হোম কবিতা সোনালি কফির উদ্যানে

সোনালি কফির উদ্যানে

সোনালি কফির উদ্যানে
842
0

কিল মি, রমেল!

‘আমি পড়তে পারতাম একা, একলা,
পৃথ্বীদিনে গুগল ডুডল—এই না আমার লাশ বেঁচে আছে শুধু।
একটা চোখ দিয়েই কেঁদে ডেকেছি ও মা, বাংলায়ই।
সবুজ উপত্যকার ঢালেও আমার সমুচ্চার খুঁজে পাবে না।
দোহাই, আমি আর আর আর নাই, নেই।
আমি আর নেই, এ খবর তাও জানা যায়,
আমাকে যাবে না জানা!
তবে অচিরেই থাকতে থাকব দেশে-বিদেশে!
আমি ফুল হতে পারি, ফুলস্টপ নয় পাহাড়ের!’
প্লিজ তুমি থেমে যাও ভাই রমেল চাকমা!
নো মোর…
তোমার মায়ের কাছে যাব তোমার লাশ হয়ে আমিই রমেল,
সো কিল মি, রমেল!


ঘোড়াদের গান, আমাদের মেমোট্রেন

এই মেমোট্রেনের দামে ঘোড়া কেনা যায়?
সীনাই পাহাড়ের উপত্যকায়।
রবিবারে। দেয়াল বিঁধে যাচ্ছে রওজায়, প্রখরতাহীন।
মন্ময় নারীদের ঘাড়ে লিবিডোর আরশোলা লাগে নি।
চৈনিক মেঘ এসে দিয়ে যায় সোনাকোল বৃষ্টির ফড়িং।
কাছেপিঠে একটা কফিশপে
বাজিকর-এর অনুমৃত চোরা কারবারিরা ঘুমিয়েছে।


নানানাম

রক :

দেখা যাবে সবচেয়ে বেশিই থাকি নি নিপ্পনে।
তোমাদের কুলকুচো মুখস্থ করতে চেয়েছি আর
শীৎকৃত-মহৎ গান শুনেছে নতসাপ ~ বায়ার্ন মিউনিখ।

জ্যাজ :

যে ‘বাথ’ শহরে বৃহস্পতি ও গীষ্পতি একই শিল্প, সেখানের বাথটাবে, বাথানে, হারেমে বেনিয়ার ভাঁড়ার!
পত্নীসহ আলেকজান্ডার-এর পকেট ফেরি করে আবু লাহাব, তাব্বাত তাব্বাত!

মর্সিয়া :

সৃষ্টি এক স্টুপিড, স্রষ্টা তাই বাতলে দিলেন মার্গ!
উন্মার্গগামী হলো তাও খুকু ও খোকা, থোকাথোকা।
আমরা পেলাম নফল ও নানানাম, নকীব ও নানানাম।
আমরা হারালাম কিফায়া
খেই হারালাম, সিদরাতুল মুনতাহা!

হিপহপ :

নানানাম নানানাম ~ কী কী কী?
এই যেমন, নানানাম নানানাম নানানাম।
তাও?
এই যেমন, লেসবিয়ানিজম, গেইজম, বাই..
তাই?
লিটমাসে ঘষাঘষি সময় গোলাপি,
বিড়াল বেড়িয়ে এল
থকথকে থলেতে উথলে উঠল উট
পুলসিরাত পুলসিরাত!

পপ :

সময় নাচে তান্তব নামে মরুবৃষ্টি
জানাতে চায় কারা যেন কত ফ্রিক ও কুফরি, জোশ- নানানাম?
উন্মার্গগামী হলো তাও খুকু ও খোকা, থোকাথোকা।


