হোম কবিতা মলাট খুলে দেখা : আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি

মলাট খুলে দেখা : আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি

মলাট খুলে দেখা : আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি
733
0

এ মেলায় প্রকাশিত হলো রাজু আলাউদ্দিনের দ্বিভাষিক কবিতার বই আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি। ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ড. বিনয় বর্মণ। বই থেকে সাতটি কবিতা ইংরেজিসহ এখানে মুদ্রিত হলো পরস্পরের পাঠকদের জন্য। কবিতা শেষে সন্নিবেশিত হলো অনুবাদকের ভূমিকা। 


নিখিলমঞ্জরি

মহামান্য সুরের স্রোতে শরীর ভেসে যায়
হৃদয় আমার ব্যস্ত তাই নিখিল পরিক্রমায়।
ভূমণ্ডলের বস্তুরা কি পাখায় নিল ভর?
এমন করে বাজাল সুর কোন সে যাদুকর?
শরীর ছুঁয়ে শরীর ছেনে হৃদয় বলাৎকার
করছে মহামান্য সুরের অখিল টংকার।
সময় হলো নৌকো আর আকাশ হলো পাল
আজকে তাতে কাটিয়ে দেব চিরদিনের কাল।
ক্যাসেট থেকে পড়ছে ঝরে নবম সিম্ফনি
আহা! পিতৃভূমি হতো যদি সুদূর জার্মানি!
আজকে নিখিল জগৎ আমার প্রাসাদ হয়ে ভাসে
বেদনা সব উৎস ভুলে মেতেছে উল্লাসে।
শ্রোতাকে আজ সৃষ্টি ছুঁয়ে করলো রূপান্তরি
আজকে আমি নতুন রাগ নিখিলমঞ্জরি।

 

Foliage of the World

Body is swept by the current of sublime music
My heart is busy traveling around the world

Have the objects of the earth got their wings?
Who the magician played tune so sweetly?

Violating heart by touching and ravaging body
Music His Excellency gives a great twang

Time has turned into a boat and the sky a sail
Today I shall spend my whole lifespan here

Soft symphony is falling down from cassette
Ah! If only far Germany were the fatherland!

Today my whole world floats like a palace
Forgetting source, agony has started rejoicing

The creation has transformed audience with a touch
Today I am the new Raga, the foliage of the world

 



তুমি আমার পৃথিবী

আমি যত দূরে যাই
আমার জন্মভূমি তত বেশি বড় হতে থাকে।
মিগেল জানতে চায়: কোথায় তোমার দেশ?
বাংলাদেশ, শোনো নি কখনো?
না, কখনোই নয়।
কোথায় এ দেশ?
ভারতের কাছে।
ওহ্, তাই বলো।

আমি যত দূরে যাই
আমার জন্মভূমি তত বেশি বড় হতে থাকে।
একদিন মারিয়ানা জানতে চেয়েছে,
কোথায় তোমার দেশ?
একই কথা বললাম তাকে।
লজ্জিত জানালো সে, হ্যাঁ,
ভারতের কথা আমি শুনেছি, যদিও
জানি না আসলে ঠিক কোথায় এ দেশ।
এশিয়ার কথা তুমি শোনো নি কখনো?
ওহ্, তাই বলো। বাংলাদেশ তবে সেই
এশিয়ার মাঝে!
ঠিক তাই।

যদি আমি কোনোদিন আরও দূরে চলে যাই
ধরা যাক, মঙ্গলগ্রহে।
তখন সেখানকার কেউ যদি জানতে চায়,
হেই, কোথায় তোমার দেশ?
আমি তো এসেছি দূর সবুজে আচ্ছাদিত
পৃথিবী নামক এক গোলাকার গ্রহভূমি থেকে।
সেখানে এশিয়া নামে বড় এক মহাদেশ আছে।
সেই মহাদেশে আছে ভারতভূমি।
আর সেই ভারতেরই কাছে এক সমুদ্র-তনয়া
হলো আমার স্বদেশ।
আমি যত দূরে যাই
আমার জন্মভূমি তত বেশি বড় হতে থাকে।
বড় হতে হতে ক্রমে আমার নিকটে চলে আসে।
যখন নিকটে আসে, কানে কানে বলি তাকে:
যত ছোট মনে হয় তুমি তত ছোট নও, শোনো,
তুমি পৃথিবীর যেকোনো দেশের মতো বড়,
তুমি এই পৃথিবীরই মতো,
তুমি আমার পৃথিবী।

 

You Are My World

The farther I go
The bigger my homeland
Miguel asks: Where’s your country?
Bangladesh, haven’t you heard of it?
No, never.
Where is it?
Near India.
Oh, I see!

