হোম গদ্য উপন্যাস অন্যজন : ২২

অন্যজন : ২২

অন্যজন : ২২
104
0

২১ পর্বের লিংক


পর্ব- ২২

৩৯.
কাঁঠালের সুগন্ধে পাগল হয়ে এসে গেছে বর্ষা। এই আষাঢ়ে বীজতলা তৈরির ধুম পড়েছে। কয়েকটা জমিতে কয়েকদিনের চারা, নরম রং ধরেছে তার। সেই সবুজ যখন বাতাসে দোলে, মনে হয়, বাম্বুর বাড়ির ছাদের জালালি কবুতরগুলো বাকবাকুম করছে, বাকবাকুম পায়রা/ মাথায় দিয়ে টায়রা/ বউ সাজবে কালকি/ চড়বে সোনার পালকি।

সবুজ পালকি দেখে পাড়ার বালকেরা পিডুলিগোলা গাছের গোটা দিয়ে চার চাকার গাড়ি বানায়। সুতলি বেঁধে গাড়ি নিয়ে ঘোরে। তারা পিডুলিগোলা দিয়ে মার্বেল খেলে। আছাড়গোলা গাছের গোটা এক বালকের ফড্ডাশির ভেতর ঢুকে আরেক দিকে ঠুস করে বেরিয়ে যায়। তারপর রাখালের বেত, গরুর চোখের পাতা ছুঁয়ে গায়ে কাদা মেখে পশ্চিমের পাহাড়ে গড়িয়ে পড়ে।

নানাবাড়ি থেকে তিনটা খাজা কাট্টল পাঠিয়েছে। এই কাঁঠালের কোয়া একবার খেলে তার স্বাদ অনেকদিন মনে থাকবে। হলুদ কোয়া দেখে ভাডালির ছোট ছোট শাদা ফুলের কথা মনে পড়ে।

ছোটবেলায় বর্ষার বিকালে রাস্তার পাশে বসে ভাডালি নিয়ে খেলতাম। দুটা ভাডালি গাছ নিয়ে একজন বলে, গান শুনবি?

অপরজন বলে, শুনব। তখন প্রথমজন বলে, হাঁ কর। ও হাঁ করে। প্রথমজন দুটা আগা এক করে মুখে ধরে বলে, মুখ বন্ধ কর। মুখ বন্ধ করার সাথে সাথেই টান দেয় আর ওর গান শোনা হয়ে যায়। গান মানে হলো ভাডালির ফুল মুখে লেগে যাওয়া। গান শুনে দ্বিতীয়জন থু থু করে আর প্রথমজন হাসে। তবে দ্বিতীয়জন বুঝতে পারলে দ্রুত মুখ হাঁ করে ফেলে। তাতে প্রথমজন টান দিলেও কাজ হয় না।

এবারও বর্ষার মুখে রাস্তার পাশে ভাডালিতে ফুল ফুটেছে। সন্ধ্যার পর বিলের কই বিজুলি বা পুঁটি মাছের পোনা মনে হয় ফুলের সাথে গল্প জুড়তে আসে।

সেদিন দেখলাম মনা ভাইয়ের ছেলে ভাডালি নিয়ে খেলছে। ভাডালির আগায় প্রথমে একটা গিঁট দিল। তারপর গোড়া এনে গিঁটের মধ্যে ঢোকায়। গিঁটে একটা ছিদ্র হয়। ছিদ্রে ফুঁ দেয় আর ওই জায়গা ফতনার মতো একটু প্রসারিত হয়।


