হোম কবিতা সাঈদ জুবেরীর কবিতাগুচ্ছ

সাঈদ জুবেরীর কবিতাগুচ্ছ

সাঈদ জুবেরীর কবিতাগুচ্ছ
436
0

পাঠক ফুইটা পড়ো তো বাপ, ফ্যানজ আর ওয়েলকাম

লোকাল বাসের ইগো লইয়া খাড়ায়া আছো কেন পাঠক?
তোমারে তো এই রুটে চলা বাংলা কবিতার বাস থেইকা
ভাড়া না লইয়াই নামায়া দিছে নব্বই দশকের রাস্তায়…

তুমি আবার উঠছো কেন বাসে?
উঠছোই যদি, তাইলে আবার
দরজার কাছে, লেডিস সিটের ধারে—
ওগো লোকাল বাসের ইগো, খাড়ায়া আছো কেন

পাঠক, তুমি এই রুটে এই বাসের
নিত্যসকল রুচির চানাচুরের… ঝালমুড়ি আর
ডালভাজাদের অবাধ অগাধ ওঠানামার
এই রাস্তা থেকে সরো, নামো…

নেমে না গেলে আবার নামিয়ে দেবো

এই এই এই সব বাংলা কবিতা যাদের
ওদের উঠতে নামতে ধরতে ঘেঁষতে দাও, তুমি ফোটো
ছেউড়িয়া আর অলির দরগা থেকে ভক্তকুলও আসো
আর যারা আছে ডাকনামে যদি ফ্যান
উহাদের সাথে সকলে লাইক মারো
তোমাদের মোর খারাপ লাগে না তো

আর, পাঠক, প্লিজ পাঠক… সিরিয়াস হয়ে উঠছে বাসের পরিবেশ
দরজার কাছে, লেডিস সিটের ধারে
এই যে তুমি ধুরন্ধর সব, দেখায়তেছো যা, সব ভান
ওগো লোকাল বাসের ইগো, কিন্তু আর কেন?

তোমার কুতকুতে চোখ, হোঁতকা গতর, বেঢপ সাইজ
ঘামের গন্ধ, হলদে দাঁত, বদ নজর… সব
তেলচিটচিট তেলচিটচিট তেলচিটচিট
গা ঘিনঘিন গা ঘিনঘিন
হায় পাঠক, তোমার ফুটেজ সিসিক্যামেরায় ধরা—
লেডিস সিটের দিকে তাকায়া তুমি ঘোঁৎ ঘোঁৎ
নিশ্বাস ফেলতেছো ভর্তি পরীক্ষার্থী মফস্মলের গুডবয়টার কাঁধে
আর সে সরতে গেলেই তোমার রোগগ্রস্ত নুনুর ছোঁয়ার ডরে…
বিকারগ্রস্ত, বাড়ি ফিরে গিয়ে খুন করে সেবিকারে

ওহ, পাঠক তোমার এসব টেরিবল সিকনেসে, চিরদিন সাবপ্রেসে
এই রুটে চলা বাংলা কবিতার বাসে ওঠে না কখনো
রুকসানা, পারমিতা, মারফিয়াও আর এ রুটের অন্য বাসে চড়ে
জীবনানন্দের কবিতার ক্লাসে হাজিরাখাতায় রেড মার্ক পেয়ে পেয়ে
অ্যাবসেন্ট মাইন্ডেড হয়ে গেছে বনলতা সেন

পাঠক, তোমার স্বভাব বাসের সবার চেনা
তুমি বরাবরই মিরপুর থেইকা উঠে
ফার্মগেটের ভাড়া দিয়া নামো শাহাবাগ

পাঠক… সিরিয়াস হয়ে উঠছে বাসের পরিবেশ
তুমি এই বাস থেইকা নামো, ওরা ক্ষেপে গেলে
যে ‘খুন’ দেখে ইতর হাসিতে কবিরে তুমি কতল করতে চাইতে
সেই শব্দই হয়ে যেতে পারে তোমারই ললাটলিখন
শেখ হাসিনাও সামলাতে পারবে না তখন
ফ্যানজ… ডিয়ার ফ্যানজরা করে ফেলতে পারে যা তা

এই যে রাস্তায় যাবতীয় সব নম্বর বা নম্বরহীন বাস
আর বাসের ভিতর যাত্রী তেমন নাই
খালি ফ্যানজ আর তাদের সমীরণ
ভক্ত ভর্তি সংরক্ষিত আসন

আহা… কুল… কুল বেইব… স্টে অ্যান্ড বি কুল
ওকে, ভক্ত তুমি হাফ ভাড়াই দিয়ো

তুমি তোমার লোকাল বাসের ইগো লইয়া নামো, পাঠক
—নামোস না কিল্লায়, এহনতরি
—ওই হালার পো, দেইখা গেছো খাড়ায়া, পাঠক মামদোভুত
—চিনি তোমারে
—শালা, নাম, রাস্তা ছাড় নাটকির পো
—ভাই, সামনে যে আছেন কানের গোড়ায় চটকানি মারেন, নাইলে নামবো নানে।

 

হরেক মরন লভিয়া যে জীবন তার লগে তোমা দেখা হবে নাকো

Cowards die many times before their deaths.  -William Shakespeare

হেই শেক্সপিয়ার,
মৃত্যুর দিকে যাইতে যাইতে
প্রতিদিন অসংখ্যবার
মরণের কোলে ঢলে পড়ি আমি

আমাদের এই আপাত বীরত্বপূর্ণ জীবনের প্রচারণা
যেন লিড নিউজের আড়ালে এপিটাফ হয়ে ঝুলে থাকে

