হোম কবিতা সক্রেটিসের স্নায়ুগাছপালা ও কিউবিক সাপ

সক্রেটিসের স্নায়ুগাছপালা ও কিউবিক সাপ

সক্রেটিসের স্নায়ুগাছপালা ও কিউবিক সাপ
584
0

❑❑

খইরঙা আকাশ ঝুঁকে পড়ছে হৃষিকেশদাদের পুকুরে। ছিপে গেঁথে থাকছে বিকেলের খতিয়ান।

তৈমুর লঙের কথা একটি গল্পে লিখতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি খোঁড়াদের অনুভব, ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে পাখিটি ডালপালা ছুঁয়ে নিচে পড়ে গেলে বুকের পাঁজর দুরমুশ

স্তব্ধ নায়িকার সালোয়ারকামিজ। গন্ধনেশা। শিলংপাহাড় আস্তে আস্তে খুব কাছে এসে দাঁড়ায়, ঘাড়ে গরম নিশ্বাস


❑❑

কোথাও যাওয়ার নেই। সময়গুলো নিতুশ্রী ভাঁজ ক’রে রাখছে ওয়ারড্রবে। রঙিন পাল্লাজুড়ে গথিক ভাষা! আমার ট্রাইব্যুনাল হ’ক। ব্লেড ছুড়ে দাও আল বরাবর

পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট হাতে সঁপে দিয়ে তোমাকে ফেংসুই শেখাই, পর্দা কেমন হবে, কোনদিকে জানলা খোলা, আয়নার অবস্থান, বেডের কোনদিকে ফুলদানি,  বেরোবার রং কী রাখব


❑❑

কিছু কিছু অনুভবের খোলস থাকে, খোসা ছাড়াতে হয়, খোসা তুলে বুঝতে হয়। অনুভবকারী বুঝতে পারে না, কী হ’লো কেন হ’লো, এত্ত নুন কোথা থেকে এলো সফেদ জলে। নিজেকে ছুঁতে হয় আমাজন হাত দিয়ে। দিগন্ত ছোঁয় অক্টোবরের ফসিল। চারিদিকে খুশি খুশি জলপ্রপাত, শুধু ঝরে ঝরে সমতল গিলে খাচ্ছে, পুজো কবে, কী শাড়ি নিলে পুজোতে এবার


❑❑

গুহামুখ থেকে পালিয়ে আবার অন্যগুহায় সেঁধিয়ে যাচ্ছ। আলতামিরা নাম তোমার হতে পারত, হয় নি। পাতার পোশাকে উল্কি আঁকবার চেষ্টা বিফল হলে প্রতিশোধস্পৃহা জেগে উঠছে। উঠুক। পাতাদের অভিমান থাকতে নেই। পাতারা তো নারী, আগলে রাখে পুরুষগাছ। পাতাদের হাতে আশ্চর্যরেখা, রেখা বরাবর বসতবাড়ি সেজেগুজে ওঠে, পাতারা নারী হয়ে যায়


❑❑

বুকের নাম তখনও বুক হয় নি, বুকের আদি নাম ছিল আশ্রয়। আগ্নেয় যুগে বুকের নাম ছিল সরাইখানা।  জায়গা দাও জায়গা দাও প্লিজ, জলে ভাসাই পাথর অতলস্পর্শ। বিদায় জানাতে এলে পাখিরা কেঁদে ফেলছে, দশমীতে কী রাঁধবে বলো, কলিজা। বুক। নাকি গোটা হিমশৈল।

তামাম আশ্রয় থেকে নাবিকেরা ভাসান চাইছে, ভাসান দাও


❑❑

কত্ত বৃষ্টি হ’লো বলো এই ক’দিন। সব ভিজে গেল সব সব। স্কুলমাঠে জল, ওখানে নবমীতে মেলা হয়, চুড়ি মালা দুল লিপস্টিক জিলিপি।  বিনয় মাস্টার কড়া ভাজা জিলিপি কেনে বাড়ি ফেরে। ওই মেলাতে বান্ধবী অন্তর্বাস কেনা শেখে, গোপনে হাসতে শেখে, বাইরে সূর্যালোক শালিকের পিঠে আছাড় খায়। কত্ত বৃষ্টি। ভুল জমে জমে রান্নাঘর। পাতুপাল আনে চাল। বৃষ্টি ধুয়ে যাচ্ছে দশমীর মাদারিহাট


❑❑

খুশ থাকো আর্কিটেক্ট। স্বখুশহাল বয়ে যাও গভীরতম। তুতেনখামেনের নাকি মমি হওয়ার ইচ্ছে ছিল না। তুমি কি চাও রোশনাই, আলো আলো দাম্পত্যপথ। ঘোর কেটে গেলে হতে চাইছ অক্টোপাসের মমি।

পা নাড়াতে নাড়াতে আবহাওয়া বদল চাইছ। চা-বিস্কুট দাও, বিকেল ঘুরে বসছে বেড়ালের পায়ে। ছাপোষা বেড়াল তাড়াই, সন্ধে নামুক আশপাশের গায়ে গায়ে

আজ কি বেরোবে, চলো, ছেলে ঘুমোলে এক্ষুনি ব্রিজ পেরিয়ে যাই, বেড়াল দেখে ফেলবে নয়তো


❑❑

স্বরবর্ণের মতো অপরিহার্য হয়ে আসছ বাক্যে। রচনা লিখতে লিখতে হা তাকাচ্ছি। ঘরকন্না সেজে উঠছে, পাতাবাহার গাছে কোন পাখি। বাড়ির সামনে জল জমলে মনখারাপও জমে। চারদিকে আলোফুল নিভে যায়। বারান্দায় জিরাফের বিষাদ। উঁচু হয়ে আছে ক্রমশ ক্রমশ।  ঘূর্ণাবর্ত চেখে দেখছে তুমি কতটা নুনজল

বিশ্বজিৎ বর্মন

জন্ম ১২ মে; ১৯৮৫। উত্তর রাঙ্গালিবাজনা, মাদারিহাট, আলিপুরদুয়ার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

শিক্ষা : স্নাতকোত্তর। নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি। ইংরেজি বিষয়ের সহশিক্ষক।

প্রকাশিত গ্রন্থ :
পিথাগোরাসের ভূখণ্ড [কবিতা, চারণ প্রকাশন]

ই-মেইল : biswabarman30@gmail.com

Latest posts by বিশ্বজিৎ বর্মন (see all)