অন্যজন : ৪

অন্যজন : ৪
188
0

৩য় পর্বের লিংক

পর্ব- ৪

৬.
চলতে চলতে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। এক যাত্রী ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বলে, হে বেডা গোসল করে আসে নি।

আরেকজন পেছন থেকে বলে, সামনে দিঘি আছে, গোসল করে নিস।

হেলপার বলে, স্টার্টারের তার ছিঁড়ে গেছে।

যাত্রী বলে, হাওয়া ছেড়ে দাও।

গাড়িকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়াও। বলে আরেকজন।

হেলপার অনুচ্চ স্বরে বলে, দাঁতের বাড়ি মারিও না।

তখন পাগলা নানা চিৎকার করেন, তুই কে? নিজেই জবাব দেন, আমি টাকা ধার করে ঘি খাই। হি হি হেসে দাঁত দেখান যাত্রীদের। দাঁতের ফাঁকে সব ময়লা। গাড়ি চলতে শুরু করেছে। ভেতরে মানুষের গাদাগাদি, বাইরে আষাঢ় মাসের বৃষ্টি। কৌতূহল নিয়ে উঁকি দেন, হাত বাড়িয়ে জামান শাহকে ডাকেন।

জামান শাহ’র নামে আমাদের বাড়ি। নানা প্রায় সময় তার সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞেস করেন, তোর তালুক কোথায়? তালুকটা আমারে দে, আমি তালুকদার হব। কবরস্থানের পাশে বসে ঝিমাব। লাল বুড়ার গালি শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ব।

নানা চোখ বন্ধ করে হাম্বা ডাক দেন। কয়েকজন যাত্রী তাকায়। বোকার ভাব নিয়ে তিনি বাইরে তাকান।

এক যাত্রী ঘামাচি চুলকায়, আরেকজন নাকে তর্জনী ঢোকায়। বাঁশপাতার মতো নড়েচড়ে শুকনা শিকনি সিটের কভারে মোছে।

অনেক দিন আগে বিক্রি করা জমিতে কি নানা লাঙল চালাচ্ছেন? তার ভাবটা ওই রকম। ফলার গুঁতায় সাহস বাড়ে। সুখ এসে প্রজাপতির মতো ওড়ে। চাষিদের একটা করে প্রজাপতি দিয়ে বলেন, এগুলো সাহসের প্রজাপতি।


আমার আছে লাঙল, মাছরাঙার আছে ঠোঁট। মাছরাঙা ঠোঁটে লাগায় মাছ, আমি জমির পিঠে লাগাই লাঙল।


বেশিরভাগ যাত্রী ঝিমাচ্ছে। হেলপার গলা ফাটায়, সরকারহাট। এক যাত্রী বলে, এখনো সরকারহাট! একজন ড্রাইভারকে গালি দেয়। হেলপারও পাল্টা গালি দেয়। পেছন থেকে এক যাত্রী বলে, অ্যাক বাঁদর থাকে গাছত, আরেক বাঁদর গারিত। নানা ঘুম থেকে জেগে ওঠার ভঙ্গিতে বলেন, লাস্ট টিপ ত, হেঁকায় ভরি লর।

কারো পায়ে পা পড়েছে। লোকটা বলে, কানা নাকি? অন্যজন বলে, এয়ারকন্ডিশন গাড়ি কিনে চড়। তৃতীয়জন বলে, পাঁচ মিনিটের অতিথি, নো ঝগড়া।

কন্ডাক্টর বলে, ভাড়া দঅ।

নানা বলেন, ভাড়া দিবু আসমানর মালিক।

হর্ন বাজে। সামনের সিটে বাবার কোলে বসা শিশুর ধূসর চুল ওড়ে। সে ছোট নানির গানের মতো তালি বাজায়।

ছোটকালে নানি পুতিজামগাছের গোড়ায় বসে এ রকম হাততালি দিয়ে গাইত : চল চল চল আমার সোনার বাংলায় চল। নানি ছিল ব্রিটিশ আমলের ফাইভ পাস।

মেয়েটি বলে, বাবা, ও বাবা, আমি স্কুলে যাব। আমাকে বই কিনে দিতে হবে।

নানা চুপি চুপি বলেন, তুই সিঁড়ি বানাবি? তার মনে পড়ে, ছাইয়ের মতো চুল, এক বুড়া একবার বলেছিল, তোর মধ্যে একটা যাযাবর আছে। সেদিন তার মাছরাঙা হতে ইচ্ছে করেছিল। পুকুরপাড়ের কলাপাতায় বসা মাছরাঙাটা মনের মধ্যে উড়ে বেড়াচ্ছিল।

