হোম গদ্য আমার আরব্য রজনীরা এবং

আমার আরব্য রজনীরা এবং

আমার আরব্য রজনীরা এবং
159
0

যখন এই ভিডিওটি আপলোড করেছিলুম, সে অনেককাল আগে, ইউটিউবে অনেক ভয় অনেক দ্বিধা কাটিয়ে আপলোডাবার দিনগুলোর একদম প্রথমদিকে, তখন কী করে গানের ফাইল থেকে ভিডিও বানাতে হয় তাই জানতাম না, জানার খুব আগ্রহ ছিল, তাও নয়। এক বন্ধু বানিয়ে দিয়েছিল, জিগিয়েছিল, কী ছবি দেবে। আমি নিতান্ত আতান্তরে পড়েছিলুম। গানের কি ছবি হয়?

হয়। অন্তত হতো, আমার কাছে। তবে সে আরো আরো অনেককাল আগে।

তবে সে ছবি গানের না, শুধু সুরের। এক একটা সুর, না না, সব সুর না, কিছু কিছু গেঁথে যাওয়া সুরের সাথে এক একটা ছবি জোড়া ছিল। একেকটা সুরের সাথে একেকটা ছবি। জুড়ি। আর সে ভারি বিশ্বস্ত আর গভীর প্রেমের জুটি। কখনো ভাঙত না। কখনো বদল হতো না। একজন এলে অন্যজন আসবেই।

এসবই শুরু হয়েছিল একটা সুর দিয়ে। অ্যারাবিয়ান নাইটসের সুর। সেটা শুনতে শুরু করলেই পিছু পিছু অদ্ভুত একটা ছবি চলে আসত। ছবির সিকোয়েন্স। ফিকে জ্যোৎস্না আর মরু হাওয়া বিলি কেটে গেছে বালির উপর। সেই ঢেউ পার হতে হতে, কারুর সাথে… না:, লিখতে গিয়ে দেখছি, আমার সে মুরোদ নেই, ছবিকে অক্ষরে ফুটিয়ে তুলি| আর মনে হওয়া, তাকে তো পারবই না। কাউকে কি বিশ্বাস করাতে পারব, সে ছবির সাথে আসত আমার এক যৌনতার অনুভূতি, যখন কিনা যৌনতার মানেও বুঝতাম না!


সেই প্রথম দেখলাম কথার সাথে সুর এক হয়ে যেতে পারে। এতটা এক, যে আর আলাদা করা যায় না। অর্ধনারীশ্বর।


একই ছবি, বারবার। বারবার ওই ছবি দেখতে পাওয়ার লোভে একই সুর শুনে যাওয়া। টানা আড়াই বছর রোজ চালিয়ে গেছি। রাতে। ও ছিল আমার রাতের নেশা। বাড়ির লোকজন বলেছিল এবার খ্যামা দে মা, পাগল হয়ে যাই!

সে ক্যাসেট আমার হারিয়ে গেছে। ইউটিউবে খুঁজেও সেই কম্পোজিশন আর পাই নি। খুব যে খুঁজতে চেয়েছি, তাও নয়। কিছুটা ভয় পেয়েই। অনেক তো বদলেছি, বলা যায় না যদি সেই ছবি আর না আসে?

তারপর এমনি জুড়ি আরো কিছু তৈরি হয়েছিল। ফরএভার অ্যান্ড এভার এর ইনস্ট্রুমেন্টাল। সে শুনলেও একটা ছবি হাজির হতো। ধু ধু করা ফাঁকা মাঠে খাঁ খাঁ রোদ্দুরে একটা শুকনো ডালপালা মেলা গাছ। ওই ছবিতে অমন কী ছিল, সে ব্যবচ্ছেদ করি নি, করতে চাইও না। শুধু মনে আছে, ওই ছবি দেখতে পাবার লোভে ওটা শুনে যেতাম। শুনেই যেতাম। ও ছিল আমার দুপুরের নেশা। তখন জানতামও না, এটা কোন গান। ইন্টারনেটের জমানায় এসে খুঁজলাম, জানলাম। কিন্তু দেমিস রুশোসের গানটা ভালো হলেও গান শুনে আমার সেই ছবিটা এল না। কথা শুনেই পালাল বোধহয়। তখন ইনস্ট্রুমেন্টাল ভার্শন গুলো শুনলাম। না। আমার সেই ক্যাসেটেরটাকে পেলাম না। আর সেই সুরটার সাথে ফিডেলিটি এতটাই বেশি, অন্য কোনো ইনস্ট্রুমেন্টাল ভার্শনে সেই ছবি আর এল না। কার ক্যাসেট ছিল, তা আর মনে নেই। হয়তো তেমন চেষ্টা করলে বের করা যেত। কিন্তু, তাতে আবার অন্য ভয় ধরে গেল, অনেক তো বদলেছি। সেই ছবি যদি আর না আসে!

