হোম কবিতা হলুদ মনস্তাপ ও কয়েকটি কবিতা

হলুদ মনস্তাপ ও কয়েকটি কবিতা

হলুদ মনস্তাপ ও কয়েকটি কবিতা
420
0

বৃক্ষ

গাছকে বৃক্ষ বললে আমি সহজেই বুঝতে পারি, আমার পুরানো প্রেমিকাগুলোর ডালে ডালে এখন হলুদ পাখি, তাদের পাতায় জমে আছে রুপালি উঠান
টের পেয়ে যাই তার বাকল থাকে, যাতে রংচটা শক্ত কিছু দাগ থাকে, বজ্রপাতে মাথা পুড়ে গেলেও সে থাকেই অনাদিকাল সটান প্রতিবাদী

তাই বৃক্ষকে কখনোই গাছেদের দলে ফেলতে নেই


ঘর

ঘর তোমাকে সলিড চৌকাঠের গল্পটা বলে
আর উঠান বলতে চায় চুমুর স্মৃতি

খিলান খুললেই আমার শরীর বেয়ে চাঁদ উঠে পড়ে

আমার যদিও খুব রোদে শুকাতে দেয়া তোমার প্রিয় শাড়িটি হতেই ভালো লাগে, সন্ধ্যার আগে যাকে জাপটে ধরে ঘরে তুলে আনো; চৌকাঠে ছিঁড়ে যাই, আটকে যায় প্রাণের কুসুম, ঘর আমাদের কেবলই আলাদা করেছে চিরদিন খুব কাছে রেখে


কপিকল

যে শিয়াল বিবর্তিত হলো না, লনের পাশেই তাকে কুমির পা ছিঁড়ে নিচ্ছে, জলজ একটা পোকা পাখি হয়ে খেয়ে ফেলে তার শেষবারের হুক্কাহুয়া। এর মাঝেই ঝিলে চাঁদ ওঠে গেল, রাত্রি পোহাইলো। আমার মাথায় ঢুকে গেল মহুয়াফল ও একটি কপিকল। দূর থেকে ভেসে আসে সুর; না চাহিলে যারে পাওয়া যায়… দিবসে সে ধন হারায়েছি… যে শিয়াল বিবর্তিত হলো না রাতে, লনের ঘাসের অনেক নিচে সে আমার প্রতিবিম্ব এঁকে দিয়ে গেল মাটির চৌকাঠে, আমি বন্ধুর মুখ থেকে বহুদিন পরে আরো একবার কপিকলের নাম শুনলেও, সূত্রটি আর ঠাহর করতে পারলাম না, হে মহান প্যাসকেল!


হলুদ মনস্তাপ

যে অদৃশ্য মেঘ তোমাকে চিনে
তাকে দৃশ্যমান করি আমি

অথচ তুমি কালিদাসের স্তোত্র পড়ে পার করো রাত ও বিনুনির নদী। সকালে জুঁই ফুলগুলো আমার চেহারা চুরি করে পড়ে থাকে উঠানের কোণে

এই ভাবযাপনের সুরেই বৃষ্টির লিরিকে আমি কেবল অবিশ্বাসের কিছু গন্ধই পাই, ভুলে যাই আমার নাক ও ইন্দ্রিয়গুলো অন্তত একটু হলেও সেখানে যাবার ইচ্ছা রাখে, যেখানে তোমার আঙুল পাহাড়ের ঝাউগাছে টোকা দিয়ে ঝেড়ে ফেলছে সব হলুদ মনস্তাপ…


রুমাল

অ্যাস্ট্রনমি জানা একটা টিয়া পাখির খাঁচার সামনে
ধরে রেখেছি মৌয়ালের ছবি ও একটা গোলাপি রুমাল, তাতে একটা এমব্রয়ডারড ডোরাকাটা বাঘের মুখ এতদিন হাতের তালুতে যে রেখাগুলোকে নদী-সহোদরা ভেবে সাঁতরে পার হতে চেয়েছি কোথায় যেন, মনে হতো সেখানে অনেক গাছ ও পাখির সাথেই নামে কেউ, স্নিগ্ধ সন্ধ্যার মতো

পাখিটা দেখে চোখেরও অধিক; এ শহর থেকে ক্রমেই যাচ্ছে সরে সবগুলো মাঠ ও সন্ধ্যার ফুল মৌয়াল ও রুমালের হদিসটুকুও নেই কারোর কাছে

শুধু বাঘের মুখটি সন্ধ্যার পায়ে পায়ে নেমে আসছে পাহার ছেড়ে, আমাদের ব্যক্তিগত বিকালেরও আগে


লুকায়িত প্রতিভাস

টবে ফুল ফুটে থাকা একটা অভিশাপ নিয়ে, ইন্দ্রিয়গত জন্মের সফেদ দাগ আমি মুছে দিতে চাই…

একটা টায়ারের দুপুরে আমার দৌড় এখনো ভাদ্রের রোদের মতোই, তার তাপে গলে যাচ্ছে পিচকালো রাস্তা ও কাদের করোটি, আমি খবর রাখি না। কীটদষ্ট একটা পেয়ারাপাতার পাশে আরেকটা পাতার বৈভবে ঈশ্বর কিভাবে থাকেন। এত যে নিশ্চুপ প্রিয়তমারা এখানে ওখানে নিতম্বের ঝাঁকুনিতে দোলাচ্ছে সব, তাতে পৃথিবীর ভড়কেন্দ্র কোনো দিকে বেঁকে যাবে কি না! সে প্রশ্ন আমাকে করে কোনো লাভ নেই।

হাইডেলবার্গ মানুষের প্রেমকে অস্বীকার করে হে মহান লুকায়িত প্রতিভাস… তুমি নিজেকে নিছকই একটা ক্লাউনই বানাচ্ছ না তো!

আমি জানি না। আমার মায়ের কাছে কী জবাব তুমি শিখিয়ে পাঠাবে হে ঈশ্বর!

Nihar Likhan

নীহার লিখন

জন্ম ৩ অক্টোবর; শেরপুর। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশা : অধ্যাপনা (মার্কেটিং)।

প্রকাশিত বই—
ব্রহ্মপুত্র [কাব্য; মেঘ প্রকাশন, ২০১৭]
আমি আপেল নীরবতা বুঝি [কাব্য; প্রিন্ট পোয়েট্রি, ২০১৭]

সম্পাদিত ছোটকাগজ : উৎপথ

ই-মেইল : niharlikhan@gmail.com
Nihar Likhan

Latest posts by নীহার লিখন (see all)