হোম কবিতা শামশাম তাজিলের কবিতা

শামশাম তাজিলের কবিতা

শামশাম তাজিলের কবিতা
729
0

 

 

অলৌকিক গল্পের পাহাড়

গ্যাব্রিয়েল ঘুমিয়ে গেলে নির্জনতা ভেঙে এক বুড়ো ঢুকে পড়বে স্নানের ঘরে।
অন্যমনস্ক তুমি বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে উড়ে যেতে থাকবে অনন্ত
ঢেউয়ের ভেতর।
কলের পানির শব্দ ঝরবে টুপ টুপ;
আর ভিজে যেতে থাকবে ছাদ, দেয়াল, ঘুমোবার ঘর।
পানির সঙ্গে ভেসে আসবে মৃত মানুষের কান্নার দমক।
গ্যাব্রিয়েল চুপচাপ শুয়ে শুনবে গাঙচিলের চিৎকার, ছায়াহীন উড়ে যাওয়া দেখে ফিরে যাবে
গল্পের কথক।
বৃষ্টি থেমে যাবে মধ্য আকাশে, তারার ফুলকি জ্বলবে তোমার চোখে।
ওদিকে অভিমানে কাতর হবে নতুন প্রেমিকা, গ্যাব্রিয়েলের ঘুম তবু ফুরাবে না।
তাঁর পাগলি মাঝ রাস্তায় বক্তৃতা দিতে দিতে জড়ো করবে মানুষের কলস্রোত।
মুরগি চোর ভেবে খুন হয়ে যাবে তোমার প্রেমিক; গ্যাব্রিয়েলের হাসি থামবে না।
গোঁফে তেল দিতে দিতে এক প্রস্থ ধূমপান সেরে নেবে।
তুমি সম্মোহিত উড়ে যেতে আছ কেবল|
তাকিয়ে থেকে চোখে বধিরতা নেবে এলে আমিও তলিয়ে যাব বিষাদাত্মক বেশ্যার উরুতে মুখ গুঁজে।
পতনের সিঁড়ির গোড়ায় হাসবে আজাজিল।
উঠোনে রাত জেগে দাদি উন্মোচন করবে তার জীবন, ডেকে উঠবে অচেনা পাখি আর বিষাতুর গাঙচিল।
তোমার প্রেমিক তলিয়ে যেতে যেতে
বাড়াবে হাত।
তাকিয়ে দেখবে গল্পের ভেতর কেটে গেছে রাত।


রাজনীতি, আপন মাহমুদের কবিতা আর কুস্তি বিষয়ক স্বপ্ন

আমি আপনাদের এই সব খেলা দেখি, আবুল বারাকাত।

তার আম্মা টিফিন ক্যারিয়ারে করে ফারুক ওয়াসিফের জন্য খাবার পাঠান, ওতো বাড়িতে থাকে না।
শরীরটাও দুর্বল, তবে ছাত্র ভালো!

আমি বসে বসে এই সব দেখি।

আপনারা কুস্তি লড়েন, খেয়ে খেয়ে ফারুকও আজ পালোয়ান।
খাইতো আমিও; মা আমার জন্যও পাঠাতেন ঘরে বানানো বিস্কুট, মোয়া, লাড্ডু।

ইস্কুলে রোল তিনের নিচে নামে নি কোনো দিন,
কিন্তু ভালো ছাত্র কী জিনিস এই জীবনে দেখি নি।
ফারুক আজ কুস্তি লড়ে, গা উদাম করে, পেশী ফুলিয়ে ডাকে: আয় কে লড়তে চাস? আয়…

আর ঠিক তখুনি আম্মার ডাকে ঘুম ভাঙে।
‘ওঠ, আজ ক্লাশ আছে না? কলেজে যাইবি না?’
আমারও মনে পড়ে ছাত্রদের পরীক্ষা নিতে হবে।

ভালো ছাত্র জীবনে দেখি নি।

আমিও কুস্তি লড়ছি বারাকাত। ফারুককে ঠিক মতো খাওয়াবেন,
আমার এই অনুরোধ ভুলে যাবেন না যেন।
—আপন মাহমুদ না হয় কবিতা লিখতে লিখতে মরেই গেলো!


উন্নয়ন

বৃষ্টিতে জমেছে জল

রাস্তায় গাঁ ধুয়ে নিচ্ছে হাঁস

একটি শিশু দেখছে টলমলে পুকুর


বিপরীত কামশাস্ত্র

ভরাপেটে মিলন হানিকর;
বলেছেন বাত্‍স্যায়ন।
একথা শুনে কলিমুদ্দিন কয়:
আমাগো ঘরে ভাত নাই,
তাই
বউরে ঠাপাই।
হাড়জিরজিরে বউ আমার,
একান্ত আহার।


শঙ্খ

বুকের ভেতর শঙ্খ বাজে
রাত্রি ঘনায় চোখের কোণে
বৈতরণি মাঝির আড়াল
পলক ভোলে নারীর লাজে

দৃষ্টি গাঁথা চোখের আড়ে
বিধুরতা ছড়ায় খেয়াল
কুজ্ঝটিকার অলীক বেনী
তুলছে ফণা রঙবাহারে

শাখের ডংকা যত্রতত্র
লক্ষ্মী পাওয়া এতোই সহজ?
নিদ্রা থেকে এ মৃত্যুকে
আলগা করে ভুর্জপত্র

সরস্বতী মন্ত্র দিলো
কুলায় ফেরে মুগ্ধ গরুড়
বিষ্ণু বাজায় সা রে গা মা
স্মৃতির সঙ্গে অন্তমিলও

শঙ্খে বাজে বজ্রনিনাদ
শব্দ হলে গর্ভবতী
ক্রৌঞ্চী কাঁদে ব্যাধের শরে
সরস্বতী বাড়ায় দুহাত

যেই বেদনা তাহার বুকে
অনপনেয় দাগ ফেলেছে
কবির মর্মে ঐ শরাঘাত
কাব্য দিলো বল্মিকে

শামশাম তাজিল

জন্ম ১ এপ্রিল, ১৯৮৪; বি-বাড়িয়া, চট্টগ্রাম।

শিক্ষা : ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : একটি বেসরকারি কলেজে প্রভাষক হিশেবে কর্মরত।

প্রকাশিত বই :
আদম পাহাড় [কবিতা, তিতাসনামা, লিটলম্যাগাজিন, ২০১৬]

ই-মেইল : shamshamtajil@gmail.com