হোম কবিতা সমস্ত বিসমিল্লাহ

সমস্ত বিসমিল্লাহ

সমস্ত বিসমিল্লাহ
788
0

সমস্ত বিসমিল্লাহ


গল্পে বেঁধেছি আঙুর
পিপাসার গুল থেকে সহস্র মালিবা
ফুল ছড়াও মালিনী ঘাসে।
রক্তজবা এই কুহেলি সকাল
পিঠে বাজ ওঠে—চোখমুখ ক্রমশ তাতার।
চক থেকে চকবাজারে নেমেছে
       পাখিদের জলসা জামাত
       ঘুঙুর পরাও পায়ে পায়ে।
সব ঘর মাছ হোক সব আল থেকে
জলমাঝিদের গাউসুল আজম।
আয়ু খেয়েছি তন্দ্রায়। দূর থেকে
শোনা যায় শত আয়াত-জিঙ্গেল।
যে নড়ে মাথাটি নড়ে। তার হাত ঘুরে আসে
এক গায়েবি সংবাদ। পথ খুলে যায়
       লাখো সালাতের প্যারাট্রুপে।

 


জানালায় মায়ামাহুত ঘুরছে বৃত্তাকারে!
কে নামল হাতিপায়ে বলো?
তাকে কবুল পড়াও রক্ত-পলাশীতে।
এখনো কি শেরশাহ থাকে আর
আখরোট খুঁজে হুমায়ূনের কবরে?
জানি বন্দির পায়রা ওড়ে—হাজতের
আর জিহ্বা ছাড়িয়ে পুতুলকে ডাকে।
এ কী! আজো হাড়ের ডুমুরু বাজে
ওমের ভেতরে!
কখনো কি বেদ্বীন ছিলাম আমি?
কোথাও আজান চলে মিনারে মিনারে
আর দাসমুক্ত ম্যাজিক উনিশে।

 


শূন্যে পাঠিয়ে দিয়েছি ঘুড়ি
রক্তবীজ নীহারিকা ঘুরে বায়ুফুলে।
মৌ মধু ডাকাত—একা ছাদের কিনারে
বুকে বিবাহের ঘ্রাণ
খবর পৌঁছাও
জলপাই আর জেসমিনে।
ঘুম যত নিদ্রাদের দলছুট
বাজে বাঁশি আর বাইসন সুতোর গভীরে।
আজ পথ কেটেছি হারাম হারমাদে
দিই দূত কুয়াশার ম্যাগাজিনে।
জাদুকর বোকা আমি—ভাবি
শেষ কাতুর্জের ঘোড়া উড়ে
              শক্রফুলের বাগানে!

 


সবই আগুনলেখা
ইচ্ছা হলো তো জাগল
ফুটল লালের ফুল শাদা নিঃশব্দে।
আর ভোরের বন্দুক সিপাহিদের গুলি
ঘুরে ঘুরে জলকামান পিপাসা ঘরে।
যে থাকার সংসারে থাকার
না থাকার ঋষি
সবই একই টানে ঘুরে—শ্যামদেশে।
আমি চোর আমি চাকু
বসে পড়ি স্বর্ণ তরমুজে।

 


কত হায়াত কচ্ছপে থাকে
আমার সমস্ত জার্নি ছোট বিলপিন
ট্রেন ট্রেনারে বেদম চক্রাকারে
আর বাসে দাঁড়িয়ে কুমারী মেরী!
বিবাহিত নও জানি
তবু আমার বিবাহ তুমি।
মারো গোলাপের গুলি অহরহ
প্রেম এত দুশমন আহা!
টানে শুধু দুদিকের তরবারি।
ব্যর্থ আমল আমার শুধু কর্মফাঁসি
এত আগোরা আপেল চারিদিকে!
আমার তোহফা ছাই
জিহ্বা আর জেনানার পাশে।

 