The farther I go
The bigger my homeland
One day Mariana asked: Where’s your country?
I gave her the same answer
Ashamed, she admitted, though she heard of India
She did not exactly locate the land
Haven’t you heard of Asia?
Oh, I see, Bangladesh is then in Asia!
Yes, that’s right.

If some day I go farther away, say, to Mars
And anybody there asks: Hey, where’s your country?
I’ve come from a green round planet named Earth
There you’ll find a big continent named Asia
India in that continent
And my homeland just beside it
Daughter of sea.

The farther I go
The bigger my homeland
Growing bigger it comes close to me
When close, I whisper to her ears:
You are not as small as it seems
You are as big as any other country of the world
You are like this world
You are my world.

 



ভালোবাসার ওক্সিমোরন

তুমি তা জান না কিছু না জানিলে…   জীবনানন্দ দাশ

সরাসরি কখনো বলি নি—
প্রথমত লজ্জায়, দ্বিধায়, সংকোচে।
তাছাড়া শঙ্কা ছিল—যদি তুমি বলে ফেল:
না, না, আমি কিন্তু ওভাবে দেখি নি,
স্রেফ ভালো বন্ধু বলে আপনাকে এতদিন…
তখন কী মুখে আমি দাঁড়াব তোমার সামনে?

কিন্তু আজ এসবের তোয়াক্কা-না-করার নিরাপদ দূরত্বে বসে বলি:
আমি শুধু তোমার আননে
আমার আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি।
একান্তে পেয়েও আমি কোনোদিন বলতে পারি নি:
তুমি ডুবো-পাহাড়ের মতো পরোক্ষ সমুদ্রের তলে বসে আছ।

আজ বহু দূর থেকে সরাসরি তোমাকে জানাই

আমি গোপনে গোপনে এক গান হয়ে প্যাসিফিক সমুদ্রের তীরে বসে আছি।

যেভাবে একটি দেশ বিপ্লবে বিকশিত হয়
আমিও তোমার জন্য সেইভাবে প্রস্তুত হয়ে বসে আছি।

আজও কি জানানো হলো সে কথা তোমাকে সরাসরি?
কবিতার মুখোশে সে এবারও গোপন রয়ে গেল।

 

Oxymoron of Love

You don’t know if you know not…    Jibanananda Das

I’ve never said anything directly
In shame and hesitation
Moreover, I feared if you say
No, I didn’t see it that way
I took you just as my good friend
Then how will I face you?

Now at a damn-caring safe distance I confess:
I drew the map of my desire secretly on your face
I could not utter a word even in intimacy
You’re lying at the bottom of indirect sea like a submarine.

Today I tell you from distance
I’m sitting secretly by the Pacific as a song.

I’ve prepared myself for you
Just as a land flourishes through revolution.

Now, has it been uttered directly?
It’s still masked in poetic opacity.

 



স্বপ্নের অনুবাদ

ঘুমের স্ট্রেচার যখন সন্তর্পণে আমাকে লোকান্তরের মর্গে ফেলে দিয়ে আসে, আমার শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো তখন খরস্রোতা নদীর মতো কলকলিয়ে ওঠে। নিজস্ব মুদ্রায় তারা শিরদাঁড়ার নির্ভরে ফণা তুলে দাঁড়ায়, নিহিত নির্জনের ছায়ার পাৎলুনে ঢাকা তাদের শরীর, বাৎসল্যের চূড়ান্ত ছুঁয়ে আছে তাদের প্রত্যেকের নিকানো শরীর-সংসার। আমারই ঔরসে জন্ম তবু যেন এরা কেউ আমার সন্তান নয়; এই নষ্ট, ভ্রষ্ট আর তুচ্ছতার কর্দমে আটকে পড়া আমাকে ছাড়িয়ে ওরা বহু দূর চলে যায়। এক সময় নক্ষত্রের ক্ষুদ্রাকারে ঝুলে থাকে কালোত্তর আকাশের গভীর খিলানে, যেন উদ্বাস্তুর স্বদেশহীনতার অভিমান এদের প্রত্যেকের রক্তে প্রবাহিত, প্রগতি ও রাষ্ট্রের যাবতীয় সুফল থেকে বঞ্চিতের মতো সময়ের অনেক গভীরের তলানির নিঃসঙ্গ নিস্বন বুক নিয়ে ওরা ভীষণ আলাদা হয়ে আছে।