কাজিন

তারপর খালিবোতল ভেবে
না জানি কী সুধারস পূরণের যথার্থতায়
তাদের তুলে দেয়া হয় ভাইওরের হাতে।
সেও এক মিনিটপুরুষ!
দেখতে দেখতে তাদের বিয়েথা হয়।
নানা ঋতুতে তারা রীতিমত ঋতুমতীও হয়!
তাদেরকে অবশ্যম্ভাবী রোজ রোজ
কাজিনের রেহেলের মতন বাহুতে ধর্মগ্রন্থের মতো ঘুমাতে হয়
একটা শিশুর স্কুলগামী জীবনে
তারা তাদের ফাইভের এইটের বক্ষবেষ্টনী ও বালিকাবিদ্যালয়ের
আচারস্মৃতিমাখা এম্ব্রয়ডারি করা ব্যাজ ও বাল্যপ্রণয় ইত্যাদি সবকিছু খুলে রেখে মুক্তি নিয়ে নেয়
(ভাবে এই মুক্তি কি সে আদপেই চেয়েছিল?)
রোজার দিনে তারা রোজা রাখে
‘যৌনসংসর্গ’ একটা অনভিধানিক অধার্মিক অধাতব শব্দে রূপ নেয়।
শরীর থেকে সংখ্যায় পরিণত হয় তাদের প্রেম, শিক্ষা, স্বপ্ন আর উড়তে চাওয়াবিষয়ক ইচ্ছেগুলির আলফা বিটা গামা স্তর।
ভাষার অল্পদর্শীতা ও ইয়োগাবিষয়ক ধারণার অনিশ্চয়তাবশত একেই কি না আমরা মাঝে মাঝে শবাসন বলি!


ফিরে যাও কান্নাশর

অসহস্বপনে মানুষ আসে
যারা আর আসে না জীবনের দিকে
এখানে ঈশানে তাদের আওয়াজ।
প্রিয়তমেষু রোদসী,
না তুমি দ্বিখণ্ডিত হয়ো না
বরং তুমি মানুষ ভুলে যাও
এই প্রাইমেটগুলো কাঁদায় : হাসাতে গিয়ে ছুঁড়ে মারে কান্নাশর।
ফিরিয়ে দেই ওইসব সুরেলা কান্নার নোট,
প্রখর চুমুর সুবাসবনে।
এবার যে ইস্টার এসেছে
অবনীর ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ারে।
শাদা শাদা ফুল উড়িয়ে এসে গেছে সে,
আর খ্রিস্টও জানেন নি যে কেবল মানুষের ফ্রডে-চিটে দ্যাফোদিল এর জলছবি থেমে গেছে তোমার জলচোখে।


ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ

কিছু কিছু মনে পড়ে গেল গোলপাতা সোনালিস্নান?
আমাদের তারুণ্যতোবড়ানো সাম্যে জন্মানো ফড়িংমহতী নদী কিছুটা কি আছে মনে?
এই সব প্রশ্ন থাক তারচেয়ে বলা ভালো মথকথা,
যদিও কিছু বিগতচশমার ফিরিস্তি উহ্য থাকা দরকার,
আর তারা হয়ে ওঠে নি উঠতি বায়োস্কোপ-পোষমানা চোখ…
গত্যন্তরহীন
প্রদীপ্ত এক চেয়ার রাত খুলে রাখে পাশে তার
আসন্নমৃত্যুর আগে আগে
হা-আকাশে যত হরিণ হয়ে যাচ্ছে ক্রুদ্ধ ডাইনোসর!
‘করমজল’-এ মেরুরোদ্দুর,
ধানবালু কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে যে..
আলোচনা থাক।
এখান থেকে নেমে দেখে আসি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ
ম্যানগ্রোভ থকথক
কাদাজল-অপেরা
মৌয়ালিদের বোটানিযাপন
মাছরাঙার যত মার্কসবাদ ও
নুনস্মিত জলের অবনীল।
ইরাবতী ডলফিনের কানে রাম্পাল ঢেলে দেয় অস্নিগ্ধতা
ই-দ্রোহ জানাই খুব!
যেনোগিনিপিগস পোড়ে শাহবাগে!
শাহ্‌ বাঘে অনেকক্ষণ বোবালুক দিয়ে সুন্দরবনের নাম বদলায়, রাখে ‘বনমর্গ’,
বালের মেট্রোপলিস।
আমাদের সন্তদের চোখে রা নেই
আমাদের সন্তানচোখে ডুবে গেছে সুন্দরবন
অনিন্দ্য অন্ধকার-এ।


ঘাসের চোখে বিষণ্ণ ভাতের রং

২৫ মার্চ ২০১৭, আমার প্রথম ট্রাম যাত্রা আমি চিরকুটে লিখে রাখি।
ঘাসের চোখে বিষণ্ণ ভাতের রং সাড়াহীন
কোথাও ট্রাম আসে
দেবতার সাথে মরসুম ~
নিপ্পনের সমুদ্যম সুনামির আভাসেও ফুটিয়ে দিচ্ছি একটা মনোলোভা ছবি।
মানস ও মানসী,
দুজনার প্রেমজর্জর ছায়াঘন সুরেলা মিতালি আহা!


