হোম গদ্য আমার পহেলা কবিতাবহি বা এক যৌথ উদ্‌যাপনের কাহিনি

আমার পহেলা কবিতাবহি বা এক যৌথ উদ্‌যাপনের কাহিনি

আমার পহেলা কবিতাবহি বা এক যৌথ উদ্‌যাপনের কাহিনি
224
0

যদি বলি, নিজের কথা সাতকাহন করিয়া বলিতে আমার ভালো লাগে না, হয়তো তাহা এক কিসিমের আধাসত্যই হইবে। কারণ কবিতার পর কবিতায় এতগুলা বছর ধরিয়া যাহা বয়ান করিয়াছি, তাহা নিজের কথা ছাড়া আর কী? তবে কবিতার সুবিধা এই যে, সেইখানে সন-তারিখ তথ্য-উপাত্ত মিলাইয়া কথা কহিবার কোনও দায় নাই। কবুল করা ভালো, স্বভাবদোষে ওইসব বিষয়ে আমি বড়ই কাঁচা। তাই, স্মৃতি ব্যাপারটিই এহেন নাজুক বলিয়া, কোনওরকম স্মৃতিচারণেই আমি তেমন উৎসাহ পাই না। কী জানি, কোথায় কী ভুল করিয়া বসি, বা, কথান্তরে অন্যের ঝোল নিজের কোলে টানি! ৪০ বছর সময় তো কিছু কম না। আর, আমার পহেলা কবিতাবহিটির বয়স তো দেখিতে দেখিতে ৪০ই ছুঁইল।

ইং ১৯৩৭ সালকে আমি যে-চোখে দেখি, আজিকার একজন ২৫ বছর বয়সী মানুষ ১৯৭৭ সালকেও সেই চোখেই দেখিবেন, ইহাই স্বাভাবিক। এক ধূসর অতীত। বিলকুল ভিন্ন একটি দুনিয়া। হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক-গুগল তো দূরস্থান, দূরদর্শনও তখন জাঁকিয়া বসে নাই। লিখনপ্রক্রিয়াটি চলিত একান্তই কাগজে-কলমে। ছাপা হইত নানান ছোটকাগজে, সীসার হরফ সাজাইয়া। তাহাদের মলাট তৈয়ার হইত কাঠের ব্লক বা লিনোকাটে। একটু স্বাচ্ছন্দ্য থাকিলে দস্তার ব্লকে। তখন ডাকঘর বলিয়া একটি স্থাপনা ছিল, যাহা রবীন্দ্রনাথের নাটক হইতে খুব একটা দূরে আসিয়া পৌঁছায় নাই। অমলেরা লিখিত আর, নানান রঙের ডাকটিকিট-সাঁটা খামে পুরিয়া ফেলিয়া দিত লাল টুকটুকে ডাকবাক্সের গহ্বরে। নানান ছোটকাগজের দফতরগুলিই ছিল তাহাদের নানান রাজবাড়ি। বাংলাভাষাভাষী অঞ্চলের প্রান্তে-প্রান্তরে ছড়াইয়া ছিল তাহারা। কখনও বা বাংলার বাহিরেও। এইভাবে নানা দিক হইতে নানা দিগন্তে উড়িয়া যাইত বাংলা কবিতা। রূপকথা নহে?


৭০ দশক হইল, আসলেই, বিপ্লববিরোধী আর বিপ্লব-পলাতকদের সফলতার দশক।


অন্য এক রাজবাড়িও অবশ্য কায়েম হইয়া গিয়াছিল তদ্দিনে। সাহিত্যের অন্য অন্য এলাকায় একচেটিয়া দখল কায়েম করিবার পর ক্রমে কবিতার দিকেও চড়াও হইবে সেই রাজতন্ত্র। তাহার বুঝি আরও কিছুদিন বাকি আছে। তাই আমরা, তরুণ কবিতাপ্রয়াসীরা, খাই দাই গান গাই তাইরে নাইরে না। অর্থাৎ আমাদের সুখের সীমা নাই। ৭২-এর শ্বেতসন্ত্রাস পত্তন হইবার পর বিপ্লবের ঝামেলাও মিটিয়া গিয়াছে। ৭০ দশককে যাহারা বিপ্লবী বানান, তাহারা হয় বেমালুম ইতিহাস ভুলিয়া মারিয়া দিয়াছেন। বা, জানিয়া বুঝিয়া একটি সময়ের উপর অন্যায্য গরিমা আরোপ করেন। ৭০ দশক হইল, আসলেই, বিপ্লববিরোধী আর বিপ্লব-পলাতকদের সফলতার দশক। যাহারা গুলি খাইয়া বা উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে মরিয়াছেন, তাহারা তো আর কবিতা লিখিতে আসেন নাই। যাহারা জেলে পচিয়াছেন, তাহারাও না।

