হোম কবিতা পাণ্ডুলিপি পাঠ : মীন, মকর ও মনোটোনাস

পাণ্ডুলিপি পাঠ : মীন, মকর ও মনোটোনাস

পাণ্ডুলিপি পাঠ : মীন, মকর ও মনোটোনাস
2.91K
0
ডালিম যেভাবে ফোটে প্রকাশের তিন বছর পর ২০১৭-র বইমেলায় এবার আসছে সজল সমুদ্রের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ মীন, মকর ও মনোটোনাস। বইটি প্রকাশ করছে শব্দলোক প্রকাশন। পাণ্ডুলিপি থেকে ১০টি কবিতা আমরা উপস্থাপন করছি পরস্পরের পাঠকদের জন্য। সেই সঙ্গে রইল পাণ্ডুলিপি পাঠের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কবি মাসুদ খান, সোহেল হাসান গালিব, তারিক টুকু, মাজুল হাসান, শৌভ চট্টোপাধ্যায়, মেঘ অদিতি, হাসান রোবায়েত, রাসেল রায়হান, সামতান রহমান ও রনক জামান।


মাসুদ খান

মূর্ততা ও বিমূর্ততার দোলাচলে আন্দোলিত সজল সমুদ্রের কবিতা। অনেক নিঝুম স্টেশন, প্রচ্ছন্ন বাইপাস, কুহকী আলো, মিশ্রস্বাদ চা ও দ্বিধাসংকুল যাত্রাবিরতিতে ভরা তাঁর কাব্যসফর। এবং হঠাৎ আবিষ্কৃত কোনো দ্বীপপুঞ্জের ছোট ছোট দ্বীপ-উপদ্বীপে গজিয়ে ওঠা আধো-চেনা আধো-অচেনা লতাগুল্মের প্রফুল্ল তর্ক ও হেঁয়ালি দিয়ে চিহ্নিত তাঁর কবিতা।


সোহেল হাসান গালিব

পত্রে রচিত ভোর থেকে ডালিম যেভাবে ফোটে-র পর মীন, মকর ও মনোটোনাস—সজল সমুদ্র যেন বন, বাগান পার হয়ে এবার জলে নামছেন। নাটকীয় উত্থানপতন, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, আছাড়ি-পিছাড়ি চলা তার ধাতে নেই। তবে অন্তর্ঘাত আছে, সেই হিশেবে ব্যক্তিগত কিছু মুহূর্তের উন্মোচন। ওই মুহূর্তগুলো বাঁধা পড়ে এক আশ্চর্য সংহতিতে। যেন ক্রমে সন্ধ্যামেঘের দিগন্তপ্রসারে অস্ফুট ইমন। যা আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে। বিষণ্নও। তা হয়তো মনোটোনাস, কিন্তু মনোরম।


তারিক টুকু

কবিতার ভেতর দিয়ে একধরনের সম্পর্কসূত্র খুঁজে বেড়ান সজল। আর থাকে তার বাইরে থাকা নানান প্রক্ষেপণ। এরাও যুক্ত হতে চায়, কথা বলতে চায়। ফলে সজলের যে বিশ্ব তা এক অর্থে যে-রকম সাবমার্জড, সে-রকমই কেওটিক। কিন্তু ক্লাসিকের পেলবতাও তাকে ডাকে। ফলে এসবকিছুর নানান অব্যাখ্যাত গ্রহণ-বর্জনের মধ্য দিয়ে যাত্রা চলে তার। সেই কবিতার বিশ্বে পাঠককে আমন্ত্রণ।


মাজুল হাসান

সজলের কবিতা কেটে বসানো ঝকঝকে মোজাইক—হরেকবর্ণ পাথর, স্মৃতি, বোধ ও বিচ্ছুরণ। চরম চমকে দেয়া কথাও লীন হয় জলজ পাটাতনে, কাঁপে মীন। পাঠক রেডি রাখুন ডুবুরির পোশাক। সামনে দীর্ঘ ও গীতল ডুব সাঁতার…


