হোম কবিতা মধ্যরাতের কথা

মধ্যরাতের কথা

মধ্যরাতের কথা
822
0

মাটির কাছে
❑❑

প্রতিটি বহির্ভূমি বিকাশে আমার অবসর
ঘটে থাকে, সংস্রবের গ্রহ এলিয়ে থাকে—
আজ অরণ্যের মাটির কাছেই বুঝেছি
গর্ভের উত্তাপে কতটুকু ফুল; কক্ষের
প্রান্তে দাঁড়িয়ে বারবার মনে হয়েছে
উষ্ণতা কেবলই পাদদেশে… উচ্চতর
পৃথিবী শুধু ক্ষয়ের হিম জন্ম দেয়—
ঈষৎ হিমালয়িক মৈথুনের কাঁটা প্রতিজন্মে
স্নানের আলস্যে আমরা ভেসে যেতে দিয়েছি—
যেমন ঢেউয়ের ফিরে যাওয়া;
মন্দিরের ব্র্যাকেটে ঈশ্বর মৃত্যুর
ময়নাতদন্তে একা বসে কেঁদেছি
আর আকাশে আমার বুক ঠুকে
আবার নেমে এসেছি,
কেননা বজ্রপাতের ইশারা
সেখানেও ছিল এক নীলাভ হিমশৃঙ্গ…


 

মধ্যরাতের কথা
❑❑

আবেশ শব্দে লোভাতুর চাকা থাকে
গ্লাস ভরে ওঠে—তখন না এর দিকে
গল্প গড়িয়ে যায় প্রসঙ্গে দ্রৌপদী
সুনসান হাইওয়ে জানে হেনস্থার মাস্কারা;
অসুখ রপ্ত হওয়ার আগে বেড়ে গেছে
উদ্বৃত্ত খাবার, আত্ম সঙ্গ মুছতে অবচেতন
প্রেমে নিজেকে বিলিয়ে ফেলি,
পূর্ণাঙ্গ চাঁদের দিকে আমি
এক তর্জনীর সূক্ষ্ম
রুহ্-ছন্দ আমার প্রতিটি
দেহে আছড়ে পড়ে…


 

আত্মকথা
❑❑

আত্মার ছন্দোবদ্ধ আলো—এই মর্মে
আমি এক সম্পূর্ণ ছারখার সামলে
প্রচ্ছদ এক শব্দে কথা বলি তাতে
আমার রাস্তা একান ওকান যায় না
যে কোনো দেবতার দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে
দেখি কেউ ভীষণ শত্রু কিনা…
এক চৌম্বক ক্ষেত্রে মেরুযাপন
আমাকে দেহ শব্দের ভেতর সংগ্রাম
শেখায় দেহ ফেটে গেলে শাঁস পড়ে
থাকে আমার এক অন্য সূক্ষ্ম
আমার এক অন্য লেখা
মানুষ দেখে
যার প্রায় সবটাই বাতিল—শুধু সরল
শব্দে ঈশ্বর থাকে—মন্ত্রের অতীত


 

স্বীকারোক্তি
❑❑

চমৎকার ফুল, তোমাদের সহবাস বড় পিপাসামুখ,
এমন আগ্রাসী নখকলা—হাতভরে জ্বালিয়ে বাড়ি
ফেরার মাঝে—বৃন্তের স্পর্শ আমায় আরো
উত্তরে এগিয়ে দেয়… পাতালের জরায়ুমুখে
আমি ট্রেনের ছিটকে বেরোনো লক্ষ করি
আর লক্ষ করি প্রায় সমস্ত দেয়ালের কোণে
ঘোড়াদের উপবাসী দাগ।
কৃতজ্ঞতাবশত কোনো ফুলের বৃন্ত আমি
ঠোঁটে দিতেই অসংখ্য শীৎকার এসে
শ্বাসবায়ুর অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাই
চমৎকার ফুল, তোমাদের সহবাসে আমার
স্খলন ঘটে যায়—নিঃশব্দ বীজরোপন হয়—
কোন ধাবমান ঘোড়া কিসের তাগিদে
সারারাত বন্য পাহাড়ে জলপান করেছিল—
ঐ দূরের ফুল কিসের তাগিদে হাতের
ভাঁজে অবুঝের মতো আগুনচাপা পড়েছিল—
তার বেশি, পথেঘাটে আমি বসে থাকি
তার বেশি, ঘুড়ি আমারই হাতে কাটা পড়ে…


 

মা
❑❑

ছোটবেলার উনুন জ্বলছে মরা আঁচে
সাজানো ঘরের দাবদাহে নিজেকে গুটিয়ে
বসে আছেন আমার মা;
বনেদি ঘুড়িকে উড়াবার বাতাস জমে
ওঠে রোজ অথচ এক তীব্র বশীকরণে
চান সারতে সারতে উনুন নিকানোর ভাষা
শিখে নিচ্ছেন আমার গৃহপালিত মা…
শুধু এক চাপা আলো কখনো বাগানের
ভেতর থেকে মাকে হাতছানি দেয়,
পশ্চিমের নীলাকাশে উড়োজাহাজের গন্ধ
বাড়ির ছাদে থেমে থাকে—
ঘুমের মতো প্রশস্ত কুয়োতে জমানো
ইচ্ছেগুলো—মা খুব যত্নে ছুঁয়ে দেখেন
রাতের শেষ প্রহরে…

অনিকেশ দাশগুপ্ত

জন্ম ১২ অক্টোবর, ১৯৮৭; বারাসাত, কলকাতা। প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন; স্কটিশচার্চ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পেশায় স্কুল শিক্ষক।

ই-মেইল : dasguptaanikesh@gmail.com

Latest posts by অনিকেশ দাশগুপ্ত (see all)