তো, আমিও অনুরূপ এক পলাতক, বিপ্লবের আঁচে ঈষৎ ঝলসাইয়া, যে-কবিতাচর্চাকে অন্যতর স্বপ্নের বশে জলাঞ্জলি দেওয়া গিয়াছিল, একদা তাহারই পায়ে মুখ থুবড়াইয়া পড়িলাম। বছর দুএক চলিল রাস্তা হাতড়াইবার কোশেশ। তাহার পর ছাপাছাপি শুরু হইল। নিজেদের লেখা নিজেরাই ছাপিবার জন্য, একটি কাগজই বানাইয়া ফেলিলাম–অভিমান। সে ছিল ১৯৭৪ সাল। এই যে বলিলাম, নিজেদের লেখা, এই বহুবচন ঠিক অগৌরবে নয়। কিছুদিনের মধ্যেই সেই কাগজটি সেকালীন তরুণ কবিদের একটি অনিবার্য পাটাতন হইয়া উঠিয়াছিল। কিন্তু সেকথা বাখান করিবার পরিসর এটি নয়। নিজের কবিতার (একবচন লক্ষণীয়) কথায় ফিরি।

প্রথম জীবনের লেখালিখি, সে যেন বা এক যৌথ উদ্‌যাপন। সতীর্থরাই তখন পাঠক, সমালোচক, বাহবাদার। ঘরে ঘরে আসা-যাওয়া, জেলায় জেলায় ঘুরাফিরা, নিছক আড্ডার জন্য। তাহার পর নিজের ডেরায় ফিরিয়া আসিয়া আবার নতুন কিছু লিখা। যেন নিজেকে বারবার করিয়া ভাঙিয়া চুরিয়া, ভূগর্ভের সামান্য জল নিষ্কাশনের প্রয়াস। এই সুবাদে মনে পড়িতেছে,অভিমান-এর প্রথম সংখ্যাটিতে আমার একটি কবিতা ছিল, যাহার কয়েকটি লাইন এইরূপ—বারবার ভেঙে নির্মাণরত রাস্তা/ শূন্যে ঝোলানো বিপদজ্ঞাপক লন্ঠন/ তবু কৃষিজীবী চেতনায় আনে আস্থা/ অববাহিকায় কল্পিত ভূমিবণ্টন। দেখিতেছি, সুধীন্দ্রিয় কায়দা তখনও পিছু ছাড়ে নাই! এ-লেখা অবশ্য আমার প্রথমবহি বানাইবার সময় বাদ দিয়াছিলাম। কিন্তু সে-বহির কথায় ফিরিয়া আসিবার আগে, যে-যৌথতার কথা বলিতেছিলাম তাহাকে আবার রেখাঙ্কিত করি।

হয়তো তারুণ্যের ধর্ম আজও একইরকম আছে। এক হইতে বহু হইবার এক তুমুল উদ্দীপনা। কিছু লিখা হইলেই উন্মুখ হইয়া থাকা, কখন তাহা বন্ধুজনের সমীপে পেশ করা যায়। উত্তরের সমর রায়চৌধুরী, বিজয় দে হইতে দক্ষিণপশ্চিমের অশোক দত্ত, নির্মল হালদার অবধি সেই সাথীসমাজের বিস্তার। মাঝের নদিয়া-বীরভূম-হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুরের অনেকানেক নাম। আর কলিকাতা তো রহিয়াছেই। এইকথা লুকাইবার কিছু নাই যে, আমাদের কলিকাতা-বিরোধিতার সূত্রপাতও কলিকাতায় বসিয়া! সেও যেন এক যৌথতাকে পুনরাবিষ্কারের প্রক্রিয়া। রাজধানীকেন্দ্রিকতা হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া বাংলা কবিতার নানান কেন্দ্রে ছড়াইয়া পড়া। শুধু ভূগোলের দিক দিয়াই নয়, মননের দিক দিয়াও। এতকিছু যে একদিনে বা এক দশকেই হইয়া উঠিয়াছিল, তাহা নহে। তবু সেই সময়ে যৌথতাই ছিল আমাদের ব্যক্তিতারও উদ্দীপন-বিভাব। আর, আমার পহেলা কবিতাবহিটিও সেই যৌথতারই হরিতশস্য মাত্র।