বলো আর নাই বলো
তার শত করবী সিন্দুকে
এই নিশ্চুপের ভাষা এই নিটোল শামুকচলা
দৌড়ে চলে হরিণের দল
কী তিলোত্তমা!
আমার বিজয় হলো সবুজের লিখনে
লিখলাম তার নাম যে থাকে গোপনে।
পরদেশ হয়ে ভেসে চলে কাপ্তান যমুনা
আহা রাত তুমি শীতের চামিলি
নিদ্রা ঢেলে দিয়েছ
              ময়ূরে ময়ূরে।

 


পাখি থাকো মায়েস্ত্রো উড়ালে
বাজু খুলে ওড়ো
শীতব্রেইল মেঘের স্কুলে!
আমার সোনার বুলবুল আয় গালে রাখি চুমু
মরি আর বাঁচি সেয়ানা মোরগ সময়ের।
আহা কি রমণী এল কচি গলা থেকে!
তিন ত্রিশুল মজমা দেখে বর্শা হানে
বাগানের মালি।
যাও তুমি
বীজ জাগাও কামিনী ফুলে। বেদনার রঙ
এনেছি জন্মের নামে—তার গান
মহিরুহ আজ সমস্ত তল্লাটে।

 


জল  জ্যু-লেখা
চলে ধীর ভাগীরথী
হাওয়া মোজেজা কত দূরে ছোটে!
এই ধীর জঙ্গমের কোরাস গুণে
পার করেছি বসন্ত কত।
মশগুল বলো
বাজি বাজিমাত সব কিছুই উনিশে চলে
আর লাল গজাবে শূন্যের ডালে।
মনে রেখো শিশু এই তারা মাছগুলো
শিকারির কাছে কিভাবে লুটিয়ে পড়ে
আর দূরে পেঁপেগাছ মিউ মিউ করে।

 


ঠাঁই দাও তোমার গোপনে।
পরশ্রী কাতর শুধু জনগণে! নেশা
জানে না পাথরগ্রাম, ঈশনামে
কী জুলুম জ্বলে দেশে দেশে!
কল্পতরু কল্পতরু তোমার জানাজা হোক
মেঘনার জলে।
পথিক এসেছে পলি থেকে
তার পায়ে গুচ্ছ হাঁসের ডেনিম।
সেই ডাকে মায়ামুনিদের মৃত্যু করপুটে
তাদের হিজাজ থেকে তাসবিহ থরো থরো।
আজ শস্য বেড়ে মায়াবী করেছি মাকে
তার মুখেতে জোছনা অবিরত।
নেই আর ন্যাংটা সাধুদের ছায়া
কালি ও কলম থেকে
সমস্ত বিসমিল্লাহ!

 


বিসমিল্লাহ
থেকে সব ফুটেছে কোথাও
গানে গানে গোলাপ লালের
ডোবা বুক কাঁপে ধীবর ও ধী।
আমাকে সাজাবে এইসব ইশক-লিখনে!
কপিফুলে মন দাও
গোপনে আনাজ বেয়ে
শয়তান সাপ মানুষের! সেই ভালো—
শুয়ে শুয়ে তোমার মাস্তানা দেখি।
একটি শিশুর বীজ নিয়ে ফলেছ তরুণী
আর ঘণ্টি বাজিয়ে সিনেমা দম দমে?
কোথাও আকাশ ভেঙে রোদ হানছে দুপুরে
আর মাটি ভেদ করে জাগছে সোনাটা!

 


সমস্তই লীন
আয়না সরিয়ে ঝর্না ঝর্না নাচ।
সমস্ত আমার ছিল সমস্তই ডুবল কালামে
আর ছায়া-বাক্কাসের সুর লম্বা পিরহানে।
সমস্ত দুপুরে কেয়াদের কথা বলি
সব ছবি সরে যায় দেয়ালের পারে!
সবই চোখের ধূলি আশা বাজানোর বুলবুলি।
সেই জাদু, পাখি আজ ডালেতে সোনালি
এই আগমন আমার কি মন?
যত অ্যামিবা পড়ুক নিজদেশে।
সবটুকু আলো আলেয়ার নামে
অন্ধকার শাদা
যেই শান্তি উড়ে আগুন ফুড়ালে
সেই রূপ দেখে মজনুন আমি
লাইলি সকলে!
আমাকে পাগল করে কোন অপরূপে।

