হোম গদ্য উপন্যাস অন্যজন : ১৯

অন্যজন : ১৯

অন্যজন : ১৯
71
0

১৮ পর্বের লিংক

পর্ব- ৩২

নতুন ধরা কাঁচামরিচ ছিঁড়ে নেয় বাবা। পুকুরের উত্তর পাশে গরু গোসল করানো হচ্ছে। দক্ষিণ পাড়ের ঘাট দিয়ে নেমে কোদাল ধুয়ে কয়েকটা ডুব মারে। মা বেগুন ভর্তা করেছে। ধোঁয়া ওঠা ভাত এগিয়ে দিলে ভাতের উপর হালকা লবণ ছিটিয়ে দেয়। পাতে তিনটা কাঁচামরিচ, ভর্তা দিয়ে মজা করে খায়।

খড়ের গাদায় হেলান দিয়ে বিড়ি ধরায়। আকাশ নীল-শাদা। জামগাছের ফাঁক দিয়ে রোদ এসে তামাটে মুখে কাঁচা-পাকা দাড়িতে খেলা করে। গল্পদাদা এয়াকুবের পুত ইদ্রিস খবর আনে, খেতে গরু ঢোকেছে। বাবা আমাকে দৌড়ে যেতে বলে।

গতকাল ঘাটাপুকুরের পাড়ে বসে গল্পদাদা পাছা দিয়ে লালসুতা বের হওয়ার গল্পটা বলেছিল। ইদ্রিস সেই গল্পের নায়ক হতে চায়। ঘাটাপুকুরে পানির উপর লাল আস্তর। মাছ মাঝেমধ্যে ঘাই মেরে তা ভেঙে দেয়। সে হলো ভেঙে যাওয়া ওই আস্তরের মতো। অথবা মাছ ধরার পর যখন ভাগ করা হয়, মাছের আঁশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। সে ওই আঁশের মতো। গরু-ছাগল চরায় আর গরুর জাবর কাটার মতো নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকে। বাপের কিচ্ছার রহস্যময় গাড়িতে চড়ে মাঝেমধ্যে হাল চষে। খালে গরু ও সে কতবার একসাথে গোসল করেছে! বিড়িতে সুখটান দেওয়া জেঠাত ভাইকে তার দিকে তাকাতে বলে। কিছু একটা বলবে। এ সময় গাড়ির চাপে বড় রাস্তার স্টিলের ব্রিজটা ঝনঝনিয়ে ওঠে।

হালদা নদীর পাড় ধরে হাঁটে তালগাছের মতো লম্বা ইদ্রিস। কুকুরের লেজের মতো বাঁকানো দেহ। ভাবে, ময়রা হয়ে শাদা ও খয়েরি রসগোল্লা বানাবে। বাজারের মুখে বটের নিচে বসে বিক্রি করবে। সময়টা মিষ্টির রসের মতো টুপটাপ পড়বে, মিশে যাবে মাটিতে। রস-মাটিতে সে হাল চষবে।


সময়টা যেন রাক্ষস। রাক্ষস আমাদের মাথায় ঢুকে যায়। আমরা ‘ভাত খাইয়ুম’ বলে মায়ের কান ঝালাপালা করি। 


জমিতে গিয়ে চাষার বেটা সারা গায়ে কাদার রস মাখে। বিলের চাষিদের জিজ্ঞেস করে, আঁই কঁত্থে মরি যাইয়ুম?

তারা হাসে। একজন বলে, যেদিন লালমুখো মানুষ দেখবি সেদিন তুই মারা যাবি।

ইদ্রিস নেচে নেচে ঘরে ফেরে। তার দাদি লাঠি হাতে হাঁটছিল। ‘দাদি, দাদিরে’ চিৎকার দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে এক পাক ঘোরে। দাদির তো নিশ্বাস বন্ধের অবস্থা। ‘আঁই মরি যাইয়ুম’ বলে বাড়ি-ঘর মাথায় তোলে। লালমুখো মানুষ দেখবে, তাই ঘুরে বেড়ায়।

তার দাদি উঠানের কোণে লাউগাছ রোপণ করেছে। অনেক যত্নে বড় করেছে গাছটা। তরতরিয়ে বেড়ে ওঠা গাছে সুন্দর একটা লাউ ধরেছে। বুড়ি পুতের বউসহ সবাইকে মানা করল, কেউ যেন লাউটা না খায়। যে খাবে তার এক বিঘত একটা ছেলে হবে।