১৯৭৪- ৭৬ সাল, এই ৩বছরে বিভিন্ন ছোটকাগজে ইতস্তত যাহা লিখিলাম, সেগুলিকে লইয়া একটি বহি করিলে কেমন হয়? বন্ধুরাই এই ভাবনার উত্থাপক। দেশে তখন জরুরি অবস্থা জারি (২৫ জুন ১৯৭৫- ২১ মার্চ ১৯৭৭)। এখন লোকে বলে কালো দিন। আমাদের কী বা কালো, কীই বা আলো! তথাপি শম্ভু রক্ষিত গ্রেফতার হইলেন। টের পাওয়া গেল, কবিতা লিখাও ঝুঁকিপূর্ণ। মাথামোটা কাঁচিবরদারদের হাতে পড়িয়া ‘বুর্জোয়া’ খবরকাগজগুলি পর্যন্ত সেন্সরশিপের চাপে নাস্তানাবুদ। ইহার ভিতরই চলিল আমার পাণ্ডুলিপি বানাইবার কাজ।


সত্য কথা বলিতে কী এটি আমি লিখিয়াছিলাম, ইন্দিরা গান্ধিকে উদ্দেশ্য করিয়া।


বন্ধুদের ভালোলাগাগুলি স্মরণে রাখিয়া, তদুপরি নিজের ভালোলাগাগুলি প্রয়োগ করিয়া, কবিতার ঝাড়াই-বাছাই তো সারিলাম। কিন্তু বহির ভিতর ইহাদের সাজাইব কিভাবে? পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল তখন আমাদের শহুরে আড্ডার মধ্যমণি। মনে পড়ে, তাহাদের আড্ডায় সামিল হইতে পারার যোগ্যতা-পরীক্ষায় একদা তিনি আমায় শুধাইয়াছিলেন—

—কাহার গানের ভক্ত, নিশ্চয় আশা ভোঁসলে?

—না, গীতা দত্ত।

—যাক্‌, তবু ভালো। সামসাদ বেগম শুনিয়াছ?

—শুনিয়াছি।

—শুনিয়াছ! কিভাবে শুনিলে?

—আমি তো রোজ ভুলে বিসরে গান শুনি। সেইখানে…

—অ।

16880019_1378155022235625_1716999771_o
২য় সংস্করণ। প্রকাশিত হয়েছে ২০১৬ সালে।

মনে হইল, পরীক্ষায় পাশ করিলাম। সেই পার্থদারই শরণ লইলাম পাণ্ডুলিপি সাজাইয়া দিবার জন্য। অত্যন্ত স্নেহের সাথে পার্থদা তাহা দিলেনও। এইখানে একটি মজার কাণ্ড হইল।

পাণ্ডুলিপিতে বেশ কিছু প্রেমের কবিতা ছিল, যাহাদের শিরোনাম প্রণয়গান। সেগুলিকে পরপর না-রাখিয়া পার্থদা ইতস্তত ছড়াইয়া দিলেন। তাহা ভালোই লাগিল। কিন্তু দেখি, নিচের কবিতাটির কপালেও ওই শিরোনাম জুটিয়াছে—

ভেবেছ তুমি আকাশ ছেয়ে আছ
অপরিসীম নিয়ত নিরবধি
খঞ্জ মাটি তোমার পদতলে
ভীরু পাহাড় মূর্খ মূক নদী

অরণ্যের স্তব্ধ অভিভাষে
ভেবেছ তুমি, মুগ্ধ প্রণিপাতে
গাছেরা স্থির, গোপন অরণিটি
দেখ নি, কেউ বহন করে হাতে

কিংবা বুঝি জেনেছ, তাই ভয়ে
হয়েছ আরও ভয়ংকর, একা
মিথ্যা মেঘে বজ্রে দাঁতে নখে
পাথর তুমি, চতুর্দিকে ফাঁকা

সত্য কথা বলিতে কী এটি আমি লিখিয়াছিলাম, ইন্দিরা গান্ধিকে উদ্দেশ্য করিয়া। উপলক্ষ, জরুরি অবস্থার শ্বাসরোধী স্বৈরতন্ত্র। কিন্তু শিরোনামে অত কথা ভাঙিয়া বলার দরকার কি? তাই বুঝি, ভেবেছ তুমি বা ওইরকম কিছু একটা নাম দিয়াছিলাম। পার্থদা এটিকেও প্রণয়গান বানাইয়া দেওয়ায় মজা পাইলাম ঠিকই। কিন্তু মনে হইল, অমন নাম দিলে তো কবিতাটির উদ্দেশ্য ষোল আনাই ব্যর্থ হইয়া যাইবে! পার্থদাকে ভাঙিয়া বলিলাম সেইকথা। উনি তখন নাম বদলাইয়া করিলেন—মহারানী, এ কি সাজে। ঠিক জুতসই না-লাগিলেও তখন ওই নামই রাখিয়া দিলাম। ২য় সংস্করণে সে-নাম বদলাইবার সুযোগ আসিল। নাম দিলাম –রাষ্ট্রপ্রধানাকে


