হোম কবিতা হাসনাত শোয়েবের কবিতা

হাসনাত শোয়েবের কবিতা

হাসনাত শোয়েবের কবিতা
510
0

শিরীষকুসুম জানে


তুমি জানো না, শিরীষকুসুম জানে

—একটি শাদা আতা ফল কেন আত্মজীবনী জুড়ে একা রয়ে গেছে

—জয়তুন নগরে পাখিদের একান্ত আহার

—উৎসব শেষে অতিথিদের বাড়ি ফেরার যন্ত্রণা

তুমি যা দেখো না, শিরীষকুসুম দেখে

—ইশকুলের অনুষ্ঠানে চ্যাপলিনের একক সংগীত।

 


ফার্স্টএইড বক্সে রাখা চিঠি


রোমান হরফে লেখা একটা বিকেল তোমার দিকে উড়ে যাচ্ছে। চিঠির ওপর জমছে ফরেস্টে রেইনের ধুলো। চলো ঢুকে পড়ি অপারেশন থিয়েটারের মধ্যবর্তী বিষণ্নতায়। সফল অস্ত্রোপচার শেষে তোমার হয়তো মনে পড়বে পাশের বাড়ির মেয়েটির কথা। দেখো, ড্রেসিংটেবিলে রাখা ফার্স্টএইড বক্সে পড়ে আছে একটি চিঠি। বিকেল গড়িয়ে গেলে মেয়েটি চিঠির ভিতর শুয়ে পড়বে একা একা।

 


দানিয়েল সিরিজ থেকে


শিশুদের কান্নার শব্দে তোমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে দানিয়েল। আমি জুতো আটকে দাঁড়িয়ে আছি সেই যিশুকাল থেকে। দানিয়েল তুমি আরো ঘুমাও। মুহূর্ত থেকে খসে পড়ছে সময় ও শূন্যতার ডাকবাক্স। চিঠি ব্যবসা করার দিন শেষ হয়ে গেছে। বুকের ভিতর ডানা ঝাপটে উঠছে শূন্য ওভারকোট। ভাবছি আসছে বসন্তে পাখি-ব্যবসা শুরু করব। দানিয়েল, বন্ধু তুমি আরো একটু ঘুমিয়ে নাও।


হেমন্তকালীন মাছেরা ফিরে গেছে অপেরা। আমাদেরও খুব বেশি সময় আর নেই। দ্রুত লিখে নাও মন্দ্রাকান্তা ঠিকানা। কেউ হয়তো অসুখ নিয়েই পাহাড়ে চলে গেছে। জেনে গেছে, হাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা মাংসের স্বাদ নোনতা। অতঃপর আমরা পাল্টে ফেলি জিহ্বার পুরোনো সব স্মৃতি। অপেরায় যে মাছ একা একা গান গায় সে নাকি কাঠের। তার কাছে পাঠিয়েছি মন্দ্রাকান্তা সব চিঠি।

 


ফ্রেগরেন্স অব ইয়াবা


রুম নাম্বার ৪৪৫, উড়িয়ে দাও তোমার মখমলে ফেরেশতা। পশমাবৃত উইকেন্ডের গায়ে ফ্রেগরেন্স অব ইয়াবা। তোমরা কেউ এগিয়ে এসে বিউগল তুলে নাও। বাজাও পরমগীত সলোমন। ছায়ার ভিতর মেরুন অন্ধকার। আর শিরার ভিতর সিরিঞ্জ ভর্তি রঙিন বিষাদ। ওহে ফেরেশতা, চোখে এবার কিছু ফ্রেগরেন্স জড়িয়ে নাও। শুয়ে পড়ো কোমল গান্ধর্বে।

 


দ্য লাস্ট জাজমেন্ট


ক্যালেন্ডার থেকে কেউ সরিয়ে দিয়েছ অটাম। একা একা কাঁদছে আমাদের হাওয়াইন জঙ্গল। দানিয়েল, ঈর্ষার পরেও থাকে চিত্রশিল্পীদের যৌনতা। আমরা যার যার দূরত্ব নিয়ে আকাশ দেখেছি। তার গায়ে এঁকে দিয়েছি সিস্টিন চ্যাপেলের ফ্রেস্কো। চিত্রিত আকাশ দেখো, তার সোনালি কেশর নিয়ে সুর তুলছে মিকেল এঞ্জেলো। দানিয়েল প্রিয়তম বন্ধু আমার, ঘনিয়ে আসছে ‘দ্য লাস্ট জাজমেন্ট’-এর ক্ষণ। আমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছেন মহামতি এঞ্জেলো। দ্রুত ফিরে এসো, হাওয়াইন জঙ্গলের ক্যালেন্ডারগুলো তুলে নিয়ে যাও।

হাসনাত শোয়েব

জন্ম ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮। স্নাতকোত্তর (দর্শন), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
সূর্যাস্তগামী মাছ [কবিতা, ২০১৫, মেঘনাদ প্রকাশনী]

ই-মেইল : soyeb69@yahoo.com