হোম গদ্য উপন্যাস অন্যজন : ১০

অন্যজন : ১০

অন্যজন : ১০
87
0

৯ম পর্বের লিংক

পর্ব- ১০

১৭.
পায়ে একজিমা আছে। সকালে শহরে গিয়েছিলাম ডাক্তার দেখাতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, মেডিকেলে ডাক্তারদের ধর্মঘট চলছে। বহির্বিভাগ খোলা কী না জানতে চাইলাম এক কর্মচারীর কাছে। লোকটা দেয়ালের দিকে চেয়ে বলল, এখন কিছু জিজ্ঞেস করবে না।

মাথায় রক্ত উঠে গেল। ইচ্ছে হলো, তার মুখটা ভেঙে দিই।

আশপাশে কয়েকজন লোক ছিল। তাদের একজন বলে, স্ট্রাইক করলে কোনো লস নাই, প্রাইভেটে ঠিকই কামাচ্ছে। লোকটা ডাক্তারের মাসিক ইনকাম হিশাব করে।


দীর্ঘদিন শহরে থাকার ফলে মনে হয় তার মন থেকে শৈশবের গন্ধ চলে যাচ্ছে।


অনেকদিন পর অকস্মাৎ পরেশের সঙ্গে দেখা। বুকে জড়িয়ে ধরলাম। শহরে থাকত বলে যোগাযোগ ছিল না। তার দাদা মারা গেছে মাস তিনেক আগে। বউদিকে নিয়ে হসপিটালে এসেছে। সে এখন টোটো কোম্পানির ম্যানেজার।

পরেশকে বলি, শহরে চলে আসতে পারি। চাষবাস আর ভালো লাগছে না।

মেঝেতে একজন শুয়ে আছে। তার পায়ের ক্ষতে ভনভন করছে মাছি। লোকটা নিজের ক্ষতের দিকে চেয়ে থাকে। এক মেয়ে আল্লাগো মাগো বলে চিৎকার করছে।

পরেশের গাল তোবড়ানো, চোখ বসে যাওয়া। চেহারায় ক্লান্তি। দেখে কষ্ট পাই। গাছপালা ঘেরা স্কুল, বর্ষার হালদার মতো উচ্ছলতা, দৌড়াদৌড়ি, ঝাঁপাঝাঁপি—সবকিছু ডিয়ার বল হয়ে স্কুলের মাঠে গড়াগড়ি খায়। স্মৃতির পোশাক পরে খেলায় নামি। সে ছিল মাঝমাঠের খেলোয়াড়। খুব ভালো খেলত।

ছোটকালে আমরা বল নিয়ে পড়ে থাকতাম। পাশের পাড়া থেকে পরেশ মাঠে চলে আসত। বল ধানখেতে পড়লে বাম্বুর বাপ আমাদের ধরে নিয়ে কামলাকে দিয়ে পেছনে লেজ বেঁধে দিত। বলত, তোরা এখন বাঁদর। যা, বনে গিয়ে ঘুরে বেড়া।

আমরা মুখ ভেংচিয়ে দৌড় দিতাম। মনে মনে বলতাম, তুই বাঁদর।

পরেশকে সেই কথা বলি। কিন্তু সে হাঁ করে চেয়ে থাকে। দীর্ঘদিন শহরে থাকার ফলে মনে হয় তার মন থেকে শৈশবের গন্ধ চলে যাচ্ছে।

জিপ চালাতেন তার ঠাকুরদা। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্টেনগান চালাতেন। নিশানায় দক্ষ ও সাহসী ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। বলি, ঠাকুরদা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল আর তুই কী করছিস? মনে মনে গালি দিয়ে বলি, তোকে ফুটবলের মতো লাথি মারতে ইচ্ছে করছে।