পরের ফেজ ছিল আমজাদ আলির। কামোদ আর ঠুমরি। তারপর সারেঙ্গি।

সারেঙ্গির মোচড় আর জাফরি কাটা আলো আঁধারি সেই থেকে আমার এক।

তারওপরে মোৎজার্টের ৪০ নং সিম্ফনি। শুরু হলেই কোথা থেকে মেঘ ফালা ফালা করে চাঁদ বেরিয়ে পড়ত। আর সে কী ভয় ধরানো ফালা ফালা করা জ্যোৎস্না। আদিমকালের চাঁদিম হিম মার্কা ব্যাপারস্যাপার। আর সেখানে ছুটছি তো ছুটছিই।

কিন্তু কথা এলেই যে ছবি হারিয়ে যায়, তার প্রমাণ আরেকবার হাতে নাতে পেলাম। সলিল চৌধুরীর ইতনা না মুঝসে কম্পোজিশনটা শুনে। এমনি হয়তো ভালোই, আর আমি তো সলিল ভক্তই বলা চলে। কিন্তু ওই গান শুনলে কোথায় চাঁদ, কোথায় কী মেঘ, কোথায় কী তাদের ছোটাছুটি! গানের কথায় সব ছুটে পালিয়েছে।

যা হোক, এদের দেখেশুনেই কেটে যাচ্ছিল কৈশোরের গোড়ার বছরগুলো। তখনো মিউজিক ভিডিওর কনসেপ্ট আসে নি, এসে থাকলেও আমার মফস্বলের চারতলার চার দেওয়ালের মধ্যে তার প্রবেশ ঘটে নি। যখন ঘটল, তখন কিছুটা চমকেই উঠেছিলাম। না, না, এখানে আবার বলে বসবেন না যেন, সে কী কথা, সিনেমায় গান আগে দেখো নাই নাকি বাছা? না, তফাত আছে। সিনেমায় সিচুয়েশনের দাবিতে গান আসে। মূলত আগে ছবি, পরে গান। গানের জন্য ছবি নয়, যেমনটা কিনা মিউজিক ভিডিও। মানে, আমি অন্তত তখন সেভাবেই ভাবতাম। তো সে যা হোক, যা বলছিলাম, মিউজিক ভিডিও দেখে একটু দুঃখই হয়েছিল। কারণ, এতদিন জানতাম, এটায় আমার কপিরাইট আছে, এ একান্তই আমার ব্যাপার। গোটা পৃথিবী জুড়ে এমনটি আর কারুর মনে হয় না ভাবাতে সে এক ভারি সুখ ছিল। মিউজিক ভিডিও দেখে তাতে খানিক ঘা লেগেছিল বটে, কিন্তু ব্যথা বেশিক্ষণ থাকে নি। যখন ভেবে দেখলাম, এসবই তো গানের চলচ্ছবি। কথার পিছন দৌড়নো। কথানুসারী ছবিগাঁথা। আমার ছবিরা তেমন নয়, তারা কেবল সুর শুনলে আসে। কথা আসলে কেটে পড়ে। সুরের সাথে ওয়ান টু ওয়ান মোলাকাতে কথার মতো তৃতীয় ব্যক্তির কোনো স্থানই নেই। বরম বিষম ঝগড়া আছে।

তো, এসব নিয়েই বেশ চলছিল। বড় হচ্ছিলাম, অনেক কিছু বদলাচ্ছিল, কিম্বা বদলাচ্ছিল বলেই বড় হচ্ছিলাম। আর এরকম কোনো একদিন পড়ন্ত বিকেলে, আধফালি রোদ্দুর আর অনেকখানি অন্ধকারের মধ্যে দেখলাম প্রথম দেখতে পেলাম ছায়াটাকে। ছায়া ছবি হলো। ছায়াছবি। গানের সাথে ছবি। সেই প্রথম বার। ইমনের বন্দিশে। মাস্টারমশাইয়ের কাছে ইমন শিখে বছরের পর বছর বড় খেয়াল ছোট খেয়ালেও যা হয় নি, তা হলো।

সেই প্রথম দেখলাম কথার সাথে সুর এক হয়ে যেতে পারে। এতটা এক, যে আর আলাদা করা যায় না। অর্ধনারীশ্বর। আর সেই অর্ধনারীশ্বরই ছবি হয়ে যায়। ছবি আস্তে আস্তে মূর্তি। মূর্তি আস্তে আস্তে মূর্ত। আর ম্যাজিকটা হয়ে যায়। আমার চারতলার ফ্ল্যাটবাড়ির চার দেওয়ালে তখন জাফরি বসে গেছে। জাফরির ফাঁকে ফাঁকে চুঁইয়ে পড়া কনে দেখা আলো। পশ্চিমের আলো। জাফরি কাটা আলোকে আরো কেটে কেটে দেওয়া সেই ছায়া। চাঁদ তখন পুবে। চাঁদ তখনও ছোকরা। চাঁদ তখনো আলো দিতে শেখে নি। আর চলছে সুর তালের শরীরী খেলা, এরি, এরি আলি।