আপনমনে বলেন, আমার আছে লাঙল, মাছরাঙার আছে ঠোঁট। মাছরাঙা ঠোঁটে লাগায় মাছ, আমি জমির পিঠে লাগাই লাঙল।

বাস যখন তাকে স্টেশনে নামিয়ে দেয়, রাত প্রায় দশটা। অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে, বিজলিও চমকাচ্ছে। বাসগুলো ঘুমন্ত বালকের মতো এদিক-ওদিক দাঁড়িয়ে আছে। নানা এগার মুক্তিযোদ্ধার কবরের পাশে বটগাছের নিচে বসেন। হাতে একটা বিড়ি, ম্যাচটা খোঁজেন।

কোথায় গেছেন নিজেও জানেন না। মাঝে মাঝে এ রকম হয়। আজও গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে এসে দরজা ধাক্কান। ‘অ চাষার পুত’ বলে বাবাকে ডাকেন। দরজা খুলে ভিজে লুণ্ডুভুণ্ডু চাচা শ্বশুরকে দেখে উদ্বিগ্ন হয়। এতেই বোঝা যায় বাবা তাকে পছন্দ করে।

নানা ইশারায় মাকে জাগাতে নিষেধ করেন। কেননা মা জাগলে বকা খেতে হবে।

৭.
সকালে নানা মাছরাঙা হয়ে তীক্ষ্ণ চোখে আমাকে দেখেন। মাঝারি গড়নের শ্যামল একটা দেহ। ধান কেটে জমিতে রাখার পরদিন সকালে আধা শুকনা, আধা ভেজা যে রং, আমার গায়ের রং অনেকটা তাই। চেহারায় মায়া আছে। মা বলে, এটা আমি ধানগাছ থেকে পেয়েছি।

দাদি বলত, ছোটকালে আমি বীজতলার চারার মতো সুন্দর ছিলাম। সেই সুন্দর মনের ভেতর একটা খাঁচায় জমা আছে। তবে আমার মধ্যে অদ্ভুত এক জেদ আছে, সাহসও আছে। তা মাঝেমধ্যে কানের লতিতে লাল হয়ে ফুটে ওঠে। সেই সাহসে পুরো দুনিয়া লাঙলের ফলায় ফালা ফালা করতে পারি, দুনিয়াকে ধানের দুনিয়া বানাতে পারি।

কখনো কখনো নিজেকে এঁটেল মাটি মনে হয়। শক্তিতে আমি ফজার চেয়ে কিছুটা কম। তার বাহু দেখে ঈর্ষা হয়। ঈর্ষার রেশ মিলিয়ে যায়, যদি কোনো ছুতায় বাহু ছুঁতে পারি বা তার সঙ্গে কবজির লড়াই লড়তে পারি। এই লড়াইটা প্রায়ই লড়ি।

ফজার কাঁটা কাঁটা চুলের মতো আমার রাগ। এই রাগ লাঙলের ফলায়, জোয়ালে বা গরুর শিংয়ে গেঁথে রাখি। পড়ালেখার সাথে সাথে আমার মধ্যে আরেকটা লোক বেড়ে উঠলেও সে তেমন পাত্তা পায় না। লাঙলের গুঁতায় কুপোকাত হয়। বাবা বা মনা ভাইয়ের সঙ্গে হাল চষি। মনা ভাই হাল চষায় দক্ষ। আমাদের বৃষ দুটা তার ভক্ত।

মনা ভাই যেদিন হাল ধরে সেদিন বাবার চেহারাটা হয় দেখার মতো। আলে বসে বিড়ি টানে। ছেলের জন্য নিজে পানিভাত নিয়ে আসে। ঘন ঘন গরু আর ছেলেকে দেখে। ‘অ মনা গান গা’ বলে আকাশে চোখ রাখে। মনা গান ধরলে আকাশ আরো নীল হবে, আসমান-জমিন খুশিতে ফেটে পড়বে।

ডান হাতে লাঙল, বাম হাতে লাল ষাঁড়ের পিঠে হাত বুলিয়ে মনা গলা খুলে গায় : আমার দয়াল বাবা মাইজভাণ্ডারী আয়নার কারিগর… সেই গান শুনে মাটি উৎফুল্ল হয়ে চারার জন্য অপেক্ষা করে। চারা পেলেই সেরা ফলন দেবে। মাথার উপর একটা ঝুঁটি শালিক উড়ে এ খবর বলে যায়। সেদিন সে এক টানে চৌদ্দ গন্ডা জমি চষে।