সে হাসে। হাসিটা সেই কিশোরের, সে ও আমি নদীর পাড় থেকে নেমে হাত ধরাধরি করে বাজারে তার নাপিত বাবার ছোট্ট দোকানে ঢুকতাম। ছুটির দিন সকালে যেতাম তাদের বাড়ি। আমাদের দেখে দিদিমা ফোকলা দাঁতে হাসত। অদ্ভুত প্রশান্ত এক মুখ। সেই মুখ কখনো ভুলব না।

ঠাকুমা আমাদের দুপাশে বসায়। মোয়া মুড়ি নাড়ু যা থাকে পেট পুরে খেতে দেয়। দিদিমার বাপের বাড়ি মানিকছড়ি। তার বাপেরা অবশ্য কুমিল্লা থেকে এসে ওখানে বসতি করেছে। তাই তার কথাগুলো ছিল অন্যরকম। বিশেষ করে গল্প বলার সময় ভাষা পাল্টে যেত। দিদিমা বলত, ছোটখাটো এক রাজা আছিল। অত হাতিঘোড়া ঝনঝন তলোয়ারঅলা না। ধর পরেশের বাপ বা আমিনের বাপের মতন।

তারা ফিক করে হেসে দেয়। কল্পনা করে, কোথায় টগবগিয়ে নাঙা তলোয়ার হাতে ডাকাত তাড়াবে, তা না, রাজার বেটাদের একজন চাষা, অন্যজন নাপিত। নাপিতগিরি পরেশের না পছন্দ। সে মাঝি হতে চায়। নৌকা চালাতে তার ভালো লাগে।

অ্যাই দুষ্টরা, হাসলে কিস্তা কইতাম না।

আমিন বলে, তাহলে আমাদের রাজার বেটা বানাতে পারবে না।

দুই কিশোর চুপচাপ দিদিমার মুখের রেখা গোনে, শাদা শাড়ির আঁচলে রোদের রং দেখে। জ্যৈষ্ঠের দুপুরে ঘেমে এলে এই আঁচলে ঘাম মুছে দিয়ে বলত, ইশ্‌রে, ঘাইমা লাল হইয়া গ্যাছে।

দিদিমা অন্য এক রাজার গল্প বলে। তারা দুষ্টুমি করতে চাইলে বলে, দুষ্টামি লুঙ্গির কোচায় রাইখা দে। শোন, রাজার আছিল চাইর কন্যা। কন্যারা বড় হইছে। রাজার মাথাত মহাচিন্তা। কন্যাগো বিয়া দিতে অইবো। মন কান্দে। একদিন রাজা কি করছে জানস? চাইর কন্যারে ডাকি পাডায়। মেয়েরা কয়, বাপজান আমরারে ক্যান ডাকছেন? রাজা বড় মাইয়ারে জিগায়, তুই আমারে কেমুন ভালবাসস? বড় মাইয়া কয়, আঁই আপনারে চিনির মতন ভালোবাসি। মাইজা মাইয়ারে জিগায়। সে কয়, আঁই আপনারে গুড়ের মতন ভালোবাসি। সাইজা কয়, আঁই আপনারে পানির মতন ভালোবাসি। ছোড মাইয়া কয়, আঁই লবণের মতন ভালোবাসি। লবণের মতন ভালোবাসে শুইনা রাজা ছোট মাইয়ার ওপর রাগ করে।

গল্প শুনে তারা হাসে। দিদিমা বলে, তারপর কী হইছে জানিস?

কী?

রাজা বড় মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে। একদিন রাক্ষস এসে বড় মেয়েকে খেয়ে ফেলে। রাজা দুঃখে মেজ মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করে। রাক্ষস এসে মেজ মেয়েকে খেয়ে ফেলে। এরপর সেজ মেয়ের বিয়ে দিলে রাক্ষস তাকেও খায়। মনের দুঃখে রাজা-রানি কাঁদে। একদিন তারা বনে চলে যায়।

হাসপাতালের পেছনে সবুজ মাঠ। এরপর পাহাড়। পাহাড়ে বিদেশি গাছ। চোখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করি, দিদিমা মারা গেছে কতদিন হচ্ছেরে?