ক্রিমেটোরিয়ামে

যারা আত্মহত্যাকারীরা
তাদের জন্যও শবানুগমন-এর কিউতে
কান পেতে আছে
কোনো কোনো ভারপ্রাপ্ত আজাযিল।
হেই,
আপনি!
কিসের কি?
না, স্বেচ্ছামরণ না।
শিশু ও সারসেরা আড়চোখ
চেয়ে আছে, ওহো,
পৃথিবীকে ডিভর্স দিয়েন না, ওকে!
আপনার কর্নিয়ায় ম্লানায়মান
তখন আপনার নারী ও বয়ফ্রেন্ড।
তাদের শ্রী ও শরীর,
ঘ্রাণ, লাভজুস, ঘামের পুরাণ ও জিহ্বার ছুরি—
হাসির উতরোল, টেক্সট লিখে আঙুলচাপাচাপি
আর সোশ্যাল শোস্যাল মিডিয়াতে স্তব্ধস্ট্যাটাস।
বুকের কাছে ভারমহিম পানশালা।
কী জানাযায়,
কী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়
আর ইলেক্ট্রিক্যালি ক্রিমেশন-এ
আপনি ফিরে আসতে চাইছেন যেন,
খালি নিথরদাঁত দিয়ে প্রত্যাবর্তন এর ফিতে কাটতে পারছেন না… পারছেনই না।
ওহো না!
আপনি তো জীবিতই ছিলেন না কোথাও।


সোনালি কফির উদ্যানে

জনান্তিক বাগানে যারা কালোরোদে বুনেছিল কফির চুমুক তারা এলিয়ে গেছে অতীব উত্তেজনায়।
পাথেয় প্রগতির দিকে সেট করে, সোজাসুজি।
উভমুখী।
বেগুনি সন্ধ্যায় নীলিম বয় লতানো উদ্ভিদ।
কক্টেল পার্লার থেকে
ক্ষণে ক্ষণে
উড়ে আসে সমূহ চরিত্রহরণ।
আয়নায় কখনো বদলে যায় না রেসিস্ট-এর সানগ্লাস।
আয়নায় কখনো বদলে যায় নি রেসিস্ট-এর সানগ্লাস।


নিসর্গকোড

নিসর্গ, এলগোরিদম, আবাবিল
একত্রে নিচ্ছে কিনে অল্পায়ু অপরমধ্যাহ্ন
চোখভুলে অন্য কেউ দেখেন ল্যান্ডস্কেপ,
মগজে উপ্ত কোনো কোনো কেকাধ্বনির কলতান
শিল্পীর নিসর্গকোড চুপিসারে আগলে রাখে, বর্ণপালক পাহারা দেয় ময়ূরসিংহাসন
কবিদের হাতে ঘুম ভেঙে যায়
বেদখলিত শিলাচরে আভেইলেবল রাখছি
আমার কাকাতুয়া উড্ডয়নেচ্ছা।
নস্যাৎ পরিকল্পনাজুড়ে
আগের দেবতাগুলির রং উঠে গেছে
অতএব আগের থিওলজির বুদ্বুদ সংবহন
জব্দ করা কেন?
আদমের আপেলের ‘পারিব না’ শুনব তাহলে?
ঔ-রস ভুল ধরে ধরে পশ্চিম হামা দেয়,
গুটিসুটি মেরে বসে থাকে
ফ্যান্টম মালভূমিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ
ই-দেহ ডিকোডবাজির রসে টইটম্বুর করে
এলিটের যৌনবিমনা যত আছে আমসন্তান।

নাঈম ফিরোজ

জন্ম ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৩; ধানমন্ডি, ঢাকা। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ব্যান্ড বিটলসের শহর লিভারপুলে প্রবাসী।

শিক্ষা :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্নাতকোত্তর। ব্রিটিশ সরকারের কমনওয়েলথ স্কলার হিশেবে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে উচ্চতর স্নাতকোত্তর।

পেশা : বিচারক (বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এর সদস্য)।

প্রকাশিত বই :
গ্রীনহাউজের বন্দিনী [কবিতা, ভোরের শিশির, ২০০৮]
উবে যাও জলচোখ [কবিতা, মূর্ধন্য, ২০১৬]
পৃথিবীর শেষ কয়েকছত্র মেঘপত্র [কবিতা, তিউড়ি, ২০১৭]

ই-মেইল : nayeemfiroz.jurisprudent@gmail.com