হোম কবিতা মলাট খুলে দেখা : আলাদিনের গ্রামে

মলাট খুলে দেখা : আলাদিনের গ্রামে

মলাট খুলে দেখা : আলাদিনের গ্রামে
452
0

আলতাফ শাহনেওয়াজের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ আলাদিনের গ্রামে। প্রকাশক: চৈতন্য। প্রচ্ছদ: রনি আহম্মেদ। বইটি পাওয়া যাচ্ছে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে চৈতন্যের স্টলে (স্টল নম্বর ১৫৬) এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লিটলম্যাগ কর্নারের ৫২ নম্বর স্টলে।


 

১.

তোমার উদ্ধার শেষ, দীনে দয়া দাও।
প্যারাসুট হাতে একা মাটিতে পড়েছ
লাফিয়ে নেমেছ চরে। পতনভূষিতা,
বেপথু বাজারে গিয়ে কয়টি কানন
ঘোরা হলো? পত্রসখা, প্রতিটি শয্যায়
খাপখোলা ছিল মোহ। গুঞ্জনে ভ্রমর
আসে নাই? ডেকে গেল বাসনারা, শিস
বাজিয়ে নায়কদল বলে হুঁশিয়ার!

দেহে আরো গিরিখাদ। গভীর পর্বতে
ভেতরে হারালে পথ, ও ভাস্কো দা গামা,
পর্তুগিজ এসেছিল। ম্যাপ হাতে তারা
দূরের মোকাম খোঁজে—সেই দেশ কোথা!
তোমামধ্যে সৌরবর্ষ। হেথা ঘোরে দীন,
আড়ালে ফুটিল দেহ…তরি ভেসে যায়…

 

২.

ভাষাহীন গ্রামে তুমি অন্ধ আলাদিন
আগেই তৃষিত ছিলে, তিষ্ঠ তারপর
বক্ষজুড়ে ছাতি ফাটে—পানির চিৎকার,
জলে কোনো নদী নেই, তীরে বিঁধে আছো!
তোমার ভেতরে একা বসে নমরুদ
জ্বেলে দেয় অষ্টধাতু, মোমের রমণী;
আটঘাট বেঁধে সেই আলোপথ ধরে
এখনো অনেক ক্রোশ…চলো গেঁয়োভূত…

ফিরে এসো খেলাচ্ছলে আপন আড়ালে
পিপাসা তোমার মধ্যে দুই চক্ষু মেলে
আমার কাহিনিকার—লেখে পানিফল।
ওই ফল খেতে গিয়ে সহসা আবার
মিতালি-দোসর তুমি এসো আলাদিন,
এই দেহ ফুলগাছ, কাঁটা হয়ে বসো।

 

৩.

গভীর যমুনা যদি শাস্ত্রমতে দোলে
নদীতে বসিয়ে দিয়ো বাক্য মুখোমুখি।
খেয়া পার হবে কারা, কাদের প্রস্থান?
তোমাকে জানাতে হবে ফিরতি চিঠিতে।
আবার আলোক-বর্গি চক্ষুসহ জ্বলে
ঘূর্ণিপথে বলে তারা, ‘কানাগলি ছেড়ে
দর্জির দোকানে বসো। থাকো চুপচাপ
নিয়তি-ডালিমে একা, জেনানা মহলে।’

তোমাকে বুঝতে হবে মঞ্জরিত সব
কথার ভেতরে আছে বোবা নীরবতা;
আড়ে-ঠারে আছে গাঢ় অনর্থের বন,
সেই বনে কাঠ কাটে অচেনা কাঠুরে—
দিনশেষে কাঠ নিয়ে গ্রামে পৌঁছে যায়;
তুমি পথে বাক্যহীন ফোয়ারা ছোটাও

 

৪.

গুমোট মেঘের মতো চেনা ছদ্মবেশে
বিজনে বাড়ন্ত এই তেজপাতা গাছে
মৃত্যু বিঁধে আছে—নীল। তাকে দেখেছিলে
আরব্য রজনী খুঁড়ে। দর্পণ কাঁপিয়ে
এসেছে সে নিরিবিলি: ‘এক গ্লাস পানি
এ যুদ্ধে সমরপতি’—বিষণ্ন কথাটি
বলেই মন্থর পায়ে চলে গেছে একা,
মরু-তরবারি নিয়ে আবার ফিরেছে।

তুমি তাকে বেশ চেনো। যে বোন মরেছে
তোমার চোখের পাশে, সেখানে দাঁড়িয়ে
কামরাঙা খেয়েছিল ওই উজবুক।
কেঁদেছ সেদিন খুব? নাকি অশ্রুক্লান্ত
ঘুমোয় নি বহুকাল। তোমাদের ঘরে
জগৎ-সংসার আজ কী লেখে বিকেলে?

 

৫.

আমি তো এটুকু পারি—চড়াই পেরিয়ে
বলেছি তাদের কাছে। এবার চেরাগ
ঘষে বের করে দাও সুদৈত্যের ভাষা,
‘হুকুম করুন প্রভু’—জানাবে সে মুখে।
খানাখন্দ পার হয়ে সহসা দেখাবে
সবুজ রঙের সূর্য। তাতে হতবাক
খসে যাবে দিব্যচক্ষু! লেঠেল বাহিনী
পাবে না আমাকে আর…ম্যাজিকে লুকাব।

ডাকিনি ঘুমালে ছোঁব রাতের কলিজা
শেহেরজাদির তন্দ্রা আলগোছে ধোব,
মুছে দেব কায়াবর্ম—আধুলি দেবে না?
ভিক্ষায় দাঁড়াব নুলো। বুভুক্ষের বেশে
আমার কাজই তো এই—চেরাগবিহীন
দৈত্যের ছায়ায় খল-তামাশা বানানো!

আলতাফ শাহনেওয়াজ

আলতাফ শাহনেওয়াজ

জন্ম ২৫ জুন ১৯৮১, ঝিনাইদহ জেলাশহরে। লিখতেন নির্লিপ্ত নয়ন নামে। এখন আলতাফ শাহনেওয়াজ নামে থিতু হয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিত বই :
রাত্রির অদ্ভুত নিমগাছ, ২০১১, ঐহিত্য (কবিতা)

সম্পাদিত ছোটকাগজ: ‘ঢোলসমুদ্দুর’ ও ‘শাখাভরাফুল’

ই-মেইল : altaf.shahnewaz@gmail.com
আলতাফ শাহনেওয়াজ

Latest posts by আলতাফ শাহনেওয়াজ (see all)