আমি প্রতিদিন ঘুমের গভীর আলিঙ্গনে মরে যাই। আর ওরা জেগে ওঠে, যেন ওরা আমার শেশবের খেলার প্রতিপক্ষ দল। আমি ফিনিক্স পাখির মতো অশান্তির তীব্র আগুনে আত্মাহুতি দেই; ওরা আমার ছাই থেকে জন্ম নিয়ে আমার জন্মের সবচেয়ে নির্মল রূপান্তর চুরি করে তস্করের মতো চলে যায়, দূরে।

ওরা অভিশপ্ত টাইরেসিয়াস, কেন না ওরা আমার মধ্য দিয়ে দেখেছিল সভ্যতার সবচেয়ে নির্মম নিষিদ্ধ দৃশ্য : মানুষের রক্তে স্নানরতা অভিজাত নগ্ন অ্যাথিনীকে। নাকি অর্থনীতিকে? ওরা সেই উপহাস ও শে­ষবিদ্ধ টাইরেসিয়াস, কেননা ওরা বলে দিয়েছিলো ইডিপাস কিভাবে মাতৃভূমিকে ক্রমাগত সঙ্গমে কলুষিত করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

আমি যখন এইসব কবিতার ঝনাৎকারে মৃত্যুর খুচরো আলিঙ্গন ভেঙে জেগে উঠি; ওরা ততক্ষণে ঊর্ধ্বশ্বাসে উধাও পালায়, যেন অবাঞ্ছিত কেউ; যেন টিলো এক্সপ্রেস খেলতে গিয়ে ভুল করে মৈথুন-মগ্ন কোনো দম্পতির ঘরের জানলায় চোখ পড়তেই দ্রুত-সটকে-পড়া এক বালক।

এইভাবে আমার শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো প্রতিদিন নাগালের বাইরে থেকে যায়; আমি আকাঙ্ক্ষা উসকে দিয়ে পৃথিবীর যাবতীয় আড়াল করে ধীবরের মগ্নতায় একা বসে থাকি; কিন্তু ওরা কেউ পূর্ণাঙ্গ ও পরিশুদ্ধ হয়ে আসে না কখনো, শুধু ওদের নিঃসৃত বর্ণালির রক্তিম-সরণ আমাকে অযথাই মাঝে মধ্যে বিচলিত করে,

…বিস্রস্ত করে রাখে দিনের পর দিন।

 

Translation of Dream

When the stretcher of sleep abandons me in the remote morgue secretly, my best poems start murmuring like a turbulent river. They raise their heads on the backbone erect in their distinctive posture. Their bodies are covered by the pantaloons of hidden solitude. Each of their neat and clean body-family is touched by the summit of affection. They are born from my semen yet they seem not my children. They embrace me in the mire of meanness and go away. Sometimes they keep hanging in the deep arch of infinite sky in the shape of tiny stars, as if the rage of landlessness flows in their blood. They are so isolated holding in bosom the solitary sound of deep sediment of time deprived of the amenities of progress in the state.

Everyday I die in hug deep in sleep. And they rise as if they were the competing team in my childhood game. I immolate in the fierce fire of grief like a phoenix. They are born from my ash and steal the purest transformation of my birth. And away they fly!

They are the cursed Tiresias, since they witnessed through me the cruelest prohibited scene: a naked aristocrat Athenian lady bathing in human blood. Or did they see the economy? They are that Tiresias of satire and irony, because they revealed how Oedipus made the motherland unholy through continual copulation.

When I get up from the petty embrace of death having heard the rattle of poems, they flee fast, like persona non grata, like a boy, who sneaked away embarrassed after coming across a couple engaged in lovemaking in a house.

Thus my best poems evade me everyday. I keep sitting like a devoted fisherman with all my burning desire in the hide of the world. They never come to me in their complete and graceful form. Only the red shift of their emitted spectrum moves me unduly at times.

…And keeps me down day by day.



অপর-প্রবণ

কেন পর-নারীতে আমার এত লাল আর গোলাকার লোভ জেগে ওঠে?
কেন সাদা নারীতে আমার লোভ পুঞ্জীভূত হয়ে ওঠে শরণার্থী মানুষের মতো?
কেন নিজের জায়ার চেয়ে অন্য নারীরা বেশি প্রিয় মনে হয়?
কেন নিজের দেশের চেয়ে অন্যদেশ বেশি লোভনীয়?
কেন মেঘ চলে যায় দূরে, আরও দূরে তার জন্মভূমি ছেড়ে?
কেন অবৈধ সঙ্গম ছাড়া সুখ নেই কোনো?
কেন অপরের দৌলতে বাসনা প্রবল হয়ে ওঠে?
কেন ধর্মের চেয়ে আজ অধর্মে আমার প্রাণ মুক্তি খুঁজে পায়?
কেন মন ওঁৎ পেতে বসে আছে অন্য নারীর প্রত্যাশায়?
কেন মন মজে আছে অন্য কবির কবিতায়?