একদিন বাহির হইয়া গেল বহি। দিনটি ছিল ২ মার্চ ১৯৭৭। জরুরি অবস্থা তখনও জারি।


যাহা হউক, পাণ্ডুলিপি তো চূড়ান্ত হইল। এইবার বহির একটি নাম ঠিক করিতে হইবে। ২/৩টি নাম মাথার ভিতর ঘুরঘুর করিতেছে। কিন্তু নিশ্চিত হইতে পারিতেছি না। সেই নামকরণের বৈঠক বসিল শ্রীরামপুরে, মৃদুল দাশগুপ্তর বাড়ি। মৃদুল ছাড়াও সঙ্গে রহিলেন জয় গোস্বামী। তিনজনের আড্ডা চলিল রাতভর। পুরা পাণ্ডুলিপি একটানা পাঠ হইল। প্রায় শেষরাতে সর্বসম্মতিতে পঁহুছানো গেল। নাম ঠিক হইল—কলম্বাসের জাহাজ

ইহার পর বাকি রহিল কৃষ্ণগোপাল মল্লিকের অধুনা প্রেসে পাণ্ডুলিপি সোপর্দ করা। ছাপাছাপির পুরা পর্যায়টি পার্থদা নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করিলেন। মলাট আঁকিয়া দিলেন দেবুদা, আজিকার বিখ্যাত নাট্যকার দেবাশিস মজুমদার। বন্ধু অরণি বসুর উলুখড় তখন এক বিখ্যাত কাগজ। সেইউলুখড় প্রকাশনের নাম লইয়া একদিন বাহির হইয়া গেল বহি। দিনটি ছিল ২ মার্চ ১৯৭৭। জরুরি অবস্থা তখনও জারি।

আমার পহেলা কবিতাবহির কাহিনি এইখানেই শেষ। অবশ্য পুনশ্চ দিয়া আর একটি ছোট্ট ঘটনার উল্লেখ রাখা যায়। বহি বাহির হইবার কিছুদিন পর পার্থদাকে অনুরোধ করা হইয়াছিল, বহিটির উপর কিছু লিখিতে। তিনি রাজিও হইলেন। লেখা পাইলে দেখা গেল, তিনি আমাকে ধুইয়া কাপড় পরাইয়াছেন। একেবারে ফালা ফালা। তাহার সেই প্রখররুদ্র সমালোচনাটি বহুদিন ধরিয়া উপভোগ করিবার বিষয়। তাই বিনাবাক্যে সেটি আমাদের নিজেদের কাগজ অভিমান-এ ছাপাইয়া দেওয়া গেল।

যাহা হউক, সামনেই আবার আর একটি ২মার্চ আসিতেছে। দেখিতে দেখিতে ৪০টি বছর পার হইয়া গেল!

গৌতম চৌধুরী

গৌতম চৌধুরী

জন্ম ১৮ ফাল্গুন ১৩৫৮, ২ মার্চ ১৯৫২, কানপুর, উত্তর প্রদেশ, ভারত। শিক্ষা : উচ্চ মাধ্যমিক। পেশা : লেখালেখি।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
কলম্বাসের জাহাজ [১৯৭৭, উলুখড়, হাওড়া]
হননমেরু [১৯৮০, উলুখড়, হাওড়া]
পৌত্তলিক [১৯৮৩, উলুখড়, হাওড়া]
অমর সার্কাস [১৯৮৯, আপেক্ষিক, হাওড়া]
চক্রব্যূহ [১৯৯১, আপেক্ষিক, হাওড়া]
নদীকথা [১৯৯৭, যুক্তাক্ষর, হাওড়া]
আমি আলো অন্ধকার [১৯৯৯, অফবিট, কলকাতা]
সাঁঝের আটচালা [২০০২, কীর্তিনাশা, কলকাতা]
আধপোড়া ইতিহাস [২০০৪, কীর্তিনাশা, পুরুলিয়া]
অক্ষর শরীরে মহামাত্রা পাব বলে [২০০৬, কীর্তিনাশা, পুরুলিয়া]
নির্বাচিত কবিতা [২০১০, সংবেদ, ঢাকা]
আখেরি তামাশা [২০১৩, ছোঁয়া, কলকাতা]
ঐতরেয় [২০১৩, রূপকথা, ক্যানিং]
উজানি কবিতা [২০১৪, মনফকিরা, কলকাতা]
ধ্যানী ও রঙ্গিলা [২০১৫, চৈতন্য, সিলেট]
কলম্বাসের জাহাজ (২য় সং) [২০১৬, রাবণ, কলকাতা]
বনপর্ব [২০১৬, সংবেদ, ঢাকা]

গদ্য—
গরুররচনা (বৈ-বই বা ই-বুক) [২০১২, www.boierdokan.com]

যৌথ সম্পাদনা—
অভিমান (১৯৭৪-৯০), যুক্তাক্ষর (১৯৯২-৯৬), কীর্তিনাশা (২০০২-০৫)

ই-মেইল : gc16332@gmail.com
গৌতম চৌধুরী