মনা ভাইয়ের কাছে আল্লাহ মানে প্রেম। প্রেম বোঝে, তাই তো সে সুরের মানুষ। মানুষের প্রতি তার অসীম মায়া। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কি খ্রিস্টান, কখনো আলাদাভাবে কারো দিকে তাকাতে দেখি নি। তার কাছে সবাই মানুষ; আল্লাহ গাফুরুর রহিমের সৃষ্টি। সৃষ্টির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। কারো কাছে ভেদাভেদের কথা শুনলে মুখ ফিরিয়ে চোখ বন্ধ করে চুপ থাকে। চুলে হাত বুলায়, মাথা উপর-নিচ করে। তারপর চোখ খুলে লোকটার দিকে তাকায়। ওই তাকানো এমন গভীর, যার দিকে তাকায় সে-ই কেবল বুঝতে পারে এর অর্থ।

এই কারণে ভাইকে ভালো লাগে। তবে তার সঙ্গে কথা হয় কম। সে বেশিরভাগ সময় মাইজভাণ্ডার পড়ে থাকে। বাড়ি থাকলে ঘাটার আমগাছতলে বসে দক্ষিণ বিলের বাতাস খায় অথবা আপনমনে এদিক-সেদিক হেঁটে বেড়ায়। কোনো সাতে-পাঁচে নাই। ভাত দিলে খেল, না দিলে চায় না। মাঝেমধ্যে মার বিছানায় শুয়ে থাকে। মা থাকলে মার পাশে, না হয় একলা।

আলে বসে পান্তাভাত খেতে খেতে বলে, পৃথিবীতে মানুষ এসেছে বৃষ্টির ফোঁটার মতো। মাটি ও পানি সৃষ্টির উপাদান। বর্ষা এসেছে তাই মাটিতে প্রাণ এসেছে। পিপাসার্ত মাটি এখন প্রাণভরে খেয়ে নিচ্ছে। এটা আবার তাকে ফসলে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাটির আকুতি যে বোঝার সে বোঝে। সে চাষার বেটা চাষা, সে অফুরন্ত আশার ভাণ্ডার। মাটিই তাকে আশাবাদী হতে শিখিয়েছে।

এক চাষ দিয়েছে। মাটি থেকে বের হয়েছে লাল পানি। মাটির গায়েও লেগে আছে। এটা নাকি মাটির চর্বি। কয়েক চাষ দিয়ে এই চর্বি মিশিয়ে দিতে হয়। না হয় ফসল কম ফলে। মানুষের রগ বুঝে যেমন আচরণ করতে হয়, মাটিও তেমনি।

সবচেয়ে ফুর্তি কখন? যখন মাটিতে গোবর দেওয়া হয়। গোবর মাটিকে রমণীয় করে। মাঝে মাঝে তার রূপ দেখি। গরু চরার সময় হয়তো কোথাও পায়খানা করে দিল। ওখানে ঘাসগুলো বেশি বাড়ে।

মনা ভাইয়ের ভেতরটা শুকিয়ে গেছে। আবার আলে এসে বসে। সকাল থেকেই কাজ করছিল। রোদের কী তেজ! আষাঢ়ে এমন চৈত্রফাটা রোদ—গা ছিঁড়ে যায়। গামছায় মুখ মুছে বীজতলার জমির দিকে তাকায়। ফজা গতকাল দুই চাষ দেওয়া ওই জমিতে মই দিয়েছে।

ছোটকালে মই দেওয়ার সময় বাবা আমাদের তুলে দিত। আমি ও ফজা বসতাম রশিটা ধরে। ওজন কম তাই মাটি ভালোভাবে সমান হবে। কখনো গরুর লেজ ধরে দাঁড়াতাম। বাবা পেছন থেকে এরের, ব, তিতি বলত। আমরা গরুর পিঠ থেকে ডাঁশ মেরে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করতাম।


সুগন্ধী, খুদের মতো চাল, মুখে দিলেই ভাত মিশে যায়। খালেদাকে চুমু খাওয়ার সময় ওই স্বাদ পেয়েছিলাম।


আলে বাংলা কচুর গাছ আছে। বাবা ভেবেছিল যাওয়ার সময় কিছু পাতা ছিঁড়ে নেবে। কারা যেন ডিগি নিয়ে গেছে। সেখানে লালচে কষ। বাবা কচুপাতা চোরকে গালি দেয়।

