হোম কবিতা হাসান রোবায়েতের কবিতা

হাসান রোবায়েতের কবিতা

হাসান রোবায়েতের কবিতা
1.49K
0

কোনো এক রোশনি আক্তার


তোমাকে ডেকেছে কালভার্ট
কী ভীষণ মধ্যাহ্নের রোদে—
এইসব ফিরে আসা, যেন এক সাইকেল অনায়াসে পার হয় পথ—

ও পারে সাতবিল বহুদিন দেখে নি কইয়ের ঝাঁক—

ফরজে ও সুন্নতে অথবা মুয়াক্কাদায়
দ্যাখো কতশত গোধূলির ধ্বনি
এখনো বলছে ফারা, কেটে যাক মানত-শোধে!

উড্ডীন, তুমি এক গতি—ফলের সংঘর্ষে পাও প্রাণ!
উড্ডীন, তুমি এক গতি—ফলের সংঘর্ষে পাও প্রাণ!

হারানো তোমার লোভে—আমি ঊন
একান্ত নির্গুণ
‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’
ভেবেছি অজস্রবার!

এই হাওয়া মহিষের বোন—

বস্তুত চলে যায় দিন, মেহেদি পাতার পাশে!

 


চার কাহারের মুখ


একেকটা দিন চলে যায়!
কখনো মথের ডাকে সন্ধ্যায় চপ্পল খুঁজে
ফিরে আসি বাড়ি
রোশনির শেষ ছায়া লেগে আছে শিমুলের কাঠে
যেন চলে গেলেও সমস্ত সন্তাপ থেকে যায়
খিড়কিতে, উঠোনে জামপাতাদের হাওয়ায়—

তোমাকে জীবনঘন ভেবে
রাজাকে এগিয়ে দিই এক চাল
বাঘআঁকা ঐ শতরঞ্জির ঢালে দেখো চার কাহারের মুখ
গড়ানো মুদ্রার থেকে ভোরগুলি ছড়িয়ে যাচ্ছে পাশায়—

 


কখনো, রোশনি আক্তার


কোনো এক খাদের থেকে নেমে আসা
এই সন্ধ্যায়
এই ঘূর্ণিপাকের নিচে
পানি অথবা পানিরই প্রতিবিম্বে অনেক সিলভার
ভেসে যায় আমর্ম-হ্রেষায়—
সমুদ্রফেণায় শুধু ঘুঙুর
শুধু ভারি হয় যুদ্ধপ্রস্তাবের ছায়া—
কারা যেন রোশনি আক্তার ফেলে যায় রোদে!

আরূঢ়, অর্থময় হে তুমি—
রেণুর ভেতরে গিয়ে উড়ে আসো বধিরতা, ধর্মান্তরিত কাঁটাবন
সবুজ ফ্যালাসির পাশে দাঁড়িয়ে
কখনো নোঙর করো ধাতু—কৃষিরসায়ন ফেলে চলে যাও
যেখানে ঝরাপাতা নিজের শব্দে বন!

তুমিও সংকেত ফেলে রাখো দূরে, পুরনো পেশায়
যেন সন্ততির ব্যাপকতা অপূর্ণ মসৃণ ক্ষারে
রেখে দেয় মুখ—
লিভারের হাতলে করে এই রাত উড়ে যায়
স্থিতি-ব্রোঞ্জের দিকে
তবু পিতার স্বভাব থেকে ফুল কেন প্রতিফলনেই বসন্ত হও
বারবার!

মানুষ এখনো যেতে চায় ফাঁকা সেই ঘরটির কাছে—

 


পাতা


*
পাতা, তুমি কার কথা বলো! এই যে অগ্রহায়ণ! স্রোতে মাছ ভেসে যায়; উপরে কুকুর বসে একা দেখে জিভের দুপাশে মাছরাঙা পাখিদের ওড়া দ্রুত ঢেকেছে হাওয়ায়। কারা আজ মৌন আয়াতের নিচে জেগে থাকা রাত্রিকেশর নিস্তব্ধে পাঠিয়েছে ভুলে—তাদের শব্দ শুধু ক্রুর হতে হতে অরণ্যের হিম আলেয়ায় মেশে সহস্র কাঞ্চন-রোদে তবু সন্তাপ ধ্বনিত হয় সারাদিন পিতার নক্ষত্র ভরা গানে—

এই মুখ বারবার কাঁপে দূরের বাতাসে, যেন অভিজ্ঞান ধুলোর অযোগ্য—তাই পায়ে হাঁটা পথ ফিরে যায় অজ্ঞাতে। যে চোখ শব্দ নয় হেমন্তের সেখানে অসংখ্য ফুটে আছে কামরাঙা ফুল। শিরাসহ উড়ে যাও পাতা নিঃসঙ্গতার দিকে—

*
কখনো হাওয়ার থেকে মৃদু কোনো ছদ্মবেশ যদি ডাক দেয়, ‘যা কিছু পাতার ছিল এইবার ফিরে দাও তাকে! এখনো হয় নি ধান বেশি দূর লাল তাই পাটাতন থেকে তামাও বেজেছে ঘন! যেখানে দুপুর শুধু তারাদের কৃৎকৌশল!’

এই নিরশ্ব হাওয়ায়, আঁতুড় শরীরটুকু মনে হয় অসমাপ্ত মা—

 


জানুসৌরভে


পাখিমান এই মধ্যাহ্নে স্নায়ুর ভেতরে যে গন্ধকোরক হেঁটে যায়
তাকে দেখিয়ে বাগান বলা যেতে পারে—আমরা ফিরেছি সেই
গাঢ় কোনো জীবপালকের প্রতি
অথচ মর্মতায় ভীষণ ইস্পাত বেজে যায়, সুর ভাঙে!
গোধূলি আচড়ে দিয়ে একটি মহিষ এসে দাঁড়িয়েছে
নিঃসঙ্গের কাছাকাছি—যারা গেয়েছিল চিতার উৎসবে
টিলায় পাখি বেঁধে বিকেলের নখরগুলি ঢুকিয়েছে বীজে!

শব্দের মতন এক চৌবাচ্চায় দেখো ঝরে গেছে পাতা
তার কৃষিকল্পনার নিচে আমিও পেয়েছি বিমর্ষ এনামেল
নৈশহাতির দাঁত—

আমাদের বিস্মৃতি শুধু উল্লাসধ্বনি আর পরাজীবিতার ভয়
ঘুমন্ত এই শীত ছুরিসহ গড়িয়ে যায় আলেয়ায়
প্রতিদিন জানুসৌরভে—

হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট ১৯৮৯, বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী আযিযুল হক কলেজ; বগুড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশিত বই : ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [কবিতা, ২০১৬, চৈতন্য]

ই-মেইল : hrobayet2676@gmail.com
হাসান রোবায়েত

Latest posts by হাসান রোবায়েত (see all)