সারা দিন বৃষ্টি ঝরে ঝরে আকাশটা এখন মায়ের অভিমান ও রাগে ভরা মুখের মতো।


মা মারি পিঠা বানিয়েছে। কোয়া দিয়ে খাচ্ছি। এ সময় বোছন দাদু আসে। মনা ভাই তাকে কাঁঠাল খেতে বলে। মারি পিঠা দিয়ে নীরবে কাঁঠাল খায়। হাত ধুয়ে শাড়িতে মুখ মুছে বলে, এক মহিলা মারি পিঠা ছাড়া আর কিছু বানাতে পারত না। একদিন মেয়ের জামাই বেড়াতে এসেছে। মহিলা জিজ্ঞেস করে, ও জামাই কী পিঠা খাবে? চিতই পিঠা খেলে চিত হয়ে যাবে, সাইন্যে পিঠা খেলে মইন্যে যাবে, গুরা পিঠা খেলে ছোট হয়ে যাবে, রুটি পিঠা খেলে ফুটে যাবে। মানে ফতুর হয়ে যাবে। আর মারি পিঠা খেলে সেরে যাবে। জামাই কী করবে, বলে, মারি পিঠা খাব।

আমরা হাসি। হাসিতে কাঁঠালের কোয়ার মতো গন্ধ ছড়ায়। মনা ভাইয়ের হাসি আরেকটু লম্বা।

বীজতলার জন্য গতকাল সকালে ভাই আসমানের বিলের জমিতে হাল চষছিল। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল বাড়ির দুই বালক। তাদের প্যান্টের পকেটে মার্বেল ঝুনঝুন করছে। মনা ভাই হেসে জিজ্ঞেস করে, কডে গেয়ুছ?

তাদের একজন দুষ্টু হেসে বলে, বেশি কথা ন কইও, পেট খারাপ অইবু।

মনা ভাই ঢিল নিয়ে ছুড়ে মারার ভঙ্গি করে। তারা হাসতে হাসতে দৌড়ায়। বালকের কথা তার মনে পড়েছে। মজাটা মারি পিঠার সাথে খেয়ে মনে মনে গুনগুন করে।

তিনটা কাঁঠাল একসাথে পেকেছে। খেয়ে ফেলতে হবে, না হয় নষ্ট হয়ে যাবে। মা করল কি, বেশি নরম হওয়া কাঁঠালের কোয়া নিয়ে কাইয়ের মতো মেখে আরো নরম করল। এটাকে বলে ‘তায়’ রাখা। কাল সকালে কাঁঠালি পিঠা বানাবে। কাঁঠালি পিঠা দেখতে একেবারে তালপিঠার মতো আর স্বাদ গায়ে হলুদে হলুদ মাখা কনের হাসির মতো।

এবার আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই বর্ষা শুরু হয়েছে। জ্যৈষ্ঠের শেষে কিংবা আষাঢ়ের প্রথমে যখন মেঘ গুড়ুম গুড়ুম করে, তখনই পুকুরের কই, মাগুর, শিং, টাকি ও পুঁটি মাছ জেগে যায়। বৃষ্টিতে বিলে পানি জমে গেলে মাছ পুকুর থেকে বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় পেট ভরা ডিম নিয়ে বিলের পানিতে দৌড়ানো। মাগুর মাছ ডিম পাড়ে ঝোপঝাড়ে। কই মাছও একটু আড়ালে ডিম ছাড়ে। কয়েকদিনের মধ্যেই কই বিজুলিতে বিল ভরে যায়। হাত জাল, কই জাল ও পলো দিয়ে মাছ ধরার ধুম পড়ে।

ফজা গতকাল হাতের তালুর সমান একটা পুঁটি মাছ পেয়েছে। ইয়া বড় তার পেট। এক মনে বলে, ফেলে দেয়, আরেক মনে বলে, না। বিলের মাছ, আমি না ধরলে অন্য কেউ ধরবে। দুপুরে সেই ডিম খেয়েছে বাবা ও তারেক।

আজও ভাগ্য ভালো। সন্ধ্যার পর পলো নিয়ে বের হয়েছিল। অল্প পানিতে বসেছিল মাগুর মাছটা। দ্রুত পলো বসাল। প্রায় আধ সের হবে। গতকাল উত্তর পাড়ার ছেলেটাও দুটা মাগুর ধরেছে।