হে পাঠক, মহাত্মন, অপর-প্রবণ
আরও কিছু খোলামেলা বলবার কথা ছিল এই কবিতায়
তুমি তা একাকী লিখে নিও
দোসর যমজ ভাই আমার।

 

Other-prone

Why my red and round greed aroused so much for other women?
Why my greed for white women amassed like refugees?
Why other women appear more attractive than my wife?
Why other countries sound more fabulous than my own country?
Why the clouds fly afar, farther from motherland?
Why no pleasure without illegal copulation?
Why so intense desire for other’s property?
Why my life gets salvation in things other than religion?
Why lurking for other women?
Why mind so engrossed in others’ poetry?

O reader, gratious, other-prone
I was supposed to tell something more frankly
You better write them yourself
My twin brother!

 



অসংখ্য মৃত্যু নিয়ে আমার জন্ম হয়েছিল

অসংখ্য মৃত্যু নিয়ে আমার জন্ম হয়েছিল।
মৃত্যু ছিল আমার ঘনিষ্ঠ সহোদর।
আমার রক্তের স্রোত নিয়ে তারা ছুটে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
তারা এতটাই কাছাকাছি ছিল, তারা এত বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল
মনে হতো প্রেমিকের মতো তারা পেছন থেকে কাঁধের বাঁ-দিক দিয়ে
আমার কপোলে চুমু খেতে চায়।
মৃত্যুগুলো প্রায় পোষ্য বেড়ালের মতো আমার কাঁথার নিচে শীত রাত্রে কাটিয়েছে পরম আরামে।
মৃত্যু ক্রমে, ধীরে ধীরে আমার প্রেমিকা হয়ে উঠেছিল এই ছোট্ট একাকী জীবনে,
অবসরে শুনাতো সে ঠাকুরের গান:
তুহুঁ মম শ্যাম সমান।
আমি বুঝতে পারি নি, মড়কের মতো অসংখ্য মৃত্যু আমার সাথে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল এই পৃথিবীতে।
এইসব মৃত্যুগুলো এত বেশি বলীয়ান ছিল, এইসব মৃত্যুগুলো দলে দলে এত বেশি বড় হয়ে গেছে; আমি ক্রমে হয়েছি একাকী।
এসব মৃত্যুর চাপে আমার জীবন ক্রমে ছোট হয়ে গেছে।

আমার মৃত্যুগুলো নিয়ে কিছুদিন আগে বিশাল বিশাল সব প্রদর্শনী হয়ে গেছে ইরাক, তুরস্ক ও আফগানিস্তানের বড় বড় গ্যালারিগুলোয়।
এগুলোর উদ্বোধন করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর তার নাতিদীর্ঘ মুখবন্ধ লিখেছিল জাতিসংঘের মহান সচিব।
বেশ কিছু মৃত্যু আমি গোপনে বিক্রি করে দিয়েছি সাংসদ ও মন্ত্রীদের কাছে।
থানায় থানায় আমি কিছু মৃত্যু বিক্রি করেছি চড়া দামে।
আরও কিছু মৃত্যু আমি ছড়িয়ে দিয়েছি আমাদের ব্যস্ত সড়কে।
এইসব মৃত্যুগুলো আমাকে বাঁচিয়ে রাখে প্রতিদিন।
আমার মৃত্যুগুলো জ্যামিতিক হারে ক্রমে বেড়ে যেতে থাকে দেশে ও বিদেশে।
আমার মৃত্যুগুলো ঘুমে ও নিদ্রায় আমাকে ক্লান্ত করে শুধু।
সুজলা সুফলা মৃত্যুতে ভরে গেছে আমার হৃদয়।

 

I Was Born With Numerous Deaths

I was born with numerous deaths
Death was my intimate brother
They spread to different countries of the world with my bloodstream
They were so close that it seemed
Like lovers they wanted to kiss my left cheek
Like pet cats the deaths spent winter nights with me in comfort under blanket
Gradually death became my financée in my small lonely life
In leisure she used to sing Tagore’s song for me:
You are equal to my adored personna.
I could not realize numerous deaths were born with me like plague on earth
These deaths grew stronger, larger in groups
And I became isolated
My life has gradually shrunk under the pressure of these deaths.

