হোম কবিতা রুবেল সরকারের কবিতা

রুবেল সরকারের কবিতা

রুবেল সরকারের কবিতা
557
0

অপর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য…

প্রমাণ দূরত্বে রেখে আসি বিপরীতগামী আয়ুরেখা—
সমূহ মৃত্যুর কোলে কিছু ব্যাধি অবশিষ্ট থাকুক;
কিছু কাল কাটাকুটি যাক জরায়ু পৃষ্ঠায়;
শুকনো খড়ের মতো ভিজে যাক মাঝরাত্তির…
ঝরুক কৌটো ভরা রঙ খেয়াল ডিঙিয়ে;

গ্রহণের বারবেলায় লিখে রাখি বর্জনীয়া মন্ত্র—
লড়ে যাক বাঁজখাই, নীলের নিখিল ভেঙে যে যার নিয়মে;
সন্ধ্যামালতি হাতে গায়ে মাখুক বিলেতি পারফিউম;
ঠোঁটে বাজির আসর জুড়ে সয়ে যাক ঘাত-প্রতিঘাত;
চরম বিস্ময়ে আজ থেকে কেউ কেউ খুনিই সাজুক!

রকমারী সুখে অথবা অসুখে
আজতক কেউই তো কথা রাখলোনা…..


উধাও নদীর গর্ভে

“উধাও নদীর গর্ভে বিমূর্ত শব্দের ত্রাস,স্রোতের অহং;
তদ্ভব ঢেউয়ে আধখানা জোয়ারের ফণা,
আধখানা ভাটার গলদ;
অভ্রবেদী চরে পৃথক বালির বুকে ত্রস্ত কাঁপন,
নগ্ন অভ্যুত্থান;”

—এটুকু বোঝাব বলে চোখে ফাঁদ পেতে রাখি,
নখে পালক লাগাই;

‘হাঙর’ ‘হাঙর’ বলে-কারা যেনো চিৎকার জুড়ে দেয়;
তন্ত্র-মন্ত্র-গীতে ভেদ করে যমজ প্রাচীর।

আঙুলের ভাঁজে ধরি জলরঙা সুঁই;—কাঁপাই আঙুল;
সুঁই জানে সাঁতারবিদ্যা যত যত ডুব কৌশল।

সুতোসব নৃত্যে নৃত্যে আঁকে পাতার উঠোন,
ঊণো ফুলঘর…

সুঁইয়ের জখম ভুলে কিছু জল নদীমুখো হয়;
কিছু যায় দেবতার পায়ে—শব্দস্নানে……

ফুলঘরে উধাও নদীর গুমকাহিনী—জল-পদাবলী।
পাতার উঠোন জুড়ে হাঙরের ছল—দূর-জঙ্গনামা।

পুনশ্চ,
এটুকু বুঝেছ কিনা বলো:
“উধাও নদীর গর্ভে আধখানা সুঁইয়ের প্রচ্ছদ
আর আধখানা জলের ছায়া…”


উত্তর অরণ্যে

উত্তর অরণ্যে সেই যে হারালো বেদেনির নাকফুল, আজও তার মেলে নি হদিস। আর, সেই নাকফুলের খোঁজে কত শত গ্রাম যে পুরুষশূন্য হলো, কত নারী ধ্রুব হলো বৈধব্যে—তা কেবল হরণ দেবতাই জানেন। ঘোরের পয়ারে তালুবন্দী সুখ কবে যে লুটে নিলো মৌয়ালের আলেখ্য রজনী, কেড়ে নিলো গয়ালের ধীবর সন্ধ্যা—তা কেবল দেবী পোতাশ্রয়ীই ভালো জানেন। কিংবদন্তী আছে—ঈশ্বরও একবার সমুদ্র মন্থনে এসে নাকফুলের নেশায় বুঁদ হয়েছিলেন উত্তর অরণ্যে; সেই থেকে ঈশ্বর আজো হরণ আর পোতাশ্রয়ীর খোঁজে নিরুদ্দেশ…।

একবার আমিও জন্মের সব আশ্চর্য ডিঙিয়ে ফুল-গোখরার বিষে নীল হয়েছিলাম ঐ উত্তর অরণ্যে।


ধাঁধা

মুখোশের আড়াল হ’তে শূন্যে তুড়ি ছোড়ে আরো কিছু দীর্ঘ মুখোশ; চোখ খালি হয়—
এক একটি মুখ দৃশ্য থেকে সরে সরে যায়।

ড্রয়ারে জমিয়ে রাখা অতীত চিহ্নগুলো ঘুমিয়ে আছে বহুদিন; ওদের জাগানো বারণ।
দু’একটি নিথর পতঙ্গ পাপ ও মুক্তির বন্দনায় দুলে দুলে ওঠে;

কত বিচিত্র মৃত্যু দেয়ালে ঝোলানো আছে ঘড়ির মতো—চিরস্থির; অথচ কেন জানি লাটিমের মতো পাক খায় মগজের কোষে—যতো বিচিত্র প্রস্থান…

ঘুরে ঘুরে আসে সব, ঘুরে ফিরে পাশে!


 এপিটাফ

এই মথিত বসন্ত,যজ্ঞের ওম—ছোঁবে না লাস্য গ্রীবা
প্রজাপতি হ্রাস পাবে শকুনের ভীড়ে;
কেউ আর চোখে পট্টি বেঁধে সমুদ্র ছোঁবে না, কবি।

বাজারি ড্রইং থেকে চিমটি কাটা রঙ
একে একে নিলাম হবে; রুটির আরেক নাম অস্ত্র—
রটে যাবে, রটে যাবে!

শামুক চিনেছে জাইলেম; বোবাও ছেড়েছে শেয়ার
শ্যাম রাখি না কুল—এই ভেবে স্মৃতিও রদ হবে;
রেণুর বেদনা জানে কীট; আঁতাতে সাম্য-আলবেলা
লাশের পরিধি মেপে যুগপৎ জারণ-বিজারণ লীলা!

কেউ আর বুকে প্রেম গুঁজে মানুষ হবে না, কবি।

rubelsarkar@gmail.com'
rubelsarkar@gmail.com'

Latest posts by রুবেল সরকার (see all)