এদিকে বাবা ভালো একজন ড্রাইভারের কথা ভাবে। ড্রাইভারটি ঘোড়ার চেয়েও দ্রুত গতির একজন মানুষ হবে। তার এমন সব গুণ থাকবে, যা বাবার মনে প্রতিদিন স্বপ্ন হয়ে চারা রোপণ করে।

হতাশার চারপাশে অগ্রহায়ণের জমির নাড়া দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ড্রাইভার আসনে বসে। কিন্তু বাংলা মদ খাওয়ায় তার খুব ঘুম পাচ্ছে।

গাড়ি চলতে শুরু করলে বাবারও ঘুম পায়। ঘুমের মধ্যে দেখে, শিউলি ফুলের মতো ভোরের আলো ফুটেছে। তারা কয়েকজন চাষা কাস্তে হাতে জমিতে যায়। গিয়ে দেখে কারা যেন জমির ধানে খই ভাজছে। কাস্তে ফেলে নেচে নেচে খই খায়।

স্বপ্ন দেখে, আসমানের সমান লম্বা সুতায় লাল-সবুজ ঘুড়ি উড়িয়ে গাড়িটা উঠানে চলে এসেছে। তাতে সারি সারি মাটির হাঁড়ি। সবার জন্য মাখন ও দই রেডি। লে লে খাবে, চু চু খাবে, কত্ত মজা হবে!

খানা খেয়ে সবাই পেট ঢোল করবে। তারপর ঢোল বাজিয়ে চোর-ডাকাত তাড়াবে। তখন উড়ে আসবে ময়না। হলদে ঠোঁট নাড়িয়ে বলবে, সুখে থাক।

কিভাবে সুখে থাকবে বাবা সেই কথা ভাবে। দেখে, ভুতেরা মগজে এসে পচা ডিমের খোসা, খড় ও জং ধরা তার দিয়ে বাসা বানাচ্ছে। খিদের মতো তাদের চোখ।

তখন জাঁকজমকপূর্ণ গাড়িটা এসে মগজের পাশে দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভার মগজের কোষে কোষে হাঁটে। জিজ্ঞেস করে, সবকিছু ভুলে গেছ?

বাবা কিছু বলতে পারে না। কী দিয়ে ভাত খেয়েছে তাও মনে করতে পারে না। ঘরে এসে মাকে কিলিয়ে ভর্তা বানায়।

টাকা হারানো বুড়ি চোখের পানি মুছে চোখ গরম করে বলে, শুয়োরের ছা, বউরে কিলেই ভত্তা বানছ কিল্লেই?

বাবা লাফিয়ে উঠে চিৎকার করে, পাইরে, পাই।

বুড়ি লাঠিটা খুঁজে পায় না। ছল করে টাকা নেওয়া শয়তানেরা লাঠিও নিয়ে গেছে। হাতের কাছে কিছু পায় না। দাঁত কিড়মিড় করবে তারও উপায় নেই। পোকায় খাওয়া দাঁতের ফাঁক গলে তার কথা বেরিয়ে আসে, কী পাইয়ুছ?

বেগুন ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়েছিল। বাবার সেই কথা মনে পড়েছে।

পরদিন সকালে সবার খুব খিদে। জ্বরে মায়ের গা কাঁপছে। মাটির কোলা শূন্য। ঘরে একমুঠ চালও নাই।

সময়টা যেন রাক্ষস। রাক্ষস আমাদের মাথায় ঢুকে যায়। আমরা ‘ভাত খাইয়ুম’ বলে মায়ের কান ঝালাপালা করি। তার কানকে কাগজের নৌকা বানিয়ে খালের পানিতে ভাসিয়ে দিই। তবুও কারো পেট মানে না।

মা কী করবে, চুরি করে লাউটা পাড়ে। বাবা বাজার থেকে দুই কেজি চাল আনে। ঘরে হাঁসের দুটা ডিম ছিল। তার একটা ভেঙে লাউয়ে ছেড়ে দেয়। মুগ ডাল থাকলে আরো মজা হতো। অমৃত খাওয়ার মতো আমরা গরম গরম ভাত খাই। খাওয়ার পর মা ভাবনায় পড়ে, তার কি এক বিঘত ছেলে হবে!