শব্দের মানে না বুঝলেও গানের মানে বুঝি বোঝা যায়? বুঝি না। জানি না। শুধু জানি গানেরা তাদের ছবি নিয়ে চলে আসে।


গ রে গ গ। পিয়া বিন। তীব্র মধ্যমে যাবার তীব্র আকুতি। মীড়ের আকুতি, পঞ্চম থেকে মধ্যম হয়ে ধৈবতকে পাবার জন্য। সখি কল না পড়ত মোহে ঘড়ি পল ছিন দিন।

এসবই আগে কখনো লিখেছিলাম।

লিখি নি, এই ছবি দেখার নেশা কেমন ধরে ফেলেছিল আমাকে। ঘোরে ফেলেছিল আমাকে।

লিখি নি, সেই নেশা কেমন ইমন ছাড়িয়ে চারিয়ে যাচ্ছিল কামোদে, পিলুতে, ভৈরবীর ছোট খেয়াল, ঠুমরিতে। শুধু সুরে নয়, সুর কথার আমালগামে। ছোটবেলায় শেখা গানের খাতার ঝুরঝুরে প্রায় পাতা খুলে আঙ্গুল বোলাতাম বন্দিশ বোলে।

ছুঁতাম।

গাইতাম। শুনতাম। দেখতাম। ছুঁতাম।

দেখতাম সেইসব ছায়াছবিদের, সেই সুর তাল মেশা অর্ধনারীশ্বরেদের। খালি চারপাশের চালচিত্রটা বদলে বদলে যেত।

আর এতদিন শুনেছিলাম, এবার দেখতে লাগলাম, ভৈরবীর বারোটা স্বর একেকটা শব্দকে কেমন জিয়ন্ত করে তোলে।

দেখলাম, হাত ছোড়ো সাঁইয়া মোরি না সতাইও সাঁইয়া… আরোহনের শুদ্ধ নি অবরোহনে কোমল হয়ে আসার আকুতিতে কেমন করে সাঁইয়াকে অবয়ব দেয়। কড়ি মধ্যমকে ছুঁয়ে যাওয়ার তীব্রতা কেমন করে ছদ্ম প্রত্যাখানে ঝটকা দেয়।

দেখলাম, আমজাদ আলির কামোদের সুর কেমন করে মানত নহি প্যারে বলমার কথায় কথায় শরীর পায়।

সুন গিন আয়ি রাত রঙ্গিলি তেহারি।

দেখলাম, কড়ি নিয়ে খেলা রাত কেমন করে রঙ্গিলি করে তোলে, বক্র চলনের ঠুমকিতে কেমন করে বিভঙ্গের ভাঁজে ভাঁজে নেশা ধরে। কামোদ, সেই যখন প্রথম শিখি, শুনেছিলাম নশিলি রাগ।

এতদিনে টের পেলাম।

টের পেলাম শাম তোরি আঁখিয়া কিভাবে পিলুর কোমল গান্ধারে এমন আজিব রঙ্গিলি হয়ে ওঠে।

আর সারেঙ্গিতে ঠুমরি, আমি জানতাম কথা বলে, কিন্তু সে কথা, সেই নিংড়ানো আকুতি যে আসলে বলে নদিয়া কিনারে মোরা গাঁও, তুম আইও ঘনশাম রে, সেও সেই টের পেলাম।

টের পেলাম ললিতা, মেরো নাম।

টের পেলাম, তুম আইও ঘনশামের লুপে পড়ে গেছি।

টের পেলাম, বদরার নিয়ে আসা বরসনে পিয়া ঘর না এলে কোমল নিখাদ ছোঁওয়া মীড় বেয়ে কেমন করে বেচই নি নেমে আসে।

