হোম কবিতা বর্ষার কবিতা
বর্ষার কবিতা

বর্ষার কবিতা

646
0

ফেরদৌস মাহমুদ

ছুটিতে দাম্পত্য

.
ব্যালকনিতে সুকুমারের প্যান্ট আর সুচন্দার পায়জামা।

সুকুমার অফিসে যায় নি আজ, সুচন্দা অবাক
                                                       আনন্দে রেঁধেছে
চড়ুইয়ের মাংস আর শাদা ভাত।

টিভি-স্ক্রিন কাঁপছে। সন্ন্যাসী কাঁঠালগাছের এক পাতা থেকে
                                          অপর পাতায় পানি পড়ে টুপ।
পর্দা ওড়ানো জানালা একদম চুপ।

দুটি শরীর পাচ্ছে না কেউ টের বাইরে নেমেছে বৃষ্টি খুব!


অনন্ত সুজন

ভ্রমণ

.
অপ্রত্যাশিত অথচ অবিরাম বৃষ্টির আদরে আদরে
আমরা পৃথিবীর বাইরে চলে গিয়েছিলাম!

বিসর্পিল ছায়াপথ ধরে, ব্রহ্মাণ্ডের অসম্ভব-অনধীত
জংশনে, বন্দরে, রঙধনু বিছানো পথের উপর—
নামিয়ে দিয়েছি ব্যথার প্রপাত,
নিভৃতের অশ্রুপাত কোনো!

যন্ত্রযানে উড়ছি অলৌকিক, অধরা নির্জনে
পেছনে শোভান্বিত তুমি, ধরে আছো কল্প-পারিজাত।
স্কন্ধের মধ্যভাগে আছড়ে পড়ছে প্রশ্বাসের উষ্ণ হিল্লোল
স্ফুরিত ছোবল রক্তিম উদ্ভাসে বিমন্দ্রিত!

ঈর্ষাকবলিত গ্রহে গ্রহে শিহরন, গুচ্ছ গুচ্ছ ঝলক-ঝড়
বিরচিত চুমুর চাঁদমারি আসক্তির আয়াতে অফুরান বাজে!
                        মোহমগ্ন বিউগল যেন!

আমরা ততক্ষণে নেপচুনের হিমেল বনভূমিতে
বিলীন হচ্ছি একে অন্যের ভেতর!


দীপান্বিতা সরকার

বর্ষার ছেলেমেয়ে

.
পায়ের ছাপ চিনে চিনে উনুনের ধোঁয়া আসে। কম্বলসুদ্ধ ওকে কোলে তুলে নিয়ে, ধোঁয়া বুনো ঝোপের আড়ালে লুকোল। এবারে চা দেবে ওকে। ব্যথায় পরাবে ওষুধের পটি। হালকা ভেজা কাপড়ে গা মুছে প্রদীপ জ্বালবে। তারপর জন্মদিন… প্রদীপের দেবীরা কালো কালো কলসির ভেতর লুকিয়ে পড়লে বৃষ্টি নামবে জোরে।

বৃষ্টির ভেতর বীজ! তার ভেতর প্রেতচক্ষু। লোভী জখমেরা সেই চোখে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে, পতঙ্গ শিকার করে উঠে আসে ফের। এত যে বৃষ্টিঘুম আসে, মুহূর্ত ঠোঁটে করে পলকের ভুল থেকে জেগে ওঠে কয়েক লক্ষ চাঁদ, যে নাভি থেকে ফুটে বেরোয়, সেই নাভিই পোড়াতে চলল বৃষ্টি ঠেঙিয়ে। তারা কি বর্ষার ছেলেমেয়ে? তারা কি চাঁদের, তারা কি ধোঁয়ার? বুনো ঝোপের? তারা কি এ ভরা ভাদরের..  জন্মদিনের? এই নিয়তির? তারা কি তোমার?


তানভীর মাহমুদ

তারানা

.
ছলকে পড়ে দোলনচাঁপাময় স্ফুরণ।
ছোপ ছোপ পূর্বগামিতায়।
চোখ মেলছিল মানস পেরুনো জীবন।
মাঝে স্নায়ুময় আঁধার
বিশ্রস্ত, উন্মুখ।

***   ***   ***
বিপুল মর্মে এল অমোঘ কানন।
কৈবল্যবিপুল স্রোতে
প্রভার সারাৎসারে যাত্রা আমার।
ডানা মেলে নিখিল সৃজন।
সমুদ্রলগ্ন হাওয়া পর্যাপ্তির মগ্ন শিলায়।

***   ***   ***
বর্ণবিহার বাজে বেদনাগ্রীবায়।
পুঞ্জমেঘ গ’লে
ব্রজে ফোটে অপার বিস্ময়।
ছায়ার জন্ম দেয় সুরভি,
বিলোল বিকাশ ঢলে পূর্ণতায়।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে আঁকড়ে ধরে
সীমা আঁকে অমিত দংশনে।


সারাজাত সৌম

লুকানো ছবি

.
ওরা দুজন। আমার সুগোল দুটি বোন। ঘরে-বাইরে সমান তালে নাচে। যখন বৃষ্টির কথা বলি, তারা শতশত বিভ্রম—ফোটে ভাষায়—টলমলে।

অথচ মাগো—ওরা যদি জানত! সেইসব গর্হিত ছেলে—যারা কদমের মতো মরে গেছে বনে। এই শিস মায়াময়—ভীষণ ভারী—তুলতুলে অার সন্ত্রাসে!

