট্রের নামে পৃথিবীটা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়েছে ছড়ি ঘুরানোর সুবিধার্থে। তাতে আমার কি লাভ-ক্ষতি, বলো?

স্বাভাবিকভাবেই তার এসব কথা উদ্ভট ঠেকে বন্ধুদের। তারা হাসে, ঠাট্টা করে বলে, সারা পৃথিবীটাই যদি তোমার হয়, কই, ফ্রান্সের ভিসার জন্য এত দৌড়ঝাপ করেও তো পেলে না! সে জবাব দেয়, পেলাম না সেটা তো আমার দোষে নয়, সিস্টেমের দোষে। এক পৃথিবীকে ভাগ-ভাটোয়ারা করে উদ্ভট কিছু সিস্টেম তৈরি করে রেখেছে, আমি একা তো এসব সিস্টেম ভাঙতে পারব না। বন্ধুরা তখন বলে, তাহলে আর কি, ওসব চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যবসায় মনোযোগ দাও।

ভিসা প্রাপ্তির সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় আবার সে ব্যবসায় মনোযোগ দিল। আবার আগের অবস্থায় ফিরে এল ব্যবসাটা। কিন্তু বুকে যে শিল্প-সাহিত্যের প্রেম! লিখতে সে পারে না, গাইতেও না, অথচ শহরের যশধারী ও যশপ্রার্থী লেখক-শিল্পীদের অনেকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। জাতীয় নাট্যশালায় নতুন আসা নাটকটি না দেখলে তার চলে না। রোজ একবার ছবির হাট, পাবলিক লাইব্রেরি এবং আজিজ সুপার মার্কেটে ঢুঁ না মারলে রাতে ঘুম হয় না। শহরের কোন কবির জ্বর হলো, কোন লেখক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়াত কোন বুদ্ধিজীবীকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনারে আনা হলো―এসব খবর তার কাছে আসবেই এবং ব্যবসার যতই ক্ষতি হোক সে ছুটে যাবেই।