আমার প্রশ্নে পরেশ হাসে। তখন শাদা শাড়ির আঁচল থেকে রোদের রং ছড়িয়ে পড়ে। ছোটবেলা ছিল বড় একটা পাখি। সেই পাখির পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়াতাম। তাই বেঁচে থাকার কষ্ট, বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা, বাম্বুদের সাথে গোলমালের কথা শুনে সে তেমন গা করে না। মনে হয় টাল কোম্পানির কাপড়ের মতো আমাকে দেখতে চাইছে না।

পরেশ বলে, তোকে আটকে রেখে লাভ নাই।

বউদি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসেছিল। সেই হাসিতে ছিল গভীর দুঃখ। তার শূন্য চোখের দিকে তাকাতে পারি নি। তাই তার সঙ্গে কোনো কথাও হয় নি।

তারা চলে যায়। পরেশকে জিজ্ঞেস করা হয় নি, কেন সে মাঝি কিংবা নাবিক হয় নি। নাবিক হলে তার জাহাজে চড়ে কোথাও চলে যেতাম।


ভুতেরা মাঝি, কামার ও রাজমিস্ত্রির ছেলে হয়ে ঘোরে। শিং ও মাগুর মাছের কাঁটার মতো তাদের চোখ। 


আমি হাঁটি। কত যে দুঃখ! ফুটপাতে বস্তায় পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে মেয়েটি। তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়। মনে হয় ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেবে। আমার ভয় লাগে। মুন্না ভাই বলত, তাকাতে জানলে দেখবি, বেশিরভাগ মানুষ নানাভাবে অত্যাচারিত। মেয়েটার চোখে অত্যাচারিতের ছায়া দেখতে পাই।

ছোটবেলার টেমটেমি গাড়ির আওয়াজের মতো আবার কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে। সমৃদ্ধির দিকে যেতেই হবে। পরেশের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর ইচ্ছাটা আরো দৃঢ় হলো।

১৮.
এক শীতে মুন্না ভাইয়েরা গ্রামে নাটক করেছিল। নাটকে সে ছিল মুচির ছেলে। স্যান্ডেল সেলাই করতে করতে বলে, সেলাই শক্ত না হলে কি টিকবে? কেন যেন সেই কথা মনে পড়ে।

বাবার হাল-চাষ ভালো করে ধরতে পারি নি। তাই তা আমার কাছে হাওয়াই মিঠা কিংবা দুই টাকার বায়োস্কোপ দেখার মতো। বায়োস্কোপওয়ালার পিছে পিছে হাঁটি। তিনি হাতের ঘণ্টাটা অনবরত বাজান। ঘণ্টার শব্দে বাবার জীবনের বায়োস্কোপের গ্লাস ভেঙে যায়।

মন যেন অশ্বত্থ ফুল। জোড়া অশ্বত্থের নিচে বসে বাম্বু ফুলের বাঁশিটা বাজান। ছোটবেলার তিন নম্বরি বলটার মতো লাথি মেরে আমাকে ঘাটা পুকুরপাড়ের বেতঝোপে ফেলে দেন।

মা খুঁজতে আসে। না পেয়ে কেঁদে কেঁদে স্কুলের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়ায়। তারা কী যেন করছে। তার, পেরেক ও বাঁশের ফালা চতুর্ভুজ আকারে দেয়ালে লাগানো। দেয়ালঘড়ির ইঞ্চিখানেক দূরে তার বাঁধা পেরেক ঝুলছে।

কিছুক্ষণ পর পেরেক ঘড়ি স্পর্শ করে এবং সংকেত দেয় : এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে। সবাই মিলে ডাকাতকে ধরে আনে। কেড়ে নেয় লুট করা মালামাল। নারকেলগাছে পিছমোড়া বাঁধে, মাথা কামিয়ে চুন লাগায়।