চাচাদের বীজতলা দেখে চাচাত ভাইকে বলে, মাটি বেশি নরম হয়ে গেছে। একদিন রেখে দে। জমি টানটান হোক। না হয় নরম মাটিতে জালা ডুবে যাবে।

সাধারণত দুই চাষের পর মই দেওয়া হয়। মাটি ও ঘাস একটু মজে গেলে আবার চাষ দেওয়া হয়। মাটি তখন একেবারে পাগলপ্রায়। শেষ মই দিয়ে পাগল মাটিকে নেওয়া হয় রসের মেলায়।

আজ চাষ হয়েছে বাঘের দৌড়ের মতো। বৃষ দুটা ক্লান্ত। চলতে চলতে পায়খানা করে। বাবা বলে, গরু হলো গোবরের ডোল। গরুর মতো উপকারী আর কয়টা প্রাণী আছে?

বিকালে বাজারে যাওয়ার সময় চাষ দেওয়া জমি থেকে গন্ধ পাই। প্রেমে পড়া মানুষের মন থেকেও কি এ রকম গন্ধ বেরোয়! মাটি এখন বীজের জন্য আকুল হয়ে আছে। বীজ পেলেই গভীর প্রেমে মজে যাবে। এসব ভেবে আপনমনে হাসি। ভাবনা শালিকের সাথে উড়ে উত্তর পাড়ার দিকে চলে যায়।

রাতে খাওয়ার সময় ভাই বলে, মাটি বুঝে কোথাও ইরি ১১, কোথাও দিনাজপুরি পাইজাম লাগাতে হয়।

বাবা বলে, এখন কানিতে সত্তর-আশি থেকে একশ আড়ি পর্যন্ত ধান হয়। আগে সোনামুড়ি, ছোট চিন্নেল, বড় চিন্নেল, চাক্কল ধান হতো। কানিভুই বিশ-পঁচিশ আড়ি হতো। এখন চাহিদা বেড়েছে, ধান পাল্টেছে, উৎপাদনও বেড়েছে।

আড়ি দুই রকম। ১৬ সের অথবা ১৮ সেরে এক আড়ি।

মা বলে, আমাদের বাড়িতে তখন সিলেটি বালাম হতো। এই চালে খই ভালো হয়। বীজমালি ও রাইচিকন ধান ছিল। এখন কোথায় চলে গেছে!

এবার ছোট জমিটাতে চিনিগুঁড়ার চাষ হবে। বাবা এক আঁটি চিনিগুঁড়ার বীজতলা করবে। সুগন্ধী, খুদের মতো চাল, মুখে দিলেই ভাত মিশে যায়। খালেদাকে চুমু খাওয়ার সময় ওই স্বাদ পেয়েছিলাম।

ছালামের চাচাত ভাই এবার চার গন্ডার বীজতলা করেছে। ওই দিন বীজধান ছিটাতে দেখে ফজার মনে হয়েছে জমি অনুযায়ী ধান বেশি হচ্ছে। এ নিয়ে কথা ওঠে। সে বলে, জালা কতগুলো ফেলে দিলেই হলো? এটা কি কালুরঘাটের বাস?

চাপাচাপি, ঠেলাঠেলি ও ধীরগতির জন্য কালুরঘাটের বাস বিখ্যাত। সামনে জিপের মতো, কাঠের বডি, সবুজ রঙের অদ্ভুত এক বাস। এই গাড়ি নিয়ে কম রসিকতা হয় না।

হেলপার লোহার বাঁকানো দণ্ডটা নিয়ে সামনে যায়। বড় ছিদ্রে ঢুকিয়ে ঘোরাতে থাকে। একসময় গাড়ি স্টার্ট নেয়। হর্নের মুখটা মাইকের মতো। পেছনে বাতাস ভর্তি ভাঁজ করা বল। ওতে চাপ দিলেই ‘পোঁত পোঁত’ আওয়াজ হয়।

ঢগ্গর  ঢগ্গর চলে, ইচ্ছেমতো থামে। যাত্রী নামায়, তোলে। ফজা একবার আন্দরকিল্লা থেকে কালুরঘাট গিয়েছিল। হর্নটা কিভাবে বাজায় দেখিয়ে বলে, পোঁত পোঁত।

সবাই হু হু করে হাসে।

৫ম পর্বের লিংক

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)