হোম কবিতা লাল পিঁপড়ে

লাল পিঁপড়ে

লাল পিঁপড়ে
377
0

❑❑

ভালোবাসি না বলে উপেক্ষিত মাছগুলো পুষে রাখ বোতাম-ঘরে। তাদের মতো আমার লক্ষ্য ঈগল স্বভাব নয়।  উৎসর্গপত্র লিখব বলে বসে আছি পাথরের ওপর, রানওয়েতে রাখা একখণ্ড কাপড় শুকালে চলে যেতে পারি লোকালয় ছেড়ে অন্ধকারে। মেঘের মুখোমুখি দাঁড়ালে আমার নির্ঘুম দৃষ্টি পাইনবন কিংবা পাহাড় ছাড়িয়ে চলে যায় ধূধূ জলে। একদিন সময় পেলে মুখোমুখি দাঁড়াও আমলাদের। প্রশ্ন করো, এই যে ধানক্ষেত ভর্তি কর্পোরেট হাত দ্রুত ছিনিয়ে নিচ্ছে প্রপিতামহের বিশুদ্ধ আয়োজন, বাতাস ভর্তি সীসা, পাহাড়গুলো দখল করে নিচ্ছে লাল পিঁপড়ে, অতঃপর আমার সন্তানেরা কোথায় দাঁড়াবে?


❑❑

তোমার চেয়ে সাঁকোটা প্রিয়। পুকুর ঘাট, প্রাচীন দেয়াল। এমনকি পোড়া মাংসখণ্ড। ওরা তোমার মতো সন্দেশের লোভ দেখিয়ে আঙুর ক্ষেতের দিকে টানে না। আঙুরক্ষেত মানে অসহিষ্ণুতা, আঙুরক্ষেত মানে নিশিডাক।


❑❑

আজকাল জানালার পাশে দাঁড়ালে শুনতে পাই, গুজব বৃক্ষের হর্ষধ্বনি। এই যে দেখ, আমার করতল ছুঁয়ে আছে অনুপস্থিতির বিষদাঁত। তুমি এবং মাতালদের কোলাহলে তন্দ্রাহীন রাত কাটে। সরে দাঁড়াও, বৃষ্টির মতো আমি আলিঙ্গন করতে চাই লরেল বৃক্ষকে।


❑❑

দূরপ্রবাসে বৃষ্টির চেয়েও স্মৃতির গন্ধে দূতিপনা। এই কদম বৃষ্টিতে ভিজে সাক্ষ্য দেবো না তোমার মরচে ধরা পায়ের ছাপ।

কেউ যদি চলে যেতে চায় তার জন্য খোলা রাখি দরজা।

কোনোদিন ছাতা হাতে সন্ধান করি নি ভ্রষ্টাচার কিংবা রাস্তা। সব রাস্তায় আষাঢ় নামে। তবুও শিখা চিরন্তনীর পাশে শকুনে খাওয়া আকাশটা জ্বলে যায় ক্রোধে এবং ঘৃণায়।

আত্মমুগ্ধ এক নাবিক ফিরে গেছে বাণিজ্য জাহাজ নিয়ে। অপেক্ষা শেষে রমনার ফাঁকা বেঞ্চটি হয়তো খুলে নিয়েছে আমাদের যুগল ছায়া।


❑❑

অন্ধকার থেকে উৎপন্ন নয় তবে হুমকিস্বরূপ
সেখান থেকে জন্ম, উদ্ভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি
যেন শরীরটাই একমাত্র আশ্রয়,
না হলে মধ্যরাতে ওভাবে কেউ কাঁদে? কেউ মারা যায় নি
বাড়িঘর সব ঠিকঠাক, চাকরিটাও।
কান্না এক সন্ত্রাসবাদ।  ভালোবাসা এক পণ্যবাহী গাড়ি।
এক বিপর্যস্ত সন্ধ্যায় শুয়ে থাকো পদ্মপারে, ইলিশের ঝাঁক এসে
নিয়ে যাক ভুলভ্রান্তি।


❑❑

বিশ্বাস ভাঙার পর বুঝি ক্ষমাহীনতা অনর্থকভাবে টেনে আনে জটিলতা।

কোনো কোনোদিন বসে থাকি ভাঙা সিঁড়ির ধাপে। মনে পড়ে, রেজিস্ট্রিহীন দিন। অদেখা দিঘি। আরো মনে পড়ে চতুর কুকুরের দাঁত, তেলাপোকা, তেলচিটে বিছানা।

কেন মনে রাখি নিমগাছ? কেন ফিরে ফিরে যেতে হয় বিবর্ণ নির্ঘুম রাতে, যেখানে একজন শুয়ে আছে নগ্ন, তাকে জাগাতে চাই। সে ঘুমিয়ে আছে স্বর্গবাসী প্রপিতামহের মতো। তাকে বলতে চাই, এইসব আর্তচিৎকার, ডুমুরফুলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান দুরারোগ্য ব্যাধির পর্যায়ে। তবুও চাই  দরজা, জানালা খুলে কিছুটা বন্য বাতাস ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে তুমি পূর্বজন্মের বৃষ্টিগান গাইতে পারো।

বিশ্বাস ভাঙার পর বুঝি এখনো ক্ষুধার্ত। আমি একহাতে ছুঁয়ে আছি কীটনাশকের শিশি।


❑❑

তোমার প্রিয় মাছের নাম প্রবঞ্চনা। যারা ফানুস খেলায় দক্ষ তারা বুঝি তোমার ললিতা?

অভিশপ্ত পথের বাঁকে ফেলে এসেছি নূপুর। কুড়িয়ে নাও জন্মান্ধ রাত্রি। জোরে করতালি হোক। অন্ধকার পেলে নাকি পাপী পাখিরা কাঁদে? তুমি কি মাংসের লোভে হেঁটে এসেছিলে অতদূর? মূক আগুন জ্বলছিল, নিজেকে পোড়াবার আয়োজনে কতই না দীর্ঘ মেঘের ছায়া।

আজ যখন একাকী তখন শিকড়ে টান লেগে গড়িয়ে পড়ে গতরাত্রির নির্যাস।

রোমেনা আফরোজ

কবি
জন্ম ২৯ নভেম্বর, ১৯৭৯; চট্টগ্রাম। পলিটিক্যাল সায়েন্স-এ এমএ করেছেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং-এ এমবিএ করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম থেকে। পেশায় ব্যবসায়ী।

প্রকাশিত বই—
হরিণ কাঠের নৌকা [কবিতা, ঘাসফুল, ২০১৪]

ই-মেইল : afroze.romana@yahoo.com

Latest posts by রোমেনা আফরোজ (see all)