হোম কবিতা সুহাসিনী’র প্রতি

সুহাসিনী’র প্রতি

সুহাসিনী’র প্রতি
1.32K
0

তোমার নিঃশ্বাস আর কতদূর মনা!
দু’হাতে প্রতীক্ষা গুঁজে দিয়ে
পালিয়েছে কোন জনা?
ফুল নিয়ে খেলার সময়
একটি পিঁপড়া কামড়েছে আজ আমায়।
সেই লাল স্পর্শ থেকে তুমি কতদূর!
কে আমাকে বৃষ্টিবিনা অরণ্যে ভাসায়?

 

২.
সূর্যোদয় চুরি হয়ে গেছে কবে রাত
পোহানোর আগেই, আমার
সূর্যাস্তের রঙে প্রপাত
হয়ে থাকো তুমি, জনে জনে
জনশ্রুতি হয়ে মিশে থাকো অবিরাম,
যেন শেষ না হয় তোমার রূপকথা—
আমার হাঁটার পথে জাগো তুমি, শ্যাম।

 

৩.
এই হাসি নাইটিংগেলের হৃৎপিণ্ড
থেকে টুপ করে খসে পড়ে।
তারপর অন্তরীক্ষ
তোলপাড় করে ভেসে আসে
আমাদের দিকে, নীল নৈঃশব্দ্যের মতো।
লোকলাজ ভুলে আমি ধিকিধিকি হাঁটি
হাসি খাই, হাসি গায়ে মাখি তত।

 

৪.
কাগজে মোড়ানো প্রেম পড়ে আছে পথে।
সকল আঙুল দিয়ে ছুঁতে
চাওয়া ভালো নয়, মনে
যদি ডালিম না ফোটে লক্ষ দানাসহ।
গোলাপ ফুটছে, অথচ তোমার কোনো
টেনশন নেই! কোথায় তোমার হাত?
ময়ূর-পালক দিয়ে ছুঁতে চাই, শোনো।

 

৫.
তোমার হাসির শেষ কই, সুহাসিনী?
হাসির ওজন এত বেশি
তবু আমি তো জানি নি!
একদিন শরীরে জড়িয়ে
তারে, ঘুমোতে গেলাম, রাতশেষে দেখি,
শিশিরের সঙ্গে মিশে আছ তুমি, আর,
হাসির ওজন শরীরের চেয়েও বেশি।

 

৬.
হাসিতে দমকা হাওয়া আছে, জানি নি তো।
হাওয়া বয়ে যায় ঘরময়,
কভু ভালোবাসি নি গো
নিষিদ্ধ ফলের সুরা, তবু
নেশা হয়, পাতা ঝরে কথায় কথায়—
কথা বলো রাই, ঘাই তোল
ঘরের কোণের নদী আর নীলিমায়।

 

৭.
তোমার দেহের কোথাও না কোথাও দ্যাখো
জ্যোৎস্না ধরার জায়গা আছে।
সেই মোতাবেক লেখো
নিলাদ্র পাঁজর দিয়ে তুমি
কী করে বাজাবে আজ বিরহ-মাদল।
আমার দেহের কোথাও না কোথাও আছে
কম্পমান সেই জ্যোৎস্না ধরার কৌশল।

 

৮.
আপেল যেভাবে শারীরিক হয়ে ওঠে
দাঁত বসানোর পরে, আর,
বিরহ যেভাবে বাজে
মনোদৈহিক প্রান্তরে, ওগো,
তুমিও কি ভুলেছ রীতি নিশি জাগরণে!
শরীরে পকেট নেই, সমস্ত ঘোড়ার
গতি, ধূলি-ওড়া, লুকানো রয়েছে মনে।

 

৯.
পানিতে পড়ছে পাতা টুপ টাপ টুপ,
সেই শব্দ খেয়ে গর্ভবতী
হয় মাছ, তার রূপ
দেখে দেখে মনে মনে আমি
তোমাকে নাইটিংগেল ডাকি বারোমাস।
জেগে আছে যৌন-চাঁদ, তবু কেন
প্রতিউত্তরে আসে না কোনো দখিনা বাতাস।

 

১০.
সে এক শীতের দেশ আছে, ঝরে-পড়া
ওক পাতায় লেখা কারো নাম,
কারো হাসি পাতা-ঝরা,
হয়তো স্ট্রবেরি-সন্ধ্যা যাবে
সেই নামে মেপল পাতার মানচিত্র
এঁকে দিয়ে, তথাপি হৃদয়ে অবিরাম
খেলে যাবে জারুলের বন, চিরমিত্র।

Zakir Zafran

জাকির জাফরান

জন্ম ৪ আগস্ট ১৯৭৫, সিলেট।
ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশা : বিসিএস (প্রশাসন)।

প্রকাশিত বই :
সমুদ্রপৃষ্ঠা [কবিতা, ২০০৭, গদ্য পদ্য]
নদী এক জন্মান্ধ আয়না [কবিতা, ২০১৪, গদ্য পদ্য]
অপহৃত সূর্যাস্তমণ্ডলী [কবিতা, ২০১৫, চৈতন্য]

ই-মেইল : zzafranbd@gmail.com
Zakir Zafran