শৌভ চট্টোপাধ্যায়

আশ্চর্য় মায়াবী একটা ভাষা খুঁজে পেয়েছে সজল! এই পৃথিবীর ভাষা হয়েও তা অন্য এক পৃথিবীর কথা বলে। দিনানুদিনের সামান্য খুঁটিনাটির কথা বলতে বলতে, হঠাৎ লক্ষ করি, সে আসলে বলছে ‘চিরভাসমান মেঘেদের কথা’। খুব উদাস আর শান্ত তার বলার ভঙ্গিমা—নির্মেদ, বাহুল্যবর্জিত—হয়তো এক্ষুনি ‘চিররেলগাড়ি’ চড়ে চলে যেতে হবে তাকে, অনির্দেশ্য কোথাও। তার লেখায় বিষাদ রয়েছে, কিন্তু অভিমান নেই, মালিন্যও নেই। খুব দূর থেকে সে লক্ষ করছে আমাদের, আমাদের এই ক্লিন্ন, ক্লিষ্ট পৃথিবীকে। দূরত্বের কারণেই, সে-দেখায় একটা নির্লিপ্তি আছে, নির্মোহ প্রশান্তি আছে। সে তো নিজেই লিখেছে, তার দেখা আসলে দুরবিনকে উলটো করে দেখা।


মেঘ অদিতি

“সমুদ্র-রান্নার সময় মা বোধহয় রাগান্বিত ছিল। লবণ পড়েছে বেশি, খেতে তাই ঢেউ লাগছে এত!” কী মনে হয়, এই যে বহির্মুখী ও বহুমুখী চিন্তার মিলনে সমুদ্র-রান্নার কথায় মা এল, মা কি শুধুই এক অস্তিত্ব, না কি মা সেই বিস্তৃতি ও গভীরতা যার চলনে তৈরি হয় অসাধারণ সব কবিতা! “অনেক স্টেশন, বাইপাস, আলো, চা ও যাত্রাবিরতি; / অথচ কেউ কারো মনে পড়ছি না…” কথারঙের দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে অবস্থানের প্রশ্নে এই দর্শনেই মিলে যায় উত্তর, বুঝি এই চিরসত্য। কবি সজল সমুদ্র চেতনাকে সম্প্রসারিত করে বুনে দেন যত শব্দ, তা জার্কিং থেকে স্পার্কিং-এর এক অনন্ত যাত্রাপথ। “সাবান ফুরিয়ে যাচ্ছে, স্নান শেষ হচ্ছে না;/ দুটো গোলাপের আলাপ ঘুরে যাচ্ছে কামিনীফুলের দিকে অথবা পোশাকের নিচে বাঁচি, এখন হাঁটতে পারি সুতোর উপরে; / মুঠোভর্তি নিঃশ্বাস থেকে তুলে রাখছি দু’একটি শ্বাস—

হে পাঠক, মগজে ঘোর ধরে কি?

মীন মকর ও মনোটোনাস-এ সজল সমুদ্র এভাবেই নিয়ে যান সেই অতিচেতনালোক। দেখার পার্সপেক্টিভে লেগে থাকে নির্লিপ্ততা আর সমস্ত অন্ধকারের সাপেক্ষে মগজে জ্বলে ওঠে আলো ঝলক ঝলক।


হাসান রোবায়েত

ভাষাকে বোধের দিকে ঠেলে দিয়ে ধীরে ধীরে নানান ইশারা ও অনুষঙ্গকে সজল সমুদ্র করে তোলেন লাইভ। মেলাংকলিক সুর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তার দেখায়। মনে হয় অধরা অথচ অনেক দিনের চেনা কোনো অপরিচিতার প্রতি লিখে যান এই ডুবোভাসা স্তোত্র-সকল। খুব সহজ কিন্তু বাক্যের অন্তর্বয়নে তৈরি হয় এক অপার রহস্য। যা পাঠককে হিপটোনাইজ করে, বেঁধে রাখে সাইরেনের মোহন ডাকে, আমরা দেখতে পাই, জলে ভাসছে সেই ছত্রভঙ্গ চাঁদ।