৩৩.
পরিবর্তনের কথা শুনে বাবা তো মহাখুশি। চোখজুড়ে সুখের ঝিমুনি। কিন্তু ঝিমুনির মধ্যে পাল্টে যায় তার সময়। ড্রাইভার বিশ টাকায় এক গ্লাস খেয়ে বাজারের বটগাছের নিচে বুড়া ক্যানভাসারের পাশে দাঁড়ায়। তালি বাজিয়ে জিজ্ঞেস করে, আমারে চিন?

লোকে জবাব দেয় না।

ড্রাইভার চিৎকার করে, খবরদার কথা বলবে না। দুঃখের কথা পেটের ভেতর রেখে দাও। পেত্নি দেখেছ? ওই তো বেতঝোপে থালা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। সে তোমাদের ভাত খেয়ে ফেলবে।

একজনকে দেখিয়ে গর্জন করে, তুই বেকুব। আরেকজনকে বলে, তোরা মহাবেকুব। একটু পর বলে, আপনাদের একটা কাহিনি বলব?

বলেন।

সবাই একমত?

দর্শক মাথা নড়ে।

ড্রাইভার বলে, এক বেদমা গাছের ডালে বসে পায়খানা করে। নিচে হেঁটে যাওয়া কচ্ছপের গায়ে পড়ে তা। বেদমা চিৎকার করে, আমার গু হাঁটছে। দৌড়ে ঘরে যায়। বলে, মা, আমার গু হাঁটে। দরজার সামনে পায়খানা করে বলে, অ্যাই গু হাঁট, হাঁটতে বলছি।


বাবা তার দাদির গল্পের গাড়িতে চড়ে কত জায়গায় ঘুরেছে! দাদির মাধ্যমেই দাদা তার ভেতরে আমগাছ হয়ে বেড়ে উঠেছে।


একজনের চোখে চোখ রেখে বলে, তারপর কী হলো জানেন? সেই দেশের রাজা হুকুম দিল তার এক ড্রাম স্বর্ণ লাগবে। উজিরদের বলল, টাকা নিয়ে যাও, যেখান থেকে পারো জোগাড় করো। উজিরদের ঘাম ছোটে। তাদের একজন ছিল ধূর্ত। পথে বেদমার সঙ্গে তার দেখা। উজির জানতে পারে, বেদমা প্রতিদিন একটা ড্রামে পায়খানা করে। দেখে, ড্রামটা গুয়ে উপচে পড়ছে। বেদমাকে কিছু টাকা দিয়ে কিনে নেয়। ভালো করে মুড়িয়ে রাজার কাছে নিয়ে যায়। রাজা বলে, পেয়েছ? উজির বলে, জি হুজুর, একেবারে খাঁটি সোনা। খুশি হয়ে রাজা একটার পর একটা মোড়ক খোলে আর একটু একটু গন্ধ নাকে ঢোকে। খুলতে খুলতে হতবাক, গুয়ের গন্ধে কুপোকাত।

দর্শক হাসে। কয়েকজন নড়েচড়ে দাঁড়ায়।

ড্রাইভার বলে, আমি সেই রকম রাজা নই। এই বেটারা হাসবি না। আমি তোদের কলজে দেখছি। আমারে চিনিস? ডান হাতে বুকে চড় মেরে বলে, আমি দেশগাড়ির ড্রাইভার। সারা দেশ ঘুরে বেড়াই। গোঁফ ও চুল ছুঁয়ে বলে, আমার ইয়া বড় গোঁফ ছিল, কাঁধ পর্যন্ত বাহারি চুল ছিল।

ড্রাইভার কত কী হয়ে যায়! অথচ বাবা খড়ের গাদায় এখনো ঘুমাচ্ছে। আজ বিকালে একজনের কাছ থেকে লোন নেওয়ার কথা। সেই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলি, খড়ের গাদা জ্বালিয়ে তোমার ঘুম ভাঙাতে হবে?

এ কথায় বাবা হাই তোলে। বলে, চেয়ে চেয়ে চোখের ক্ষয়, পর ভরসা কিছুই নয়। অ পুত ক্যানে বাঁচি থাইক্যুম?

