হোম কবিতা পাণ্ডুলিপির পাঠ : মৃত্যুর মতো বানোয়াট

পাণ্ডুলিপির পাঠ : মৃত্যুর মতো বানোয়াট

পাণ্ডুলিপির পাঠ : মৃত্যুর মতো বানোয়াট
939
0

বছর ঘুরে আবারও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ফের হাজির অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রতিবছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয় কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণাসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার বই। কোন বই কিনবেন আর কোনটি কিনবেন না, সেই ভাবনায় গলদ্‌ঘর্ম পাঠকরা। তাদের একটু স্বস্তি দিতে পরস্পরের বিশেষ আয়োজন ‘পাণ্ডুলিপির পাঠ’। এর মাধ্যমে পাঠকরা বইটি সম্পর্কে যেমন ধারণা পাবেন, তেমনি জানতে পারবেন লেখকের শক্তিমত্তা সম্পর্কেও।

আজ প্রকাশিত হলো তরুণ কবি নাহিদ ধ্রুব’র কাব্যগ্রন্থ মৃত্যুর মতো বানোয়াট-এর কয়েকটি কবিতা। বইটির প্রকাশক জেব্রাক্রসিং।


নপুংসক


একজন নপুংসকের সামনে ক্লিওপেট্রা নগ্ন হয়ে হাঁটছে
হস্তমৈথুনে ব্যর্থ আপনি ক্যামেরায় ধারণ করছেন চিত্র
মুখ-বুক-নিতম্ব কেটে নিচ্ছেন আপেল কাটা ছুড়িতে
ক্ষুধা পেলেই কামড় দিচ্ছেন সেখানে শুনেছি
কাঁচা মাংসের স্বাদ আপনার কাছে অমৃত লাগে!
একজন নপুংসকের হাতে তুলে দিয়েছেন ক্যামেরা
এখন আপনি ধর্ষণ করছেন ক্লিওপেট্রাকে শুনেছি
নিজের ধর্ষণ দৃশ্য আপনাকে হস্তমৈথুনে সাহায্য করে।


জীবন


সেদিন নভোমণ্ডলীয় শেষকৃত্যে
ভ্যানগগের সাথে দেখা
হাতে একটি পেন্সিল তুলে দিয়ে বললাম
শাদা কাগজে জীবন এঁকে দেখাও।
ভ্যান গগ, ওস্তাদ আঁকিয়ে
আমাকে একটি কানের ছবি এঁকে দিয়ে বললেন
এখান থেকে জীবন খুঁজে নাও!


আকাঙ্ক্ষা


অনেকদিনের জমানো টাকায়
বাবা একটি জুতো কিনে আনলেন।
খালি পায়ে বাজার থেকে।
বাবার পায়ের চেয়েও অনেক বড় মাপের জুতো।
আমার জন্য।
আমি তখন খুব ছোট।
আমার পায়ের পাতায় চুমু খাওয়া যায়।
বাবা আমার পায়ে হাত দিয়ে বললেন,
এই পা একদিন এতখানি বড় হওয়া চাই!


ম্যাজিশিয়ান


ম্যাজিক শিখতে গিয়ে জানলাম
মানুষের বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা
ম্যাজিককে বাঁচিয়ে রেখেছে!


দ্বৈতসত্তার আলাপন


সদ্যবিবাহিত স্ত্রীর সাথে সঙ্গমরত অবস্থায় যদি আপনার মনে পড়ে হারানো প্রেমিকার মুখ। মনে পড়ে প্রেমিকার বাসর রাতের কথা ভেবে আপনি করেছিলেন হস্তমৈথুন। যদি আপনার নগ্ন স্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় হারানো প্রেমিকার পাশে। দুজন শুয়ে আছে পাশাপাশি আপনি মাঝখানে। আপনি কোনদিকে মুখ করে শোবেন?


চ্যাপলিন


চ্যাপলিন, নির্জনতা খুন হয়ে যাচ্ছে করুণ ভায়োলিনে। আর তুমি বলে যাচ্ছ কেবল নৈঃশব্দ্যই অভিনয়ের মতো সুন্দর। অভিনয়ের ভাষা এত নাঙ্গা যে আমার নিজেকে লজ্জাবতী গাছ মনে হয়। কলিজার খুব কাছাকাছি লেগে আছে সুরমার দাগ। আমি গ্রিনরুমে বসে থাকি রেড লাইটের নিচে। আমার পায়ের পাতা ঘেমে যায়। চোখের পিচ্ছিল পথ ধরে আমি আর হাঁটতে পারি না। চ্যাপলিন, আমাকে দীক্ষা দাও অভিনয়ে। নৈঃশব্দ্যের নিবিড়তর ক্ষত ভেঙে কিছু চিৎকার জড়ো করো!


পঙ্গুত্ব


বাবার কাঁধ থেকে নেমে
যেদিন হাঁটতে শিখলাম
সেদিন থেকেই আমি পঙ্গু!

নাহিদ ধ্রুব

জন্ম ২ ডিসেম্বর, ১৯৯১; বরিশাল। গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় স্নাতক। পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিতব্য বই :
মৃত্যুর মতো বানোয়াট [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৭]

ই-মেইল : dhrubonahid@gmail.com

Latest posts by নাহিদ ধ্রুব (see all)