রাসেল রায়হান

সজল সমুদ্র আমার পছন্দের কবিদের একজন। বলার জন্য বলা না! তার দ্বিতীয় বইটা আমার হাত হয়ে বেরিয়েছিল। আমি ঐ বছর তার বইটা করে গর্বিত ছিলাম। এখনো গর্ব করে বলি, সজল সমুদ্রের দ্বিতীয় বইটা আমি করেছিলাম। যে কবি বলতে পারে, ‘কবে ঢিল ছুড়ে চলে গেছ, জলে ভাসছে ছত্রভঙ্গ চাঁদ…’, তার বই করা আনন্দেরই বিষয় বৈকি। তার কবিতা আমি পছন্দ করি দুটি কারণে, প্রথমটি তার সহজ এবং পরিমিত বর্ণনাভঙ্গি, আর দ্বিতীয়টি তার দেখার ভঙ্গি। তিনি দেখেন বস্তুর অস্থি-মজ্জা, এমনকি শিরা-উপশিরা পর্যন্ত ভেদ করে। সম্ভবত ঈশ্বরপ্রদত্ত অণুবীক্ষণযন্ত্র নিয়ে জন্মেছেন তিনি। সেই অণুবীক্ষণযন্ত্র পাঠককে আচ্ছন্ন করে, আর অন্য লেখককে করে ঈর্ষান্বিত।

‘ভেতরে প্রতিদিন একটা আমাজন রেইনফরেস্ট বয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
শুনতে পাই, খুব কাছাকাছি কোথাও জাগুয়ার ডাকছে চিতার গলায়
হরিণের সমান তার দূর দিয়ে হাঁটি।’

সজলের এই সহজ ভঙ্গিটিকেই আমি ঈর্ষা করি। তিনি মহাবিশ্বকেও এত সহজে করায়ত্ত করেন যে পাঠকের কাছে সেটাকে ভয়াবহ রকমের অবিশ্বাস্য মনে হয়, কিন্তু তবু সেটা তাদের বিশ্বাস করতে সামান্য কষ্ট হয় না। মনে হয়, হুডিনি হাসিমুখে জাদু দেখাচ্ছেন। জাদু শেষ হয়, কিন্তু তার রেশ থেকে যায় অনন্তকাল। ঠিক সজলেরই কবিতার পঙ্‌ক্তির মতো; জলে ঢিল ছুড়ে চলে যান, আর ছত্রভঙ্গ চাঁদ সুদীর্ঘকাল ভাসতে থাকে পাঠকের মগজে। তার নতুন বই মীন, মকর ও মনোটোনাস-এর জন্য শুভকামনা।


সামতান রহমান

“কবে ঢিল ছুড়ে চলে গেছ, জলে ভাসছে ছত্রভঙ্গ চাঁদ”

ঢেউ দুলিতে কাঁপছে চোখ, ফেরানো যায় না; যায় না বলেই সেসব কথা, অকথা, না-কথা, নীরবতা এবং তার ঝংকার যত, প্রত্নকাল বেয়ে নেমে এল ক্রমাগত কবিতাকায়—সজল সমুদ্রের নতুন কবিতার বইয়ে, যেন এক দীর্ঘ চিঠি। কেউ গেছে, কোথায়, কী থেকে গেছে তার, সে-সবার না-বলতে চাওয়া কথা, যেখানে নির্ণীত হতে থাকে এক তুমি এবং এই আশ্চর্য চিঠি পাঠের পর, কতসব যাত্রা গন্তব্য আমার, নিজেদের আর চিনতে পারছে না!

কবির তৃতীয় কবিতার বই মীন, মকর ও মনোটোনাস-এর পাণ্ডুলিপি পাঠোত্তর এই আমার তাৎক্ষণিক অনুভূতি। তাঁর দ্বিতীয় বই ডালিম যেভাবে ফোটে-এর ভাব ও ভঙ্গি থেকে নতুন এক ভঙ্গিমার দিকে এমন যাত্রায় আমি বিস্মিত!