বাবার বাম চোখ নাচে। ময়মুরুব্বিরা বলে, বাম চোখ নাচলে বিপদ আসে।

বাবাকে হুক্কার নিভে যাওয়া টিক্কে মনে হয়। আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। সম্ভবত মহাজনের অন্তরে ঢোকার ছুতো খুঁজছে। কোনোমতে ঢুকতে পারলে হবে। সুদের হাতকড়া পরালেও পরোয়া করবে না।

ঋণ নিতে গিয়ে হাতকড়া পরতেই হলো, সন্তানকে দিতে হলো মহাজনের কাছে।

কিশোর-কিশোরীরা কাঁঠালখেলা খেলছে। একজন দুই হাত মাথায় রেখে গাছ হয়ে দাঁড়ায়। বাকিরা তার হাত ধরে কাঁঠাল হয়। কাঁঠালেরা ফিসফিস করে, অপেক্ষায় থাকে কখন মহাজনের লোক আসবে।

আমি এখন মহাজনের লোক। বগলে ছাতা নিয়ে ঘটকের মতো হেঁটে যাই। গাছ কেশে গলা পরিষ্কার করে জিজ্ঞেস করে, ও মানুষ কোথায় যাও?

ছাতা খুলে মাথায় দিয়ে বলি, মহাজনের পোলার অসুখ হয়েছে, তাই একটা কাঁঠাল নিতে বলেছে।

গাছ চুপ করে থাকে। আমি কাঁঠাল টিপে দেখে একটা ছিঁড়ে নিই। একবার মহাজনের মেয়ের অসুখ হয়, আরেকবার বউয়ের। একবার মহাজনের। মিথ্যা অসুখ লেগেই থাকে আর সব কাঁঠাল মহাজনের ঘরে যায়।

বাবা মাথায় কলম্বো নারকেল তেল মেখেছে। রগ ফোলা পায়ে দাউদের অসহ্য চুলকানি। বিড়িতে টান দিতে ভুলে যায়।

হারিছ আগে রিকশা চালাত। এখন কিছু করে না। টুলে পা তুলে বসে চায়ে বেলা বিস্কুট ভিজিয়ে খাচ্ছে। চাচাকে রক্তদোষের তরল ওষুধের কথা জানায়।

বাবার মনে একটা স্বপ্ন আছে : কতগুলো সোনা ফলা জমি। জমির পাশে একটা খামার। অদূরে ভিটা, সেখানে চারচালা ঘর। পেছনে বড় পুকুর। আপনমনে চাষবাস করবে। দুধেল গাভীর ওলানের মতো ভরপুর থাকবে সব।

মনে পড়ে, ব্রিটিশের অত্যাচারে তার দাদা মারা গিয়েছিল। খাঁটি মানুষ বলতে যা বোঝায়, দাদা ছিল সে রকম। তার পাঁচ বছর বয়সেই মারা যায়। শুনে শুনে একটা চেহারা দাঁড়িয়ে গেছে এবং তা গাঁথা আছে মনে।

বাবা তার দাদির গল্পের গাড়িতে চড়ে কত জায়গায় ঘুরেছে! দাদির মাধ্যমেই দাদা তার ভেতরে আমগাছ হয়ে বেড়ে উঠেছে। দাদাকে আলাদা করে ভাবতে চায় না। ভাবলেই ক্রোধে নীল হয় মন। ব্রিটিশবিরোধী এক বিপ্লবীকে সহায়তা করেছিল। সেজন্য তারা দাদাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

দাদা ছিল সহজ, মানুষকে বুকে টেনে নিত। তার কাছে দাদি ছিল ধানফুলের মতো। দাদি বলেছিল, তোর দাদা বলত, মানুষের নিজেকে ধানগাছের মতো যত্নে রাখতে হয়।

তখন দাদিকে মনে হতো প্রাণোচ্ছল এক কিশোরী। ফড়িঙের মতো উড়ে বেড়াচ্ছে।

দাদার স্মৃতি আমের আঁটি হয়ে যায়। বাবা ওটা রোপণ করে। সেখান থেকে চারা জন্মায়, গাছ হয়, আম হয়। আমের রসের মতো দাদা রয়ে যায় তার মনে।

সন্ধ্যা হয়েছে। বাবা বাজারের কোণে বটগাছতলে দাঁড়িয়ে আছে। পাশে ঝালাইওয়ালা কালচে চেরাগটা ধরায়। চেরাগের আলো দেখে অনেকদিন আগের কথা মনে পড়ে। দাদি কলার ডাল দিয়ে খোলায় তেল মেখে দুই হাতে কায় ছিটিয়ে হাতঝারা পিঠা বানাত। তার হাতের হাতঝারার স্বাদ এখনো ভুলে নি।