দেশের কোমল নিখাদ।

দেশের সেই কোমল নিখাদ মেশা চলনেই নন্দকিশোরের বাঁসুরির অপেক্ষায় নিরখত ঠারে রাই।

বাজত নহি বাঁসুরি জিয়া না লাগেরে।

ক্যায়সে ছুঁপাউ ব্যাকুল চিত নিরখত সব ঠারে।

দেশ কখন ভৈরবী হয়ে পিলুতে ট্রান্সফর্মড হয়ে যায়।

চঞ্চল রাইকিশোরী থেকে বেপথু রাধা হয়ে লাস্যময়ী ললিতায়।

বাজুবন্ধ খুল খুল যায়,
সাঁইয়ানে জাদু ডালা রে…

ললিতা মেরো নাম ,
তুম আইও ঘনশাম রে।…

আমি লুপে পড়ে যাই।

একটা লুপ থেকে পিছলে যাই আরেক লুপে।

খেয়াল ঠুমরির স্পাইরাল বেয়ে গজলের মেহফিলে। ব্রজবুলির মিঠে বোল বদলে যায় উর্দুর পালিশে। যার অর্ধেকের মানে বুঝি না। তবু বদলায় না ছবিদের আসা যাওয়া। শব্দের মানে না বুঝলেও গানের মানে বুঝি বোঝা যায়? বুঝি না। জানি না। শুধু জানি গানেরা তাদের ছবি নিয়ে চলে আসে।


গানের কথা ছবিকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, সুরের সাথে জুড়তে দেয় নি। কিম্বা গানের কথা সেভাবে সুরের সাথে জোড়ে নি বলেই কোনো ছবি আসে নি, কোনো ছবি মিশ খায় নি।


এইসব ছবি দেখার নেশা কেমন ধরে ফেলেছিল আমাকে। ঘোরে ফেলেছিল আমাকে।

কবে যেন গানের সাথে ছবি দেখার নেশা কেটে গিয়ে অন্য নেশার ফাঁদে পড়ে গেলাম। নাকি অন্য নেশাই আগেরটা কাটিয়ে দিল, সে অত ঠাহর করতে পারি না আর। ছবিগুলো ধরে রাখার নেশার। ছবি আঁকতে পারি না। মনে হয়েছিল, ওই সব ছবিগুলোকে খুঁজলে পেয়ে যাব। কাউকে কাউকে পেয়েওছিলাম। কাউকে পাই নি। সেই ছবি ধরে রাখতে গিয়ে দেখেছি বেবাক ফাঁকি। আবার হয়তোবা …

কিন্তু সেসবই অন্য কথা।

এসব এত কিছু আবেগ থরোথরো কথা বলব বলেও তো আজ লিখতে বসি নি।

যা বলছিলাম। এসব কিছু খেয়াল, ঠুমরি, গজল ব্যতিক্রম। এবাদে গানের সাথে আমি কখনোই ছবি মেলাতে পারি নি। গান কোনো ছবি নিয়ে আসে নি। যাদের সাথে এসেছিল, সে ছবিদের খুঁজে পাই নি বলে, পেলেও ক্যামেরা কি ক্যানভাসে ধরে রাখতে পারি নি বলে। এদিকে গেরো। ইউটিউবে গান জোড়ার শখ হলে ভিডিও না বানিয়ে উপায় নেই। আর ভিডিওর জন্য চাই ছবি। ছবি লাগিয়েছি। অন্যের আঁকা কি নিজের তোলা। তাদের আলাদা করে ভালো লেগেছে। আমার পছন্দের ছবি, পছন্দের ফোটো। কিন্তু গানের সাথে জুড়তে গেলেই অস্বস্তিতে পড়েছি। মনে হয়েছে এরা মিশ খায় না। মনে হয়েছে, গানের কথা ছবিকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, সুরের সাথে জুড়তে দেয় নি। কিম্বা গানের কথা সেভাবে সুরের সাথে জোড়ে নি বলেই কোনো ছবি আসে নি, কোনো ছবি মিশ খায় নি। মোদ্দা কথা, গানের সাথে কোন ছবি খুঁজে পাই নি।

যা হোক, যা দিয়ে বলতে শুরু করেছিলাম, যা দেখে এসব কথা মনে পড়ল। একদম পুরোনো একটা ভিডিও। যখন নিজে বানাতে জানতাম না। বন্ধুকে বলতে পারি নি কী ছবি চাই। অনেক ভেবে, কিছু ভেবে না পেয়ে বলেছিলাম, কোনো ছবি চাই না। কুচকুচে কালো একটা ছবি থাক, ছবি না থাকলে যেমনটা থাকে। তাই দিয়েছিল। আর কী আশ্চর্য, আজ গানটা ফিরে শুনতে গিয়ে মনে হলো, প্রথমবারের জন্য, এই মিশকালো ছবিটাই এই গানের ছবি। খাপে খাপ। গানকে ক্যামেরা বা ক্যানভাসে ধরা যায় না।

ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক

জন্ম ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭৭; কোলকাতা।

শিক্ষা : ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত গবেষণায় পিএইচডি।

পেশা : স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী।

প্রকাশিত বই—
অসুখ সারান [প্রবন্ধ, গুরুচন্ডা৯, ২০১৪]

ই-মেইল : ipsitapb@gmail.com

Latest posts by ঈপ্সিতা পাল ভৌমিক (see all)