রনক জামান

মীন, মকর ও মনোটোনাস’র বাছাই কবিতাগুলো পড়ে শেষ করলাম। আমার ভেতরে এক আশ্চর্য শূন্যতা এসে ভর করেছে। এই শূন্যতা ফাঁপা নয়, নিরেট। মুগ্ধতা ও উৎসাহপূর্ণ খাঁ খাঁ শূন্যতা। বইটি কবিতা সম্পর্কে আমাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।



 ‘মীন, মকর ও মনোটোনাস’ থেকে


রোমন্থন


একপ্রস্থ লেখার ছিল, খোলো তোমার কথার রেস্তোরাঁ।

যা কিছু স্মৃতিচিহ্ন—সবই আজ অগ্নিশিখা; এখন যে-কোনো শীতরাত্রি,
মনে হয় হিম, ভস্মকাল। অনন্ত ভাগ্যদোষে প্রতিদিন একা বসে থাকি।
তুমি বলেছিলে, এ জীবন—একটি ইঁদুরের সাথে একটি বিড়ালের খেলা।
দিনমান সে কথাই ভাবি। ভাবি, লোকে যা বৃষ্টি ভাবে, সে আসলে
                                                                 ভাসমান মেঘের অশ্রুপাত;

কবে ঢিল ছুড়ে চলে গেছ, জলে ভাসছে ছত্রভঙ্গ চাঁদ…

 


আনমনে


নিশ্চিহ্ন এ নদীপথ, তবু আমাদের দেখা হয়ে যায়।

ঐ কুয়োভর্তি জল, আমি যা আয়না ভেবেছি—আজ কেমন ব্ল্যাকহোল হয়েছে;
আমরা তারই বাস্তুচ্যুত সাপ। খেলতে গিয়ে ফণাটুকু হারিয়ে ফেলেছি।
এখন প্রতিসন্ধ্যায় পেখম ছড়িয়ে মনে বসে যৌনময়ূর। নাম ধরে ডাকে।
ওরা কি জানে, বাবার ইচ্ছায় মায়ের আশায় আমি
এই শেষবার, গঙ্গাফড়িঙের ভাষা খেয়ে আনমনে লাফিয়ে চলেছি—

স্রেফ, এ বোকাবিশ্বের হারানো চিরুনির খোঁজে!

 


বনফেরৎ


তোমার মুখ নয় গো; ভাঁটফুল দেখতে দেখতে তোমার কথা ভাবি;
তুমি—কতদূরে, কেমন দুর্লভ জন্ম পেয়েছ? তোমার তর্কের গলা
বাসন-কোসন মাজার শব্দ ছাপিয়ে গেছে কিনা! তুমি কি পেয়েছ
                                                        দলছুট, পা-হারানো ঘোড়াদের খোঁজ?

আমি অচিরেই পেয়ে যাব বনফেরৎ হরিণের গৌরব;
তারপর এই মৎস্যজন্ম, এই ডুবোভাসা—সব একাকার,
                                                              সব ভণ্ডুল করে চলে যাব;

যাকে বলো সূর্যশিশির, সেও তো আড়ালে থেকেছে!

 


বাহির


ভেতরে প্রতিদিন একটা আমাজন রেইনফরেস্ট বয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

শুনতে পাই, খুব কাছাকাছি কোথাও জাগুয়ার ডাকছে চিতার গলায়
হরিণের সমান তার দূর দিয়ে হাঁটি। গণ্ডারের তাড়া খেয়ে
রাগ ছুড়ে ফেলি সাপেদের পিঠে, পাখির উপরে;
কাল যেমন পাতামাছ আমার নাম ধরে ডাকায় ফড়িঙদের শাসিয়েছি…

প্রতিসন্ধ্যায় পড়ন্ত গাছের শরীরে বহু লতাদের কথাবার্তা শুনে
এখন বুঝে নিয়েছি—একদিন আমারও কিছু ছিল উজ্জ্বল গল্প,
লোহার, তামার, শালকাঠ আর পথে পাওয়া ধুলোমনা কাঁসার

যার মধ্যে আমি হারিয়েছি শুধু পোস্টমাস্টারের হৃদয়…

 