বেতঝোপ থেকে বেরিয়ে জমিটা খুঁজতে যাই। ছোট হয়ে যাওয়ায় চিনতে পারি না। বিলের মাঝখানে হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকি।

দূর থেকে বিদ্রূপ কণ্ঠে বাম্বু বলেন, হে হাভাতে! তোদের গরু নেই, জমিতে জৈব সারও নেই। তোর নিজের গু-ও তো নেই। সাত পাক দে, দেখ, কিছু বের হয় কি না।

লজ্জায় নুইয়ে পড়ি। বর্ষাকাল হলে বেশ হতো। বিলটা পানিতে পূর্ণ থাকত। মাছের মতো সাঁতরে বাবার লাঙল-গরুর গন্ধ নিতাম, ভেলায় বসে দাদির রূপকথার গল্পের ভারে নত ধানের ছড়া দেখতাম।

বাম্বু বলেন, গন্ধ শুঁকে হাঁটলে পেট ভরবে না।

আমার মাথা চিটে ধানের মতো হয়ে যায়।

বলেন, চাইলে বাঁশি বিক্রি করতে পারিস। একবার তালতলে যা, তালপাতার বাঁশি বানিয়ে তালপাতার সেপাইয়ের মতো বাজারের মোড়ে দাঁড়াবি।

আমি বলি, একটা সমস্যা।

তিনি কটমট করে তাকান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঞ্জাবিদের গোলায় তালগাছের আগা উড়ে গেছে। আগার গর্তে বাসা বেঁধেছে দুটা পেঁচা। দাদি বলেছে, পেঁচার থুতু গায়ে পড়লে অসুখ হয়।

মসজিদের পুকুরে সন্ধ্যার আকাশের ছায়া। তালগাছের পাশে জোহার চাচার বাঁশঝাড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে দোয়েল কিচিরমিচির করে। শাদা গুয়ে আশপাশ ভরে গেছে।

জোহার চাচা কোনা চোখে তাকায়। তার তাকানোটা অদ্ভুত। বাঁশঝাড়ের পাশে ভাঙাচোরা দুটি পায়খানা, গুয়ে শাদা পোকা কিলবিল করছে। তার চোখ দেখে স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা একজন আরেকজনকে বলে, সন্ধ্যার পর টাট্টিখানায় ভুত আসে।

ভুতেরা মাঝি, কামার ও রাজমিস্ত্রির ছেলে হয়ে ঘোরে। শিং ও মাগুর মাছের কাঁটার মতো তাদের চোখ। ভুত বলে, লাল, নীল, হলুদ, কালো ও খয়েরি দশটি ঘোড়া লাগবে। ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আমরা ইতিহাসের মামার বাড়ি যাব। মামা বলবে, মিথ্যার কালো রং ইতিহাসে লেপে দাও। সবাই দেখবে, রং মাখা প্রাক্তন এক সৈনিক রেশনের লাইনে দাঁড়িয়েছে। লোকেরা কালোটাকে মনে করবে শাদা। তারা সৈনিকের কথা বিশ্বাস করে মুখে কালো রং মাখবে।

জোহার চাচাও লাইনে দাঁড়াবে। গায়ে চিতে পড়া পাঞ্জাবি। নতুন কাপড় কিনেই না। কিপটের একশেষ। তার চেহারা জমির সিটের আঁকাবাঁকা রেখার মতো। কাপ্তাইয়ে ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। পণ্ডিত মশাই হয়ে টেবিলে পা তুলে ঝিমানোর মতো তার মন। ঘুষেঘুষে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। পেটও প্রায় খারাপ থাকত। এমনিতে ইয়া বড় পেট, হাঁটে পোয়াতি নারীর মতো।

অফিসে গেলে ময়লা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরত। সিট দেখার সময় নাকের আগায় ঝুলত চিকন ফ্রেমের চশমা। একটা শার্ট পনের-বিশ দিন একনাগাড়ে পরত। তার নাক ডাকা ছিল আরো অদ্ভুত। মনে হতো কেউ শিঙা বাজাচ্ছে। চাচির চোখে-মুখে সবসময় বিরক্তির রেখা থাকত। বিরক্তি দেখলে চাচা জিজ্ঞেস করত, কী?