এক মানুষ এত দিকে মন ছড়িয়ে রাখলে ব্যবসার কি আর উন্নতি হয়! ব্যবসা জটিল পেশা, হরদম লেগে থাকতে হয়। তার তো লেগে থাকা হয় না, তাই নতুন কোনো কাজও তেমন পায় না। বাড়তি কাজ নিয়ে অবশ্য সে মাথাও ঘামায় না, পরিচিতদের কাছ থেকে যা পায় তাতে মাস শেষে দুজন কর্মচারীর বেতন দিয়ে হাজার বারো, কোনো মাসে পনেরোর মতো থাকে, তাতেই তার চলে যায়। একজন মানুষের জন্য এর বেশি আর লাগেও না। সঞ্চয়পাতি তো কিছু করে না। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার বিশেষ কোনো চিন্তা নেই। কারণ চূড়ান্ত অর্থে জীবনটা তার কাছে অর্থহীন। জন্মকে স্রেফ একটা দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখে। একজোড়া নর-নারীর উচ্ছ্বসিত আনন্দের মুহূর্তে নরের ঔরস থেকে সে দুর্ঘটনাবশত নারীর জঠরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। জন্মের পেছনে তার কোনা হাত নেই, জন্ম নেওয়ার জন্য সে কারো কাছে আবেদন করে নি। একইভাবে দুর্ঘটনাবশতই সে মানুষের অবয়ব নিয়ে জন্মেছে। একটি কুকুরও হতে পারত, শূকর বা গরু-মেষ বা গধা-ঘোড়া বা কেঁচো বা সাপও হতে পারত। মানুষ হয়ে জন্মানোর পেছনেও তার কোনো হাত নেই, এ জন্য সে কারো কাছে আর্জি পেশ করে নি। একটা মানবেতর প্রাণি, যেমন শেয়াল-কুকুর, যেভাবে পৃথিবীতে জন্মায়, বেঁচে থাকে, খায়-দায়, ঘুরে বেড়ায়, সঙ্গম করে, সময় হলে আবার মরে যায়, পচে-গলে মাটির সঙ্গে মিশে যায়, তার মতে, মানুষের জীবনও ঠিক তেমনি, এরচেয়ে ব্যতিক্রম কিছু নয়। জীবন নিয়ে তাই এত ভাবার কিছু নেই। যতদিন বাঁচে দেশ-বিদেশ ঘুরে, ফুল দেখে, পাখি দেখে, নারীর চোখ দেখে, নদী আর সমুদ্র দেখে, গান শুনে, বই পড়ে এবং পূর্ণিমা রাতে মায়াবী জোছনা উপভোগ করে কাটিয়ে দেবে―এই তার জীবনদর্শন। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা তার নেই, ভাবেও না। বর্তমানটাই তার কাছে বড়। বর্তমানের প্রতিটি মুহূর্ত সে উপভোগ করে। আজকের দিনটা কেমন কাটল, কয় পৃষ্ঠা বই পড়তে পারল, সাহিত্য দর্শন ও ইতিহাসের নতুন কী জানতে পারল―রাত দেড়টায় বিছানায় শুয়ে এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে জেগে ল্যাপটপে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে শুনতে দাঁত ব্রাশ করে, স্নান করে, নাশতা করে। তারপর জিন্সের প্যান্ট আর টি-শার্টটা গায়ে চড়িয়ে ইচ্ছে হলে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেবে, নইলে শুয়ে শুয়ে বই পড়বে এবং ঘণ্টায় দুটো করে বেনসন টানবে। ছোট্ট রুমটা বইয়ে ঠাঁসা। এত যে, ঠিকমতো হাঁটাচলার জায়গা পর্যন্ত নেই। বইগুলো গুছিয়ে রাখবে সেই সময় তার নেই। রুমমেট দীপঙ্করেরই-বা সময় কোথায়? সে একটা সাপ্তাহিক সংবাদ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদক। সময় খুব বেশি দিতে হয় না, দিনে পাঁচ ছ ঘণ্টা। বাকি সময় ফেইসবুক আর ব্লগ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ফেইসবুকে তার স্ট্যাটাস মানেই নাস্তিকতার পক্ষে যুক্তি। যেন সে পৃথিবীতে নাস্তিকতা প্রচারের ঠিকা নিয়েছে। হুমায়ূন আজাদ, আহমদ শরীফ ও বার্ট্টান্ড রাসেলের কিছু বই পড়ে সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, ঈশ্বর বলে আসলে কিছু নেই, ঈশ্বর মানবসৃষ্ট একটি সত্তা। স্বর্গ-নরক বলে উৎকৃষ্ট বা নিকৃষ্ট কোনো স্থান নেই, স্বর্গ-নরকের ধারণা ঈশ্বরের মতোই কাল্পনিক। মানুষের জন্য ধর্মের আদৌ কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ ধর্ম কল্যাণের চেয়ে মানুষের অকল্যাণই বেশি করেছে। কমলও আস্তিক নয়, আবার দীপঙ্করের মতো নাস্তিকও নয়। তার মতাদর্শ আসলে কী, দীপঙ্কর ঠিক বুঝে উঠতে পারে না।


অনার্স প্রথম বর্ষে থাকতেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আলো-অন্ধকারে প্রথম প্রেমিকের ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছে, বুকে হাত রাখতেও বাধা দেয় নি প্রেমিককে। এক বান্ধবীর বাসায় দ্বিতীয় প্রেমিকের সঙ্গে শুয়েছেও। চুমোচুমি বা শোয়াশোয়িকে সে দোষের কিছু মনে করে না।


এক মায়াবী জোছনার রাতে মেসের ছাদে বসে দুজনে মিলে কেরুর এক বোতল অরেঞ্জ হুইস্কি খালি করে দিল। টলতে টলতে দীপঙ্কর বলল, চলুন কমলদা, আমরা একদিন কক্সবাজার গিয়ে গলা পর্যন্ত মদ খেয়ে জোছনা উপভোগ করি।