ফজা ডিমওয়ালা একটা শিং মাছ দেখেছে কমছে কম আধ সেরের কাছাকাছি। ধরতে গিয়ে বিষে ভরা কাঁটার গুঁতা খেল। সহ্য করতে না পেরে কেঁদে দিল। দৌড়ে ঘরে যায়। মা হাতে তেনা বাঁধে। থানকুনির লতা এনে দুই কানে বেঁধে দেয়। এটা দিলে নাকি বিষ কমে।

দিনে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করলেও রাতের বেলা মাছেরা পরিষ্কার পানিতে চলে আসে। তখন ধরতেও সুবিধা। তাই অনেকগুলো বাতি বিলের মাঝখানে জ্বলছে, থেমে থেমে নিভছে। আগে হলে থাকত উদবাত্তি। এখন অনেকের হাতে টর্চলাইট। ওদিকে ব্যাঙেরা যেন ব্যান্ড পার্টি এনেছে। তাদের গানে বর্ষার বিষণœতা মুছে যেতে থাকে।

সারা দিন বৃষ্টি ঝরে ঝরে আকাশটা এখন মায়ের অভিমান ও রাগে ভরা মুখের মতো। বাবার সাথে রাগ করলে তার মুখের ভাব এমন হয়।

বর্ষার প্রথম ধাক্কায় চারদিকে মাছের গল্প। পরশু সুয়াবিলে মনা ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে এক লোক এক খোপে তিনটা বোয়াল মাছ ধরেছে। খোপটা মারার পর জাল টানে। দেখা যায় দুটা বোয়াল এসেছে। তখন লোকে চিৎকার করে, ওই দ্যাখ। আরেকটা বোয়াল জাল কামড়ে ধরে আছে। জাল টানার সাথে সাথে ওটাও উঠে যায়। লোকটা বোয়ালগুলো দামে বেচার জন্য জিইয়ে রেখেছে। একটা মাগুর ধরা পড়েছে এক কেজি ওজনের। সাড়ে চার শ টাকায় বিক্রি করেছে।

পরশু দেখলাম পলো নিয়ে পাঁচজন লোক হালদা নদীর পাড় ধরে হনহন করে যাচ্ছে। আষাঢ়ের শেষ বিকাল। সারা দিন বৃষ্টির পর চারদিক ঝকমক। ওরা নদীর তীর ধরে মাছ মেরে যাবে। কই, বাইলে, চিংড়ি পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে বাডা মাছও পায়। আজ নাপিতের হাটের দিকে যাচ্ছে। এখান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে।

আলো কমে আসছে। কাঁধে লাঠি ও ছাতার ডাঁটে পলো নিয়ে দ্রুত হাঁটা লোকগুলো যেন রানার। পায়ের কী গতি! মাছ যেভাবে পানিতে হাঁটে, তারা সেভাবে এগোচ্ছে। তাদের হেঁটে যাওয়ার সময় দুই পাশের ঝোপঝাড়েও মাছের গন্ধ লেগে যায়।

চার-পাঁচ বছর আগের এক বর্ষার কথা মনে পড়ল। সন্ধ্যা পেরিয়েছে একটু আগে। মা বলল, আজিয়ে ভালা তরকারি নাই। মাকে কোচটা বের করতে বললাম। বাবা বানিয়েছিল, আট ফলার কোচ। তিন ব্যাটারির টর্চলাইটটা নিলাম। রাস্তার পাশে জলাশয় আছে। সাত-আট খোপ জাল মারা যায় এমন বড়। সকালে একটু বৃষ্টি হয়েছিল, এখন আকাশ ফকফকা।

লাইট মেরে আস্তে করে পানিতে নামলাম। প্রায় হাঁটু পানি। ধীরে এগোচ্ছি। সামনে চোখ আটকে গেল। এক লাইনে প্রায় আট-দশটা শোলমাছ বসে আছে। পানির উপর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে লাইট নিভালাম। চোখে পড়লে পালিয়ে যাবে।

