হোম কবিতা সারাজাত সৌমের কবিতা

সারাজাত সৌমের কবিতা

সারাজাত সৌমের কবিতা
1.10K
0

শীতের অভ্যন্তরীণ যাত্রা


১.
কানের পাশ দিয়ে উড়ে যায় কনকপাখি! এবেলা শীত কুড়াব বলে বেলি ফুটে আছে ব্রোথেলে—কুয়াশার মাস্তানি। দ্যাখো, সন্ধ্যার খালে দাঁড়িয়ে এখনো বকের শরীর, মেলার গীত জানে কিভাবে সুর ছড়িয়ে যায় যুবকের মনে।

আর অপেরার মেয়েগুলো জাদুকরী এক দ্বীপ। চোখের ভূ-খণ্ডে যে পাখি উড়ে যায় রোজ তার নামই তো নেশা—পাশা এই হৃদয়।

দু-দিক থেকেই ছুটে আসে সেতু। মানুষের মাড়ি থেকে ডেকে উঠে মাংস—আর উড়ন্ত পাখি সব প্রেমেরই খেয়াল।

 

২.
চোখের উপর দাঁড়িয়ে থাকে পয়মন্ত দিন—গাভি গ্রাম! গাজরের গ্রীবায় সন্ধ্যা নেমে এলে তুমি চুল ছড়িয়ে দাও আকাশে। আর এক পাগলা নক্ষত্র চোখ মেরে লুকিয়ে যায় ধ্যানে!

জানোই তো, স্কুল দিনে আমার বড্ড শীত লাগে। শাদা মোজাদের কুচকাওয়াজ কষ্টকর। অথচ সবুজ কার্ডিগানে যে ফুলগুলি আরবি ভাষায় কথা বলে তার  দিকে তাকিয়ে আমি এবার মরেই যেতে পারি!

হে শীতকাল, আমাকে একটা খরগোশ বানিয়ে দাও। আমি ফুলকপির ওম নিয়ে ঘুমোতে চাই।

 

৩.
তোমার বৈভব থেকে উড়ে আসে আংশিক পাখি—কেয়ার কলরব! কানের পাশেই তো শীতনিদ্রা, প্রেমের চূড়ামণি। দ্যাখো, গড়িয়ে যাচ্ছে মার্বেলফুল—শিশুতোষ খেলনা এই বিকেল বেলায়!

গায়ের দিক থেকে লেজ উড়িয়ে আসছে বাতাস—নীল গাভির মতো। জানি, যে কোনো সন্ধ্যায় তোমার টিপের নিচে পড়ে থাকে খেলনার বাঘ—মটরের সংগীত।

যাবতীয় অঙ্গ জানে—জানুর সান্নিধ্যে গেলে খুলে যায় সর্ষেবিতান! তারপর প্যাঁচানো নদীটির কাছে মানুষের যত শীৎকার।

 

৪.
কোথাও বের হলে আমি হারিয়ে যাব, এই ভয়ে থাকি। অথচ আম্মা সারাদিন ঘরে—মেশিনে কত কী করেন! এই যেমন, তিনি আমার মুখের উপর ফুল-পাখিদের ছবি এঁকে দেন কখনো বা আব্বার সুদূর প্রেমের হাসি।

যেদিন তোমার ওড়না থেকে উড়ে এসেছিল মৌমাছি, আমি সেদিন অঙ্ক করছিলাম বাতাসের চুল নিয়ে—চোখ নিয়ে তামাশা আর দিনারের দিনপঞ্জিগুলো দুলে উঠছিল মৃদু আয়নায়।

জানি খেজুরবনেও খচ্চর থাকে, থাকে প্রেমের কৌশল—আর আঙুলের রেখা থেকে ছিটকে যায় দেহ ও দেহাতি গান…

 

৫.
আমাকে ডাকে আঙুল—ছোট্ট আঙুলগুলি ছাতারের ভঙ্গিতে এই দুপুর বেলায়। ঘরে ঘোর—দেয়াল জুড়ে দহিয়াল শিস দিয়ে যায় তার ছায়া, মাগো—মায়াবন বিঁধে আছে বরই কাঁটায়!
অথচ খুন হওয়া ফলের সাথে ছুরির সর্ম্পক ছিল বহু পুরনো—চোখের ইশারায় আর বিগত আঠারো বসন্ত পেরিয়ে আজ জানা গেল, সর্ম্পূণ শরীর জাগ্রত হয় জলের ছায়ায়!
নিশি বিষ সাপের ফণা বিঁধে আছে খোঁপা—তারও প্রেম, মনের হেরেম থেকে ঝরছে ফুল—ভেসে যায় সেও শুঁড়িখানায়।

সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ।
পেশা : চাকুরি।

ই-মেইল : showmo.sarajat@gmail.com
সারাজাত সৌম