ভ্রমণে যাওয়ার জন্য কমলের একটা পা তো সবসময় তোলা থাকে। যতই মাতাল হোক, সে কি অমত করতে পারে! পারলে তো তখনই ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে রওনা দেয়। কিন্তু ব্যবসার একটা বড় কাজে ব্যস্ত থাকায় টানা সাত মাসে একবারও সে ঢাকার বাইরে যেতে পারল না। সাত মাস পর ভ্রমণযাত্রার দিনক্ষণ ঠিক করে যেদিন অান্তঃনগর এক্সপ্রেসের টিকেট কাটল সেদিন বিকেলে লাবনী তার মেসে হাজির। একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলায় পড়ে গেল সে। অনাকাঙ্ক্ষিত, কারণ কোনোদিন সে ভাবে নি লাবনী এভাবে বিয়ের দাবি নিয়ে তার মেসে হাজির হবে। তাকে সে ভালোবাসে একথা কোনোদিন বলে নি, ভালোবাসে-না তাও বলে নি। লাবনীও কোনোদিন সেই অর্থে তার গোপন প্রেমের কথা তাকে জানায় নি। অথচ দুজনই বোঝে পরস্পরের প্রতি তারা দুর্বল। বিয়ে করলে কমলকেই করবে, আপাতত লাবনী এই সিদ্ধান্তে স্থির। আপাতত, কারণ আগের দুটির মতো এই প্রেমটাও ভেঙে যেতে পারে। অনার্স প্রথম বর্ষে থাকতেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আলো-অন্ধকারে প্রথম প্রেমিকের ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছে, বুকে হাত রাখতেও বাধা দেয় নি প্রেমিককে। এক বান্ধবীর বাসায় দ্বিতীয় প্রেমিকের সঙ্গে শুয়েছেও। চুমোচুমি বা শোয়াশোয়িকে সে দোষের কিছু মনে করে না। এক জীবনে মানুষ একাধিকবার প্রেমে পড়তেই পারে, একাধিক পুরুষের সঙ্গে শুতেই পারে। কেননা জীবন তো একটাই। এত বাছবিছারের কী আছে। যদিও এসব কথা সে প্রকাশ্যে কারো কাছে বলে না। কাছের বান্ধবীটিকেও না।

দ্বিতীয় প্রেমটি ভাঙার কিছুদিন পরই কমলের সঙ্গে পরিচয়। পরিচয়ের পর থেকেই সপ্তায় তিন দিন ছবির হাটে, পাবলিক লাইব্রেরির সিঁড়িতে অথবা টিএসসিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা। তবে কোনোদিন একা নয়, আড্ডায় অন্য বন্ধুরাও থাকত। বন্ধুটি হয় লাবনীর, নয় কমলের। নির্জনে বসে দুজন আড্ডা দেওয়ার সুযোগ কখনো পায় নি। কমল যে সুযোগ খোঁজে নি তা নয়। খুঁজেছে। লাবনীও খুঁজেছে। কিন্তু সেভাবে সুযোগ হয়ে ওঠে নি। কমল কোনোদিন বলতে পারে নি, এস লাবনী, দুজনে মিলে কোথাও আড্ডা দেই। লাবনীও বলতে পারে নি। দুজনের মধ্যে জড়তা ছিল। তাই বলে পরস্পরকে ভালোবাসার কথা জানান দিতে কোনো অসুবিধা হয় নি। চোখের ভাষায় লাবনী তার ভালোবাসার কথা বারবার জানান দিয়েছে, কমলও সাঁয় দিয়েছে প্রকারান্তরে। সেও মাঝেমধ্যে ভেবেছে বিয়ে করলে লাবনীকেই করবে। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে লাবনীকে যখন অন্য ছেলেবন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে দেখেছে তখন ভাবনাটার উলট-পালট হয়েছে। লাবনীর এই স্বভাবটা তার অপছন্দ। এসব ব্যাপারে সে উদার, অথচ লাবনীর ব্যাপারে রক্ষণশীল, যদিও লাবনীকে কোনোদিন বুঝতে দেয় নি। একেকেবার ভেবেছে লাবনীর সঙ্গে দেখাদেখি একদম বন্ধ করে দেবে। কিন্তু মদ খেয়ে যখন মাতালের চূড়ান্ত হয়েছে, লাবনীর মোবাইল নম্বরে ডায়াল করে ঠিকই তার কাছে মাতলামিটা ঝেড়েছে। তবে যতই মাতলামি করুক, সীমা কোনোদিনও লঙ্ঘন করে নি, ভুলেও কোনোদিন বলে ফেলে নি চিরায়ত সেই কথা―লাবনী, আমি তোমাকে ভালোবাসি। বলে নি তাতে কি, লাবনী কি কিছু বোঝে না! সে ধরেই নিয়েছে, মুখে প্রকাশ না করলেও মদ খেয়ে তাকে ফোন করা মানেই তার প্রতি সে দুর্বল।

