হোম কবিতা পাণ্ডুলিপির কবিতা : সিরাপ

পাণ্ডুলিপির কবিতা : সিরাপ

পাণ্ডুলিপির কবিতা : সিরাপ
428
0

ভুল করে ভুলে যাই


সৎকারের ভয়ে মরলাম না কত কত বছর…
অথচ পাকস্থলী ভরা
আগুন নিয়ে কাটিয়ে দিলাম যুগের পর যুগ।

মাঝে
মাঝে
এখন
মনে হয়, আমরা বুঝি কৃতকর্মের ফলই গিলছি।
পূর্বজনম পার করে এসে পরকালে আটকে গেছি।
পূর্বজন্মে ভোগের সেই স্বাদ গন্ধ এখনো আমাদের
ঠোঁটে
মুখে।

তাই যদি না হয়
তবে বারবার, আমাদের এত স্বস্তির খোঁজ কেন!


তদারকির কয়েকটি দশক


শরিয়ত মেনে তোমাকে বিয়ে করা হয়েছিল কিন্তু ভোগের বেলায় কোনো নিয়ম চলে নি। যত্রতত্র ফুটো করে বাড়িয়েছি কৃত্তিম যোনি। পিছন থেকে মাংস কেটে এনে বুকের উপর বাড়িয়েছি শুধু জোড়া জোড়া স্তন। তোমাকে আদর করি নি বললে ভুল হবে, নিজে যতটুকু পেরেছি করেছি, বাকিটুকুও অবহেলায় ফেলে রাখি নি, খুঁটি বেঁধে লাগিয়ে দিয়েছি তাগড়া তাগড়া জোয়ান! তোমার শরীরের গন্ধটুকুও উদ্বায়ী হতে দিলাম কই, তদারকির এযাবৎ চল্লিশটা বছর সেটুকুও শুষে নিয়েছে প্রতিবেশী, আশপাশের চল্লিশ ঘর।


ফালতু কাজে


মানুষ মানুষের জন্য—
বড় হয়ে বেরোয় মনুষ্য শিকারে
যেইটা জবাই হইছে ভোরে
তারই মাংস কেনার লাইনে
বাড়ে হট্টগোল—
কসাইয়ের সঙ্গে ক্রেতার
কেজিতে আড়াইশ গ্রাম হাড়
আর চর্বি নিয়াই যত গণ্ডগোল।


রাষ্ট্র


কাটা মাছ পড়ে রইছে আলাম।
ছাই সুদ্ধ লাল ভেজা রঙ খয়েরি প্রায়

মাছের মতো আমরাও কেউ কেউ
পড়ে আছি কিনা গিন্নির সামনে—
তা একবার
কর্তাকে জিজ্ঞেস করা দরকার!


আর হারতে পারব না!


পিছনের দেয়ালটা হেরে যেতে যেতে হঠাৎ আমার পিঠের সাথে এসে ঠেকল। দেয়ালটা কি এখন ঘুরে দাঁড়াবে? ঘুরে দাঁড়ালে তো আমার পিছনে দেয়াল বলে আর কিছু থাকবে না! তাহলে কিছুদিন পর আমি কিসের সাথে গিয়ে ঠেকব? আমারও তো হেরে যাওয়ার একটা লিমিট থাকতে হবে…!


মৃত্যু


আজকাল। মৃত্যু…
যেখানে সেখানে,
মনের ভেতরকার ভয়ের রাস্তাটা ব্লক করে দিয়ে
একটা টঙ্গের দোকান, গ্যাস লাইট হয়ে ঝুলছে।
চলতে ফিরতে খানিক দূরে দূরেই মৃত্যু।


নিজের বলে চালিয়ে দিলাম


প্রথমবার
মরা মাছের চোখ নিয়ে আমি ক্রমাগত ডাঙায় লাফাই। আঁষ্টের শরীর, কাঁটা কাঁটা লোম, পরতে পরতে ছাই মেখে আমিও ধরা ছোঁয়ার মধ্যে। আমি অর্ধেক মানুষ তার অর্ধেক কৈ মাছের প্রাণ! সচরাচর ভুল হয় দুপুরের দিকে যখন গোটা কয়েক ক্ষুধা মেরে ফেলি বড়শি গিলে।

দ্বিতীয়বার
অনেকদিন ধরে মাথার মধ্যে একটা বুলেট আটকে আছে, ঠিক মগজ ঘেঁষে! ভাবা-ভাবিতে খুব জ্বালা-পোড়া হয়, খচখচ শব্দ হয় ব্রেনে। ব্যথা জুড়াতে জলের কাছে যাই, বৃষ্টির কাছে যাই, মাথা কাত করে দাঁড়িয়ে থাকি, মনে মনে ভুলে যাওয়া দোয়া আওড়াই তাতে আর কী হয় উল্টো বুলেটের গা বেয়ে আরও কিছু জ্বালা-রক্তে, পানিতে মিশে ব্যথাগুলো বেদনা ছড়ায়। চিলিক দিয়ে ওঠে বার বার… মেমোরির বিশেষ জায়গা জুড়ে এখন ছোট্ট বুলেট যার দেয়াল ফেটে ছড়ায় ফুলের ঘ্রাণ, ধুতরার ঘ্রাণ…

sipahi.rez@gmail.com'

সিপাহী রেজা

জন্ম ০১ জানুয়ারি ১৯৮৭; ঢাকায়।

সম্পাদিত অনলাইন কবিতাপত্র ‘কার্তুজ’।

বাংলামেইলের সাহিত্য সম্পাদক হিশেবে কর্মজীবন শুরু, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।

প্রকাশিতব্য বই : সিরাপ [২০১৭ একুশে বইমেলা]

ই-মেইল : sipahi.rez@gmail.com
sipahi.rez@gmail.com'

Latest posts by সিপাহী রেজা (see all)