হোম কবিতা যৌথ কবিতা : খরস্রোতা আত্রাই পুরুষের ছাই

যৌথ কবিতা : খরস্রোতা আত্রাই পুরুষের ছাই

যৌথ কবিতা : খরস্রোতা আত্রাই পুরুষের ছাই
1.69K
0
এ পত্রালাপ নয়, কবিতাকথন হয়তো। কবি রুহুল মাহফুজ জয় ও কবি ফারাহ্‌ সাঈদ সেভাবেই লিখেছেন একগুচ্ছ কবিতা, নাম দিয়েছেন ‘খরস্রোতা আত্রাই পুরুষের ছাই’। ‘যৌথ কবিতা’র এমন আয়োজন পরস্পরে এই প্রথম…  

 

রুহুল মাহফুজ জয়

চুল ও রেশমের কোনো দুঃখবোধ নাই
বাতাস লাগলেই উড়তে পারে

চুলজন্মে
নারীর মাথায় বিনুনি হলে
রেশমজন্মে
হাওয়াগীতে হই উদ্ভ্রান্ত শাড়ির আঁচল

চুল ও রেশম যেখানে সাঁকো
শরীরে রঙিন সুতো জানে তুঁত ঘিরে বাঁচে
কতটা পোকা আর স্পর্শকাতর কোলাহল

 

ফারাহ্ সাঈদ

বয়নশিল্পীর সমস্ত ঈর্ষা ভেঙে
তুমি তো পারো সামান্য আঙুলে
রাইনের দীর্ঘতম শাড়ি বুনে দিতে
না হয় ফিরে যাওয়া রেশমের মন
দুঃখজলজ হয়ে ফুটে থাকুক

অর্ধাহারে সঁপে থাকা চুল, বিনুনি খুলে
চিরুনির ফাঁদ পেরিয়ে তোমার কোলাহল
দ্যাখো সাবলীল গাইছে বন্দিশ
আমাদের জেগে ওঠা নির্জন সাঁকো

 

রুহুল মাহফুজ জয়

মৌনতা খুলে বহু রাত্রির পর বুননাঙুল
ট্রেনের শব্দের মতো তরঙ্গ রেখে যায় ধ্যানে

একে একে খুলতে গিয়ে প্রার্থনানত চোখ—
দেখি তুমি নিজেই প্রত্নমন্দিরের নির্জনতা

না সৃষ্টিতে
না প্রার্থনায়
বুননের দিব্যি—আমি শুকোতে দেই নি আত্মা
কেবল তোমার মরমে বিঁধে গেছি
যেভাবে আলোতে এসে মরে যায় মথ!

 

ফারাহ্ সাঈদ

ট্রেন-সন্ধির রাতে আমিও খণ্ডিত হব
জৌলুস ছেড়ে দিয়ে পাপ
গির্জার গোপন জানলায় দেখে নেব
সমান্তরাল নখের আওয়াজ

তুমি তো অর্ঘ্য এক—
ঈশ্বরের একনিষ্ঠ শিল্পকলা
তিরতির কেঁপে ওঠা রুহ
দুহাতের দস্তানায়
আমাদের ক্রুশবিদ্ধ মহাকাল

 

রুহুল মাহফুজ জয়

সূর্যের অধিক ফুটেছে যে জলাশয়
তার ছায়ায় বৃক্ষের সঙ্গমদৃশ্য দেখে
অন্তরঙ্গ আমিও রেখেছি খণ্ডিত পাপ
বেহেশতের কার্নিশে-বারান্দায়

তুমি যদি হাওয়া
গন্ধম হজম করেও থেকে যেতে পারি
নরককে করে তুলতে পারি পুষ্পোদ্যান
ক্রুশবিদ্ধ মহাকাল
আমি ফেলে এসেছি প্রাচীন
ঘোড়দৌড়ের মাঠে
যেখান থেকে তুমি আলাদা করেছ
দেবী ও মানবীর মধ্যবর্তী কলহ

জৌলুসহীন স্থির কম্পনে
ঢেউ তুলে তুমি পদ্মতিয়াসে
অবিরাম গেয়েছ কেয়ামতসঙ্গীত

মান্দার ফুলের আন্ধারে আমি কেবলি
ডুমুর-রমণীর প্রার্থনা হয়ে যাচ্ছি

 

ফারাহ্ সাঈদ

নিষ্পাপ পেখমের ঘুম কোনোদিন
পৃথিবীর পিঠে হেলান দিয়ে ক্লান্ত
ছায়াতলে যার লেপ্টে থাকো তুমি

খরস্রোতা আত্রাই পুরুষের ছাই
অন্তর্গত নদী আমার কেন যে মৃন্ময়
বিস্মৃতির সেতুপাড় লীন হই আমি
হায় ফুল!
কেন তারে নদী বলে ঝলসে ওঠো তুমি!

 

রুহুল মাহফুজ জয়

মৃদু আলোয় হাতের ছায়া দেও-দানো
আঙুলও যদি রূপকথা—দৈত্য মনোহর

অনার্য ডালিমকুমার পাতাল মাতানো
কাঠিতে মাপি ঘুমন্ত রাজকুমারীর জ্বর

ঝলসানো নদী ও ভাঁটফুলের মন খুলে
রেখে দেই জলবাসনা—এরূপ ডাকাত

উল্কি এঁকেছ যামিনীর গোপন বাহুমূলে
মধ্যাহ্ন-রোদেও নির্ভয়ে নামে রাত!

দূর ইথারের গানে এত আগুন সন্ধ্যাকালে
ফুটালো ময়ূর—শিস ঢেলো না দেহকালে

 

ফারাহ্ সাঈদ

সেজদা— তাঁর নামে, হে পরম!
পেয়েছি প্রার্থনায় তোমায় বারবার
তুমি তো রাত্রিরুহ
জন্মান্তরের মাটি আমি শূন্যপ্রায়
আমাকে আঁকড়ে ধরে শুষে নিচ্ছ হাওয়া
জলের উপচে পড়া কান্না যত

তবে আজ রোপিত হোক জান্নাত
জলছুরি তোমার
বনের ছায়ায় আমাদের পারাপার
নতুন কলরবে—
আরো দুঃখ দাও—হে সেজদাময়!