A few days ago based on my deaths there were big art exhibitions in the big galleries of Iraq, Turkey and Afghanistan
The exhibitions were inaugurated by the US President while the UN Secretary General wrote prologues on them
I have sold some deaths to the MPs and Ministers secretly
Some to police stations at exorbitant price
Other deaths were scattered to the our busy streets
These deaths keep me alive everyday
My deaths increase in geometric proportion at home and abroad
My deaths make me tired in sleep and dream
My heart has been filled with the green and fast growing deaths.

 



প্রেমের যমজ কবিতা: অভিন্ন আলাদা

প্রথম প্রথম আমি ‘প্রিয়তমা’ বলে তাকে জানিয়েছি আমার আবেগ,
ভালোবাসা ক্রমাগত প্ররোহী পথের মতো বিস্তৃত হতে থাকে বলে,
এখন কী করে আর এক নামে ডাকবো তাকে, বলি ‘তুমি,
তুমি যে শতধা। তুমি অগ্নি, তুমি ঐ নিঃসীম অম্বর, তোমার কথারা সব ভাষাতীত অতিরিক্ত ঢেউ।’

আমার আবেগ তাকে জানিয়েছি ‘প্রিয়তমা’ বলে আমি প্রখম প্রথম,
কিন্তু প্রেম বিস্তৃত হতে থাকে প্ররোহী পথের মতো তাই
কী করে ডাকবো তাকে এখন শুধুই এক নামে, বলি,
‘তুমি যে শতধা। তুমি অগ্নি, তুমি ঐ নিঃসীম অম্বর, তোমার কথারা সব ভাষাতীত অতিরিক্ত ঢেউ।’

পরিচিত যত নাম, যত বিশেষণ একে একে জড়ো হলো স্বেচ্ছাবিলাসে।
তিনটি ভাষার প্রিয় অপ্রিয় শব্দে ডেকে ডেকে হৃদয়ের সিংহাসনে বসাতে
চেয়েছি আমি তাকে, কিন্তু আমার জানা সকল শব্দের চেয়ে আরও বেশি অতিরিক্ত বলে সে আমার নাগালের বাইরে থেকে যায়।

স্বেচ্ছাবিলাসে ক্রমে জড়ো হলো পরিচিত নাম আর বিশেষণগুলো
তিনটি ভাষার প্রিয় অপ্রিয় শব্দে ডেকে ডেকে
বসাতে চেয়েছি তাকে হৃদয়ের কোমল আসনে। কিন্তু আমার জানা সকল শব্দের চেয়ে অতিরিক্ত বলে সে আমার নাগালের বাইরে থেকে যায়।

তারপর আমি তাকে সীমা আর প্রথা ভেঙে ডেকেছি জননী, কারণ তার মনোজরায়ুতে আমি দেখেছি আমার অঙ্কুর।

তার মনোজরায়ুতে আমার সবুজ অঙ্কুর
জন্ম হয়েছিল বলে আমি তাকে সীমা আর প্রথা ভেঙে ডেকেছি জননী।

তারপর আমি তাকে বলেছি আত্মজা, কারণ আমার প্রেমের ঔরসে তার ভ্রূণ জন্মাতে দেখেছি।

আমি তাকে প্রথা ভেঙে আত্মজাও বলেছি , কারণ আমি জন্মাতে দেখেছি তার ভ্রূণ
আমার প্রেমের ঔরসে ।

যখন আমার সব শব্দ, অভিধা ও বিশেষণ শেষ হয়ে গেল
তখন সে অসীমের বোধ নিয়ে চলে গেল অন্য এক প্রেমিকের সাথে।।

এইভাবে আমরা পরস্পরকে জন্ম দিয়েছি। কিন্তু আমার দেয়া সব নাম উপচে সে ক্রমাগত বেড়েছিল আমার প্রেমের পলি পেয়ে।
তারপর ধীরে ধীরে আমি সব নাম ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছি তার দিকে নৈঃশব্দ্যের বোবা-কৌশলে, তাকে আমি পুরোপুরি হাতে পাব বলে।
তারপর আমি তাকে স্পর্শের আগুন দিয়ে ঝকঝকে করে তুলতে থাকি, বলি, ‘তুমি ভাষার অতীত।’
তারপর আমি তাকে শৃঙ্গারের ঢেউ দিয়ে বানিয়েছি অসীম দরিয়া। বলি তাকে, ‘তোমার দরিয়া-দর্পণে আমার শব্দাতীত অম্বর শীৎকারে প্রস্ফুটিত হয়।
তারপর আমি তাকে বেধেছি আলিঙ্গনে সঙ্গমের তীব্র কামনায়: চর্ব্য, চোষ্য, লেহন ও দংশনে তার দেহ নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠেছিল।
যতসব অভিধায় আমি তাকে ধরতে চেয়েছি, তারচেয়ে আরও বেশি অনুচ্চারণে তাকে পেয়ে গেছি পরিপূর্ণ রূপে।

 

Twin Love Poetry: Same Different

Initially I expressed my emotion calling her ‘sweetheart’
As love expanded gradually like a towering path,
I could hardly address her in the same way. I said,
‘You have hundred forms. You are fire and the infinite sky,
Your words are the extra waves beyond language.’