বিস্মরণ


তোমার স্মৃতিপত্রের উপর পেপারওয়েট হয়ে বসে থাকি।

এই দূর ও সুদূর-বেষ্টিত জীবন, দুরবিন উল্টো করে ধরে রাখি।
কিছু কাছে আসে, কিছু স্থির, বাকিসব আরো দূরে সরে গিয়ে
শরীরে অনর্গল সংকেত পাঠায়। যেন ঘুমের ভেতরে বহুকাল
চিররেলগাড়ি চেপে পৃথিবীর দুইদিকে কোথাও চলে যাচ্ছি—

অনেক স্টেশন, বাইপাস, আলো, চা ও যাত্রাবিরতি;
অথচ কেউ কারো মনে পড়ছি না…

 


মিট দ্য প্রেস


বাগানে, গাছেরাও ভুল ডাল ছড়িয়ে দাঁড়াচ্ছে;

টাক মাথার পৃথিবী, তার চুল আঁচড়ে দিচ্ছে বিজ্ঞাপন-হিরো;
যারা ভেবেছে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যাবে সিংহভাগ আয়ু—
তাদের কবরে দাও কয়েকশ ট্রাক বাণী-চিরন্তনী।
তারা আরো দেখুক— পুঁইমাচায় ছাপা হচ্ছে লাউ ও লতার তর্ক,

যুগ যুগ দূরে, সগৌরবে চা বানাচ্ছে আমাদের ধূসর বান্ধবী…

 


ঘাট


জাহাজ পাবে না খুঁজে, এতদূর সরে গেছি—এতটা দূরাস্তে

হ্রেষা ঘিরে বসে থাকি, কেননা এমন কথা-ফুরানোর কাল—
আর কোনো জন্মে পাব না। কোনো অর্থ নেই, তবু সারাদিন
অশ্বডিম্ব নিয়ে ভেবে যাই। রোদে পুড়ে এ যেন কুড়িয়ে নিচ্ছি
                                                                    দগ্ধভাগ্যরেখা

এতদিনের পাহাড়বাসী, এখনও তোমার ঐ নয়নপথ হাঁটি…

 


কনফেশন


তোমার শরীরে কোথাও না কোথাও একটা ব্রিজ আছে।
একটা নাইটক্লাব। কিছু হৈচৈ। ক্যাসিনোয় খেলছে কেউ;
আইস ও বাদামের মাঝে কোথাওবা বেজে উঠছে
                                                   করুণ ভায়োলিন

বাঁক নিয়ে, রাস্তা একদিন আমাদের অন্তর্জগতে ঢুকে যাবে বলে—
আমি প্রতিদিন তোমার দুয়ারে বসে থাকি…

 


দুর্গা


আশ্চর্য এক বনপ্রদেশ থেকে দেখছি তোমার সম্ভাবনা;

তোমার ডানহাত নিমিষেই ছাপিয়ে গেল বামহাত।
তিনরাস্তার মোড়ে, ভোরবেলা যে লোকটা খুন হয়েছিল—
লোকে বলাবলি করছে তাতেও তোমার হাত আছে;
দশবছর আগে যেমনটা শুনেছি মিথিলার ঘর ভাঙার পর।

যদিও প্রবলভাবে, অজুহাতই তোমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে

অন্তত, হাতের দিক থেকে তুমি ঠিকই দুর্গা হয়ে যাচ্ছ…

 


নিঃসংশয়


যা কিছু গুছিয়ে এনেছি—তার সব বৃষ্টিদিন, শীতরাত্রি, অস্তাচলমুখী।

শেষরাত্রির তারাগুলো আজ সুসংহত মনে হয়।
আর পিঁপড়েদের সারি। ভাবা যেতে পারে—
চিরভাসমান মেঘেদের কথা; এমনকি সেইসব গুঞ্জরনও—
                                      যারা আসে গাছভর্তি পাতার আড়াল থেকে!

সাপে, সুড়ঙ্গে; ছন্দে, পতনে ঝিঁঝিঁদের হয়ে
এই শহরের শেষ কোনো গমরঙা তরুণীর শরীরের বাঁক-ঝোঁকে
ওরা যেন আজ দিনমান নিঃশব্দে ঘুরছে…