কোচ রেডি করে মাছের পেছন দিকে জ্বালিয়ে জোরে মারলাম। হ্যাঁ, একটাতে গেঁথেছে। সাথে সাথে টর্চ লুঙ্গির গিঁটে রেখে দুই হাতে কোচ ধরে জোরে গেঁথে নিলাম। ডান হাতের দুই আঙুল ঢুকিয়ে দিলাম মাছটার চোখে। শোলমাছের চোখে আঙুল ঢোকালে শক্তি কমে যায়।

ঘরে আনলাম। এত্ত বড় শোল! প্রায় দেড় কেজি। সবাই আনন্দে আত্মহারা। মা মাংসি রাঁধে। মাছের চামড়া ছুলে মাংসের মতো রান্না হয়। কি যে মজা হয়েছিল!

৪০.
অপেক্ষার ওজন নাকি মৃত মানুষের মতো ভারি। মা তা কতকাল ধরে বয়ে বেড়াচ্ছে!

স্বপ্ন পূরণ না হলে, দীর্ঘদিন একই রকম জীবন-যাপন করলে মনে অশান্তি আসে, অশান্তির ঘা হয়। মাঝেমধ্যে পাড়া প্রতিবেশী বা বাম্বুর বউ কথা দিয়ে গুঁতিয়ে ঘা ছিঁড়ে দেয়। তখন রক্ত পড়ে।

মা ভাবে, দশের মায়া কমে গেছে। তাই চাইলেও ঘা সারাতে পারে না। সারাতে যে ওষুধের দরকার, তা তার কাছে নাই। মা শুধু বলতে পারে, মন তুই কচ্ছপের খোলের মতো শক্ত হ।

মা আর কী করবে? কচ্ছপের আয়ুর মতো ধৈর্য নিয়ে সৌভাগ্যের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। অপেক্ষাকে বীজধানের মতো লাইয়ে ভরে পুকুরে ভিজিয়ে রাখতে পারে। ঠিকভাবে ভেজালে মিলতে পারে প্রাণের দেখা।

হাফিজ কাকার সঙ্গে মায়ের খুব বন্ধুত্ব। মাকে নাকি বোনের মতো লাগে। তার অনেকগুলো স্বপ্নগাছ আছে। স্কুল ছুটি হলে প্রায় আসে। প্রথমে চেয়ে নিয়ে আয়েশ করে পান মুখে দেয়। তারপর গাছের গল্প বলে। একেকদিন একেক গাছের গল্প।

কাকা মনে করে, স্কুলে আসা নানা রঙের, নানা মেধার ছাত্রছাত্রীরা একেকটা গাছ। মা-বাবা গাছগুলো রোপণ করে আর শিক্ষক গাছের পাতায় পাতায় এঁকে দেয় স্বপ্ন। তবে ইদানীং মনে হয়, স্বপ্নরা পাতায় বা ডালে বসার সুযোগ পাচ্ছে না। পাতায় পোকা আসছে।

ঘরের সামনে আমগাছতলে বসে মা তরকারি কুটছে। পাশে পিঁড়িতে বসে ভাবি কুটছে শাক। অদূরে কাকা। বোনের হাতের দিকে তাকিয়ে ভাবে, মেয়েদের হাতে কত শক্তি! কর্মে, মায়ায় অতুলনীয়। গত রাতে স্বপ্ন দেখেছিল, আবছা মনে পড়ে।

কয়েকজন লোক তার মাথাটা নিয়ে গেছে। ওটা নিয়ে খেলে আর বলে, পৃথিবীর চর্মরোগ হয়েছে। তার সারা গায়ে ঘা। তারা মাথাটা কাদায় ছুড়ে মারে। ভাগ্যিস চোখ দুটায় কাদা লাগে নি। দেখে, তির হাতে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে তির দেয়। বলে, ছুড়ে মার। মাথাহীন দেহ দিয়ে সে তির ছোড়ে। দশ হাত দূরেও যায় না।


ঝিঁঝিঁরা ঘুমিয়ে পড়েছে। নারকেলপাতায় বাতাস চুপি চুপি খেলা করে। শতাব্দীর সমান বয়সী বুড়ির ফোকলা দাঁতের মতো আঁধার আকাশের গায়ে ধাক্কা খায়।