Initially I expressed my emotion calling her ‘sweetheart’
As love expanded gradually like a towering path,
I could hardly address her in the same way. I said,
‘You have hundred forms. You are fire and the infinite sky,
Your words are the extra waves beyond language.’

All the familiar names and adjectives gathered in self-luxury one by one
I wanted to place her in the throne of my heart
With favourite and unfavourite words of three languages
Since she was far beyond all my known words,
She remained out of my reach.

All the familiar names and adjectives gathered in self-luxury one by one
I wanted to place her in the throne of my heart
With favourite and unfavourite words of three languages
Since she was far beyond all my known words,
She remained out of my reach.

I caller her my mother crossing limit and violating custom
As I found my germination in her psycho-uterus.

As my green germination was in her psycho-uterus
I caller her my mother crossing limit and violating tradition.

Then I called her my daughter
As I saw the birth of her embryo in the sperm of my love.

I also called her my daughter violating custom
As I saw the birth of her embryo in the sperm of my love.

When all my words, terms and adjectives came to an end
She went to another lover with a sense of infinity. 

In this way we gave birth to each other
But she gradually grew overwhelming all my given names
Getting the alluvial soil of my love.

Then I moved to her slowly and silently leaving all names
To capture her entirely.

I went on making her glossy with the fire of my touch.
I said, ‘You are beyond language.’

Then I made her unfathomable ocean with my passion
I said, ‘My wordless sky blooms by the sound of lovemaking in your ocean-mirror.’

Then I embraced her in a strong desire of union
Her body blazed like a star in biting, sucking, licking and snapping.

I got her completely better in wordlessness
Over all the terms I had in stock.

 



A cartographer of desire

Poetry flows from the serenity of mountain’s bosom like the song of soul. The meditating mind of a poet is the seat of sublime poetry. The deep realization of life pours through the word-stream of a poet’s pen. There is an intrinsic relationship between a poet’s heart and his poetry. The poetic expression derives warmth and dignity from the poet’s devotion to the art he practices. The art is the part of poet’s life and it determines his pattern of thought and creation. Poetry thus reflects the world-view of the poet with all its color and flavor.

When we read Razu Alauddin’s poetry, we get enthralled with the discovery of his inner world’s spectacular beauty and gravity. Razu is a master of poetic art, which is evidenced by his superb enunciations in the book “Akangkhar Manchitra Gopaney Enkechhi” (translated in English as “Secretly have I Drawn the Map of Desire”). I was so much impressed by his poems as I was reading and translating them. His utterances are generally straight rather than oblique, realistic rather than surrealistic, and lyrical rather than prosy, in any way making no scope for being prosaic and mundane. His poems are a bunch of flowers that spread fragrance and splendor to the full enjoyment of a reader.

Razu has utilized his own experience of life to distil the bubbling words in him to assume an aesthetic shape. He has traveled inside and outside the country only to be bewitched by its treasures, giving a distinct meaning of ‘motherland’ or ‘homeland’. In the present era of diaspora, expedited by globalization, people migrate from one country to another in search of better amenities of life. They may be far from homeland, but its memory never fades away from their mind. To remain patriotically attached to their left land, they create new definition of homeland, as we witness in the poem You Are My World. “The farther I go / The bigger my homeland” helps us to realize patriotism in the light of new world order. Homeland is gradually mixed with subcontinent, continent and the world, rising above all narrow emotion of nationalism.

Life in a foreign land frequently peeps through the pages of “Secretly have I Drawn the Map of Desire”. In Migration, a person thinks of his loving friend who lives far away from home. He wishes he could see his friend’s movement from around or see the photos taken by space camera. When men go away leaving behind their belongings, the feeling of relationship may weaken, but it never perishes. The thirst for friendship remains for ever. As love awakes even in isolation, distance cannot sever the umbilical cord of one’s connection to motherland. ‘So the address of home is intact despite distance (Migration),’ which echoes the vision of You Are My World. The poem Same Different glorifies the image of motherland, not anyway trivializing other traditions. Self Identity sheds light on the dilemma of citizenship. The poet asks: ‘Where is my country / Mexico or Bangladesh?’ and decides later on:

‘All the seas of the world sing my national anthem
My flag is imprinted in all greens and deserts
The immortal poems of the world are my mother tongue.’