ওরা দুজন। মসৃণ—আমার দুটি বোন। ঘুম থেকে উঠেই পৃথিবী—সুর তুলে হেঁটে যায় অন্য কোথাও, অন্য ভাইটির চোখের গভীরে!


আসাদ জামান

রেইনগেজ

.
দেবো দ্বৈততা, দেহকলা বেগুনি মেঘের সহচর,
দাহ্য পৃথিবী,
সখা-হাত, আশরীর ধুলো কর্দম।

স্নান পাঠাচ্ছে মেঘ,
দূরদর্শনে ছবি সরে যাওয়া শব্দের মতো সুরেলা
স্নানের আকার নিয়ে ভিজি
ভেজা বনের গন্ধমাখা শরীর এসো ঝাপটে ধরি।

বিভাজন রেখার-উত্তর
রজনী-এস্রাজ কত দ্ব্যর্থকতা ভুল করে

ধারণারও বাইরে
নিচুতে বহমান রাতের হাওয়ারা
ঝাড়ু দেয় হলদে পাতা।

সে নট-বৃক্ষের তলে
অঙ্কুরিত বাদামের ক্ষেত,
বাষ্প-উত্তাপ, বর্ষণ-প্লবতা—
গর্ভলক্ষণ, দেহবেগ পরিমাপ করে আনত বর্ষণ।


মাজহার সরকার

সেক্স ডল

.
ফেইসবুকে একটা বিজ্ঞাপনে এমন ডল দেখেছিলাম। অর্ডার করলাম।

সেদিন বৃষ্টি হয়েছে প্রচুর। দরজা খুলে প্যাকেটটা বুঝে নিয়ে টাকা দিয়ে ভেতরে এলাম, রাখলাম সোফার ওপর। খুলে তো আমি তাজ্জব হয়ে গেলাম, এমন সুন্দর হাত-পাওয়ালা মেয়ে আমি জীবনেও দেখি নি। আমি ঝাঁপিয়ে পড়লাম। সন্ধ্যা বাড়ছে, বৃষ্টি বাড়ছে। চা বানালাম দুই কাপ। এক কাপ নিজের হাতে নিয়ে তোয়ালেটা কোমরে জড়িয়ে সোফায় বসে আরেকটা কার জন্য বানিয়েছি ভেবে নিজেই হাসলাম।

সেদিন রেকর্ড সংখ্যক সেক্স করলাম আমি। মেয়েটিও।

আমার যখন বিয়ে হলো তার আগের রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। ও-সময় বৃষ্টি হওয়ার কথা না। আমি ডলটাকে বস্তায় পুরে রিকশায় করে অনেক দূরে একটা ডাস্টবিনে ফেলে এলাম। আমি যেন খুনি, পুরনো প্রেমিকাকে মেরে বস্তায় ভরে ফেলে দিয়েছি। এর কোনো আদালত আছে?


হাসনাত শোয়েব

রেইনি সিজন-২৪

.
এইদিকে বর্ষাকাল, আইসো না

‘তোমরা যে বলো দিবসরজনী’ আমার কেবল ঘুম পাচ্ছে। ঘুমের ভেতর কথা বলে হস্তিনাপুরের দৈত্যরা। কথা বলতে বলতে তারা নখ খুঁটিয়ে দেখে। পৃথিবীর বিশাল নখের মাঝে পা এলিয়ে শুয়ে পড়ি। গভীর ঘুমের মাঝে বৃষ্টি পড়ে। আবারো ঝরো ঝরো, আবারো ঝরো ঝরো!

বৃষ্টি নামে

তোমাদের রেডিওতে গান বাজে না। মিয়া কি মল্লারে জমে আছে ক্লেদ। একা একা ঘুরে বাড়ি ফেরে রেডিওর নব । আর তোমার ভেতর যে আমি হা করে আছি, বৃষ্টি নামে।

শীত

জমে হিম হয়ে আছে শীত। এইদিকে বর্ষাকাল, প্লিজ আইসো না।


নুসরাত নুসিন

আয়নাবাচক

.
এই প্রথম বৃষ্টি আয়নাবাচক হলো।
আর কোনো সাঁকো ছাড়াই
এপার-ওপার একাকার হলাম।
অথচ
আমরা কিন্তু আমি-তুমি একটাই বিম্ব হতে চাই নি।

বৃষ্টির সহজ হাওয়া কিছু পূর্বাভাস দিয়েছিল
আর মুখোমুখি জলের নিঃসরণ,
পলক রেখেই
অকস্মাৎ সরিয়ে ফেলি চোখের প্রমাণ!

বৃষ্টির স্ফীত সাদার উলম্ব আবরণে
আজ কোনো ঘনত্বই ছিল না।