দুজনের কেউ প্রকাশ না করলেও তাদের গোপন প্রেমের কথা বন্ধুদের কারো অজানা ছিল না। লাবনীর ভাইদের কানেও পৌঁছে গেল একদিন। তারা সবিস্তারে কমলের ঠিকুজি-কুলুজির খোঁজ নিয়ে তার উড়নচণ্ডী স্বভাবের কথা জেনে বোনকে কঠিনভাবে শাঁসিয়ে দিল, ভবিষ্যতে কোনোদিন তার সঙ্গে দেখা তো দূরের কথা, ফোনে কথাও যেন না বলে। ভাইদের হুঁশিয়ারি ফু মেরে উড়িয়ে দিয়েছে লাবনী। সে তো সারা জীবনে মাত্র তিনটি প্রেম করছে, তার দুই ভাই জীবনভর কত মেয়ের সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যানে, রমনা পার্কে, চিড়িয়াখানা বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে অভিসার করেছে, ফকিরাপুল ও কাওরান বাজারের হোটেলগুলোতে কত মেয়ের সঙ্গে শুয়েছে, তার তো কোনো শুমার নেই। তাদের কারণে বাসায় কোনো কাজের মেয়ে এসে থাকতে পারে না। বাধ্য হয়ে তার মা বুড়ো এক কাজের বুয়া রেখেছে। এমন ভাইদের কথা সে পাত্তা দেবে কেন?

বাধ্য হয়ে সেদিনই কমল কাজি অফিসে গিয়েছিল এবং শাস্ত্রমতে দুজন কবুলও বলেছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে কোনোদিন একসঙ্গে তাদের থাকা হয় নি। না হওয়ার কারণ কমলের অনাগ্রহ। সে বলেছে, বিয়ে হয়ে গেছে, এখন তো আর কোনো ঝামেলা নেই। তোমার ভাইরা ইচ্ছে করলেই তোমাকে আর কোথাও বিয়ে দিতে পারছে না। তোমাকে নিয়ে তো আর মেসে ওঠা যাবে না, কিছুদিন যাক, ভালো একটা বাসা ভাড়া করে তারপর তোমাকে নিয়ে উঠব। ততদিন বরং মায়ের কাছেই থাক।