Love is almost a pervasive theme in Razu’s poetry as it is ever suitable for lyrics. His love titles include You Are My Divine Book, Similarity, Mutual, Oxymoron of Love, Touch and The Sound of Creation. You Are My Divine Book holds lover in high esteem, even above the glory of divinity. The iconoclastic pronunciation goes thus far: ‘So nothing else, you are my divine book / By the same token, I am also a prophet.’ Similarity is the reminiscent of distant love. Mutual laments over lost love and cherishes to revive it despite destructive consequences. A feeling of shame and hesitation makes the words of heart indirect and obscure in Oxymoron of Love. Love remains out of Touch as it is ‘beyond periphery behind body’. The Sound of Creation portrays love in flesh and blood where the ball of fire illuminates the garden of body in deep dark.

The poet is fully aware of social reality when he is engaged in artistic endeavor. His mind is saddened by the adversities and anomalies around him. He is shocked by political fraudulence and moral decadence. The so-called Progress cannot satisfy him. ‘In the smoke of factory’s one-eyed chimney / In the chemical urine, nuclear explosion and radiation’ he only discovers the filthy face of civilization in The Waste Land fashion of T. S. Eliot. Flower brings odor to him: ‘Flowers are against human now / The soft and beautiful is a terrible weapon’ (The Opposite Flower). Money is power in a capitalist society, so everybody adores it, even downgrading humanity. Feel the taunt: ‘With money I can consume everything made for man / This consumption will make me as vast as the civilization’ (Money Adoration).`

When the poet looks around the world, his vision is tinted with philosophical propensity, emanating from the profound contemplation of existing phenomena. He may observe darkness in the apparent flood of light. “The brighter all around / The darker everything at core” (Age of Enlightenment). He attempts to judge the value of something, not by chorological age but by mental maturity. A mind is important to him when it becomes pure ‘with the spirit of Renaissance’ (Descendent). He invokes fire to melt the ice inside for making a purifying stream. ‘Be calm and still the fiery blaze / Like the sitting Goutam, who saw beyond death / The seeds of creation in the silt of meditation’ (O Fire!). Looking at the blooming rose, he finds life bedecked in its petals:

Whose shadow in the folds of rose petals?
Is it my skull built in layers?
Ripe red dark inside
Is my hard salvation lying there?

(Rose-skull)

The poet casts his sight around to find something overlooked or ignored by public. A poetic perspective is always a different perspective. Union of two bodies results in the birth of a child. But a powerful poet may give a different interpretation of this biological process. He may term it as a process of translation. Parents translate a child from the manuscript of some unfamiliar language (Translation). What is a poetic vision! This is in fact a metaphorical prowess, which is fantastically demonstrated in Translation of Dream. ‘When the stretcher of sleep abandons me in the remote morgue secretly, my best poems start murmuring like a turbulent river.’ Here we discern a different view of poetic creation. The irony of the situation is: the poet runs after poetry, but it always evades him. ‘Thus my best poems evade me everyday. I keep sitting like a devoted fisherman with all my burning desire in the hide of the world. They never come to me in their complete and graceful form. Only the red shift of their emitted spectrum moves me unduly at times.’

Sometimes the tone of the poet is full of satire, humor and irony. The regressive step of society produces agony in poet’s mind. He feels uneasy to witness low literacy and immature writing. He dreams of good days when society will be really enlightened and the world will glitter like the far star, but that time never comes. He is tired of dreaming. ‘There are of course one or two good books / We are so tired of dreaming of reading that kind of book’ (Fatigue of Dreaming). Sometimes socioeconomic condition turns so pitiable that the poet wishes to take shelter in the womb of darkness (In Praise of Night). In The Opposite Flower we discover flowers in some mundane roles, far from aesthetics. They are used for political purposes to hide sinister designs. So the soft petal is so hard nowadays and its smile is no more soothing. In Encyclopedia the poet makes fun of a pretentious girl to whom ‘poetry is utter luxury’.

Razu experimented with short forms of poetry to demonstrate its utility and vitality. To him, these are ‘nano poems’, ranging from one to four lines, crispy but laden with deep meaning. We find three short poems: From Sunrise to Sunset, Succession and Similar under the title ‘Nano Poetry’, which captures sudden feelings and thoughts in an ambience of loneliness. His some other short poems are Mini-poem, Rose-skull, Blue Cloth and The Light of Kiss. They are short in length but not in their signification. We read Blue Cloth to enjoy the beauty of brevity:

Against our mineral dreams fly
The dirty blue cloth of the sky
Pinned in it star-multitude cry.