রাতে স্বপ্ন দেখে, ঘোড়ায় চড়ে কোথাও যাচ্ছে। মনে দেশবিরোধী ভাবনা। সেই কথা জানতে পেরে তার দাদা কোদালের ডাঁট দিয়ে মারতে আসে। দাদার হুংকারে পালিয়ে জলাশয়ের পাশে শুকনা পানার স্তূপে লুকায়।

পানার তলায় বসে আছে কন্ট্রাক্টর চাচা। সুতার মতো চিকন পানার শিকড়। কালো শিকড় ছিঁড়ে মুখে দাঁড়ি লাগায়। বাবাকে দেখে বলে, তুই এসেছিস ভালো হয়েছে। চাষবাস হলো ফালতু কাজ। আমার সাথে কয়দিন থাক, বুঝবি জীবন কেমন। একবার কী হয়েছিল জানিস? ঘুষখোর এক লোকের ছেলে পাখির ডিম খেয়েছে। কিছুদিন পর তার পেট থেকে বেরুল পঁচিশটা বাচ্চা। বেরিয়েই ঘুষখোরকে কামড়াতে লাগল।

বাবা হাসে। চাচা বলে, গতকাল বাজারে গিয়েছিলাম। দেড়শ টাকা দিয়ে এক সের দেশি মরিচ কিনেছি। সাংঘাতিক ঝাল। রংপুর থেকে বুড়া ঘিওয়ালা এসেছিল। ঘি নিয়েছি আধা সের।

বেয়াই বাড়ি থেকে খেয়ে আসা মানুষ যেভাবে সুখী ভঙ্গিতে দাঁত খোঁটে, চাচা সেভাবে গল্প বলে। কচ্ছপের সাথে দৌড়ে অংশ নেওয়া খরগোশের ঘুমিয়ে পড়ার মতো তার ভঙ্গি। শ্রমিকদের খাতায় কাটাকুটি করার সময়ও তার ভঙ্গি এ রকম থাকে।


রাজাকারের কথায় ছেলেরা ঘৃণায় মুখ কুঁচকায়। তারা স্যালুট দিয়ে কন্ট্রাক্টরকে বলে, স্যারের অনেক কষ্ট হচ্ছে।


বেশি টাকা গোনার সময় চাচা বারবার হাতে থুতু লাগাত। লোকে বলত, কন্ট্রাক্টর হলো মেইড ইন ইউএসএ। তাই তার মুখে মিছরি, মনে কূট বুদ্ধি। তারা বলত, তার মুখটা দরজা ভাঙা পায়খানা, সেখানে লেদা পোকা থিকথিক করে।

পরদিন সকালে মসজিদের পায়খানায় এসে লাইন ধরে। পোকায় গিজগিজ করা টাট্টিখানায় দ্রুত ঢোকার জন্য কাতরায়।

কয়েকটা ছেলে অদূরে দাঁড়িয়ে হাসে। গল্পদাদার গল্পটা তাদের মনে পড়েছে। সেই যে চালাকের দেশ, সেখানে এক রাজা ছিল। রাজার ছিল দুটি কূপ। একটাতে পানি আছে, আরেকটাতে রক্ত। পিপাসা পেলে রাজা ঘুরে-ফিরে রক্তের কূপেই যেত। পান করে রক্তের মতো লাল হতো। তারপর কী হলো? রাজা একদিন রাজাকার হয়ে গেল।

রাজাকারের কথায় ছেলেরা ঘৃণায় মুখ কুঁচকায়। তারা স্যালুট দিয়ে কন্ট্রাক্টরকে বলে, স্যারের অনেক কষ্ট হচ্ছে। স্যার, বাঁশডুয়ার ভেতর বসে যান। টাট্টিখানার তক্ষক ছাড়া আর কেউ দেখবে না।

ছেলের দলের দুষ্টুমি দেখে চাচার বাঁধা শ্রমিক বরিশালের সাদ্দাম চিৎকার করে, কন পেত্নির পুতে হাগুর কথা কয়?

তার আগেই কন্ট্রাক্টরের কাপড়ে-চোপড়ে হয়ে যায়।


২০ পর্বের লিংক

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)