নাকের ঘি।

চাচা নাকে হাত দেয়। তার সারা শরীরে, কাপড়ে যেন গাঢ় শিকনি লেগে আছে।

চাচি বলে, নাক শুকালে খাবে কি?

চোখ পাকিয়ে চাচা বলে, গরম গরম জিলাপি।

চলো, পরিমলের দোকানে নিয়ে চলো। জিলাপি খাব।

আমরা দুষ্টামি করে চাচির সঙ্গে বাজারে যাই। চাচার পকেটে আজ পাথর ভরে দিতে হবে।

পরিমল কাকা মিষ্টি বানিয়ে সবে বড় ডেকচিতে রেখেছে। ভাপ উঠছে। প্রত্যেকের প্লেটে দুটা করে দেয়। মিষ্টি খেতে গিয়ে জিহ্বা পোড়ে, ঠোঁটের কোনা আঠা আঠা হয়।

উনুনের ছাই হয়ে জোহার চাচা একপাশে বসে থাকে। মিষ্টি খেয়ে আগুনের আভার মতো উজ্জ্বল সবার মন। তারা হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠে। চাচি স্বামীকে বলে, তোঁয়ারে নিবের লাই লম্বা গারি আইবু।

চাচা বলে, আসার পর গাড়িটা সাপ হয়ে যাক।

আমরা মনে মনে বলি, সাপটা বাম্বুর পেটে ঢুকে যাক।


কাকা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, এটা হবে মনলাঠি। খারাপ মানুষেরা এই লাঠি দিয়ে নিজের মনকে পিটাবে। 


আমি আরো স্বপ্ন দেখি। পরিমল কাকা মিষ্টি না বানিয়ে জামগাছের লাঠি বানাচ্ছে। কেন বানাচ্ছে জানতে চাইলে বলল, মিষ্টি খেলেও মানুষের মন মিষ্টি হয় না। তারা আগের চেয়ে তিতা হয়ে গেছে। তাই মিষ্টি বেচতে ভালো লাগে না।

কী করবে?

কাকা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, এটা হবে মনলাঠি। খারাপ মানুষেরা এই লাঠি দিয়ে নিজের মনকে পিটাবে। পিটিয়ে সোজা করবে। কেননা খারাপ মন নিয়ে চলা আর নিজের গু খাওয়া একই কথা।

কাকা বিড়ি ধরায়। একটা লাঠি দিয়ে বলে, নে ধর।

এ সময় জোহার চাচা বলে, ব্যাঙ আর বাইন মাছ কন্ট্রোল করা যায়, মাগার বাঙালিকে কন্ট্রোল করা যায় না। তার বুদ্ধি চীনাইয়াদের হার মানায়।

তাহলে তার এই অবস্থা কেন? কাকা জানতে চায়।

বেশি বুদ্ধির প্যাঁচে গোল্লায় গেছে।

কাকা জমিতে নামে। সামনে বাঘের মতো দুটা বলদ। তার ছেলেটা এসে গরুর কাঁধে জোয়াল লাগিয়ে হাল জুড়ে দেয়। কাকা হাল চষতে শুরু করে। মনে করতাম, তার হাত মিষ্টির রসের মতো। সেই হাতে চষে খেতের পর খেত।

রোদ পড়ে লাঙলের ফলা চিকচিক করে। মাটি পেয়ে তা আরো ধারাল হয়। কাকা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। ভাবে, এবার এমন ফসল ফলাব, যেন বার মাস খেয়ে-পরে শান্তিতে দিন কাটাতে পারি।

১১ পর্বের লিংক

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)