Razu’s taste of poetry is in lyricism. He writes lyrics, with or without meter, in rhymed or unrhymed lines. Some of his metered and rhymed poems are Third Voice, Foliage of the World, and Encyclopedia (in English translation, unfortunately, the features are lost). Even in his free verse, the soft flow of tune is no less blithe: ‘Whenever I went for a bath / The river kept me there for a long time / Transforming into a Hilsa’ (In Enormous Boyhood). His lyricism brings out the richness of emotional content with flowery language in full sensibility. For example, 7/5/92 sways a wonderful world of beauty in front of our eyes by virtue of metaphorical fringe like the wings of a fairy.

The whole day mixing with sunrise
I’ve released countless warm butterflies
Of passion all alone.

Today the world image
Drips down the garden
Of my burning music.

The timid night took this view
Away to the golden meeting of dreams.

The utterances are stunning for their oceanic profundity and mountainous altitude. We go on looking for the deeper meaning hidden as nectar in the womb of flower hidden under colorful and fragrant petals but we never feel tired in that constant search. “Secretly have I Drawn the Map of Desire” is Razu’s one and only book of poetry, the lone scintillating jewel on his crown. For being a poet, one need not necessarily write heaps of poems. Even a few uncommon strokes on canvas can make an artist great. Just with his one book of poetry, Razu has demonstrated his poetic genius in its true nature.
.

Dr. Binoy Barman

Dhaka, September 2015

রাজু আলাউদ্দিন

রাজু আলাউদ্দিন

জন্ম ১৯৬৫, শরিয়তপুরে। লেখাপড়া এবং বেড়ে ওঠা ঢাকা শহরেই। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। ভিন্ন পেশার সূত্রে মাঝখানে বছর দশেক কাটিয়েছেন প্রবাসে। এখন আবার ঢাকায়। ইংরেজি এবং স্পানঞল ভাষা থেকে অনুবাদের পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি সাহিত্য নিয়ে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশ।

প্রকাশিত বই :
অনূদিত কাব্যগ্রন্থ—
গেয়র্গ ট্রাকলের কবিতা (মঙ্গলসন্ধ্যা প্রকাশনী, ১৯৯২)
সি পি কাভাফির কবিতা (শিল্পতরু প্রকাশনী, ১৯৯৪)
টেড হিউজের নির্বাচিত কবিতা (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৪)
আকাশের ওপারে আকাশ (দেশ প্রকাশন, ১৯৯৯)

অনূদিত সাক্ষাৎকার গ্রন্থ—
সাক্ষাৎকার (দিব্যপ্রকাশ, ১৯৯৭)
কথোপকথন (বাংলা একাডেমী, ১৯৯৭)
অনূদিত কথাসমগ্র ( কথাপ্রকাশ)

সংকলন, সম্পাদনা ও অনুবাদ—
মেহিকান মনীষা: মেহিকানো লেখকদের প্রবন্ধের সংকলন (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ১৯৯৭)
খ্যাতিমানদের মজার কাণ্ড (মাওলা ব্রাদার্স, ১৯৯৭)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত গল্প ও প্যারাবল (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত কবিতা (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত সাক্ষাতকার (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
হোর্হে লুইস বোর্হেস: নির্বাচিত প্রবন্ধ ও অভিভাষন (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
প্রসঙ্গ বোর্হেস: বিদেশি লেখকদের নির্বাচিত প্রবন্ধ (ঐতিহ্য প্রকাশনী, ২০১০)
রবীন্দ্রনাথ: অন্য ভাষায় অন্য আলোয় (সংহতি প্রকাশনী, ২০১৪)
মারিও বার্গাস যোসার জীবন ও মিথ্যার সত্য (সাক্ষাৎ প্রকাশনী, ২০১৫)

গৃহীত সাক্ষাৎকার—
আলাপচারিতা ( পাঠক সমাবেশ, ২০১২)

কবিতা—
আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি (শ্রাবণ প্রকাশনী, ২০১৪)

জীবনী—
হোর্হে লুইস বোর্হেসের আত্মজীবনী (সহ-অনুবাদক, সংহতি প্রকাশনী, ২০১১)

প্রবন্ধ—
দক্ষিণে সূর্যোদয়: ইস্পানো-আমেরিকায় রবীন্দ্র-চর্চার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস( অবসর প্রকাশনী, ২০১৫)

ই-মেইল : razualauddin@gmail.com
রাজু আলাউদ্দিন