কক্সবাজার আসার পর লাবনীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয় দ্বিতীয় দিন বিকেলে, যখন সে মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে। প্রায় আধা ঘণ্টার রসালাপ। ঢাকায় কবে ফিরবে, লাবনী জানতে চাইলে সে জানিয়েছে, আরো একদিন কক্সবাজার থাকবে, পরশু সেন্টমার্টিন যাবে। রাতটা থেকে পরদিন আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। লাবনী বলেছে, সাবধানে থেক। এই ছিল তাদের শেষ কথা। সারা বিকেল আদিনাথ মন্দির দেখেই কাটল কমলের, রাতে গোরকঘাটার সমুদ্রতীরে অচেনা অস্ত্রধারীরা যখন তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলল, চল, সে কোনো প্রতিবাদ না করে তাদের সঙ্গে চলতে শুরু করল। ভেবেছিল অস্ত্রধারীরা হয়ত পুলিশ বা কোস্টগার্ডের লোক, মদপানের অপরাধে আটক করে তাদের থানায় নিয়ে যাচ্ছে। লাবনীকে ব্যাপারটা আগে থেকে জানানো দরকার, জেলহাজতে চালান করে দিলে জানানোর সুযোগ পাবে না। হাঁটতে হাঁটতে প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে যেই না তার নাম্বারটা বের করল ডায়াল করবে বলে, ঠিক তখনই পাঁচ অস্ত্রধারীর একজন ছোঁ মেরে মোবাইলটা কেড়ে নিল। দীপঙ্কর ভাবল অস্ত্রধারীরা বুঝি কমলের গায়ে হাত তুলেছে। ভয়ে সে চিৎকার করে উঠল। চিৎকারটা লোকালয় পর্যন্ত পৌঁছাল না, কল্লোলিত সমুদ্র কর্তৃক অপহৃত হয়ে গেল। অস্ত্রধারীরা মুহূর্তে গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলল। সে আর চিৎকার করতে পারে না। অবশ্য মুখ না বাঁধলেও সে আর চিৎকার করতও না। কারণ ততক্ষণে তার বোঝা হয়ে গেছে জনমানবহীন এই সমুদ্রতীরে তারা যাদের কবলে পড়েছে চিৎকার করে তাদের কিছুই করতে পারবে না। মেরে ফেললেও কেউ তাদের বাঁচাতে আসবে না।

একটা কল করার সুযোগ দিতে অনেক অনুরোধ করল কমল, তারা পাত্তাই দিল না। একজন বলল, সময়মতো দেয়া হবে, কথা না বলে এখন চুপচাপ হাঁটো। কমল চুপচাপ হাঁটে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। মুঠো করে তার শার্টের কলার ধরে যে লোকটি পাশাপাশি হাঁটছিল আলো-অন্ধকারে তার চোখাচোখি তাকিয়ে বলল, আপনারা কি ডাকাত? প্রশ্নটা করে যেন মহা অপরাধ করে ফেলল, অস্ত্রধারীরা উত্তর দেওয়ার বদলে তার গালে দুটো চড় কষিয়ে দিল। মদের নেশায় এমনিতেই সে টাল, মাথা ঘুরছিল―চড় খেয়ে আরো জোরে ঘুরতে লাগল। তবু সাহস হারাল না, কয়েক মুহূর্ত চোখ বুজে দাঁড়িয়ে থেকে মাথার চক্করটা সামলে নিয়ে বলল, আমার পকেটে আট হাজার টাকা আছে, নিয়ে নিন। তার বদলে আমাদের ছেড়ে দিন।