সরি, ডিয়ার ফেলো ইংলিশ ম্যান
আমি পারবো না
আমার পিছু নিছে গুমখুন
তাড়া করতেছে ক্রসফায়ার
আমার বন্ধুরা গান করতেছেন—
‘রান টেরোরিস্ট রান’
আমার মাথার উপ্রে চক্কর দিতেছেন ড্রোন
আর গোয়া মারতেছে ইন্সটলমেন্ট
ফি দফায় কল করতে করতে
বিজি পাইতেছি প্রেমিকার ফোওন

শেক্সপিয়ার, প্রিয় মহাশয়
প্রচারণার ডানায় নিশ্চিন্ত মনে সাহসী পক্ষীর মতন
উড়িতে পারতেছি না
ভীরুভারনত এই দেহ
এনকাউন্টারে লিখে রাখা গেল… একটা বাংলা কবিতা।

 

ফুটবল মহাজগৎ

ফাঁকা মাঠে বল নিয়া দৌড়াইবার তালে
গোলক গড়ানো আনন্দআল্লাদে
তুমি পায়ের আনন্দে দিশেহারা

তুমি এই ফাঁকা মাঠে বল নিয়া দৌড়ের মিথের আদিগন্ত সুখে ঘুমায়ও পড়তে পারো… সকলেই জানে সকলের ঘুম পায়… সকল মিথের ভিতর জাইগা রয় ঘুম… আনন্দআল্লাদে দিশেহারা তুমি গাইতে পারো— পরাণ আমার ঘুম জানে না… জাগা জানে না… এই ফাঁকা মাঠে বল লইয়া দৌড়াইতে দৌড়াইতে… গাইতে গাইতে ঘুমায়ই পড়ছো তো

আর স্বপ্নে তুমি খেলতেছো ইংলিশ প্রিমিয়ার…ওহ ডিয়ার

ফাঁকা মাঠে বল নিয়া দৌড়াইবার তাল কেটে
তুমি সেই তালের অসুখ…
তুমি গোলক গড়ানো আনন্দআল্লাদে পায়ের আনন্দে
দিশেহারা…
তুমি স্কিজোফ্রেনিয়া…

তুমি দৌড়াইতে দৌড়াইতে
ঘুমায়া স্বপ্নে খেলতেছো ইংলিশ প্রিমিয়ার…
ওহ ডিয়ার… ফাঁকা মাঠে তুমি প্রিমিয়ার লিগের গ্লামার…
এই তাল কেটে গেলে, চারিদিকে অ্যামবুশ করে আছে গোলপোস্ট…

এই মাঠে এই ফাঁকা মাঠে
গোলপোষ্ট ছড়ানো চারিদিকে…আর তুমি প্রিমিয়ার লিগের গ্লামার…
সারক্ষণ গোলের প্রহসন… তবে
গোল দিবে না তো কোনো… তুমি তো
ফাঁকা মাঠের প্লেয়ার…
দিশেহারা… তোমার বিপক্ষে কেবল তোমার গ্লামার…
তুমি তার রোগ…
ইনসমনিয়া…
তুমি এই মাঠে কমন স্কিজোফ্রেনিয়া…

তবু ফাঁকা মাঠে বল নিয়া দৌড়াইবার তালে… তুমি তো তোমারই অসুখ…
হুদাই লাল কার্ড খেয়ে বসে এবার দেখো—
সবারই পায়ে পায়ে বল
পায়ে পায়ে সবার আনন্দ
অবিরাম…

—ফাঁকা মাঠে বল নিয়া দৌড়াইবার তালে গোলক গড়ানো আনন্দআল্লাদে পায়ের আনন্দে দিশেহারা

 

হ্যাংওভার

১.

বলো তো মানুষ, তুমি কার ছবি
সর্গের ইতিহাসে তুমি তো পথিবীর—রিফিউজি

যে কোনো কয়েদির মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী, তুমি
নিখোঁজ আইডেন্টিটির খোঁজে নরকের
বিবৃতি, ইন্টারোগেশন সেলের স্বীকারোক্তি তুমি,
সেইসাথে আত্মজীবনীর মিথ্যা।

মানুষ, তুমি ঠাকুরঘর থেকে পুরোহিতের
চুরি করা কলা, অথবা
ইচ্ছাকৃত ভুলে গোসলের কালে রোজদারের
গোপনে গিলে ফেলা জল

তুমি পদ্মপাতার উপর—
অসংখ্য এক ফোঁটা জল
—অ্যালকোহল।

 

২.

আমার কোনো বিরহ নাই, কেবল বেড়া
জীবনীও নাই কোনো, উইথড্রল ছাড়া

হেই তুমি, কেমন আছো—
রাতের কালো অন্ধকার হয়ে গেলে, আমিও
ঘুমন্ত প্রেমিকাকে তোমারই মতন গান গেয়ে বলি
—তোমার ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নদৃশ্যে আমি ইনসমনিয়া

অথচ, এরকমটি হবে না সমীচীন কখনও
সবই একরকম অথবা একে অন্যের মতো

আমার কোনো বিরহ নাই, কেবল বেড়া
জীবনীও নাই কোন, উইথড্রল ছাড়া

বালিকা আমার, রমণী আমার, মহিলা আমার ওগো
বালক আমার, ছেলেটা আমার, পুরুষ আমার শোনো

—আলোতে লুকানো থাকে তারা আর অন্ধকারেও থাকে আলোর ঘটনা

জান আমার, পাখি আমার, সোনা আমার কে রে—
জীবনের এই পান্থশালার বারে
আমি
—হ্যাংওভার