হোম কবিতা শাহ মাইদুল ইসলামের কবিতা

শাহ মাইদুল ইসলামের কবিতা

শাহ মাইদুল ইসলামের কবিতা
252
0
11263859_943607305684391_1491397234_n
অলঙ্করণ : সারাজাত সৌম

 

দাঁড়ালে আমরা বৃক্ষ হয়ে যাই না

দাঁড়ালে আমরা বৃক্ষ হয়ে
যাই না

দুলে উঠলেই বৃক্ষ হয় না মানুষ
বৃক্ষের দোল খাওয়া মানুষের মুখ নাড়া হুবহু নয়

মানুষের নড়ে যাওয়ায় যে অজুহাত সে আশ্চর্য অজুহাত
মানুষে
দাঁড়ানো বৃক্ষেরা সমুদয় জেনেও চুপ দাঁড়ানো বৃক্ষেরা সমুদয় জেনেও চুপ

হায় বৃক্ষ
মানুষের মুখ
বৃক্ষ না হওয়ার কারণ ততটা নয় যতটা তার মানুষ হওয়ার

প্রিয় সব বিশ্বাসঘাতকের মুখ মানুষের মুখের মতো অবিকল
অবিকল

মানুষ দাঁড়ালে তাই ঈষৎ বিভ্রমের সৃষ্টি হয়
যেন

 

ক্ষোভের কথা

সূর্য উড়ছে…
প্রতিটি দিক অপর প্রতিটি দিকের দিকে হা-মুখ করে তাকিয়ে
দাঁতাল হাঙর মুখ
সব

আটাশ বছর পূর্বে পৃথিবীটা ছিল বলে সন্দেহ করি, মা!
মা বলল: আমায় দেখ?

—আটচল্লিশ বছর পূর্বে পৃথিবীটা ছিল না বলে তুমিও  সন্দেহ করতে পারো,
মা।

মা, আমার মা স্মিত হাসলে…
প্রতিটি দিক অপর প্রতিটি দিকের দিকে তাকিয়ে

 

যুবক, ঘুম স্বপ্ন

ঝাঁ চকচক রাত্রির তলায় যুবক।

গুমোট ঘুমের থেকে স্বপ্ন দেখল, ঝাঁ চকচক রাত্রি আরও এক। তীক্ষ্ণ তার চোখে নিজেকেই রাত্রির তলায় ঘুমিয়ে থাকতে দেখল। ভাবলো, থাক বেচারা যখন অমন ঘুমিয়েই আছে।

হুবহু নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মনে হলো তার, ঘুমিয়েই আছি যখন, যখন এই অদ্ভুত স্বপ্নই দেখছি, এক কাজ করি না কেন, দেখি না আমার এই ঘুমন্ত আমিটা ঘুমিয়ে ঘুমুচ্ছে কেমন?

সে তার অন্য আমির ভেতর সেধিঁয়ে দিল নিজেকে। তীক্ষ্ণ তার চোখে ধরা দিল ঝাঁ চকচক রাত্রি আরও এক।

সেই একই আমি মূর্তি শান্ত ঘুমিয়ে ওখানে। সেই ঝাঁ চকচক রাত্রি। ভাবল যুবক, থাক এই বেচারাও যখন অমন ঘুমিয়েই আছে। আবারও তার মনে আসলো, এর অভ্যন্তরেও কি সে প্রবেশ করবে? দেখবে নাকি ওখানেও অন্য আমিটা কেমন শান্ত-শান্ত ভাব নিয়ে ঘুমিয়ে আছে!

অন্য আমির ভেতরেও নিশ্চয় আরো এক অন্য আমি আছে, তার ভেতরে আর এক, তারও ভেতরে আর এক, এভাবে অসীম সংখ্যক আমি’র দিকে নিরূপায় ধাবিত হলো সে। ঠিক তখন-ই ঝাঁ চকচক রাত্রির তলার থেকে এক ঘুমকুকুর তারস্বরে খেঁকিয়ে উঠলে।

…ঘেউ ঘেউ!

পিলে চমকে গেল, যুবকের! নিদারুণ ক্ষেপে গিয়ে যুবক ঘুমকুকুরের সন্ধানে ত্রস্তে বেরিয়ে পড়ল, আর আপনমনে গজরাতে লাগল এই বলে, ‘মরার কুকুর আমাকেই ঘুমচোর বলে ঠাওরালে অবশেষে!’

 

নিস্পৃহ

সাপ আর বিচ্ছুর বিষে মুখে ফেনা ওঠে না।

হৃদয় বিবশ, এখন—

লাল মড়ক! শব বয়ে বয়ে ক্লান্ত বাহকেরা নিবিষ্ট

নিদ্রায় ঢলে পড়ে। হৃদয় বিবশ, এখন—

ভ্রষ্ট হয়ো না। অথবা কী পাবে সান্ত্বনা মরণে, নিশ্চিত

শয়তান! হৃদয় বিবশ, এখন—

আগুনের সেকেলে কারখানা এই শিশুতোষ নরক।
কারখানা আগুনের! হৃদয় বিবশ, এখন—

চাই কিছু? মদ, গাঁজা অথবা বেশ্যার খামার?
হৃদয় বিবশ, এখন—

উন্মুক্ত চোখে লালের আধিক্য! লাল লালের দিকে।
হৃদয় বিবশ, এখন—

স্পর্শ করে রাতের নিষিদ্ধ অঙ্গ? ভাঁড়ার ছিঁবড়ে পান
করো, মৃত্যুর মদিরা! হৃদয় বিবশ, এখন—

 

করতালি

এই করতালি, আঘাতও
বৃত্তদলকিশোরী অপার অপার
মুখআলো হয়ে পটকার মতো ফুটছে,
শব্দ
ত্রাসগোলাপের মতো ফুটছে

কোন সব হলুদ বাঘিনী, লাগছে
ভেতরে ও বাহিরে—
ওখানে ও এখানে, তারা গোল হয়ে
ঘুরে ঘুরে বাজছে, ঘুরে ঘুরে বাজছে

**
ফের, করতালি
বাড়ছে শ্লথ ভঙ্গিমার পা ও পথ
পাথর ভারি জুড়ে মুহুর্মুহু ডিনামাইট
ফাটছে,—
অক্ষত শব, সবে

শাহ মাইদুল ইসলাম

জন্ম ২০ জুন ১৯৮৬।

প্রকাশিত বই :
ঘোড়া ও প্রাচীর বিষয়ক [কবিতা; তিউড়ি প্রকাশন, ২০১৬]

ই-মেইল : shahmydulislam@gmail.com

Latest posts by শাহ মাইদুল ইসলাম (see all)