অস্ত্রধারীদের তিনজন কিছুটা দূরে গিয়ে নিচুগলায় আলাপ করল কিছুক্ষণ, ফিরে এসে কমলের পকেট হাতিয়ে সব টাকা নিয়ে নিল। এমনভাবে নিল, তারা নেবে বলেই কমল যেন মানিব্যাগে টাকাগুলো যত্ন করে ভাঁজ করে রেখেছিল। নিক, তবু তাদের মুক্তি দিক। আতঙ্কে ভারী হয়ে থাকা শরীরটা স্বস্তিতে হালকা হয়ে এল কমলের। কিন্তু স্বস্তিটুকু পুরোপুরি উপভোগের আগেই অস্ত্রধারীদের একজন তার শার্টের কলার ধরে আগের মতো আবার টানতে লাগল। হতাশকণ্ঠে সে বলল, ছাড়বেন না তাহলে?
জবাব নেই।
কোথায় নিয়ে যাবেন আমাদের?
লোকটা বুঝি এবার বিরক্ত হলো। মাথায় পিস্তলের নলের খোঁচা মেরে বলল, আর একটা কথা বললে চান্দি ফুটা কইরা দিমু বাইঞ্চোত। লোকটার কথা শুনে কমল বুঝতে পারে তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ, বগুড়া বা পাবনার কোথাও হবে। একবার জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হলো, পাছে সত্যি সত্যি লোকটা হাতে ধরা ট্রিগারটি টেনে দেয় এই ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেল না। কিন্তু যখন তাদের ট্রলারে উঠতে বলা হলো মুখ আর না খুলে পারল না। আবারও একই প্রশ্ন, আমাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে জানতে পারি?
জাহান্নামে। কোনো আপত্তি আছে? লোকটি বলল।
কমল কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে উত্তর দিল―না, আপত্তি নাই। কিন্তু মরার আগে সেখানে যাওয়ার কারণটা ঠিক বুঝতে পারছি না।

তামাশা মারাস শালা! আবার দু-গালে দুটো চড়। প্রচণ্ডতায় আগের দুটোর চেয়ে দ্বিগুণ। পেছন থেকে একজন লাথিও মারল একটা। দ্বিতীয়বার মুখ না খুলে দু-হাতের তালুয় দু-গাল চেপে সোজা ট্রলারে উঠে পড়ল কমল। পেছনে দীপঙ্কর। পূর্ণিমার চাঁদ তখন মাথার উপর থেকে সরে গেছে, অদ্ভুত মায়াবী রূপ নিয়েছে জোছনা। দূর থেকে ঢাক-ঢোলের শব্দ ভেসে আসছে। হয়ত আদিনাথ মন্দিরে পূজার কোনো অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

৯ম পর্বের লিংক

স্বকৃত নোমান

স্বকৃত নোমান

জন্ম ৮ নভেম্বর, ১৯৮০, বিলোনিয়া, পরশুরাম, ফেনী। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে তিনি কামিল পাস করেন। বিএ পাশ করেন সোনাগাজী ডিগ্রি কলেজ, ফেনী থেকে। পেশায় সাংবাদিক।

উল্লেখযোগ্য বই :
নাভি (উপন্যাস), ২০০৮, ধাবমান ও বনলতা পাবলিকেশন্স।
রাজনটী (উপন্যাস), ২০১১, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।
বেগানা (উপন্যাস) ২০১২, বিদ্যাপ্রকাশ।
হীরকডানা (উপন্যাস) ২০১৩, বিদ্যাপ্রকাশ।
নিশিরঙ্গিনী (গল্পগ্রন্থ) ২০১৪, জাগৃতি প্রকাশনী।
কালকেউটের সুখ (উপন্যাস) ২০১৫, জাগৃতি প্রকাশনী
বালিহাঁসের ডাক (গল্প), ২০১৬, অনিন্দ্য প্রকাশ

আবদুশ শাকুরের জীবনী, বাংলা একাডেমি, ২০১৫
প্রাচ্যের ভাব আন্দোলনের গতিধারা (প্রবন্ধ), ২০০৯, বাঙলায়ন।
খ্যাতিমানদের শৈশব (গবেষণা), ২০১০, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।
আবদুশ শাকুরের বয়ান, শ্রোতা স্বকৃত নোমান (সম্পাদনা) ২০১২, রোদেলা প্রকাশনী।
গুণীজন কহেন (সাক্ষাৎকার সংকলন) ২০১২, অন্বেষা প্রকাশন।
বহুমাত্রিক আলাপ (সাক্ষাৎকার সংকলন), ২০১৫, বিদ্যাপ্রকাশ।

ই-মেইল : swakritonoman@gmail.com
স্বকৃত নোমান

Latest posts by স্বকৃত নোমান (see all)