হোম কবিতা পাণ্ডুলিপির কবিতা : রাক্ষস প্রণীত পাঠ

পাণ্ডুলিপির কবিতা : রাক্ষস প্রণীত পাঠ

পাণ্ডুলিপির কবিতা : রাক্ষস প্রণীত পাঠ
335
0

বছর ঘুরে আবারও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ফের হাজির অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রতিবছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয় কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষণাসহ বিভিন্ন ধরনের কয়েক হাজার বই। কোন বই কিনবেন আর কোনটি কিনবেন না, সেই ভাবনায় গলদ্‌ঘর্ম পাঠকরা। তাদের একটু স্বস্তি দিতে পরস্পরের বিশেষ আয়োজন ‘পাণ্ডুলিপির কবিতা’। এর মাধ্যমে পাঠকরা বইটি সম্পর্কে যেমন ধারণা পাবেন, তেমনি জানতে পারবেন লেখকের শক্তিমত্তা সম্পর্কেও।

আজ প্রকাশিত হলো তরুণ কবি খন্দকার নাহিদ হোসেন-এর কবিতাগ্রন্থ রাক্ষস প্রণীত পাঠ-এর কয়েকটি কবিতা। পড়ার আমন্ত্রণ রইল।



যাতনার জন্মচক্রে


তিলগাছ কিছু একলা ধানের মতো
কয়েক রাকাত কেউ
সাবান মেলায় শঙ্খ-সশ্রম ভাষায়
ডাকে তোমাকেও?

কোথাও গুলিয়ে যাবে ঘন প্রণাম পুকুর
সেই কাছে… ঘাসের কুলায় হাওয়ারা ঘনালে
যদি পাড় ভাঙে—যদি পাড়
গহন চূড়ায় যাবজ্জীবনের ডাকে
ফুটে ফুটে ছোটে রোশনি আক্তার…

মক্তব পাড়ায় এদিকে উজ্জ্বল সাক্ষ্যে—
বয়স গঙ্গাযমুনা… ক্ষারের অন্তর ক্ষার
শিরিন ভ্রমের মতো—আড়ালের ভাং-এ তবে
কারো সঙ্গতি শিউলি সরকার…?  

তবু গমনবিধি তন্ময় ছুঁলে—এইসব দূর অর্ধরাত্র
হ্যাঁ, ছেলে…কথারা বাণপ্রস্থেই ভীষণ যায়
তাই টুকুন পুরাণে লেখা—নন্দী কিংবা কাজী বংশে
দুঃখের নাটমণ্ডপ… আমাদের তিষ্যবিয়ে—
শবযাত্রায়…!


গোসল বিষয়ক…


একখাঁচি প্রেম শেষে—আহারাদি ক্লান্ত হয়
দেহ মেখে রাখা ছেলে… জমি-জিরেতসহ
ফেলে দাও…

এখন নতুন চক্র—গাঢ় ভালোবাসা?

তার প্রিয় হয়ো তবে—হাতের ভিতর হাত গলে গেলে
দিয়ো বাহানার রং-তোমার সজল অশ্রু

ভালোবাসার পবিত্র সোন্দা-গায়ে ডুবিয়ে ডেকো তাকে
যেন একদিন চমকানো কেউ ভাবে
বাহ,  স্নাত সংসার।


কল্যাণীয়াসুকে


লিখলাম খনিজে কল্যাণীয়াসু। এক দৈর্ঘ্য মন্ত্র লোভ। কষ ফুটলে কিভাবে বেড়ে ওঠে ঘর-সেইসব। পাতার পিঁপড়া ভুল, দু’হাতের আধো আধো কালি তখন ছায়ায়… ভীষণ একলা করে দিল। তবু লিখলাম—আড়ি মাখা শীতের উত্তরে চোখেদের নাড়ি, কাজল পর্বত।

যাবে বলে গোছাচ্ছ সকল। ঘূর্ণনের পালে বাঁকা বাঁকা চন্দ্র চূর্ণ। ত্রিপিটক দেরি হয়ে যাওয়া। কয়েক নথের দিন—দরজার আবডাল। সব কাঠ মাপলে অন্যফুলের কাঠ?

পৃথিবীর পর্বতে সারা জন্মেই ধার। এতবার লিখি চোখ… তবু খালি কেটে কেটে যায়। মহাদেশে মহাদেশে… গোলোকের শীতে… ঝিরঝির আবডাল?

ঐ উত্তরে চোখেদের নাড়ি, কাজল পর্বত।


মিতা


কৌটার ভিতর ঘন হয়ে আছি—
গুনে গুনে নিয়ো…

মানবীদের বুকে তিল গাছ বাড়লে—
শ্রাবণ রাক্ষস হয় জানি… শ্রাবণ রাক্ষস হয়
মানি…?

আরেকজন্ম বৃষ্টির হেতু… উজ্জ্বল ঝরলে
পৃথিবীতে একজন অসুর ঝাপসা

দু’জন…
গুনে গুনে নিলে?


চৈত্রে কাটানো হাসপাতাল


হাসপাতালে বিছানা হলো ফলিত বিদ্যার টান
বুকে অসহ্য আগুন, শ্বাস খুঁজে না পাওয়ায়—
সারা গায়ের থরথরানি… শুনছি কোথাও কেউ
ডাকছে নার্স, ও নার্স… কোথায় অশোক নামের
ঘুম-ওষুধ…?

আমি কিন্তু তখন সেখানে আর নেই, মাঠ হয়ে গেছি
আর তুমি একলা ঘামের ঘাস… নখের ডগায় নুন
চুষে চুষে বলি… সমুদ্রও জমাও এইসব নামে?

তোমার কাঁপন এত এত রোদে ভরা যেন ভেবে বসি
এই পথ ঢেউয়ের মোড় নয়, লোমের ডগায় কোনো বিন্দু
বিন্দু তুষও নেই… শুধু ত্বক ছলে—ডুবো নখেই হাঁপাও
কাঁধে মাথা রেখে ছটফট করো… কিসমিস বনে খোঁজো—দাবানল
দাবানল…!

কারা যেন এরই ভিতর হাত ফুটো করে বসে, বুকে একগাদা তার
পুঁতে দেয়… আমি শ্বাসের আঁশেই এইপাশ ওইপাশ ফিরি…
পিঠের চাঁদর গুঁড়ো হতে থাকে, বুকে কেউ রক্ত খুলে দেয়—
যন্ত্রণাকে দেখে… কে সে… কে…?

রাতে তুমি নিংড়ানো নৌকা ঠোঁট-নাভিতে আঙ্গুল
কেন বুড়ো হলে এত সুখ… প্রশ্ন করো? কাছে ডাকো…
চোখ ভিজে গেলে বল—আর? মুখ গলে গেলে বল—আর?
হৃদয়ে হৃদয়ে ঘষি… শক্ত ধনুকের মতো বেঁকে যেতে যেতে
বলো—আর…?

নার্স, ও নার্স… তার কাছেই অশোক নামের
ঘুম-ওষুধ…

খন্দকার নাহিদ হোসেন

৩১ শে জুলাই, ১৯৮৭; চান্দাখোলা, ফরিদপুর।

পড়াশোনা করেছেন বস্ত্র-প্রযুক্তি নিয়ে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। কর্মস্থান ঢাকায়।

ই-মেইল : Email-khn.rubell@gmail.com