 


বুড়ো আর ইবলিশ ঘুমিয়ে থাকে
আর ঈগলের ডানা দেখে মধু পদ্মপাড়ে
আরো মোম পোড়ে—নৌকায় নৌকায়।
যে আসবে তার শরীরে কি বিষ-তির, ধাঁধা?
তুমি শুধু লিখো গান ঘাসে ঘাসে
জ্বলবে মানবী ঘুমাবেনা রাতে।
চোখ খুলে দেখবে সমস্ত সা-রে-গা-মা!
একি খেয়াল দয়াল খেলাজ্ঞানে
আজো বুঝে নাই তোমার ওয়াদা, পরাধীনে।
পরবেশে ঘুরে দেশে দেশে
জলডোরার বিষ মাপে পূজাপ্রেম বাদশাহে
জানেই না কী সংবাদ নিয়ে আসে
              প্রিয় মুসাফিরে!

 


ঢাকা টু সিডনি মৌন অ্যারোমাতে
যমুনা জেগেছে মারি ডার্লিং-এ
মাথা উঁচু—মেঘবাজ নীল লিরিকের
ভুলে রাখি আজ বালুমাখা বল
দুপায়ের আঙুলের মিতস্বর
সেই গ্লুতে লাগে ডানা ও ফড়িঙ।
তবুও তো রেশমের
ওড়না পেচায় খোলা শরীর আমার
আর চোখে থাকে সিজদা ও সংঘাত।
কবে তোমাকে চিনবে বায়বীয় হারেমের দল?
দূরে
অপেক্ষার নৌকা বেয়ে বারামুণ্ডি নড়ে
আর বিসমিল্লাহ বলে সমুদ্রে পড়ে।

 


বিজয়ের তিলক পরি
বুকে লক্ষ আয়াতের-তোড়া তাসফির।
কাহা করে হাওয়া জাগল
শেষ গোলামের ঘরে।
পাখি দাও, রিক্ত রাস্তার ওপারে
ফুটে চলে ভাষা ও ভাষার পিলজুস।
ভাষাহীনতার স্বদেশ আজ এই গুপ্ত পলায়ন
পথের ধুলোরা জানে।
সব সময়ের নিদ্রা ফুটল ঘাসের বুনিয়াদে।
দিকে দিকে মোমের দরগা খুলে গেছে শান্ত
                     অহিফেনে।
কে আসবে মেঘফল নিয়ে
কে আসবে জলঘুড়ি হাতে?
তাদের পয়সা দাও
তাদের জাহাজ দিয়ে বানাও কফিন!

আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ

জন্ম ০৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫; কিশোরগঞ্জ। পৈর্তৃক নিবাস: রায়পুরা, নরসিংদী। ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স), এমএ।

পেশা: ইংরেজির শিক্ষক, নাভিটাস ইংলিশ ফেয়ারফিল্ড কলেজ, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।

প্রকাশিত বই :
কবিতা—
সিজদা ও অন্যান্য ইসরা [চৈতন্য, ২০১৬]
ক্রমশ আপেলপাতা বেয়ে [চৈতন্য, ২০১৫]
নো ম্যানস জোন পেরিয়ে [শুদ্ধস্বর, ২০১২]
জল্লাদ ও মুখোশ বিষয়ক প্ররোচনাগুলি [নিসর্গ, ২০১২]
শাদা সন্ত মেঘদল [নিসর্গ, ২০১১]
গানের বাহিরে কবিতাগুচ্ছ [নিসর্গ, ২০১০]
পলাশী ও পানিপথ [নিসর্গ, ২০০৯]
বাল্মীকির মৌনকথন [জুয়েল ইন্টারন্যাশনাল, ১৯৯৬]
শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ [জুয়েল ইন্টারন্যাশনাল, ১৯৯৫]

গদ্য—
কবিতার ভাষা [চৈতন্য, ২০১৬]

ই-মেইল : abusayeedobaidullah@gamail.com

Latest posts by আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ (see all)