মেয়েটার রাগ ধরে। বলে, এডা তির মারিছ নি! এমোন তির তোরে দিবে, চালাইলে আছমান ধরি ফেলিবু।

আরে এটা তো ওই চাকমা মেয়ে! এক বখাটে টিজ করায় যার চোখে ধকধকে আগুন জ্বলে উঠেছিল। তখন সে আসমানের দিকে তাকায়।

সেখানে বৃষ্টির রং দেখে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এসে তার মাথাটা জোড়া লাগিয়ে দেয়। সে ভিজে, ভিজতে ভিজতে পানির মতো হয়ে যায়।

তখন ইচ্ছে করে, পুকুরের তরতাজা মাছ দিয়ে ভাত খাবে। মাকে বলে, জালটা দাও। মা মাঝের কক্ষে আংটায় লটকে রাখা জালটা নামিয়ে দেয়। পুকুরে জাল মারে। প্রথম খোপেই আসে ফরিদ ডাকাত, মুনশি ও বাম্বু। তারা টেংরা মাছ হয়ে গেছে। জাল কামড়ে ধরে থাকে।

বাম্বুর পান খাওয়া দাঁতগুলো ক্ষুরারোগে ঝিমানো গরুর মতো। টেংরা বাম্বু কূলে উঠে জাল থেকে বেরিয়ে তাদের কেয়ারটেকার কালামকে বলেন, ঝিনুকের খোলটা আন।

দেয়ালে ঘষে ঝিনুকের মাঝখানে ছিদ্র করেন। ঘূর্ণিঝড়ে খড়ের গাদার পাশে কাত হওয়া আমগাছের তলে বসেন। কালামকে বলেন, আম পাড়।

গাছটা মনাদের। কালাম এদিক-ওদিক তাকিয়ে গাছে ওঠে। বাম্বু বৈশাখী বিয়ে হওয়া আম ঝিনুকের খোল দিয়ে কায়দা করে ছোলেন, লবণ-মরিচ মেখে খান।

স্কুল থেকে দৌড়ে এসে কাকা চুরি করে আম খাওয়া বাম্বুকে বলে, আপনার ভুখ লাগবে আর আমাদের লাগবে না—তা ভাবলেন কী করে?

তোর চেহারা দেখে তো আমার হার্টফেল হয়ে যাবে। মান-সম্মান ডুবাবি দেখছি। যা, পুকুরে ডুব মেরে আয়।

কাকা বিলের পানিতে গোসল করতে যায়। একটা কই মাছ তার বগলের কাছে এসে ডিম পাড়ে।

ঝিঁঝিঁরা ঘুমিয়ে পড়েছে। নারকেলপাতায় বাতাস চুপি চুপি খেলা করে। শতাব্দীর সমান বয়সী বুড়ির ফোকলা দাঁতের মতো আঁধার আকাশের গায়ে ধাক্কা খায়। আঁধার যেন পৌষের কুয়াশা মাখা ভুত।

ওমা! আঁধার আলোকিত হয়ে কাকার মা হয়ে যায়। মা ওজু বানিয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে বসে। মোনাজাত করার সময় তার দুই চোখে পানি ঝরে।

অশ্রু যেন কচুপাতার পানি। তা দেখে বাম্বু মুখ ভেঙান। কাকা দেখে, ফজার খাড়া খাড়া চুল থেকে একেকটা লাঙল গজাচ্ছে। লাঙলের কী ধার! রোদ পড়ে চিকচিক করছে। চিকচিকানি দেখে বাম্বু লুঙ্গি তুলে দৌড় দেন। দেখা যায়, তার পেছনে একটা লেজ।

তখন কাকা মায়ের মুখটা দেখে। তার ভয়ডর থাকে না। লাঙল-জোয়াল ও বলদ দুটা নিয়ে বের হয়। ভাবে, অনেকদিন চাষবাস করি নি। আজ মাঠে নামব।


২৩ পর্বেল লিংক

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)